নিভৃতে

রীনা গুলশান

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

এরপর দুজন এক সাথে বের হলো, প্রথমে পাশের বিশাল গ্রোসারী স্টোর ‘নো ফ্রিলস’ থেকে তিন বেলা খাবারের সমস্ত বাজার করলো। তারপর পাশের একটা ‘হোম স্টোর’ থেকে রাইস কুকার, প্যান, চায়ের প্যান কাপ, গ¬াস, চামচ, আরো টুকিটাকি বেশ কিছু জিনিসপত্র কিনলো। ঐ দোকানেরই আর এক পাশে কাপড়-চোপড় ব্ল্যাংকেট- এসব বিক্রি করছে দেখে চটপট দুজন দুটো ব্ল্যাংকেট কিনে ফেললো। হলুদের মধ্যে বিশাল বাঘের ছবি দেওয়া একটা ব্ল্যাংকেট নিল ফাবিয়ান। রায়ান নিল গাঢ় নীল রঙের পোলকা বল দেওয়া। ২টা বিছানার চাদরও কিনলো। গতকাল রাতে খুবই অস্বস্তিহয়েছিলো পুরানো কম্বল গায়ে দেওয়াতে। কেমন জানি ঘিনঘিনে অনুভূতিতে ফাবিয়ান ঘুমুতেই পারছিলো না। অনেক কিছু কিনে ফেললো। এরপর সব কিছু বাসায় রেখে ‘ডলারামা’তে গেল ঝাড়ু কিনলো। জানালার ১টা পর্দাও কিনলো ওখান থেকে। আবার টুকিটাকি আরো কিছু জিনিসপত্র কিনে ফেললো। ওখানে থেকে বেরিয়েই সোজা ‘ম্যাকডোনাল্ডে’। ক্ষিধায় তখন পেটের মধ্যে চো চো শুরু হয়েছে। ডাবল বিগ ম্যাক কিনে গব গব করে দুজনে খেয়ে ফেললো। এরপর সোজা ঘরে। ঘরে যেয়ে রায়ান গুছানো শুরু করলো। আর ফাবিয়ান রাঁধতে গেল। তখন বেজমেন্টের অন্য ভাড়াটে দুজন নাই। একটু বেশি করে রাঁধলো যেন ২/৩ দিন চলে যায়। আবার ওখান থেকে এক বাটি পাস্তা এলিজাবেথকে দিয়ে আসলো। এলিজাবেথ তো রীতিমতো বিস্মিত-
: ওমা! এরই মধ্যে তোমরা বাজার সদাই করে ফেলেছো? আবার রান্নাও করেছো? তোমরাতো দেখি খুবই কাজের? কোন অসুবিধা হলেই বলবে, বুঝলে?
এরপর এলিজাবেথ সরাসরি কাজের কথা বললো-
: তোমরা আগামীকাল সকাল ৯টার মধ্যেই ‘লিংকে’ চলে যাবে। ওখানে গেলে ইংরেজিটাও ভালো শিখতে পারবে। তাছাড়া কাজ কামের অন্যান্য ইনফরমেশন ওরা তোমাদের বলে দেবে। রিজ্যুমী বানানোও শিখিয়ে দেবে।
ফাবিয়ানের ইংলিশ মোটামুটি চলে। রায়ানের লিসেনিং এর বেশ সমস্যা। বিশেষ করে চৈনিকদের কথা কিছুই বুঝতে পারছে না। এলিজাবেথকে এটা বলতেই হেসে লুটোপুটি। বললো, এই রকম অনেক দেশীই আছে তাদের কথা বুঝতেই পারবে না। তারা আদৌ ইংলিশ বলছে না তাদের নিজেদের ভাষায় কথা বলছে সেটাও বুঝতে পারবে না।
ওরা অনেক ধন্যবাদ দিয়ে চলে এলো। রাতে পেট পুরে অনেক দিন পর দেশী খাবার খেয়ে মনটা ভালো হয়ে গেল। তারপর কলিং কার্ড দিয়ে নানীকে ফোন করে অনেকক্ষণ কথা বললো। নানী আসবার সময় একটুও কাঁদেনি। কিন্তু আজ টেলিফোনের মধ্যে অনেকক্ষণ কাঁদলো। সে কান্না শুনে ফাবিয়ানও নিজেকে সম্বরণ করতে পারলো না। পরে নানী ওর কান্না শুনে, উল্টো ওকে বোঝানো শুরু করলো।
রাতে ফাবিয়ান অনেকক্ষণ দুঃখে আচ্ছন্ন হয়ে রইলো নানীর জন্য। রোডিকা আন্টিদের কথা মনে হলো। ডোরিনের সাথে কথা বলবে? যখনি এটা মনে হলো, তখনি লাফ মেরে আবার ফোন করলো ডোরিনের নাম্বারে। অনেকক্ষণ চেষ্টার পর ডোরিন ধরলো-
: হ্যালো কে?
: ডোরিন আমি, আমি ফাবিয়ান।
: ওহ্!
: তুমি কেমন আছো?
: আমি ভালোই আছি। কিন্তু কি জন্যে ফোন করেছো?
: এটা কেমন প্রশ্ন ডোরিন? আমি কি তোমাকে ফোন করতে পারি না?
: না, পারো না। তোমার আর সে অধিকার নাই!
: এটা তোমার রাগের কথা ডোরিন, তুমি জানো যে, আমার সে অধিকার আছে।
: হয়তো কখনো ছিল। আজ আর নাই। আমি তো এসব কথা তোমার যাবার আগেই বলে দিয়েছি। তাহলে কেন আবার এসব প্যাচাল পাড়ছো?
: তুমি কি সত্যিই তবে আমার সাথে সম্পর্ক রাখতে চাও না?
: না, না, না- কত বার বলবো? আমাকে আমার মত থাকতে দাও। আমাকে আর কখনো ডিসটার্ব করবে না প্লিজ।
: ডোরিন, একটু বোঝবার চেষ্টা করো? আমার অপরাধটা কি?
: সেটা তুমি ভালোই জানো ফাবি!
: এই যে তোমার কথা অমান্য করে আমি কানাডাতে চলে এসেছি?
: সে যাই-ই হোক, আমি আর এইসব ব্যাপারে তোমার সাথে আলোচনা করতে চাই না- বলেই লাই কেটে দিল। ফাবিয়ান অনেকক্ষণ হ্যালো, হ্যালো বললো। বেশ কিছুক্ষণ পর বুঝতে পারলো ডোরিন তার লাইনটা কেটে দিয়েছে।
ফাবিয়ান এবারে সত্যিই বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেল। ও সত্যিই বুঝতে পারলো না, ডোরিন কেন তার সাথে এরকম ব্যবহার করছে। কি তার অপরাধ। সে ইটালি থেকে কানাডা চলে এসেছে, এটাই তার একমাত্র অপরাধ? নাকি আসবার পরিকল্পনাটা তাকে বলেনি বলে? এটা কি তাদের এত কালের ভালোবাসার বিচ্ছিন্নতার কারণ হতে পারে? নাকি ফাবিয়ান যখন ভ্যালেলংগা ছেড়ে কাটিনজিরোতে পড়তে গেল ঐ ৪/৫ বৎসরেই তাদের বিচ্ছিন্নতার সূত্রপাত হয়েছিল? কিন্তু তার দিক দিয়েতো কখনো কোন পরিবর্তন আসেনি। কাটিনজিরোতে থাকতে কত কত সুন্দরী রমনীরা তার প্রতি আকর্ষিত হয়েছে, কিন্তু ফাবিয়ান কখনোই কারো দিকে সেভাবে দেখেওনি। কারণ, সে জানতো তার জীবনে এক এবং অদ্বিতীয় একমাত্র তার চিরকালের ডোরিন। অথচ সেই ডোরিনের একি ব্যবহার!
ফাবিয়ান এবারে সত্যি সত্যিই ভেঙ্গে পড়ে। বালিশে মুখ ডুবিয়ে ছোট বাচ্চার মত কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। বেশ খানিকক্ষণ পর রায়ান এসে তার পিটে হাত রাখে। রায়ান সবই দেখেছে, সবই শুনেছে। দুজনকেই ছোট বেলা থেকেই দেখেশুনে বড় হয়েছে। ও নিজেই বেশ খানিকটা বিস্মিত হয়েছে ডোরিনের ব্যবহারে। বন্ধুকে কিভাবে সান্ত্বনা দেবে, ও নিজেই ভেবে পাচ্ছে না। তবু খুব দুঃখিত স্বরে বললো-
: ফাবি, শোন আমরা নতুন দেশে এসেছি। এখন আমাদের জীবনে যে কত চড়াই-উৎরাই আছে, তুই এখন সেটাই ভাব। একটা কথা ভেবে দ্যাখ, আমাদের আর পিছু ফিরলে চলবে না। এখন আমাদের অনেক কিছু করার আছে। চিন্তা কর রবার্ট পর্যন্ত কি বেঈমানিটা করলো, চিন্তা কর। যার জন্য আমরা কানাডা আসবার চিন্তা করেছি আর আজ নিজের গার্লফ্রেন্ড পেয়ে আমাদের এত দিনের বন্ধ্ত্বু পর্যন্ত ভুলে গেল। যেন আমাদের চেনেই না। ডোরিনেরও নিশ্চয়ই কোন ব্যাপার আছে, তাছাড়া ছোটবেলা থেকেই দেখছি তো, ডোরিন বেশ অন্তর্মুখী। ওর মনে কি আছে ঈশ্বর ছাড়া কেউ জানে না। হয়তোবা ওরও কোনো বয়ফ্রেন্ড আছে আমরা জানি না। তোকে ছাড়ার এটা ছিল একটা বাহানা মাত্র, বুঝলি?
পরদিন থেকেই সকাল সকাল নাস্তা করে দুজনে ৯টার মধ্যেই খওঘক -এ ছোটে। সব কাগজপত্রও সঙ্গে নিয়ে গেল। কর্তৃপক্ষ নানান রকম প্রশ্ন করে জেরবার করে দিল। তারপর বললো, আগামীকাল ২টার দিকে আসবে, তোমাদের ইন্টারভিউ নিব। তারপর আমরা সাব্যস্ত করবো তোমরা কোন লেভেলে চান্স পাবে। পর দিন ইন্টারভিউতে দুজইন চান্স পেল ৩ৎফ লেবেলে।
২ মাস ধরে টানা ক্লাস করলো। কিন্তু মাথার মধ্যে ক্রমাগত ডলার ঘুরছে। পড়াশুনা ভালো লাগবে কেন? এরই মধ্যে ডলার প্রায় তলানীতে নেমে এসেছে। দুজনের মিলে $ ২০০ ডলারেরও কম আছে। খুবই চিন্তার মধ্যে পড়লো। কিছু একটা করা দরকার। এভাবে চললে অতি শিঘ্র এটা তলানীতে চলে যাবে। কথায় আছে না, ‘বসে খেলে রাজার ধনও ফুরিয়ে যায়।’ আর ওদেরতো ভিক্ষুকের ধন। বিভিন্ন স্টোর, রেস্টুরেন্ট এবং কাছে পিঠের সব মলগুলোতে হানা দিল। সব একই উত্তর-
: ওকে, তোমাদের রিজ্যুমী রেখে দাও, আমরা দরকার মত ডাক দেবো। অথবা
: সরি, ই-আমরা এখন হায়ার করছি না।
: তোমাদের কি এই ব্যাপারে অভিজ্ঞতা আছে?
মোটামুটি সব একই ধরনের কথাবার্তা। দুজনই মারাত্মক হতাশায় আক্রান্ত। তার মধ্যে রায়ানের আবার ধৈর্য্যরে খুবই অভাব। সে তো রাত দিন বিড় বিড় করছে-
: এখন আমাদের কি হবে? টাকা তো শেষের পথে। তখন কি হবে? ঘর ভাড়া কিভাবে দিবো? খাবোই বা কি? কানাডার যাতায়াত ভাড়াও তো অনেক। কোথাও যে যাবো সেই পয়সাটাতো থাকবে না। আর হারামজাদা রবার্ট একজনের ঘাড়ে উঠে বসে আছে। দিব্যি আছে। খাচ্ছে, শুচ্ছে। ফাজিলের ফাজিল! আমাদের যেন চেনেই না। মনে হয় ওর পশ্চাদদেশে একটা লাথি মারি। রায়ানের রাগ চরমে উঠলেই সে আরাম করে রবার্টকে গালি দেয়। মনে হয়, ওর রাগ বেশ প্রশমিত হয়। বিশেষ করে রবার্টই ওদের প্রভাবিত করেছিল কানাডাতে আসবার ব্যাপারে।
ফাবিয়ান এত দুঃখেও এ সব বকবকানি শুনে নিঃশব্দে হাসে। আবার বন্ধুকে সান্ত্বনা দেয়। তাতেও কোন কাজ হয় না। রায়ান দিনকে দিন হতাশার চরমে চলে যায়। এরই মধ্যে একদিন দেশের থেকে রায়ানের বাবার ফোন এলো-
: হ্যালো রায়ান?
: হ্যাঁ বাবা, কেমন আছো তোমরা?
: আমরাতো ভালোই আছি। তোরা কেমন আছিস? কোন কাজ কাম পেলি?
: না, বাবা কিচ্ছু না, কিচ্ছু না। রায়ান প্রায় ফুঁপিয়ে ওঠে।
: আচ্ছা, আচ্ছা শোন, অত বিচলিত হবার কিছু নাই। শোন তোর সেই এডুইন মামার কথা মনে আছে? ঐ যে তোর মায়ের চাচাতো ভাই।
: ঐ যে মামা খুব মোটা আর খুব লম্বা ছিল, আবার খুব সুন্দর হারমোনিকা বাজাতো?
: হ্যাঁ, হ্যাঁ- সেই এডুইন গ্যারিসটো। ওতো প্রায় ১৫/১৬ বৎসর ধরে কানাডাতে আছে।
: ওহ্ হ্যাঁ, মনে পড়েছে, তো?
: আহা, শোন না, কাল হঠাৎ অনেক কাল পর তোর মাকে ফোন করলো। সবার খোঁজখবর করছিল। তো, তোর মা সাথে সাথে তোর কথা বললো, বুঝলি সে তো এখন বেশ বড় বিজনেসম্যানরে, ওখানকার একটা লন্ডন আছে না?
: অন্টারিও লন্ডন?
: হ্যাঁ, হ্যাঁ, ওখানেই সে থাকে। তার নিজের একটা ‘বার্গার কিং’ আছে।
: তো আমি কি করবো? রায়ান খেকিয়ে উঠলো।
: আরে শোন না, অত অধৈর্য্য হলে চলে? মন দিয়ে কথা শোন তোর মা বললো যে, রায়ানরা প্রায় ৪/৫ মাসের উপর গেছে এখনো কোনো চাকরি পায়নি।
: আচ্ছা তারপর?
: তা তোর মামা বললো, এটা একটা কথা হলো, আমি থাকতে আমার ভাগ্নে না খেয়ে থাকবে? ওকে এখুনি আমার সাথে যোগাযোগ করতে বল।
: তাই নাকি, এতক্ষণে রায়ান যেন ধড়ে প্রাণ পেল। তো, ফোন নাম্বারটা শিঘ্র বল।
রায়ান ফোন নাম্বারটা লিখতে লিখতেই বললো-
: কিন্তু ফাবিয়ানের কথা বলেছো তো?
: হ্যাঁ রে বাবা, আমরা কি বোকা নাকি? তোর মাকে তো জানিসই, চান্স পেলে কি আর কথা কম বলবে। সে সব ডিটেলস-এ তোদের কথা বলেছে।
: তাহলে তো খুবই ভালো হলো।
: তোর মামা বলেছে, কোন ব্যাপারই না এটা তার কাছে। তুই এখুনি যোগাযোগ কর।
: ওকে বাবা, ধন্যবাদ। অনেক ধন্যবাদ।
রায়ানের আর ধৈর্য্য নাই, সে এক দৌড়ে পাশের দোকান থেকে একটা ১ ডলারের কলিং কার্ড কিনে আনলো। সাথে সাথে মামাকে ফোন করবার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়লো। ফাবিয়ান নির্বিকারভাবে রাতের রান্না করা শুরু করলো। রায়ানের এই উত্তেজনা তাকে একটুও স্পর্শ করছে না। কেন, কে জানে? রায়ান বেশ অবাক হয়ে বার বার ফাবিয়ানকে দেখছে আর ফোন ট্রাই করছে। অনেকক্ষণ গ্যাক গ্যাক করে কানেকশন মিললো-
: হ্যালো… লো, বিকট চিৎকার করে কেউ বললো।
: হ্যালো, আমি কি এ্যাডুইন গ্যারিসটোর সাথে একটু কথা বলতে পারি, প্লিজ?
: হ্যাঁ পারো, তা এতদিন এরকম ঘুরপাক না খেয়ে সরাসরি মামাকে কল করলেই পারতে।
: মামা! কি কান্ড। আপনি আমাকে চিনলেন কি করে? আমাকে তো সেই ৬/৭ বছর আগে দেখেছিলেন?
: হা.. হা… আমি তোর মামা, আর তুই ভাগ্নে। মামারা সব সময়ই বুদ্ধিমান হয় ভাগ্নেরা হয়…
: বোকার হদ্দ, হা… হা… এবারে রায়ান তার কথা কেড়ে নিয়ে বললো। এটা তাদের ছোটবেলার একটা মজা। ওরা কোন কিছু না পারলেই এ্যাডুইন (মটু মামা) তাদের মাথায় একটা গাট্টা মেরে এই কথাটা বলতো।
এরপর মামা ভাগ্নের অনেক মজার মজার কথা হলো। অবশেষে মামা ইতি টানলো-
: বুঝলে ভাগ্নে, তাহলে টরেন্টোতে আর একটা দিনও অযথা নষ্ট না করে, এখানে চলে এসো। থাকারও কোন অসুবিধা নাই। আমার অনেক বড় বাড়ি। বেজমেন্টেই প্রায় ৩টা শোবার ঘর। ওগুলো খালিই পড়ে থাকে। আমার একটাই মেয়ে। তোমাদের কোন অসুবিধাই হবে না। তা, আসবার টাকাটা আছে তো?
: হ্যাঁ মামা, তা আছে। মামা অনেক ধন্যবাদ।
: রাখ তোর ধন্যবাদ। মামাকে আবার ধন্যবাদ দ্যায়, ব্যাটা ফাজিলের ফাজিল।
ফোন রেখে রায়ানতো খুশিতে একেবারে গদগদ। এরপরতো তার মটু মামার বিভিন্ন গুণ কীর্তন শুরু করলো। তার আনন্দোচ্ছাস আর থামেই না।
: আচ্ছা এবারে খেতে আয়- ফাবিয়ান তাড়া দেয়, রাত অনেক হলো, শুধু বক বক করলেই হবে। মটু মামাকে তো আমিও চিনি। খুবই ভালো মানুষ।
: তাইতো রে। আমারতো খুশিতে একেবারে মরে যেতে ইচ্ছা করছে।
: আচ্ছা, তা মরে গেলে লন্ডনে যাবি কিভাবে?
: ইয়ার্কি মারিস না, বুঝলি। ব্যাটা রবার্টকে এবারে আচ্ছা মতন একটু পটাকা মারতে হবে।
: তা কিভাবে?
: এরকম যে আমরা লন্ডন অন্টারিওতে বিশাল একটা জব নিয়ে চলে যাচ্ছি। ও ব্যাটা ফাজিলের ফাজিল ‘গেরি’র টয়লেট পরিস্কার করুক। হা… হা…।
: তা যা বলেছিস। তা তুই ওর উপর অত ক্ষেপে আছিস কেন?
: না, ক্ষেপবো না, তো কি করবো? শালা এক সাথে বছর ছয়েক হোস্টেলে থাকলাম। ওই ব্যাটাই আমাদেরকে এরকম গ্যাড়াকলে ফেললো। এই কানাডা আসবার পরিকল্পনা তো ঐ-ই করলো। আর শেষে করলোটা কি বল? শালা চোখের উপর কিনা ঐ গেরী বেটার কোমর জড়িয়ে বেডরুমের দরজা বন্ধ করলো! (চলবে)

রীনা গুলশান

লেখক রীনা গুলশান বাংলা সাহিত্যে মাস্টার্স। ইতিপূর্বে বাংলাদেশের বিভিন্ন দৈনিক, সাপ্তাহিক এবং মাসিকে তার কবিতা, ছোটগল্প, প্রবন্ধ, রম্য রচনা প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত হয়েছে কানাডার বিভিন্ন বাংলা পত্রিকাতেও। তিনি ‘প্রবাসী কণ্ঠ’ ম্যাগাজিন এর একজন নিয়মিত কলামিস্ট।