আমাদের সাংস্কৃতিক সংগঠন “বিষ্ণুপ্রিয়া”

শুভ্রা সাহা : দেখতে দেখতে আজ ১৪ বছর হল “বিষ্ণুপ্রিয়া” কোনো এক হরিনাম সংকীর্তনের মধ্যদিয়ে ছোট পরিসরে চলতে চলতে আজ এখানে। আচার-অনুষ্ঠান, পূজা-পার্বণ, সামাজিক-সাংস্কৃতিক নানান আনন্দ অনুষ্ঠান যজ্ঞের পাশাপাশি কখনও কখনও কারো শোকসন্তপ্ত পরিবারের নিমন্ত্রণ যজ্ঞেও উপস্থিত হয়ে হরিনাম কীর্তন করে থাকে। প্রবাস জীবনের ব্যস্ততা কাটিয়ে প্রায়শই ইচ্ছে সত্ত্বেও সকলকে এক করতে সক্ষম হওয়াটা কঠিন। আমরা ভগবত গীতা, উপনিষদের কোন অংশ থেকে, গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা থেকে ও গুণীজনের ধর্মীয় ভাবনা অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা থেকে সামান্য পাঠ, গান ও আলোচনা করে থাকি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে। এই কোলাহলের জীব মানুষ শান্তি পায় যখন সে প্রভুতে আত্মসমর্পন করে। সে শান্তি আর কোথাও নেই, জনহীন সমুদ্রে নেই, মরুভূমির স্তব্ধতায় নেই, পর্বতের দুর্গম শিখরে নেই। আত্মার মধ্যে সেই গভীর শান্তি। চারি দিকের কোলাহল তাকে আক্রমণ করতে গিয়ে পরাস্ত হয়; কোলাহলের ভিতরে নিবিড় রূপে সুরক্ষিত সেই শান্তি। হাট বসে গিয়েছে, বেচা-কেনার রব উঠেছে; তারই মধ্যে প্রত্যেক মানুষ তার আপনার আত্মার ভিতরে প্রভু কৃপা ধারণ করছে। ষড়্‌রিপুর ক্ষোভ-বিক্ষোভ-বিরোধের মাঝখানে অক্ষত শান্তি। সেখানে আমরা প্রভুর নামে প্রদীপ জ্বালি, কোনো অশান্ত বাতাস তাকে নেবাতে পারে না। ফলের গর্ভে শস্য যেমন তিক্ত আবরণের ভিতরে থেকে রক্ষা পায়, সেইরূপ কোলাহলের দ্বারাই বেষ্টিত হয়ে চিরকাল মানুষের শান্তি রক্ষা পেয়ে এসেছে। রবীন্দ্রনাথের মত করে বলতে ইচ্ছে হয় , জীবনের হাটে – যেখানে কেনাবেচার বিচিত্র লীলা চলেছে, এরই মধ্যে, “এই মুখর কোলাহলের মধ্যেই অন্তরে সদাই প্রভুর নাম বাজছে।” নিজেকে সপে দেই প্রভুর নামে, সেখানে কোনো কোলাহল নেই, ভিড় নেই, ঠেলাঠেলি নেই; কত যুদ্ধবিগ্রহ বিরোধ সংগ্রামের কত বিচিত্র সুর শব্দ ঝংকৃত হচ্ছে, তার বৈচিত্র্যের সীমা নেই। কিন্তু এই-সমস্ত বৈচিত্র্যের মধ্যে, বিরোধের মধ্যে, শান্তির সুর বাজে। প্রিয় ভক্তরা তার বৈষয়িকতার বুকের উপর প্রতিষ্ঠিত করেছে প্রভুকে । সেখানেই মুক্তি , ভক্তি আছে,যার ভক্তি নেই, বিষয়ী ব্যবসায়ী পাপী, সকলেরই মধ্যে প্রভুর কৃপা বর্ষিত হচ্ছে । তিনি মহা উদ্ধারকারী, রক্ষা করছে সবাইকে সেই রক্ষা হরিনাম।

শুভ্রা সাহা

বিষ্ণুপ্রিয়ার সাংস্কৃতিক কর্মী , টরেন্টো