কানাডার সেন্ট জনস-এ মাতাল এক চালকের গাড়ির ধাক্কায় বাংলাদেশি শিশুর মৃত্যু
প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক, জুলাই ৩১, ২০২৬ : গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কানাডার Newfoundland and Labrador প্রদেশের রাজধানী সেন্ট জনস-এ এক মাতাল চালক টাইলার ডে-র গাড়ির ধাক্কায় বাংলাদেশি শিশু জাফির মুনির গুরুতর আহত হয় এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু এর মাত্র কয়েকদিন পরেই জাফির মারা যায়। তার এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে অভিবাসী এই পরিবারে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। শোকের গভীর ছায়া নেমে আসে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও। খবর সিবিসি নিউজের।
ছয় বছর বয়সী জাফির মুনির তার পরিবারের কাছে ছিল প্রাণের সঞ্চার। সে চলে যাওয়ায় তার মা, বাবা ও বোন বুঝতে পারছেন না, কীভাবে তারা জীবন চালিয়ে যাবেন। বাংলাদেশ থেকে সেন্ট জন’স-এ আসার এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তাদের পরিবারে নেমে আসে এই অভাবনীয় ঘটনা।

পুলিশের অভিযোগ, মাতাল চালক টাইলার ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেলেও পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জাফিরর মা রেজওয়ানা মুনির ইসলাম বলেন, “আমি আমার ছেলেকে অনেক ভালোবাসি… সে সবসময় আমার হৃদয়ের গভীরে থাকতো, সে সবসময় সেখানেই থাকবে।” তিনি জানান, জাফির ছোটবেলা থেকেই তাকে আঁকড়ে ধরে থাকত।
ঘটনার দিন রেজওয়ানা মুনির তার ছেলের সাথে স্থানীয় সেন্ট জনস ফার্মারস মার্কেটে হেঁটে যাওয়ার সময় গাড়িটি জাফিরকে ধাক্কা দেয়। ঘটনাটি পুনরায় স্মরণ করা রেজওয়ানা মুনিরের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর ছিল এবং ঠিক কী ঘটেছিল তার বিস্তারিত বিবরণ জানাতে তিনি প্রস্তুত ছিলেন না।
জাফিরের বাবা রিয়াদ উল মুনির আবেগাপ্লুত হয়ে সিবিসি-কে বলেন, “দিন শেষে, সন্তানরাই হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস যা আপনি আগলে রাখেন। আপনার সন্তানদের সাথে যতটা সম্ভব সময় কাটান, নইলে তাদের মৃত্যুর পর আপনি অনুশোচনা করবেন।”
গত বৃহস্পতিবার (যেদিন জাফিরের জানাজা আয়োজন কারা হয়েছিল) চালক টাইলার ডে-র বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মাত্রা বাড়ানো হয়েছে। এখন তার বিরুদ্ধে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে মৃত্যু ঘটানো, দুর্ঘটনা ঘটানোর পর ঘটনাস্থল ত্যাগ করা, নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি অ্যালকোহল সেবন করে গাড়ি চালানো এবং ফৌজদারি অবহেলার মতো অভিযোগ আনা হয়েছে।
রেজওয়ানা ও রিয়াদ শুধু একটি সন্তানকেই হারাননি। জাফিরের বোন, জুনায়েরাহ তানজিলা মুনিরও তার ভাইকে হারিয়েছে।
জুনারিয়াহ বলেছে যে, ভাইকে পার্কে নিয়ে গিয়ে খেলা দেখতো এবং মাঝে মাঝে তার সাথে ফুটবল খেলতো। এখন ভাইকে হারিয়ে তার খুব খারাপ লাগবে।
রেজওয়ানা ও রিয়াদ বলেছেন, ছেলেকে ছাড়া জীবন চালিয়ে যাওয়া “কঠিন” হবে। তার মা আরও বলেন, কিছু কিছু বিষয় “অসম্ভব” হয়ে পড়বে।
রেজওয়ানা বললেন “ জাফির ছিল একজন সত্যিকারের কেকপ্রেমী। সে কেক এতটাই ভালোবাসতো… আমি জানি না, ভবিষ্যতে আমরা আদৌ আর কেক বানাতে পারব কি না।”
