<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>Travel &#8211; Probashi Kantho</title>
	<atom:link href="https://probashikantho.com/category/travel/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://probashikantho.com</link>
	<description></description>
	<lastBuildDate>Wed, 10 Apr 2024 00:13:12 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=7.0.2</generator>

<image>
	<url>https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2021/04/thumbnail_thumbnail-150x150.jpg</url>
	<title>Travel &#8211; Probashi Kantho</title>
	<link>https://probashikantho.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>ডোমেনিকান রিপাবলিক</title>
		<link>https://probashikantho.com/2024/04/09/%e0%a6%a1%e0%a7%8b%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%95/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 10 Apr 2024 00:13:11 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Travel]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=9226</guid>

					<description><![CDATA[রোজানা নাসরীন ডোমেনিকান রিপাবলিকের পোরটপ্লাটা এয়ার এসে নেমেই মনে একটা আনন্দ উচ্ছ্বাস খেলে গেল কারণ টেম্পারেচার এখানে অসম্ভব সুন্দর। টেম্পারেচার]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph"><strong>রোজানা নাসরীন</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">ডোমেনিকান রিপাবলিকের পোরটপ্লাটা এয়ার এসে নেমেই মনে একটা আনন্দ উচ্ছ্বাস খেলে গেল কারণ টেম্পারেচার এখানে অসম্ভব সুন্দর। টেম্পারেচার দেখে মনে হল পৃথিবীর যদি এত বৈচিত্রময় না হত তাহলে মানুষ হয়ত আরও অলস হয়ে যেত। কারণ কেউ বাড়তি কাজ করে টাকা উপার্জন করে এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাওয়ার জন্য যদি এত আয়োজন না করত তাহল একই দেশে তাদের জীবন কেটে যেত। এখন ডিসেম্বর মাস। কানাডায় এখন শীতল আবহাওয়ায় মানুষের বাইরের জীবন গুটিয়ে ফেলেছে, এই সময় অত্যন্ত জরুরি কাজ ছাড়া কেউ বাইরে ঘোরার কথা ভাবে না, কাজে যাওয়া ছাড়া। কানাডাতে রোদহীন অবস্থার পাকে পড়ে ঘরের মধ্যে থাকার পালা শেষ হয়েছে আজ তাই মনে একধরণের স্ফূর্তি খেলা করছে। প্লেনে উঠতেই সকল শীতের কাপড় খুলতে খুলতে একেবারে সামারের পোশাকে সবাই যেন আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠল। প্লেনে একটা শ্রীলঙ্কান ফ্যামিলি ও আমরা দুজন মিলে চারজন একই সঙ্গে ছিলাম, আমি, আমার হাজবেন্ড, রেকর্ড অব ব্রোকার জয়শ্রী এবং তাঁর স্ত্রী পেরি। মনে হল যেন আনন্দের আতিশয্যে আমরা ভেসে যাচ্ছি। এয়ারপোর্টটি দেখে মনে তেমন নতুন কোন চমক বা আন্দোলন তুলল না হৃদয়ে, মনে হল সকল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট এমন সাজানো গুছানো থাকে, তাছাড়া আমরা এসেছি ফার্স্ট ওয়ার্ল্ড থেকে হয়ত তাই আমাদের মনে তেমন কোন ছায়া ফেলতে পারছে না এয়ারপোর্টের চিত্র। তবে এয়ারপোর্টে নেমে সেখানের সমাজ মানসের প্রথম চিত্র আমার মনে গেঁথে থাকল। ট্যাক্সি ভাড়া আমরা বিদেশি বলে অতিরিক্ত বলল না, যেটা বাংলাদেশে আমি দেখেছি, এবং সবাইকে অনেকটা বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাবের বলে মনে হল। কিন্তু আমার হৃদয়ে একটা কথা খেলে যাচ্ছে, এটা হয়ত এয়ারপোর্টে বিদেশীদের সাথে এদেশের মানুষের এমন ব্যবহার। কিন্তু কোথাও ওদেরকে আমাদের জন্য অতিরিক্ত হার্মফুল মনে হয়নি। তারপরও আমি সতর্ক থাকলাম। কিন্তু আমার মনের ভেতরে একটা প্রশ্ন তা হল ট্রপিকাল কান্ট্রিতে মানুষের বাস অনেক সুবিধাজনক, জীবনের কতগুলি বাড়তি কষ্ট দেশের লোকগুলোকে ভোগ করতে হয় না, কিন্তু শীতের দেশের মানুষের জীবনে বেঁচে থাকা অপেক্ষাকৃত কষ্টকর, তা সত্ত্বেও কেন শীতের দেশে ট্রপিকাল কান্ট্রি গুলোর ধনী, এবং জ্ঞানবিজ্ঞান আর সভ্যতায় কেন তারা অগ্রসর হয়ে প্রথম বিশ্ব বলে স্বীকৃত?</p>



<p class="wp-block-paragraph">কিছু কিছু নাতিশীতোষ্ণ দেশ হয়ত ধনী হয়েছে কিন্তু এর মধ্যে প্রায় দেশই তাদের সমাজ মানসকে উন্নত করতে এখনও ব্যর্থ হচ্ছে? এই ভাবনা নিয়েই চলতে থাকলাম। চারিদিকে চোখ পড়ল চরম উৎসাহ নিয়ে। মন ছুটতে থাকল। মনে হল ছোট বেলায় একটা কথা শুনেছি ‘শহর হল মানুষের গড়া আর প্রকৃতি ও গ্রাম হল ঈশ্বরের সৃষ্টি।’ তখন থেকেই আমার মনে প্রশ্ন ছিল- যে প্রকৃতি মানুষের দ্বারা শাসিত তাকে কী বলা হয়? যদিও দেশটিতে সমাজতন্ত্র নেই তবু কোন মানুষকে অতিরিক্ত ধার্মিক ও অর্থলিপ্সু মনে হয়নি। বেশিরভাগ মানুষ এখানে তিন ভাগে বিভক্ত, সাদা, কাল ও বাদামী। তবে বেশিরভাগ কাল মানুষের বাস এখানে যাকে আমরা ক্যারেবিয়ান আইল্যান্ড বলে চিনি, তবে সাদা মানুষের প্রাধান্যও কম নয়। তাদের ভাষা স্প্যানিশ, কেউ এই ভাষার বাইরে কথা বলে না। তবে ইংলিশ সেখানকার শিক্ষিত মানুষেরা কেউ কেউ ভাল জানে এবং আমরা ইংলিশ ভাষী বলে বিদেশীদের সাথে তারা অনেকেই ইংলিশে কথা বলে। আমার মতে ইংলিশ বলাকে ভাষার শাসন বলা যাচ্ছে না, এটা একটা বৈচিত্র, কারণ ইংলিশ ভাষায়ই রচিত হয়েছে যত বই, যত জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং এই ভাষার মানুষেরাই মানব জীবনের মূল্যবোধকে সার্বজনীন ও সর্বজনগ্রাহ্য করে তুলেছে, যদিও এর পেছনে অনেক রাজনীতি মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে, তবু এই ভাষাকেই আমরা বড় বলে এখনপর্যন্ত জানি এবং মানি।&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full is-resized"><img fetchpriority="high" decoding="async" width="400" height="267" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2024/04/ডমি.jpg" alt="" class="wp-image-9227" style="width:437px;height:auto" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2024/04/ডমি.jpg 400w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2024/04/ডমি-300x200.jpg 300w" sizes="(max-width: 400px) 100vw, 400px" /></figure>
</div>


<p class="wp-block-paragraph">প্রথমদিন সকালে ঘুম ভেঙ্গেছে ডাহুকের ডাকে। ঘুম ভাঙ্গার প্রক্রিয়ায় নিজেকে অনেকটা রোমাঞ্চিত মনে&nbsp; হচ্ছিল। মনে হয়েছিল কোন যেন দেশে আছি যেখানে আছে শুধু প্রাকৃতিক শান্তি যা এখন শহরে নেই বলে আমার ধারণা ছিল। কিন্তু এদেশে প্রভিন্সিয়াল শহরেও এই পরিবেশ টিকে আছে, তাহলে আমার এতদিন ধরে লালিত বিশ্বাস কি অমূলক? কারণ ডাহুকের ডাক শুনে আমার বাংলাদেশের কথা মনে পড়ে গেল, ওখানে একটা শহরে আমার জন্ম ও বেড়ে উঠা। তারপর রাজধানীর বুকে কেটেছে জীবনের সবকিছু সম্পর্কে শিক্ষা গ্রহণ করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থাৎ আমার যৌবনের প্রারম্ভ থেকে অনেক সময়। ছোটবেলার জীবনটা মানুষের জীবনে অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ, আমার যে শহরে ছোট বেলা কেটেছে ওখান থেকে আমাদের গ্রামের দূরত্ব ছিল হয়ত সহনীয়, কিন্তু বিভিন্ন কারণে কখনো গ্রামে যাওয়া হয়নি বলে ডাহুকের ডাকও শোনা হয়নি তেমনটি। আমার বাবাও অতি ছোট বয়সেই গ্রাম ছেড়ে শহরে পারি দিয়েছিলেন, যার জন্য গ্রামের সাথে তাঁরও ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে নি। হয়ত সেটাও একটা বড় কারণ হতে পারে। কিন্তু যখন এক নাম না জানা পোকারা সারা রাত ধরে ঘুমের নূপুর বাজিয়ে ঘুম পড়িয়ে দিল তখন এই শহরকেই আমার স্বর্গ মনে হচ্ছিল, ওটা ছিল ডোমেনিকান রিপাবলিকের একটা প্রভিনন্সিয়াল শহর। হয়ত একবার গ্রামে কি কারণে গিয়েছিলাম মনে নেই যেসময় এই ডাক শোনার সৌভাগ্য হয়েছিল, সেই সময় ডাহুকের ডাক শুনে ঘুম ভাঙ্গত কিন্তু তখন ছোট ছিলাম বলে এত সুখ অনুভূত হয়নি, মনে হয়েছিল এই ভীতিকর পাখিটা কেন ডেকে ডেকে ভীতি ছড়াচ্ছে? আজ সেই ভয়টা সুখের অনুভূতিতে পরিবর্তিত হয়েছে। এই ভীতিটা হয়ত আমাদের কালচার থেকে আগত। তেলাপোকা দেখলে মেয়ে মানুষ ছোট হোক আর বড় হোক তারা ভয় পায়, বিশেষ করে আমাদের সমাজে। আমি এ নিয়ে ভেবেছি অনেক। বেগম রোকেয়ার আমলে হয়ত ভয় পাওয়ার সিস্টেম আরও অনেক ভাবে পরিলক্ষিত হত বলে তিনি একথা লিখেছেন। তখনই সেই কথা আমার মনে পড়ে গিয়েছিল,&nbsp; যখন ভয় পেতে দেখেছিলাম একটি মেয়েকে, মনে মনে তখন মেয়েটিকে ঘৃণা করেছিলাম, কিন্তু কিছুদিনের মধ্যই সেই ঘৃণা উবে গিয়ে শিক্ষিত সেই মেয়েটির কথা ভেবে করুণা হয়েছিল। এই ভয় পাওয়ার উত্তর পাই সমাজের কাছে। অকারণে ভয় না পেলে নাকি আমাদের দেশে মেয়েদেরকে মেয়ে হিসেবে গণ্য করা হয় না। যদিও এই কথা সমাজের উহ্য রীতি বলে অনেকে এর বিরোধিতাও করবেন। কিন্তু আমি হয়ত ছোট থাকার কারণে ভয় পেয়েছিলাম আর অনভিজ্ঞতার কারণে, হয়ত কোন রকম কালচারাল বা মানসিক সমস্যার কারণে নয়। জীবনানন্দ দাশ এই ডাহুকের ডাককে উপভোগ করার কথা বলেছেন। তিনি আমাকে চিনিয়েছিলেন ডাহুকের সেই প্রাণ উতলা করা ডাক। এতদিন ভুলে ছিলাম সেই ডাহুকের ডাক কিন্তু হঠাৎ করে পরিণত বয়সে এসে আমার ভুবনকে ভাবালু করে তুলল সেই ডাহুকের ডাক। মনে হয়েছিল সেই কথা, ‘আমি তার বাঁশী শুনেছি তারে চোখে দেখিনি।’ যতই ভুলতে চেষ্টা করেছি আরও বেশি বেশি মনে হয়েছে রবীন্দ্রনাথের সেই কথাটি,</p>



<p class="wp-block-paragraph">“দেখা হয়নি চক্ষু মেলিয়া ঘর থেকে শুধু দুই পা ফেলিয়া</p>



<p class="wp-block-paragraph">একটি ধানের শীষের উপরে একটি শিশির বিন্দু”</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমাদের দেশের কথা মন জুড়ে ঘুরতে থাকে, সুযোগ পেলেই সে সামনে চলে আসে তেমনি করে তখন মনে হয়েছিল আমদের দেশের শহরগুলিতে কখনো ডাহুকের ডাক শোনা যায়না, এটি গ্রামের অভিজ্ঞতা। অনেকে গ্রাম্যতাকে সবার সামনে বলতে দ্বিধা করেন না, আবার অনেকে করেন। অনেক বাঙালিকে দেখেছি উন্নত দেশে গিয়ে নিজের পরিচয়কে লুকাতে, এবং নিজেকে সংস্কারবাদী ভাবতে গিয়ে সে নিজেকে ভারতীয় মানুষ বলে পরিচয় দেয়। তাহলে হয়ত মানুষ ভাববে কতটুকু কালচারড সে। অনেকে তাদের ঘৃণা করে কিন্তু আমার ভাবনাটি আর একটু ভিন্ন রকম। আমি ভাবছি গ্রাম ও শহরের কালচারাল অভিব্যাক্তি কোন দেশে কেমনভাবে বিরাজমান এই নিয়ে। আমদের দেশ আর বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর অবয়ব সম্পূর্ণ আলাদা সেটা আমরা সবাই জানি ও মানি। সামাজিক সংস্কারও এত আলাদা যে আমাদের আধুনিকত্ব কাজে আসে না, উন্নতদেশে প্রথম এসে নিজেকে অনেকটা অসহায় মনে হয়, যা ওদের আইন কানুন দেখে খুব শীঘ্রই ঠিক হয়ে যায়। আর মনে হতে থাকে এই দেশের সামাজিক নিরাপত্তা কতখানি সমৃদ্ধ। হয়ত কেউ কেউ ভাবছেন ধান ভানতে শিবের গীত হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু এইকথাটুকু না বললেই নয়। বাংলাদেশে শহর বলতে বুঝায় ঢাকা শহরকে। ঢাকায় যাদের আসল বাড়ি তারা ভাবে তারাই একমাত্র মানুষ, যারা বাইরে থাকে তারা মানুষ নয়। বাইরে যারা বসবাস করেন তারা অনেকটা হীনমন্যতায় ভোগেন যাদের ঢাকায় বাড়ি আছে এবং বাপ দাদার ভিটা ঢাকায় তাদের তুলনায়। এর কারণ আর্থিক এবং কালচারের একটা পার্থক্য। কিন্তু আসলে মানুষ সবাই এক, এবং কেন সেকথা বলতে গেলে অন্য প্রসঙ্গের আবির্ভাব হয়ে যেতে পারে তাই অন্য সময় আলোচনা করব। আমরা কালচারের ধাপকে পার হতে গিয়ে একটা ধাপে গিয়ে সবাই আটকে যাই যা হল, অন্যকে নিজের চেয়ে ছোট করে মনে মনে ভেবে নেওয়া। এক এক দেশের এক একরকম কালচার থাকে, আমাদের দেশের কালচার এটি। অন্য দেশ নিয়ে আমার কোন মাথাব্যথা নেই বলে অন্য দেশের কথা বলছি না। কালচার; বাঙলা ভাষায় যার নাম হয়েছে সংস্কৃতি। সংস্কৃতির ধারণা সংস্কারের সাথে সম্পর্কযুক্ত। যার অর্থ জীবন ও সমাজের শুদ্ধিকরণ, পরিশোধন, উৎকর্ষসাধন, উন্নতিবিধান, সৌন্দর্যায়ন। তাই হয়ত সংস্কৃতির একটি অংশ জুড়ে রয়েছে নাচ, গান, কবিতা, গল্প, নাটক ইত্যাদি। ইংরাজিতে পঁষঃঁৎব শব্দটি পঁষঃরাধঃরড়হ শব্দটির সাথে জড়িত, পৃথিবীর মানুষ সর্ব প্রথম চাষাবাদ দিয়েই জীবন শুরু করেছিল তাই মানুষের সকল অগ্রগতির মূলে রয়েছে চাষাবাদ। যাকে কোনভাবেই অস্বীকার করা যায় না। এ জন্যই হয়ত ইংরাজিতে কালচার শব্দটি এভাবে যুক্ত হয়েছে। তারপর মানুষের ধারা আজ পর্যন্ত বয়ে চলেছে কত আবিষ্কারের মাধ্যমে তা বলে শেষ করা যায় না। এখন এক এক দেশ এক এক কালচার ধারণ করে আছে। বাংলাদেশের মানুষ হয়ত তাদের কালচাকে বদলাতে চাচ্ছে, তাই তাদের কালচারের একটা বড় আংশ জুড়ে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকায় রয়েছে ধর্ম। বংলাদেশের মানুষ একে জীবনের অবশ্য পালনীয় কর্তব্য বলে ধরে নিয়েছে, বলে ধর্মীয় সংস্কৃতিই মূল সংস্কৃতি হয়ে উঠেছে ওখানে। এই কারনেই হয়ত মোতাহার হোসেন চৌধুরী বলেছেন, ‘ধর্ম সাধারণ লোকের কালচার, আর কালচার শিক্ষিত, মার্জিত লোকের ধর্ম।’</p>



<p class="wp-block-paragraph">বাংলাদেশের কথা ভাবলেই ঢাকার অসহনীয় জীবনচিত্র আমাদের চোখে ভেসে ওঠে, যাকে দেশের কালচারের সর্বোত্তম পরিচয় বলে আমরা ভেবে থাকি। অথচ আমাদের প্রিয় ঢাকার রূপ মনে করলেই হৃদয় যেন আঁতকে ওঠে। সেই যানজটের কথা কোনদিনও ভোলা যায় না, আর ঢাকার আবহাওয়াও অনেকটা অসহনীয় হয়ে উঠেছে। এর মূলে রয়েছে ঢাকার জনসংখ্যা। দলে দলে মানুষের ঢাকায় আগমনের আর একটা কারণ কচ্ছে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ঢাকায় অবস্থিত হাসপাতালগুলি। অর্থাৎ স্বাস্থ্যসেবা। বাংলাদেশ সরকার যদিও বলছে স্বাস্থ্য, শিক্ষা সবকিছুর বিকেন্দ্রীকরণ করার কথা, কিন্তু তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এটি করতে হলে জাতিকে সৎ, আন্তরিক এবং জনকল্যাণকর হতে হয়। যদিও অন্যান্য জেলায়ও গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ তৈরি হয়েছে, কিন্তু মানুষ ঠিকঠাক ভাবে সেবা পাচ্ছে না, তার উপর বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ভর্তির প্রস্তুতি স্বরূপ মানুষকে ঢাকায় ভিড় করতে হয়। আর স্বাস্থের জন্য একমাত্র ঢাকাই সর্বোত্তম বলে আমরা জানি। কিন্তু সুস্থ মানুষের ওখানে থাকা মানে মৃত্যুকে হাতছানি দেওয়া যেন। জনসংখ্যার কারণে ওখানে বাতাস ভারী হয়ে গেছে এখন বাতাসে শিশার পরিমাণ এত বেশি যা স্বাস্থের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তবু কালচারড মানুষেরা ঢাকা থাকতে বেশি পছন্দ করেন। একসময় ঢাকার জনসংখ্যা ছিল সহনীয় মাত্রায় তখনো মানুষেরা এসে এভাবে ঢাকায় ভিড় করেনি। এখন জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় দুই কোটির মত। এ নিয়ে আমি কোন ভবিষ্যতবাণী করব না, আমরা শুধু জানি ঢাকাকে বাঁচাতে হবে। দেশের উন্নয়ন শুধুমাত্র ঢাকায় সীমাবদ্ধ না রেখে সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে হবে। আধুনিক বিশ্বের সাথে পাল্লা দিয়ে এগুতে হলে ঢাকা থেকে অন্যান্য জেলাগুলোর কালচারের ব্যবধান অনেকখানি কমিয়ে আনতে হবে এবং মানুষের সুযোগ সবিধা ঢাকার বাইরে সবখানে ছড়িয়ে দিতে হবে। ঢাকায় বসে কেবল ঘুষকে সম্বল করে বেশিদূর আগানো যাবে না, দেশকে বিনাশর্তে ভালবাসতে হবে। দেশকে কে ভালবাসবে তার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলে কেউ ভালবাসবে না। নিজেকেই ভালবাসতে হবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ডোমেনিকান রিপাব্লিক হোক আর যে দেশই হোক কোন দেশের কথা বলতে গেলে হৃদয়ে লুকিয়ে থাকা কথা এভাবেই বেড়িয়ে আসে, তবে ডোমেনিকান রিপাবলিকের প্রসঙ্গেই ফিরতে হচ্ছে আবার। ক্যারাবিয়ান আইল্যান্ডসের একটি বললে হয়ত কেউ কেউ ভাল চিনবেন। ডোমেনিকান রিপাব্লিকের প্রকৃতি অনেকখানি পেছনে ফেলে আসা আমার দেশের মত হয়ত ট্রপিকাল কান্ট্রি বলে এমন। পুলের চারিপাশে অন্যান্য গাছের সাথে নারিকেল গাছের সাড়ি দেখে আমর কী যে ভাল লেগেছিল। রঙ্গন ফুলের গাছ শোভা পাচ্ছে রিজোরডের প্রধান ফুল গাছ হিশেবে, এত সুন্দর করে রঙ্গনের প্রজাতি বাছাই করে প্রতিটা বিল্ডিংএর ফেঞ্চ হিসাবে সাজানো রয়েছে যা মনকে কেড়ে নেয়। বাগান বিলাস, জবা ফুলের বিভিন্ন প্রজাতি, কখনও রক্তজবা, কখনও হলুদ জবা, আগে কোনদিন এমন করে দেখা হয়নি আমার, বিভিন্ন ফুল গাছ ও পাতা বাহারের সমারহ দেখ আবারো ছোট বেলার মত মুগ্ধ হলাম। আমার স্বর্গ মৃত্যু-পরবর্তী জীবনে বিভিন্ন বস্তু দিয়ে সাজানো ছিল না, তাই এটাকে হয়ত এত ভাললেগেছে। এই পরিণত বয়সে এসে অনেক ছোটবেলার মত বিভন্ন রংয়ের ফুল দেখে মুগ্ধ হয়েছি আবার। হয়ত জীবনচক্রের এ একটা স্বাভাবিক পরিণতি। ছোটবেলায় ভাবতাম ফুলসহ ফুলগাছ দিয়ে সাজানো মানুষের বাড়ির বেড়া হয় না কেন? এখন দেখলাম মানুষের মনে সদিচ্ছা থাকলেই হয়। পাশে পাশে রঙ্গন ফুলগাছ বসিয়ে যেন একটা স্বপ্নময় পরিবেশের সৃষ্টি করেছে ওরা। সেই ছোটবেলার ভাবনা বাস্তবে পরিণত হওয়ার অনুভূতির মধ্যে একরকম স্বপ্নের স্পন্দন থাকে। যা যৌবনে মানুষের মধ্যে ঠাই করতে পারে না। কিন্তু সে ভাবনা অবচেতন মনে থেকে যায়। বুদ্ধদেব বসুর সেই কবিতাটি খুব আবৃত্তি করতে ইচ্ছে করছে। কবিতাটির নাম ‘চিল্কায় সকাল’ প্রথম যৌবনে কবিতাটি এত বেশি ভাললেগেছিল যা পরিণত বয়সেও আমার হৃদয়কে নাড়া দিয়ে যায়। মনে পরে গেল। কবিতাটির মধ্যে একটা লাইন ছিল-‘এখানে সূর্যের বন্যা তাকানো যায় না / গরুগুলি একমনে ঘাস ছিঁড়ছে কি শান্ত!’ চিত্রটি আমাদের অনেকদিনের চেনা, কিন্তু আজ এমন করে আবৃত্তি করতে ইচ্ছে করার কারণ বাঙলার মুখকে আমার বড় বেশি মনে পড়ছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ডোমেনিকান রিপাব্লিকের মানুষের সৌন্দর্যবোধ হয়ত অনেকটা প্রসারিত। সোচুয়া বিচ নামে একটা বিচে আমরা বেড়াতে গিয়েছি। এখানে সমাজে বাহ্যিক তেমন কোন পার্থক্য আমাদের চোখে পড়েনি। বিচের ধারে বসে বসে সাগরের সৌন্দর্য উপভোগের জন্য অনেক টেবিল পাতা আছে, এবং অনেক খাবার দোকানসহ অন্যান্য সামগ্রীর দোকানও রয়েছে, তাদের সবই নিয়ন্ত্রণ করছে স্ব স্ব দোকানের মালিকগন। হয়ত মালিকগণই বসার ব্যবস্থা করেছে। ফ্রি উন্মুক্ত ব্যবস্থা নয়, কিছু টাকা দিয়ে বিচের চেয়ারগুলি এবং ছাতা নিজেদের দখলে নিতে হয়। এবং পুলিশের ব্যবস্থাও সেখানে রয়েছে, গভারমেন্ট পুলিশ আর নন গভারমেন্ট পুলিশ দেখলাম। আমরা তাদের চোখের সামনেই বসেছিলাম যেন সাহায্য চাইলে পেতে পারি। সেখানে মনে হয়েছে হৃদয়ের সব দুঃখবোধ ঘুচিয়ে দিয়ে সেই সমুদ্রের সৌন্দর্যই আমাদের কাছে সত্য হয়ে উঠেছে। আমি খুঁজে মরছি ঝিনুকের সারি কিন্তু খুঁজে পেলাম না, হয়ত আমরা যেখানে বসেছিলাম ওখানটায় কোন ঝিনুক নেই, অথবা সমুদ্রের ঐ তীরে নেই, এ নিয়ে আর ভাবি নি এবং ওখানের কাউকে জিজ্ঞেসও করিনি, তাহলে সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করা হয়ত প্রশমিত হয়ে যেতে পারে। তাই দৃষ্টি গেল বিচের ধারের দোকান গুলির দিকে, ওখানে কত রকম পণ্য সাজানো আছে, মানুষকে আকৃষ্ট করতেও তারা অনেক ধরণের পন্থা অবলম্বন করেছে, কিন্তু তেমন কোন ভিড় লক্ষ করা গেল না। তাই মনে হচ্ছে এখানে যারা আসে হয়ত তারা বার বার এসেছে। বিনোদনের এটি একটা খুব উপযুক্ত জায়গা। পোরটোপ্লাটার বিচের একই চিত্র চোখে পড়ে। বিচে আনন্দ করার সকল উপকরণ আছে, তার মধ্যে একটা ছিল সকল প্রকার হার্ড ও সফট ড্রিংকসের ব্যবস্থা। কিন্তু আমাদের হয়ত কালচারের কারণে ড্রিংক করার জন্য মন মাতোয়ারা হয় না বলে সবাই বিরত থেকেছি। আমারা সবাই দক্ষিণ এশিয়ান কালচার বহন করছি। এই কালচারে রয়েছে ধর্মীয় কারণ, আমরা যতই বলি না কেন আসলে আমাদের কালচারটাই অনেকখানি আলদা, এবং আমরা সবাই মোটামুটি একই কালচার বহন করছি, বিশেষ করে নারী ছোটবেলা থেকে যেকোন হার্ড ড্রিংককে ঘৃণা করতে শিখেছে। তার উপকার অপকার সম্পর্কে ছোটবেলায় কেউই জানে না, কিন্তু বোধ হওয়ার সাথে সাথে একে ঘৃণা করে সবাই। তাই কোন নারী উন্মুক্তভাবে ড্রিংক করলে তার পেছনে অনেক সমালোচনা হয়। সমাজ থেকেই এ ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমাদের সমাজে পুরুষ শ্রেণী অনেক কালচারকে অতিক্রম করতে পারে নারী পারে না। নারীকে সমাজ কোন কালচারকে অতিক্রম করার কোন রকম বৈধতা দেয়নি। তাই ড্রিংক বিষয়টা পুরুষ সহজেই গ্রহণ করতে পারে কিন্তু আমরা পারি না বলে আমাদের কোন আকর্ষণও হওয়া উচিত নয়। এটা আমাদের জন্মগত চর্চা। লক্ষ্য করলে দেখা যায় কালচারগত কারণে এক একটি জাতি এক এক রকম চিন্তা বহন করছে। এটা যদিও আমার কাছে বড় কোন বিষয় নয়, তবু আমরা মানুষ হিশেবে একই কালচারের মানুষের কাছে নিজেকে অনেক মুক্ত ভাবতে থাকি। যতই নিজের দেশের সমালোচনা করি না কেন তাকে ছাড়তে পারি না, এবং উচিতও নয়। কারণ নিজের জাতিকে এগিয়ে নিতে হলে তাদের মাঝে থেকেই তা করতে হয়। আমাদের কালচারে নারীকে হতে হয় পুরুষের চেয়ে পেছনের মানুষ, অনেক লজ্জাশীলা, যদিও অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় সে ছোটবেলা থেকে পুরুষটির চেয়ে উন্নত কালচার চর্চা করে এসেছে, তারপরও পুরুষ থাকে সার্বিকভাবে সমর্থবান। কারণ আমাদের সমাজিক ব্যবস্থা সেভাবেই তৈরি। তাই আমরা পুরুষের উপর নির্ভর করে থাকতে অনেক বেশি পছন্দ করি। এটা আমাদের কালচারের নিয়ম। আমরা যারা প্রবাসে বসবাস করি তারা খুব কসরত করি আমাদের কালচারের নিয়মগুলোকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে, তাই কালচার পরিবর্তনের গতি এতটা শ্লথ। আর নতুন প্রজন্ম অনেকটা দ্বিধাগ্রস্থ অবস্থায় থাকে বলে কেউ কেউ মানসিক সমস্যায় ভুগতে থাকে। এবং অনেক বাবা মা সেটা বুঝতেও পারে না, এবং কেউ কেউ বুঝতে চায়ও না। তাদের কাছে সন্তানের চেয়ে কালচার অনেক বড়। সন্তানকে তারা ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখে এবং অনেকক্ষেত্রেই সন্তানদের তারা সম্মান করে, কিন্তু তারপরও সন্তানের কাছে পৌঁছতে পারে না, এটা মা-বাবার ব্যর্থতা আমরা জানি, কিন্তু যেটি জানি না সেটা হল আমাদের কালচারকে তাদের উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা থেকে নিজেদের বিরত রাখতে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এক সময় দেখলাম পাশের টেবিলেই একজন নারী একজন হ্যান্ডসাম ছেলেকে কিছু একটা বলছে। যেহেতু বয়সে অসম এবং জাতিতেও অসম তাই একটু কৌতূহল হল? এই ধরণের কৌতূহল থাকা অপরাধ তা আমরা জানি, কিন্তু আমাদের কালচারে একে কোন অপরাধ হিশেবে গণ্য করা হয় না, তাই আমরা জানি এটা অপরাধ কিন্তু সত্যিকার অর্থে তাকে কতটা মানি? কারণ আমরা চর্চা করিনি বলে এটাকে মেনে নিলেও মনে নেই নি। আর তাই হয়ত আমাদের বয়ে আনা কালচারটি জীবন থেকে পুরাপুরি মুছে যাবে না। আমি অনেকটা উশখুশ করতে করতে জানতে পারলাম মহিলাটি ওর সাথে কথা বলছে স্ফুর্তিকে প্রলম্বিত করার জন্য। যে কথা আমাদের কালচারে নারীদের মনে করাও জঘন্যতম অপরাধ, কিন্তু পুরুষের ক্ষেত্রে অনেকখানি কম অপরাধ। আমাদের পুরুষেরা কাজটি করে থাকে আমাদের চোখ এড়িয়ে, তাদের সমাজে ধরা পড়ার কোন ব্যবস্থা নেই। কিন্তু আমাদের মেয়েদের মধ্যে কেউ করলে তাকে সমাজের চোখে ভীষণ নিকৃষ্ট, যাকে সমাজ বেশ্যা বলে গালি দেয়। যে বৃত্তিটি সমাজের অসহায় মেয়েরা করে এবং তারা একটি নির্দিষ্ট জায়গায় সীমাবদ্ধ, সমাজে তারা নিজেকে পরিচয় দিতে গেলে শুধুই মিথ্যের আশ্রয় নিতা হয়, আর সমাজে তারা নিকৃষ্ট পর্যায়ে বসবাস করে, এমনি একটা নিয়ম চালু আছে। তাই সমাজের সভ্য মেয়েরা এটা করতে পারে না, এমনকি অনেকক্ষেত্রে তার জীবন নিয়ে বেঁচে থাকাটাও একরকম দায় হয়ে পড়ে। সেই কাজটিই কত সহজ অন্য কালচারের মহিলাটির কাছে, যা করলে তার সমাজের কাছে কোন জবাবদিহি করতে হবে না। কিন্তু আমাদের সামাজিক প্রথা অনুযায়ী নারীর জন্য নিকৃষ্ট এবং পুরুষের জন্য সমাজ দেখেও না দেখার ভান করে, আর এখানেই সমস্যার সৃষ্টি। যে কোন সমাজের ভিতরে একরকম ও বাইর থেকে অন্য রকম ভাবে প্রকাশিত থাকে, আমরা সাধারণত যে কোন সমাজের বাইরে থেকেই দেখি। তাই সমাজের সবটুকু বুঝে উঠতে পারি না, সেটি মেনে নিয়েই আমি ডোমেনিকানদের সমাজ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেছি। এদের মধ্যে যারা দেহ ব্যবসায় যুক্ত প্রচুর পরিমাণে তাদের দেখতে পেলাম সেই বিচে। এ নিয়ে আমার মনে ভাবনার উদয় হল। এরা ক্লায়েন্টের সাথে দিনের বেলায় কথা বলে দরদাম ঠিক করে রাখে। তাদের জীবন সম্পর্কে যতটুকু বাইরে থেকে জানা সম্ভব হল ততটুকুই জানতে পারলাম। আমাদের মধ্যে পার্থক্য শুধু ওখানে প্রকাশ্যে নারী পুরুষ নির্বিশেষে এ কাজটি করে, কিন্তু আমাদের সমাজে পুরুষ প্রায় সবাই রাতের বেলা সেই নারীর সঙ্গ কামনা করে। ঐ সমাজে পুরুষের জন্য মাফ কিন্তু নারীর জন্য চূড়ান্ত অপরাধ, এই ব্যপারটি নেই। সামাজের কাছে হাইড করে কিনা জানি না কিন্তু এটি জানার জন্য আমাদের মত এত উৎসাহও ঐ সমাজের নেই। যার জন্য কাউকে চরমভাবে অপমান করতে গিয়ে বেশ্যা বলে কেউ গালি</p>



<p class="wp-block-paragraph">দেয় না। শুনেছি এরা যে যত আর্লি পারে বাচ্চা নেয়, বাচ্চাকে বড় করে, তারপর নিজেকে ফ্রি করে এই কাজে নেমে যায়। এবং পরবর্তীতে গ্রামে ফিরে যায়। বাচ্চা ওদের কাছে বড় কথা নয়, জীবনকে উপভোগ করাই এবং যেকোনভাবে অর্থ আসাই তাদের কাছে বড় কথা। এজন্য জনসংখ্যার বৃদ্ধি হয় সহনশীল ভুমিকায়। জনসংখ্যার বিস্ফোরণ কথাটি ওখানে একবারেই প্রচলিত নয়। ওদের সংসার কেমন থাকে সে সম্পর্কে খুব একটা জানি না তবে যৌবনে এরা অর্থের বিনিময়ে স্ফূর্তি করে এবং বার্ধক্যে এরা বাড়ির মালিক হয়, কেউ কেউ গাড়ির মালিক হয়ে যায়। পুরুষেরা বাচ্চাদের কোন প্রকার দায় নেয় না। সকল বাচ্চাই হয় মা কেন্দ্রিক। বেশিরভাগ মেয়েই সিঙ্গেল মাদার। সমাজে এইসব সন্তানদের পরিচয় কোন সমস্যা নয়। কে যে সাধারণ মানুষের ছেলে মেয়ে আর কে যে এই সব দেহ ব্যবসায়ীর ছেলে মেয়ে তা বাইরে থেকে বোঝার কোন উপায় থাকেনা। সমাজের ভিতরে এদের চেনার কোন ব্যবস্থা আছে কি না জানি না, তবে এটুকু জানি এনিয়ে কারো কোন মাথাব্যথা নেই। ওখানে মেয়েরাও অসম্ভব অ্যাক্টিভ হয়, অনেক ছোট থেকেই তাদের জীবন যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। আমি বাসে যেন কোথায় যাচ্ছিলাম তখন হঠাতই দেখতে পেলাম একটি বাচ্চা মেয়ে কীভাবে তার স্যুটকেস টেনে নিয়ে যাচ্ছে। আমি মুগ্ধ হলাম, আর ভাবলাম, যে দেশে সমাজ কর্তৃক চাপিয়ে দেওয়া শিশুশ্রম ছাড়া সবাই ছোটবেলা থেকে তাদের কোন মুহূর্তে কী করতে হবে সে সম্পর্কে সচেতন থাকে, তারা সভ্যতার দিকে অগ্রসর হয় দ্রুত গতিতে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ডে ট্রিপের ব্যবস্থা করে ফিরে এসেছি রিসোর্টে, ট্যুরগাইড আমাদেরকে নিয়ে গেল ওদের গৌরবের নিদর্শনগুলো দেখাতে। সব দেশেরই কিছু সৌন্দর্য ও গর্ব থাকে, সে যতই অবহেলিতই হোক আর যত ছোটই হোক, আর তাই এ নিয়ে বিশেষ কোন আলোচনায় গেলাম না। আমি সাগরের চিত্র দেখে এত মুগ্ধ হয়ে গেছি যেন তাই নিয়েই মেতে আছি। সাগরের সৌন্দর্য বর্ণনাই আমার জীবনে মুখ্য ভূমিকা পালন করছে, অনেক সৌন্দর্যকে ছাপিয়ে। একে আমি জীবনবাদী হওয়ার একটা লক্ষণ বলে মনে করছি। নগদ যা পাচ্ছি তা হাত পেতে নিচ্ছি। আমি কখনো জীবনের পরে কি হবে সে বিচার নিয়ে বসে নেই, কারণ আমি মনে করি জীবন শেষ হবে জীবনের নিয়মে, আর আমি এই জীবনে যেটুকু আনন্দ সংগ্রহ করতে পারি সেটাই হবে আমার জীবনের পরম পাওয়া।&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">রোজানা নাসরীন</p>



<p class="wp-block-paragraph">টরন্টো&nbsp;</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>প্রবাসে পরহিতকর্ম -১০৩</title>
		<link>https://probashikantho.com/2024/02/03/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ae-%e0%a7%a7%e0%a7%a6%e0%a7%a9/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 04 Feb 2024 04:27:00 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Travel]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=9055</guid>

					<description><![CDATA[আলবার্টার পথে পথে রীনা গুলশান গতরাতে  TAKETOMI রেস্টুরেন্টে বেশ জম্মেস খেয়ে, বাসায় আসতে আসতে প্রায় রাত ১২ টা। বাসায় এসে]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph" style="font-size:24px">আলবার্টার পথে পথে</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>রীনা গুলশান</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">গতরাতে  TAKETOMI রেস্টুরেন্টে বেশ জম্মেস খেয়ে, বাসায় আসতে আসতে প্রায় রাত ১২ টা। বাসায় এসে রুম্মান বললো, সবাই ঘুমাতে যাও, আগামীকাল আবার সকাল সকাল বের হতে হবে। আমার আবার এশার নামাজ। এই নামাজ একটু দীর্ঘ সময় নিয়ে পড়ি। অতএব, যার যার বেডরুমে চলে গেলাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">যখন ঘুমাতে গেলাম, ঘুম অনেক আগেই উড়ে গেছে। Banff এ যাবো। এই চিন্তায় বিভোর হয়ে রইলাম বাকি রাত।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ফজরের নামাজ পড়ে আমি আবার একটু বিছানায় যাই। আজ আর গেলাম না। কাজিমকেও বললাম, সকালের নাস্তা পর্ব সব সেরে ফেলো। আমার হাক ডাকেই বরং রুম্মান ও তিতল উঠে পড়লো। রুম্মান বললো- মামনি, যদিও অক্টোবর মাস, তবু হালকা জ্যাকেট সাথে নিও। তোমার ঠান্ডা লাগতে পারে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সবাই রেডি হয়ে রওনা দিলাম। সাথে বিভিন্ন রকমের চিপস, স্ন্যাকস জাতীয় খাবার এবং ড্রিংস নিলাম। রুম্মানের বাসা থেকে ‘লেক লুইস’ (Lake Louise) এর পথ দেড় ঘন্টার মত হাইওয়েতে। Banff হলো আলবার্টার একটা পর্যটন শহর। এখানে লোক বসতি খুব বেশী না। আবার কমও না। প্রায় আট হাজার মানুষ বাস করে Banff এ। যদিও এটি সাম্প্রতিক সময়ের হিসাব নয়। ৬/৭ বছর আগের হিসাব।</p>



<p class="wp-block-paragraph">রুম্মান একটু দ্রুত গতিতে গাড়ি চালায়। আধা ঘন্টার মধ্যেই চারপাশের দৃশ্যাবলী একেবারে পাল্টে গেল। এখন চারপাশে পাহাড়ের হাতছানি। পাহাড়গুলো এত বড় বড় যে আকাশের সাথে একদম মিলেমিশে একাকার। যতই এগিয়ে যাচ্ছে পাহাড়ের রূপ একেবারেই অন্যরকম। উচ্চতায়ও একেকটা যেন আকাশ ছুঁয়ে যাচ্ছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এই সেই ‘রকি মাউন্টেন’! যার নাম শুনে আসছি সেই ছোট বেলা থেকেই। ছোট বেলায় জিওগ্রাফিতে পড়েছি এই রকি মাউন্টেনের কথা। তারপর বড় হয়ে পড়েছি সুনিলের ‘পায়ের তলায় সরষে’ এর দুই খন্ডে। দুইটা বই এর ব্যপ্তি ঘটেছে নানা বিষয়ের উপর। কিন্তু মূল বিষয়টা ছিল এই ‘রকি মাউন্টেন’। কবি এর শেষ দেখতে চেয়েছিলেন। উনি সত্যি সেটা করেছিলেন। আমি তো কেবল ‘বুড়ি ছোঁয়া’ করে এলাম।&nbsp;</p>



<div class="wp-block-image"><figure class="alignleft size-large is-resized"><img decoding="async" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2024/02/কলাম-ছবি-২.jpg" alt="" class="wp-image-9056" width="544" height="407" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2024/02/কলাম-ছবি-২.jpg 400w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2024/02/কলাম-ছবি-২-300x224.jpg 300w" sizes="(max-width: 544px) 100vw, 544px" /><figcaption>লেক লুইসের কর্নার। পাহাড়ের শরীর দিয়ে পাইনের সারি। ছবি: লেখক</figcaption></figure></div>



<p class="wp-block-paragraph">সেদিন ছিল আকাশ ভরা রোদের ছোঁয়া। এত ভাল লাগছিল। মাঝে মাঝে জীবনটা এত সুন্দর হয়ে যায়। রুম্মানের পাশের সিটে বসেছিল কাজিম। আমার খুব প্রব্লেম হচ্ছিল ছবি তুলতে। এমন এমন দৃশ্য আমি মিস করছিলাম যে কি আর বলবো? আমি খুব রেগে যাচ্ছিলাম, ছবি তুলতে পারছিলাম না, তাই।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এদিকে রুম্মান এত সুন্দর ভাবে প্রতিটি বাঁকের বর্ণনা করছিল যে কি আর বলবো। এই সব রাস্তা রুম্মানের একদম মুখস্ত। এতবার এই রাস্তায় সে গিয়েছে যে চোখ বন্ধ করে সব বলে দিতে পারবে। নিজেরাতো মাঝে মধ্যে যায়। তারপর রুম্মান এখানে অবস্থান নেবার পর প্রচুর বন্ধুবান্ধব বেড়াতে আসে এই Banff দেখার জন্য। এখন আবার আমরা এলাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">মজার ব্যাপার দেখলাম, এত দূর এলাম কিন্তু একটিও ঘর বাড়ি চোখে পড়লো না। মাঝে মাঝে দেখলাম পাহাড়ের পদদেশে পানির রেখা। পাহাড়ের উপর রোদের ঝিলিক দেখা যাচ্ছে, তখন দেখলাম, পাহাড়ের রঙগুলো। অসাধারণ সব। একটির সাথে অন্যটির কোন মিলই নাই। প্রতিটির রঙ যেন আলাদা। আগে জানতাম সব পাহাড়ের একই বর্ণ হয়। সুরমা ধরণের। কিন্তু রকি হিলস তো রকি হিলস, এর এক একটির এক বর্ণ। সাদা, এ্যাশ, এমনকি হালকা সবুজ এবং গাঢ় সবুজ রঙের পাহাড় দেখলাম। জীবনে কখনো সবুজ পাহাড় দেখবো, ভাবিইনি। কোনটা হালকা সবুজ, আবার Banff এর অন্য আর একটি লেকে গিয়েছিলাম, অতি বিস্ময়ের সাথে দেখেছিলাম গাঢ় সবুজ আদিগন্ত পাহাড় স্থির দাঁড়িয়ে আছে, মানুষকে অদ্ভূত ভাবে অবাক করে দিয়ে। কোন কোন পাহাড় দেখেছি আকাশী রঙের যেখানে আকাশ মিলে যায়। বোঝার কোনই অবকাশ নাই, কোনটা আকাশ আর কোনটা পাহাড়? সৃষ্টিকর্তার কি অপরূপ সৃষ্টি! যতই দেখছি, বিস্ময়ের ঘোর আর কাটে না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">‘দেখি, বিস্ময়ে অবশ, আত্মহারা,</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমার নয়নে তাকিয়ে নিমেষ হত,</p>



<p class="wp-block-paragraph">সপ্রান মনি, স্বচ্ছ আলোর মতো</p>



<p class="wp-block-paragraph">তার সাগ্নিক, হালকা চোখের তারা।’</p>



<p class="wp-block-paragraph">একটু পরই দেখলাম Banff লেখা নাম ফলক। দিক চিহ্ন দেওয়া নতুন পর্যটকদের জন্য দূরাগত মানুষের জন্য। জানি যে এখন আমরা Banff’র মধ্যেই আছি, তবুও সাইনবোর্ড দেখবার পর থেকে হাজারটা প্রজাপতি বুকের মধ্যে নেচে উঠলো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এতক্ষণ ধরে যে চলেছি, হাইওয়ের দু’পাশে কোন ঘর/বাড়িই দেখতে পাইনি। এখন কিছু দূর চলবার পর একটি দুটি ঘর দেখতে পাচ্ছি। রাস্তা বাঁক নিল। আর হাইওয়েতে রইলাম না। এবারে সত্যিকার অর্থে পাহাড় কেটে রাস্তা, সেখানে প্রবেশ করলাম। এর আগেও আমি যত পাহাড়ী এলাকায় গিয়েছি, যেমন ভারতের ঊটি, ত্রিপতি, সিমলা, দার্জিলিং, আর ইউরোপের সুইজারল্যান্ড&#8230; আমার বিস্ময়ের ঘোর কাটতো না। মানুষের পক্ষে কি ভাবে সম্ভব এই সুউচ্চ পাহাড় কেটে রাস্তা বানানো? বেশ ভালভাবেই দুটো গাড়ি যেতে পারে। এবং যেহেতু দু’পাশেই পাহাড় আছে তাই কোন ভয়ও করে না তেমন, যারা ড্রাইভ করে। আমি জীবনে একমাত্র ভয় পেয়েছিলাম ‘ত্রিপতি’ যাবার সময়। রাস্তাগুলো ভীষণ চাপা এবং তার মধ্যেই দুটো গাড়ি যাতায়ত করছে এবং কিনারাতে ফাঁকা। অর্থাৎ পড়ে গেলেই নির্ঘাত পরপারে। সেই অর্থে ‘ঊটি’র রাস্তা অনেক চওড়া।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এবার আমরা ‘লেক লুইস’ এর দিকে যাচ্ছি। এসবই আলবার্টার ‘ন্যাশনাল পার্ক’ এর মধ্যে অবস্থিত। এই ‘ন্যাশনাল পার্ক’ এর মধ্যে পৃথিবীর সব অমূল্য সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">‘লেক লুইস’ এত সমৃদ্ধ কারণ বোধহয় এর অপার সৌন্দর্যময় রঙ এর জন্য। এবং হাইকিং এর জন্য বিখ্যাত। রুম্মান বেশ আঁকা বাকা পথে এগিয়ে চলছে। মনে হচ্ছে পথ কি শেষ হয়ে যাচ্ছে? Banff এর শুরু থেকে ‘লেক লুইসের দূরত্বটা ঠিক কতটা? টুরিস্টদের মনে এটা আসতেই পারে। ৫৭ কিলোমিটার।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমরা বেশ কাছাকাছি চলে এসেছি। তবে ‘লেক লুইস’ এর বেশ দূরেই গাড়ি পার্ক করতে হয়। পৃথিবীর যা কিছু মনোরম সেখানে পদব্রজেই যেতে হয়। বেশ কিছুটা পথ হেটে সেখানে পৌছালাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এই সেই ‘লেক লুইস’। আমি অনেক্ষণ, কতক্ষণ জানিনা, কথাই বলতে পারছিলাম না। বিস্ময়ে মূক হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম কতক্ষণ, বলতে পারবো না। সারা পৃথিবীর সৌন্দর্য্যরে বেশীর ভাগ জায়গাতে সৃষ্টিকর্তা আমাকে নেবার সৌভাগ্য দিয়েছেন, কিন্তু আজ পর্যন্ত আমি এই পরিমান বিমুগ্ধ বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যাই নি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">জান্নাত দেখিনি, কিন্তু মনে হলো এটা জান্নাতের একটি টুকরো। মনে হলো জান্নাতের সিড়িঁ বেয়ে নেমে আসা, এই সেই জান্নাত।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এরকম গাঢ় ফিরোজা রঙের পানি এর আগেও একবার দেখেছিলাম। নৈনিতাল এর প্রথম তাল (লেক), তার পানিও ফিরোজা রঙের। মাদ্রাজের ‘বীচ’ এর পানিও নীল। শারজাহ’র আরব সাগরের পানিও গাঢ় নীল বর্ণের। সবই সত্য।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তবে এটাও সত্যি ‘লেক লুইস’ এর গোটা ছবিটা, প্রথমেই আপনাকে বিস্ময়াভূত করবে। এটা পৃথিবী যে সৃষ্টি করেছেন, সেই মালিকুল মূলক, সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">লেক লুইসের ঠিক পেছনটাতে বিস্তির্ন পাহাড়। দুই পাশে দুটো পাহাড়, আর মাঝখানে মনে হবে জল। আসলে ওটাও পাহাড়। এবং অত্যাশ্চর্য-ঐ পাহাড়টা কেমন জানি সমতলের মত, আকাশের সাথে মিলানো রঙের। গোটা ব্যাপারটা নীল রঙের। আর সেই নীলের সেডে, এটার সৃষ্টি। হালকা আকাশী থেকে গাঢ় আকাশী, তারপর গাঢ় ফিরোজা। আর পাহাড়ের শরীর ঘেষে, নীচ থেকে গাঢ় সবুজের পাইনের সারি। একদম পাহাড়ের শরীর বেয়ে, ছোট থেকে বড় সেই বৃক্ষরাজি। তার উপরে, গাঢ় সুরমা বর্ণের পাহাড় এবং তার উপরে গভীর আকাশী বর্ণের আকাশ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">দিগন্ত বিস্তির্ন সেই আকাশ। লেকের সমস্ত পানি কাঁচের মত স্বচ্ছ। একটি একটি পাথরের কুচিও আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। রাস্তা থেকে, লেক লুইসে নেমে যাবার গোটা পথটা পাথরের টুকরো। এটাও প্রাকৃতিক। সরকার ৬/৭ ফিটের মত একটা রাস্তা বানিয়ে দিয়েছে, মানুষের যাতায়তের জন্য।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এখান থেকে এরপর টুরিস্টরা ‘হাইকিং’ করে। রুম্মান, তিতলী, ছোট্র কিয়ারাকে নিয়ে বেশ অনেকটা দূর পর্যন্ত হাইকিং করেছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমার পক্ষে সম্ভব নয় এবং হাইকিং করবার এমনকি ইচ্ছাও পোষন করি না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমি একটা উচুঁ পাথরের টুকরোর উপর স্থবির হয়ে বসে রইলাম। আর ভাবছিলাম এই এ্যাদ্দুর আসা, শুধু সার্থক হয়নি, তাই নয়, জীবন ধন্য</p>



<p class="wp-block-paragraph">হলো এবং হঠাৎ করেই মনে হলো, এই জীবনে আর কিছু দেখবার রইল না। এক জীবনে রাব্বুল আলামিন আমাকে সব দিয়েছে &#8211;</p>



<p class="wp-block-paragraph">‘তারপর এতদিন পৃথিবীর রঙিন সম্ভার দৃষ্টির চুম্বনে,</p>



<p class="wp-block-paragraph">পান করে বিমুগ্ধ হয়েছি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">দেখেছি প্রত্যেক রাত্রির অন্ধকারের জঠরে</p>



<p class="wp-block-paragraph">কী করে নতুন দিন পদ্ম কলির মত জন্ম পায় -’</p>



<p class="wp-block-paragraph">চারপাশে প্রচুর দর্শনার্থির ভীড়। তবে বেশীরভাগই শব্দ করছে না। বাচ্চারা একটু কিচির মিচির করছে। সেটাও এখানে ভাল লাগছে না। এখানে কেবল-ই শব্দহীনতা, একেবারে নির্জনতা ভাল লাগে। (চলবে)</p>



<p class="wp-block-paragraph">রীনা গুলশান, টরন্টো</p>



<p class="wp-block-paragraph">gulshanararina@gmail.com</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>প্রবাসে পরহিতকর্ম -১০২</title>
		<link>https://probashikantho.com/2024/01/01/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ae-%e0%a7%a7%e0%a7%a6%e0%a7%a8-2/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 02 Jan 2024 01:27:05 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Travel]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=8911</guid>

					<description><![CDATA[আলবার্টার পথে পথে রীনা গুলশান আলবার্টা একটি পর্বতমালা সমৃদ্ধ রাজ্য। তাই এখানকার আকাশটা থাকে দারুন স্বচ্ছতায় ভরা, এবং নানা রঙের]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph" style="font-size:24px">আলবার্টার পথে পথে</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>রীনা গুলশান</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">আলবার্টা একটি পর্বতমালা সমৃদ্ধ রাজ্য। তাই এখানকার আকাশটা থাকে দারুন স্বচ্ছতায় ভরা, এবং নানা রঙের খেলায় ভরা থাকে দিন/ রাত্রির ভূ ভাগ ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমরা এসে যখন ক্যালগারি-তে&nbsp; প্রবেশ করেছিলাম , তখন সেই পর্বত রাজ্যে গভীর রাত নেমে এসেছিল। কোন কিছুই দেখতে পাইনি। আমরা দুজন, দুচোখ ভরে আকন্ঠ পান করছিলাম, আমাদের জানটুস নাতনী “কিয়ারা”কে।&nbsp; ছেলের বউ তিতলী প্রচুর আইটেম রান্না করে রেখেছিল, বিশেষ করে, শুটকি ভর্তা, চিংড়ি ভর্তা (এগুলো আমার জন্য, আমার স্বামী কাজিম খন্দকার শুটকি খায় না), আমি খুবই তৃপ্তি করে খেলাম। তারপর রাতের বেলায় রীতিমত ম্যারাথন আড্ডায় নিমজ্জিত হলাম। কারণ পরের কয়দিন ছিল, শুক্র শনি এবং রবিবার। শুক্রবারটা রুম্মান মোটামুটি&nbsp; ছুটির&nbsp; নিয়েছে আমাদের উপলক্ষ্যে। শনি/ রবিবার আমরা সেই বিস্ময়কর সৌন্দর্য ‘ব্যানফ’ কাছে যাবো।&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">এতদিন পর বাপী ও মামনি কে পেয়ে ছেলে রুম্মান দারুন উত্তেজিত ছিল। আমার বড় ছেলে রায়হান, SSC’র পর থেকেই দুরে দূরে ছিল, পড়াশুনার জন্য। কিন্তু রুম্মান-কে ছাত্র অবস্থায় কখনো দূরে যেতে হয় নি মা/বাবা কে ছেড়ে। তাই পেশার কারণে কয়েক বছর আগে টরন্টো ছেড়ে রুম্মানের এই ক্যালগারি চলে আসা আমাদের কারো জন্যই সুখকর ছিল না। মন কখনো মেনে নেয় নি। তবু যেতে দিতে হয়েছে, সন্তানের সূবর্ণ জীবনের জন্য।</p>



<p class="wp-block-paragraph">কিন্তু রুমুর এই চলে আসায় আমাদের জীবনে নেমে এসেছে গভীর তমোসা। মনে হয় জীবন যেন হটাৎ করে আমাদের ছুটি দিয়ে দিয়েছে। এক সাগর ধূ ধূ করা মরুভূমির নির্জনতা, আমাদের জীবন কে বধির করে দিয়েছে। জীবনে যা কিছু করবার ছিল, মনে হলো সব কিছু করা হয়ে গিয়েছে। আর তো কিছুই করার রইলো না, তবে এখন এই জীবনটাকে নিয়ে কি করবো ?? এই রকম চিন্তা ধারায় আমরা দুজনেই নিমজ্জিত ছিলাম। এই চিন্তাভাবনা গুলো কেউ ইচ্ছা করে ভাবে না। অজান্তেই চলে আসে মস্তিস্কে। হৃদয়ের প্রতিটি তন্ত্রিতে।</p>



<div class="wp-block-image"><figure class="alignleft size-large is-resized"><img decoding="async" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2024/01/Rina-1-1.jpg" alt="" class="wp-image-8914" width="430" height="314" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2024/01/Rina-1-1.jpg 400w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2024/01/Rina-1-1-300x219.jpg 300w" sizes="(max-width: 430px) 100vw, 430px" /><figcaption>আলবার্টা একটি পর্বতমালা সমৃদ্ধ রাজ্য। ছবি: লেখক</figcaption></figure></div>



<p class="wp-block-paragraph">মজার ব্যাপার, আমাদের বিবাহিত জীবনের চার দশক অতিক্রান্ত হয়েছে, আমি কখনো কাজিমকে অসুস্থতায় দেখিনি। মনে হয় অসুখ গুলো কোথাও ওঁত পেতে অপেক্ষমান ছিল। রুম্মানের টরেন্টো ছেড়ে চলে আসবার পর ,একে একে সেগুলো কাজিমকে&nbsp; আক্রমণ করে চলেছে। মানুষটা হটাৎ করে রোগে শোকে জীর্ন গ্রস্ত হয়ে যাচ্ছে। তার চরিত্রটা নারিকেলের মত। উপরটা মারাত্মক শক্ত। ভেতোরটা ততোটাই নরম। সে কোন কষ্ট সহজ ভাবে মানতে শেখেনি। আমি একদম উল্টো চরিত্রের। কারো দেওয়া কষ্টে আমি বিস্মিত হই, কিন্তু বিবর্ণ হই না। জীবন আমাকে অহর্নিশ শক্ত পথে পরিক্রমায় রেখেছে। আমি সেজন্য সৃষ্টিকর্তাকে অজশ্র শুকরিয়া জানাই। শরীর আমাকে ভঙ্গুর করে দিলেও, মনে মনে আমি অটল সিংহাসনে বসে থাকি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">রুম্মানের বাড়ির ব্যাকইয়ার্ড টা অসম্ভব সুন্দর। বিস্তর এক প্রান্তর, শেষে অন্য আর একটি বাসস্থানের সারিবদ্ধ তা শুরু হয়েছে। অনেক দূরে মনে হয় পাহাড়ের হাতছানি। রুম্মানের নর্থ ওয়েস্টের এই রেসিডেন্সিটা নতুন শুরু হয়েছে, এই বছরখানেক থেকে। তাই কারুরই ব্যাকইয়ার্ড সেই ভাবে করা হয় নাই। একমাত্র রুম্মান তার ব্যাকইয়ার্ডের কাজ সুসম্পন্ন করেছে। আঁশে পাশে আর কেউই ব্যাক ইয়ার্ডের কাজে হাত দেয়নি, তাই সব ফাঁকা ফাঁকা লাগে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমরা সকালেই রুমুর এরিয়াটা ঘুরতে বের হলাম। ওর দুটো বাড়ীর পরই একটা রাস্তা করে দিয়েছে, পেছনে যাবার জন্য। পেছনে আবার মেইন রোড, সেই জন্য রুম্মান এবং আরো ৫/৬ জন এর বাড়ীর পেছনে ৬/৭ ফুট উঁচু প্রাচীর। মেইন রোডের পাশে&nbsp; যথারীতি পায়ে চলার রাস্তা রেখেছে। এবং পাশেই “বাস স্টপেজ”। তার পাশ দিয়ে অকস্মাৎ নেমে যাওয়া এক আঁকা বাঁকা রাস্তা। এই রাস্তাটা মূলত রুম্মান দের, রেসিডেন্সির এরিয়ার পেছন টা। রেসিডেন্সির&nbsp; ফ্রন্ট ফেজে করেছে, আর একটা বাস স্টপেজ, এবং বিশাল আকারের আউটলেট মল, নো-ফ্রিলস (গ্রোসারি স্টোর) অলরেডি করে ফেলেছে। পেছন টা অসম্ভব সুন্দর। পাহাড়ী ঢলের মত, অনেকটা নেমে যাওয়া এই রাস্তার পাশেই বিশাল আঁকা বাঁকা লেক। লেক টা দেখে কেন যেন মনে হয়, বিল্ডাররা নিজেই লেক টা করেছে। কারণ লেক টার দৈর্ঘ্য ঠিক ততোটা, যতোটা এই রেসিডেন্সির সীমানা। এবং অত্যাশ্চার্যের বিষয় হলো, দেখলাম, লেক বোঝাই হয়ে আছে, বলাকা হাঁস ( আমি নাম টা দিলাম)। কারণ এরা দীর্ঘ আকাশ ভ্রমণ শেষে এই লেকে অবতরন করেছে, জলকেলির জন্য। আমি এত গুলো বলাকা হাঁস কখনো একসাথে দেখিনি। অথচ আমি “লেক অন্টারিওর” গা ঘেঁষেই বাস করেছি এক দশক। সেখানে অনেক বড় বড় হাঁস দেখেছি। তবে কিছু কিছু বলাকা হাঁস ও যে নাই, তা নয়। তবে এই ছোট্ট লেকে&nbsp; যত গুলো দেখছি, অত দেখিনি এক সাথে। এই বলাকা হাঁস গুলোর শরীরের বর্ণ একটু ডার্ক। আর কদিন পর হয়তো এরা আসতে পারবে না। কারণ প্রবল শীত এবং বরফাচ্ছন্ন স্থানে এরা থাকতে পারে না। তখন এরা অন্য কোথাও ডানা মেলে দেবে। জানিনা কোথায় হবে এদের ঠাঁই।</p>



<p class="wp-block-paragraph">বোঝাই যায় বিশাল বিশাল পর্বত মালা কে বিসর্জন দিয়ে, এই নবনির্মিত বাসস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। গোটা আলবার্টার সৃষ্টিই হয়েছে, এক একটি পর্বতমালার বিসর্জনের মধ্য দিয়ে।&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">সুনিল গঙ্গোপাধ্যায় যখন “পায়ের তলায় সরষে-২ খন্ড” লিখেছিলেন, এই বই দুটোর মূল বিষয়বস্তুই ছিল&nbsp; কানাডা। আর তাতে প্রাধান্য পেয়েছে, আলবার্টা। শেষ করেছেন, একজন বন্ধুর- বন্ধু, নব পরিচিত, তার সাথে ক্যালিফোর্নিয়া গমন। এবং সেখানকার কিঞ্চিৎ বর্ণনা শেষে, বইটির সমাপন। মূলতই সুনিল বর্ণনা করেছেন, এই আলবার্টার অতি বিস্ময়কর সৌন্দর্য নিয়ে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এই সৌন্দর্যর বর্ণনা, আমরা কিছুটা চেষ্টা করতে পারি। কিন্তু সেটা চোখে দেখার সেই অপার সৌন্দর্যর এক চতুর্থাংশের কম মনে হবে। এটা সম্পূর্ণটা সম্ভব হতো যদি ভিডিও তে ধারণ করে দেখানো যেত।</p>



<p class="wp-block-paragraph">রুম্মানের বাসায় কাজিম খন্দকারের একজন সহপাঠির, পুত্রও অকস্মাৎ আগমন করেছে। সে আবার ৪/৫ জন টরেন্টোর বন্ধু নিয়ে এসেছে। তারা অবশ্য “এয়ার বি এন বি” তে উঠেছে ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">শুক্রবার জুম্মার নামাজ বিধায় কাজিম কোথায় যেতে চায় না। রুম্মানের হাফ অফিসও আছে। তবু সে বলেছে, বিকালের দিকে আমাদের নিয়ে বের হবে। মোটামুটি শহর টা দেখাবে। তবে ডাউন টাউনটা দেখানোর জন্য পরে একদিন নিয়ে যাবে, যেদিন ডিটেলসে দেখাবে। আগেই শুনেছিলাম, ক্যালগেরীর ডাউন টাউন টা বেশ সমৃদ্ধ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">দুপুর থেকে তিতলী আমাদের তাড়া দিল, রেডী হয়ে নিতে। সেও রেডী হলো আমরা সবাই বের হলাম। প্রথমে রুম্মান, ওদের রেসিডেন্সি এরিয়াটা ঘুরিয়ে দেখালো। বেশ চমৎকার সব বাড়ী। যেখানে এই এরিয়াটা শেষ হয়েছে, সেখানে অসম্ভব সুন্দর স্টিলের অনেক লম্বা লম্বা টাওয়ারের মত আছে। অনেকটা দেখতে ছাতার মত। অনেক বড় বড়। ওটাই সেড। দু’পাশেই আছে, ওখানেই বাস স্টপেজ। এবং এই এরিয়া থেকে বের হতেই ডান হাতে ‘No Frills’ ও বিশাল আউট লেট মল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">বাড়ী থেকে বের হতেই রাস্তা গুলো দেখলেই বোঝা যায়, এগুলো পাহাড় কেটে করা। মাঝেমাঝে বেশ উপরে উঠে যেতে হয়। তারপর আবার বেশ নীচু। আমাদের অন্টারিও তে গাড়িতে উঠলেই যেমন চারপাশে সব সারি সারি বাড়ী, দোকান পাঠ। এখানে তা নয়। এখানে প্রায় সব কিছু সিস্টেমেটিক ওয়েতে করা। একটা এরিয়া থেকে অন্য এরিয়া অনেক দূরে দূরে। এক / দেড় ঘন্টা করে লাগে। আমরা মোটামুটি শহরটা ইতি উুতি ঘুরছি। এখানে গাড়িতে উঠার পরই আপনার চোখ টানবে, দূরে অনেক দূরে। সর্বত্রই মনে হবে পাহাড় এর হাতছানি। এদিক ওদিক অনেক ঘুরালো, এবং সামনের থেকে মোটামুটি ধারাবর্ণনা দিয়ে চলেছে , ওর বাপী কে। আমরাও কিছু কিছু শুনছি। সাড়ে সাতটার মত আমাদের ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখালো। এরপরই ডাউন টাউনের দিকে মোড় নিল। তার উদ্দ্যেশ্য হলো, আমাদের, এখানকার একটা ভাল মানের রেস্টুরেন্টে নিয়ে যাবে। সবাই নাকি এদের খাবার খুব পছন্দ করে। নাম টি হলো TAKETOMI. এটি একটি হাক্কা  চাইনিজ কুইজিন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">যারা অতি নিকট অতীতে টরেন্টো ছিল, সেই সব জনগনের এখানে খুব ভীড়। আমার ছেলে আর রওনক এর পরিবার প্রায়ই এখানে দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে আসে। তারা হাক্কা নামের</p>



<p class="wp-block-paragraph">একটা মিক্সড কিছু খেতে আসে। এখন আমাদেরও নিয়ে এসেছে। রেস্টুরেন্ট টা বেশ বড় এবং ডেকোরেটেড। লালের প্রভাবে সাজানো। এখানে যেহেতু দুবার খেয়েছি। তাই দেখলাম দ্বিতীয় বারের সার্ভিস টা ভাল ছিল। এই দুই ছেলে একটার পর একটা অর্ডার দিয়ে চলেছে। কত খাবে এরা ? খাবার এলে, খাওয়া শুরু করলাম। ওমা বলে কি, এটা নাকি হাক্কা ? আমি আর কাজিম, দুজনই কোন কমেন্ট না করে টুকটাক খেয়ে নিলাম। রুমু বললো : বাপী কেমন লাগলো হাক্কা ?</p>



<p class="wp-block-paragraph">এর উত্তরে আমি হেসে ফেললাম। আমার হাসিতে, সবাই হেসে দিল। আর ঐ হাসির মাঝেই ছিল, প্রকৃত জবাব। চাইনিজ মনে করে এটা খেতে হবে। হাক্কার “হ” পর্যন্ত নাই এখানে। অস্টিনে (টেক্সাস) ও একই অভিজ্ঞতা হয়েছিল। এমনিতে খাবার গুলো ভালই ছিল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">যাইহোক খেতে খেতে রাত ১১ টার মত বেজে গেল। এখন উঠতে হয়। এ তো খাওয়া নয়, ভালবাসার একটানা আড্ডা।</p>



<p class="wp-block-paragraph">রাতের আঁধারে ঘরমুখো হলাম। পাহাড়গুলো রাতের গভীর আঁধারে দেখা যায় না বললেই চলে। তবু ডাউন টাউনের চাকচিক্য ভরা, সাজানো হাইরাইজ বিল্ডিং এর মাঝ দিয়ে, অকস্মাৎ তার ছোয়া দেখতে পাচ্ছিলাম। আর অন্ধকারের&nbsp; নিজস্ব আলোটা, যে একবার দু চোখ ভরে দেখতে পেয়েছে, তার আর কিছু দেখার সাধ হবে না। কি যে সেই মায়াবী সৌন্দর্য, দু চোখ ভরে দেখতে দেখতে একবারও মনে হবে না, চোখ দুটো লুকিয়ে ফেলি আলোতে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">রীনা গুলশান, টরন্টো</p>



<p class="wp-block-paragraph">gulshanararina@gmail.com</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>শিশুদের স্বর্গে</title>
		<link>https://probashikantho.com/2023/10/10/%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a7%87/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 10 Oct 2023 04:06:19 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Travel]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=8699</guid>

					<description><![CDATA[ডা. পুলক প্রায় এক বছর ধরে চিন্তা ভাবনা, সংযোজন আর বিয়োজন নিয়ে এগিয়েছে আমাদের সফর পরিকল্পনা। গত জুলাইতে বিনি ভাবী]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph"><strong>ডা. পুলক</strong></p>



<div class="wp-block-image"><figure class="alignleft size-large is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2023/10/ভ্রমণ৪.jpg" alt="" class="wp-image-8700" width="371" height="343" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2023/10/ভ্রমণ৪.jpg 400w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2023/10/ভ্রমণ৪-300x278.jpg 300w" sizes="(max-width: 371px) 100vw, 371px" /></figure></div>



<p class="wp-block-paragraph">প্রায় এক বছর ধরে চিন্তা ভাবনা, সংযোজন আর বিয়োজন নিয়ে এগিয়েছে আমাদের সফর পরিকল্পনা। গত জুলাইতে বিনি ভাবী আর সানিয়াত ভাইয়া কানাডা সফরে এলে প্রথম এ নিয়ে কথা তুলে রুমা। তারপরে নিঝুম আর তানিম আসলে পালে আরো বাতাস লাগে। আমাদের ট্যুর ম্যানেজার (অঘোষিত) এর দয়িত্ব পরে তিয়াশা আপুর উপরে। তারপর, No চিন্তা do ফুর্তি’র দশা। চার কাজিন মিলে ফাইনাল হয় সফর। গন্তব্য অরলেন্ডো!</p>



<p class="wp-block-paragraph">জুলাই মাসের একুশ তারিখে চড়ে বসি Lynx Air এর প্লেনে। একটানে Orlando Airport, সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে চলে যাই Daytona Beach এ। অসাধারণ একটা বিকেল কাটালাম, আড়াই ঘন্টা পানিতে দাপাদাপি করে ক্লান্ত সবাই!</p>



<p class="wp-block-paragraph">প্রথম যখন প্ল্যান করি তখন ইচ্ছা ছিলো দু সপ্তাহের জন্য যাবো কিন্ত রুমার নতুন চাকরির কারণে এতো বড় ছুটি নেওয়া সম্ভব না। তাই এক সপ্তাহের ছুটি নিতে হলো আর বদলে গেলো প্ল্যানও। তাই, দূরের মিয়ামী বীচের চার ঘন্টা প্ল্যান বদলে আমরা চলে গেলাম এক ঘন্টা দূরের ডেটোনা বীচে। মনে হলো যেন ছোট কক্সবাজার! রুমা আর আমি ফিরে যাই আমাদের প্রথম সী-বীচ এর অভিজ্ঞতায়। কতো আগের মনে হলেও মাঝে মাঝে মনে হয় এইতো সেদিনের কথা। সময়ের পরিক্রমায় আমাদের কোলে এসেছে জাহিন, জারাহ আর সর্বশেষে জুনাইরাহ। আমরা ঋদ্ধ হয়েছি প্রতিনিয়ত ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ছোট্ট ছোট্ট ঢেউ&#8230;.. জাহিন আর জারাহ এর আনন্দ দেখে কে। জুনাইরাহ এর লবণ পানির অভিজ্ঞতা এই প্রথম। সে কিছুটা আশ্চর্য আর অভিভূত। পানি পেলেই হলো আর কোনো বাহানা লাগে না, সারাক্ষণ শুধুমাত্র ঝাপাঝাপি আর ঝাপাঝাপি। আড়াই ঘন্টা থেকে আফসোস মিটলো না, সূর্য হেলে পড়াতে বের হতেই হলো। শেষ বেলায় নাইকি তে গিয়ে বিশ মিনিটে হালকা শপিং ।</p>



<div class="wp-block-image"><figure class="alignleft size-large is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2023/10/ভ্রমণ-১.jpg" alt="" class="wp-image-8703" width="363" height="748" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2023/10/ভ্রমণ-১.jpg 400w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2023/10/ভ্রমণ-১-145x300.jpg 145w" sizes="(max-width: 363px) 100vw, 363px" /></figure></div>



<p class="wp-block-paragraph">ডেটোনা বীচে ঝাপাঝাপি আর ফ্ল্যাইটের ঝক্কি কাটিয়ে সবাই ক্লান্ত শরীরে হোটেলের বিছানায় টপাটপ কাত। পরের দিন শনিবার সকালে হোটেল চেক আউট করে সরাসরি চলে গেলাম কসকোতে। পানি, গেটোরেড, চিপস, কুকিজ দিয়ে গাড়ির পিছনের ডেক ভর্তি করে ছুটলাম আকাঙ্খিত রিসোর্টে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">দুপুরে তিয়াশা আপু, সানিয়াত ভাইয়া, বিনি ভাবী, তানিম, নিঝুম আর মিকাইল, আদিয়ান, আলিফ আর তাহান চলে এলো Universal’s Endless Summer Resort &#8211; Dockside Inn and Suites এ। রুম পেতে পেতে বিকেল। ফ্রেশ হয়ে সবাই শাটল বাসে চলে গেলাম Universal Studios Florida তে। প্রচন্ড কড়া রোদ, আশেপাশে ঘোরবার মতো পরিস্থিতি নেই। নৌকা দিয়ে আশেপাশের লেক পাড়ের রিসোর্ট ঘুরতে গেলাম। বাচ্চারা বেশ মজা পেলো, বড়রাও খুশী রোদে ঘুরতে হচ্ছে না বলে। এভাবেই শেষ হলো আমাদের রিসোর্টে প্রথম দিনের যাত্রা।</p>



<p class="wp-block-paragraph">দ্বিতীয় দিন সকাল সকাল উঠে লাইনে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বেজে গেলো দশটা। Universal Studios Florida এর গেটের সামনে হাজার খানেক মানুষ। রোদের তাপও মাশাল্লাহ, তবুও মানুষ দমবার পাত্র নয়। আন্ডাবাচ্চা নিয়ে সবাই হাজির, লাইনে দাড়িয়ে পড়লাম। বিশ মিনিট ঢোকার লাইনে থেকে টিকেট চেক করতে গিয়ে দেখা গেলো আমাদের চারজনের টিকেট ভুল ছাপা হয়েছে। অগত্যা আবার গেস্ট সার্ভিসে গিয়ে টিকেট ঠিক করে আনতে আনতে আধা ঘন্টা সাবাড়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আধা ঘন্টা লেট হয়ে ভালোই হলো মনে হয়, কারণ শুরুতেই ওদের একটা রেলি দেখে ফেললাম। বাচ্চাগুলো গানের তালে নেচে নেচে ব্যাপক আনন্দ দিলো আগত দর্শকদের। গরমে টেকা দায় তাই চলে গেলাম ইনডোর রাইডগুলো চড়তে। Mummy, Transformers, E.T করতে করতে বেজে গেলো দুপুর বারোটা। কি যে মজার এক একটা রাইড, বাচ্চারা তো খুশিতে বাকবাকুম। হটাৎ আকাশ কালো করে নামলো বৃষ্টি, সবাই মোটামুটি কাকভেজা! তাই হোটেলে ফিরে বিকেলে Disney Springs এর যাবার প্ল্যান হলো ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">বিকেলে Uber এ চড়ে সবাই চলে গেলাম Disney Springs এ। অসাধারণ আয়োজন, সাড়ি সাড়ি সব দোকান পাট। মানুষ দোকানে ঢুকছে আর বিরাট বিরাট সব ব্যাগ নিয়ে বের হচ্ছে। আমরা M&amp;M চকলেট কিনলাম। তিয়াশা আপু আমাদের সব্বাইকে &#8211; সানিয়াত ভাই, বিনি ভাবী, নিঝুম, তানিম আর বাচ্চাদের আইসক্রিম খাওয়ালো। তারপরে Uber এ চড়ে হোটেলে ফেরত আসলাম। এভাবেই শেষ হলো আমাদের দ্বিতীয় দিনের সফর।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তৃতীয় দিনের বিশাল প্ল্যান নিয়ে আমরা লবিতে মিলিত হলাম। পুরো Island of Adventure at Universal Studios Orlando আর Universal Studios Orlando Harry Potter দেখে ফেলার প্ল্যান। ম্যাচিং ম্যাচিং শার্ট আর স্কার্ট এলো নিঝুম আর রুমার সৌজন্যে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">শুরুতেই আমরা Seuss park এ তিনটা রাইডে পটাপট উঠে গেলাম। বাইরে প্রায় আটত্রিশ ডিগ্রির মতো গরম, তাই ইনডোর রাইডে আমাদের আরাম আর বাচ্চাদের বেশ আনন্দ দিচ্ছিলো। The Cat in the hat রাইডে বাচ্চাগুলো দুবার উঠলো মজা পেয়ে। কি যে সুন্দর করে বানানো রাইডগুলো বাচ্চাদের জন্য, ভাবতেই অবাক লাগে ।</p>



<div class="wp-block-image"><figure class="alignleft size-large is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2023/10/ভ্রমণ-৫.jpg" alt="" class="wp-image-8704" width="362" height="311" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2023/10/ভ্রমণ-৫.jpg 400w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2023/10/ভ্রমণ-৫-300x258.jpg 300w" sizes="(max-width: 362px) 100vw, 362px" /><figcaption>Zunairah told me ,‘Who puts so much salt in the water, daddz?’</figcaption></figure></div>



<p class="wp-block-paragraph">তিনটা রাইড শেষ করে আমাদের গন্তব্য Harry Potter-Hogwarts এ । জাহিন ,জারাহ, মিকাইল আর আদিয়ানের খুশী দেখে কে! প্রতিটা গলিতে গিয়ে দৌড়াদৌড়ি করে বই আর মুভির সিনগুলো ফিল করার চেষ্টা করছিলো যেন ওরা। হাজার হাজার মানুষ এলোমেলো হয়ে চারিদিক ঘুরছে, সবাই যে যার মতো আস্বাদনে ব্যস্ত যেন। ঘন্টা দুয়েক থাকলাম আমরা।</p>



<p class="wp-block-paragraph">দুপুর এসে গেলো, ক্ষুধা লেগে গেলো সবার। একটা বাংগালী বাফেট রেস্টুরেন্ট আছে Ahmed Indian Restaurant OBT. এই কয় দিন পিজ্জা, চিপস, শর্মা আর স্যান্ডউইচ খেয়ে ছিলো সবাই, বাফেটে এসে গত দুদিনের আর আগামী দুদিনের খাবার খেয়ে ফেললাম। তিয়াশা আপু’র সৌজন্যে আমাদের দুপুরের খাওয়া হলো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এতো খেয়ে সবাই ভাতঘুমের জন্য পুরোপুরি তৈরি। হোটেলে ফিরে ঘুমিয়ে আবার আমরা এক ঘন্টার জন্য গেলাম পার্কে। আটটায় পার্কে ঢুকে দেখি একটু খালি, Minion এর দুটো রাইড, Transformer (দুবার) করতে করতে টাইম আপ। তিয়া আপু, সানি ভাইয়া, বিনি ভাবী, নিঝুম আর তানিম মিলে ফটোসেশনও হলো পার্কের বাইরে। এভাবেই শেষ হলো আমাদের তৃতীয় দিনের সফর।</p>



<p class="wp-block-paragraph">চতুর্থ দিনে আমাদের গন্তব্য Universal’s Volcano Bay Water Park. বাচ্চারা পানি পছন্দ করে আর এক যেন পানির রাজ্য। সারাদিন পানিতে থাকা আর পানির মধ্যেই সব রাইড। পুরোটাই আর্টিফিশিয়াল কিন্ত প্রকৃতির সবুজ দিয়ে সবই সাজানো গোছানো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমরা সকাল সকাল চলে গেলাম পার্কে। জাহিন, জারাহ, মিকাইল, আদিয়ান, আলিফ, জুনাইরাহ প্রায় পুরোটা সময় ছিলো পানিতে। ‘বীরপুরুষ’ তাহান প্রথমে পাড়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত নেমেছে পানি। নিঝুম কে ধন্যবাদ আমাদের সব ছবি তুলে দেবার জন্য। তানিমকে ধন্যবাদ এক বিশেষ কারণে। তিয়া আপুকে আমরা খুঁজে পাচ্ছিলাম না অনেকটা সময়। প্রায় চারটে পর্যন্ত ছিলাম সবাই। পানিতে ঝাপাঝাপি করে ক্লোরিন পানিতে সবাই ‘ট্যান’ পেয়ে গেলাম ফ্রী তে। রাতে বিনি ভাবী আর সানিয়াত ভাই আমাদের মজার আইসক্রিম খাওয়ালো। সে কি স্বাদ ।</p>



<div class="wp-block-image"><figure class="alignleft size-large is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2023/10/ভ্রমণ-২.jpg" alt="" class="wp-image-8702" width="365" height="522" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2023/10/ভ্রমণ-২.jpg 400w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2023/10/ভ্রমণ-২-210x300.jpg 210w" sizes="(max-width: 365px) 100vw, 365px" /></figure></div>



<p class="wp-block-paragraph">পঞ্চম দিন ছিলো আমাদের রিজার্ভ ডে! মানে Universal Studios Florida আর Island of Adventure at Universal Studios Orlando এর বাকী সব রাইড আর ভালো ভালো রাইডগুলো চড়ার প্ল্যান। দেরী করে রওনা দেওয়া হলো যেন সারাদিন পার্কে থাকা যায়। দুপুরে খাওয়ারও প্ল্যান হলো পার্কে!</p>



<p class="wp-block-paragraph">Universal studio তে ঢুকেই BLUE Brothers এর live শো দেখতে বসে গেলাম। বেশ কিছুক্ষণ মন্ত্রমুগ্ধের মতো গান শুনলাম। রাস্তার অন্যদিকে দেখি সালসা নাচ চলছে, গানের মাদকতার সাথে চলছে উত্তাল নাচ। আধা ঘন্টার মতো থেকে চলে গেলাম অন্যান্য রাইডের দিকে। চড়া হলো Fast and furious ride আর দেখা হলো ভয়ংকর মেকাপের কাড়িগড়ি। ফাঁকে আবার Dora the Explorer এর সাথে ছবিও তোলা হলো ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">গেলাম Adventure Park এর Harry Potter-Hogwarts অংশে। বাইরে থেকে বোঝার উপায় নাই যে ভেতরটা এতো সুন্দর। Harry Potter রোলার কোষ্টারে তিনবার চড়েছি, তারপরো জুনাইরাহ কাদতে কাদতে শেষ। প্রায় ঘন্টার উপরে থেকে আমরা Simpson রাইডে চড়ে চলে গেলাম লাঞ্চে। লাঞ্চ করে বিনি ভাবী, সানিয়াত ভাই, তিয়াশা আপু, নিঝুম আর তানিম ফেরত গেলো হোটেলে ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">খাওয়ার পর আরও রাইডে চড়ার ইচ্ছে থাকলেও আসলো বৃষ্টি। বৃষ্টিতে রইলাম আটকে, জানতাম না যে রাইড বন্ধ হয়ে যায় বৃষ্টিতে। সময় হয়ে গেলো প্রায় আটটা। অগত্যা world famous Donut কিনে ও খেয়ে হোটেলে ফেরা। এভাবেই শেষ হলো পঞ্চম দিনের সফর ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ষষ্ঠ দিন সক্কাল সক্কাল নিঝুম আর তানিম রওনা দিলো এয়ারপোর্টের দিকে । সানি ভাইয়া, বিনি ভাবী, তিয়া আপু’র গন্তব্য Universal studio . আর আমাদের গন্তব্য Disney Magic Kingdoms. ওনারা সবাই এর আগে ম্যাজিক কিংডম গেলেও আমাদের যাইনি। তাই অরলেন্ডো এসে না দেখে ফেরত গেলে আফসোস আরও বাড়বে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তাই, Uber করে হোটেল থেকে বিশ মাইল দূরে চলে গেলাম কাংখিত গন্তব্যে। মেইন গেট থেকে আবার শাটল ট্রেন দিয়ে নিয়ে গেলো পার্কে। পার্কে ঢুকেই দেখি স্টেজ শো। এলাহী কান্ড, কে নাই তাতে? মিকি, মিনি, গুফি, ডোনাল্ড ডাক, সিন্ডারেলা, রাপুন্জেল, এলসা,আনা আরো কত কে! নাচে গানে ভরপুর এক শো আর শেষে আতশবাজি। বিশ মিনিটের শো শেষ করে প্রথমেই গেলাম ভুতের রাজ্যে ভুত দেখতে। বেশ মজার সে রাইড।</p>



<div class="wp-block-image"><figure class="alignleft size-large is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2023/10/ভ্রমণ-৩.jpg" alt="" class="wp-image-8701" width="374" height="309" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2023/10/ভ্রমণ-৩.jpg 400w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2023/10/ভ্রমণ-৩-300x248.jpg 300w" sizes="(max-width: 374px) 100vw, 374px" /></figure></div>



<p class="wp-block-paragraph">তারপরে চলে গেলাম প্রিন্সেসদের রাজ্যে। ফেইরিল্যান্ডে 3D show দেখে মুগ্ধ সবাই। সিন্ডারেলা আর এলাইনা দের সাথে ছবি তোলা হলো। জুনাইরাহ তো প্রিন্সেসদের দেখে চরম খুশী। ওর কথাই শেষ হয় না ওদের সাথে। Winnie the Pooh এর রাইড চড়া হলো আর তারপরে দেখি ক্ষুধায় মাথা ঘুরছে। পার্কেই ফিশ এন্ড চিপস খেয়ে এনার্জি পেয়ে চললো আমাদের পরবর্তী অভিযান।</p>



<p class="wp-block-paragraph">জীবনে কতোই না প্যারেড দেখেছি তবে এইরকম অসাধারণ প্যারেড জীবনে কমই দেখা হয়েছে। দুপুরে লাঞ্চ করে দাড়িয়েছি প্যারেড দেখতে, তপ্ত রোদে নাকাল দশা। ‘কপোল ভিজিয়া গেলো সোয়েটিং এর জলে’ অবস্থা। রাস্তার দুই পাশে বসে শয়ে শয়ে মানুষ,অপেক্ষা প্যারেডের।</p>



<p class="wp-block-paragraph">মিউজিক শুরু হলো আর বাচ্চাদের মধ্যে তৈরি হলো শিহরণ। সে শিহরণ ছড়িয়ে গেলো বড়দের মাঝেও। সবাই যেন শিশু হয়ে গেলো। কার্টুন চরিত্র সবগুলো নেচে গেয়ে হাত নাড়তে লাগলো আর সবাই অভিভূত হয়ে ওদের দেখতে লাগলো। আশ্চর্য ভালোলাগার অনুভূতি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">প্রায় আধা ঘন্টার বেশি চলা প্যারেড দেখে সবাই একদিকে আনন্দিত আর অন্যদিকে নাকাল। চলে গেলাম জাহিনের ছোট্টবেলার ফেভারিট Buz lightyear এর রাইডে। ছবি তোলা হলো, সাথে কেনা হলো খেলনা।</p>



<p class="wp-block-paragraph">কার ট্রেকে জুনাইরাহ প্রথম গাড়ি চালালো। জাহিন আর জারাহ আলাদা আলাদা করে গাড়ি চালালো। বেশ আনন্দদায়ক ছিলো বিষয়টা। তারপর আমরা গেলাম মিনি মাউজ এর সঙ্গে দেখা করতে। দেখা সাক্ষাতের পরে ছবিও তোলা হলো। দেখতে দেখতে বেজে গেলো প্রায় আটটা। আস্তে আস্তে পার্ক ছেড়ে আসবার সময় হলো। এক আশ্চর্য বিষন্নতায় পেয়ে বসলো আমাদের। আল্লাহ বাচিয়ে রাখলে হয়তো আবার দেখা হবে সবার সাথে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">শেষদিনের সকালটা বিষাদের। সকালে হোটেল থেকে চেকআউট করার সময় সবারই মন খারাপ। গত সাতদিন ধরে হোটেল রুমটার প্রতি মায়া লেগে গেছে। জানালা খুললেই সুইমিংপুল দেখা যেতো আর প্রতিদিন রাত নয়টা থেকে এগারোটা ছিলো আমাদের সুইমিংপুল নাইট। জাহিন, জারাহ, মিকাইল, আদিয়ান, আলিফ আর জুনাইরাহ তো উঠতেই চাইতো না! জুনাইরাহ তো কান্নাকাটি লাগিয়ে দিতো প্রতিদিনই।</p>



<p class="wp-block-paragraph">অদ্ভুত সুন্দর সাতটা দিন কাটিয়ে আবারও ফিরে এলাম ‘শিশুদের স্বর্গ’ থেকে ‘মর্তলোক’ এ। যারা এতক্ষণ ধৈর্য ধরে ছবি দেখেছেন ও লেখা পড়েছেন তাদের সবাইকেই ধন্যবাদ। আমরা ঠিক করেছি সবাই মিলে ইনশাল্লাহ আরেকটা নতুন গন্তব্যে যাব সামনের বছর। তখন না আবার নতুন গল্প ফাঁদবো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ডা. পুলক। টরন্টো, কানাডা।</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>প্রবাসে পরহিতকর্ম -১০২</title>
		<link>https://probashikantho.com/2023/10/09/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ae-%e0%a7%a7%e0%a7%a6%e0%a7%a8/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 09 Oct 2023 21:17:28 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Travel]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=8693</guid>

					<description><![CDATA[আলবার্টার পথে পথে রীনা গুলশান আমাদের ছোট ছেলে রুম্মান চাকরীর কারণে তার পরিবারসহ আমাদের ছেড়ে ব্রিটিশ কলম্বিয়ায় চলে গেছে প্রায়]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph" style="font-size:25px">আলবার্টার পথে পথে</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>রীনা গুলশান</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">আমাদের ছোট ছেলে রুম্মান চাকরীর কারণে তার পরিবারসহ আমাদের ছেড়ে ব্রিটিশ কলম্বিয়ায় চলে গেছে প্রায় সাড়ে তিন বছর হয়ে গেল। তার বেড়ে উঠা মূলত টরন্টোতেই।</p>



<p class="wp-block-paragraph">২০১৯ এর শেষের দিকের ঘটনা। তখন আমি বাংলাদেশে গিয়েছিলাম প্রায় আড়াই মাসের জন্য। আমার নিজের বই এর প্রকাশনা এবং সমস্ত ‘বই মেলা’র আনন্দের নির্যাস টুকু চুষে নেবার জন্য। এবং ক্রেডিট পুরোটাই রায়হান, মানে আমার বড় ছেলের। সে নিজেও কুড়ি বছর পর বাংলাদেশে গিয়েছিল, মামনির বই প্রকাশনা উৎসবে। আমরা মার্চ এর ৮ তারিখ পর্যন্ত বাংলাদেশে ছিলাম, তারপর আমরা তিন মা/ বাপ/ বেটা, আরব আমিরাত ট্যুরে গিয়েছিলাম। রায়হান ই বলেছিল, প্রতিবার কেবল দুবাই, দেখে দেখে চলে আসো। কোন মানে হয় না। তাই সে সমগ্র আরব আমিরাতের প্রতিটি কোন দেখাতে নিয়ে গিয়েছিল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আর সেই সময় একদিন  আমার ছোট ছেলে রুম্মানের ফোন এলো, সে তার কাঙ্খিত জবটা পেয়ে গেছে। রুমু এতটাই উত্তেজিত ছিল যে, রীতিমত উত্তেজনায় চেচিয়ে কথা বলছিল। যদিও রুমু “লাইফ ল্যাবে” খুব ভাল পজিশনে জব করছিলো। তবু এই উত্তেজনা কেন? কারণ এটা SYSMEX কোম্পানি। জাপানি মালিকাধীনে, শিকাগোতে হেড অফিস। সারা পৃথিবীতে ছড়ানো এই কোম্পানির পরিব্যপ্তি। এরা মেডিকেল ইন্সট্রুমেন্টের টপ টু বটম সাপ্লাই করে। এবং নিজেদের দক্ষ কারিগর দিয়ে সেই সমস্ত মেসিনারিজ ইরেকসন করে। আমার ছেলে একজন মেডিকেল মাইক্রোবায়োলজিস্ট। হাসপাতালগুলো, ওদের কোম্পানির ইন্সট্রুমেন্ট কেনে। ওদের অফিসের ম্যাকানিকসরা গিয়ে সেগুলো ইনস্টলেশন করে। রুম্মান কম্পিউটার এর মাধ্যমে তাদের ইনসট্রাকসন দেয়। </p>



<div class="wp-block-image"><figure class="alignleft size-large is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2023/10/আলবার্টা.jpg" alt="" class="wp-image-8694" width="488" height="340" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2023/10/আলবার্টা.jpg 400w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2023/10/আলবার্টা-300x209.jpg 300w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2023/10/আলবার্টা-392x272.jpg 392w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2023/10/আলবার্টা-130x90.jpg 130w" sizes="(max-width: 488px) 100vw, 488px" /><figcaption>আলবার্টায় পর্বতমালার একটি দৃশ্য। ছবি : লেখক</figcaption></figure></div>



<p class="wp-block-paragraph">রুম্মানের জব স্ট্যাটাস হলো- Clinical Application specialist II at SYSMEX Canada Inc. এটা মূলত মেডিকেল Diagnostic company. এবং মূল জব হলো, Handling all project implementations in western Canada, BC, Alberta, Saskatchewan, and Territories</p>



<p class="wp-block-paragraph">যাই হোক তাকে প্রথম পোস্টিং দিল ব্রিটিশ কলম্বিয়ায়। রুমু ভ্যাঙ্কুভারে ঘর ভাড়া করলো। ওখানে ওরা দু বছর ছিল। কিন্তু ঐ সময় টাতেই শুরু হলো ঘন ঘোর তমশা ( করোনা)। ভ্যাঙ্কুভারে থাকা অবস্থায় রুম্মান SYSMEX এ সেরা পারফরমেন্সের জন্য ঐ বছরের (২০২০) সেরা  এ্যাওয়ার্ড পেলো। সমস্ত নর্থ আমেরিকার মধ্যে। এবং তারপরই রুম্মানকে চারটি প্রভিন্সের চিফ করে দিল। যেখানে আগে শুধু মাত্র ব্রিটিশকলম্বিয়ার হেড ছিল। ইন্টারেস্টিংলি, রুম্মানের ভ্যাঙ্কুভার ভাল লাগছিল না। আবাহাওয়া জনিত কারনে। তার মেঘলা আবাহাওয়ায় প্রচন্ড মাথায় যন্ত্রণা (সাইনাসের প্রবলেম) হচ্ছিল, প্লাস টিপ টিপ বৃষ্টিতে তার ড্রাইভ করতেও অসম্ভব ইরিটেশন  হচ্ছিলো। তার যেহেতু মাসের মধ্যে ৮/৯ বার হাসপাতাল পরিদর্শন করতে হয়। যদিও অনেক জায়গাতে প্লেনেও যায়। আবার ড্রাইভও করতে হয় প্রচুর। ড্রাইভ করতে গেলেই সে, সিঁক হয়ে পড়ছিল। দিনে দিনে সেটা সাইনাসের দিকে যাচ্ছিলো ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এরপরই রুম্মানের বাবা খন্দকার কাজিম বললো, তুই তাহলে আলবার্টার দিকে চলে যা। সেই মোতাবেক রুম্মান ক্যালগেরীর আবাহাওয়া দেখার জন্য, হলিডে ইন, এ দু মাস ছিল। তখন ক্যালগেরী তার ভাল লেগে যায়। এরপর একটা কন্ডো ভাড়া নিয়ে ছিল। এবং একই সময়  Carrington Close NW Calgary তে নিজের একটা বাড়ী অর্ডার করে বিল্ডারের কাছে। এবং বাড়ীটা পাবার কথা ছিল মার্চ মাসে। কিন্তু করোনার জন্য দেরী হয়েছে পেতে। ২৭ শে আগস্ট পেয়েছে চাবি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এবারে আর না বলার মত কোন বাধাই রইলো না। অতএব ২৮ সেপ্টেম্বর আমরা জীবনে প্রথম বারের মত ক্যালগেরীর মাটিতে পদার্পন করলাম WESTJET আকাশযানে। আমাদের ভীষণ অবাক করে দিয়ে WESTJET একদম পারফেক্ট টাইমে স্টার্ট করলো এবং একদম কারেক্ট টাইমে অবতরণ করলো। আমার লাগেজ ছিল একটি। দুটি ক্যারি অন। আমাকে যথাবিহিত ভাবে “হুইল চেয়ারে” করে একজন ফিলিপিনস মহিলা নিয়ে এলো, লাগেজ, যেখানে আসবে সেখানে। অনেক্ষণ অপেক্ষা করলো মহিলাটি। আমি অতপর তাকে বিদায় করে দিলাম। এখানেই মারাত্মক টুইস্ট এলো, আমাকে প্রবল ভাবে অবাক করে দিয়ে। রুম্মান আমাদের নিতে এসেছে Calgary international Airport এর বাইরে। আমরা ক্রমাগত দুজন দুজনার সাথে ফোনে কথা বলে, কনট্যাক্ট করে চলেছি। আমি ক্রমশ অবাক থেকে অবাক হয়ে চলেছি। আপনি ঠিক কতক্ষণ চিন্তা করতে পারেন, লাগেজের জন্য? সারা পৃথিবী পরিভ্রমণ করছি, আজ পর্যন্ত লাগেজের জন্য এতটা সময় অপেক্ষা করেছি বলে মনে পড়ছে না। এমন কি বাংলাদেশেও না। সেখানেও অবতরণ থেকে, লাগেজ রাউন্ড পর্যন্ত আসতে আসতে দেখেছি স্যুটকেস চলে আসে। খুবই অবাক করা ঘটনা, ৭/৮ টা করে সুটকেস রাউন্ডে আসছিল। জনগন অস্থির হয়ে পড়ছে। আমি না পেরে একটা বেঞ্চ এ বসে পড়লাম। দেখলাম পাশেই একটা অল্প বয়সি মহিলা (২৫/২৮) বসে গভীর মনোযোগ দিয়ে কোন বই পড়ছে। আমাদের এই সব অস্থিরতা তাকে মোটেই স্পর্শ করছে না। সে খুব গভীর মনোযোগে একটি বই পড়ছে। আমি একটু উকি দিলাম, দেখি ফাইনান্সের উপর একটি বই পড়ছে। আমার তাকানো দেখে হেসে বললো, ঃচিন্তা করো না, আরাম করে বসো, লাগেজ পেতে এখনো ঘন্টা খানেক লাগবে!</p>



<p class="wp-block-paragraph">ঃ বলো কি? অলরেডী এক ঘন্টা হয়ে গেছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ঃ এখন তো খুব ভাল, দেড় থেকে দুই ঘন্টার মধ্যে পাওয়া যায়, বছর ৫/৭ আগে ৩/৪ ঘন্টা লাগতো। বলেই হেসে বলো ঃ আমি স্টেফেনি। এখানকার স্থানীয়। আমার হাসবেন্ড কে রিসিভ করার জন্য বসে আছি, সে টরেন্টো তে গিয়েছিল একটা মিটিং এ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমি আমার নাম বলে বললাম, আমি টরেন্টো থেকে এসেছি, ছেলের কাছে বেড়াতে। স্টেফানির সাথে কথা বলে অনেক মজা পাচ্ছিলাম। তার আর আমার পছন্দে&nbsp; প্রচুর মিল ছিল। বিশেষত বই এবং লেখকদের নিয়ে। বেশ অবাক হচ্ছিলাম। আমার আর ওর প্রচুর কমন লেখক ছিল। মজার ব্যাপার, আমাদের দুজনেরই অতি প্রিয় লেখক, শেকসপিয়ার। তার লেখার বিখ্যাত কয়েকটি পংত্তি, এক সাথে বললাম। নিজেই এত মজা পেলাম। ছোট বেলার মত হাত তালি দিয়ে উঠলাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এরই মধ্যে হঠাৎ, ওর হাসবেন্ড, “কাবাব মে হাড্ডি”র, মত সামনে উদয় হলো। বললো তার লাগেজ পেয়ে গেছে। আমরা দুজন দাড়িয়ে, দুজন দুজনাকে হাগ করলাম। তার হাসবেন্ডের সাথেও আলাপ হলো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">কিছুক্ষণের মধ্যে আমাদের লাগেজও চলে আসলো। অতঃপর, অপেক্ষারত রুম্মানের গাড়িতে উঠে পড়লাম। তখনও দিনের আলো যথেষ্ট ছিল। রুম্মান, আমাদের প্রয়োজনের তুলনায় বেশ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে আনছিল। ক্যালগেরী শহর টা দেখাচ্ছিল। অসম্ভব ফাঁকা ফাঁকা লাগছিল। কেমন যেন এক একটা রেসিডেন্স এরিয়া অনেক দূরে দূরে। সব থেকে মজার ব্যাপার আরো অনেক পরে জানলাম। অন্টারিও বা টরেন্টোর মত প্রত্যেকটা এরিয়ার আলাদা আলাদা করে নামকরণ নাই। এখানে চারটে নামকরণের মাধ্যমে টোটাল ক্যালগারীকে চেনা যায়। যেমন- North East, North West, South East, South west  .</p>



<p class="wp-block-paragraph">যেমন North East থেকে North west এর দূরত্ব অনেক। আমার ছেলে আগে রেন্ট করে একটা কন্ডো তে থাকতো। সেটা South East.</p>



<p class="wp-block-paragraph">একসময় ছোট ছেলের বাড়িতে এলাম। একদম নতুন গাড়ীর মত এরা বাড়ীও (মানে মেইন দরোজা টা) সুন্দর আকাশী রঙের চওড়া সার্টিনের ফিতা দিয়ে একটা “বো” করে দিয়েছে। আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিল ছেলে। “বো”  টা কাটেনি। বাপীর জন্য অপেক্ষা করছিল। আমরা আসার পর বো কাটা হলো। Ashley, homestore থেকে দুটি সোফা শুধু কিনেছে। বাকী সব ফার্নিচার, অর্থাৎ সব বেডরুম সেট আমাদের নিয়ে অর্ডার দিয়ে এলো। আর যেহেতু আমি এসেছি, তাই পেইন্টিং না কিনলে কি হয়?  তিনটি পেইন্টিং কেনা হলো। যদিও এখনও সাপ্লাই আসেনি। যাই হোক, টুকটাক ঘর গোছানো হচ্ছে। এর মধ্যে কাজিম খন্দকার, এসেই বেইজমেন্ট বানানোর কাজ শুরু করেছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমি দু/ তিন দিনের মধ্যে বের হতে চাইছিলাম না। একেবার তাই ঠিক হলো, শুক্রবার আসে পাশে একটু ঘুরবো। তারপর “ব্যানফ” এ যাবো, শনি/রবিবার। ততোদিন নতুন জায়গায় শরীর টাকে ধাতস্থ করতে হবে। আসবার পর থেকে কিয়ারা’র (রুম্মানের কন্যা, ৬ বছর তার বয়স) অভিমান ভাঙ্গাচ্ছি। তার জন্ম, সাড়ে তিন বছর বয়স পর্যন্ত বেড়ে ওঠা, সম্পূর্ণ আমাদের হাতে। তাকে কিছুতেই বোঝানো যায় না যে, ওকে ছেড়ে, আমরা চলে আসিনি। সেই ই আমাদের ছেড়ে চলে এসেছে। কিয়ারার দাদা, তাকে ক্রমাগত আদরে আদরে, তার উষ্ণ অভিমানকে দ্রবিভূত করবার প্রয়াসে ব্যস্ত হয়ে উঠলো। (চলবে)</p>



<p class="wp-block-paragraph">রীনা গুলশান, টরন্টো</p>



<p class="wp-block-paragraph">gulshanararina@gmail.com</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>প্রবাসে পরহিতকর্ম -১০১</title>
		<link>https://probashikantho.com/2023/06/11/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ae-%e0%a7%a7%e0%a7%a6%e0%a7%a7/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 11 Jun 2023 14:21:39 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Travel]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=8303</guid>

					<description><![CDATA[ইউরোপের পথে পথে রাতে বাড়িতে এসে ডিনার করে, বাচ্চা দুটোকে ঘুমাতে পাঠিয়ে দিল তিন্নি। এরপর আমাদের আড্ডা চললো। এসব আড্ডা]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="has-vivid-red-color has-text-color wp-block-paragraph" style="font-size:24px">ইউরোপের পথে পথে</p>



<p class="wp-block-paragraph">রাতে বাড়িতে এসে ডিনার করে, বাচ্চা দুটোকে ঘুমাতে পাঠিয়ে দিল তিন্নি। এরপর আমাদের আড্ডা চললো। এসব আড্ডা অন্যরকম। না দেখার শূন্যতাগুলো ভারিয়ে দেওয়া। দীর্ঘ দিন/রাত্রী পর আমাদের এই দেখা। অতএব কবে, কখন, কোথায় এসব চললো আড্ডায়। কখনো ভাবিইনি এদের সাথে এই ভাবে তাদের আলয়ে দেখা হবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">‘কথা কি শেষ হয়ে যায়? &#8211; সব কথা?</p>



<p class="wp-block-paragraph">নাকি বুকের ভেতরে সব অসমাপ্ত ইচ্ছার মত</p>



<p class="wp-block-paragraph">দ্বিধাগ্রস্ত জেগে থাকে বুকে নিয়ে বিনিদ্র রাত</p>



<p class="wp-block-paragraph">জেগে জেগে নিজেকে দ্যাখে ভীষণ উৎসাহে??’</p>



<p class="wp-block-paragraph">রাত প্রায় তিনটার দিকে ঘুমাতে যাওয়ার সময় রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ’র কবিতার লাইনগুলো ভাবছিলাম। কথাগুলো শেষ হয়ে যায় না। মানুষের মস্তিষ্কের মধ্যে গোটা সময় চলতে থাকে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আগামীকাল আবার ৯টার মধ্যে বের হতে হবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">পরদিন সকালে পারোটা, ডিমভাজি, ভুনা মাংশ, হালুয়া সব খেয়ে সবাই রেডি হলাম। পাশেই আমাদের এক আত্মীয়া বারবার বলছিলেন, তার বাসায় একটু বেড়াতে। গেলাম। আগেই বলে রেখেছিলাম তার বাসায় লাঞ্চ করবো না। তো উনি টেবিল ভরে নাস্তা দিল, যা লাঞ্চের থেকে বেশী হয়ে গেল। আবার আমাকে একটা গিফটের প্যাকেটও ধরিয়ে দিল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তারপর আবার আমরা রওনা দিলাম। নাসির আজ আমাদেরকে ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরটিকে ঘুরিয়ে দেখাবে। তারপর আবার সেন্টার এ নেমে যাব। ওখানকার একটা মলে একটু কেনাকাটা করবো এবং ওখানেই ডিনার সারবো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">বিশেষ বিশেষ জায়গাগুলোয় একটু থেমে তারপর আবার চলা। এভাবেই মোটমুটি একটা চক্কর মারা হলো। ইউরোপে যতগুলো শহর দেখলাম তার মধ্যে ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরটা একটু আলাদা। রাস্তাগুলোও মোটামুটি ভালই। গাড়িগুলো ঠিক ঠাক।</p>



<p class="wp-block-paragraph">অতপর আমরা সেন্টার এ চলে এলাম। এদিন আবার টিপটিপ বৃষ্টি পড়ছিল। সবাই একটু একটু ভিজে গেল। আমরা মোটামুটি দৌড়ে দৌড়ে মলের মধ্যে ঢুকলাম। MyZeil shopping center । দারুন সাজিয়েছে। ক্রীসমাসের আর দুই দিন আছে। তাই উপচে পড়া ভিড়। মলের ভিতরে দরুণ সাজিয়েছে। প্রথমে বেশ ঘোরাঘুরি করলাম। যাকে বলে উইন্ডো শপিং।</p>



<div class="wp-block-image"><figure class="alignleft size-large is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2023/06/ভ্রমণ.jpg" alt="" class="wp-image-8304" width="493" height="360" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2023/06/ভ্রমণ.jpg 400w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2023/06/ভ্রমণ-300x219.jpg 300w" sizes="(max-width: 493px) 100vw, 493px" /><figcaption>জার্মানী’র ফ্রাঙ্কফুর্ট সেন্টার এ লেখক ও অন্যান্যরা। ছবি : লেখক</figcaption></figure></div>



<p class="wp-block-paragraph">একটু পরই তিন্নি, মাহিন আর রায়হান বিভিন্ন দোকানের ভিতরে শপিং করতে গেল। আমি নাসির আর কাজিম রেলিং এর ধারে দাড়িয়ে গল্প করতে করতে টিপটিপ বৃষ্টি দেখছিলাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">রায়হান বাচ্চা ও বৌ এর জন্য কিছু গিফট কিনছিল। আমিতো কিছু কিনবো না। রাত প্রায় ৮ টার দিকে বেরিয়ে একটি রেস্টুরেন্টে ঢুকলাম। বেশ অভিজাত রেস্টুরেন্ট। ইটালিয়ান। আজ রায়হান খাওয়াবে। আমরা দুজন সব কিছু ভেজিটারিয়ান নিলাম। রাত প্রায় ১০টা বেজে গেল। বাসায় যেতে যেতে ১২টার মত বাজলো। যাবার সময় আবারও একটু আড্ডা মারার পর গাড়িতে উঠলো সবাই। আমি আবার চিন্তা করছিলাম, সাকাল সাড়ে ৮টায় ট্রেন। রায়হানের অন্য রুট। কারণ সেতো আমাদের সাথে আসেনি। সে যাবে ডাইরেক্ট লন্ডন। তারপর টেক্সাস।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমরা এভাবেই রুট পছন্দ করেছিলাম। আমরা জার্মানী থেকে ব্রাসেলস যাবো, সেখানে আমাদের দেড় ঘন্টার একটু বেশী আপেক্ষা করতে হবে। তো মিঠুর সাথে এ ব্যাপারে কথা হয়েছে। সে বললো, সে আসবে এবং আমাদের নিয়ে বের হয়ে যাবে। যদিও এ ব্যাপারে আমি সহমত পোষণ করিনি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">যাইহোক খুব ভোরেই ফজরের নামাজ পড়েই ঝট করেই রেডি হয়ে নিলাম। তিন্নি ঐ ভোরেই একগাদা খাবার টেবিলে সাজিয়ে রেখেছিল। অত ভোরে কি কিছু খাওয়া যায়? তবু তিন্নির বানানো অসম্ভব সুন্দর চায়ের সাথে একটু ‘টা’ খেয়েই মোটামুটি নীচে নামতে শুরু করলাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">দু’চোখ ভরে কান্না নিয়ে ভাগনী আর ভাইজিকে জড়িয়ে বিদায় নিলাম। নাসিরের জন্যও খুবই খারাপ লাগছিল। আমি এত ভদ্র মানুষ খুব কম দেখেছি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">যাইহোক, ট্রেন চলতে শুরু করলো। শহরের বাতাবরণ খুব শিঘ্রই চলে গেল। এরপর সব মনোরম দৃশ্য। সুইজারল্যান্ডের মত ঠিক ওরকম &#8211; দু’পাশে পাহাড় আর লেকের সারি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">খুব জলদিই চলে এলাম ব্রাসেলস রেলওয়ে স্টেশনে। সেই পরিচিত স্টেশন। নামতেই দূর থেকে মিঠুর পরিচিত অবয়ব দেখতে পেলাম। সে আমাদের নিয়ে একটি সুন্দর চেয়ার টেবিল ঘেরা জায়গাতে বসালো। বাচ্চাদের মত আনন্দে উদ্ভাসিত সে। হাতে দেখলাম বড় সড় প্যাকেট। আমি বললাম, তোর হাতে কি? সে বললো, লাঞ্চের প্যাকেট।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সেকি তুই বাইরে যাবি না?</p>



<p class="wp-block-paragraph">সে বললো- না। কারণ ভেবে দেখলাম, একবার বের হলে যদি টাইমলি পৌছাতে না পারি, তাহলে খুব প্রব্লেম। কারণ লন্ডনে যাবার এটাই লাস্ট ট্রেন। পরে আপনারা ঝামেলাতে পড়বেন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমি জার্মানী থাকতেই এই কথা বলেছিলাম। মিঠুও সম্ভবত বুঝেছে, সত্যিই বাইরে যাওয়া ঠিক হবে না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">কিছুক্ষণ গল্প করেই খাবারের উপর মোটামুটি ঝাপিয়ে পড়লাম। খুবই ক্ষুধার্থ ছিলাম। দেখি আমার খুবই প্রিয় মরক্কোর সেই রেস্টুরেন্ট থেকে শর্মা নিয়ে এসেছে। এখনও বেশ গরম। খুব মজা এবং তৃপ্তি করে খেলাম আড্ডা দিতে দিতে। ব্রাসেলস এ আমাদেরকে মোট আড়াই ঘন্টা অপেক্ষা করতে হবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">অবাক কান্ড, আড়াই ঘন্টা মনে হলো এক পলকেই শেষ হয়ে গেল। দেখলাম আমাদের ইউরোস্টার ট্রেন এসে গেছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এখন টানা ব্যাগ নিয়ে রওনা দিব। মিঠুর হাউমাউ কান্না। আমিও নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি। খালাতো ভাই হলেও, আমরা পিঠেপিঠি বিধায়, খুবই প্রিয় এই ভাইটি আমার। কতকাল পরে দেখা হলো। আবার ওকে দেখতে পাবো কিনা তাও জানিনা।</p>



<p class="wp-block-paragraph">কাঁদতে কাঁদতে লন্ডনগামী ইউরোস্টার এ উঠে পড়লাম। ঠিক দুই ঘন্টা ৫/১০ মিনিটেই পৌছে যাবে। আসবার সময় অসম্ভব উুুুৎফুল্ল হয়ে এসেছিলাম, যাবার সময় ততোটাই মৃয়মান হয়ে যাচ্ছি। এই অপরূপ সৌন্দর্য, মিঠুর সব কিছু হয়তো আর কোনদিন দেখতে পাবো না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">মনটা খুব খারাপ লাগছিল, তাই কখন যে সেন্ট পেনকার্স ইন্টারন্যাশনাল রেলওয়ে স্টেশনে পৌছে গেছি টেরই পাইনি। এবার একদম হুড়োহুড়ি করে নেমে পড়লাম। তবে যেহেতু এটা ইন্টারন্যাশনাল স্টেশন, প্রচন্ড ব্যস্ত। বেশ কিছুটা পথ হাটতে হলো। তারপর আমাদের প্লাটফর্মে চলে এলাম। এবারে ইস্ট হ্যাম এর ট্রেন এর অপেক্ষায়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">যাইহোক বাসায় যেতে যেতে বেশ রাত হলো। একটু খারাপ লাগছিল। মরুব্বীদের জন্য বেশ রাত। বাসার কাছে যেতে যেতে দেখছিলাম, বেশ দূর থেকেই দুটি ছায়া। ওমা, কাছে যেতেই দেখি মাজেদা আপা আর আয়াত দুলাভাই দাঁড়িয়ে আছে আমাদের জন্য। পাছে আমাদের কালিংবেলের শব্দে নীচের তলার ভাড়াটেদের ঘুম নষ্ট হয়, তাই দাঁড়িয়ে আছে। আমাকে দেখে আপা জড়িয়ে ধরলো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">দোতালায় গিয়ে দেখি ডাইনিং টেবিলে আমাদের প্রিয় সব মেনু রান্না করে আমাদের অপেক্ষায় বসে ছিল। এমনকি পিঠাও বানিয়েছে। এই সব ভালবাসার জন্য পৃথিবীটা আজও এত সুন্দর। কতকাল পরে আপা/দুলাভাইকে দেখেছিলাম, তবু মনে হয়নি সেটা। প্রতি মুহুর্তে মনে হয়েছে, প্রতিনিয়ত দেখা শুনা।</p>



<p class="wp-block-paragraph">খুব মজা করে চারজন এক সাথে খেলাম। পরদিন আমাদের কোন প্রোগ্রাম নাই। কেবল আশেপাশে একটু ঘুরবো। যাইহোক বেশ দেরীতেই ঘুমাতে গেলাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">পরদিন একটু দেরীতেই ঘুম থেকে উঠলাম। সকালের নাস্তা যদিও একসাথেই খেতে বসলাম। তখন হঠাৎ আয়াত দুলাভাই বললো, আগামীকাল এয়ারপোর্টে কেমন করে যাবে?</p>



<p class="wp-block-paragraph">কেন দুলাভাই, যে ভাবে এসেছিলাম। প্রথমে সাবওয়ে। তারপর ভিক্টোরিয়া ট্রেনে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমার মনে হচ্ছিল তোমরা জানো না। তাই প্রশ্নটা করলাম। আগামীকাল ২৫ ডিসেম্বর, ইংল্যান্ডের সমস্ত সরকারী পরিবহন বন্ধ থাকবে। শুধু প্রাইভেট পরিবহনগুলো চালু থাকবে। এটাই এদেশের নিয়ম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমাদের দুজনের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লো। আমরাতো সব পরিকল্পনা করেই রেখেছি, কিভাবে কোন রুটে যাবো এয়ারপোর্টে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এখন কি হবে? পৃথিবীর অন্য কোথাও তো এই ব্যাপারটা নাই। কানাডা, আমেরিকা কোথাও নাই।</p>



<p class="wp-block-paragraph">যদিও ইস্ট হাম থেকে এয়ারপোর্টের দূরত্ব অনেক বেশী, তবু অমরা দুজনই সিদ্ধান্ত নিলাম, টেক্সি ভাড়া করবো। আগেই দেখেছিলাম সাবওয়ে স্টেশনের পাশেই টেক্সি অফিস। আমরা সোজা ওখানেই গেলাম। কথা বললাম ম্যানেজারের সাথে। উনি টেবিলের উপর বড় খাতা দেখে বললো, আমাদের কোন টেক্সি খালি নাই।</p>



<p class="wp-block-paragraph">মানে কি? এটা কেমন কথা? উনি কাজিমকে খাতা দেখালো, সত্যিই ওদের সাড়ে তিন শ</p>



<p class="wp-block-paragraph">টেক্সি সব বুকড। আমরা খুব মিনতি করলামা। তখন উনি বললেন, যদি কেউ ক্যান্সেল করেন, ফর সিওর, আপনাদের ওটা দিব।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমার মাথা প্রায় খারাপ। আমিতো প্রায় কেঁদে ফেলবার মত অবস্থায়। বাসায় গিয়ে সব বললাম। তার আগে একটু বাাজর করলাম। ড্রাইফুড (চিপস, নাট, বিস্কিট ইত্যাদি) কিনলাম প্লেনের জন্য। আসবার সময়ের তিক্ত অভিজ্ঞতার জন্য।</p>



<p class="wp-block-paragraph">বাসায় যেয়ে দুলাভাই আপাকে সব বললাম। আপা কার কার সাথে কথা বললেন। উপায়ন্তর না দেখে মেজ মামামাকে ফোনে সব বললাম। যদিও জানি মামা অনেকদিন থেকেই গাড়ি চালায় না। তখন হাফিজা মামী সব শুনে আমায় বললো, দেখিস যদি আর কোন ব্যবস্থা না করতে পারিস তো আমি দিয়ে আসবো। আমি ঠিক আছে বলে ফোন রেখে দিলাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">কিন্তু কাজিম জোর আপত্তি করলো। সত্তর প্লাস বয়স মামীর। উনি উইম্বলডন থেকে ইস্টহামে এসে আমাদের পিক করবে এবং তারপর আবার গেটউইক এয়ারপোর্টে যাবে, আবার ফিরে আসবে। কি বল, এটা সম্ভব? দরকার হয় রাতেই হেটে রওনা দিব।</p>



<p class="wp-block-paragraph">যাইহোক, যার কথা চিন্তার মধ্যেই আসেনি, সেখান থেকেই সাহায্যের হাত এলো। আপার বড় ছেলে সাজ্জাদ। কারণ আমি জানি যে, ওর জবে এলোমেলো ডিউটি হয়। তাই ওর কথা মাথায়ই আসেনি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">কিন্তু মাজেদা আপা বলতেই সাজ্জাদ বললো, কালতো আমার ডিউটি নাই।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ইয়া আল্লাহ! শুকর&#8230;আলহামদুলিল্লাহ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সাড়ে ১২টায় ফ্লাইট। অতএব ফজরের নামাজ পড়েই রেডি হলাম, মাজেদা আপা অনেক কিছু টেবিলে সাজিয়েছে। টুকটাক খেলাম এবং চা খেলাম। সাজ্জাদ চলে এলো। আপা ব্যাগে প্রচুর খাবার দিলো। আমরাও কিনেছিলাম। একটা হাতব্যাগে সব নিলাম। এছাড়া কোন লাগেজ নাই। দুটোই ক্যারিঅন। পার্স, সেটাও ছোট।</p>



<p class="wp-block-paragraph">চলে যাবার সময় হলো, সাড়ে সাতটায় রওনা দিব। যেতে লাগবে ১ ঘন্টা ১০/১৫ মিনিট। যাবার আগে আপা জড়িয়ে ধদের কেঁদে ফেললো। দুলাভাই আমাদের সাথেই চললো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">গেটউইক এয়ারপোর্টে নামিয়ে দিয়েই চলে গেল না সাজ্জাদ। সেই একেবারে শেষ পর্যন্ত এলো। আমি সাজ্জাদকে শুধু এইটুকু বললাম, বেটা, জীবনেও তোমার ঋণ ভুলতে পারবো না। সে মিষ্টি করে হেসে বললো, খালা এটাতো আমার কর্তব্য। মাজেদা আপার চারটা বাচ্চাই অসম্ভব ভালো। আবার সাজ্জাদের বৌ প্রিয়া-ও খুব ভাল মেয়ে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">অবশেষে আমাদের প্রিয় কানাডায় অবতরণ করলাম। এয়ারপোটের তরণী পার হয়ে বাইরে বের হলাম। দেখলাম গোটা এয়ারপোর্ট এবং টরন্টো নববধুর সজ্জায় (২৫ ডিসেম্বরে বড়দিনের সাজ) আমাদের বরণ করে নিল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আহ্! গভীর নিঃশ^াস নিলাম। নিজের শহর, নিজের। অন্যরকম একটা অনুভূতি। বাইরে বের হয়ে দেখি ছোট দুই বোন, শরবত আর রিঙ্কু’র জামাই ফিরোজ ভাই এবং জুয়েল গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">দিনের আলো তখনও নির্বাপিত হয়নি। সেই আধো আলোর, পড়ন্ত সূর্যকে গভীর ভাল লাগায় অবলোকন করছিলাম। অসম্ভব ভাললাগায় মন ভরে গেল Ñ</p>



<p class="wp-block-paragraph">“তবু শেষমেশ একটি নীলাভ প্রজাপতি জন্যও</p>



<p class="wp-block-paragraph">যে যার স্মৃতির ফ্রেমে</p>



<p class="wp-block-paragraph">কষ্টকে বাঁধিয়ে রাখেÑ</p>



<p class="wp-block-paragraph">হাত বাড়ালেই ফুটে থাকা রক্তিম গোলাপ</p>



<p class="wp-block-paragraph">তবু যে যার কাঁটার কাছে</p>



<p class="wp-block-paragraph">ফিরে যায় একদিন,</p>



<p class="wp-block-paragraph">একদিন যে যার নিঃসঙ্গতার কাছে॥</p>



<p class="wp-block-paragraph">(রুদ্্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ)</p>



<p class="wp-block-paragraph">সমাপ্ত&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">রীনা গুলশান, টরন্টো</p>



<p class="wp-block-paragraph">gulshanararina@gmail.com</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>প্রবাসে পরহিতকর্ম -১০০</title>
		<link>https://probashikantho.com/2023/04/09/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ae-%e0%a7%a7%e0%a7%a6%e0%a7%a6/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 09 Apr 2023 15:43:23 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Travel]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=8062</guid>

					<description><![CDATA[ইউরোপের পথে পথে রীনা গুলশান (জনপ্রিয় কবি, ঔপন্যাসিক ও কলামিস্ট রীনা গুলশান প্রবাসী কণ্ঠ ম্যাগাজিনের প্রায় জন্ম লগ্ন থেকেই ‘প্রবাসে]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="has-vivid-red-color has-text-color wp-block-paragraph" style="font-size:24px">ইউরোপের পথে পথে</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>রীনা গুলশান</strong></p>



<p class="has-vivid-green-cyan-color has-text-color wp-block-paragraph">(জনপ্রিয় কবি, ঔপন্যাসিক ও কলামিস্ট রীনা গুলশান প্রবাসী কণ্ঠ ম্যাগাজিনের প্রায় জন্ম লগ্ন থেকেই ‘প্রবাসে পরহিতকর্ম’ নামে একটি কলাম লিখে আসছেন। চলতি সংখ্যায় তার কলামের শতমাস পূর্ণ হলো। অর্থাৎ বিগত ১০০ মাস ধরেই তিনি তার জনপ্রিয় কলামটি লিখে আসছেন। তার এই অক্লান্ত প্ররিশ্রম, প্রবাসী কণ্ঠ ও এর পাঠকদের প্রতি তার অপরিমেয় ভালবাসার কথা আমরা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করছি। আমরা প্রবাসী কণ্ঠ পরিবারের পক্ষ থেকে রীনা গুলশানকে সশ্রদ্ধ অভিনন্দন জানাচ্ছি এবং তার দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করছি । &#8211; সম্পাদক)</p>



<p class="wp-block-paragraph">‘আমি একদিন পাখি হবো &#8211;</p>



<p class="wp-block-paragraph">একলা আকাশে একলা ডানায় চুপটি করে পাড়ি দিব।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সঙ্গে নিবো গোপন কথা</p>



<p class="wp-block-paragraph">ছোট্র বুকের বিশাল ব্যাথা</p>



<p class="wp-block-paragraph">ডানায় ডানায় মেঘের ভেতর সেসব কিছু ছড়িয়ে দেব।’</p>



<p class="wp-block-paragraph">সরব আড্ডার মধ্যে কবিতার পংক্তি মাথার মধ্যে ঘুরছিল। যদিও মাহিন, তিন্নি আর রায়হানের গল্প, স্মৃতিচারণের আনন্দ এক একবার চিৎকারের পর্যায়ে চলে যাচ্ছিল। আশপাশের জনগণ চকিত হচ্ছিল। তাতে করে ওদের আড্ডা একটুও বিড়ম্বিত হচ্ছিল না। নাসির আমি আর কাজিম, আমাদের বিষয়ান্তিক আলোচনায় মগ্ন ছিলাম। এর মধ্যেই ‘মিউজিয়াম ইন ফ্রাঙ্কফুর্ট’ এর দোড় গোড়া চলে এলো। সবাই হৈ চৈ করতে করতে ঢুকলোও। এবারে সবাই চুপ হয়ে গেল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এক অতি প্রাচীন সভ্যতার কাছে এসে মানুষ কেমন যেন মুক হয়ে যায়। এই মিউজিয়ামটির স্থাপত্যটি অসম্ভব পুরাতন মনে হচ্ছিল। অনেকটা বেলজিয়ামের ব্রুজেস শহরটির মত। এখানেও সেই সমৃদ্ধময় পূরাতন ঘ্রাণ। আমি আমার সমস্ত ইন্দ্রিয় দিয়ে তার সুবাস টেনে নিলাম আমার অস্তিত্বে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">গোটা ইউরোপের মিউজিয়াম অথবা আর্ট গ্যালারি সব কিছুরই ধাচ অনেকটা একই ধরণের। অত্যন্ত পুরাতন। এবং অসম্ভব সমৃদ্ধ। এখানে আসলে মনে হয় ‘ইতিহাস’ এর সামনে এসে দাঁড়ালাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তবে আগেই বলেছি প্যারিস এর মত এই মিউজিয়ামটি ছিল না। এটাতে সত্যিকার অর্থেই শ্বাশ্বত কালের গন্ধ ছিল। এর বিল্ডিং এর ডিজাইন-ই শুধু নয়, এর সাজানোর ভঙ্গিটিও তাই।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ঐতিহাসিক প্রচুর মাস্টার পিসে সমৃদ্ধ এই মিউজিয়ামটি। তবে প্রায় বেশীর ভাগ শো পিস-ই দেখলাম কাঁচের ঘেরা টোপে। এদের কর্তৃপক্ষ বেশ সচেতন। ব্রিটেনের মিউজিয়ামে যেমন বেশীর ভাগ জিনিষই খোলা মেলা। তবে জার্মানীতে মিউজিয়ামগুলো ভাগ করে করে দিয়েছে। তাই অনেকেই ঠিক যেটা নির্দিষ্ট করে দেখতে চাইবেন, সে সম্ভব হবে না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এই মিউজিয়ামে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অনেক কিছু ছিল। আবার বিখ্যাত সব আর্টিস্টদের বেশ কিছু মাস্টারপিসও আছে। আবার কয়েকটি কক্ষে মডার্ন আর্টও আছে। অনেক গুলোতে চোখ এর সাথে পা ও আটকে যাচ্ছিল। বরাবরের মত আর্ট এর দিকেই আমাকে টানছিল। এবং রায়হান সেটা জানে। তাই চুপি চুপি বললো, তোমাকে আবার তোমার প্রিয় আর্টের শহর আর্টের গ্যালারিতে নিয়ে যাবো, মানে প্যারিসে। আমি খুব হাসলাম। আসলে আমার প্রথম সন্তান তো, অনেকটাই বন্ধুর মত। আমাকে বেশ ভাল বোঝে।</p>



<div class="wp-block-image"><figure class="alignleft size-large is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2023/04/কলাম-পিক৪.jpg" alt="" class="wp-image-8063" width="458" height="270" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2023/04/কলাম-পিক৪.jpg 400w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2023/04/কলাম-পিক৪-300x177.jpg 300w" sizes="(max-width: 458px) 100vw, 458px" /><figcaption>দি ফ্রাঙ্কফুর্ট ইউনির্ভার্সিটি লাইব্রেরী। ছবি : লেখক</figcaption></figure></div>



<p class="wp-block-paragraph">যাইহোক, এক যাত্রায় দুটি মন ভাল দেখায় না। তাই নিজেকে বেশ খানিকটা জোর করেই মিউজিয়াম থেকে বের করে আনলাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">মিউজিয়াম থেকে বের হতেই সবার আবারও ক্ষুধার উদ্রেক হলো। তাই পাশেই একটা ‘ফুটপাতেই’ রেস্টুরেন্ট থেকে সবাই একটা করে কফি নিল। আমি অবশ্য কফি নিলাম না। সকাল থেকে দু’বার কফি খাওয়া হয়েছে। তাই ছোট একটা চিপস এর প্যাকেট নিলাম। আর কাজিমতো কফির পরই একটা সিগারেট ধরাবেই। এবারে আমাদের টার্গেট ছিল মাইন নদীর বেশ কাছে ‘শো পিস’ স্টোরে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এইসব স্টোর সাধারণত কোন মলের মধ্যে থাকে। কিন্তু বেশ বৃহৎ এই স্টোরটি ‘সেন্টার’ এ এবং মাইন নদীর তীরেই। তাই প্রচুর ভিড়। কারণ কোন টুরিস্ট যদি কোন মলে নাও যেতে চায় তাহলে টুরিস্ট স্পটে এই ‘সেন্টার’ থেকেই টুকটাক শপিং করে নিতে পারবে। বেশ ভিড় স্টোরটিতে। এখান থেকে কেউ শপিং করবে না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">জাস্ট জার্মানীর ঐতিহ্যবাহী টুকটাক শো-পিস। আমি প্রথমে কিছুটা ঘুরে ঘুরে দেখলাম। একটি ২০/২১ বছরের ছেলে আমার কাছে এসে বললো, এটা ভাল, ওটা নিতে পারো। আমি ‘হুম’ বলে দেখে যাচ্ছিলাম। কারণ আমার ব্যক্তিগত মতাদর্শ হলো, ট্যুরে গিয়ে শপিং করতে হয় না। আমি জার্মানীর ঐতিহ্যবাহী দুইটা শো পিস নিলাম। একটা রুম্মানের জন্য, অন্যটি আমাদের জন্য। নাসির আর মাহিন বেশ কিছু শো পিস কিনলো, আমি জানি সেগুলো সব রায়হানের জন্য। রায়হানকে কিছু কিনতেই দিল না। বেশ কিছু শাপিং করে আমরা বের হলাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এরপর আমি বললাম, দি ফ্রাঙ্কফুর্ট ইউনির্ভার্সিটি লাইব্রেরী’ টা কতদূর? নাসির বড় বড় চোখ করে আমার দিকে তাকিয়ে রইলো। ভাবখানা এই যে, এটা আবার দেখার কোন বিষয় হলো? ট্যুরে এসে কেউ লাইব্রেরী দেখে? আমি বললাম-আমি ওটা দেখতে চাই। তখন ওরা বললো, ঠিক আছে চলেন যাই। ঘন্টা খানেক হাটার পথ ছিল সেটি। আমি প্রচুর নাম শুনেছি এর। অতএব চলে এলাম সেই বিখ্যাত ইউনিভার্সিটি লাইব্রেরীতে। ভেবেছিলাম আমি ছাড়া কেউ নাই। আমাকে ভুল প্রমাণিত করে দেখলাম, প্রচুর মানুষের সমাগম। অবশ্য তার মধ্যে স্টুডেন্ট এর সংখ্যাই বেশী মনে হলো। আবার দর্শনার্থীর সংখ্যা নেহায়েত অপ্রতুল নয়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এই লাইব্রেরীর প্রচুর নাম আমি শুনেছি। এমনকি কানাডার ‘Indigo’ (সব থেকে বড় চেইন লাইব্রেরী) সেখানে আমি প্রায়ই যেতাম, যখন ইটন সেন্টারে কাজ করতাম। সেখানেও গিয়েও এই লাইব্রেরীর একটা ম্যাগাজিন দেখেছিলাম। এদের কর্মপদ্ধতি ইত্যাদি। খুব দেখার ইচ্ছে ছিল। এর আগের বার যখন জার্মানীতে এসেছিলাম, তখনও খুব ইচ্ছা ছিল, কিন্তু সময়ের অভাবে দেখতে পারিনি। এবারে যেতে পারলাম। এত বড় বিল্ডিং যে অবাক হয়ে ভাবছিলাম, কোন লাইব্রেরী এত বড় হয়? তার থেকেও বড় এর বিশাল সীমানা। আর এই সীমানাতেই হয় পৃথিবীর সব থেকে বড় ‘বইমেলা’। যার সময়কাল থাকে গোটা একটি মাস। পৃথিবীর কম দেশ আছে যারা এখানে স্টল দেয় না। বাংলাদেশের স্টল তেমন একটা না হলেও, দেশের কিছু প্রতিনিধিরা যায়। এর মধ্যে ভারতের বই এর স্টলের ব্যাপকতা প্রচুর। যদিও সব থেকে এগিয়ে থাকে বই এর সমৃদ্ধিতে রাশিয়া এবং বৃটেন। এটাকেই বোধ হয় ‘কাকতাল’ বলে, যে পৃথিবীর সব থেকে নামী লেখকের, বেশীর ভাগ সংখ্যাই রাশিয়াতে জন্ম। তাই এদের পুস্তকের ব্যাপকতা যে সমৃদ্ধশালী হবে তাতে কোনই সন্দেহ নাই।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এই লাইব্রেরীতে একটি কক্ষ আছে দর্শনার্থীরা যেয়ে একটি খাতায় তাদের মন্তব্য লিখবে। সেই কমেন্টস বুকটাই দেখবার মত। আমাদের তরফ থেকে রায়হান লিখলো। রায়হান বাংলা ইংরেজী এবং ফ্রেঞ্চ এই তিন ভাষাতেই সমানভাবে দক্ষ। অর্থাৎ লিখতে এবং পড়তেও পারে। বলতেতো পারেই। ১৮০১ সালে লাইব্রেরীর জন্ম। এর কেবলমাত্র ভিজিটরের সংখ্যা দেখলেই চোখ কপালে উঠে যায়। ৮০৫,০১৯ &#8211; ২০২১ সাল পর্যন্ত এই পরিমান ভিজিটর ছিল। অবশ্যই লিখিত। এছাড়া অলিখিতও প্রচুর। আর রেগুলার স্টুডেন্টদের কথা ধর্তব্যের মধ্যে নয়। কত যে রুম তার কোন ঠিক ঠিকানা নাই। তবে এর কোন তলায় কোন কক্ষে কার বই পাওয়া যাবে তার একটা লিস্ট আছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">অনেকগুলো কক্ষ ঘুরলাম। বই হাতে নিলাম। বিখ্যাত প্রিয় বেশ কিছু লেখকের বই নাড়াচাড়া করে, গন্ধ নিলাম। মনে হচ্ছিল কাল থেকে কালান্তরে হারিয়ে যাচ্ছিলাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">নাসির তাড়া দিল যদিও রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকে, কিন্তু রাতের ডিনারে আমাদের মাহিনের বাসায় দাওয়াত ছিল। যদিও এই কদিন সে আমাদের সাথেই ছিল। তবু জোরাজুরি এতটাই ছিল যে আমরা মাহিনের বাসায় যেতে বাধ্য হলাম। ওর বাসায় যেতে হলে এখন আবার সাবওয়েতে উঠতে হবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমরা মাহিনের বাসার জন্য রওনা দিলাম। এটা Offenbach am Main স্টেশন এ নেমে পাঁচ মিনিটের হাটা পথে ওর বাড়ি। বাড়িটা একটি হাই রাইজ বিল্ডিং। মাহিন একা মানুষ। ওর এপার্টমেন্ট একটা স্টুডিও। কিন্তু অনেক বড়। সম্ভবত অর্ডার দেওয়া ছিল, খাবারের। সেগুলো দিয়ে মজা করে ডিনার করলাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">রাত বাড়ছিল। তবু মাহিন ছাড়লো না। বললো, সময়ের অভাবে কিন্তু রান্না করতে পারলাম না। তবে এক কাপ কফি বানিয়ে খাওয়াবো। খুব সুন্দর করে কফি বানালো। কফি খেতে খেতে ওর ঘরের ডেকোরেশন দেখছিলাম। খুব বৃক্ষ প্রেমিক, বোঝাই যায়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">অন্ধকার গাড়িয়ে দীর্ঘতর হচ্ছিল। আমাদের অতপর উঠতে হলো। এবং আমাদের সাথে মাহিনও চললো। আমরা যে কদিন থাকবো, মাহিন আমাদের সাথে, তিন্নীর বাসায় থাকবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">রাতের প্রায় শেষ ট্রেনটা তিন্নীদের স্টেশনে থামলো। আমরা অবসন্ন পায়ে ওদের এপার্টমেন্টের দিকে চললাম। (চলবে)</p>



<p class="wp-block-paragraph">রীনা গুলশান, টরন্টো</p>



<p class="wp-block-paragraph">gulshanararina@gmail.com</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>প্রবাসে পরহিতকর্ম -৯৯</title>
		<link>https://probashikantho.com/2023/03/07/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ae-%e0%a7%af%e0%a7%af/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 07 Mar 2023 14:55:57 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Travel]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=7931</guid>

					<description><![CDATA[ইউরোপের পথে পথে রীনা গুলশান      একটা অসম্ভব সুন্দর সময়ে আমরা গিয়েছি ফ্রাঙ্কফুর্টে। মনে হচ্ছে বাড়ীর একমাত্র মেয়েটির বিবাহ। তাই সারাবাড়ী]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph" style="font-size:25px">ইউরোপের পথে পথে</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>রীনা গুলশান</strong>     </p>



<p class="wp-block-paragraph">একটা অসম্ভব সুন্দর সময়ে আমরা গিয়েছি ফ্রাঙ্কফুর্টে। মনে হচ্ছে বাড়ীর একমাত্র মেয়েটির বিবাহ। তাই সারাবাড়ী যেনবা সাজ সাজ রব। ঠিক জার্মানীর এখন এমনই অবস্থা। আর ৩/৪ দিন আছে বড়দিনের। মজার ব্যাপার, আগে দেশে থাকতে শুনতাম, জার্মানীর মানুষরা সব নাস্তিক। তারা কোন ধর্মকর্ম কিচ্ছু করে না। অথচ পর পর দুবার গেলাম দেশটিতে। দেখলাম অন্য চিত্র। বরং এটাই বলা চলে, ওটা সত্যিকারের একটা ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র। যাদেরকে নাস্তিক বলে জানতাম, অথচ আমি অত্যন্ত অবাক হলাম, জার্মানীতে ২২৫০ টি মসজিদ আছে। এর মধ্যে আহমেদীয়াদেরও খুব বড় একটি মসজিদ আছে। শুধু তাই নয়, সেখানে ইসলামিক বিষয়বস্তু আলোচনার জন্য আলাদা সেন্টারও আছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এবং মজার ব্যাপার, ফ্রাঙ্কফুর্ট সেন্টারে ক্যাথিড্রাল নামে একটা কর্নার-ই আছে। দারুণ ভাবে সাজানো। মনে হচ্ছে সত্যি কারো বিয়ে হচ্ছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ফ্রাঙ্কফুর্ট সেন্টার সত্যি খুব পরিপাটি। এবারে আমরা হাটতে হাটতে, আসলে বলা উচিত আড্ডা মারতে মারতে চললাম। এখানে আমরা কেউই কারো চেয়ে কম নই। অর্থাৎ আড্ডাবাজিতে। বিশেষ করে আমি, তিন্নি, মাহিন আর রায়হান সব এক সাথে হা হা হি হি চলছে। আমাদের তুলনায় নাসির আর কাজিম কিঞ্চিৎ কম, এবং তারা কিছুটা পেছনে হালকা মেজাজে আড্ডা মারছে।</p>



<div class="wp-block-image"><figure class="alignleft size-large is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2023/03/গীর্যা.jpg" alt="" class="wp-image-7932" width="275" height="366" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2023/03/গীর্যা.jpg 400w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2023/03/গীর্যা-225x300.jpg 225w" sizes="(max-width: 275px) 100vw, 275px" /><figcaption>          ফ্রাঙ্কফুর্ট কেথিড্রাল । ছবি:লেখক </figcaption></figure></div>



<p class="wp-block-paragraph">অবশেষে বিখ্যাত Romerberg (Frankfurt) এ পৌঁছালাম। এটা অবশ্যই একটা পাবলিক স্পেস। আমি হঠাৎ করে চমকে গেলাম। অবিকল ব্রাসেলস্ স্কায়ার এর মত। তবে তারপরই দ্রুত ভুল ভাঙ্গলো। এখানেই সারি সারি অতিব পুরানো প্রাসাদের সারি। তবে প্রাসদের ডিজাইন একদম আলাদা। এই বিল্ডিং এর ডিজাইনটার অভিনবত্ব অসাধারণ। বিল্ডিং এর ছাদের ডিজাইনটা তিন কোনা। খাড়া খাড়া। এবং দারুণ কালারফুল। কি যে সুন্দর। প্রতিটি বিল্ডিং এর কালারের অভিনবত্বে আমি বিস্মিতত হয়ে পড়লাম। মাঝখানে বেশ বড় একটা স্কয়ার খোলা জায়গা (ঠিক ব্রাসেলস এর মত)। এই Romerberg কে সেই জন্য Roman Mountain-ও বলা হয়ে থাকে। ফ্রাঙ্কফুর্টের সিটি রোমার বিল্ডিং এর সামনেই এটা। এবং এই Romerberg 15 century তে করা। বলাবাহুল্য, ক্রিসমাসের সময় এখানে আনন্দের হাট বসে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এমনিতেও এটা সাধারণ ভাবে ব্যবসায়িক প্লেস। এবং এই Romerberg এ প্রত্যহ টুরিষ্টদের অজস্র সমাগমে ভরপুর থাকে। এত কালারফুল যে, আমার খুবই ভাল লেগে গেল। এখানে বেশ কিছু ছবি তুললাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তারপর হাটি হাটি পা পা করে ফ্রাঙ্কফুর্ট কেথিড্রালের দিকে গেলাম। এটা বাইরে থেকে অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী কেথিড্রালের মত দেখতে। তবে বাইরে থেকে দেখতে এর রঙটা বেশ ডার্ক চকলেট এর মত। দেখলেই বোঝা যায় এর বয়স, অন্যান্য কেথিড্রালের তুলনায় বেশ খানিকটা বেশী। ভেতরে যাবার পর বুঝলাম, আমার অনুমানই সঠিক। এটা 7th century তে বানানো। এবং এই কেথিড্রালের কোন রকম রেনোভেশন কারা হয় নাই। মনে হচ্ছে জীবন্ত মিউজিয়াম। এটাই এর বৈশিষ্ট্য। কারণ এটা অরিজিনাল। ভাবছিলাম কি ভাবে এখনও দাঁড়িয়ে আছে? এই ৯৫ মিটার (৩১২ ফিট) হাইটের গীর্জা?? এই জন্য বাইরের কালারটা বেশ (ডার্ক চকলেট) কেমন মলিন বর্ণের হয়ে গেছে। সেই জন্য এটা আরো বেশী আকর্ষণীয় টুরিষ্টদের কাছে। তবে ভেতরটা খুব সুন্দর। এটা রোমান ক্যাথলিকদের চার্চ। এবং এটা হার্ট অফ দ্যা ফ্রাংফুর্ট। </p>



<div class="wp-block-image"><figure class="alignleft size-large is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2023/03/singer.jpg" alt="" class="wp-image-7933" width="293" height="535" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2023/03/singer.jpg 400w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2023/03/singer-164x300.jpg 164w" sizes="(max-width: 293px) 100vw, 293px" /><figcaption>মধ্যবয়সী এক জার্মান রাস্তায় মিউজিক বাজাচ্ছে     </figcaption></figure></div>



<p class="wp-block-paragraph">এই গীর্জাটি Gothic architecture স্টাইলে করা। এবং  Architects:- madern, Gerthener, Hermann Mackler, Alois Giefer.</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমরা ভেতরে অনেক্ষণ ছিলাম। অনেক বড় বড় প্লেটে বিভিন্ন বক্তব্য লেখা আছে। এই গীর্জা বানাবার ইতিহাস থেকে শুরু করে আরো অনেক কিছ্।ু তবে ভেতরে কোথাও ছবি তুলিনি। কারণ ওখানে কেউ ছবি তুলছিল না। এর আগেও আমার এরকম অভিজ্ঞতা যে হয়নি তা নয়। অটোয়ায়, কানাডার একটি এরকম বহু পুরাতন গীর্জায় গিয়েছিলাম, সেখানে যখন ভেতরে গিয়েছিলাম, দেখলাম লেখা আছে ছবি তোলা নিষেধ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">অথচ, রোমান ক্যাথলিকদের মেইন সেন্টার ভ্যাটিক্যান সিটিতে কিন্তু আমরা অবিরাম ছবি তুলেছি। এমনকি যেখানে সর্বদা প্রার্থনা হচ্ছে, সেখানেও দেখেছি টুরিস্টরা ছবি তুলছে। যদিও আমি তুলিনি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">যাইহোক, আমরা কেথিড্রাল থেকে বের হয়ে একটি ওপেন রেস্টুরেন্টে গেলাম। খুব মজার। ভেতরে অর্ডার দিতে হয়। বাইরে বেশ বড় একটা চত্ত্বর, প্রচুর চেয়ার টেবিল সাজানো, তার দুই সেট একত্রিত করে আমরা বসে পড়লাম। আমি আর কাজিম বাইরে গিয়ে খাবারের ব্যাপারে খুবই পিকি। যদি না খেতে পারি তো আরো ভাল হয়। কিন্তু তিন্নি, মাহিন, সব চিল্লা পাল্লা করলো, ‘রায়হান ভাইয়া ক্ষুধা লেগেছে’। অতএব নাসির আর রায়হান ভেতরে গিয়ে আর্ডার দিল। ঠিক ওখানে কোন হালাল খাবার নাই। আমরা অবশ্য সেটা আশাও করিনি। ওরা সবাই অবশ্য ভেজ বার্গার আর কফি নিল। আমি আর কাজিম বার্গার একদম পছন্দ করি না। অতএব আমরা ফ্রেঞ্চ ফ্রাই নিলাম এবং সবাই কফি নিলাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এখানে যেহেতু ওপেন ছিল- আশপাশে মজার কিছু দৃশ্যে চোখ আটকে গেল। আমি এমনিতেই একজন দারুন মিউজিক প্রেমিক। তাই দারুন উপভোগ্য একটি দৃশ্য দেখে আমি একদম হতভম্ভ হয়ে গেলাম। দেখলাম একটি লোক কিছু একটা মিউজিক বাজাচ্ছে। এটা খুব আশ্চার্য্যের কিছুই নয়। সারা নর্থ আমেরিকা এবং ইউরোপের ডাউনটাউনে এগুলো দেখা যায়। অনেকে অনেক কিছু প্রদর্শন করে এবং অবশ্যই অর্থ প্রাপ্তির আশা করে। একটি দোকানের সামনে একজন মধ্যবয়সী এক জার্মান (ট্রাইব মনে হলো) মিউজিক বাজাচ্ছে। নেচেনেচে। আমি একমাত্র বাঁশি ছাড়া আর কোন কিছুর নাম মনে করতে পারছি না। অন্ততপক্ষে ২০ টির মত মিউজিক ইনস্ট্রুমেন্ট বাজালো সে। এক একটি ৫/৭ মিনিট। আমি এতটাই হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলাম যে খাওয়া ভুলে যাবার দশা হলো। ভাবছিলাম, এরকম একজন প্রতিভাধর ব্যক্তি রাস্তায় ভিক্ষা করছে কেন? আশ্চর্য! নাসির বললো এরা খুবই স্বাধীনচেতা। কারো বশ্যতা পছন্দ করে না। তবে এর ইনকাম দেখলাম ভালই। একটি গিটারের বক্সে প্রচুর টাকা জমেছে। শুনলাম সে সপ্তাহে এখানে ৪ দিন আসে। আমি কিছু ইউরো দিলাম। আর মানুষটি অসম্ভব মনোযোগি। যেটাই বাজাচ্ছে, মনে হচ্ছে তার মধ্যে ডুবে যাচ্ছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">যাইহোক, খাওয়া হলো, মিউজিক শুনে দারুনভাবে মন ভরে গেল। এবারে জার্মানির একটি বিখ্যাত মিউজিয়াম দেখতে যাব। এটাও সেন্টারে। অতএব এবারে সে দিকে পা বাড়ালাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">মিউজিয়ামটাও আজই দেখতে হবে, কাল সময় খুবই কম আমাদের। (চলবে)</p>



<p class="wp-block-paragraph">রীনা গুলশান</p>



<p class="wp-block-paragraph">টরন্টো</p>



<p class="wp-block-paragraph">gulshanararina@gmail.com</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>প্রবাসে পরহিতকর্ম -৯৮</title>
		<link>https://probashikantho.com/2023/02/06/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ae-%e0%a7%af%e0%a7%ae/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 06 Feb 2023 16:59:12 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Travel]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=7852</guid>

					<description><![CDATA[ইউরোপের পথে পথে রীনা গুলশান বিষন্ন হয়ে সুন্দরের দিকে এগিয়ে যাওয়া। সবার মনটাই কম বেশী খারাপ ছিল। আমি উপলব্দি করছিলাম,]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph" style="font-size:24px"><strong>ইউরোপের পথে পথে</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>রীনা গুলশান</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">বিষন্ন হয়ে সুন্দরের দিকে এগিয়ে যাওয়া। সবার মনটাই কম বেশী খারাপ ছিল। আমি উপলব্দি করছিলাম, আমার ভাইয়ের মনটা কতটা খারাপ ছিল। কারণ দু’বছর আগে ভাইয়া একটা কুইক ভিজিটে আমেরিকা এসেছিলেন্ তারমধ্যও মাত্র ৫/৬ ঘন্টার জন্য নিউইয়র্ক থেকে আমাকে দেখতে এসেছিলেন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">যাইহোক আমাদের পরিকল্পনা ছিল আমরা ফ্রাঙ্কফুর্টে নেমে হোটেলে চলে যাব আর আমার ভাইজি তার বাসায় চলে যাবে। এবং পরে আমরা মিট করবো। আমার ভাগ্নি তিন্নিকে মোটেই আমারা বলিনি যে আমরা এমনকি জার্মানীতে আসবো। এমনিতে সে আমার ট্যুরের ছবি দেখেছিল ফেসবুকে। আমরা জার্মানীতে আসবো সে ভাবেনি। কারণ ২০১৭ সালে একবার গিয়েছিলাম। তাই ভেবেছে ওখানে যাবো না। আমরা ভেবেছিলাম ওকে সারপ্রাইজ দিব। কিন্তু মাহিন চুপি চুপি সব ফাঁস করে দিয়েছে। আমাদের ইউরো ট্রেন যখন ফ্রাঙ্কফুর্ট এর মেইন স্টেশনে থামলো তখন দারুণ উত্তেজনা অনুভব করছিলাম। আমরা ব্যাগ-ট্যাগ গুছিয়ে নামবো, দেখি ট্রেনের মধ্যেই নাসির উঠে আমার ব্যাগটা ধরে সামনে হাঁটা শুরু করলো। আমরাতো হতভম্ব। এমনিতেই জানি, নাসিরের অজস্র গল্প। এতটা উদার এবং মহানুভব ছেলে আমি এই জীবনে খুব কমই দেখেছি। যাইহোক, সে সোজা আমাদের ব্যাগ, সুটকেস তার গাড়িতে তুললো। মাহিনকেও তার বাড়িতে যেতে দিল না। বললো, ‘তুই আবার তোর বাড়ি যাবি কেন? খালা যতক্ষণ আছে, তুইও থাকবি।’</p>



<p class="wp-block-paragraph">রায়হানকে নিয়ে একটু প্রব্লেম হচ্ছিল। সে কখনো কারো বাসায় উঠে না। খুব অনকম্ফোর্ট ফিল করে। কিন্তু নাসিরের কাছে সবার সব কিছু ভেসে গেল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">রাতের জার্মানী দেখতে দেখতে যাচ্ছিলাম আমরা। স্টেশন থেকে খুব বেশী দূরে না নাসিরের বাসা। আমরা অল্প সময়ের মধ্যেই তার আলয়ে চলে এলাম। তিন তলায় তিন্নির এপার্টমেন্টে যেতেই জড়িয়ে ধরে হাসি-কান্না মিলিয়ে একাকার। ওকে শেষ দেখেছিলাম ১৯৯৮ সালে। তার কিছুদিন পর তিন্নি চলে গেল জার্মানীতে আর আমরা কানাডায়। এরপর আমরা দেশে যখন যাই, তিন্নির যাওয়া হয় না। আর তিন্নি গেলে আমাদের দেখা পায় না। তবে টেলিফোনে, ফেসটাইমে রেগুলার কথা হয়। আর মাহিনের সাথে তো তিন্নির রেগুলার দেখা হয়। নাসিরের সাথে তিন্নির বিয়ের পর থেকে এই পর্যন্ত নাসিরের প্রশংসা শুনতে শুনতে কান পেকে গিয়েছিল। আজ স্বচক্ষে দেখলাম। ওদের এক ছেলে এক মেয়ে। এসে সালাম দিল। ছেলেটা বাংলা ধরতে গেলে পারেই না। তবে মেয়েটা অনেকটা পারে।</p>



<div class="wp-block-image"><figure class="alignleft size-large is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2023/02/Untitled2.jpg" alt="" class="wp-image-7853" width="419" height="271" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2023/02/Untitled2.jpg 400w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2023/02/Untitled2-300x194.jpg 300w" sizes="(max-width: 419px) 100vw, 419px" /><figcaption>ফ্রাঙ্কফুর্টে লেখকের সঙ্গে মাহিন ও তিন্নি</figcaption></figure></div>



<p class="wp-block-paragraph">তিন্নি বাংলাদেশী স্টাইলে হরেক রকম খাবার বানিয়ে টেবিল ভরে রেখেছে। আমাদের খুলনার অনেক রকম ডিস ছিল। রায়হানের খুব মজা হলো। সে যেহেতু এসব রেগুলার খেতে পায় না। তাই বেশ আরাম করে খেল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">রাতে প্রায় ২/৩ পর্যন্ত চুটিয়ে আড্ডা হলো। তারপর সবাই ঘুমাতে গেলাম। তিন্নি আমি আর মাহিন এক সাথে ঘুমাতে গেলাম, সেখানে আবারো আড্ডা ৪টা পর্যন্ত। আবার ভোরে উঠে নামাজ পড়ে একটু ঘুমালাম। ৮/৯টার দিকে উঠলাম। দেখি তিন্নি পুরাই বাঙ্গালী স্টাইলে আটা সেদ্ধ করে রুটি বেলছে। আমি জলদি করে রুটি ভাজলাম। আর মাহিন আলু ভাজি করলো। কতদিন পর এই বাঙ্গালী নাস্তা। আমি বাড়িতে এগুলো করিনা বললেই চলে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">যাইহোক, খুব মজা করে রুটি আলুভাজি আর সুজির হালুয়া খেয়ে আমরা ৫ জন বের হলাম। তিন্নির বাচ্চারা বেশ বড়। ওরা আর সাথে গেল না। সকালে বাইরে বের হয়েই খুব অবাক হয়ে গেলাম। ওদের কন্ডো থেকে ৩০/৩৫ হাত দূরেই সাবওয়েতে প্রবেশ করার সিড়ি। এত কাছে? এখানে মোট তিনটে কন্ডো বিল্ডিং দেখলাম। সবার পার্সোনাল। তিন্নির কন্ডোটা বেশ প্রশস্ত। তিন বেডরূম, বেশ বড় লিভিং স্পেস।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমরা এখন যাব Zeil এ। আমাদের টিকিট কাটতে দিল না। নাসির সবার টিকিট কাটলো। অন্য আর একটা দারুন জায়গাতে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু সারাদিন ওখানেই কেটে যাবে। তাই আমরা আর ওখানে গেলাম না। অন্য সব জায়গাতে অনেক বেশী দিন ঘুরেছি। বিশেষ করে বেলজিয়াম এবং সুইজারল্যান্ডে। এখন জার্মানী দেখার জন্য সময় কম। তাছাড়া এখানে ঘোরার তেমন আগ্রহ আমাদের কারোর ছিল না। কারণ এর আগেও আর একবার এসেছিলাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">যাইহোক আমাদের পরিকল্পনা আজ ডাইরেক্ট সেন্টার এ (ডাউন টাউনে) গিয়ে ঘুরবো। যতদূর সম্ভব। তা নাহলে আগামী কাল বাকিটা। তারপর আবার মাহিনের বাসায় যেতে হবে। ও বলে রেখেছে।</p>



<div class="wp-block-image"><figure class="alignleft size-large"><img loading="lazy" decoding="async" width="400" height="295" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2023/02/Untitled3.jpg" alt="" class="wp-image-7877" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2023/02/Untitled3.jpg 400w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2023/02/Untitled3-300x221.jpg 300w" sizes="(max-width: 400px) 100vw, 400px" /></figure></div>



<p class="wp-block-paragraph">আমাদের ৪৫ মিনিটের মত লাগলো Zeil এ যেতে। মজার ব্যাপার জার্মানীর ফ্রাঙ্কফুর্টের সেন্টার এর কাঠামো প্রায় ইংল্যান্ডের মত। গোট ডাউনটাউনের চারপাশ দিয়ে বয়ে চলেছে ‘মাইন’ নদী। Zeil স্ট্রিটটা ১৪ সেঞ্চুরীতে এর নামকরণ হয়। এই স্ট্রিট ফ্রাঙ্কফুর্টের সেন্টারকে প্রদক্ষিণ করে আছে। ঠিক মাইন নদীর মত। ইউরোপের অন্য যত দেশে গেলাম, তার সাথে কোন মিলই নাই। তবে ইংল্যান্ডের সাথে কিছুটা মিল পেলাম। সবটা নয়। যাইহোক, সেন্টার (ডাউন টাউন) প্রায় সব জায়গাতেই (এমনকি নর্থ আমেরিকাতেও) একটাই মিল, আপনাকে হেটে হেটে সব কিছু দর্শন করতে হবে। আমি অলরেডী অভ্যস্ত হয়ে গেছি। এবং খুব মজা পাচ্ছি যে যেহেতু ইউরোপের অন্যান্য দেশ ঘুরে সব শেষে এলাম জার্মানীতে। এখন আমি একটার সাথে আর একটার মিল খুঁজে পাচ্ছি। মাইন নদী (ইংরেজীতে অবশ্য লেখে Main এইভাবে) যদিও তারা উচ্চারণ করে ‘মাইন’ বলে। অসম্ভব সুন্দর। ওখানে বেশ বড় একটা শিপ নিয়ে ঘুরে ঘুরে দেখায়। আমাদের টরন্টোর হারভার ফ্রন্টের মত।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমরা শিপে উঠবো কি উঠবো না, এটা নিয়ে বেশ তর্ক বিতর্ক চললো। আমার খুব একটা ইচ্ছা ছিল না। কারণ কানাডাতেও ৩/৪ বার উঠেছি। আমেরিকার স্ট্যাচু অব লিবার্টি দেখতে গেলেও আপনাকে এই জাহাজে উঠতে হবে। টিকিটের টাকাও কম না। আর নাসির খুব যন্ত্রণা করছে। আমাদের টাকা খরচাই করতে দিচ্ছে না। খুব এমবারেসিং। আফটারঅর জামাই মানুষ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">অবশেষে আমরা ঠিক করলাম ডাউন টাউনটা আগে হেটে হেটে দেখতে থাকি। আগামীকাল মল এ যাবো। প্রথমেই হাটতে হাটতে Romerberg এর দিকে চললাম। ওমা, এটা দেখি প্রায় ৭০ ভাগ ব্রাসেলস এর Centre এর মত। বিশাল বিশাল প্রাসাদ। তবে Romerberg এর প্রাসাদগুলো অসম্ভব কালারফুল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমরা অত্যন্ত আনন্দ চিত্তে, আনন্দমাখা ভবনগুলোর দিকে চললাম। (চলবে)</p>



<p class="wp-block-paragraph">রীনা গুলশান, টরন্টো</p>



<p class="wp-block-paragraph">gulshanararina@gmail.com</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>প্রবাসে পরহিতকর্ম -৯৭</title>
		<link>https://probashikantho.com/2022/10/05/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%b9%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ae-%e0%a7%af%e0%a7%ad/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 05 Oct 2022 15:31:59 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Travel]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=7450</guid>

					<description><![CDATA[ইউরোপের পথে পথে রীনা গুলশান এখনও সন্ধ্যা হতে কিছুটা বাকি। তবু চারপাশে সমস্ত মেঘেরা বন্ধুর মত, হাতের কাছে ঘুরে বেড়াতে]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph" style="font-size:24px">ইউরোপের পথে পথে</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>রীনা গুলশান</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">এখনও সন্ধ্যা হতে কিছুটা বাকি। তবু চারপাশে সমস্ত মেঘেরা বন্ধুর মত, হাতের কাছে ঘুরে বেড়াতে লাগলো। কি অদ্ভূত। চোখে না দেখলে, এগুলো সত্যি বর্ণনা করা যাবে না। একই আকাশে নানা বর্ণের খেলা। এমনিতেই আকাশের রূপ আমায় দারুণ টানে। একপাশে একটু কালচে বর্ণ। তবে গোটা আকাশে এখন অস্বাভাবিক মেঘের ভেলা। হয়তো অনেক উপরে আছি, সে জন্যও হতে পারে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">অনেকটাই বাচ্চাদের মতন চারপাশে ছোটাছুটি করলাম। অতঃপর আমাদের ফিরতি ট্রেনের ডাক এলো। একটা অসম্ভব নিরাসক্ত ভাবে, ট্রেনের দিকে হেটে চললাম। মনে হলো যেন আমার ‘আমি’টাকে চিরকালের মতন এখানে রেখে যাচ্ছি। কি জানি কেন এমন হচ্ছে। সেই ভোর থেকে প্রায় রাত, তবু যেন কোন ক্লান্তি আমাকে স্পর্শ করছে না। কোন ক্ষুধা বোধ নেই। অথচ, ক্ষুধা লাগলে আমার অনেক পুরানো আলসারের ব্যাথা জানান দেয় ‘রীনা তোর ক্ষুধা লেগেছে’। অথচ আজ আমার কি যে হলো। আমি কি আমার সমগ্র চেতনায় ‘যাযাবর’ হয়ে গেছি?</p>



<p class="wp-block-paragraph">‘একদিন যখন চলে গেলে চুপচাপ</p>



<p class="wp-block-paragraph">পেছনে দেখোনি ভেঙ্গে চুরচুর সমস্ত আমিটাকে</p>



<p class="wp-block-paragraph">জানি সেটা ছিল একটি ভুলে ভরা গল্প&#8230;</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমি তবু কড়া নেড়ে গেছি ভুল দরজায়॥</p>



<p class="wp-block-paragraph">জানি যা কিছু যাবার সেটা চলে যায়,</p>



<p class="wp-block-paragraph">যা কিছু রয়ে যায় ছিন্ন বস্ত্রের মত</p>



<p class="wp-block-paragraph">মলিন বিবসনা এক আকাশ ভরা</p>



<p class="wp-block-paragraph">শূন্য হাহাকার নিয়ে।’</p>



<p class="wp-block-paragraph">ট্রেনে উঠে পড়লাম মালিন বিবসনা হয়ে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">কোন কথা নাই। সবাই কেমন যেন স্তব্দ। প্রকৃতির এক অদ্ভূত অমোঘ আকর্ষণ আছে। সবাইকেই কি এই ভাবে বিবস করে রেখেছে? নাকি সবাই বড় ক্লান্ত!</p>



<p class="wp-block-paragraph">ট্রেনটা ছেড়ে দিল। জানিনা হয়তো একই পথে যাচ্ছে। তবু কেন মনে হচ্ছে বারবার ভুল পথে ট্রেনটা চলেছে। অতিরিক্ত সৌন্দর্য্যরে কাছে, মানুষ মূক এবং বধির হয়ে যায়। কিছুটা পথে, যেতে যেতে হঠাৎই পাহাড়ের কোলে রাতের আকাশ নেমে এলো। তবু পাহাড়ের উপর দূরে দূরে সাদা সাদা বাড়ি বা রিসোর্টগুলো দেখা যাচ্ছে। আর পাহাড়ের উপর কি যেন ঝিকিমিকি জ¦লছে। মজার ব্যাপার, চারপাশে রাতের অন্ধকার নেমে এলেও আমরা চারপাশটা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। তবে ছবি তুললে, সেগুলো অবশ্যই কালো কালো হয়ে যাচ্ছে। একসময় অপরূপ ট্রেনের এই জার্নি শ্লথ হয়ে এলো। আবারও আমাদের জন্য অপেক্ষমান বাসে সবাই উঠে পড়লাম। বাসটি এবারে বেশ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চললো। মোটামুটি আবারও ‘জুরিখ’ শহরের মধ্যে প্রদক্ষিণ করছিল। আমি যেন দ’ুচোখ ভরে অক্লেশে পান করছিলাম, ‘সুইজারল্যান্ডের’ সৌন্দর্য সুধা। অতপর পথিমধ্যে একটি বড় রেস্টুরেন্টে দাঁড় করালো, সবাই খাবার কিনবে। কারণ রাত প্রায় ১১টার মত বাজে। এখানে কিছু রেস্টুরেন্ট সারারাত ট্যুরিস্টদের জন্য খোলা থাকে। কিন্তু আমরা কিনলাম না। কারণ আমরা চমৎকার একটি ‘রেস্টুরেন্ট’ এর সন্ধ্যান পেয়েছিলাম সেটা আমাদের হোটেল ‘ক্রাউন প্লাজা’র বেশ সন্নিকটেই। একটি লেনানিজ খাবারের হোটেল। হালাল। অতপর আমরা সবাই বাস থেকে নেমে সবার কাছ থেকে সবাই বিদায় গ্রহণ করলাম। এই ৫/৬ দিনে মোটামুটি সবাই একই ট্যুরিস্ট কনটক্ট এ ছিলাম। তাই অনেকের সাথে বেশ ভাল বন্ধুত্ব হয়ে গিয়েছিল। পথের বন্ধু। অনেকের সাথে টেলিফোন নম্বর বিনিময় হলো। হয়তো বা কখনো ঐ সব নম্বরে ডায়াল করা হবে না। তাতে কি? ঐ মুহুর্তটা কিন্তু মিথ্যা ছিল না। গাঢ় আবেগের সুন্দর একটা সময়ের একত্রিভূত সাক্ষী ছিলাম। তারপর জীবনের কাছে এসে হয়তো অবিরাম ব্যস্ততা, দুঃখ, বেদনা, অসুস্থতায় আমরা তাদেরকে বিস্মৃত হবো। তবে ঐ সময়টাকে কোন দিন ভুলবো না।</p>



<div class="wp-block-image"><figure class="alignleft size-large"><img loading="lazy" decoding="async" width="400" height="325" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2022/10/রীণা.jpg" alt="" class="wp-image-7451" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2022/10/রীণা.jpg 400w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2022/10/রীণা-300x244.jpg 300w" sizes="(max-width: 400px) 100vw, 400px" /><figcaption>STUTTGART এর উদ্দ্যেশে যাত্রার আগে লেখও তার বড় ছেলে রায়হান</figcaption></figure></div>



<p class="wp-block-paragraph">ওখান থেকে আমরা হেটেই চলে এলাম বরাবরের মত। এবং রেস্টুরেন্টে ঢুকলাম। এরপর যার যার মত খাবার অর্ডার করে, হাতে প্যাকেটা নিয়ে চললাম। হোটেলে গিয়ে আমি অবশ্যই অভ্যাসমতো গোসল করে, ডিনার করলাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">পরদিন ১১টার দিকে আমাদের যাত্রা। এবারে জার্মানী। অত্যন্ত রোমাঞ্চকর একটি নাম। নানা কারণে জার্মানী পৃথিবীতে অন্যতম একটি দেশ হিসাবে পরিচিত। বিশেষত অর্থনৈতিক দিক থেকে অতি উন্নত একটি দেশ। পৃথিবীর মধ্যে বিশেষ করে ‘মেডিসিন’ এ জার্মানী অনেক অনেক উন্নত এবং ভাল পজিশনে আছে। আমি যখন বাংলাদেশে ছিলাম তখন খুব চেষ্টা থাকতো জার্মানী ঔষধ সংগ্রহ করবার। সর্বপোরি এটা সেই বিখ্যাত এবং কুখ্যাত ‘হিটলার’ এর দেশ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">যদিও এর আগে একবার (২০১৭) জার্মানীতে আমার পদার্পন হয়েছিল। তথাপি বেশ উত্তেজনা নিয়েই ঘুমাতে গেলাম। কোথাও যাবার আগে আমার ঠিক ঘুম আসে না। কিন্তু নিজেকে অবাক করে দিয়েই আজ আমার প্রগাঢ় ঘুম এলো।&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">ইংল্যান্ড থেকে আসবার আগেই জার্মানীর স্টুটগার্টে থাকা ভাইয়ের সাথে কথা হয়েছিল অনেক্ষণ। আমার একমাত্র ফুফুর বড় ছেলে। সে প্রায় ৪০/৪১ বছর ধরে জার্মানীতে থাকে। ওখান থেকেই কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং এ পাশ করেছিল। তারপর বছর দশেক জব করে, বিয়ে করে, বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে ভালই সংসারি হয়েছিল। হঠাৎ মাথায় কি যে ব্যবসার ভূত চাপলো। এখন তার ২টা বিশাল আকারের নিউজপ্রিন্ট এবং পেট্রোল পাম্পের মালিক। তবে ভাইটাকে ব্যবসার মধ্যে আমরা হারিয়েছি। যাইহোক, ভাইয়ের সাথে কথার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা সুইজারল্যান্ড থেকে স্টুটগার্ট হয়ে তারপর ফ্রাঙ্কফুর্ট যাবো। সম্ভবত আমরা ওখানে ২/৩ ঘন্টার মত অপেক্ষা করবো। ভাই ভাবী আসবে। আমরা ওখানেই ২/৩ ঘন্টা গল্প করে, পরের ট্রেন ধরে সোজা ফ্রাঙ্কফুর্ট চলে যাবো। ৩/৪ দিনে এত বড় বড় দেশ কোন ভাবেই দেখা সম্ভব না। তবু এবারে ভেবেছি, যেখানে যাইনি, এবারে সেখানেই যাবো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">যাইহোক, ভোরে ঘুম থেকে উঠেই গোসল করে ব্যাগ গুছিয়ে নিলাম। মাহিনও উঠে দ্রুত গুছিলে নিল। অন্য ঘর থেকে বাপ-বেটাও একেবারে গুছিয়ে চলে এলো। বললো, আগে ব্রেকফাস্ট সেরে আসি, তারপর ব্যাগ নিয়ে যাবো। ডাইনিং এ গিয়ে বেশ ভাল ভাবেই খেয়ে আসলাম। আমরা নিচেই আলোকিত ও খুব দারুণভাবে সজ্জিত ক্রাউন প্লাজার লিভিং স্পেসে বসলাম। মাহিন আবার কিছু ছবি তুললো। রায়হান উপরে গিয়ে ব্যাগগুলো নিয়ে আসলো।</p>



<div class="wp-block-image"><figure class="alignleft size-large"><img loading="lazy" decoding="async" width="400" height="300" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2022/10/রীণা-২.jpg" alt="" class="wp-image-7452" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2022/10/রীণা-২.jpg 400w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2022/10/রীণা-২-300x225.jpg 300w" sizes="(max-width: 400px) 100vw, 400px" /><figcaption>সুইজারল্যান্ড ও জার্মানীর বর্ডার</figcaption></figure></div>



<p class="wp-block-paragraph">ট্রেনের স্টেশন খুব দূরে নয়। আমাদের কারো কাছেই লাগেজ নাই, সব ক্যারিঅন। আমার আর কাজিম এর তো একটিই ক্যারিঅন। কারণ আমি কিছু টানতে পারবো না। আমার হাতে পিচ্চি একটা পার্স। সেটা নিয়েই ধীরে ধীরে হাটতে শুরু করলাম। মাহিন মজা করছিল এই বলে যে &#8211; ‘সুইজারল্যান্ড থেকে ফুফুর যাইতে ইচ্ছা করছে না। তাই না?’ কঠিন সত্যি। সত্যিই আমার যেতে ইচ্ছে করছে না। আহা, ছবির মত একটা দেশ। কার যেতে মন চায়? মনে হচ্ছে এর আকাশ বাতাসও আমাকে যেতে দিতে চাইছে না &#8211;</p>



<p class="wp-block-paragraph">‘ কী গভীর দুঃখে মগ্ন সমস্ত আকাশ,</p>



<p class="wp-block-paragraph">সমস্ত পৃথিবী! চলিতেছি যতদূর</p>



<p class="wp-block-paragraph">শুনিতেছি একমাত্র মর্মান্তিক সুর</p>



<p class="wp-block-paragraph">যেতে আমি দিব না তোমায়। ’</p>



<p class="wp-block-paragraph">পথে বিষণ্নভাবে হাটতে হাটতে রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত কবিতাটি অটোমেটিক মাথার মধ্যে চলে এলো। ছোটবেলা থেকেই এই কবিতাটি পড়ে আসছি। যতবার এই কবিতাটি পড়ি, আমি ততোবার অশ্রুসজল হয়ে যাই। হাটতে হাটতে কখন জানি স্টেশনে চলে এসেছি। সুইজারল্যান্ডের সব সৌন্দর্য্যরে মত এদের ‘ইউরো স্টার ট্রেন’ স্টেশনটাও অপরূপ সাজে সজ্জিত। কে বলবে এটা কোন স্টেশন? যেমন ঝকঝকে, তেমনি ওয়েল ডেকোরেটেড। লন্ডনের মত এখানেও চারপাশে পেইন্টিং। তবে পার্থক্য হলো, লন্ডনে মাটির নীচে। আর সুইজারল্যান্ডে মাটির উপরে। আমাদের টিকিট আগেই বুক করা ছিল। আমরা এখান থেকে সোজা স্টুটগার্টে যাবো। সেখানে আমরা ২/৩ ঘন্টা অপেক্ষা নিয়েছি, তারপর আমরা আবার ফ্রাঙ্কফুর্টে চলে যাবো। পথে এখানে থামার একমাত্র উদ্দেশ্য আমার ভাই এবং তার পরিবারের সঙ্গে মিট করবার।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমরা ট্রেনে উঠার প্রায় সাথে সাথেই ট্রেনটা ছেড়ে দিল। এত সুন্দর এই ট্রেনগুরো, যতবার উঠেছি ততবারই মুগ্ধ হচ্ছি। মাহিন যেহেতু জার্মানীর নাগরিক তাই মোটামুটি এই পথটা খুব ভাল করেই জানে। আমাকে বললো, ফুফু বর্ডার ক্রস করলেই একটু পরই একটা দারুণ ফসল আছে। ওখানে নাকি প্রচুর দর্শনার্থী আসে। যাইহোক ঠিক সময়মত বর্ডারে এলো। ট্রেনের ভিতরেই বর্ডার চেকিং গার্ডরা উঠে এলো। এবারে মাহিনই তাদের সঙ্গে জার্মান ভাষায় কথা বললো। মাহিন জার্মানে ফুল কোর্স করেছে, দুই বছরের।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তারপর একাউন্টিং এ মাস্টর্স করেছে। তাই এই ভাষাটা দারুণ ভাবে রপ্ত করেছে সে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">যাইহোক, পাসপোর্ট চেক করে যথারীতি কয়দিন থাকবো জিজ্ঞাসা করে সিল ছাপ্পর মেরে চলে গেল। এরপর আধাঘন্টার মধ্যেই ট্রেনটি ঐ বিশেষ জায়গাটিতে চলে এলো যদিও বেশ খানিকটা দূরে। তবুও দেখা যাচ্ছিল। দূর থেকে নায়াগ্রার মত। কিন্তু আসলে অত বড় নয়। তবু অসাধারণ ফলস এবং তার চারপাশ। অসম্ভব মনোমগ্ধকর।</p>



<p class="wp-block-paragraph">যাইহোক আমরা সাড়ে তিনটার মধ্যে স্টুটডার্ট এ চলে এলাম। খুব বড় স্টেশনটা। আসবার পথে রায়হান এবং আমি যথাক্রমে ভাইয়ের সাথে ফোনে কথা বলেছি। ভাবীর সাথেও বললাম। ভাবীতো বললো, আমি অনেক্ষণ হলো রেডী হয়ে, তোমার ভাইয়ের দোকানে চলে এসেছি। একটু পর স্টেশনের দিকে রওয়ানা দিব। আমি বললাম কতক্ষণ লাগবে স্টেশনে আসতে? বললো ৪৫ মিনিটের মত ট্রাফিক না থাকলে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">অবশেষে আমরা স্টুটগার্টে অবতরণ করলাম। পরের ট্রেনে উঠবো ২ ঘন্টা পর। আমরা ঠিক করেছি, ভাই এলে আড্ডা মারতে মারতে লাঞ্চটাও সেরে ফেলবো কোন একটা রেস্টুরেন্টে। এদিক ওদিক দেখছি, ভাই আসেনি। এরপরতো ফোন চালাচালি হচ্ছে একভাবে। তখন ভাবীই কথা বলছিল। বললো, দোকানে হঠাৎ কি একটা প্রব্লেম হয়েছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমরা কি করবো বুঝতে পারছি না। কথা বলতে বলতে স্টেশনের বাইরে চলে এলাম। বেশ একটু বলতে দূরেই চলে এলাম। খুব ছিমছাম শহরটি। তবে সুইজারল্যান্ড থেকে আসবার পর সব কিছু খুব পানসে লাগছে। তবে খুব প্রশস্ত শহরটি। আমরা এক ঘন্টার মত হাটছি ঘুরে ঘুরে। সব কিছু দেখছি। হঠাৎ একটা রেস্টুরেন্ট দেখলাম দূর থেকে, মনে হলো মিডলইস্টের। কাছে গিয়ে রায়হান কথা বললো, ঠিকই এরাও লেবানিজ। আমরা জিজ্ঞাসা করতে বললো সব হালাল। যাইহোক ওখানে পর্ক সেল হয় না। এটাই স্বস্তির কারণ। সবাই একটা করে র‌্যাপ নিলাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">কথার মধ্যে মধ্যে ভাবীর সাথে কথা হচ্ছিল। ভাবী বললো, ভাই একটা কি ঝামেলায় পড়ে গিয়েছে। ভাবীকে খুবই বিব্রত এবং লজ্জিত মনে হলো। রায়হান বললো ঠিক আছে মামি, মামাকে রিলাক্স হয়ে কাজ করতে বলেন, এরকম ঝামেলা হতেই পারে, যেহেতু এটা বিজনেস।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমার অবশ্য খুব মন খারাপ হলো। আমি জানি ভাই এটা ইচ্ছা করে করেনি। তাহলে সে আমাদের স্টুটগার্টে নামতেই বলতো না। বিরাট কোন ঝামেলা ছাড়া ভাই এটা করবে না। তবুও আমি বেশ বিষণ্ন হয়ে গেলাম। অবশেষে আমাদের ট্রেন এসে গেল, আমরা অতপর ফ্রাঙ্কফুর্ট এর উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আবার নতুন কোন সুন্দরের দিকে ধাবিত হলাম। (চলবে)</p>



<p class="wp-block-paragraph">রীনা গুলশান। টরন্টো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">gulshanararina@gmail.com</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
