বর্ণবাদী হুমকির শিকার বাংলাদেশি মুসলিম পরিবারের সমর্থনে সমাবেশ

ছবি : ক্রিশ্চিয়ান ডি’আভিনো/সিবিসি নিউজ
প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক, জুলাই ১৩, ২০২৬ : “ক্ল্যারিংটনে ঘৃণার কোনো স্থান নেই।” স্থানীয় পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট শন সিতারাম বিভিন্ন ধর্ম ও পটভূমির বাসিন্দাদের ভিড়ে ঠাসা ক্ল্যারিংটনের টাউন হলে আয়োজিত এক সমাবেশে তাঁর উদ্বোধনী বক্তব্যে এ কথা বলেন, যা শুনে উপস্থিত শতাধিক লোক উল্লাসে ফেটে পড়েন। খবর সিবিসি নিউজের।
গত ৭ জুন মঙ্গলবার ক্ল্যারিংটন টাউন হলের বহু বক্তার মধ্যে সীতারামও একজন ছিলেন। আয়োজকদের মতে, এই সভার লক্ষ্য ছিল মুসলিম ও অভিবাসী বাসিন্দাদের লক্ষ্য করে ক্রমবর্ধমান ভুল তথ্য ও বিদ্বেষের ঢেউ প্রতিরোধ করা, যা তাদের বিচ্ছিন্ন বোধ করাচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, অতি সম্প্রতি টরন্টোর নিকটবর্তী শহর ক্ল্যারিংটনে বাংলাদেশি-কানাডিয়ান মহসিন ভূঁইয়া একটি শখের খামার পরিচালনা করতে গিয়ে স্থানীয় কিছু অধিবাসী কর্তৃক বিদ্বেষ ও নাজেহালের শিকার হন। মহসিন ভূঁইয়া বলেছেন, তাঁর খামারের কার্যক্রম ঘিরে ভুল তথ্যের কারণে অনলাইন মন্তব্য, তাঁর সম্পত্তিতে ড্রোন হামলা এবং বাড়ির বাইরে সংঘর্ষের মাধ্যমে তাঁর পরিবার আতঙ্কিত অবস্থায় আছেন।

নেঅভিযোগকারীদের দাবী, মহসিন ভূঁইয়া তার বাড়ির আঙ্গিনায় অবৈধ কসাইখানা পরিচালিত করছেন। কিন্তু গত মে মাসে অন্টারিও প্রদেশ, পৌরসভা এবং আঞ্চলিক স্বাস্থ্য পরিদর্শকসহ একাধিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা মহসিন ভূঁইয়ার সম্পত্তি পরিদর্শন করে কোনো ধরনের অনিয়ম খুঁজে পায়নি। ফলে অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
কসাইখানা পরিচালিত হচ্ছে এমন কোনো প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও ভুঁইয়া ও তাঁর পরিবার অনলাইন এবং বাস্তব জীবনে ক্রমাগত হয়রানির শিকার হয়ে চলেছেন, যার মধ্যে রয়েছে প্রাণনাশের হুমকি এবং তাঁর নিজের বাড়ির আঙ্গিনায় অভিযোগকারীদের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষের সম্ভাবনা।
ক্ল্যারিংটনের টাউন হলে আয়োজিত সমাবেশে মহসিন ভূঁইয়া বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ একজন কিছু একটা বলেছিল আর হঠাৎ করেই এত বাজে মন্তব্য আসতে শুরু করে, যা খুবই হতবাক করার মতো ছিল। মন্তব্যগুলো ছিল এমন, ‘তাদের বাড়ি পুড়িয়ে দাও’, ‘তাদের মেরে ফেলো’ এবং ‘তাদের দেশে ফেরত পাঠিয়ে দাও।’ মহসিন আরও উল্লেখ করেন যে, অনলাইনের এই অভিযোগগুলোর ভিত্তিতে স্থানীয় এক দোকানের মালিক তাকে পরিষেবা দিতেও অস্বীকার করেছিল।
সমাবেশে মহসিন বলেন, “আমরা বলতে চাই যে ক্ল্যারিংটনে ঘৃণার কোনো স্থান নেই। অনুগ্রহ করে একে অপরকে গ্রহণ করুন এবং ভালোবাসা ছড়িয়ে দিন, বিভেদ সৃষ্টি করবেন না। শ্রদ্ধাশীল ও সহায়ক হোন এবং প্রকৃত ঘটনা জেনে নিন।”
