শতভাগ গড় নম্বর পেয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করলো তিন অভিবাসী পরিবারের তিন শিক্ষার্থী
প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক, জুলাই ১৮, ২০২৬ : টরন্টোর তিনজন শিক্ষার্থী সব প্রতিকূলতা জয় করে তাদের সেরা ছয়টি কোর্সে শতভাগ নিখুঁত গড় নম্বর পেয়ে হাই স্কুল পাশ করেছে। ইতিহাস সৃষ্টিকারী এই শিক্ষার্থীরা জানায়, তাদের এই নিখুঁত নম্বরের পেছনে রয়েছে শক্তিশালী সামাজিক বন্ধন, ব্যক্তিগত আগ্রহ এবং নিবেদিতপ্রাণ পরিবার। গত ১৭ জুলাই সিবিসি নিউজের টাইলার চিজ তুলে ধরেছেন তাদের গল্প।
টরন্টো ডিস্ট্রিক্ট স্কুল বোর্ড জানিয়েছে, ব্লুর কলেজিয়েট ইনস্টিটিউটের ছাত্র উমায়ীর আহসান, মার্টিংগ্রোভ কলেজিয়েট ইনস্টিটিউটের ছাত্র মুঞ্জল প্যাটেল এবং ভার্চুয়াল সেকেন্ডারি স্কুলের ছাত্র জশুয়া হান—সকলেই তাদের দ্বাদশ শ্রেণির সেরা ছয়টি বিষয়ে শতভাগ গড় নম্বর পেয়েছে।

উল্লেখ্য যে, এই তিনজন শিক্ষার্থীই এশীয় বংশোদ্ভূত অভিবাসী পরিবারের সদস্য।
এই তিনজন শিক্ষার্থী ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের সেরা টিডিএসবি স্কলার, যার অর্থ হলো ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে তাদের গড় নম্বর সর্বোচ্চ।
আহসান সিবিসিকে বলেন, তার পরিবারই তার জীবনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে; তারা তার জন্য দুপুরের খাবার তৈরি করে দিত, তাকে পর্যাপ্ত ঘুমাতে উৎসাহিত করত এবং গভীর রাত পর্যন্ত পড়াশোনা করার সময় তাকে সমর্থন করত।
আহসান বলেন, “কেউ একা সাফল্য অর্জন করে না। একারণে আমি আমার পরিবারের কাছে, তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের জন্য সত্যিই কৃতজ্ঞ। যদিও তা ট্রান্সক্রিপ্টে লেখা নেই, কিন্তু এর প্রতিটি লাইন তারাই সম্ভব করেছে।”
তবে তিনি বলেছেন, প্রাতিষ্ঠানিক উৎকর্ষ সাধনের চাবিকাঠি হলো সময় ব্যবস্থাপনা। একই সাথে বিভিন্ন কোর্স এবং অন্যান্য নানা দায়িত্ব সামলানোই হলো আসল ব্যাপার। আমরা সবাই সামাজিক মানুষ। আমরা সবাই অন্যদের সাথে কথা বলতে চাই। আমরা বিভিন্ন ক্লাবে যোগ দিতে চাই। শখের মাধ্যমে আমরা নিজেদেরকে পরিপূর্ণ করতে চাই। কিন্তু আমি মনে করি, সবকিছুরই একটা নির্দিষ্ট সময় আছে এবং আগে থেকে পরিকল্পনা করাটা জরুরি।
আরেক শিক্ষার্থী মুঞ্জল প্যাটেল বলেন, ‘একটু বাড়তি চেষ্টা’ কাজে দিয়েছে।’
তার ভাষ্য অনুযায়ী নিখুঁত প্রতিলিপি তৈরির পরিকল্পনা তাঁর কখনোই ছিল না। তবে তিনি এ কথাও বলেন যে,”এটা সত্যিই অসাধারণ এক অনুভূতি।”
প্যাটেল বলেন, “নবম শ্রেণি থেকেই যে শতভাগ গড় নম্বর পাওয়ার লক্ষ্য আমার ছিল, তা নয়। কিন্তু আমার মনে হয়, পুরো হাই স্কুল জুড়ে আমার দুটো লক্ষ্য ছিল: প্রতিটি কাজে নিজের সেরাটা দেওয়া এবং নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করা।”
প্যাটেল বলেন, তাঁর শিক্ষক, বন্ধু, বাবা-মা এবং পরিবারের সহায়তায়ই তিনি সর্বোচ্চ গ্রেড অর্জন করতে পেরেছেন।
আরেক শিক্ষার্থী জশুয়া হান বলেন, সকলেই ‘যতটা পারো পড়ো’। তিনি আরো বলেছেন যে তিনি তার নিখুঁত ফলাফল সম্পূর্ণ অনলাইনে অর্জন করেছেন এবং ছাত্রজীবনকে একটি পূর্ণকালীন চাকরির মতোই নিয়েছেন। তিনি বলেন, তার শিক্ষাজীবনে পরিবার তাকে “অত্যন্ত সমর্থন ও উৎসাহ” জুগিয়েছে এবং কখনো চাপ দেয়নি।
হান বলেন, তাঁর স্কুল ও গির্জার সম্প্রদায়ও তাঁকে সাহায্য করেছে। “আমি দেখেছি ভার্চুয়াল শিক্ষা আমার জন্য পুরোপুরি উপযুক্ত। এটি আমাকে আমার নিজের সময়সূচী ও কর্মক্ষেত্রের উপর এমন নমনীয়তা এবং নিয়ন্ত্রণ দেয়, যা আমার ব্যক্তিগত শেখার পদ্ধতির সাথে সত্যিই খুব ভালোভাবে মিলে যায়।”
তিনি বলেন, “ছাত্রছাত্রীদের প্রতি আমার সবচেয়ে বড় পরামর্শ হলো, যত বেশি সম্ভব এবং যতবার সম্ভব পড়ো।”
ভবিষ্যতে, আহসান ওয়াটারলু বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং এটিকে কীভাবে নিরাপদ করা যায় তা নিয়ে পড়াশোনা করার পরিকল্পনা করছে। প্যাটেল টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকৌশল বিজ্ঞান নিয়ে পড়ার পরিকল্পনা করছে, অন্যদিকে হান টরন্টো স্কারবোরো বিশ্ববিদ্যালয়ে এর কো-অপ ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামে অংশ নিতে এবং অবশেষে আইন স্কুলে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে।
টরন্টো ডিস্ট্রিক স্কুল বোর্ড তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে যে, তারা এই তিন শিক্ষার্থীর “অসাধারণ কৃতিত্ব” উদযাপন করতে পেরে গর্বিত।
