ড্যানফোর্থের বাংলা টাউনে বাংলাদেশী এক চাঁদাবাজের উৎপাত, ভাঙচুর করছে দোকানপাটও: অতিষ্ঠ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা
প্রবাসী কণ্ঠ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৫: ড্যানফোর্থের বাংলা টাউনে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা গত প্রায় এক বছর ধরেই এক চাঁদাবাজের উৎপাতে অতিষ্ঠ এবং উৎকণ্ঠিত অবস্থায় দিনযাপন করছেন। তাঁদের অভিযোগ, পুলিশ কার্যকরী তেমন কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। কখনো কখনো এমন কথাও বলে ‘আমরা কিছু করতে পারবো না’। মাঝে মধ্যে অবশ্য তাকে ধরে নিয়ে যায়। কিন্তু দেখা যায় কদিন পর জামিনে ছাড়া পেয়ে আবারও সে একই কাজ করে বেড়াচ্ছে ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলা টাউনের একজন ব্যবসায়ী জানান, চাঁদাবাজী করতে গিয়ে এই ব্যক্তিটি ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে বেড়াচ্ছে প্রকাশ্যেই। দোকান ভাঙচুরও করছে। এমনকি পথচারীদের উপরও চড়াও হচ্ছে কখনো কখনো। তার ভাবসাব হলো এমন যে- সে অত্র এলাকার ডন। তার কথায় সবাইকে চলতে হবে।
তিনি আরো জানান, স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ রাস্তায় বাঙ্গালী হোক অবাঙ্গালী হোক সবাইকে বিরক্ত করছে সে। সব থেকে খারাপ হচ্ছে পরিবেশটাকে নষ্ট করছে। অশ্রাব্য বাংলাভাষায় গালাগাল করছে লোকজনকে। যখন যেটা খুশি সেটাই করে বেড়াচ্ছে। কখনো হাতে লাঠি নিয়ে বা খালি হাতেই রাস্তায় দাঁড়িয়ে হুঙ্কার দিচ্ছে, চিৎকার করছে, রাস্তা ব্লক করছে। কখনো চলন্ত গাড়ির সামনে গিয়েও দাঁড়িয়ে পড়ছে।
মাঝে মধ্যে দেখা যায় লোকজনের সাথে মারামারি করছে। দোকানে দোকানে গিয়ে চাঁদা চাচ্ছে। তবে এমন বেশি চায় না। ৫,১০ বা ২০ ডলার চায়। ডলার না দিলে গালাগালি করে, হুমকি দেয়। বলে তোমাকে দেখে নিব। আমার সাথে মাস্তানি করবে না। মাস্তানি করলে তোমাকে এখানে ব্যবসা করতে দেব না ইত্যাদি বলে বেড়ায়। স্থানীয় একজন হিন্দু ব্যবসায়ী জানান তাকেও হুমকি দেওয়া হয়েছে এই বলে যে, ‘তুমি হিন্দু তোমাকে আমি দেখে নিব।’
মহিলাদেরও খুব বিরক্ত করে এই চাঁদাবাজ যুবকটি। অকারণে এসে তাদেরকে উল্টাপাল্টা কথা বলে। কাস্টমারদেরকেও গালাগাল করে খারাপ ভাষায়।
স্থানীয় একটি দোকানের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে ত্রিশোর্ধ এই যুবকটি প্রথমে একটি দোকানে ঢুকে এবং তার মিটিনখানেক পরেই সেই দোকান থেকে বের হয়ে উইন্ডো শোকেসে এক লাথি মারে। এরপর সে দোকানের সামনে দিয়ে মিনিট পাঁচেক টহল দেয় এবং প্রতিবারই দোকানের সমানে দিয়ে যাবার সময় শোকেসে একবার করে লাথি মারে বেশ জোরে জোরে এবং মুখে কি সব বলতেও থাকে। পথচারীরা বিষয়টি লক্ষ্য করলেও কেউ কিছু বলেনি তাকে। এক পর্যায়ে কাচের শোকেসটি লাথির আঘাতে ভেঙ্গেও যায়।
বাংলা টাউনে সে আরো কয়েকটি দোকানের সামনের গ্লাস ভেঙ্গেছে যার মধ্যে রয়েছে ঘরোয়া রেস্টুরেন্ট এবং স্পাইস গ্রীল।
বাংলা টাউনের একজন ব্যবসায়ী জানান, অন্টারিও’র এমপিপি ডলি বেগমকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘এটা নিয়ে আমি কাজ করছি। দেখা যাক কি করা যায়।’
