মাস শেষে কানাডার প্রায় অর্ধেক মানুষের সঞ্চয় বলতে কিছুই থাকে না

বাড়ি ভাড়া, খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসের পেছনে মাসিক আয়ের সবটাই খরচ হয়ে যায়

প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক, মার্চ ১৮, ২০২৬ : একটি নতুন সমীক্ষায় দেখা গেছে, মাস শেষে কানাডার প্রায় অর্ধেক মানুষের সঞ্চয় বলতে প্রায় কিছুই থাকে না। বাড়ি ভাড়া, খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসের পেছনে মাসিক আয়ের সবটাই খরচ হয়ে যায়। ফলে পরবর্তী বেতনের চেকের অপেক্ষায় থাকতে হয় তাদেরকে। অন্যদিকে, প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন প্রতি মাসে তাদের ক্রেডিট কার্ডের বিল ঠিকমতো পরিশোধ করতে পারেন না প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে। Vividata কর্তৃক পরিচালিত একটি নতুন সমীক্ষায় এই তথ্য উঠে এসেছে। খবর সিটিভি নিউজের।

মাস শেষে কানাডার প্রায় অর্ধেক মানুষের সঞ্চয় বলতে প্রায় কিছুই থাকে না। ছবি : সংগৃহীত

এদিকে এই অর্থনৈতিক সংকটকে আরও নাজুক করে তুলেছে আমেরিকা ও ইসরাইলের সাথে ইরানের যুদ্ধ। এই যুদ্ধের কারণে বাজারে জ্বালানি তেলের দাম হুহু করে বাড়ছে। সেই সাথে বাড়ছে খাদ্যদ্রব্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য জিনিসের দামও।

কানাডায় এই অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাদের নিত্যদিনের বাস, তারা যদি  কোনো এক মাসে কোনো কারণে বেতন না পান বা বেতন পেতে যদি দেরী হয়, তবে তাদের জীবনে নেমে আসে আরেক বিপদ। তারা তখন সঠিক সময়ে বাড়ি ভাড়া দিতে পারেন না। গ্রোসারী করতে গিয়ে ঋণ করতে হয়। আগের ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে নতুন করে আবার ঋণ করতে হয়।

কানাডায় ক্রেডিট কার্ডের সুদের হার ২০ থেকে ২৪ শতাংশ হলেও, কিছু কার্ডে তা ৩০ শতাংশ পর্যন্তও হতে পারে। সুদ এড়াতে প্রতি মাসে বকেয়া পরিশোধ করাই বুদ্ধিমানের কাজ। কিন্তু সমীক্ষায় দেখা গেছে যে ৩৬ শতাংশ কানাডিয়ানের ক্রেডিট কার্ডে বকেয়া অব্যাহত থাকে এবং টাকার অভাব হলে পুনরায় ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেন।

অন্যদিকে, ‘Canadian Consumer Winter 2026’-এর জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৪৯ শতাংশ বলেন যে, তারা মাস শেষে বেতনের অপেক্ষায় থাকেন।

এই তথ্যের উপর ভিত্তি করে ‘Vividata’র প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী প্যাট পেলেগ্রিনি বলেন, “মাস শেষে ৪৯ শতাংশ মানুষ কর্তৃক বেতনের অপেক্ষায় থাকার বিষয়টি আশ্চর্যজনক এবং হতবাক করার মতো। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এটি একটি অবিশ্বাস্যরকম বড় সংখ্যা। ”

তিনি সিটিভি নিউজকে বলেন, “প্রতি মাসে ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া পরিশোধ করতে না পারলে তা জীবনকে আরও কঠিন করে তোলে। এই শ্রেণির মানুষ সঞ্চয় করার পরিবর্তে ঋণ পরিশোধ করতে থাকে এবং মাসের শেষে আবার ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে এবং একটি দুর্ভাগ্যজনক চক্রের মধ্যে পড়ে যায়।”

এদিকে Credit Counselling Society’র মার্ক কালিনোস্কি বলেন,  “নতুন ইরান যুদ্ধের আগেও মানুষের অবস্থা খুব নাজুক ছিল। খাদ্য ও বাসস্থানের দাম সবসময়ই অনেক বেশি ছিল, কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো, এখন কর্মজীবী মানুষদেরকে প্রতি লিটার গ্যাসে অতিরিক্ত ১৬ থেকে ২০ সেন্ট দিতে হচ্ছে এবং এই টাকাটা তাদেরকে দিতেই হচ্ছে, কোনো বিকল্প নেই।”

সমীক্ষায় আরও দেখা গেছে, ৩৭ শতাংশ মানুষ আর্থিক বোঝায় জর্জরিত, ৫৮ শতাংশের হাতে আগের চেয়ে কম মাত্রায় ব্যয় করার মতো অর্থ রয়েছে।

অন্যদিকে, ৭৪ শতাংশ বলেছেন যে, জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমবর্ধমানভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় তাঁরা দৈনন্দিন খরচের বিষয়ে আরও সতর্ক হয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *