প্রায় ৫ বছর পর আবারও অন্টারিও’র পার্লামেন্টের বাইরে ম্যাকডোনাল্ডের মূর্তি দৃশ্যমান হলো

প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক, জুন ১১, ২০২৫ : কানাডার প্রথম প্রধানন্ত্রী স্যার জন এ. ম্যাকডোনাল্ডের মূর্তি আবারও দৃশ্যমান হলো অন্টারিও প্রভিন্সের পার্লামেন্ট ভবনের সামনে। এই মূর্তিটি গত প্রায় ৫ বছর ধরে প্লাইউড দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল যাতে বর্ণবাদ বিরোধী এক্টিভিস্টদের কেউ এটি ভেঙ্গে ফেলতে না পারে। গত ১১ জুন সকালে এটি আবার উন্মুক্ত করা হয়। খবর সিপি২৪.কম এর।
উল্লেখ্য যে, মার্কিন যুক্ত রাষ্ট্রে এক কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েডকে যখন পুলিশ শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছিল তখন গোটা আমেরিকা ও কানাডায় মানুষজন বিক্ষোভে ফেটে পড়েছিল। ২০২০ সালের জুলাই মাসে সেই বিক্ষোভের সময় উজ্জ্বল গোলাপী রঙ ছিটিয়ে দেওয়া হয়েছিল ম্যাকডোনাল্ডের মূর্তিটির পাদদেশে। এর পর থেকে এটি ঢেকে রাখা হয়েছিল।
সেই সময় কানাডাজুড়েই ম্যাকডোনাল্ডের মূর্তি ভাঙচুরের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল। কারণ তিনি ছিলেন চরম বর্ণবাদী ও আদিবাসীদের সন্তানদের জন্য আবাসিক স্কুল ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার একজন স্থপতি।
জন ম্যাকডোনাল্ড ১৮৯১ সালে মৃত্যুর আগে প্রায় দুই দশক ধরে কানাডার প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। দেড় ’শ বছরেরও আগে কানাডীয় কনফেডারেশন গঠনের পেছনে তার কিছু ভূমিকাই মুখ্য চালিকাশক্তি ছিলো বলে তিনি দেশটিতে শ্রদ্ধার পাত্র হিসাবে বিবেচিত হয়ে আসছেন। তার নাম ও ছবি টাঙ্গানো রয়েছে সারা দেশের বিভিন্ন হাইওয়ে, ভবন, স্কুল ও সড়কে। আর তিনি রয়েছেন বেশিরভাগ কানাডীয় নাগরিকের মানিব্যাগে – ১০ ডলারের নোটে ছবি হিসাবে।

কিন্তু দেশের আবাসিক স্কুল ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্যও তার নীতিই দায়ী। প্রায় ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে দেড় লাখের মত আদিবাসী শিশুকে এ ধরণের আবাসিক স্কুলে জোর করে নিয়ে যাওয়া হয় যেখানে “শিশুদের প্রতি অবহেলা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে” বলে জানিয়েছে ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন। কমিশন বলেছে, ওই স্কুল কর্মসূচি ছিলো “সাংস্কৃতিক গণহত্যা”র সামিল।
ম্যাকডোনাল্ড কি আসলেই বর্ণবাদী ছিলেন?
এর সোজাসাপ্টা উত্তর দিতে গেলে বলতে হবে- হ্যা তিনি বর্ণবাদী ছিলেন। এবং প্রচন্ডভাবেই ছিলেন। এবং তিনি নিজেই তার জীবদ্দশায় এ কথা স্বীকার করে গেছেন।
অবশ্য স্যার জন এ. ম্যাকডোনাল্ড যখন কানাডার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তখন কানাডায় বর্ণবাদকে অপরাধ হিসাবে বিবেচনা করা হতো না। বর্ণবাদকে সমর্থন করার পিছনে ম্যাকডোনাল্ড এর যুক্তি ছিল এই রকম – আমি এরকম একটি দেশ চালাচ্ছি যে দেশটি বর্ণবাদী মানুষে ভরা। এ কারণেই আমি বর্ণবাদকে সমর্থন করে গেছি।
