টরন্টোতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিআরসি’র ফ্যামিলি নাইট ২০২৫

প্রবাসী কণ্ঠ, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫ : ‘বাংলাদেশী রিয়েলটর্স ইন কানাডা’র (বিআরসি) উদ্যোগে আগামী ১২ ডিসেম্বর শুক্রবার টরন্টোতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে  জাকজমকপূর্ণ এক ফ্যামিলি নাইট। টরন্টোর অভিজাত Brighton Convention Center এর বিশাল হলরূমে অনুষ্ঠিতব্য এই ফ্যামিলি নাইটে থাকছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পুরষ্কার বিতরনী ও নেটওয়ার্কিং আয়োজন এবং ডিনার। এ উপলক্ষ্যে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ড্যানফোর্থের স্বাদ রেস্টুরেন্টে আয়োজন করা হয়েছিল এক সাংবাদিক সম্মেলন। এতে উপস্থিত ছিলেন বিআরসি’র বিভিন্ন কর্মকর্তাগণ।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন কনভেনর মনির ইসলাম। পাশে উপবিষ্ট আছেন বিআরসি’র কর্মকর্তাগণ। ছবি : প্রবাসী কণ্ঠ

স্থানীয় বাংলাদেশী বিভিন্ন মিডিয়ার প্রতিনিধিগণের উপস্থিতিতে একে একে কর্মকর্তাদের সকলেই বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যে তারা তুলে ধরেন ফ্যামিলি নাইটের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা।

সংবাদ সম্মেলনে রিয়েলটর দেওয়ান আজীম বলেন, আমরা আশা করছি এবারও চমৎকার একটি অনুষ্ঠান আমরা উপহার দিতে পারবো সবাইকে। আমাদের আরো আশা এবারে অনুষ্ঠানে যেই শিল্পীরা অংশগ্রহণ করবেন তারা পর্যাপ্ত বিনোদন দিতে পারবেন। আর আমাদের রিয়েলটররা এবং অতিথিগণ অন্যান্যবারের মত এবারও সুন্দর একটি ফ্যামিলি নাইট উপভোগ করবেন বলে আমাদের বিশ্বাস।

তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনারা যারা এখনো টিকিট কাটেননি তাদের প্রতি অনুরোধ, দেরী না করে এখনই টিকিট কেটে ফেলুন।

এবারের ফ্যামিলি নাইটের একক স্পন্সর লইয়ার সূর্য্য চক্রবর্তী সম্পর্কে দেওয়ান আজীম বলেন,  শুরু থেকে প্রতিটি অনুষ্ঠানে আমরা তাকে পেয়েছি আমাদের সাথে। আর এবার তিনি পুরো অনুষ্ঠানকে এককভাবে স্পন্সর করতে যাচ্ছেন। আমি উনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আশা করছি উনি ভবিষ্যতেও আমাদেরকে এভাবেই সাপোর্ট দিয়ে যাবেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন ব্যারিস্টার সূর্য চক্রবর্তী। ছবি : প্রবাসী কণ্ঠ

রিয়েলটর হিশাম চিশতি বলেন, আমাদের এবারের অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার জন্য আসছেন প্রতীক হাসান। উনাকে বাংলাদেশ এবং কানাডায় সবাই চিনেন। খ্যাতিমান সঙ্গীত শিল্পী খালিদ হাসান মিলুর ছেলে উনি। তাছাড়া প্রতীক নিজের পরিচয়েই এখন স্টার।

হিশাম চিশতি জানান, অনুষ্ঠানে আরো পারফর্ম করবেন সুমনা গাঙ্গুলী। উনি সারেগামার শিল্পী। নৃত্যে আছেন সবার পরিচিত আলিয়া বিন্দি। আছেন নয়ন এবং তাপসও। কানাডায় দ্বিতীয় প্রজন্মের তরুণ কণ্ঠ শিল্পী ফাবিয়ান চৌধুরীও সঙ্গীত পরিবেশন করবেন। আর সঞ্চালনায় থাকছেন টরন্টোর সাংস্কৃতিক অঙ্গণের পরিচিত প্রিয় মুখ অজন্তা চৌধুরী।

রিয়েলটর শংকর দে বলেন, বিআরসি টরন্টো এমনকি গোটা কানাডাতেও বাংলাদেশী কমিউনিটিতে একটি স্বনামধন্য প্রফেশনাল অর্গানাইজেশন।এখানে বাংলাদেশীদের ডক্টরস এসোশিয়েশন আছে, ল-ইয়ারর্স এসোশিয়েশন আছে। আছে আরো বেশ কয়েকটি এসোশিয়েশন। এখানে প্রফেশনালদের যে কটি অর্গানাইজেশন আছে তার মধ্যে বিআরসি অন্যতম। বিআরসি শুধু বাংলাদেশী কমিউনিটিরই নয়, একটি মূলধারার সংগঠন। কারণ আমাদের কাজ কিন্তু মূলধারার সঙ্গে।

তিনি আরো বলেন, আপনারা সবাই জানেন, বিআরসি একের পর এক সুন্দর অনুষ্ঠান উপহার দিয়ে যাচ্ছে গত কয়েক বছর ধরে। গত সামারে আমরা সুন্দর একটি ক্রুজ জার্নি উপহার দিয়েছি যেটা নিয়ে কমিউনিটিতে সাজ সাজ রব পড়ে গিয়েছিল।

রিয়েলটর আব্দুল আউয়াল বলেন, আমাদের পূর্বের অনুষ্ঠানগুলোর প্রতিটিই আগেরটির তুলনায় ভাল হয়েছে। আশা করছি এবারেরটা আরো সুন্দর এবং ভাল হবে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস এবারের বিআরসি নাইট শতভাগ সফল হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিআরসি’র কর্মকর্তা ও সাংবাদিকগণ। ছবি : ফেসবুক

বিআরসি’র এবারের অনুষ্ঠানের কনভেনর রিয়েলটর মনির ইসলাম বলেন, একটা অনুষ্ঠান করতে গিয়ে অনেক চ্যালেঞ্জ এর মুখোমুখি হতে হয়। আজকে আপনারা যারা এখানে এসেছেন তাদের সহযোগিতা না থাকলে হয়তো আমরা এই চ্যালেঞ্জটা নেওয়ার সাহস করতাম না। এই জন্য আজকে উপস্থিত প্রত্যেকের প্রতি আমার অন্তরের অন্তস্থল থেকে জানাচ্ছি ধন্যবাদ।

তিনি বলেন, আপনারা জানেন আমরা ব্রাইটেন কনভেনশন সেন্টার সিলেক্ট করেছি আমাদের এবারের অনুষ্ঠানটি করার জন্য। এটি ওয়ান অব দি বেস্ট এ্যান্ড ওয়ান অব দি এক্সপেন্সিভ কনভেনশন সেন্টার ইন টরন্টো। এটা করেছি আপনাদের জন্যই এবং আমরা  চাই আমাদের অনুষ্ঠানে একটা নতুনত্ব কিছু থাকুক।

জনাব মনির বলেন, ইনডোর ইভেন্ট হলেও আমরা বাংলাদেশ থেকে এক ঝাক তারকা শিল্পী এনেছি। তাদের সাথে আছেন আমাদের টরন্টোর লোকাল শিল্পীরাও। প্রবাসে আমাদের দ্বিতীয় প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদেরও সম্পৃক্ত করেছি এই অনুষ্ঠানে। এটি করার পিছনে আমাদের অনেক ব্যয় হয়েছে। তারপরও আমরা কার্পণ্য করিনি। আমরা চেয়েছি আপনাদেরকে বেশ কিছু শিল্পী উপহার দিতে।

কনভেনর মনির আরো বলেন, আমাদের দুই শতাধিক আসন ইতিমধ্যেই বুক হয়ে গেছে। হলের ক্যাপাসিটি ৪০০। আমাদের আহ্ববান, যারা আগ্রহী তারা সত্বর রেজিষ্ট্রেশন করে ফেলুন। আমাদের পূর্বেকার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি- যারা শেষের দিকে রেজিস্ট্রেশন করতে এসেছিলেন তাদেরকে আর একোমোডেট করা যায়নি। কারণ আসন সব বুক হয়ে গিয়েছিল। আমরা চাই না কাউকে না করতে। এ জন্য সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি আগেভাগেই রেজিস্ট্রেশন করে ফেলুন।

সব শেষে বলবো, এরকম একটি জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান করতে অনেক অর্থের প্রয়োজন হয়। অনেক সহযোগিতার প্রয়োজন হয়। তাই আমাদেরকে স্পন্সরদের সহযোগিতা নিতে হয়। আমাদের অতীতের অনুষ্ঠানগুলোতে দেখেছি আমাদেরকে সহযোগিতা করার জন্য অনেক লইয়ার, মর্টগেজ এজেন্ট, ইমিগ্রেশন কনসালটেন্টসহ আরো অনেকেই আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন। কারণ তারা জানেন বিআরসি প্রফেশনালদের একটি সংগঠন এবং এখানে ব্যর্থ হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই।

আমরা এবারের অনুষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর অনেক সম্ভাব্য স্পন্সরদেরকে আমরা চিঠি পাঠিয়েছিলাম। তাদের মধ্যে সর্বপ্রথম সাড়া দেন ব্যারিস্টার সূর্য চক্রবর্তী। ফলে আমরাও সর্বপ্রথম উনার সঙ্গেই যোগাযোগ করি। এবং উনি এককভাবেই সমগ্র অনুষ্ঠানটি স্পন্সর করার আগ্রহ প্রকাশ করেন নিঃশর্তভাবে। এ কারণে স্পন্সরের জন্য আমাদেরকে আর কোথাও যেতে হয়নি। আমরা ব্যারিস্টার সূর্য চক্রবর্তীর কাছে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ প্রকাশ করছি। তবে যাদেরকে এবার আমরা স্পন্সর হিসাবে নিতে পারিনি, আশা করছি আগামীতে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবো এবং তাদের সহযোগিতা পাব। তাদেরকে আমরা আমাদের অনুষ্ঠানে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছি। আশা করছি অনুষ্ঠানে তাদের সঙ্গে দেখা হবে। এই শহরে ভিআইপি যারা আছেন তাদেরকেও আমরা আমন্ত্রণ পত্র পাঠিয়েছি। আমাদের যারা রিয়েলটর আছেন এবং তাদের আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুবান্ধব যারা আছেন তারাও মোস্ট ওয়েলকাম আমাদের অনুষ্ঠানে। আমি আপনাদের নিশ্চয়তা দিতে পারি আপনারা এই অনুষ্ঠান উপভোগ করবেন।

মনির ইসলাম জানান বিআরসি’র উদ্যোগে বাংলাদেশে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে প্রত্যেক মাসে আর্থিক অনুদান দেওয়া হচ্ছে। গ্রেড ওয়ান থেকে শুরু করে গ্রেড টুয়েলভ পর্যন্ত এই সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। আর টরন্টোতে প্রত্যেক বছর যারা ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হচ্ছেন বা প্রথম বর্ষে আছেন তাদের লাস্ট টুয়েলভ গ্রেডের যে রিজাল্ট আছে সেটি বিবেচনায় নিয়ে দুজন শিক্ষার্থীকে সিলেক্ট করা হয় এবং প্রত্যেক বছর তাদেরকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়।

এছাড়াও বিআরসি’র পক্ষ থেকে টরন্টোর সিককিডস হসপিটালে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়। আর লাশ দাফনের সময় কমিউনিটির কারোর যদি কোন অর্থিক সহায়তার প্রয়োজন হয় সেখানেও বিআসি’র পক্ষ থেকে যতটা সম্ভব সহযোগিতা করা হয়।  

সংবাদ সম্মেলনে সবশেষে স্পন্সর ও বিশিষ্ট ব্যারিস্টার সূর্য চক্রবর্তী উপস্থিত সাংবাদিকদেরকে ধন্যবাদ জানিয়ে তার বক্তব্য শুরু করেন। তিনি বলেন, বিআরসি এই ক্রিসমাস মৌসুমে টরন্টোতে একটি গালা ডিনার পার্টির আয়োজন করছে এই সংবাদ পেয়ে আমার এবং সকলের মনটাই আনন্দে ভরে উঠেছে। কারণ, বিআরসি’র প্রত্যেকটা অনুষ্ঠান কর্পোরেট স্টাইলে হয়ে থাকে। এদের প্রত্যেকটা অনুষ্ঠান সফল হওয়ার পিছনে রয়েছে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের তত্বাবধান। একটা ভাল টিম রয়েছে এদের। আমি অনেকদিন ধরে বিআরিসি’র সঙ্গে আছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আসছে গালা ডিনারও অত্যন্ত সফল একটি অনুষ্ঠান হবে।

আরেকটি বিষয় আমি এখানে উল্লেখ করতে চাই। সেটি হলো, আমি যখনই এখানকার কোন অনুষ্ঠানে গিয়েছি একজন স্মল কন্ট্রিবিউটর হিসাবে তখন দেখেছি অর্গানাইজাররা আমাদের লোকাল ট্যালেন্টদেরকে ইন্সপায়ার করছে। এটি অবশ্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস প্রবাসে আমাদের সংস্কৃতিকে উৎসাহ প্রদান করার ক্ষেত্রে। বিআরসি-ও তাদের অনুষ্ঠানে এই লোকাল শিল্পীদের সুযোগ ও উৎসাহ প্রদান করে থাকে।

তিনি প্রবাসী উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরাতো বাইরে থেকে শিল্পী আনবোই। কিন্তু একই সাথে আমরা কেন প্রবাসী শিল্পীদেরকে প্রমোট করবো না? এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সবশেষে সূর্য চক্রবর্তী বলেন, এবার আমার সম্পর্কে একটু বলি। আমি একজন ব্যারিস্টার। আমরা রিয়েল এস্টেট, ইমিগ্রেশন, লিটিগেশন এসব নিয়ে কাজ করি। আপনাদের যে কোন ইমিগ্রেশন, লিটিগেশন, রিয়েল এস্টেট সংক্রান্ত বিষয়ে নিয়ে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। আমি আপনাদের সঙ্গে আছি। ভবিষ্যতেও থাকবো। আমাদের দুটি অফিস রয়েছে। একটি স্কারবরোতে এবং অন্যটি ব্র্যাম্পটনে। আমাদের রয়েছে এক্সপার্ট একটি টিম।  

আসুন আমরা সবাই মিলে আসন্ন বিআরসি নাইট এক সঙ্গে আনন্দের সঙ্গে উপভোগ করি।

সংবাদ সম্মেল শেষে সবাইকে আপ্যায়ন করা হয় নৈশ্যভোজের মাধ্যমে।