জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব টরন্টোর উদ্যোগে বিজয় দিবস পালিত
প্রবাসী কণ্ঠ, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ : ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে গত ২২ ডিসেম্বর টরন্টোতে পালিত হলো জালালাবাদ এসোসিয়েশন এর উদ্যোগে বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবস। স্কারবরো’র বার্চমাউন্ট পার্ক কলেজিয়েট ইন্সটিটিউটের বিশাল মিলনায়তনে সহস্রাধিক দর্শকের উপস্থিতিতে আয়োজিত বিজয় দিবসের এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত অন্টারিও পার্লামেন্টের সদস্য ডলি বেগম (স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট রাইডিং) এবং একই এলাকার সিটি অফ টরন্টোর কাউন্সিলর মি.পার্থি কান্দাভেল। আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল জনাব মোঃ শাহ আলম খোকন।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই বাজানো হয় বাংলাদেশ ও কানাডার জাতীয় সঙ্গীত। এই সময় সবাই দাঁড়িয়ে দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন।
এরপর শুরু হয় সাংস্কৃতিক পর্ব। এই পর্বে দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন উদীচী কানাডার শিল্পীবৃন্দ। টরন্টোর স্থানীয় অন্যান্য শিল্পীরাও অনুষ্ঠানে দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন। ছিল আবৃত্তিরও আয়োজন। পরিবেশিত হয় নৃত্যও। স্থানীয় শিশু শিল্পীদের এই নৃত্য পরিবেশনা ছিল অনবধ্য। দর্শকরা মুহুর্মুহু করতালি দিয়ে তাদের অভিনন্দন জানান।
বিজয় দিবসের এই অনুষ্ঠানে টরন্টোতে বসবাসকারী চারজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে জালাবাদ এসোসিয়েশন অফ টরন্টোর পক্ষ থেকে সম্মাননা জানানো হয়। অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্পন্সরদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন এমপিপি ডলি বেগম, কনসাল জেনারেল শাহ আলম খোকন, জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি আহাদ খন্দকার, দেবব্রত দে তমাল ও ছাদ চৌধুরীসহ অনুষ্ঠানের অতিথিবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে কনসাল জেনারেল মো. শাহ আলম খোকন বলেন, জালালাবাদ এসোসিয়েশনসহ প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটি যে ভাবে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে কমিউনিটির ঐক্য ও দেশপ্রেম জাগ্রত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন তার জন্য আমি তাদেরকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, একাত্তরে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর আমরা ১৬ ডিসেম্বর অর্জন করি চূড়ান্ত বিজয়। এই বিজয় অর্জনের পেছনে রয়েছে ত্রিশ লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগ। দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি। আরো রয়েছে অগণিত মুক্তিযোদ্ধাদের অসম সাহসিকতা ও ত্যাগ। আমি আজ গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সেই সকল বীর শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের।
এমপিপি ডলি বেগম সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিন্দন জানিয়ে বলেন, বিজয় দিবস শুধু বাংলাদেশের ইতিহাসেই নয়, বিশ্ব ইতিহাসেও একটি অনন্য উদাহরণ। তিনি বলেন, বাঙ্গালী জাতি গণতন্ত্র ও আত্মমর্যাদার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংগ্রাম করে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার কখনো বিনা মূল্যে আসে না। বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের আত্মত্যাগ আমাদের সেই কথাই মনে করিয়ে দেয়। ডলি বেগম বলেন, প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশীরা যেভাবে ভাষা, সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে ধারণ করছেন—তা সত্যিই প্রশংসনীয়। জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব টরন্টোকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি আরো বলেন, প্রবাসে নতুন প্রজন্মের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরার এই উদ্যোগ ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব টরন্টোর সভাপতি মাহবুব চৌধুরী রনি বলেন, একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বরের এই বিজয়ের পেছনে রয়েছে ত্রিশ লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগ, অগণিত মা-বোনের ত্যাগ এবং একই সাথে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অদমনীয় সাহসিকতা। তিনি আরো বলেন, সুদূর কানাডায় থেকেও আমরা আমাদের শেকড়ের কথা ভুলিনি। আমাদের সংগঠন জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব টরন্টো দীর্ঘদিন ধরেই প্রবাসে বাংলাদেশী কমিউনিটির ঐক্য, মানবিকতা ও দেশপ্রেম জাগ্রত রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আজকের এই অনুষ্ঠান তারই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।
বক্তৃতা পর্ব শেষ হলে আবার শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এই পর্যায়ে সঙ্গীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশ থেকে উড়ে আসা দুই জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী সামিনা চৌধুরী ও শুভ্র দেব। তারা প্রায় মধ্য রাত পর্যন্ত দর্শক শ্রোতাদের মাতিয়ে রাখেন। সবাই উপভোগ করেন তাদেরে এই মনোজ্ঞ পরিবেশনা।
