আমি কেবল মানুষের ভালোবাসা চেয়েছিলাম : ধর্মেন্দ্র
প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক , ২৫ নভেম্বর, ২০২৫ : ধর্মেন্দ্র একবার নিজেই বলেছিলেন, ‘আমি এখানে এসেছি কেবল মানুষের ভালোবাসার জন্য।’ ধর্মেন্দ্র মানুষের সেই ভালবাসা পেয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘সবাই ধর্মেন্দ্রকে ভালোবাসে এবং আমি এর জন্য কৃতজ্ঞ।’

ধর্মেন্দ্র পেয়েছিলেন আকাশচুম্বী খ্যাতিও। যদিও কখনও ইন্ডাস্ট্রিতে এক নম্বর হতে চাননি তিনি। তার সৌন্দর্যের খ্যাতিও ছিল অনেক। আর সেই আকর্ষণ থেকে মুক্ত ছিলেন না বলিউড তারকারাও। অভিনেত্রী মাধুরী দীক্ষিত তাকে পর্দায় দেখা ‘সবচেয়ে সুদর্শন পুরুষদের একজন’ হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন। সুপারস্টার সালমান খান বলেছিলেন ধর্মেন্দ্র ছিলেন ‘সবচেয়ে সুন্দর চেহারার পুরুষ’। আর অভিনেত্রী জয়া বচ্চন একবার তাকে ‘গ্রীক দেবতা’ বলে অভিহিত করেছিলেন।
বলিউডের এই সুপারস্টার অভিনেতা ধর্মেন্দ্র গত ২৪ নভেম্বর (২২২৫) ৮৯ বছর বয়সে মুম্বাইয়ে মারা গেছেন। তার মৃত্যুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শোক প্রকাশ করে বলেছেন, অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর মাধ্যমে ভারতীয় চলচ্চিত্রের ‘একটি যুগের সমাপ্তি ঘটেছে’।
সিনেমার হিরো হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে পঞ্জাব থেকে মুম্বইতে পা রেখেছিলেন ধর্মেন্দ্র। সেখানে আসার পর জীবন ধারণের জন্য একটা মটর গ্য়ারাজে বহুদিন কাজ করেছেন নামমাত্র পারিশ্রমিকে। আর প্রথম ছবিতে তিনি হাতে পেয়েছিলেন মাত্র ৫১ টাকা! তবে সেই ধর্মেন্দ্রের সম্পত্তির পরিমাণ বেলা শেষে দাঁড়িয়েছিল প্রায় ৫০০ কোটি টাকায়।
বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ধর্মেন্দ্র, যিনি প্রায়শই নিজেকে ‘খুব সাধারণ মানুষ’ বলে বর্ণনা করতেন, তিনি মানুষের বিরল ভালোবাসা পেয়েছেন এবং লাখ লাখ অন্ধ ভক্ত ছিল তার।
অর্ধশতক আগে তার করা ১৯৭৫ সালের ব্লকবাস্টার ‘শোলে’ সিনেমার এক প্রেমময় পাতি সন্ত্রাসী বীরুর নামেই তিনি ছিলেন সর্বাধিক পরিচিত।
তিনি ৩০০ টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন, বহু হিট সিনেমা দিয়ে দশকের পর দশক ধরে দর্শকদের মনে রাজত্ব করেছেন।’
ধর্মেন্দ্র তার সুন্দর চেহারা নিয়ে আলোচনায় সবর্দাই ‘বিব্রত’ হতেন, আর তার সৌন্দর্যের পেছনে তিনি ‘প্রকৃতি, নিজের বাবা-মা এবং নিজের জিন’কে কৃতিত্ব দিতেন।
পাঞ্জাবের লুধিয়ানা জেলার নাসরালি গ্রামে এক মধ্যবিত্ত জাট-শিখ পরিবারে ১৯৩৫ সালের আটই ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন তিনি, তার স্কুল শিক্ষক বাবা তার নাম রেখেছিলেন ধরম সিং দেওল।
বলিউডে অভিনয় করে ধর্মেন্দ্র’র দুই সন্তানও নাম কামিয়েছেন। এরা হলেন সানি এবং ববি দেওল।
বিবিসি’র প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, জীবদ্দশায়, এই অভিনেতা মনে রাখার মত বহু চরিত্রে অভিনয় করেছেন, কিন্তু যদি একটি চরিত্র থাকে যার জন্য তিনি স্মরণীয় থাকবেন, সেটি হচ্ছে শোলে সিনেমায় বীরুর চরিত্র, ১৯৭৫ সালের ব্লকবাস্টার সিনেমা যা ভারতের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে একটি অবিস্মরণীয় ঘটনা হয়ে উঠেছে।
কিন্তু বেশ কিছু হিট ছবি উপহার দেওয়ার পরেও, ধর্মেন্দ্র কখনও বলিউডের ‘এক নম্বর’ নায়কের পদক পাননি। প্রতিবারই তিনি তার সময়কার নায়ক দিলীপ কুমার, রাজেশ খান্না, অমিতাভ বচ্চনদের কাছে হেরে যেতেন। তবে শেষপর্যন্ত ১৯৯৭ সালে ফিল্মফেয়ার তাকে হিন্দি সিনেমায় অবদানের জন্য আজীবন সম্মাননা পুরস্কারে ভূষিত করে এবং ২০১২ সালে তাকে পদ্মভূষণে ভূষিত করা হয়। – পদ্মভূষণ ভারত সরকারের একটি সম্মান যা বিশেষ অবদানের জন্য বেসামরিক নাগরিকদের দেওয়া হয়।
বোম্বের বিশিষ্ট পরিচালক করণ জোহর বলেছেন, ‘তার এ মৃ্ত্যু ইন্ডাস্ট্রিতে একটি শূন্যস্থান তৈরি করেছে… এমন একটি স্থান যা কেউ কখনও পূরণ করতে পারবে না…।
