অর্ধেকের বেশি আমেরিকান মনে করেন তাদের সহনাগরিকরা নৈতিকভাবে খারাপ : আর কানাডিয়ানরা?
প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক, মার্চ ১৬, ২০২৬ : আমেরিকান প্রাপ্তবয়স্কদের মাত্র ৪৭ শতাংশ বলেছেন যে আমেরিকানরা সামগ্রিক অর্থে নৈতিকভাবে ভালো। আর বাকিদের নৈতিকতা খারাপ! এই হিসাব বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তুলনায় সর্বনিম্ন!
অন্যদিকে ৯২ শতাংশ কানাডিয়ান মনে করেন নৈতিকভাবে কানাডার নাগরিকেরা ভালো। এই হিসাব বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তুলনায় সর্বোচ্চ! অবশ্য সর্বোচ্চ এই তালিকায় কানাডার পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়ার নামও রয়েছে। অর্থাৎ মাত্র সাত শতাংশ কানাডিয়ান তাদের সহনাগরিকদের নৈতিকভাবে খারাপ বলেছেন, যেখানে আমেরিকানদের মধ্যে এই হার ৫৩ শতাংশ।
Pew Research Center কর্তৃক পরিচালিত এবং চলতি মার্চ মাসে প্রকাশিত ২৫টি দেশের নৈতিকতা বিষয়ক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে কানাডা ও আমেরিকা সম্পূর্ণ বিপরীত প্রান্তে অবস্থান করছে। এই সমীক্ষায় বিশ্বজুড়ে মানুষকে তাদের নিজ নিজ দেশের অন্যদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধের মূল্যায়ন করতে বলা হয়েছিল। খবর গ্লোবাল নিউজের।

সমীক্ষার লেখকরা উল্লেখ করেছেন যে, পিউ রিসার্চ আগে কখনও এই প্রশ্নটি করেনি, তাই সহনাগরিকদের নৈতিকতা সম্পর্কে আমেরিকানদের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নতুন কিনা বা এর চালিকাশক্তি কী, তা তারা বলতে পারেনি, তবে তারা ধারণা দিয়েছেন যে রাজনৈতিক দলের প্রতি আনুগত্য একটি কারণ হতে পারে।
“যুক্তরাষ্ট্রে, রিপাবলিকানদের তুলনায় ডেমোক্র্যাটরা তাদের সহ আমেরিকানদেরকে নৈতিক ও নীতিগতভাবে খারাপ হিসেবে মূল্যায়ন করার সম্ভাবনা বেশি”— এই হার ৬০ শতাংশ বনাম ৪৬ শতাংশ, সমীক্ষার প্রধান লেখক জোনাথন ইভান্স গ্লোবাল নিউজকে একথা জানিয়েছেন। তবে, তিনি উল্লেখ করেছেন যে, “যারা শাসক দলের সমর্থক নন, তাদের মধ্যে সহনাগরিকদেরকে অনৈতিক হিসেবে দেখার প্রবণতা বেশি থাকে, যা আমরা বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশেই দেখেছি।”
এদিকে গত জানুয়ারিতে আমেরিকার গণমাধ্যম সংস্থা ‘এনপিআর’-এর জন্য পরিচালিত Ipsos এর একটি জরিপে দেখা গেছে যে, যেখানে ৬১ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন বিশ্ব মঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের একটি নৈতিক নেতা হওয়া উচিত, সেখানে মাত্র ৩৯ শতাংশ মনে করেন দেশটি সেই অবস্থান ধরে রাখতে পারছে — যা ২০১৭ সালের ৬০ শতাংশ থেকে কমে এসেছে।
সামাজিক বিষয়গুলির নৈতিকতা নিয়ে বিভেদ
পিউ সমীক্ষায় উত্তরদাতাদের কাছে আরও জানতে চাওয়া হয়েছিল যে, তাঁরা বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, বিবাহবিচ্ছেদ, গর্ভপাত, সমকামিতা এবং জুয়ার মতো নির্দিষ্ট বিষয়গুলিকে নৈতিক নাকি অনৈতিক বলে মনে করেন।
সমীক্ষায় দেখা গেছে মাত্র আট শতাংশ আমেরিকান গর্ভনিরোধক ব্যবহারকে অনৈতিক বলেছেন, যেখানে কানাডিয়ানদের মধ্যে এই হার ছয় শতাংশ। প্রায় একই সংখ্যক মানুষ জুয়া খেলা (যুক্তরাষ্ট্রে ২৯ শতাংশ, কানাডায় ২৭ শতাংশ) এবং পর্নোগ্রাফি দেখাকেও (৫২ শতাংশ বনাম ৪৮ শতাংশ) অনৈতিক বলে মনে করেন।
তবে, সমকামিতাকে (৩৯ শতাংশ বনাম ১৫ শতাংশ), গর্ভপাতকে (৪৭ শতাংশ বনাম ১৯ শতাংশ), বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে (৯০ শতাংশ বনাম ৭৬ শতাংশ) এবং বিবাহবিচ্ছেদকে (২৩ শতাংশ বনাম ১১ শতাংশ) অনৈতিক হিসেবে দেখার ক্ষেত্রে আমেরিকানরা কানাডিয়ানদের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে ছিল।
গত বছর ২৬টি দেশের ওপর পরিচালিত ইপসোস এর সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৬৮ শতাংশ কানাডিয়ান মনে করেন যে সমকামী দম্পতিদের বিয়ে করার অনুমতি দেওয়া উচিত, যেখানে আমেরিকানদের মধ্যে এই হার ছিল ৫৩ শতাংশ।
অন্যদিকে, ইপসোস কর্তৃক ২০২৩ সালে গর্ভপাত বিষয়ে পরিচালিত একটি বিশ্বব্যাপী সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৬৯ শতাংশ কানাডিয়ান মনে করেন যে গর্ভপাত বৈধ হওয়া উচিত, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে এই হার ৫৫ শতাংশ।
