<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>Literature &#8211; Probashi Kantho</title>
	<atom:link href="https://probashikantho.com/category/literature/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://probashikantho.com</link>
	<description></description>
	<lastBuildDate>Wed, 15 Apr 2026 16:36:25 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.9.4</generator>

<image>
	<url>https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2021/04/thumbnail_thumbnail-150x150.jpg</url>
	<title>Literature &#8211; Probashi Kantho</title>
	<link>https://probashikantho.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>১লা মে কানাডার টরন্টোতে কানাডা জার্নালের প্রকাশনা অনুষ্ঠান</title>
		<link>https://probashikantho.com/2026/04/15/%e0%a7%a7%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%ae%e0%a7%87-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9f%e0%a6%b0%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a7%8b%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%95/</link>
					<comments>https://probashikantho.com/2026/04/15/%e0%a7%a7%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%ae%e0%a7%87-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9f%e0%a6%b0%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a7%8b%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%95/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 15 Apr 2026 16:34:52 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Community]]></category>
		<category><![CDATA[Literature]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=12527</guid>

					<description><![CDATA[আগামী ১ মে শুক্রবার কানাডার টরন্টোতে সেন্ট পল ইউনাইটেড চার্চে (200 McIntosh St, Scarborough, ON M1N 3Z3) অনুষ্ঠিত হতে চলেছে]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p>আগামী ১ মে শুক্রবার কানাডার টরন্টোতে সেন্ট পল ইউনাইটেড চার্চে (200 McIntosh St, Scarborough, ON M1N 3Z3) অনুষ্ঠিত হতে চলেছে সাহিত্য প্লাটফর্ম কানাডা জার্নাল আয়োজিত প্রকাশনা উৎসব। এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন টরন্টোর অগ্রগণ্য বাঙালি সংস্কৃতিজন ড. ইখতিয়ার ওমর। বিশেষ অতিথির আসন অলঙ্কৃত করবেন খ্যাতিমান উদ্যোক্তা গোরা আদিত্য। টরন্টোর চার পোয়েট লরিয়েট জর্জ এলিয়ট ক্লার্ক, অ্যান মাইকেলস, এ এফ মরিৎজ, এবং লিলিয়ান অ্যালেন ছাড়াও বিপুল সংখ্যক বাঙালি অবাঙালি লেখক এই আয়োজনে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full is-resized"><img fetchpriority="high" decoding="async" width="400" height="200" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/04/Subrata_Dada_10th-April_2026-21.jpg" alt="" class="wp-image-12528" style="aspect-ratio:2.0000781311039924;width:543px;height:auto" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/04/Subrata_Dada_10th-April_2026-21.jpg 400w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/04/Subrata_Dada_10th-April_2026-21-300x150.jpg 300w" sizes="(max-width: 400px) 100vw, 400px" /><figcaption class="wp-element-caption">সদ্য প্রকাশিত বই ‘কানাডায় একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা’ বই নিয়ে সাপ্তাহিক বাংলামেইল এবং এনআরবি টেলিভিশনের পক্ষে শহিদুল ইসলাম মিন্টু, ব্যারিস্টার সূর্য চক্রবর্তী, সম্পাদক সুব্রত কুমার দাস, ইমিগ্রেশন কন্সালট্যান্ট মনীষ পাল এবং মর্টগেজ এজেন্ট বজলুর মারুফ। -ছবি দীপক সূত্রধর  </figcaption></figure>
</div>


<p>প্রকাশনা অনুষ্ঠানে সাম্প্রতিক যে তিনটি প্রকাশনাকে উন্মোচন করা হবে সেগুলো হলো বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক সুব্রত কুমার দাস সম্পাদিত ‘কানাডায় একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা’, কলকাতা থেকে প্রকাশিত কবি শ্যামশ্রী রায় কর্মকার সম্পাদিত সাহিত্য সাময়িকী ‘সাহিত্য এখন’ এবং লন্ডন থেকে প্রকাশিত কবি উদয় শংকর দুর্জয় সম্পাদিত ‘পোয়েট্রি আউট লাউড’ সাহিত্য সাময়িকীর কানাডার সাহিত্য বিষয়ক সংখ্যা।</p>



<p>প্রকাশনা অনুষ্ঠানে যে অতিথিদের উজ্জ্বল উপস্থিতি থাকবে তাঁরা হলেন &nbsp;বিচেস-ইস্ট ইয়র্ক সংসদ সদস্য নাথানিয়েল এরিস্কিন স্মিথ, স্কারবোরো সাউথ ওয়েস্ট সিটি কাউন্সিলর পার্থি ক্যান্ডেভাল, এবং বিচেস-ইস্ট ইয়র্ক সিটি কাউন্সিলর ব্রাড ব্রাডফোর্ড।</p>



<p>সামগ্রিক এই আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছেন ব্যারিস্টার সূর্য চক্রবর্তী, ইমিগ্রেশন কন্সালট্যান্ট মনীষ পাল এবং মর্টগেজ এজেন্ট বজলুর মারুফ। অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার সাপ্তাহিক বাংলামেইল এবং এনআরবি টেলিভিশন।&nbsp; &nbsp;</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full is-resized"><img decoding="async" width="400" height="642" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/04/Canadai.jpg" alt="" class="wp-image-12529" style="aspect-ratio:0.6230437851388517;width:325px;height:auto" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/04/Canadai.jpg 400w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/04/Canadai-187x300.jpg 187w" sizes="(max-width: 400px) 100vw, 400px" /></figure>
</div>


<p>ঢাকা থেকে গত বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে সুব্রত কুমার দাস সম্পাদিত ‘কানাডায় একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা’। রয়েল পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত এই গ্রন্থে কানাডার যে বাঙালিদের লেখা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে অশোক চক্রবর্তী, ড. দিলীপ চক্রবর্তী, তাজুল মোহাম্মাদ, সৈয়দ ইকবাল, শাহানা আকতার মহুয়া, আকবর হোসেন, বায়াজিদ গালিব, মেজর (অব.) সুধীর সাহা, সুজিত কুসুম পাল, স্বপন বিশ্বাস, রূমানা আহমদ চৌধুরী, ফুয়াদ চৌধুরী, হাসান মাহমুদ, সুলতানা শিরীন সাজি, সেলিনা শেলী, তসলিমা হাসান, ডক্টর ঝর্ণা চ্যাটার্জী, শহিদুল ইসলাম মিন্টু, নিরঞ্জন রায়, সুব্রত কুমার দাস, সুপর্ণা মজুমদার, ড. বাদল ঘোষ, রোকসানা পারভীন শিমুল, জয়ন্তী রায়, লতিফুল কবির, রোকসানা লেইস, রঞ্জনা ব্যানার্জী, তাসমিনা খান, কাজী হেলাল, আবদুল হাসিব, রথীন ঘোষ, আহমেদ হোসেন, ডক্টর শান্তনু বণিক, সুশীল কুমার পোদ্দার, শেখর ই গোমেজ, শুভ্রা শিউলী সাহা, ফাহমিদা নীপা, ঋতু মীর, অমলেন্দু ধর, স্বপন কুমার দেব, রেশমা মজুমদার শম্পা, অসীম ভৌমিক, আশীষ রায়, সৈয়দা রোখসানা বেগম, ঋতুশ্রী ঘোষ, আসমা অন্বেষা,  রতন সাহা, অতনু দাশ গুপ্ত, দেবাঞ্জনা মুখার্জী ভৌমিক,  ফারহানা আইরিন, ডা. সৈয়দ আযম মোহাম্মদ,  শাহজাহান কামাল, জাকারিয়া মুহাম্মদ মঈন উদ্দিন, হোসনে আরা জেমী, ড. জান্নাতুল ফেরদৌস,  প্রতিমা সরকার, পূর্বাশা চৌধুরী<strong>, </strong>মাহবুব ওসমানী<strong>, </strong>মনীষ পাল, মম কাজী, নারগিস দোজা,  মিত্রা চট্টোপাধ্যায়, রওশন আরা বেগম, ড. জান্নাতুল নাইম, রুমা বসু, সামিনা চৌধুরী, শ্রেয়সী বোস দত্ত, তাহমিনা সুলতানা, হাবিবুল্লাহ দুলাল, মানসী সাহা, জেবুন নাহার।  </p>



<p>উল্লেখ করা যেতে পারে যে, কানাডার সাহিত্য নিয়ে ‘সাহিত্য এখন; নামের সাময়িকীটির বর্তমান সংখ্যার উন্মোচন হয় গত ২৭ ডিসেম্বর কলকাতার। কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রিগুণা সেন মিলনায়তনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কবি, লেখক, অনুবাদক, গবেষকের উপস্থিতিতে এই বিশেষ সংখ্যার পাঠ-উন্মোচনে মঞ্চে সম্পাদক শ্যামশ্রী রায় কর্মকার, কবি ও ফরাসি কবিতার অনুবাদক সৈয়দ কওসর জামাল, সাহিত্য অকাদেমির ইন্ডিয়ান লিটারেচার পত্রিকার প্রাক্তন সহ-সম্পাদক শান্তনু গঙ্গোপাধ্যায়, নদী বিশেষজ্ঞ সুপ্রতিম কর্মকারের সাথে উপস্থিত ছিলেন কানাডার সাহিত্যিক সুব্রত কুমার দাস। এই সংখ্যাটি প্রকাশে টরন্টোর যে তিন সাহিত্যপ্রেমী বন্ধু কানাডা জার্নালের সাথে এই প্রকাশনাকে সফল করেছেন তারা হলেন কবি কাজী হেলাল, অভিবাসন পরামর্শক লেখক মনিষ পাল এবং সাহিত্যানুরাগী রিয়েলস্টেট ব্যবসায়ী চিন্ময় দাস।</p>



<p>পত্রিকার এই &nbsp;সংখ্যাটিতে কানাডার মার্গারেট অ্যাটউড, অ্যালিস মানরো, মাইকেল ওনডাটজে &nbsp;লেখা প্রসঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি প্রকাশিত হয়েছে জর্জ এলিয়ট ক্লার্ক, লিলিয়ান অ্যালেন, অ্যান মাইকেল, এ এফ মরিৎজে প্রমুখ কানাডীয় সাহিত্যের নক্ষত্রপ্রতিম কবিদের কবিতার অনুবাদ। প্রায় এক বছরের অধিক সময় ধরে সুব্রত কুমার দাস ও শ্যামশ্রী রায় কর্মকার এই সংখ্যার পরিকল্পনা করেছেন। তাঁরা নিরলস পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে বৃহত্তর পাঠকের সামনে কানাডীয় সাহিত্যকে তুলে ধরতে সমর্থ হয়েছেন।</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full is-resized"><img decoding="async" width="400" height="734" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/04/POL.jpg" alt="" class="wp-image-12530" style="aspect-ratio:0.5449494411921235;width:336px;height:auto" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/04/POL.jpg 400w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/04/POL-163x300.jpg 163w" sizes="(max-width: 400px) 100vw, 400px" /></figure>
</div>


<p>এই সংখ্যায় মার্গারেট অ্যাটউডের সাহিত্য নিয়ে লিখেছেন বিশিষ্ট কবি যশোধরা রায়চৌধুরী, লন্ডন প্রবাসী লেখক উদয় শংকর দুর্জয় এবং কানাডার ব্রাম্পটন প্রবাসী পণ্ডিতজন দিলীপ চক্রবর্তী। কানাডায় আদিবাসী সাহিত্য নিয়ে একটি তথ্যপূর্ণ প্রবন্ধ লিখেছেন শ্রেয়সী বোস দত্ত। অ্যালিস মানরোর ছোটগল্প নিয়ে লিখেছেন অনিন্দ্য পাল। অ্যান মাইকেলসের উপন্যাসে নিউরন মিউজিক সম্বন্ধে লিখেছেন সুজিত কুসুম পাল। লিলিয়ান অ্যালেনের বিপ্লবী লেখা নিয়ে লিখেছেন মম কাজী। তাসমিনা খান লিখেছেন সাহিত্যিক জর্জ এলিয়ট ক্লার্কের লেখা নিয়ে। মাইকেল ওন্দাটজের পোয়েটিক্স দর্শন নিয়ে লিখেছেন অমিত সরকার। জান্নাতুল নাইম কানাডিয়ান কবি রুপি করের কবিতা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ লেখা লিখেছেন। বঙ্গদেশে ক্যানলিটের চর্চা নিয়ে লিখেছেন ড. রাশিদ আসকারী।</p>



<p>কানাডীয় কবিদের এক গুচ্ছ কবিতার ভূমিকাসহ অনুবাদ করেছেন সুরেশ রঞ্জন বসাক। এ. এফ. মরিৎজের কবিতার উপর চর্চা করেছেন সামিনা চৌধুরী। বিশ্ব সাহিত্যে অ্যালিস মানরোর অসীম ভূমিকা নিয়ে লিখেছেন হাসান জাহিদ। পত্রিকাটিতে কানাডার গল্পকার ম্যাভিস গ্যালান্টের গল্প অনুবাদ করেছেন শান্তনু গঙ্গোপাধ্যায়, হিমানী ব্যানার্জির গল্প অনুবাদ করেছেন বিতস্তা ঘোষাল ও সত্যব্রত ঘোষ, অভিজিৎ পালচৌধুরী অনুবাদ করেছেন মাদেলেইন থিয়েনের গল্প, পত্রিকার সম্পাদক শ্যামশ্রী রায় কর্মকারের লেখনীতে অনূদিত হয়েছে মাইকেল ক্রামির গল্প। মাইকেল ওনডাটজে গল্প অনুবাদ করেছেন অমিত সরকার।</p>



<p>পত্রিকায় কানাডার কবি জর্জ এলিয়ট ক্লার্ক, এ. এফ. মরিৎজ, লিলিয়ান অ্যালেন, অ্যান মাইকেলস, কে গান্ধার চক্রবর্তী, দয়ালি ইসলাম ও অ্যান কার্সনের কবিতার নির্ভরযোগ্য অনুবাদ করেছেন জেনিথ রায়, বেবী সাউ, অর্পিতা কুণ্ডু, শ্যামশ্রী রায় কর্মকার, সুব্রত কুমার দাস, সোমা দত্ত, সায়ন রায়, জয়িতা ভট্টাচার্য এবং গৌরাঙ্গ মোহান্ত।</p>



<p>কানাডার সাহিত্য নিয়ে রচিত দুটি বই নিয়ে আলোচনা করেছেন বরুণ কুমার বিশ্বাস এবং অরিত্র দ্বিবেদী। বইদুটি হলো সুব্রত কুমার দাস রচিত ‘কানাডার সাহিত্য’ এবং সুরজিৎ রায় মজুমদার অনূদিত ‘কানাডার কবিতা’।</p>



<p>পত্রিকাটির ইংরাজি বিভাগে সুব্রত কুমার দাস ও জেনিথ রয় লিখেছেন যথাক্রমে কানাডার সাহিত্য কী এবং অ্যান মাইকেলসের উপন্যাস হেল্ড নিয়ে। কানাডার কবি গিয়োভানা রিচিও, প্যাট্রিক কোনরস, বিয়াট্রিজ হাউসনার, আনা ইন, পিজে ইউকন, গ্রেগরি বেটস, জিম জনস্টন, এলিস মেজর, দেবাশীস মণ্ডল, দুর্গাপ্রসাদ পাণ্ডা, মোহাম্মদ জাহিদ, নিশি পুলুগুরথা, পৌলমী চ্যাটার্জি, এবং অবন্তিকা কর্মকারের কবিতাও প্রকাশিত হয়েছে। প্রবালকুমার বসু, সৈয়দ কওসর জামাল, ঋজুরেখ চক্রবর্তী, সেবন্তী ঘোষ, পৌলমী সেনগুপ্ত ও গৌরব চক্রবর্তীর কবিতা ইংরাজিতে অনুবাদ করেছেন যথাক্রমে ঔষ্ণীক ঘোষ, বাপ্পাদিত্য রায় বিশ্বাস, জেনিথ রয় এবং তমোঘ্ন মুখোপাধ্যায়। বাপ্পাদিত্য রায় বিশ্বাসকৃত কবি সুবোধ সরকারের কবিতার দ্বিভাষিক অনুবাদগ্রন্থ নিয়ে আলোচনা করেছেন প্রীতি সান্যাল। উল্লেখ করা যেতে পারে যে এই সংখ্যার অতিথি সম্পাদক ছিলেন সুব্রত কুমার দাস।</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-large is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="732" height="1024" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/04/sahityo-ekhon-732x1024.jpeg" alt="" class="wp-image-12531" style="aspect-ratio:0.7148393987945373;width:351px;height:auto" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/04/sahityo-ekhon-732x1024.jpeg 732w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/04/sahityo-ekhon-214x300.jpeg 214w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/04/sahityo-ekhon-768x1074.jpeg 768w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/04/sahityo-ekhon.jpeg 1068w" sizes="(max-width: 732px) 100vw, 732px" /></figure>
</div>


<p>যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে সাহিত্য সাময়িকী পোয়েট্রি আউট লাউড তাদের সপ্তম সংখ্যাটিতে প্রকাশ করেছে কানাডার সাহিত্য নিয়ে বিশেষ ক্রোড়পত্র। উল্লেখ করা যেতে পারে যে, পোয়েট্রি আউট লাউডের প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বরত আছেন লন্ডন প্রবাসী লেখক উদয় শংকর দুর্জয়। সম্পাদনা পরিচালক হিসেবে রয়েছেন বিশিষ্ট কবি ও অনুবাদক ড. গৌরাঙ্গ মোহান্ত। পত্রিকার উপদেষ্টা সম্পাদক হলেন কবি ডেভিড লী মরগান ও কবি অশোক কর। সম্পাদনা সহযোগী হিসেবে দায়িত্বরত আছেন লুইস হুয়াইবার্ড।</p>



<p>কানাডার সাহিত্য নিয়ে বাঙালি লেখক ও গবেষকদের পরিধিকে সবার সামনে তুলে ধরতে এবং বাঙালি পাঠককে কানাডার সাহিত্য বিষয়ে আগ্রহী করতে পোয়েট্রি আউট লাউড এ বছর উদ্যোগ গ্রহণ করে কানাডার সাহিত্য নিয়ে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশের। এই &nbsp;সংখ্যায় ১৯৭২ সালে প্রকাশিত কানাডার অগ্রগণ্য কবি ও সাহিত্য উদ্যোক্তা মার্গারেট অ্যাটউডের সারভাইভাল নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেছেন পণ্ডিতজন ড. দিলীপ চক্রবর্তী। বাংলাদেশে কানাডীয় সাহিত্যের পাঠ ও চর্চা নিয়ে লিখেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক প্রফেসর ড. রাশিদ আসকারী। কানাডীয় সাহিত্যে বিশ্বসাহিত্যের উপস্থিতি নিয়ে লিখেছেন সুব্রত কুমার দাস। এছাড়া কানাডার আদিবাসী লেখকদের সাহিত্যকর্ম নিয়ে লিখেছেন শ্রেয়সী বোস দত্ত।</p>



<p>কানাডার প্রধান যে কবিদের কবিতা দিয়ে এই সংখ্যাটি সাজানো হয়েছে তাঁরা হলেন অ্যান মাইকেলস, জর্জ এলিয়ট ক্লার্ক, এ এফ মরিৎজ এবং লিলিয়ান অ্যালেন। টরন্টোর প্রাক্তন তিন পোয়েট লরিয়েট এবং বর্তমান পোয়েট লরিটের কাব্যজগৎ ও কাব্য চর্চা নিয়ে লিখেছেন কানাডার চার বাঙালি লেখক সুজিত কুসুম পাল, সামিনা চৌধুরী, তাসমিনা খান এবং মম কাজী।</p>



<p>ক্রোড়পত্রের সম্পাদনার দায়িত্বে ছিলেন সুব্রত কুমার দাস।</p>



<p>কানাডা জার্নালের পক্ষে সুব্রত কুমার দাস টরন্টো ও পার্শ্ববর্তী শহরগুলোর সকল আগ্রহী বন্ধুকে উপস্থিত থাকতে আহ্বান জানিয়েছেন। -সংবাদ বিজ্ঞপ্তি<strong></strong></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://probashikantho.com/2026/04/15/%e0%a7%a7%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%ae%e0%a7%87-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9f%e0%a6%b0%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a7%8b%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%95/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>নিভৃতে</title>
		<link>https://probashikantho.com/2026/03/04/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%ad%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a7%87-16/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 04 Mar 2026 20:35:28 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Literature]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=12421</guid>

					<description><![CDATA[রীনা&#160;গুলশান (পূর্ব প্রকাশিতের পর) ১৫ আজকের আকাশটা খুব পরিস্কার। বেশ রোদেলা দুপুর। ঝকঝকে চারপাশ। ফাবিয়ান নাওমীর কথিত পোশাকটাই পরলো। তারপর]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p><strong>রীনা</strong><strong>&nbsp;</strong><strong>গুলশান</strong></p>



<p>(পূর্ব প্রকাশিতের পর)</p>



<p>১৫</p>



<p>আজকের আকাশটা খুব পরিস্কার। বেশ রোদেলা দুপুর। ঝকঝকে চারপাশ। ফাবিয়ান নাওমীর কথিত পোশাকটাই পরলো। তারপর কেমন যেন খুব দ্বিধান্বিত মন নিয়ে ডোরিনদের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলো। ওখানে যেয়ে দেখলো রোডিকা আন্টি বেশ রান্না নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। আর আঙ্কেল কেভিন একটা খুরপি হাতে বাগানের তদারকিতে ব্যস্ত। ডোরিনকে আশেপাশে দেখা গেল না।</p>



<p>(পূর্ব প্রকাশিতের পর)</p>



<p>ফাবিয়ান আঙ্কেল, আন্টিকে হ্যালো বলতেই দুজনেই ছুটে এসে ওকে জড়িয়ে ধরলো। আসলে রোডিকা আর কেভিন এক প্রকার ওকে পুত্র সমানই মনে করে। ওদেরও অনেক স্বপ্ন ছিল ফাবিয়ানকে নিয়ে। যে ফাবিয়ান ওদের হাতের উপর হয়েছে। স্বপ্ন ছিল একদিন ফাবিয়ান তাদের জামাই হবে। এখনও পর্যন্ত রোডিকার সাথে সারার সপ্তাহে অন্তত দুইবার কথা হয়। এবং সেসব কথার ৮০ ভাগই প্রায় ডোরিন আর ফাবিয়ানের সম্পর্কিত। যদিও এখন প্রায় সবই ওলটপালট হয়ে গেছে। তবুও হঠাৎ করে গত রাতে ফাবিয়ানকে দেখে নির্বাপিত আশা আবার জেগে উঠেছে।</p>



<p>: এসো বাবা এসো, একেবারে ঘরেই চলে আসো- রোডিকা ফাবিয়ানের হাত ধরে একেবারে ফামিলি রুমে নিয়ে বসলো। তারপর ‘ডোরিন’ ‘ডোরি দ্যাখ কে এসেছে’- বলেই হাকডাক শুরু করলো। কেভিন আঙ্গেলও ফাবিয়ানের পাশে বসেই বউকে বললো-</p>



<p>: বুঝলে ফাবির সেই প্রিয় তরমুজের স্মুতি নিয়ে আসো।</p>



<p>: আঙ্কেল, আপনার এখনও মনে আছে?</p>



<p>: কি বলিস, মনে থাকবে না? ছোটবেলায় তোর আর ডোরিনের যন্ত্রণায় ওটা বানানোর উপায় ছিল নাকি? নিজেদের ভাগেরটাতো খেতিসই আবার আমাদের ভাগেরটাও চুরি করে খেয়ে ফেলতিস।</p>



<p>: হা&#8230; হা&#8230; মাই গড! আপনিতো দেখি সবই মনে করে রেখেছেন।</p>



<p>কথা বলতে বলতেই রোডিকা ফাবিয়ানকে সল্টেড কাজু বাদাম এনে দিল। নিজেই বাড়িতে ভেজেছে তেল ছাড়া। এটাও ফাবির খুউব প্রিয়। একটু পরই ওকে ক্রিম দিয়ে ফেনায়িত কফি এনে দিল। আঙ্কেল কেভিন আবার টিপ্পনি কাটলো-</p>



<p>: হু! ছেলেকে পেয়ে আর আমার কথা মনে নাই!</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full"><img loading="lazy" decoding="async" width="288" height="457" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2024/09/নিভৃতে.jpg" alt="" class="wp-image-9956" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2024/09/নিভৃতে.jpg 288w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2024/09/নিভৃতে-189x300.jpg 189w" sizes="(max-width: 288px) 100vw, 288px" /></figure>
</div>


<p>: শুনলি ফাবি, ৩ কাপও বেশি নয়। আর হবে না। একেবারে লাঞ্চের পর। তোর পছন্দের খাবার সব বানিয়েছি আজ।</p>



<p>: তাই নাকি? কি বানিয়েছো আজ?</p>



<p>: আমি বাপু তোমার নন্নার মত তো রাঁধতে তো পারবো না, ফিস বেক করেছি, বিফ বল দিয়ে পাস্তা করেছি। আর তোর প্রিয় ল্যাম্ব এর স্যুপ করেছি। সাথে গারলিক ব্রেডও বানিয়েছি।</p>



<p>: ঙগএ! আন্টি আমার তো জিভে জল এসে গেছে।</p>



<p>হঠাৎ করেই কেভিন ‘ডোরিন’ ডোরিন বেবী বলে চিৎকার করে ডাকাডাকি শুরু করলো-</p>



<p>: এই মেয়েটার যে কি হয়েছে না, ছুটির দিন হলেই হলো, আর ঘুম ভাঙবেই না। বেলা প্রায় ১২টা, ওঠরে মেয়ে।</p>



<p>একটু পরই ডোরিন এলো কালো রঙের একটা হট প্যান্ট পরা, উপরে হালকা বেগুনি রঙের হাতকাটা ১টি টপস পরা। সেই কোমর পর্যন্ত ঢেউ খেলানো চুল, এখন সেটা বয়কাট দেওয়া। বাপের কাছে এসে আদুরী বেড়ালের মতন বসে বাবার গলা জড়িয়ে আদর করলো। তারপর যেন ফাবিয়ানকে দেখলো। খুবই ফরমাল কায়দায় বললো-</p>



<p>: ওহ্! ফাবিয়ন, তুমি? আচ্ছা কেমন আছো? অনেক দিন পর দেখা হলো বল! আমরা তো মনে করলাম তুমি বুঝি ইটালিকে ভুলেই গিয়েছো।</p>



<p>: কি যে বল, নিজের দেশ- দেশের মাটি; একি ভোলা যায়। কাগজপত্রের সমস্যা ছিল। এখন সব ঠিকঠাক হওয়াতে চলে এলাম।</p>



<p>: খুব ভাল করেছো, একদম পারফেক্ট সময়েই এসেছো।</p>



<p>: মানে, ঠিক বুঝলাম না। ফাবিয়ান খুউব অস্বস্তি নিয়ে বললো। ঠিক বুঝতে পারছে না ডোরিন আসলে কি বলতে চাইছে।</p>



<p>ডোরিন খুউব উৎফুল্ল মেজাজে হঠাৎ উল্লসিত চিৎকার করলো-</p>



<p>: মাম্&#8230; মাম্&#8230; জানো গত রাতে ম্যাথিউস আমাকে সরাসরি বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছে! এই দ্যাখো, বলেই তার রুবি হীরক খচিত বাম হাতের অনামিকা বাড়িয়ে ধরলো। ডোরিনের অনাকিমায় রুবী, হীরকের দ্যুতি ওর চোখ দিয়ে বের হচ্ছিল। অসাধারণ একটা আনন্দে উদ্ভাসিত অবয়ব।</p>



<p>ফাবিয়ানের হঠাৎ করেই অদ্ভুত একটা অনুভূতি হলো। মনে হলো বুকের ভেতরে বসে থাকা অনেক ভারী একটা পাথর যেন গড়িয়ে গড়িয়ে নেমে গেল। অদ্ভুত একটা আনন্দের অনুভূতিতে তার সমস্ত স্বত্ত্বা ছেয়ে গেল। শুধু পকেটের মধ্যে নাওমীর কিনে দেওয়া পান্না আর হীরা বসানো আংটিটির অস্তিত্বে দারুণ অস্বস্তি হচ্ছিল। নিজেকে কেমন যেন চোর চোর লাগছিল। রোডিকা আন্টির বাসায় আসবার মুহূর্তে নন্না আংটিটি দিয়ে বলেছিল, যদি দরকার হয়। বুঝলি ফাবি, তোর পকেটে করে নিয়ে যা। হঠাৎ করে মনে হলো, কিছুটা সময় যেন পৃথিবীটা স্তব্ধ হয়ে রইলো। রোডিকা আর কেভিনও কোন কথা বলছে না। তারা খুব ভালো লাগায় নাকি খুব কষ্টে কেমন যেন স্তব্ধ নিশ্চুপতায় ঝিম মেরে রইলো। হঠাৎ করে সমস্ত নির্জনতাকে উপেক্ষা করে ফাবিয়ানের উল্লসিত চিৎকার ধ্বনি পরিবেশটাকে হালকা করে দিল-</p>



<p>: ঙগএ! অভিনন্দন। অনেক অনেক অভিনন্দন। বাপরে আমার ছোট্টবেলার খেলার সাথিটা যে এত্ত বড় হয়ে গেছে, ভাবতেই পারিনি! সত্যি বলছি ডোরিন, আমার খুশিতে নাচতে ইচ্ছা করছে!</p>



<p>: ওকে, বিয়ের দিনেই নাচটা কি রকম করো সেটা দেখিয়ে দিও সবাইকে। ডোরিনও উদ্ভাসিত কন্ঠে বললো। তারপর ডোরিন এই প্রথম তার কানাডার জীবনযাপন সম্পর্কে নানান প্রশ্ন করতে শুরু করলো! ফাবিয়ানও খুব ক্যাজুয়ালী জবাব দিয়ে যেতে লাগলো।</p>



<p>এরপর ফাবিয়ান এক এক করে ওদের গিফট দিল। রোডিকা এবং কেভিন তাদের গিফট পেয়ে খুবই খুশি হলো। ডোরিনের জন্য ফাবিয়ান নিজেও অনেক কিছু কিনেছিল। আবার নাওমীও কয়েকটা উপহার দিয়েছিল। ডোরিন খুব উদ্ভাসিত হলো। বিশেষ করে ‘ল্যান্ড কম’-এর কসমেটিক্স-এর সেটটা দেখে খুবই খুশি হলো।</p>



<p>: ফাবি- তুমি এত দামী উপহার এনেছো, কি দরকার ছিল বলতো! তারপর আবার এত দামী দামী ব্রান্ডেড জামা-প্যান্ট এনেছো!</p>



<p>: তোমার জন্য না আনলে কার জন্য আনবো? বলত? তুমি আমার ছোট বেলার একমাত্র বন্ধু।</p>



<p>: খুউব ভালোই হয়েছে। আমার বিয়েতে তোমার দেওয়া কসমেটিক্সই ঁংব করবো।</p>



<p>: আগে জানলে তো ম্যাথিউ-এর জন্য বিয়ের স্যুটটা আমিই আনতাম।</p>



<p>: অনেক ধন্যবাদ! ফাবি, তুমি এই কথা বললে বলে। তবে, ওটার দরকার নাই। আমার বিয়ের গাউন আর ম্যাথিউ-এর স্যুট- ওর বোন নিকোল নিজেই আনবে প্যারিস থেকে। দরকার হলে আমি এখান থেকে ফিটিং করে নিবো।</p>



<p>এরপর ওরা দুজন কথা বলতে বলতে ওদের ছোট বেলার সেই লেকের পাড়ে চলে গেল। সেই লেকের পাড়ে ফাবিয়ান কত মাছ ধরেছে। আর ডোরিন দুষ্টুমি করে ঢিল ছুড়ে মাছ তাড়িয়েছে। ফাবিয়ান বারবার স্মৃতি তাড়িত হয়ে যাচ্ছিল। ছোট ছোট এমন সব স্মৃতি ওর হৃদয়ে ফিরে ফিরে আসছিল যা কিনা এখন খুবই বাহুল্য। তবু আজ কেন জানি সেগুলোই প্রচন্ড মূল্যবান হয়ে ফিরে আসছিল। তার হঠাৎ করে অসম্ভব আবেগের তাড়িত হয়ে গলার কাছে একটা কান্নার কষ্ট দলা পাকাচ্ছিল। তবু হৃদয়ের অন্য স্বত্ত্বা ভাবছিল অন্য কথা। তার কোন অনুভূতিই ডোরিনের সামনে প্রকাশ করা উচিত হবে না। হয়তো অনেক কষ্টের পর ডোরিন তার জীবনে আবার ভালো লাগা, ভালোবাসা পেয়েছে। ফাবিয়ান তা কোনভাবেই নষ্ট করে দিতে পারে না। ফাবিয়ানের এটাই বার বার মনে হচ্ছিল। একটা সময় পরে জীবনে এমন একটা সময় আসে যখন মনে হয়, এবার সেই কাক্সিক্ষত সময়টা এসেছে। যখন সেই পুরনো সময় থেকে নিজেদেরকে বের করে নতুন সময়ের দিকে এগিয়ে নিতে হয়। তবু তার ভেতরে একটা কেন জানি দ্বৈত্য স্বত্ত্বা কাজ করছিল। এক সময়ে খুব ভালো লাগছিল ডোরিন তার কাক্সিক্ষত ফল পেয়েছে।</p>



<p>এতক্ষণ ধরে ম্যাথিউ সম্পর্কে যা সব গল্প শুনলো তাতে করে এটুকু বোঝা যায়, মানুষ হিসাবে ম্যাথিউ সত্যিই খুব ভালো মানুষ। এবং বড় হৃদয়ের। তদুপরি ধনী। নিজের সাথে কেন জানি একটা তুলনা চলে এলো। সেতো আজও কোন কিছুই করতে পারলো না। মিউজিকের উপর মাস্টার ডিগ্রিটা ছাড়া তার কিইবা আছে? আজ পর্যন্ত মিউজিকের কোন ব্রেকই পেল না। নিজের একটা বাড়ি, গাড়ি কিছুই নাই। কোন মতে দিন গুজরান করে চলেছে। জীবনে যে ব্রেকের স্বপ্নে এতোটা দিন পার করেছে। স্বপ্নে দেখেছে যে, মিউজিকে সে একটা দিকপাল হয়েছে। নাহ্! কোন স্বপ্নের পাখিরাই তার জীবনে ধরা দেয়নি। এসে এসেও আসে না! তা না হলে ভালো করে দুনিয়া দেখবার আগেই বাবাকে কেন দেখলো না? সেই যে তার বাবা ফ্রাঙ্ক ফ্রাঞ্জিপেনে জার্মান চলে গেল, আর একটি বারও পিছু ফিরে চাইলো না। কেন এমন করলো বাবা? হয়তো সারার প্রতি তার ভালোবাসা শেষ হয়ে গিয়েছিল অথবা কখনোই ভালোবাসা ছিলই না। কিন্তু ফাবিয়ান তো তারই আত্মজ! তারই ঔরশজাত প্রথম সন্তান। একটিবারও কি তার ফাবিয়ানকে দেখতে ইচ্ছা করে না? আর মা! এটা সত্যি মায়ের প্রতিও তার এক ধরনের ক্রোধ, অভিমান কাজ করতো। কারণ, মা-ই তার সব কিছু ছিল! মা, নন্না আর নানা- এরাইতো সব ছিল। তার সমস্ত দুনিয়া। মাও তাকে কিভাবে ছাড়তে পারলো! এতকাল ধরে তার মায়ের প্রতি এরকমই মনোভাব পোষণ করতো। তবে এবারই কেন জানি না এখানে আসার পর থেকে মায়ের জন্য এক ধরনের সেই ছেলেবেলার অনুভূতিগুলো গ্রাস করছে! যেদিন প্রথম ভ্যালেলংগাতে এলো, আর দেখলো তার নন্না কি অসম্ভব একাকিত্ব নিয়ে ইজি চেয়ারে ঘুমিয়ে ছিল। হঠাৎ করে নন্নাকে তার মা সারার মত লেগেছিল। আর তখুনি তার মনে হয়েছিল, তাইতো তার মাওতো এরকমই নন্নার মত একাকী হয়ে যেত। আর সারাতো তখন অপরূপ সুন্দরী ফুটফুটে একটি বালিকা মাত্র। সেই বয়সেই তার মায়ের অসম্ভব আবেগ ও ভালোবাসার ফসল সে। অন্যভাবে বলা যায় তার ভালোবাসার ভুলের ফসল। তবুও ঐ বয়সেও সারাকে একটি বাচ্চার বোঝা দিয়ে যখন ফ্রাঙ্ক পালিয়েই গেল এক রকম, তবুও একটি দিনের জন্যও সারা তাকে বোঝা মনে করেনি অথবা ফাবিয়ানকে নিজের ভুলের ফসল মনে করে অবজ্ঞাও করেনি। বরং দু’হাতে, হৃদয়ের সমস্ত ভালোবাসা আর আবেগ দিয়ে ফাবিয়ানকে বুকে আঁকড়ে রেখেছিলো। কত দিন ফাবিয়ান গভীর রাতে চোখ মেলে দেখেছে, তার মা ঘরের কোণের জানালার উপর মাথা রেখে চুপিচুপি কাঁদছে। তবু কখনো ফাবিয়ানের সামনে তার বাবাকে ধিক্কার পর্যন্ত দেয়নি। বরং একটু বড় হবার পর ফাবিয়ান যখন অনেক কিছু বুঝতে শিখেছে। তার অনেক বন্ধু-বান্ধব হয়েছে, ডোরিন, জেসন, রায়ান ইত্যাদি; ওদেরকে দেখেছে সুস্থ পারিবারিক অবস্থানে। তখন মাকে সে বাবাকে নিয়ে প্রশ্নবানে জর্জরিত করেছে। বেশি প্রশ্ন করলে মা তাকে দু’হাতে জড়িয়ে ধরে আকুল কান্নায় ভেঙ্গে পড়তো। তখন নন্না তাকে নিয়ে যেত। এবং অন্য প্রসঙ্গে তাকে ব্যস্ত করে রাখতো। তারপর ক্রমশই একটু একটু করে তার বাবার কৃতকর্মের কথা সে জানতে পেরেছে। সারার বিয়ের পর যখন ফাবিয়ান খুব ভেঙ্গে পড়েছিল, তখন রোডিকা আন্টিই তার বাবার সব কীর্তিগুলো ডিটেলস-এ বলেছিল। তবুও মা তাকে কখনো বাবার সম্পর্কে কোন খারাপ কথা বলেনি। শুধু পাথর মুখ করে বলতো-</p>



<p>: সবই আমার কপালরে ফাবি! না হলে এই রকম হবে কেন?</p>



<p>ফাবিয়ান রেগে ফোস ফোস করে বলতো-</p>



<p>: কপাল না ছাই! দেখবে আমি একদিন বড় হয়ে ঠিকই বাবাকে খুঁজে বের করবো। তারপর একটা ছুরি দিয়ে তাকে খুন করবো।</p>



<p>: ছি! বাবা, ওসব বলতে নেই! আমি কি তোমাকে এই শিক্ষা দিচ্ছি।</p>



<p>শুধু একবার মাকে খুব তীব্র ভাবান্তরে দেখেছিল। তার দ্বিতীয় বিয়ের আগের রাতে হঠাৎ করে ফাবিয়ানের মধ্য রাতে ঘুম ভেঙ্গে গিয়েছিল, কেমন যেন একটা গোঙানির মত শব্দে। তখন ফাবিয়ান দেখেছিল মা মেঝের উপর বসে হাতে একটা কিছু নিয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছিল আর কথা বলছিল। সম্ভবত ওটা বাবার ছবি ছিল।</p>



<p>: কেন, কেন তুমি এমন করলে? কেন এমন করলে? আমার ভালোবাসায় কিসের কম ছিল? যে একবারও পেছন ফিরে চাইলে না? আমাকে কোন যন্ত্রণার সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে গেলে? আমি কেন নির্দ্বিধায় তোমার মত সামনে এগিয়ে যেতে পারছি না? স্টিভেন যে আমাকে পাগলের মত ভালোবাসে, তবু কেন আমি তাকে তোমার মত করে ভালোবাসতে পারছি না? কেন আমর সোনার পাখি ফাবির জন্য কলিজাটা ফেটে যাচ্ছে? আমি আমার ফাবিকে কিভাবে একা রেখে চলে যাবো? বল, বল ফ্রাঙ্ক, কেন তুমি আমার সাথে এমন করলে? আরও অনেক কিছু মা বলেছিল কিন্তু ফাবিয়ানের তখন বয়সও কম। ঐ কম বয়সে ঐ সব কথা বোঝার মত সমঝদারী তার হয়নি। তখন ঐ ছোট্ট ফাবিয়ানের ছোট্ট হৃদয়টাতে ছিল এক বুক ভরা ক্ষোভ, দুঃখ, হতাশা। সারাক্ষণ মায়ের উপর রাগে আর চাপা যন্ত্রণায় সাপের মত ফোঁস ফোঁস করছে। সবাই মিলে তাকে কত বুঝিয়েছে। মা তাকে জড়িয়ে ধরে অঝোরে কেঁদে চলছিলো। কিন্তু ফাবি কারো কোনো কথাই মানছিল না! তার কেবলই মনে হচ্ছিলো তার বাবা তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছে সেই কোন কালে। একবারও পেছন ফিরে চাইল না। এখন মাও তাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে। মাও আর ফিরে আসবে না। হায় ঈশ্বর! সেই দিনগুলি কি বিভৎস, কি বিভিষিকাময় ছিল। কেউ তাকে বুঝাতে পারছিলো না। সেও কাউকে বুঝতে পারছিল না। নাকি বুঝতে চাইছিলো না। একটি অবুঝ ছোট্ট হৃদয় কেবলই মা হারানোর ভয়ে, বেদনায় মুহ্যমান হয়েছিল। আর সেই ভয়, বেদনা শোক ফাবিয়ানকে এই সুদীর্ঘ পঁচিশ বছর ধরে তাড়িত করেছে।</p>



<p>১৬</p>



<p>আজ অকস্মাৎ এই তার আবাল্যের বন্ধু ডোরিনের অতি আনন্দের প্রগলভতায় তার ভেতরে সুক্ষ্ম ঈর্ষা গভীর বেদনায় আচ্ছন্ন করছে। আর এই বেদনাই মা হারানোর সেই বেদনার কাছে পৌঁছে দিল। কি বিস্ময়কর। তবে কি আসলেই ফাবিয়ান কখনই বড় হয়নি? শুধু শরীরের, বয়সই বেড়েছে! মনটা সেই বয়সেই স্থির হয়েছিল! তা না হলে আজ এই পরিণত শরীরে, মননে ডোরিনের কাছে এসে মায়ের কথা এভাবে মনে পড়ছে কেন? আজ তবে কেন মনে হচ্ছে সে আসলে মায়ের সাথে খুব, খুউব বাজে আচরণ করেছে। সারাটি জীবন সে তার মা’কে ভুল বিচার করে কঠিন সাজা দিয়ে গেছে! একটি বার নিজের থেকে ফোন করেনি, এমনকি মা সুইডেন থেকে ফোন করলে ঠিক মত কথাও বলতে চায়নি। এমনও হয়েছে কোন কোন সময় ফোন কেটে দিয়েছে। অথচ সে ভাল করেই জানে মাই-ই তার বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত খরচা দিয়েছে। যদিও আমান্ডা তাকে বুঝিয়েছে, সেই-ই তাকে টাকা দিচ্ছে! আর যখন সে কানাডা এলো, তার বেশ ভালো অংকের টাকার দরকার পড়েছিল। আমান্ডা তাকে বলেছিলো, আমাকে কিছুটা সময় দে, আমি জমি বিক্রি করে টাকা দিয়ে দিবো। আর তার যাবার সময় তার পাসপোর্ট বানানো, টিকিট এমনকি নগদ পাঁচ হাজার ডলার, যাবার আগে আগে এক স্যুটকেট ভরা শীতের পোশাক সবই সে জানতো নন্না দিয়েছে। আসলে সবই তার মা-ই দিয়েছে। কারণ এবারই এসে সে জানতে পেরেছিল টনি চাচার কাছে (কথা প্রসঙ্গে তাকে বলেছে), তাদের আসলে কোন জমি বিক্রিই হয়নি! ফাবি মনে মনে খুউব অবাক হয়েছিল। কিন্তু নানীকে জিজ্ঞাসা করতে সংকোচ হয়েছিল। হয়তো নানী কষ্ট পাবে। টনি চাচাই তখন বলেছিল, তোমার কানাডা যাবার সময় জমি বিক্রির কথা হয়েছিলো, কিন্তু পরে সারা মা সব টাকা পাঠালো তাই জমি বিক্রি করা লাগেনি।</p>



<p>: এ্যাই ফাবি, তখন থেকে কি অত ভাবছিস? ডোরিনের অকস্মাৎ তার পীঠের উপর একটা ধাক্কা এবং তার চিৎকারে বাস্তবে ফিরে আসে। মনে হলো ফাবিয়ান যেন কোন সুদূর অতীত থেকে ফিরে এলো। ফিরে এলো হাঁটি হাঁটি পা পা, নীল চোখের, ঝাকড়া চুলের ফাবিয়ান; সারার আদরের নয়নের মণি ফাবি। এক সাগর অভিমান সাঁতরে যেন ফাবি অকস্মাৎ মায়ের স্নেহের মোহনায় ফিরে এলো।</p>



<p>হঠাৎ করে ফাবিয়ানের সব কিছু খুউব ভালো লাগলো। এই ঝকঝকে সকাল। টলটলে চিরচেনা লেকের পানি। সারি সারি জলপাইয়ের বৃক্ষের সারি। সব কিছুতেই খুউব ভালো লাগায় ভরে গেল। হঠাৎ করে সেই ছেলেবেলার মত, তার মুখের সামনে দুটো করোতল গোল করে মুখের উপর ধরে চিৎকার করলো-</p>



<p>: ডোরিন, ডোরি- তুই কোথায়?</p>



<p>ডোরিন মনে মনে খুব অবাক হলেও সেও তার করোতল গোল করে মুখের উপর ধরে চিৎকার করলো-</p>



<p>: আমি নেই, হারিয়ে গেছি।</p>



<p>: কোথায়?</p>



<p>: লেকের ভেতরের জলপরীটা আমাকে ধরে নিয়ে বন্দী করে রেখেছে।</p>



<p>তারপর দুইজন ছেলেবেলার মত চিৎকার করে হেসে গড়াগড়ি দিল লেকের পাড়ের ঘন সবুজ ঘাসে! হাসতেই থাকলো দুজনেই যতক্ষণ না দুজনই দুজনকে জড়িয়ে ধরে ঝর ঝর করে কেঁদে ফেললো।</p>



<p>আর তখনই দুজনই এক সাথে অনুভব করলো গত ৬/৭ বছরে তাদের মনের ভেতরে যে মেঘ জমেছিল, তা এই হাসি এবং কান্নার সাথে সব বৃষ্টির মত ঝরে গেল। ওরা আবার সেই ছেলেবেলার মত লেকের পাড় ধরে ছুটোছুটি করলো। আর দুজনই অনুভব করলো তাদের আজন্মের চিরচেনা সেই বন্ধুত্বের একাত্মতা। ওরা আসলে বন্ধুই। অনেক অনেক বন্ধু। বন্ধুর চেয়েও হয়তো ওরা ভাইবোনের মত। দুজন দুজনের অনেক সুহৃদ। কিন্তু ওরা কখনো প্রেমিক-প্রেমিকা হতে পারেনি।</p>



<p>এই হঠাৎ বোধনে, ওদের হৃদয়ের ভেতর থেকে এক ধরনের অসম্ভব ভালো লাগার আনন্দ উৎসারিত হলো। সেই ভালো লাগায় ওরা আচ্ছন্ন হয়ে রইলো।</p>



<p>তারপর এক সময় ওরা তাই ছেলেবেলার মত হাত ধরাধরি করে ঘরে ফিরলো। রোডিকা আর কেভিনের তো ওদের সেই ছেলেবেলার মত ফেরা দেখে যেন বাক্যস্ফূর্তি হচ্ছিল না। রোডিকা দৌড়ে দৌড়ে টেবিলে খাবার লাগালো। ওরা সেই আগের মত কাড়াকাড়ি করে খেল! যতটা খেলো তার থেকেও বেশি মজা করলো। তারপর এক সময় ফাবিয়ান গভীর স্বরে বললো-</p>



<p>: ডোরিন, আমিতো আরো প্রায় তিন সপ্তাহের মত থাকবো এবং এবারে নন্নাকে নিয়েই যাবো ভাবছি সাথে করে। তো, এর মধ্যে যদি তোর বিয়ের ডেট দিতে পারিস, তো আমিও তোর বিয়েটা দেখে যেতে পারি।</p>



<p>ডোরিনের হঠাৎ চোখ ভরে কান্না এলো। অনেকক্ষণ কথাই বলতে পারলো না। তারপর ফিস ফিস করে বললো, আমি আজই ম্যাথিউ-এর সাথে কথা বলবো। আমি আপ্রাণ চেষ্টা করবো যেন তুই থাকতেই সব হয়ে যায়!</p>



<p>ফাবিয়ান ডোরিনের হাত দুটো নিজের হাতের মধ্যে নিয়ে মধুর হাস্যে বললো, জানিস ডোরি, এর থেকে ভালো আর কি হতে পারে? যেমন করে বাবা-মা অনেক আদরের কন্যাকে খুউব আনন্দে এবং দুঃখে আর একজন ছেলের হাতে তুলে দেয়। তুলে দেবার সময় তাদের দু’রকম প্রতিক্রিয়া হয়। আমার মেয়ে চলে যাবে, আবার একই সময় মনে হবে আমার মেয়ে খুব খুউব সুখে থাকবে। আমারও সেই রকম মনে হবে। যখন তোকে ম্যাথিউর হাতে তুলে দিব। আমার আজীবনের দেখা অবাল্যের সখী ডোরিন চলে যাবে। কিন্তু আমি জানবো, আমার ডোরিন খুউব সুখে থাকবে। ভালো থাকবে।</p>



<p>ডোরিন অনেক ভালোবাসায় ফাবিয়ানকে জড়িয়ে ধরে ওর কাঁধের উপর মুখ লুকিয়ে বললো, ‘জানিস ফাবি, ম্যাথিউ সত্যিই আমাকে খুউব ভালোবাসে। তুই কোন চিন্তাই করিস না।’</p>



<p>দিনের আলো একটু একটু করে চলে গেলো রাতের দিকে। ফাবিয়ান উঠলো, যেতে হবে। নন্না অপেক্ষা করে আছে তার ফাবির জন্য। রোডিকা আন্টি এবং কেভিন আঙ্কেলের কাছে বিদায় নিলো। তারা বার বার বললো,</p>



<p>: তাহলে ঐ কথাই রইলো- ডোরিন ডেট ফিক্সডট করেই তোকে জানাবে। বাকি সব তোর দায়িত্ব।</p>



<p>: হ্যাঁ আন্টি, আপনি কোন চিন্তাই করবেন না। ফাবিয়ান দেখলো ডোরিনের সমস্ত অবয়ব যেন ঝলমল করছে খুশির আলোয়। ফাবিয়ানের বুকের মধ্যে অজানা একটা অনুভূতি। কি জানি কিসের? আনন্দ নাকি বেদনার? নাকি গভীর স্বস্তির! বুকের মধ্যে এক ধরনের অপরাধ বোধ, রাগ, ভালো লাগা, গভীর ভালোবাসা এবং বুঝতে না পারার একটা কাঁটা ওকে গত ৪/৫ বছরে বুকের মধ্যে অবিরত খুঁচিয়েছে।</p>



<p>ফাবিয়ান ডোরিনদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলো। ভেতরের পথ দিয়ে গেলে ২ মিনিটের পথ। কিন্তু ফাবি মেইন রাস্তায় নেমে এলো। রাস্তায় এরই মধ্যে আলো-আঁধারের খেলা। বেশ সুনশান। এটাই চাচ্ছিল ফাবি। ওর একটু একাকী নিজের জন্য সময় দরকার ছিল। ওর কি ডোরিনের জন্য কোন কষ্ট হচ্ছে? না, ফাবিয়ান হাত দিয়ে কপাল থেকে চুল উপরের দিকে উঠিয়ে দিল। হঠাৎ করে প্যান্টের পকেটের মধ্যে ডায়মন্ড আর এ্যামারান্ডের আংটিটির অস্তিত্ব¡ অনুভব করলো। পকেটে হাত দিয়ে ছোট্ট কালো রঙের ‘ চবড়ঢ়ষব&#8217;ং’-এর বক্সটা বের করলো। খুব সুন্দর আংটিটা! ওাভেল আকারের পান্না চারপাশে ডায়মন্ড। দারুন। ৩ থেকে ৪ হাজার ডলার হবেই। পাগলী আস্ত পাগলী, ফাবিয়ান নিজের মনেই ফিসফিস করে বললো এবং মনে মনেই হেসে ফেললো। বাক্সটা আবার পকেটে ঢুকিয়ে দিল। এরপর একটা গভীর স্বস্তির অনুভূতি ফাবিয়ান নিজের মনেই অনুভব করলো। তারপর ওর প্রিয় গানের কলি গুন গুন করে গাইতে গাইতে সামনে এগিয়ে চললো।</p>



<p>ঙপবধহং ধঢ়ধৎঃ ফধু ধভঃবৎ ফধু</p>



<p>অহফ ও ংষড়ষিু মড় রহংধহব</p>



<p>&#8230;&#8230;.</p>



<p>ওভ ও ংবব ুড়ঁ হবীঃ ঃড় হবাবৎ</p>



<p>ঐড়ি পধহ বি ংধু ভড়ৎবাবৎ</p>



<p>জরপযধৎফ গধৎী-র এই গানটি তার মায়ের খুব প্রিয় ছিল। কখন জানি মায়ের ভালো লাগা ফাবির বুকের মধ্যে বাসা বেধেছে। ওহ্! মা, মাগো আমি খুব খারাপ, খুউব খারাপ; তোমাকে কত কষ্ট দিয়েছি। অকস্মাৎ ফাবি চোখে হাত চেপে ধরলো। হু হু করে কেঁদে ফেললো। ইস্, মাকে খুউব কষ্ট দিয়েছে। নাহ্ কাল সকালেই মাকে ফোন করবো। মাকে ইটালি আসতে বলবো। মা তার ফোন পেয়ে কি করবে? রাগ হবে? দুঃখ পাবে? নাকি ফোনই ধরবে না? ওতো ডিজার্ভই করে এর থেকেও খারাপ ব্যবহারের। না, তার মা কখনো এই রকম করবে না। ফাবিয়ান যতই খারাপ ব্যবহার করুক না কেন। কানাডাতে মা কতবার ফোন করেছে, ইস্ ফাবি কি রকম বাজে ব্যবহার করেছে! ওর বুকের মধ্যে নিজের প্রতি একটা ক্রোধ এবং লজ্জা একই সাথে অনুভব করলো।</p>



<p>একটু ঘুরাঘুরি করে রাত ৮টার দিকেই বাসায় চলে এলো। নানী আবার বেশি রাত জাগতে পারে না। তবু গত রাতে তো প্রায় অর্ধেক রাত নন্না জেগে জেগে তার সাথে গল্প করেছে। বাসায় ঢুকতেই দেখলো, নন্না রাস্তার দিকেই তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ফাবিকে দূর থেকে দেখেই একটা স্বস্তির শাস ফেললো। কি জানি, কি হলো ঐ বাড়িতে। কি হলো? না, আমান্ডা দ্রুত মন ঠিক করে ফেললো, সে কিছু জিজ্ঞাসা করবে না। যদি ফাবি নিজের থেকে কিছু না বলে।</p>



<p>ফাবিয়ান বাড়ির বারান্দায় পা দিয়েই নানীকে জড়িয়ে ধরলো গভীর ভালোবাসায়। তারপর বললো, নন্না কিচ্ছু খাবো না। রোডিকা আন্টি অনেক কিছু খাইয়ে দিয়েছে।</p>



<p>: দুধ তো খাবি? এক গ্লাস গরম দুধ শুধু খা সোনা।</p>



<p>: আচছা এখন না, ঘন্টা খানেক পরে দিও। আমি এখন একটু গোসল করবো। তারপর ঘুম পারবো। খুউব ক্লান্ত লাগছে। সকালে একটু কাজ আছে, মাকে ফোন করবো (মনে মনে বললো)।</p>



<p>: আচ্ছা যা, বাথরুমে তোর রাতের পোশাক রাখা আছে।</p>



<p>: নন্না, এই তোমার দোষ। তুমি আমাকে আবার খোঁড়া করে দেবে, আমাকে কিচ্ছু করতে দাও না।</p>



<p>: যা, যা, ডেপোমি করিস না। (চলবে)</p>



<p><em>রীনা গুলশান, টরন্টো<br>gulshanararina@gmail.com<br><em>(লেখক রীনা গুলশান বাংলা সাহিত্যে মাস্টার্স। ইতিপূর্বে বাংলাদেশের বিভিন্ন দৈনিক, সাপ্তাহিক এবং মাসিকে তার কবিতা, ছোটগল্প, প্রবন্ধ, রম্য রচনা প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত হয়েছে কানাডার বিভিন্ন বাংলা পত্রিকাতেও। তিনি ‘প্রবাসী কণ্ঠ’ ম্যাগাজিন এর একজন নিয়মিত কলামিস্ট।)</em></em></p>



<p></p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>নিভৃতে</title>
		<link>https://probashikantho.com/2026/02/08/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%ad%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a7%87-15/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 08 Feb 2026 21:24:33 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Literature]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=12368</guid>

					<description><![CDATA[রীনা&#160;গুলশান (পূর্ব প্রকাশিতের পর) ১৪ফাবিয়ান খুব দ্রুত ওদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলো। খুব ক্লান্ত লাগছে। সারাদিনের এই পথ পরিক্রমণ এবং]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p><strong>রীনা</strong><strong>&nbsp;</strong><strong>গুলশান</strong></p>



<p>(পূর্ব প্রকাশিতের পর)</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full"><img loading="lazy" decoding="async" width="288" height="457" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2024/09/নিভৃতে.jpg" alt="" class="wp-image-9956" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2024/09/নিভৃতে.jpg 288w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2024/09/নিভৃতে-189x300.jpg 189w" sizes="(max-width: 288px) 100vw, 288px" /></figure>
</div>


<p>১৪<br>ফাবিয়ান খুব দ্রুত ওদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলো। খুব ক্লান্ত লাগছে। সারাদিনের এই পথ পরিক্রমণ এবং এই সব কিছু মিলিয়ে খুব খুউব ক্লান্ত লাগছে। মনে হচ্ছে এইটুকু পথও ও হাঁটতে পারছে না। সেকি শুধুমাত্র দীর্ঘ পথ যাত্রা করে এসেছে, তাই? নাকি আশা ভঙ্গের বেদনা? কিসের আশা ভঙ্গ? ও কি এখনো ডোরিনের কাছে কিছু আশা করেছিল যে ডোরিন তার জন্য উন্মুখ হয়ে পথ চেযে বসে আছে? সে আসলেই তাকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেবে? সে পথতো ওদের অনেক আগেই শেষ হয়েছিলো।<br>এতদিন পর নিজেকেই যেন পর্যালোচনা করতে শুরু করলো। নাহ্! এখন ওর কিছু আর ভাবতে ভালো লাগছে না। বড় বড় পা ফেলে বাড়ি চলে এলো।<br>নানী ওর জন্য অধীর হয়ে অপেক্ষমান ছিল। ও যেতে তাড়া লাগালো-<br>: নাহ্ বাবা, তোরা পারিসও বটে! এত দূর থেকে এসেই পাশের বাসায় ছুট লাগালি। কি হতো যদি কাল সকালেই যেতিস?<br>: কিছুই হতো না নন্না, তবে আজ যেয়ে ভালোই হয়েছে! চারপাশের আবহাওয়াটা ভালো করে দেখে এলাম।<br>: ওহ্! তা ডোরিনের সাথে দেখা হলো? আমান্ডার বেশ সাবধানী গলা।<br>: হু! সবার সাথেই দেখা হয়েছে- বলতে বলতে ফাবিয়ান দ্রুত ওয়াশরুমে চলে গেল। নাহলে এই এখনি রাজ্যের কাসুন্দি গাইতে হতো। কি দরকার! ওর এখন গ্যাজাতে মোটেই ইচ্ছা করছে না।<br>গোসল করলো অনেকক্ষণ ধরে। এরপর বেশ ঝরঝরে লাগছে। যদিও মাথাটা এখনো বেশ ভার ভার লাগছে। ভাল একটা ঘুম দিতে হবে। খাবার ঘরে এসে দেখে এরই মধ্যে নানী ২/৩ পদের রান্না করে ফেলেছে।<br>: ইস্! দ্যাখতো কত রাত করে ফেললি। নে এখন ভাল করে পেট ভরে খা।<br>: ওমা, তুমি এত শিঘ্রি এত কিছু করলে কি করে?<br>: থাক, অত ঢং করতে হবে না- খাতো। আহারে আমার সোনারে, না খেয়ে খেয়ে শরীরটাতো দড়ি দড়ি হয়ে গেছে।<br>ফাবিয়ান নানীর কথা শুনে হেসে আর বাঁচে না। ইস্রে, এই সব খাবার আর এই সব নানীর ভালোবাসায় মাখামাখির সংলাপ- কি করে সে এতটা দিন ভুলে ছিল? কিভাবে কাটিয়ে দিল প্রায় ৫টি বছর? ফাবিয়ান খেতে খেতে তার খাবারগুলো আর দেখতে পারছিল না। সব ঝাপসা। চোখ দিয়ে টপটপ করে কান্না ঝরছিল তার অগোচরেই। তারপর চট করে নানীকে লুকিয়ে কান্না বা হাত দিয়ে মুছে ফেললো। নানী দেখলে আবার অনর্থ হবে। খাবার সময় কান্না ভালো কথা নয়। নানীর আবার নানান কুসংস্কার আছে। সে সব মনে করে আবার ফাবির হাসি পেয়ে গেল।<br>খাবার খেয়ে নানীর বিছানায় যেয়ে গড়িয়ে পড়লো-<br>: কিরে, তোর ঘরে যাবি না?<br>: না, তুমি ভালো করেই জান আমি এখন তোমার সাথে গল্প করবো।<br>: কিন্তু এখন অনেক রাত হয়েছে। সারা দিন জার্নি করে এসে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিস। এখন ঘুমিয়ে পড়- বলতে বলতে ফাবিয়ানের কাছে যেয়ে সেও ওকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে পড়লো। তারপর দুজন অনেক রাত ধরে পুটপুট করে কথার মালা গাঁথলো। কখন তারা ঘুমিয়ে পড়লো নিজেরাই জানে না। প্রায় ৯টার দিকে উঠলো আমান্ডা। নিজেই অবাক হলো এত বেলা পর্যন্ত সে কিভাবে শুয়েছিল? তাড়াতাড়ি নাস্তা বানাতে বসলো। টনিকে টাকা দিয়ে বাজারে পাঠালো। সব ফাবিয়ানের প্রিয় জিনিসের লিস্ট দিয়ে। নিজে এক কাপ চা খেল এক পিস বিস্কিট দিয়ে। আর তখনি সারাকে টেলিফোনও করলো।<br>: কি ব্যাপার মা? আজ যে এত্ত সকালে তুমি ফোন দিলে!<br>: হ্যাঁ দিলাম তো? বলতো কেন করেছি এরকম সকাল সকাল?<br>: নিশ্চয়ই রাতে ভালো ঘুম হয়নি। আমাকে নিয়ে কোন বাজে স্বপ্ন দেখেছো, ঠিক বলিনি?<br>: উহু! রাতে আর স্বপ্ন দেখবার সময়ই পেলাম কোথায়? সারা রাত তো প্রায় জেগেই ছিলাম।<br>: না, না- এটা ঠিক নয়। এ বয়সে এরকম রাত জাগা ঠিক নয়। তোমাকে কত বার বলেছি, টনিকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাও। তা নয়, তুমিতো আমার কোন কথাই শুনতে চাও না।<br>: আরে বাপু, এতো আমার দুঃখের জাগরণ নয়। এ আমার সুখের জাগানীয়া। আরে বোকা মেয়ে, তুই এখনো আন্দাজ করতে পারলি না। তোর ছেলে এসেছে, আমার ফাবি…<br>: মা, মা- কি বললে; আমার ফাবি বাবা এসেছে? শেষ পর্যন্ত এসেছে? ওহ্! মা, আজ এই সকালে আমি কার মুখ দেখে উঠেছিলাম। উহ্! আমি, আমি ভাবতেই পারছি না। মা আমি আগামীকালই চলে আসবো, তুমি ওকে বল না কিন্তু। বেশ একটা সারপ্রাইজ দেওয়া যাবে।<br>: সে তো বুঝলাম, তা তুই একাই আসবি- না বাচ্চাদেরও আনবি?<br>: না মা, আমি একাই আসবো। আমি আর ফাবি, এবারে আমাদের সাক্ষাতের মধ্যে কোন তৃতীয় মানুষ রাখতে চাই না। তুমিতো জানো মা, জন্মাবধি আমার পাশে আর কাউকে ও সহ্য করতে পারে না।<br>: ঠিক আছে বাপু, যা ভালো মনে করিস তাই কর।<br>: হ্যাঁ মা, তাহলে মনে রেখ কথাটা। খবরদার যেন ফাবি কোনভাবেই জানতে না পারে আমি আসছি।<br>: আরে বাবা, মনে থাকবে। তবে আমি বলি কি, কয়েকটা দিন পর আয়।<br>: কেন মা?<br>: ওকে একটু সময় দে, হয়তো নিজের থেকেই তোকে আসতে বলতে পারে।<br>: হু, তা ঠিক বলেছো। তবু আমি যখন আসবো ওকে সারপ্রাইজই দিবো কিন্তু।<br>: ওকে বাবা, তাই হবে।<br>আমান্ডা মনে মনে হেসেই আর বাঁচে না। মেয়েটা তার এখনো ছেলে মানুষই রয়ে গেছে। ছোটবেলা থেকেই ওর সবাইকে সারপ্রাইজ করার সখ! সেটা আজও বজায় আছে। ওহ্! আমান্ডা এখন কোনটা রেখে যে কোনটা করবে। এখন ফাবির জন্য তার প্রিয় পিঠা বানাবে। এটা চালের গুড়া আর ময়দা মিশিয়ে মায়ান দিয়ে তারপর রুটির মত বেলে, তার মধ্যে আলু, ডিম, আর স্প্যাগেটি সিদ্ধ মিশিয়ে মধ্যে পেঁয়াজ আর ফ্রেশ গোল মরিচের গুড়ো টমেটোর (খুব বেশি পাকা না) কুচি, কিছু পার্সলি আর রেড চিলির ভাজা গুড়া মিশিয়ে রুটির মধ্যে দিয়ে বেশ টেনিস বলের মতো সাইজ করতে হবে। তারপর স্টিম করতে হবে। গরম গরম খেতে দারুন মজা। সাথে ঘরে বানানো সুইট এ্যান্ড সাওয়ার টমেটো সস তো আছেই। এটা এমনকি ফাবিয়ানের নানারও খুব প্রিয়। একবারে সে ২০/৩০টা পর্যন্ত খেতে পারতো। খুব খানেওয়ালা মানুষ ছিল। তেমনি শক্তিশালীও ছিলো। আমান্ডা মনেমনে ভাবে, সারা এলে আবারও বানাবো।<br>বেশ বেলা হয়েছে। সাড়ে দশটা বাজে। আমান্ডার সব রেডি। ফাবিয়ানতো ওঠে না। পিঠা বানিয়ে গরম স্টিমারের উপর রেখে দিয়েছে। সাথে আবার টমেটোর সস বাদেও অন্য আর একটা চাটনী বানিয়েছে মিনট আর বেজিলের সাথে কাঁচা টমেটোর কাঁথ, ঝাল এবং রসুন দিয়ে (এটা সারা বছরের মত বানিয়ে রাখে) মিশিয়ে বেশ ঝাল ঝাল একটা চাটনি। এটা গাঢ় সবুজ বর্ণের হবে। ফাবিয়ানের খুউব প্রিয়। নাহ্ এবারে ছেলেটাকে ওঠাতে হবে। ঘরে যেয়ে দেখে ফাবিয়ান ভুট হয়ে ঘুমিয়ে আছে। হাত, পা ছড়ানো বেশ আয়েশ করে ঘুমাচ্ছে। যেন কত দিন ঘুমায় না। আহারে আমার সোনার পাখিটা। ওকে ডাকতেও আমান্ডার কষ্ট হচ্ছে। তবুও অনেক বেলা হয়েছে, আর কখন সকালের খাবার খাবে? আমান্ডা ফাবির পাশে বসে ধীরে ধীরে ওর চুলে হাত বুলিয়ে দিল। পিঠে আদরের চাপড় মারলো। তখন ফাবিয়ান সাড়া দিল। উ! নন্না, আর একটু ঘুমাবো।<br>: ওঠ, বাছা আর কত ঘুমাবি? দ্যাখ বেলা কোথায় উঠেছে? একটু পরেই দুপুরের খাবারের সময় হয়ে যাবে, আর সকালের নাস্তাতে তোর সব প্রিয় ডিশ বানিয়েছি। পিঠা বানিয়েছি, খাবি না? ঠাণ্ডা হলে ওগুলো আর ভালো লাগবে?<br>: পিঠা বানিয়েছো?<br>: হ্যাঁরে পাগলা, আবার খেয়ে একটু ডোরিনদের বাসায় যেতে হবে। তোর কেভিন আঙ্কেল তোকে ডাকতে এসেছিল। তুই ঘুম শুনে চলে গেছে। আজ নাকি ডোরিনের ছুটি। পার্লারে যাবে না। তাই হয়তো…<br>: ওহ্! তাই নাকি? আচ্ছা, তুমি খাবার ঘরে যাও, আমি এক দৌড়ে আসছি।<br>ফাবিয়ান ডাইনিং-এ যেয়ে দেখলো মোটামুটি পাহাড় পরিমাণ নাস্তা বানিয়ে আমান্ডা বসে আছে। ফাবি সব নাস্তা অল্প চাখলো, তারপরই পিঠার উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো। আজ তার নানার রেকর্ড ভাঙতে হবে। উহ্! কি মজা, খেতে খেতে ওর আনন্দের চোখটা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ নাওমীর মুখটা মনে হলো, আহারে নাওমী থাকলে পিঠাটা খেতে পারতো। ইস্! নাওমীকে এখনো পর্যন্ত পৌঁছানো সংবাদই দিল না। বড় ভুল হয়ে গেছে। আসবার সময় নাওমী কি দৌড়াদৌড়িই না করেছে। সত্যি বড্ড ভুল হয়ে গেছে।<br>: কিরে, কি ভাবছিস? পিঠা ভাল হয়নি?<br>: আমার খাওয়া দেখে বুঝতে পারছো না?<br>: হু, পারছি তো, হঠাৎ যেন একটু চিন্তিত দেখছি?<br>: হ্যা, নন্না একটা খুউব ভুল হয়ে গেছে। আসবার পর এখনো পর্যন্ত নাওমীকে একটা পৌঁছানো সংবাদ দেইনি। জানো তো মেয়েটা আমার জন্য কিনা করেছে। রায়ানকেও একটা ফোন দিতে হবে।<br>: আহারে সত্যিই বড্ড ভুল করেছিস। আচ্ছা তুই খা, আমি তোর সেল ফোনটা নিয়ে আসছি।<br>আমান্ডা এক দৌড়ে ফাবিয়ানের সেল ফোনট নিয়ে এলো। খেতে খেতেই ফাবিয়ান নাওমীকে রিং দিল। একটি রিং শেষ না হতেই নাওমী হ্যালো বললো। ফাবিয়ান খুব অবাক হলো। আরো অবাক হলো নাওমীর কণ্ঠস্বর খুবই ভাঙা ভাঙা এবং ভেজা কণ্ঠস্বর-<br>: নাওমী, আমি খুবই দুঃখিত দেরীতে ফোন দেবার জন্য। কাল রাতটা আসলে কিভাবে যে গেল বুঝতেই পারিনি। আর আজ এইমাত্র ঘুম থেকে উঠলাম!<br>: ইটস ওকে, ফাবিয়ান। আমি বুঝতে পারছি তোমার পারিপার্শ্বিকতা। কত দিন পর নন্নাকে পেয়েছো। তাছাড়া আরো সব্বাই কে, তাই না? তারপরও যে আমাকে মনে করে ফোন দিয়েছো সে জন্য অজস্র ধন্যবাদ।<br>: নাওমী, তোমার কি হয়েছে? শরীর খারাপ? নিশ্চয়ই খুব ঠাণ্ডা লাগিয়েছো? গলাটা একদম ভেঙ্গে গেছে…<br>: বাদ দাও ওসব, আগে বল নানী কেমন আছে? আমার, হাই বলনা উনাকে প্লিজ।<br>: ওকে বলছি (নন্না তোমাকে নাওমী হাই বলছে- নন্না খুব মধুরভাবে হেসে মাথা নাড়লো)! আর কিছু ম্যাডাম?<br>: হু! বল? ডোরিনকে কেমন দেখলে? ভালো তো?<br>: হু! মন্দ না।<br>: এ আবার কেমন উত্তর! আর শোন, শুধু এনগেজমেন্টই করো না, পারলে একেবারে বিয়েটাও সেরে এসো, বুঝলে?<br>: হুম।<br>: আবার হুম, হয়েছেটা কি তোমার। তোমার তো আবার কিছু মনে থাকে না। তোমার স্যুটকেসের ডানদিকে সেভিং কিটস্ এর ব্যাগের ভেতরেই দেখবে র‌্যাপিং করা ডায়মন্ডের রিং-এর বাক্সটা আছে। আজ যখন যাবে তখন ওটা নিতে ভুলো না। বুঝলে? আর যাবার সময় ভাল করে শেভ করে, ঐ যে দেখো হালকা আকাশী রঙের ‘হুগো বস’ সার্ট- ওটা পরে যেও। আর এ্যাশ রঙের জিনসটা পরবে। বুঝলে বোকাচন্দর!<br>: চেষ্টা করবো, ফাবিয়ান অনেক কষ্টে দীর্ঘশ্বাস চাপলো। একটা মানুষ কোন পর্যন্ত ভালো হলে তার ভালোবাসার মানুষটাকে আর একজন নারীকে হাসতে হাসতে দিয়ে দিতে পারে!<br>: ওকে ফাবি, গুডলাক ফর এভরিথিং।<br>: ধন্যবাদ।<br>: আমান্ডা, অবাক হয়ে ওদের কথা শুনছিল। মেয়েটা শুধু ভালোই না। রীতিমত মহিয়সী রমণী। আমান্ডা ফাবিয়ানর জীবনের সব কিছু জানে। কারণ, ফাবি তার কাছে কিছু গোপন করে না। এমনকি সিসিলিয়ার কথাও। আর বাকিটা গতকাল রাতে ফাবিয়ান তাকে সবই বলেছে। এমনকি আসবার ঘন্টা খানেক আগে ফাবিয়ান আবিস্কর করেছে যে, নাওমী তাকে সেই প্রথম পরিচয়ের শুরু থেকেই ভালোবাসে। এ কথা শোনার পর আমান্ডা একটুও অবাক হয়নি। আমান্ডা উল্টো বলেছে ফাবিয়ানকে-<br>: আমি তো শুরু থেকেই এটাই সন্দেহ করেছিলাম। কিন্তু তোরা পুরুষরা সর্বদা উপরটা দেখিস। সব সময় হীরা ফেলে কাঁচ ধরিস। ভালোবাসার গভীরতায় তোরা যেতেই পারিস না। আর একটা নারীই ক্যাবল এরকম নির্লোভ এবং নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসতে পারে।<br>: নন্না তাহলে সিসিলিয়ার ব্যাপারে কি বলবে?<br>: কিছুই বলবো না, গোবরে যেমন পদ্মফুল হয়- তেমনি গোলাপেও কাঁটা থাকে, মনে রাখিস।<br>এমন নাস্তা করলো যে ফাবিয়ান উঠতেই পারছে না। যাই হোক, নানীকে নিয়ে ঘরে গেল। তারপর স্যুটকেস খুলে সবার গিফট দেখালো। নানীকে নাওমী যা যা দিয়েছিল সব নানীর হাতে দিল। সে নিজেও যার যার জন্য যা কিছু কিনেছিল তাও দিল নানীকে। হার্বাল ওষুধ আর আইস বাম পেয়ে নানী খুব খুশি হলো। তারপর অন্যদের গিফটও দেখালো। নাটালি আর ডেভিডের গিফটও নানীকে দেখালো। এমনকি সারার স্বামী স্টিভেন গ্যালাটির জন্য খুব সুন্দর একটা ব্রান্ডেড ডার্ক ব্লু রঙের ব্লেজার এনেছে। এসব দেখে আমান্ডা খুব অবাক হলো মনে মনে। মুখে অবশ্য কিছু বললো না। এমনকি টনি আঙ্কেলের জন্যও একটা সার্ট এনেছে। কেভিন এবং রোডিকার জন্য পারফিউম এনেছে। সবেশেষে ডোরিনের জন্য আনা একটা দামী পারফিউম, সেটাও নানীকে দেখালো। তারপর ডায়মন্ডের রিংটা অবশেষে নানীর হাতে তুলে দিল, বললো-<br>: এটা তোমার কাছে রেখে দাও। যদি দরকার হয় তোমার কাছে থেকে নিয়ে নিব। যদিও আমি জানি যে আমার মন তৈরি নাই। আবার এটাও মনে হচ্ছে যে, সম্ভবত এ আংটিটার দরকারও হবে না।<br>: তাহলে কিনেছিস কেন?<br>: আমিতো কিনিনি নন্না। ঐ বোকা এবং মহৎ মেয়েটা যার মাথায় ক্যাবলই মহান হবার ভুত চেপেছে। ঐ নাওমীই কিনেছে।<br>: সত্যি! আশ্চর্য! আমার জানিস নাওমীকে খুব দেখতে ইচ্ছা করছে! এত্ত মহৎও কোন মানুষ হয়?<br>: ঠিকই বলেছো। আমি নিজেও আজ ২ দিন ধরে ক্যাবোলই এটাই ভেবে চলেছি।<br>: ফাবি, তোর হাত ব্যাগটাতো খুললি না? ওটার মধ্যে কিরে? বলতে বলতে আমান্ডা নিজেই ব্যাগটার চেইন খুলে ফেললো। দেখলো, ২/৩টা পুরনো সার্ট ফাবির আর একটা রূপালী রঙের র‌্যাপিং পেপারে মোড়া একটা বাক্স।<br>: নন্না, না, না- ওটা খুলো না প্লিজ।<br>: ওকে বাবা, খুলছি না- বলে আমান্ডা মুচকি হাসলো। ও ঠিকই বুঝতে পেরেছে ওর ভেতরে কি আছে? অবশ্যই সারার জন্য কিছু এনেছে। কিন্তু মায়ের ব্যাপারে সকলের সামনে এতটাই নেগেটিভ মাইন্ডেড থাকে যে, তার অসম্ভব এবং চাপা দেওয়া ভালোবাসাকে ও ক্যাবোলই লুকিয়ে রাখে। কিন্তু আমান্ডা তো শুধু ওর নানীই না, ওর বন্ধুও বটে! তাই আমান্ডা হাসি চেপে বলে-<br>: তা হ্যাঁরে, এসব শপিং করলো কে? তুইতো আবার শপিং করবার মানুষ না।<br>: হ্যাঁ নন্না, ঠিকই বলেছো। যা কিছু দেখছো এর সবই আমি আর নাওমী কিনেছি। অবশ্য তোমার জন্য মালিশ করবার মলম তোমার পায়ের ব্যাথার জন্য ইলেক্ট্রিক প্যাড সব ও কিনেছে।<br>: নাহ্! মেয়েটাকে খুব দেখতে ইচ্ছা করছে।<br>: হু! তাতো দেখবেই। তুমি তো খুব শিঘ্রিই যাবে, তাই না?<br>: ক্যানো বাপু, এই বুড়িটাকে টানাটানি করছিস? তোর নানার ভিটেতেই আমাকে মরতে দে।<br>সাথে সাথে ফাবিয়ান ঝাঁপিয়ে পড়ে নানীর মুখ চেপে ধরে। এবং নানীর কোমর জড়িয়ে ধরে কোলের মধ্যে মুখ লুকায়-<br>: আচ্ছা পাগল ছেলে তো! আরে বাপু, বুড়ো হয়েছি, মরতে তো একদিন হবেই। আমান্ডা ফাবির পিঠের উপর আদরের চাপড় মারতে মারতে বললো-<br>: না, তুমি কখনো এই কথাটা বলবে না। যদি বলো আমার মরা মুখ দেখবে।<br>: বালাই ষাট, ওকি কথা? আমার সাথে তোর কি তুলনা। আচ্ছা রূপালী র‌্যাপ করা প্যাকেটের জিনিসগুলো কে কিনেছে রে? সেটাতো বলবি?<br>: উ… উ… সব গিফটই নাওমী আর আমি মিলেই কিনেছি। শুধু তোমার গুলো ও একাই কিনেছে।<br>: ও বাব্বা, কত কি?<br>ফাবিয়ান ঐ প্রসঙ্গ ঘুরাবার জন্য তাড়াতাড়ি কিছু গিফট হাতে নিয়ে (রোডিকা আন্টিদের) বাসায় যাবার জন্য উঠে দাঁড়ালো। তারপর নানীকে বললো-<br>: ওকে নন্না, আমি তাহলে ও বাড়ি থেকে ঘুরে আসছি। আর বিকালে রায়ানদের বাড়ি যাবো ওদের গিফট দিতে।<br>: তা দুপুরের খাবার কি ও বাড়ি থেকে খেয়ে আসবি?<br>: বুঝতে পারছি না। পরিস্থিতির উপর নির্ভর করবে। (চলবে)</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="300" height="279" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2021/05/রীনা-গুলশান-1.jpg" alt="" class="wp-image-4859" style="aspect-ratio:1.0752730327639317;width:157px;height:auto"/><figcaption class="wp-element-caption">রীনা গুলশান</figcaption></figure>
</div>


<p><em>রীনা গুলশান, টরন্টো<br>gulshanararina@gmail.com<br>(লেখক রীনা গুলশান বাংলা সাহিত্যে মাস্টার্স। ইতিপূর্বে বাংলাদেশের বিভিন্ন দৈনিক, সাপ্তাহিক এবং মাসিকে তার কবিতা, ছোটগল্প, প্রবন্ধ, রম্য রচনা প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত হয়েছে কানাডার বিভিন্ন বাংলা পত্রিকাতেও। তিনি ‘প্রবাসী কণ্ঠ’ ম্যাগাজিন এর একজন নিয়মিত কলামিস্ট।)</em></p>



<p></p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>নিভৃতে</title>
		<link>https://probashikantho.com/2026/02/08/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%ad%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a7%87-14/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 08 Feb 2026 20:25:05 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Literature]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=12360</guid>

					<description><![CDATA[রীনা গুলশান (পূর্ব প্রকাশিতের পর) সূর্যটা ডুব মেরেছে অনেকক্ষণ হলো। যদিও উঠোনের উপর এখনো অবদি রয়েছে আলো-ছায়ার খেলা। রাতে কোন]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p><strong>রীনা</strong><strong> </strong><strong>গুলশান</strong></p>



<p>(পূর্ব প্রকাশিতের পর)</p>



<p>সূর্যটা ডুব মেরেছে অনেকক্ষণ হলো। যদিও উঠোনের উপর এখনো অবদি রয়েছে আলো-ছায়ার খেলা। রাতে কোন একটা নাম না জানা পাখি জলপাই গাছের মগডালের বসে সমানে ডেকে চলেছে। আর এটা তো সেই কুটুম পাখি। ওর শাশুড়ি বলতেন, এটাকে ‘কুটুম পাখি’ বলে। আমান্ডা হেসে ফেললো। রকিং চেয়ারে শুয়ে হেলান দিয়ে। ওর কাছে আবার কোন কুটুম (অতিথি) আসবে? আছেটা কে? মা-বাবা, ভাইবোন কেউ নাই। থাকার মধ্যে আছে ওর মেয়েটা আর নাতি ৩ জন! তার মধ্যে তার ফাবিয়ান তো কোথায় যে পড়ে রয়েছে, কে জানে? কত দিন আসে না? পায়ের ব্যাথা আর অসম্ভব ক্লান্তিতে আমান্ডা রকিং চেয়ারে হেলান দিয়ে বুঝি একটু ঘুমিয়েই পড়েছিল। হঠাৎ কেমন একটা অদ্ভুত অনুভূতিতে অথবা হালকা কোন শব্দে চোখ মেলে চাইলো। চোখ মেলেই বিস্ময়ে স্তব্ধ হয়ে রইলো। দেখলো তার সামনেই দাঁড়িয়ে তার ফাবিয়ান। বুকের উপর দুই হাত দিয়ে সেই ছেলেবেলার মত মাথাটা হালকা কাত করে দুষ্টু দুষ্টু হাসছে। একি স্বপ্ন? হ্যাঁ, অবশ্যই স্বপ্ন। রাত-দিন ঐ পাজীটার কথা ভেবে ভেবে এই অবস্থা। আমান্ডা আবার চোখ বন্ধ করে ফেললো। ভাবলো অবশ্যই স্বপ্ন। স্বপ্নটা খুব সুন্দর। অতি আকাক্সিক্ষত স্বপ্ন। হঠাৎ আমান্ডা দেখলো সেই স্বপ্নটা ঝুপ করে মাটিতে বসে ছেলেবেলার মত ওর কোমর জড়িয়ে ধরে ওর কোলে মুখ গুঁজে দিয়েছে। আমান্ডার মনে হলো একটা দীর্ঘ স্বপ্নের ভেতর দিয়ে দৌড়ে বাস্তবে লাফিয়ে আসলো তার আকাক্সক্ষা। ওমা! এ যে সত্যি! তার ফাবিয়ান। তার সোনা পাখি। ওহ্! হো&#8230;ও ও আমান্ডা ফাবির মাথাটা হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো। এই প্রায় ৫ বছরের জমানো মেঘ আজ বর্ষণের মধ্য দিয়ে ঝরিয়ে ফেললো। এদিকে ফাবিয়ানও নানীর কোলে মুখ ডুবিয়ে অঝোরে কেঁদে চলেছিল। আর তার নানীর কোলে মুখ ডুবিয়ে তার বাল্যের, কৈশোরের এবং যৌবনের সেই সোঁদা গন্ধ নিচ্ছিলো। অনেকক্ষণ পর্যন্ত কেউ কোন কথা বললো না। অনেকক্ষণ। কে জানে কতক্ষণ পর আমান্ডাই তার আদরের সোনা পাখির মুখ তুলে ধরে, কপালে চুমু দিলো। এতক্ষণে মুখ দিয়ে কথা বের হলো-</p>



<p>: ওঠ! পাগল ছেলে। কেমন করে মাটিতে লেপ্টে বসেছে সেই ছেলেবেলার মত। বড় আর হলো না। ওঠ, ওঠ-যা দৌড়ে যা একেবারে গোসল করে আয়। আমি তোর রাতের খাবারের যোগাড় করি।</p>



<p>: না, তোমাকে কিচ্ছু করতে হবে না- বলে ফাবিয়ান। ও ওর নানীকে আবার জড়িয়ে ধরে মুখে, কপালে অনেকগুলো চুমো খেলো।</p>



<p>: হু বললেই হলো, কিচ্ছু করতে হবে না। এখন তো আমান্ডার শরীরে হাতির শক্তি ফিরে এসেছে!</p>



<p>: সারা দিন ঠিক মত খেয়েছিস কিনা তার নাই ঠিক।</p>



<p>: নন্না, আমি কি এক ছুটে ও বাড়ি হয়ে আসবো?</p>



<p>: মানে, ডোরিনদের বাড়ির কথা বলছিস? আমান্ডাকে কি রকম সঙ্কুচিত এবং ভিত দেখালো।</p>



<p>: না, না- তার আর দরকার নাই। এখন প্রায় রাত ১০টা বাজে, ওরা আজকাল খুব জলদি জলদি ঘুমায়।</p>



<p>: কি যে বল তুমি নন্না, তার নাই ঠিক। ডোরিন রাত ১২টার আগে বিছানায়ই যায় না। তুমি খাবার রেডি কর আমি এক ছুটে একটু হাই বলে আসি।</p>



<p>: আচ্ছা! তাহলে জলদি করে আয়।</p>



<p>ফাবিয়ান প্রায় ছুটতে ছুটতে ডোরিনদের বাড়ির দিকে চললো। তার বুকের মধ্যে যেন ড্রামের বীট হচ্ছিল। একটা অসম্ভব ভালো লাগায় হৃদয়ের ভেতরে দ্রবীভূত হচ্ছিলো। নাম না জানা ভালোবাসায় আচ্ছন্ন ছিল শরীরের প্রতিটি তন্ত্রী। আবার বেশ খানিকটা আশঙ্কা কাজ করছিল। সব মিলিয়ে দারুণ একটা উত্তেজনা ছিল। বাড়ির সামনে গিয়ে সে অবাক হলো। সত্যি বাড়িটা কি রকম নিঝুম মেরে আছে। কোন সাড়া শব্দ নাই। ভেতরের দিকে অবশ্য একটা টিমটিমে বাতি দেখা গেল। ফাবিয়ান খুবই ইতস্তত মনে ওদের ডোরবেল বাজালো। ২/৩ বার ডোরবেলের শব্দে একটা শব্দ এলো-</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full"><img loading="lazy" decoding="async" width="288" height="457" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2024/09/নিভৃতে.jpg" alt="" class="wp-image-9956" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2024/09/নিভৃতে.jpg 288w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2024/09/নিভৃতে-189x300.jpg 189w" sizes="(max-width: 288px) 100vw, 288px" /></figure>
</div>


<p>: কে? আঙ্কেল কেভিনের কণ্ঠ।</p>



<p>: আমি ফাবি, দরজাটা কি একটু খোলা যাবে?</p>



<p>খুব দ্রুত একটা চম্পলের শব্দ করে একটা মানুষ দরজার কাছে এলো। আর তখুনি সবগুলো বাতি জ্বলে উঠলো যেন এক সাথে। কেভিনের প্রায় পেছনেই রোডিকাও চলে এলো দরজার কাছে। দরজা খুলেই প্রচণ্ড বিস্ময়ে ফাবিয়ানের দিকে চেয়ে রইলো ওরা দুজন। দুজনেরই মুখে একই সাথে খেলা করছিল নানান অভিব্যক্তি। আনন্দ, বিস্ময় আবার একই সাথে কেমন যেন সংকোচ।</p>



<p>: ফাবিয়ান তুমি, কখন এলে? কেভিন আর রোডিকা প্রায় একই সাথে জিজ্ঞাসা করলো চেঁচিয়ে।</p>



<p>: এই তো আঙ্কেল ঘন্টা খানেক আগে। এখনো এমনকি ফ্রেশ রুমেও যাইনি। তার আগেই ছুটে এলাম আপনাদের একটিবার দেখতে।</p>



<p>: আচ্ছা, আচ্ছা। আগেতো ওকে ভেতরে আসতে দাও, বলতে বলতে রোডিকা ফাবিয়ানকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেললো। ফাবিয়ান মনে মনে খুবই বিস্মিত হলো রোডিকার কান্নায়। তবু ভেতরে গেল আন্টির হাত ধরে। লিভিং রুমে বসে চার দিকে চাইলো। নাহ্! ঘরের কোন কিছু তেমন বদলায়নি। শুধু মানুষগুলোই এই মাত্র ৫ বছরেই কেমন যেন খুব দ্রুত বদলে গেছে। আঙ্কেল কেভিন কেমন যেন বুড়িয়ে গেছে। আর রোডিকা আন্টি এমনিতেই বেশ স্লিম ছিল, কিন্তু এখন আরো অনেক শুকিয়ে গেছে। আর কপালে বেশ অনেকগুলো বলিরেখা পড়েছে। মুখের সেই চকচকে ভাবটাও নাই। কত আর বয়স? তার মায়েরই সমবয়সী। তাহলে এই বয়সে এ রকম অবস্থা কেন?</p>



<p>: তো আপনারা সবাই কেমন আছেন?</p>



<p>: আর! আমাদের আবার থাকা। বেঁচে আছি বাবা- কেভিনই জবাব দিল কেমন যেন বিষন্ন কণ্ঠে।</p>



<p>ফাবিয়ান খুব অবাক হলো। কারণ, আঙ্কেল কেভিন জীবন দর্শনে খুবই পজেটিভ ধরনের মানুষ। সারা জীবন দেখেছে তাকে সারাক্ষণ হৈ চৈ করে থাকতে। রোডিকা আন্টি বললো-</p>



<p>: তো হঠাৎ করে এলি যে বড়?</p>



<p>: না, ঠিক হঠাৎ নয়। মানসিক প্রস্তুতি ছিল অনেক দিন ধরেই। শুধু পাসপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। ওটা হাতে পেলাম ২/৩ মাস আগে। তবে এসেছি না জানিয়ে যে, আপনাদের একটু অবাক করে দেবো।</p>



<p>: রায়ান এসেছে?</p>



<p>: না, ও আসবে আগামী বছর। ওর গত মাসে এনগেজমেন্ট হয়েছে।</p>



<p>: তাই-ই, দারুন খবর। কার সাথে হলো?</p>



<p>: ঐ, ওর সেই মটু মামার মেয়ে মিরান্ডার সাথে।</p>



<p>: ও! তা তুই কিছু খাবিতো?</p>



<p>: নাহ্! আন্টি আমি এখনো ধরা চুড়োই ছাড়িনি। গোসলও করিনি। নন্নাকে তো জানেনই এতক্ষণে দৌড়াদৌড়ি শুরু করেছে আমার খাবারের জন্য। তো আন্টি ডোরিনকে দেখছি না যে। এতক্ষণে দেখলাম না।</p>



<p>: ও, ওতো- মানে এখনো পর্যন্ত কাজ থেকেই আসেনি।</p>



<p>: সেকি? এত রাত, এখনতো প্রায় রাত এগারোটা।</p>



<p>: হু! জানি না, আজ কেন এত দেরি হচ্ছে- বলেই রোডিকা চকিতে তার স্বামীর দিকে চাইলো। এমন সময় বাইরে একটা গাড়ির জোর ব্রেক করার শব্দ শুনলো। ওদের লিভিং রুমের জানালা দিয়ে বাড়ির সামনের গেইটের সমস্তটা দেখা যায়। ফাবিয়ান পর্দাটা সরিয়ে বাইরে দেখলো, একটা ঝকঝকে গাড়ি (মনে হচ্ছে ক্যাডিলাক! এই ছোট্ট শহরে এত দামী গাড়ি। রাতের বেলায় তাই দূর থেকে রঙটা ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। স্বল্প আলোয় মনে হচ্ছে সিলভার এ্যাশ রঙের গাড়িটা) থেকে ডোরিন নামলো। আর ড্রাইভিং সিট থেকে একটু টলমলে পায়ে একজন যুবক নামলো। তারপর ডোরিনকে জড়িয়ে চুম্বন করলো। না, এটা বিদায়ী চুম্বন না, গভীর নিমগ্ন প্রেমময় চুম্বন। দুজন যেন দুজনকে ছাড়তেই চাইছে না। তারপর ডোরিন কোনমতে নিজেকে ছাড়িয়ে নিল। একটু পর বেশ টলমলে পায়ে দরজায় বেল টিপলো। আর দরজা খুললো স্বয়ং ফাবিয়ান। ডোরিনের অবশ্য কোন দিকে দেখবার মত শারীরিক অবস্থানে ছিল না। কোন মতে ঘরে ঢুকে তার বেডে শুয়ে পড়তে চাইছে। কাজ শেষ হয়েছে সন্ধ্যা ৬টায়। তারপর থেকে ম্যাথিউয়ের সাথে নাইট ক্লাবে হৈ হুল্লাড়ে মেতে ছিল। আজ আবার ওদের একটা কমন বন্ধু ব্রোনটি জেলিশপাই-এর জন্মদিন ছিল। ও আবার ক্লাবে জন্মদিনের পার্টি দিয়েছিল। অজস্র মদের ফোয়ারা। যে যত খুশি খাও আর সাথে ছিল পিৎজা আর ক্রিসপি ক্যাসুনাট। আজ ডোরিন মারাত্মক ড্রাঙ্ক হয়ে গেছে। অবশ্য প্রায় প্রতি রাতেই ফেরে মদ খেয়ে। মাঝে মধ্যে রাতে ফেরেই না। কোন কোন সময় ৭/৮ দিনের জন্য ম্যাথিউকে নিয়ে কোথাও হলিডে স্পেন্ড করতে যায়! ম্যাথিউ ছেলেটা দারুন, ওর জীবন যাপন, শারীরিক, মানসিক, এমনকি অর্থনৈতিক দিক দিয়েও সব কিছু বদলে দিয়েছে। মনটাও খুব বড়। ধনী হলেই যে তার মনটা বড় হবে এমনতো কোন কথা নেই। তো ম্যাথিউ আসলেও বিশাল হৃদয়ের। ওকে যখন তখন খুবই দামী দামী উপহার দিয়ে দারুণ সারপ্রাইজ করে দেয়। এমনকি ম্যাথিউ-এর বাড়িতে যে ‘স্পা এবং বিউটি সাপ্লালাইয়ের’ যে পার্লার দিয়েছে, সেখানে আগে ও শুধু একজন ‘হেয়ার স্টাইলিস্ট’ই ছিল। কিন্তু এখন তা নয়। এখন ম্যাথিউ তাকে ওটার ম্যানেজার করে দিয়েছে। ম্যাথিউ তাকে শুধু যে স্বপ্ন দেখায় তাই-ই নয়, সে তাকে স্বপ্নের বেদিতে বসিয়ে দেয়। ওর বাবা-মাও খুব ভালো মানুষ। তারা অবশ্য এখানে থাকে না। কিন্তু ৫/৬ মাস পর পরই আসে। ম্যাথিউর বাবা ‘রোমে’ থাকে। ওখানেও ওদের অনেক বড় ব্যবসা। কিন্তু ম্যাথিউ নিজে কিছু করতে চাইছিল। অন্য কোন শহরে। ওখানে তার ভাল লাগছিল না। ওর সব সময় ছোট শহর ভাল লাগে। ওদের একমাত্র বোন নিকোল গ্যারিসটো, প্যারিসের একজন ‘বিউটি আর্টিস্ট’। নিকোল প্যারিসে বেশ ভালভাবে জমিয়ে বসেছে। আগে চাকরি করতো। এখন নিকোল এবং তার বহু দিনের বয়ফ্রেন্ড ববটেইলর নিজেদের ব্যবসা খুলে বসেছে। নিকোল ম্যাথিউর থেকে ৩/৪ বছরের বড়। এরাও একবার এসেছিল ভ্যালেল্যংগাতে। ডোরিনকে দেখে গেছে, তাদের খুব পছন্দ হয়েছে। ম্যাথিউয়ের বাবা-মায়েরও গোড়া থেকেই ডোরিনকে খুবই পছন্দ। কারণ, ম্যাথিউয়ের বাবাই এখানে একদা বেড়াতে এসে এই ভ্যালেলংগা এতটাই পছন্দ হয়েছিল যে, সে এখানে সেটেলড করার কথা ভেবেছিল। পরে তারা আবার রোমে ফিরে গেলেও ম্যাথিউ আর যায় নাই। সেও তো সাড়ে ৪ বছর আগের কথা। আর ম্যাথিউ সেই প্রথম দেখাতেই ডোরিনের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে।</p>



<p>আজ ব্রোনটির জন্মদিনের পার্টি আসলে একটা অবতারণা, ডোরিনকে মজা করে প্রোপোজাল করবার। যার জন্য ওদের পার্লারের সবাইকে ইনভাইট করেছে। এছাড়া ম্যাথিউয়ের বেশ কিছু বন্ধুদেরও ইনভাইট করেছে। ডোরিনও আজ মাতাল করা সাজে এসেছিলো। গোল্ডেন কাঁধ খোলা লং ড্রেস, মাথার মধ্য ভাগ পর্যন্ত উঁচু করে পনিটোল। গলায় একটা লম্বা কুন্দনের সোনালী রঙের চোখার। মনে হচ্ছে আকাশ থেকে নেমে আসা পরি।</p>



<p>কেক কাটার আগেই হঠাৎ ম্যাথিউ সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললো, আমি কিছু কথা বলতে চাই, তোমাদের কারো কোন আপত্তি আছে?</p>



<p>সবাই সমস্বোরে চিল্লালো, নাই-ই, বল? কি বলবে?</p>



<p>ম্যাথিউ আস্তে আস্তে&nbsp; ডোরিন-এর দিকে এগিয়ে এলো। হঠাৎ ওর এক হাত সামনে হাঁটু গেড়ে বসে পড়লো এবং দু’হাত দুদিকে দিয়ে নাটকীয় কায়দায় এক চিৎকার করে বললো-</p>



<p>: হে আকাশ থেকে নেমে আসা পরি, আমি তোমাকে ভালোবাসি। সারা জীবন পাগলের মত ভালোবাসতে চাই। তোমার উত্তরাধিকারদের বাবা হতে চাই! তুমি কি আমাকে বিয়ে করতে সম্মত আছো? বলেই পকেট থেকে একটি আংটি বের করলো, আর ডোরিনের সামনে তুলে ধরলো।</p>



<p>সবাই চিৎকার করে হ্যাঁ বল, হ্যাঁ বল করে তালি দিয়ে যাচ্ছে!</p>



<p>ডোরিন লাজুক হেসে বাম হাত বাড়িয়ে বললো, বিয়ে করবো কিনা জানি না, তবে এই মুহূর্তে বাম হাতের অনামিকায় তোমার আংটি পরতে রাজি!</p>



<p>সবাই হৈ হৈ করে তালি দিয়ে উঠলো। ম্যাথিউ উঠে দাঁড়িয়ে ওর অনামিকায় আংটি পরিয়ে দেয়।</p>



<p>আংটি দেখে ডোরিন অভিভূত। রুবি, ওভেল শেফ আর চারপাশে ডায়মন্ড। অনেক আগে কথা প্রসঙ্গে ডোরিন ম্যাথিউকে এমন একটি পছন্দের কথা বলেছিল। ডোরিনের চোখে আনন্দ অশ্র“ এসে পড়লো। ম্যাথিউ ওর হাত নিয়ে চুম্বন করলো।</p>



<p>তারপর তারা পার্টিতে প্রচুর হৈ চৈ করলো। আনন্দে আজ দুজন প্রায় মাতাল হয়ে গেলো।</p>



<p>তারপর ম্যাথিউ ডোরিনকে নিয়ে চলে এলো, ডোরিনকে ড্রপ করবার জন্য।</p>



<p>তবে আজ ম্যাথিউ বিশেষ কথা বলছিল না। ডোরিনই আনন্দে অনেক কথা বলছিল।</p>



<p>তবে তার বাবা-মা, বোনদের জলদিই ডাকবে তার বিয়ের জন্য। এটা কনফার্ম করলো। তখন ডোরিন হাসতে হাসতে বললো-</p>



<p>: কি ব্যাপার, আজ দেখি তোমার মুখে কোন কথা নাই। অন্যদিন তো তোমার কথার তোড়ে আমার শব্দ হারিয়ে যায়।</p>



<p>: কি করবো বল? তোমাকে কাছে পেলে শব্দের পাখিরা ডানা মেলে উড়ে যায়। তাই, কি যে বলবো বুঝেই পাই না।</p>



<p>: ইস! এ যে একেবারে কবি কবি ভাব।</p>



<p>: হু! তাহলেই বোঝ তোমাকে ভালোবেসে আমি আরো যে কত কি হবো, বুঝতে পারছি না।</p>



<p>: ওকে বাপু, আজই মা-বাবাকে বলবো। হলো এবার?</p>



<p>ডোরিনের মন আজ সত্যিই আনন্দে ভরপুর। মনে হচ্ছে এই মুহূর্তে ওর মত সুখী এই পৃথিবীতে আর কেউ নাই। জীবনে যা কিছু চেয়েছে, সব ওর হাতের মুঠোয়! এ যেন সেই একটি অনামিকা, একটি আংটি, আর এক মুঠো স্বপ্ন ভরা সুখ। ডোরিন তাই আনন্দে অনেক বেশি মাতাল হয়ে গেছে। কিছু কিছু অনুভূতি থাকে যার জন্য মাতাল হতে খুব ভালো লাগে। খুউব বেশি দুঃখ আবার খুব বেশি আনন্দ। বেশ টাল হয়ে ছিল। এলোমেলো পায়ে এসে বেল বাজালো। মুহূর্তে দরজা খুলে দিলো ফাবিয়ান।</p>



<p>ডোরিন বেশ কিছুক্ষণ হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। কিছুক্ষণ নাকি বহুক্ষণ, তারপর দরজার চৌকাঠ ধরে চোখ টেনে ধরে ফাবিয়ানের দিকে তাকিয়ে হাসলো-</p>



<p>: আরে মিস্টার ফাবিয়ান! কো&#8230; থা থেকে উদয় হলে? আসমান থেকে? নাকি পাতাল ফুড়ে?</p>



<p>: এই তো- ফাবিয়ান বেশি কথা বলতে পারে না। আসলে বহু দিনের অন্তর্হিত আবেগ ওর কণ্ঠের মধ্যে দলা পাকায়। মারাত্মক আবেগে দিশেহারা অবস্থা। তাছাড়া ডোরিনকে দেখেই ওর জীবনের সমগ্র অতীতটা যেন সামনে এসে দাঁড়ালো। আবার ডোরিনকে এভাবে দেখবার জন্যও ফাবি মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিল না। ওর এখন এমন অবস্থা যে, না পারছে কথা বলতে, না পারছে নিজেকে থামাতে। অজস্র কথার মালা যা ও প্লেনে আসবার সময় গেঁথেছে, তার সব একে একে বলবার জন্য ওর হৃদয় আকুপাকু করছে। কিন্তু ডোরিন তার সমস্ত আবেগের পরে নির্জলা খুব শীতল জল ঢেলে দেয়।</p>



<p>: ওহ্! ফাবি, আমি খুবই দুঃখিত। অসম্ভব ক্লান্ত আমি- বলতে বলতে বড় করে হাই ওঠায় তারপর ফাবির দিকে না তাকিয়েই বলে-</p>



<p>: ওকে, কাল দেখা হবে- বলেই শ্লথ গতিতে তার শোবার ঘরে যেয়ে দরজা বন্ধ করে।</p>



<p>ফাবিয়ান অবাক হতেও যেন ভুলে গেল। আন্টি রোডিকার এবং কেভিন আঙ্কেলের কথাবার্তা শুনে মনে হচ্ছিলো যে, ডোরিনের কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। এমনকি তার নানীও বারবার ডোরিনের প্রসঙ্গে অন্য কথার অবতারণা করছিল। জেসন আর ওর বৌও বারবার ডোরিনের প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাচ্ছিলো। ফাবিয়ান ধারণা করেছিল যে, ডোরিন তাকে আর পছন্দ করে না। আর এটাই হয়তোবা এদের সকলের এড়িয়ে যাবার কারণ। কিন্তু এভাবে ও কল্পনাও করেনি। মানুষতো পরিবর্তনশীল। ডোরিনেরও যে পরিবর্তন হবে, এটা অবশ্যাম্ভাবী। কিন্তু এরকম পরিবর্তন ডোরিনের ক্ষেত্রে ঠিক ও আশা করেনি। ফাবিয়ানের আত্মস্থ হতে সময় লাগলো। ও বেশ তাড়াতাড়ি রোডিকা এবং কেভিনের কাছে বিদায় চাইলো-</p>



<p>: ওকে তাহলে আমিও যাই, রাত হয়েছে- নানী অপেক্ষা করছে। কাল আসবো। কালতো ডোরিনের ছুটি বললেন।</p>



<p>: হ্যাঁ, হ্যাঁ ফাবি, সেই ভালো। একেবারে কালই এসো। আমরা এক সাথে লাঞ্চও করবো।</p>



<p>: ঠিক আছে কাল আসবো। তবে লাঞ্চের কথা ঠিক বলতে পারছি না। নানীকে তো আপনারা জানেনই। (চলবে)</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="300" height="279" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2021/05/রীনা-গুলশান-1.jpg" alt="" class="wp-image-4859" style="aspect-ratio:1.0753290394847381;width:140px;height:auto"/><figcaption class="wp-element-caption">রীনা গুলশান</figcaption></figure>
</div>


<p><em>রীনা গুলশান, টরন্টো<br>gulshanararina@gmail.com<br>(লেখক রীনা গুলশান বাংলা সাহিত্যে মাস্টার্স। ইতিপূর্বে বাংলাদেশের বিভিন্ন দৈনিক, সাপ্তাহিক এবং মাসিকে তার কবিতা, ছোটগল্প, প্রবন্ধ, রম্য রচনা প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত হয়েছে কানাডার বিভিন্ন বাংলা পত্রিকাতেও। তিনি ‘প্রবাসী কণ্ঠ’ ম্যাগাজিন এর একজন নিয়মিত কলামিস্ট।)</em></p>



<p></p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>উত্তর আমেরিকার চালচিত্র</title>
		<link>https://probashikantho.com/2025/11/18/%e0%a6%89%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%b0-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 18 Nov 2025 21:18:32 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Literature]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=12028</guid>

					<description><![CDATA[সাইদুল হোসেন : ‘উত্তর আমেরিকার চালচিত্র’ বইটি লিখেছেন নজরুল ইসলাম মিন্টো। তিনি উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশ সমাজে এক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। সেই]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p><strong>সাইদুল হোসেন</strong> : ‘উত্তর আমেরিকার চালচিত্র’ বইটি লিখেছেন নজরুল ইসলাম মিন্টো। তিনি উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশ সমাজে এক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। সেই ১৯৯১ সনে টরন্টো থেকে প্রকাশিত সর্বপ্রথম সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা ‘দেশে বিদেশে’ প্রকাশের সাহসী উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি পত্রিকাটির প্রধান সম্পাদক।</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full is-resized"><img decoding="async" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2025/11/বই.jpg" alt="" class="wp-image-12029" style="width:251px;height:auto"/></figure>
</div>


<p>তবে জনাব মিন্টো শুধুমাত্র একজন সম্পাদক ও পত্রিকা প্রকাশকই নন, তাঁর মেধা ও কুশলতা অন্যান্য ক্ষেত্রেও ছড়িয়ে আছে। তিনি একাধারে – সাংবাদিক, লেখক ও সংগঠক। একজন মিডিয়া পেশাজীবী। আযান টিভি ও ঝংকার টিভি’র প্রতিষ্ঠাতা। এছাড়াও তিনি প্রতিষ্ঠাতা ‘বাংলাদেশ ওয়েলকাম সেন্টার ক্যানাডা’র। &nbsp;</p>



<p>জনাব মিন্টোর ‘উত্তর আমেরিকার চালচিত্র’ বইটি পড়ার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। বইটি অতি সুখপাঠ্য এবং বহু বিষয়ে তথ্যবহুল রচনা যা গর্বের সাঙ্গে অন্যান্য বিখ্যাত সব লেখকদের কাতারে মাথা উচুঁ করে দাঁড়াতে পারে। নিজস্ব হোম লাইব্রেরীতে শোভা পেতে পারে। প্রিয়জনকে উপহার দেয়া যেতে পারে।</p>



<p>কি আছে এই বইতে সেটার তালিকা তৈরী করতে গিয়ে বইয়ের মলাটে পেয়ে গেলাম সব বর্ণনা, যা এরকম :</p>



<p>“উত্তর আমেরিকার চালচিত্র কেবল আমেরিকা ও কানাডাকেন্দ্রিক নয় – এটি ‘তৃতীয় বাংলা’য় বসবাসকারী প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ের ছবি। লেখক তাঁর প্রায় পঞ্চাশ বছরের প্রবাস জীবনের প্রত্যক্ষ্য অভিজ্ঞতার আলোকে এই চালচিত্রে তুলে ধরেছেন প্রবাসী জীবনের বহুমাত্রিক রূপ, আবেগ, সংগ্রাম ও সাফল্যের নানা দিক।</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="400" height="446" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2025/11/Untitled-1-1.jpg" alt="" class="wp-image-12030" style="width:248px;height:auto" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2025/11/Untitled-1-1.jpg 400w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2025/11/Untitled-1-1-269x300.jpg 269w" sizes="(max-width: 400px) 100vw, 400px" /><figcaption class="wp-element-caption">নজরুল ইসলাম মিন্টো। ছবি : ফেসবুক</figcaption></figure>
</div>


<p>গ্রন্থটিতে একদিকে উঠে এসেছে আমেরিকা-কানাডার মূলধারার সামাজচিত্র, অন্যদিকে তুলে ধরা হয়েছে প্রবাসী বাঙালি কমিউনিটির সুখ-দুঃখ, উৎসব-অনুষ্ঠান ও আত্মিক টানাপোড়নের বিচিত্র কাহিনী।</p>



<p>এখানে স্থান পেয়েছে পশ্চিমা সংস্কৃতির রঙিন অধ্যায়; পাশাপাশি রয়েছে বাঙালি ঐতিহ্যের উজ্জ্বল উপস্থিতি।</p>



<p>নানান তথ্য, অভিজ্ঞতা ও বিশ্লেষণে সমৃদ্ধ এ গ্রন্থের প্রতিটি লিখায় ছড়িয়ে আছে লেখকের সূক্ষ্ম রসবোধ, জীবনবোধ ও প্রজ্ঞার ছাপ।</p>



<p>প্রবাসীদের দেশপ্রেম, তাদের মেধা, শ্রম, সততা ও বাঙালি কৃতি সন্তানদের সাফল্যের চিত্র ইতঃপূর্বে কেউ এমন করে তুলে ধরেনি।”</p>



<p>বইটি প্রকাশ করেছে ঢাকার অভ্র প্রকাশন। কানাডায় প্রাপ্তিস্থান : এটিএম মেগা স্টোর, ২৯৭২ ড্যানফোর্থ, টরন্টো। দাম ৪০ ডলার। সংস্করণ: ২০২৫। পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৫৬। বইটিতে বৈচিত্রপূর্ণ ৬৬ টি লেখা রয়েছে।</p>



<p>আমি এই মূল্যবান বইটার সমাদর ও বহুল প্রচার কামনা করি। বইটার লেখককে জানাই আন্তিরিক ধন্যবাদ।</p>



<p>সাইদুল হোসেন</p>



<p>মিসিসাগা</p>



<p></p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>টরন্টোতে বিদ্যাসাগর- জীবনানন্দ দাশ সন্ধ্যা</title>
		<link>https://probashikantho.com/2025/11/03/%e0%a6%9f%e0%a6%b0%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a7%8b%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%97%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a7%80%e0%a6%ac/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 03 Nov 2025 21:45:22 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Community]]></category>
		<category><![CDATA[Literature]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=12021</guid>

					<description><![CDATA[মোয়াজ্জেম খান মনসুর : গত ২৬ শে অক্টোবর, শনিবার ২০২৫ বাংলা সাহিত্য পরিষদ টরন্টো, ক্যানাড ‘র &#160;উদ্যোগে আয়োজিত হয় ঈশ্বরচন্দ্র]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-large is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="1024" height="151" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2025/11/বক্তাগণ-1024x151.jpg" alt="" class="wp-image-12023" style="width:1125px;height:auto" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2025/11/বক্তাগণ-1024x151.jpg 1024w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2025/11/বক্তাগণ-300x44.jpg 300w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2025/11/বক্তাগণ-768x113.jpg 768w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2025/11/বক্তাগণ.jpg 1200w" sizes="(max-width: 1024px) 100vw, 1024px" /><figcaption class="wp-element-caption">আলোচনা ও অবৃত্তিতে অংশগ্রহণকারী কবি,সাহিত্যিক, গবেষক, লেখক ও সাংবাদিকগণ</figcaption></figure>
</div>


<p>মোয়াজ্জেম খান মনসুর : গত ২৬ শে অক্টোবর, শনিবার ২০২৫ বাংলা সাহিত্য পরিষদ টরন্টো, ক্যানাড ‘র &nbsp;উদ্যোগে আয়োজিত হয় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর- জীবনানন্দ দাশ সন্ধ্যা ।</p>



<p>টরন্টো শহরে হেমন্ত ঋতুর বাতাসে কার্তিকের আকাশে হালকা শীতের হীমেল কোলাহল। প্রকৃতি জুড়ে দৃশ্যমান ঋতু বদলের পালা। ম্যাপল লীফ ,পাইন গাছের পল্লবে -পল্লবে চলছে রং বদলের খেলা । লাল, কমলা, বেগুনী রঙে -রঙে সেজে গুজে এবার হেমন্তের বিদায়ের পালা। মৌসুম তার বদল দিনে বলে যায় মনে রেখো আমারে! &#8220;সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন সন্ধ্যা আসে।&#8221;</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="400" height="265" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2025/11/জয়ন্তী-২.jpg" alt="" class="wp-image-12024" style="width:573px;height:auto" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2025/11/জয়ন্তী-২.jpg 400w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2025/11/জয়ন্তী-২-300x199.jpg 300w" sizes="(max-width: 400px) 100vw, 400px" /></figure>
</div>


<p>শহুরে সন্ধ্যার বাতি জ্বেলে টরন্টো শহরের একদল কবি,সাহিত্যিক গবেষক, লেখক,সাংবাদিক ও সাহিত্য বোদ্ধা এসে জড়ো হন বাংলার দুই নক্ষত্রের স্মরণে এক সাহিত্য আসরে । বন্ধু কেমন আছ বল! এমনি ধারার কোলাহল, আনন্দ ও কুশল বিনিময় চলে কিছুক্ষণ। তার সাথে ধুমায়িত চায়ের কাপে কফির পেয়ালায় চুমুকে চুমুকে চলে যাপিত জীবনের রঙ বিনিময়।</p>



<p>সন্ধ্যা সাতটায় শুরু হয় আসর। বিদ্যাসাগর- জীবনানন্দ দাশ সন্ধ্যা। অনুষ্ঠানের শুরুতে ছিল আলোচনা পর্ব। আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণ করেছিলেন : লেখক গবেষক সোনা কান্তি বড়ুয়া, কবি অধ্যাপক ড. গওসর রেজা, লেখক অধ্যাপক মাহমুদা নাসরিন, কবি লেখক কলামিস্ট রীনা গুলশান, বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রাপ্ত জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক জাসিম মল্লিক, প্রবাসী কন্ঠ ম্যাগাজিনের সম্পাদক খুরশিদ আলম, কবি লেখক ঋতুশ্রী ঘোষ ও কবি গল্পকার প্রাবন্ধিক মোয়াজ্জেম খান মনসুর।</p>



<p>আলোচকদের প্রাণবন্ত জ্ঞানগর্ভ আলোচনায় উঠে এসেছিল বাঙালীর রেনেঁসা যুগের এক প্রাণ ভোমরার নাম। যার নাম এবং তার বিশাল কর্মযজ্ঞের ইতিহাস তার জন্মের ২০৫ পাঁচ বছর পর আজ প্রায় বিবর্ণ এবং অনুচ্চারিত। তিনি হলেন বাঙালীর ইতিহাসে কিংবদন্তি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। ধর্মের কুসংস্কারে নিমজ্জিত গভীর অন্ধকার থেকে যিনি নারীদের আলোর মশাল হাতে মুক্তির পথ দেখিয়েছিলেন।</p>



<p>হিন্দু সমাজের পর্বতসমান প্রবল বাধা &#8211; বিপত্তি ভেংগে অসহায় অবহেলিত নির্যাতিত বিধবা নারীদের আইন করে বিবাহের প্রচলন ঘটিয়েছিলেন। অক্ষর বর্ণজ্ঞানহীন নারীদের জন্য শিক্ষার দরজা উন্মোচন করেছিলেন। তিনি নিজের ব্যক্তিগত চেষ্টায় ৩৮টি বাংলা স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।</p>



<p>শিশুদের জন্য উপহার দিয়েছিলেন সহজ &#8216;বর্ণমালা&#8217; বই। বাংলা সাহিত্যে প্রথম যতি এবং বিরামচিহ্ন ব্যবহার চালু করেন।</p>



<p>আলোচকদের আলোচনায় আসে &#8216;আবার আসিব ফিরে এই বাংলায়&#8217; কবি জীবনানন্দ দাশের ব্যক্তি জীবনের পাওয়া না পাওয়ার কথা, কাব্য সাহিত্যের বিভিন্ন শাখার তার অনন্য অনুপম উচ্চতার কথা। নির্জনতার কবি, কবিতার জাদুকর,শুদ্ধতম কবি এবং কবিদের কবিকে নিয়ে হয় এক সমৃদ্ধ অপূর্ব মুগ্ধকর আলোচনা।</p>



<p>দ্বিতীয় পর্বে ছিল আবৃত্তি অনুষ্ঠান</p>



<p>অংশগ্রহণে ছিলেন: কবি লেখক জালাল কবির, লেখক অধ্যাপক মাহমুদা নাসরিন, কবি গল্পকার নার্গিস দোজা, কবি লেখক ঋতুশ্রী ঘোষ, কবি লেখক মোয়াজ্জেম খান মনসুর।</p>



<p>সবশেষে গান গেয়ে শুনিয়েছেন টরন্টোর জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী সূমি বর্মন।</p>



<p>সাহিত্য আসরে আরো উপস্থিত ছিলেন সাবেক কুয়েট ডিন অধ্যাপক ড. কাজিম খন্দকার, প্রকৌশলী পিযুষ বর্মন , বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী সারোয়ার, ফরিদা আক্তার ইয়াসমীন এবং সাবেক প্রিন্সিপাল রিয়েলটর ও সমাজকর্মী সৈয়দ আমিনুল ইসলাম। &nbsp;</p>



<p>অনুষ্ঠানটির সার্বিক দায়িত্বে এবং অনবদ্য মনমুগ্ধকর সঞ্চালনায় ছিলেন আহ্ববায়ক কবি মোয়াজ্জেম খান মনসুর।</p>



<p>সম্পাদক খুরশিদ আলম এবং ফরিদা আক্তার ইয়াসমীন ভাবীর গৃহে আমরা আপ্যায়িত হয়েছিলাম পরম যত্নে এবং আন্তরিক ভালবাসায়। তাদের প্রতি যারপর নেই আমাদের কৃতজ্ঞতা । অনুষ্ঠানে ছবি তুলেছেন কাজী সারোয়ার ও পিযুষ বর্মন। </p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>নিভৃতে</title>
		<link>https://probashikantho.com/2025/11/01/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%ad%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a7%87-13/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 02 Nov 2025 00:44:15 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Literature]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=12016</guid>

					<description><![CDATA[রীনা গুলশান (পূর্ব প্রকাশিতের পর) সন্ধ্যা হতে খুব বেশি দেরি নাই। দুপুরের খাবার খাওয়ার পর থেকেই শরীরটা কেমন যেন ভার]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p><strong>রীনা গুলশান</strong></p>



<p>(পূর্ব প্রকাশিতের পর)</p>



<p>সন্ধ্যা হতে খুব বেশি দেরি নাই। দুপুরের খাবার খাওয়ার পর থেকেই শরীরটা কেমন যেন ভার ভার লাগছে। এ সময় শুতে নেই। তবু শরীরটা বেশ ধরপড় করাতে বারান্দায় পেতে রাখা একটা অনেক কালের পুরনো রকিং চেয়ারে শরীরটা এলিয়ে দিল আমান্ডা। এখন তেমন কিছু করার নাই। ভাবছে আজ রাতে কিছুই খাবে না। ফাবিয়ান যাবার পর থেকে রান্নার কোন ঝক্কিই নাই। ১ দিন রান্না করে ৩ দিন খায়। সবই আগের মত আছে, আবার কিছুই আগের মত নাই। বেশি ক্ষিদে লাগলে ১ কাপ দুধ গরম করে খেয়ে নিবে। রকিং চেয়ারে শুয়েই উঠোনের দিকে তাকিয়ে রইলো। কত কথা মনে পড়ে। ঐ যে উঠোনটা পেরিয়ে বড় বড় জলপাইয়ের গাছ। ওর মধ্যে সব চেয়ে মোটা যে গাছটা ওর তলাতেই তো তার ফাবিয়ান খেলা করতো ডোরিনের সাথে। খেলার থেকে ঝগড়া বেশি করতো। ডোরিন গাল ফুলিয়ে থাকলে আবার ফাবিই তার মান ভাঙাতে বসতো। তখন মান ভাঙ্গানোর উপাদান আমান্ডাকেই যোগান দিতে হতো। নানান রকম পিঠা, কেক, চকোলেট এসব বানিয়ে ঘরে রেখে দিতো। এসব সময় ওর থেকেই খাবার বের করে দুজনকে দিয়ে ঠান্ডা করতো। কত কথা মনে পড়ে আমান্ডার। এক সময় ঐ গাছ তলায় তার সারা আর রোডিকাও খেলতো। আজ কোথায় সব? ঐ বৃক্ষগুলো শুধু স্মৃতির ভার বহন করে আজও কালের সাক্ষী হয়ে আছে। বড় একা। বড় নিঃসঙ্গ। এই জীবনের ভার বড় বেশি ভারবহ। জীবনের সব দায়িত্ব কর্তব্য তার শেষ হয়েছে। আর কারো কোন প্রয়োজন নেই তাকে। তবু ঈশ্বর তাকে কেন বাঁচিয়ে রেখেছে কে জানে? মেয়েটাও সেই দূরে পড়ে রইলো। আর তার ফাবিও কোথায় কত দূর চলে গেল? কেন গেল? কে জানে? কিসের টানে পথে ঘাটে ঘুরে বেড়াচ্ছে? তার সোনার পাখিটা? খেতে খুব ভালোবাসতো? প্রিয় কোন খাবার দেখলে হামলে পড়ে খেত। পেট ভরে যেত, তবু চোখ ভরতো না। তখন আমান্ডা হেসে হেসে বলতো-</p>



<p>: ঐ বাটির সবটাই তোর জন্য তোলা থাকবে সোনা, আর খাসনে তাহলে পেটে ব্যাথা করবে।</p>



<p>: দেখো, খবরদার কাউকে দিও না কিন্তু। তোমারতো আবার বাটি ভরে পাড়ায় বিলোনো অভ্যাস!</p>



<p>এটা ঠিক আমান্ডার এ অভ্যাসটা আছে। বিশেষ করে কোন ভালো খাবার করলেই রোডিকার বাসায় এক বাটি দেবেই দেবে।</p>



<p>তবে আজকাল ডোরিন মেয়েটা আসে না বললেই চলে। এটাতো ঠিকই এই অল্প বয়সী ছেলেমেয়েরা তার মত একটা বুড়ির কাছে আসবেই বা কেন? তাছাড়া ফাবিও নাই, ডোরিন এসেই বা কি করবে? তবে হ্যাঁ, রোডিকা প্রায়ই আসে। এসে কত দুঃখের কথা বলে। গত বছরই ওর বাবা রবার্ট ফাচিপন্টি মারা গেল। রোডিকা খুব ভেঙ্গে পড়েছিল। আহারে বুড়ো বাপটাকে কি সেবাটাই না করেছে। রবার্ট আর আলবার্ট ছোটবেলার বন্ধু। তবে আলবার্টের থেকে রবার্ট ফাচিপন্টি ৩/৪ বছরের বড় ছিল। আলবার্টতো সেই কবেই মারা গেল। ঐ বয়সেতো ওর চলে যাবার কথা না। অথচ রবার্ট এই সেদিন গেল। রীতিমত বিছানায় শুয়ে অনেক কষ্ট পেয়ে মরলো। রবার্টের সঙ্গে তার একদিকে বেশ মিল আছে, রবার্টের বৌ জেনিফার অর্থাৎ রোডিকার মাও মারা গিয়েছিল অনেক অল্প বয়সে। খুব সুন্দরী ছিল মহিলা। ডোরিনতো জেনিফারের মতই দেখতে হয়েছে। রবার্ট দেখতে মোটেই ভালো নয়। তবে রবার্ট সত্যিই জেনিকে প্রাণ দিয়ে ভালোবেসেছিল। অত অল্প বয়সে স্ত্রী গত হলেও সে আর কখনো বিয়ের নামও করেনি।</p>



<p>তার আলবার্টও কত অল্প বয়সে তাকে ছেড়ে চলে গেল। যাবার তো কথা ছিল না। আসলে একমাত্র মেয়ের অপরিসিম দুঃখ সে সইতে পারেনি। কিন্তু তারপর সেই সারা কত সুখী হলো, ওর বাবা দেখে যেতে পারলো না। মানুষটা স্বপ্নের রাজপুত্রের মত দেখতে ছিল। কি লম্বা, চওড়া, কি সুন্দর চেহারা। যেমন ছিলো গায়ের রঙ, তেমনি মসৃণ ত্বক। মনে হতো মেয়েদের মত ত্বক। আর সেই রকম ছিল কঠোর পরিশ্রমি। আলবার্টের পাশে তো তাকে দেখাতো বিউটি এন্ড বিষ্টের মত। ওর পাশে সে ছিল রীতিমত খাটো। চেহারাও খুবই খারাপ। তবু আলবার্ট তার চেহারা নিয়ে কখনো কিছুই বলেনি। বরং তাকে যথেষ্ঠ ভালোবাসতো তার মত করে। কারণ, আলবার্টের প্রকাশ ক্ষমতা অন্যরকম ছিল। আমান্ডা তাকে খুব বুঝতো। সারা যখন পেটে এলো, তখন আলবার্ট তার দূর সম্পর্কের এক আত্মীয়াকে এনে রেখেছিল, তাকে সাহায্য করবার জন্য। তারপর একদিন ঘর আলো করে তার সারা এলো। ঠিক যেন বাপের ফটোকপি। কি সুন্দর। মনে হতো আকাশ থেকে নেমে আসা পরী। সে সময় যখন তখন বাড়ি চলে আসতো আলবার্ট। বাড়ি এসেই হাক পাড়তো &#8211; কৈ আমার চাঁদের কনাটা একটু কোলে দাওতা।</p>



<p>: ওমা! এটা কি বলছেন? আপনার হাত-পা ভর্তি ধুলোবালি।</p>



<p>: আচ্ছা বাবা, হাত ধুয়ে আসছি। তুমি কি ভাবো আমি কি আর এসব বুঝি না।</p>



<p>১২ বছর পর মেয়ে হয়েছিল তাই আমান্ডাও মেয়ের ব্যাপারে খুবই পজিসিভ ছিল। তারপর মেয়েকে কোলে নিয়ে ঘণ্টা পার করে দিত। কত কি যে ছাইপাস বকতো মেয়েকে কোলে নিয়ে। মেয়ে হবার পর খুশিতে বৌকে একটা লম্বা সোনার চেন বানিয়ে দিয়েছিল। সাথে ছিল একটা লকেট (জেসাসের ছবি দেওয়া একটা ক্রস)। আমান্ডা জীবনে কোন দিন ওটা গলা থেকে নামায়নি। ভেবেছে যে দিন তার সোনা মানিক ফাবিয়ান বিয়ে করবে, ওর বৌয়ের গলায় পরিয়ে দেবে। অথচ তার সারা কত দিন চেনটা পরতে চেয়েছে, আমান্ডা গড়িমসি করেছে। দেয়নি। বলেছে, হারিয়ে ফেলবি। খুউব ভারী চেন।</p>



<p>এর মধ্যে কবে যেন সারা ফোন করেছিল, তখন আমান্ডা কথায় কথায় বলছিল যে, যখন ফাবিয়ান বৌ নিয়ে আসবে, তখন এই চেনটি পরিয়ে দেবে। এই কথা শুনে সারা খিলখিল করে হেসে উঠলো। তখন আমান্ডা বললো-</p>



<p>: কি রে হাসছিস কেন?</p>



<p>: হাসবো না? মা, তোমার মনে পড়ে ঐ চেনটা আমি কত বার পরতে চেয়েছি, তুমি আমাকে দাওনি। আর এখন তুমি নিজে থেকে ফাবির বৌকে দিতে চাইছো।</p>



<p>: আসলে তোকে তখন না দেবার কারণ, তুই বুঝবি না মা।</p>



<p>: কেন বুঝবো না? তুমি আসলে যাই বল মা, তুমি এমনকি আমার থেকেও ফাবিকে অনেক বেশি ভালোবাস।</p>



<p>: হয়তোবা। তবে চেনের ব্যাপারটা আলাদা, চেনটা আমি কখনো খুলিনি কারণ সব সময় মনে হতো ওটা তোর বাবার ভালোবাসায় ভরা দুটি বাহু। ঐ চেনটার মধ্যে যেন আমি তোর বাবার অস্তিত্বকে অনুভব করতাম।</p>



<p>: তাহলে এখন দিতে চাইছো কেন?</p>



<p>: কারণ, বয়স হয়েছে। আর ক’দিনই বাঁচবো, তবে তোর যদি চেনটার উপর এখনো আকর্ষণ থাকে তবে এটা তুই-ই নিস!</p>



<p>: না মা, আমি তো মজা করছি। ফাবিকে দিলেও তো সেই আমাকেই দেওয়া হবে- সারার কণ্ঠে আনন্দ বেদনায় ভরা।</p>



<p>মেয়েটা যখন তখন ফোন করে। এ ঘরের ছেলে। মেয়ে দুটোতো বড় হয়ে গেছে। ডেভিডের তো এখন ১৮/১৯ বছর বয়স হতে চললো। মেয়েটা দুই বছরের ছোট। প্রতি বছরই একবার-দুইবার আসে। ছেলেটা সারা-স্টিভেনের মিলিয়ে হয়েছে। তবে মেয়ে নাটালী একদম মায়ের মত হয়েছে। স্টিভেনের সাথে বিবাহের পর সারা সত্যিই সুখি হয়েছে। ছেলেটা সত্যিই ভালো। স্টিভেন এমনকি ফাবিয়ানকেও অনেক ভালোবাসে। বার বার ওকে কাছে টানতে চেয়েছে। ফাবি ওকে পাত্তাই দেয় না। স্টিভেন কষ্ট পেয়েছে তবু ফাবিকে দূরে রেখে দেয়নি। জানে ফাবি, সারার জানের জান। যেমন চরিত্রবান, তেমনি ভদ্র। সারাকে এখনো পর্যন্ত পাগলের মত ভালোবাসে। একটা মানুষের সুখের জন্য পার্থিব যা কিছু প্রয়োজন তার সবই সারার আছে। তবুও মেয়েটা কাঁদে। অঝোরে কাঁদে। এত কান্না যে আমান্ডা সইতে পারে না। সব থেকে কষ্ট লাগে তখন, যখন দেখে তার কান্না যার জন্য সেই ফাবিয়ানকে এতটুকুনও স্পর্শ করে না। ফাবিয়ান তার নানীর জন্য পাগল। যখন তখন ওর কাছে ফোন করবে। ঘণ্টার পর ঘন্টা কথা বলবে। কিন্তু যখনি আমান্ডা একটু কায়দা করে সারার প্রসঙ্গে কথা তুলবে, তখনি ফাবি কোন অজুহাত দিয়ে ফোন রেখে দেবে। এই একটা জায়গায় ফাবিয়ান কেমন যেন আটকে গেছে। হৃদয়ের ভেতরে নিজেই নিজের দরজা বন্ধ করে রেখেছে সারার জন্য। আর চাবিটাতো ওরই হাতে। সারার প্রতি ফাবিয়ানের অনুভূতি ও কাউকে বুঝতে তো দেয় ন্ াতবু আমান্ডাই এক মাত্র বুঝতে পারে। আজও ফাবিয়ানের জীবনের একমাত্র ভালোবাসার নয়নমণি সারা। আবার দুঃখ, যন্ত্রণা, জেদ- সবই সারা। সে দরজা খুলবার সাধ্যি কারো নাই। পৃথিবীর প্রতিটা মানুষই বোধ হয় এরকম। এক জায়গাতে আটকে যায়। আর এটা তার অন্যতম দুর্বল জায়গা। সেখানে স্পর্শ করবার অধিকার ফাবিয়ান কাউকে দেয় না।</p>



<p>এই তো গতকালই হঠাৎ করে সারা তার মাকে ফোন করলো। ফোন করেই অঝোরে কান্না শুরু&nbsp; করলো-</p>



<p>: কিরে কাঁদছিস কেন?</p>



<p>: মা, আমি- আমি একটা খুব খারাপ স্বপ্ন দেখেছি।</p>



<p>: কি দেখেছিস?</p>



<p>: আমার ফাবিয়ানকে নিয়ে, খুউব খারাপ স্বপ্ন। তারপর আমি উঠে গেছি। আর ঘুম আসেনি। মা, আমার খুবই অস্থির লাগছে, আমি কি করি?</p>



<p>: কি আর করার আছে, বল? দোয়া করা ছাড়া। আমরা কি-ই বা করতে পারি, বল? তবু আজ চার্চে গিয়ে ৫টা ক্যান্ডেল জ্বালিয়ে আসিস।</p>



<p>: ঠিক আছে মা। মা, তুমি আমাকে একটা প্রমিস করবে?</p>



<p>: কিসের প্রমিস?</p>



<p>: ঐ, মানে- আমার ফাবি যদি কখনো তোমার কাছে আসে, তুমি সাথে সাথে আমাকে ফোন করবে।</p>



<p>: আচ্ছা করবো, আগে তো ওকে আসতে দে, সে কবে থেকেইতো বলছে আসবে আসবে।</p>



<p>: মা, প্লিজ &#8211; ভুলে যেওনা কিন্তু!</p>



<p>কবে আসবে বাছাটা কে জানে? ওর নিজেরই এত টেনশন। এখনো তার কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে নাই। বড় একজন মিউজিশিয়ান হবার। হাজার হাজার ডলার ঢালছে এজেন্টের কাছে। নিজের সুরারোপিত গানের সিডি, বিভিন্ন এ্যাড এজেন্সি, সিনেমা প্রডাকশন, অফিসে দিয়ে আসে। কেউ ডাকছে না। একবারই একটা এ্যাড এজেন্সিতে নিজের সুরারোপিত জিঙ্গেল করেছিল। কিন্তু তাতে মোটেই ফাবিয়ান খুশি নয়। ফোন করলেই এ কথা সে কথার পরই বলবে-</p>



<p>: নন্না একটু দোয়া কর প্লিজ, হৃদয় উজাড় করে দোয়া কর আমার জন্য।</p>



<p>: করিতো সোনা, তুই ছাড়া আমার আর কেই বা আছেরে? রাত-দিন তোর জন্যই তো দোয়া করি।</p>



<p>: তাহলে ম্যাজিকটা লাগছে না কেন, বলতো? আহ্! আমার শুধু চাই একটি চান্স, একটি শুধু একটি- ব্যস আর কেউ তাহলে আমার সামনে এগিয়ে থামাতে পারবে না।</p>



<p>: হয়তো আমি পাপী বান্দা। আমার দোয়া তোকে লাগছে না।</p>



<p>: কি যে বল, তুমি পাপী। হা&#8230; হা&#8230; তাহলে এই জগত সংসারে কে আছে পূণ্যবান?</p>



<p>: নারে ফাবি, এই দুনিয়ায় সবাই আমরা কমবেশি পাপ, পূণ্যে জড়াজড়ি করে থাকি। কারণ, আমরা তো কেবলই মানুষ। আর মানুষেরাই শুধু বার বার ভুল করে। তারপর সেই ভুল থেকে এগিয়ে যাবার পথ খুঁজে ন্যায়।</p>



<p>: নন্না, মাই&#8230; মাই&#8230; তুমি দেখি একেবারে বিরাট মাপের দার্শনিক হয়ে গেছো।</p>



<p>: আরে বোকা, এই পৃথিবীর প্রতিটা মানুষের হৃদয়ের গভীরে একটা করে দার্শনিক থাকে।</p>



<p>এভাবেই ফাবিয়ান প্রায়শই নানীকে কথার জালে জড়িয়ে রাখে অহর্নিশ। দূর থেকে আমান্ডা টেলিফোনের তারে তার নয়নের মণির প্রশ্বাস নেবার এবং নিঃশ্বাস ফেলার শব্দ শোনে। ওর প্রতিটি শ্বাস যে তার শ্বাসের সাথে জড়িয়ে থাকে এটা ও ফাবিয়ানকে বলতে পারে না।</p>



<p>আমান্ডা খুব স্বপ্ন দেখেছিল তার আদরের নাতি বড় হবে, বিয়ে দিবে, বউটা টুকটুক করে ঘুরে বেড়াবে। আর ফাবিয়ানের সাথে সারাদিন খুঁনশুটি করবে। দূর থেকে সে সব দেখে আমান্ডার কতকালের স্বপ্ন সাধ পূরণ হবে। হায়রে স্বপ্নরা, ওরা যে কেবলই মরিচিকা হয়ে যত্রতত্র ঘুরে বেড়ায়। কখনওকি এইসব মরিচিকা ধরা দেয় কারো স্বপ্নের বাইরে? আর যাকে নিয়ে এইসব স্বপ্নের জ্বাল বুনেছিল, সেই ডোরিন? এই তো ক’দিন আগেও একবার সারা তাকে ডোরিনের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলো-</p>



<p>: মা, তোমার কি মনে হয় ফাবিয়ান আর ডোরিনের আর কোন সম্ভাবনা আছে?</p>



<p>: কি জানি? বুঝছি না। সম্পর্কগুলো বড়ই গোলমেলে! বড় সাধ ছিল ওদের দুজনকে নিয়ে। কি জানি কার যে নজর লাগলো!</p>



<p>: কারো নজর লাগেনি মা। সবই আমার পোড়া কপাল! ছেলেটার জন্মই হলো যেন আজন্মের দুঃখী হওয়া কপাল নিয়ে। যে কারণে বাপ থেকেও বাপকে পেল না। রাগ করে মায়ের কাছে আসলো না, কি আর বলবো? কি জানি ওর কপালে কি আছে?</p>



<p>: বালাই ষাট! ওসব বলতে নেই। সব সময় সন্তানের জন্য ভালো মনোস্কামনা করবি, দেখবি ওদের জীবনের দুকুল ছাপিয়ে সুখের জোয়ার আসবে। আর দুঃখগুলো ভয় পেয়ে পালিয়ে যাবে।</p>



<p>: কই আর আসলো? জন্মাবধি বাপের ভালোবাসা যে কি জিনিস সেটাই পেল না। ঐ না পাওয়াটা যে কতটা শূন্যতা সৃষ্টি করে, সেটা মা আমি হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। যখন দেখি স্টিভেন, নাটালি আর ডেভিডকে নিয়ে কি রকম ভালোবাসায় ডুবিয়ে রাখে, তখন আমার হতাশার আর সীমা থাকে না। আমার ফাবিয়ান ছোটবেলায় কেমন কাঙালের মত চেয়ে থাকতো, যখন কেভিন খুব আদর করতো ডোরিনকে। কত দিন আমার সোনা চুপি চুপি বালিশের মধ্যে মুখ ডুবিয়ে কাঁদতো! তোমার মনে আছে মা? বিশেষ করে ঋধঃযবৎং ফধু-এর দিন।</p>



<p>: তাকি আমি জানি না বাছা! কত দিন আমাকে প্রশ্নবানে জর্জরিত করেছে, ‘ও নন্না, সবার বাবা আছে আমার বাবা নেই কেন?’</p>



<p>: তাই তো, বল দেখি- কেন আমার সোনার ছেলেটার জীবনটা এরকম হয়ে গেল? তারপর আমি তার মা হয়ে আমিও তাকে ছেড়ে এই এত্ত দূরে চলে এলাম- সারা হাউমাউ করে কেঁদে ফেলে।</p>



<p>: থাক মা, এসব নিয়ে আর কথা বলে কি হবে বল?</p>



<p>: তোরও তো বাকি জীবন পড়েছিল, ঐ একরত্তি ছেলেইতো তোর বাকি জীবনটাকে বহন করতো না? জীবনটা সময় সময় খুব দীর্ঘ হয়ে যায়রে মা! জীবনের প্রতিটি ধাপ বড়ই গোলমেলে।</p>



<p>: কিন্তু দ্যাখো মা, আমার ফাবিয়ান সারাটা জীবন আমাকে আর ক্ষমা করতে পারলো না।</p>



<p>: আসলে এই ক্ষমা করতে না পারাটাতে ওকে দোষারোপ করার কোন অর্থ হয় না। সেই সময়টা যে পরিবেশে বা যে পরিস্থিতিতে ও বড় হয়েছিল, চিন্তা করে দ্যাখ- ডোরিন, রায়ান, জেসন- এদের সবার ছিল বাবা-মা একটা সুস্থ জীবন; ভালোবাসা ভরা জীবন। আর ওর? জীবনে বাবার মুখই দেখলো না। তোরও নতুন জীবনের জন্য সমঝোতা করতে হলো। বল তাহলে? ওকে কি কোন দোষারোপ করা যায়?</p>



<p>: না মা, আমিতো ওকে কখনো দোষারোপ করিনি। উল্টো নিজেকেই সারাক্ষণ দোষী ভাবি। তবুও মা বড় কষ্ট। কত দিন ওর মুখ থেকে মা ডাক শুনি না। (চলবে)</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="300" height="279" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2021/05/রীনা-গুলশান-1.jpg" alt="" class="wp-image-4859" style="width:166px;height:auto"/><figcaption class="wp-element-caption">রীনা গুলশান</figcaption></figure>
</div>


<p><em>লেখক রীনা গুলশান বাংলা সাহিত্যে মাস্টার্স। ইতিপূর্বে বাংলাদেশের বিভিন্ন দৈনিক, সাপ্তাহিক এবং মাসিকে তার কবিতা, ছোটগল্প, প্রবন্ধ, রম্য রচনা প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত হয়েছে কানাডার বিভিন্ন বাংলা পত্রিকাতেও। তিনি ‘প্রবাসী কণ্ঠ’ ম্যাগাজিন এর একজন নিয়মিত কলামিস্ট।</em></p>



<p></p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>নিভৃতে</title>
		<link>https://probashikantho.com/2025/10/04/11886/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 04 Oct 2025 17:55:04 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Literature]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=11886</guid>

					<description><![CDATA[রীনা গুলশান ১২বার্গার-এ মাত্র ২/৩টা কামড় দিয়েছে। ভালো করে খেতেও পারছে না ফাবিয়ান। বুকের কোন গহীন কোণে একটা সুক্ষ্ম কাঁটা]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p><strong>রীনা গুলশান</strong></p>



<p>১২<br>বার্গার-এ মাত্র ২/৩টা কামড় দিয়েছে। ভালো করে খেতেও পারছে না ফাবিয়ান। বুকের কোন গহীন কোণে একটা সুক্ষ্ম কাঁটা ওকে বার বার বেদনাহত করেই চলেছে। ও নিজেই ভেবে পাচ্ছে না, এত বড় একটা ভুল সে কিভাবে করলো? ওকি তবে আসলেই খুব স্বার্থপর ধরনের একটা ছেলে? সারাটি জীবন শুধু নিজের যন্ত্রণার পেছনেই ছুটেছে? একটি বারও অন্য কারও কথা ভাবেনি! সেই মেয়েটি তাকে রাস্তা থেকে তুলে কোথায় বসিয়েছে? আজ প্রায় ৫টি বছরের প্রতিটি সুখে-দুঃখে যে মেয়েটি তাকে ছায়ার মত ঘিরে রেখেছে। সেই তাকেই সে কিভাবে এরকম ওভারলুক করেছে? একটি বারও কি ও কখনো নাওমীর কথা ভেবেছে! কেন মেয়েটি দিনের পর দিন ওর জন্য এত করছে, কেন? কেন? কেন? আসলে আজ কেন যেন মনে হচ্ছে ও কখনোই কারো কথা আসলেই কি ভেবেছে? এই যে বুড়ো নানীটা যে সারাটি জীবন ওকে আঁচলের ছায়া দিয়ে এতটি বড় করেছে, সেকি একবারও নানীর কথা ভেবেছে? বুড়ো মানুষটা কিভাবে আছে? তারপর ডোরিন? শুধুমাত্র একটি মানুষের জন্য সে ক্রমাগতভাবে তার আশপাশের আরও কতগুলি মানুষকে দুঃখী করে চলেছে?<br>: ওহ্, ওহ্- আমি এটা কি করেছি। হায় ঈশ্বর। এটা আমি কি করেছি? আমি কি তবে সারা জীবন শুধু মরীচিকার পেছনে ছুটেছি? শুধু সুন্দরের পেছনে? সিসিলিয়ার অসম্ভব সৌন্দর্যটাই দেখলাম, আর নাওমীর ভালোবাসাটা আমার চোখেও পড়লো না?<br>হঠাৎ তার সেল ফোনটা বেজে উঠলো-<br>: হ্যালো, কিরে শালা- তুই কৈ? আমি দেখি সেই কখন থেকে তোর ফ্লাটের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বেল বাজাচ্ছি!<br>: ওহ্! রায়ান তুই এসে গেছিস?<br>: এসে গেছি মানে, ঘণ্টা খানেক ধরে। তুই ব্যাটা আজকের দিনে আবার বেরিয়েছিস কেন?<br>: ওহ্! সরি, এক্ষুনি আসছি। একটু কাজে বেরিয়ে ছিলাম দোস্ত। আসছিরে…<br>ট্যাক্সি ধরেই বাসা চলে এলো যাতে করে দেরি না হয়। এসেই দেখে রায়ান আবার এক তলাতে নেমে নিচের দর্শনার্থীদের বেঞ্চে বসে আছে। ফাবিয়ানকে দেখে, ওর আবার মুন্ডু চটকে দুজন উপরে উঠলো। একটা ব্যাগ হাতে এসেছে।<br>: দোস্ত তুই খেয়েছিস? ফাবিয়ান খুব কুণ্ঠিতভাবে জিজ্ঞাসা করলো। কারণ ও জানে ফ্রিজে তেমন কিছু নাই। চলে যাবে বলে ফ্রিজ প্রায় খালি করে রেখেছে। এখন রায়ান যদি বলে, তার ক্ষিধে পেয়েছে তাহলে বেশ বিব্রতকর অবস্থা হবে। ও যখন বেশ বিব্রতভাবে এসব ভাবছে এমন সময় ওর সেল ফোন বেজে উঠলো। নাওমী-<br>: ফাবি, আমি তোমার ঘরের সামনেই, তোমাদের জন্য লাঞ্চ বানিয়ে আনছি।<br>: সত্যি? ফাবিয়ান প্রায় চিৎকার করে উঠলো।<br>: কি ব্যাপার এরকম বিকট চিৎকার। খুউব ক্ষিধে পেয়েছে?<br>: তাতো পেয়েছেই- ফাবিয়ান নাওমীকে খুশি করতে চাইলো। উপরন্তু গলা পর্যন্ত ক্ষিধে নিয়ে রায়ানও দাঁড়িয়ে আছে!<br>: ওহ্, হো… হো… আমি খুবই দুঃখিত দেরী হবার জন্য।<br>: আচ্ছা আমি দরজা খুলছি, আর তোমার ‘বাজ’ টিপার জন্য অপেক্ষা করছি।<br>একটু পর নাওমী বিশাল পিকনিকে যাবার খাবার ঝুড়ি নিয়ে হাজির। হাতে আবার কিসব লটবহর। রায়ান মোটামুটি ঝাঁপিয়ে পড়লো সব খোলাখুলি করার জন্য।<br>: ওহ্, মাই গড ‘রিসোটো’? ওহ্, কত দিন পর এ রকম ‘রিসোটো’ গন্ধ পেলাম! রায়ান নাক জোরে টানলো।<br>: আচ্ছা, আচ্ছা হয়েছে- সরো আমি খাবার লাগিয়ে দিচ্ছি।<br>নাওমী সুন্দরভাবে তিনটে প্লেটে বাড়লো ‘রিসোটো’ আর চিকেন বেকিং রোস্ট। আর একটা পাত্রে রয়েছে চিজ কেক। ফাবিয়ানের ক্ষিধে পায়নি। কিন্তু সেও মোটামুটি রায়ান-এর মতই ভাব করছে। কারণ, তা নাহলে নাওমী খুব দুঃখ পাবে। ওকে আর কত দুঃখ দেবে। বুকে পাহাড় পরিমাণ দুঃখ নিয়েও সে ফাবিয়ানের জন্য লাঞ্চ বানিয়েছে। এমনকি ওর বন্ধুর জন্যও। রায়ান আসবে এটা নাওমী জানে। নাওমীর সাথে আগে ও অনেক বার দেখা-সাক্ষাৎ হয়েছে। রায়ানও সিসিলিয়াকে একদম পছন্দ করতো না। বলতো, ‘ওটা মাকাল ফল’। নাওমীকে বরাবর রায়ান খুব পছন্দ করতো। সে নিজেও এখনও না খেয়ে আছে অথচ ফাবিয়ান তো রীতিমত ংঁনধিু-এর বার্গার খেয়েছে।<br>খাওয়া শেষে নাওমী স্যুটকেস গোছাতে বসলো। নিপুণ করে গোছাতে শুরু করলো। রায়ান আবার তার বাবা-মায়ের জন্য গিফট এনেছে। সেগুলো গুছালো।<br>নাওমী এনেছে ওর নানীর জন্য একটা খুব দামী আর্থপেডিক জুতো। আর হালকা গোলাপী রঙের একটা সোয়েটার। বেশ কিছু দিন ধরে এই সোয়েটারটা সে নিজেই বানাচ্ছিল। অনেক আগে, সিসিলিয়া তার জীবনে আসবার আগে। নাওমী তাকে একটা ধুসর রঙের সোয়েটার বুনে দিয়েছিল। আর একটা কালো রঙের ভেলভেটের ছোট্ট চৌকাণা বাক্সে কি যেন।<br>: ওটা আবার কি? ফাবিয়ান বাক্সটা দেখিয়ে বললো।<br>: এই তো দ্যাখো, বলে নিজেই খুললো।<br>একটা রিয়েল শ্যাপায়ার আর রিয়েল ডায়মন্ডের আংটি হোয়াইট গোল্ডের মধ্যে।<br>: এটা আবার কি করেছো? ফাবিয়ান খুব বিস্মিতভাবে বললো।<br>: না, মানে- এটা একটা আংটি। এটা তুমি তোমার তরফ থেকে ডোরিনকে পরিয়ে দিও। আমিতো জানি, তুমি ডোরিনকে দেবার মত কোন রিঙ কেনোনি। তাই আমিই কিনে এনেছি।<br>ফাবিয়ানের হঠাৎ খুব কান্না পেল। এমনিতেই সেই সকাল থেকেই তার হৃদয়ে ঝড় বইছিলো। এখন আবার নাওমীর এইসব আচরণ। ফাবিয়ান তার কান্না চাপতে দৌড়ে ওয়াশরুমে ছুটলো। বেসিনের সামনে জোরে কল ছেড়ে, ফাবিয়ান খুব কাঁদলো।<br>নাওমী আজ আসবার পর থেকেই ফাবিয়ানের আচরণ দেখে বেশ অস্বস্তি বোধ করছিল। কেন যেন মনে হচ্ছিল ফাবির মধ্যে কি একটা পরিবর্তন হয়েছে। এখন তার কৌতুহল আর চাপতে পারলো না, রায়ানকে জিজ্ঞাসা করলো-<br>: রায়ান, ফাবির কি হয়েছে?<br>: কি জানি বুঝতে পারছি না। আসবার পর থেকেই দেখছি বেশ গম্ভীর হয়ে আছে। হয়তো বা অনেক দিন পর নানীর কাছে যাচ্ছে, সেই জন্যই বেশ ইমোশনাল হয়ে আছে।<br>: হু! হয়তো বা- কিন্তু আমার অবশ্য তা মনে হচ্ছে না।<br>: হতেও পারে হয়তোবা সারা আন্টির কথা মনে পড়েছে। ওরতো সারাক্ষণ ব্রেনের মধ্যে দুটি চিন্তা ঘোরে। এক সাইডে তার মার জন্য অন্য সাইডে তার অন্য জগৎ। যদিও মুখে ঠিক তার উল্টোটা বলে। ভাব দেখায় মাকে প্রচণ্ড ঘৃণা করে। অথচ মনে মনে এখন সারা আন্টির সেই ‘পিচ্চি’ ফাবি হয়েই আছে। অথচ মায়ের ফোন ধরবে না। কথা বলবে না।<br>: এ ব্যাপারে আমি তোমার সাথে একমত। আর মায়ের ব্যাপারে কোন রকম আলোচনাও কারো সাথে করতেও চায় না।<br>এর মধ্যে ফাবিয়ান চলে এলো।<br>: দ্যাখো আমি একেবারে গোসলটাও করে ফেললাম। এখন ড্রেসটাও পরি ফেলছি। সাড়ে চারটে বেজে গেছে।<br>: নে রায়ান আর কি কি খাবি খেয়ে ফেল-<br>: শালা আমি কি খালি খেতেই আসি নাকি?<br>ফাবিয়ান অনেক দিন পর হো… হো… করে হেসেই ফেললো। ঘরের পরিবেশটা বেশ হালকা হয়ে গেল।<br>: ফাবিয়ান তোমার শেভিং কিডটা নীল রঙের এই স্যুটকেসটার ডানদিকে আছে, বুঝেছো?<br>: কেন, ওটা হ্যান্ডব্যাগে দিলে হতো না?<br>: ওহ্! তুমি তাও জানো না। হ্যান্ডব্যাগে এখন এসব নেওয়া যায় না?<br>: তাইতো আমি ভুলেই গিয়েছিলাম।<br>: সেই জন্য তোমার হ্যান্ডব্যাগে আমি এই ক’দিন যে সমস্ত কাপড় পরবে সেগুলো দিয়ে দিলাম। আর সমস্ত গিফট আইটেম স্যুটকেসে দিলাম।<br>: ওহ্, হো. হো- ‘এই না হলে হুসনা বানু’- রায়ান হঠাৎ করে মজা করে চেঁচিয়ে উঠলো।<br>: শালা, তুই খুব লাকি- এক একটা দোস্ত বন্ধুও পাস বটে…<br>: তাতো বটেই। তাতো বটেই। দ্যাখ এই তোর মত বন্ধুও কিরম পেয়েছি? এ কথায় তিনজনেই হেসে উঠলো।<br>একটু পরই ওরা রওনা দিল। নাওমীর গাড়িতেই রওনা হলো। পথে বিশেষ কেউ কথা বললো না। কেমন যেন যার যার নিজের ভাবের মধ্যে ওরা ডুবে রইলো।<br>এয়ারপোর্টে লাগেজ চেকিং হয়ে গেল। একটা স্যুটকেস এক্সটা ছিল বলে অনেকগুলো ডলার দেওয়া লাগলো। এবারে ফাবিয়ান ইমিগ্রেশনের ভেতরে চলে যাবে। অতএব ওদের সাথে আর কথা বলতে পারবে না। তাই একটু দাঁড়িয়ে গেল। আজ কেন জানি ও ভালো করে নাওমীর সাথে কথা বলতে পারছে না। কেন কে জানে? রায়ানের সাথে টুকটাক কথা বলছে। কিন্তু নাওমীকে যথেষ্ঠ এড়িয়ে যাচ্ছে। নাওমী মনে মনে খুব অবাক হচ্ছে। নাওমী ভাবছিল ও কি কোন কষ্ট দিয়েছে অজান্তে ফাবিয়ানকে? নাওমী তখন থেকে মনে করবার চেষ্টা করছিল। এখন আর খুব বেশি সময় নাই। ফাবিকে ভেতরে চলে যেতে হবে।<br>: রায়ান আমি যাইরে, তোরা ভালো থাকিস।<br>: হ্যাঁ থাকবো। তুই কিন্তু পৌঁছেই একটা ফোন করতে ভুলিস না। বেশ চিন্তায় থাকবো। আর মাকে বলিস, আমি ভালো আছি। নেক্সট ইয়ারে একেবারে বৌ নিয়ে ভ্যালেলংগায় যাবো, বুঝলি?<br>: হু! বলবো- ফাবিয়ান কথা বলতে পারে না। তার ভেতর থেকে একটা গভীর অপরাধবোধ এবং আরো অনেক কিছু মিলিয়ে একটা কষ্টের কান্না চোখের ভেতরে এসে জমছিল। তাই মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছিল না। সে রায়ানকে জড়িয়ে ধরে বিদায় নিল। তারপর হঠাৎ করে নাওমীর কাছে যেয়ে সে খুব দ্রুত ওর মুখটা দুহাতের করতলে তুলে ধরলো, তারপর তার ললাটে চুম্বন করলো; আর খুব ফিসফিস করে বললো-<br>: ক্ষমা করো আমাকে প্লিজ, ক্ষমা করো। ভালো থেকো আমি খুব শিঘ্রি ফিরে আসবো- বলেই এক রকম ছুটে চলে গেল। আর পেছনে ফিরে চাইলো না।<br>পেছনে ওরা বেশ হতভম্ভ হয়ে রইলো। ফাবিয়ান চলে যাবারও অনেকটা সময় পর্যন্ত ওরা দাঁড়িয়ে রইলো। কেউ কোন কথা বললো না। মনে হলো ওদের চারপাশ নৈঃশব্দে ভরে আছে। অনেকক্ষণ পর রায়ান বললো-<br>: নাওমী, লেটস গো।<br>: হ্যাঁ, চলো।</p>



<p>১৩<br>কাটিনজারোতে অনেকক্ষণ আগে পৌঁছে গেছে। ফাবিয়ান তার নানীকে সারপ্রাইজ দেবে বলে তাকে বলেনি যে, সে আসছে। শুধু জেসনকেই বলেছে। জেসন ওকে কালাব্রিয়া থেকে পিকআপ করবে। এখন আর একটা ডমিস্টিক প্লেনে ওকে কালাব্রিয়াতে যেতে হবে। ওর ভেতরে এক ধরনের উত্তেজনা কেমন যেন থিতিয়ে আসছে।<br>কালাব্রীয়াতে নেমে চেকিং আউট হয়েই দেখতে পেল তার প্রাণের বন্ধু জেসন একদম সামনেই দাঁড়িয়ে আছে। সাথে আর একটা খুব সুন্দর মেয়ে। দুজন দুজনাকে অনেকক্ষণ ধরে জড়িয়ে ধরে থাকলো।<br>: ওহ্! জেসন, কদ্দিন পর তোকে দেখলামরে।<br>: হ্যাঁ, ঠিকই বলেছিস। ওহ্ ফাবি দ্যাখ, এটা তোর ভাবী।<br>: ওহ্! মাই গড। কবে, কখন? আমাকে বলিসনি কেন?<br>: আরে এই এক মাস হলো। এর মধ্যে তুই বললি আসবি, তখনই বুদ্ধিটা এলো তোকে একটা গ্রেট সারপ্রাইজ দেবার। নামটা তো তোকে আগেই বলেছি। মারিয়ানা গ্যারিসটো। আর মারি, এ হলো…<br>: জানি বাবা, তোমার প্রাণের বন্ধু ফাবিয়ান ফ্রাঞ্জিপেনে।<br>ফাবিয়ান সত্যিই খুবই সারপ্রাইস হয়েছে। তবু সে স্মিত হেসে মারিয়ানার সাথ সেকহ্যান্ড করলো।<br>: মাই গড, তুমিই তাহলে সেই ফাবিয়ান। তোমার কথা শুনতে শুনতে আমারতো কান ঝালাপালা।<br>: আচ্ছা, তোমার মত সুন্দরীকে পেয়েও আমার কথা তাহলে বলে জেসন?<br>: কি যে বলো, সারাক্ষণ- অবিরাম।<br>: তা এত শিঘ্রি শিঘ্রি বিয়েটা করে ফেললে যে… এ কথায় জেসন আর মারিয়ানা দুজন দুজনার দিকে তাকালো। তারপর জেসনই জবাবটা দিল-<br>: আসলে হয়েছেটা কি, তুইতো জানিস আমার বাবা-মা একেবারে যাকে বলে সত্য যুগের মানুষ। ইয়ে মানে, মারিয়ানা কনসিভ করলো, তাই যাতে ওরা বুঝতে না পারে আমরা তাড়াতাড়ি বিয়েটা সেরে ফেললাম।<br>: ওহ্! হো। ফাবিয়ান হো… হো… করে হাসলো।<br>: তুই আর শুধরালী না, ভালোই করেছিস! আমাদের মধ্যে তুই-ই বিয়ের কাজটা আগে করলি। অবশ্য রায়ান আর মিরান্ডারও এনগেজমেন্ট হয়ে গেছে। আমার যাবার পরই ওদের বিয়ে।<br>: বলিস কি, ঐ শালা আমাকেতো বলেনি।<br>: ওকে তো জানিসই, ফাবিয়ান তাড়াতাড়ি রায়ানের পক্ষ নিলো- একটা কথা শুরু করে, অন্য কথা বলে। আবার একটা কথা বলতে গেলে আর একটা যায় ভুলে!<br>: হু, তা মিরান্ডা দেখতে কেমন রে?<br>: দা..রু..ন, একেবারে ঝাকাস!<br>: আচ্ছা, ঐ যে ওর সেই মটু মামার মেয়ে না?<br>: হ্যাঁ তাই-ই, শুধু কি তাই একেবারে রাজকন্যার সাথে অর্ধেক রাজত্ব।<br>: বলিস কি? কি রকম বলত?<br>: আসলে হয়েছে কি মটু মামার বাড়িটা একেবারে ম্যানসন। এবং অলরেডি পেইড অফ! তো, এনগেজমেন্টের পর উনারাই বলেছে যে, তোমরা যদি এ বাড়িতেই থাকো তো আমরা খুব খুশী হবো। এছাড়া চালু বিজনেস।<br>রায়ান-ই এখন সেখানকার ম্যানেজার। মামা এখন ক্বচিত বসে।<br>: হু! রায়ান বেশ দান মেরেছে একখানা।<br>: তা যা বলেছিস।<br>: তোমাদের মনে হচ্ছে খুব জ্বলুনি হচ্ছে, মারিয়ানা টিপ্পনি কাটলো।<br>: জ্বলুনি বলে, দুই বন্ধুই হো… হো… করে হেসে উঠলো।<br>: তারপর জেসন, ডোরিন কেমন আছেরে?<br>: ভালোই তো মনে হলো।<br>: মনে হলো বলছিস কেন, কথা হয় না?<br>এবারে জেসন আর মারিয়ানা দুজন দুজনার দিকে তাকালো। কেমন যেন পাশ কাটাতে চাইলো এই বিষয়টার। হটাৎ করে অন্য প্রসঙ্গে চলে গেল জেসন।<br>: তুই খুব ড্যাসিং হয়ে গেছিস রে।<br>: বলছিস? ফাবিয়ান স্মিত হাসে।<br>: কদ্দিন থাকবি বলে ভাবছিস?<br>: ৪ সপ্তাহের মত ছুটি নিয়েছি, এর মধ্যে নন্নার স্পন্সরের কিছু ফরমালিটি বাকি আছে, ওটা এসে গেলে নানীকেও নিয়ে যাবো।<br>: কিন্তু ফাবি, নন্নাকি যেতে চাইবে? এই বয়সে নিজের বাড়িঘর ছেড়ে…<br>: একেবারেই যাবে নাকি? বাড়িঘর রইলো। মাঝে মাঝে নানীকে আমরা আনবো না? তাছাড়া টনি চাচার সাথে কথা বলেছি। সে চাচীকে নিয়ে আমাদের বাড়ির এক পাশে থাকতে রাজি হয়েছে।<br>: টনি চাচা, মানে তোদের জমিজমা যে দেখতো?<br>: হ্যাঁ রে, সেই একোদ্বিতম টনি চাচা!<br>: কিন্তু, সারা আন্টি কি এই ব্যবস্থায় রাজি হবে?<br>: তার রাজিতে কি এসে যায়?<br>হঠাৎ ফাবিয়ান দারুন একটা ফুর্তিতে চেঁচিয়ে উঠলো-<br>: আরে ঐ যে আমাদের চার্চের মাথা দেখা যাচ্ছে। উহ্! কি যে ভালো লাগছে না? জেসন তুই বুঝবি না। বিদেশে না গেলে দেশের মর্ম কেউ বোঝে না। নিজের দেশ, নিজের মাটির গন্ধ- ওহ আমার যে কি অসাধারণ উত্তেজনা আসছে, তুই বুঝবি না।<br>: তারপরও তো তুই পুরোপুরি পাততাড়ি গোটাতে চাইচিস?<br>: আরে বাবা, সে তো কত লোকেই করে- তাই বলে নিজের দেশের সাথে কিসের তুলনা?<br>ইতিমধ্যে ফাবিয়ানের শহর ভ্যালেলংগা একটু একটু করে তার চোখের উপর উদ্ভাসিত হতে শুরু করেছে। তার পরিচিত সব বৃক্ষেরা তাদের সমস্ত সতেজ সবুজ নিয়ে যেন ফাবিয়ানকে স্বাগতম জানাচ্ছে। জলপাই গাছের পরিবেষ্টিত ঘর, বাড়ি উঁকি মারছে যেন অনেক পরিচিত হাসি নিয়ে। ঘরগুলো এই পাঁচ বছরে অনেক বদলেছে। কোন কোন পরিচিত বাড়ি ভেঙে নতুন করে দ্বিতল বাড়ি হয়েছে। দূর থেকে দেখা যাচ্ছে একটা বেশ বড় সড় হাইরাইজ বিল্ডিং হয়েছে। আগে ছিল না তাদের এই ছোট শহরে। ফাবিয়ান বেশ উৎসুক হলো-<br>: এটা কার বাড়িরে জেসন? আগে তো ওটা হেরল্ড আঙ্কেলের বাড়ি ছিল, তাই নারে?<br>: হ্যাঁ, ওহ্! তুই শুনিসনি, হেরল্ড আঙ্কেলতো মারা গেছে। আর তার দুই ছেলে ঐ বাড়ি এবং সব জায়গাজমি বেঁচে দিয়ে কোথায় জানি তারা চলে গেছে, কেউ জানে না?<br>: আচ্ছা, তা কিনলো কে?<br>: বিশাল মালদার পার্টি। অন্য কোন শহরে ছিল। এগুলো সব কিনেছে। তারপর এই দশ তলা এপার্টমেন্ট বিল্ডিং করেছে। আবার একতলাটা বিউটি পার্লার এবং বিউটি সাপ্লাই-এর দোকান করেছে। দোতলাটা আবার জিম এন্ড ইয়োগা সেন্টার করেছে। বাকি এপার্টমেন্ট ভাড়া দিয়েছে। ৪ তলাতে বাড়িওয়ালা নিজে থাকে, ওয়ান ইউনিট ওটা।<br>: তাই নাকি? কে এরা? আমরা চিনি?<br>: না, আমরা চিনি না। লোকটার নাম ডোনাল্ড গ্যারিসটো। লোকটা ইটালিয়ান কিন্তু বৌ ফরাসি। একটি ছেলে, ম্যাথিউ গ্যারিসটো আর একটি মেয়ে। মেয়ে থাকে প্যারিসে। বাবা-মাও বেশির ভাগ সময় প্যারিসে থাকে। ছেলেকে এই সম্পত্তি কিনে, বিজনেস দিয়ে ওরা চলে গেছে। মাঝে মাঝে আসে।<br>: ঐ ডোরিন মেয়েটাও তো, হঠাৎ মারিয়ানা বললো-<br>: কি হয়েছে ডোরিনের? ফাবিয়ান চকিত প্রশ্ন করলো।<br>: না, না- ওসব কিছু নয়। জেসন আবার কথা ঘুরালো।<br>: জেসন তুই কি আমার কাছে কিছু লুকাচ্ছিস?<br>: নাহ্! কি লুকাবো?<br>: দ্যাখ দোস্ত, কিছু বলার থাকলে আমাকে বলে দে…<br>: আচ্ছা পাগল তো, তুই- তুই নিজেই যখন এসেছিস আমার আর কি বলার আছে?<br>ফাবিয়ানের হঠাৎ আসা আনন্দ এবং অপ্রশমিত উত্তেজনা যেন বা কিছুটা থিতিয়ে আসে। ও গাড়িতে হেলান দিয়ে একটু চোখ বন্ধ করলো। (চলবে)</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="300" height="279" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2021/05/রীনা-গুলশান-1.jpg" alt="" class="wp-image-4859" style="width:161px;height:auto"/><figcaption class="wp-element-caption">রীনা গুলশান</figcaption></figure>
</div>


<p><em>লেখক রীনা গুলশান বাংলা সাহিত্যে মাস্টার্স। ইতিপূর্বে বাংলাদেশের বিভিন্ন দৈনিক, সাপ্তাহিক এবং মাসিকে তার কবিতা, ছোটগল্প, প্রবন্ধ, রম্য রচনা প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত হয়েছে কানাডার বিভিন্ন বাংলা পত্রিকাতেও। তিনি ‘প্রবাসী কণ্ঠ’ ম্যাগাজিন এর একজন নিয়মিত কলামিস্ট।</em></p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>নিভৃতে</title>
		<link>https://probashikantho.com/2025/08/03/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%ad%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a7%87-12/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 03 Aug 2025 16:57:24 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Literature]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=11649</guid>

					<description><![CDATA[রীনা গুলশান (পূর্ব প্রকাশিতের পর) : হা&#8230; হা&#8230; তো কি আর করবে? তোর তো দেখি জ্বালা তাহলে রবার্টের দরজা বন্ধ]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p><strong>রীনা গুলশান</strong></p>



<p>(পূর্ব প্রকাশিতের পর)</p>



<p>: হা&#8230; হা&#8230; তো কি আর করবে? তোর তো দেখি জ্বালা তাহলে রবার্টের দরজা বন্ধ করা নিয়ে? তা তুইও একজন ওরকম ধরে ফেল। ডাউনটাউনে প্রচুর ঘুরছে ঐ রকম। আর তোর যে রকম চকোলেট মার্কা চেহারা?</p>



<p>: ছো: ছো: ভাগ। আর কথা খুঁজে পেলি না। তুই যাই-ই বলিস ঐ ব্যাটা রবার্ট একটা আস্ত খবিশ। চরম স্বার্থপর। চিন্তা কর, এতটা দিন হয়ে গেল একটি বার খোঁজও নিল না- আমরা মরলাম কি বাঁচলাম!</p>



<p>: চিন্তা করিস না দোস্ত! আমি সময় মত জায়গা বুঝে দেব একটা কোপ। তোর অবর্তমানে এই দায়িত্বটা আমিই পালন করবো।</p>



<p>: তোর কথা বুঝলাম না। আমার অবর্তমানে কথাটার মানে কি?</p>



<p>: কথাটার মানে হলো, আগামীকাল সকালেই তুই একাই লন্ডন (অন্টারিও)-তে যাচ্ছিস, আমি না।</p>



<p>: তুই এইসব কি বলছিস, ফাবি? রায়ান রীতিমত চিৎকার করে ওঠে।</p>



<p>: নারে দোস্ত, তুই প্লিজ। রাগ করিস না।</p>



<p>: রাগ করবো না মানে কি? আমি কি শুধু নিজের জন্য মামাকে বলেছি? এমনকি মামাও তো তোর আমার দুজনের কথাই বলেছে। তাহলে এখন তুই সুর পাল্টাচ্ছিস কেন?</p>



<p>: না, রায়ান প্লিজ, রাগ করিস না। আমি সুর চেঞ্জ করছি না। বরং আমার সারা জীবনের সমস্ত স্বপ্নের সুরগুলোকে একই স্কেলে রাখতে চাইছি।</p>



<p>: কিন্তু সেটাতো ওখানে গেলেও রাখা যাবে!</p>



<p>: না, যাবে না। রায়ান তুই তো আমার জীবনের সবই জানিস, তোর কাছে আমার কোন লুকোছাপা নাইরে। সেই যে মা চলে গেল সুইডেনে। যাবার আগে হাতে ধরিয়ে দিয়ে গেল গিটারখানা। সেই থেকে আমি ওটাকে ছাড়িনি। সেই জন্য মিউজিকের উপর মাস্টার্সও করলাম। আমার শুধু এটা ঘুমের ভেতরের স্বপ্ন নয়, দিবা স্বপ্নও এই গান। গানের বাইরে আমি আর কিছু চিন্তাও করতে পারি না। এই গানের কথা চিন্তা করে আমি কানাডাতে এসেছি। তা না হলে তুই-ই বল, ভ্যালেলংগাতে আমার কিসের অভাব ছিল? একটা ভাল ক্যারিয়ারের আশায় নিজের দেশ, নানী এবং আমার সারা জীবনের ভালোবাসার ডোরিনকেও ছাড়তে হলো। কিন্তু পৃথিবীর কোন কিছুর বিনিময়েও আমি গান ছাড়তে পারবো না!</p>



<p>: কিন্তু এখানে চাকরি হলো না। এরকম অবস্থায়- রায়ান আমতা আমতা করে।</p>



<p>: ও তুই চিন্তা করিস না দোস্ত, একটা পেট চলেই যাবে। যাহোক করে&#8230;</p>



<p>: কিন্তু আমি যদি একা চলে যাই এইভাবে, তোর নানীর কাছে আমি মুখ দেখাবো কি করে?</p>



<p>: নানীর কাছে যা বলবার আমি বলবো, তুই চিন্তা করিস না।</p>



<p>পর দিন সব গুছিয়ে রায়ান যখন বাস স্টপে গেল, তখন ফাবিয়ান ওকে ছাড়তে গেল। ওদের কাছে আর মাত্র ১৬০০ ডলার ছিল। ২০০ ডলার শুধু রায়ান নিল টিকিট এবং হাত খরচা। বাকি ডলার ওর কাছে দিলো খুব চিন্তান্বিত মুখে। সারা পথ বাস স্টপ পর্যন্ত&nbsp; আবারো ওকে বোঝাতে বোঝাতে গেল। না পেরে, ফাবিকে বকাবকি ও করলো। ফাবিয়ান কোন জবাব দিল না। শুধু মিটি মিটি হাসলো। বাস ছাড়বার আগের মুহূর্তে হঠাৎ ওকে জড়িয়ে ধরে ভেউ ভেউ করে কেঁদে ফেললো রায়ান-</p>



<p>: আমি কখনো ভাবিনি তোকে ছাড়া আমাকে একা একা এইভাবে চলে যেতে হবে। দেশ থেকে এত দূরে এলাম দুই বন্ধু কি এভাবে আলাদা থাকবার জন্য?</p>



<p>: দূর বোকা, বিয়ে করলেও তো আলাদা থাকতে হতো! আর এতো ২/৩ ঘণ্টার পথ। প্রায়ই দেখা হবে আমাদের। দাঁড়ানা আমি এখানে একটু জমিয়ে বসে নেই। তোকে আবার আনিয়ে নেব!</p>



<p>: দেখা যাক। ভালো থাকিস। আর যদি এর মধ্যে মনটা চেঞ্জ হয় তো আমাকে প্লিজ ফোন করতে দ্বিধা করিস না।</p>



<p>১১</p>



<p>রায়ান চলে গেছে প্রায় ২/৩ সপ্তাহের মতো। তখন ফাবিয়ানের যে কিভাবে চলছে, সে নিজেও জানে না। পাগলের মতো বিভিন্ন ক্লাবে ক্লাবে ঘুরছে। বিভিন্ন মিউজিক ডাইরেক্টরের কাছে ধর্না দিচ্ছে। কেউ কথা দিচ্ছে না। এমনকি এজেন্টদের কাছেও যাচ্ছে। তারা যে টাকার অংক বলছে, এই মুহূর্তে সেটা ফাবি দেবে কোথা থেকে? তার খাবার পয়সাই নাই। এমনকি নানীকে প্রায় ২ সপ্তাহ ফোনও করেনি, কারণ আড়াই ডলার বেরিয়ে যাবে। মাসের ৩০০ ডলার দিয়ে বাকি টাকাটা যক্ষ্মের ধনের মত সামলে রাখছে। এক বেলা পাস্তা সেদ্ধ খাচ্ছে বাকি দুই বেলা পানি খাচ্ছে! ল্যান্ড লেন্ডি এলিজাবেথ একদিন ওকে ধরে খুব বকাবকি করলো-</p>



<p>: ফাবি, তোমার খবর কি? চেহারার একি হাল হয়েছে!</p>



<p>: না, না- ভালোই আছি; নতুন জায়গাতো? তাছাড় রায়ানটাও চলে যাওয়াতে&#8230;</p>



<p>: হু! বুঝতে পারছি। খুব মিস করছো ওকে?</p>



<p>: হ্যাঁ, এলিজাবেথ- জন্মোবধি এক সাথে বড় হয়েছি আমি, রায়ান, জেসন আর ডোরিন।</p>



<p>: হু, বুঝতে পারছি। একাকিত্ব যে কি জিনিস বাবা আমার থেকে আর কে বেশি জানে? প্রিয়জন ছেড়ে থাকা। কাছে আছে, তবুও এই দূরত্ব- এলিজাবেথ খুব জোরে দীর্ঘশ্বাস ফেলে। তারপর আনমনে বলে-</p>



<p>: বাবা, আজ রাতে আমার সাথে খেও।</p>



<p>: ঠিক আছে এলিজাবেথ।</p>



<p>কত দিন পর আজ মন এবং পেট পুরে খেল ফাবিয়ান। খাবার তেমন কিছু না। গারলিক ব্রেড আর বেকিং চিকেন। শেষ পাতে একটা ব্লুবেরীর দই দিল। আর দিল এলিজাবেথের মাতৃ হৃদয়ের আন্তরিকতা। আহ। কত দিন পর একটু তৃপ্তির ঢেকুর তুললো ঘরে এসে। এর মধ্যে সেল বেজে উঠলো-</p>



<p>রায়ান : এবং তার আনন্দে উদ্বেলিত চিৎকার ধ্বনি-</p>



<p>: আবে ইয়ার, তোর পাত্তা নেই কেন? তুই কি এখনো না খেয়ে বেঁচে আছিস? অথবা মরে ভুত হয়েছিস?</p>



<p>: বহাল তবিয়তে আছি ভায়া, এই মাত্র গুচ্ছের খেয়ে এলাম।</p>



<p>: বলিস কি? আমি তো ভাবলাম তুই অলরেডি কিং এন্ড ডাফরীনের মোড়ে টুপি পেতে ভিক্ষে শুরু করেছিস!</p>



<p>: নাহ্! এখন অবদি নয়। তবে খুব শিঘ্রিই সম্ভবত&#8230;</p>



<p>: হা&#8230; হা&#8230; দোস্ত, আব আয়া না উট পাহাড় কি নিচে&#8230;</p>



<p>: আরে না, এখনো পাহাড় অনেক দূরে। তা তোকে এত্ত খুশি লাগছে কেনরে?</p>



<p>: আবে দোস্ত, চাকরিতো পেয়েছিই তারপর বেজমেন্ট সুন্দর সাজানো ঘর পেয়েছি। খাবারও চিন্তা নাই। রেস্টুরেন্টে তো মারছি তিন বেলা। আবার আন্টির প্রায়ই দাওয়াততো আছেই। কিন্তু আনন্দের কারণ অন্য&#8230;</p>



<p>: হুম! লেট মি গেস্- নিশ্চয়ই কোন চমনবাহারের সন্ধান পেয়েছিস!</p>



<p>: আরে ইয়ার, একদম তাই। হানড্রেট পারসেন্ট সহি নিশানা। কিন্তু সন্ধান করতে হয়নি, একেবারে চোখের উপরে- ওহ্! একেবারে পটাকা। হানড্রেট পাওয়ারের পটাকা। কি চোখ, কি হাসি আর ফিগার? একেবারে ‘মিস ওয়ার্ল্ড’-এর সাইজ&#8230;</p>



<p>: নিশ্চয়ই তোর ঐ আঙ্কেলের মেয়ে, ঐ মটু মামার মেয়ে।</p>



<p>: হা&#8230; হা&#8230; ঠিক ধরেছিস।</p>



<p>: তা তোরও যা একখানা চেহারা, একেবারে ব্রাড পীট!</p>



<p>: আরে রাখ তোর ব্রাড পীট! আমি তো ওর থেকেও হ্যান্ডসাম।</p>



<p>: এ ব্যাপারে অবশ্য আমি তোর সাথে একমত, তা চেহারাটা এবারে কাজে লাগা।</p>



<p>: আরে অর্জুন-এর তীর একেবারে ইশারামে&#8230;</p>



<p>: বলিস কি, তা ফুলঝুরির নাম কি?</p>



<p>: মিরান্ডা গ্যারিসটো, এখনই সে খাবার নিয়ে আমার ঘরে চলে আসবে।</p>



<p>: আচ্ছা। তাহলে তো খুবই ভালো হলো- লেগে থাক। আমি আছি তোর পেছনে। সময় মত গ্র“ম ব্রাদার হবার জন্য হা&#8230; হা&#8230;।</p>



<p>: শোন, কোন অসুবিধা হলে ফোন দিস। আর চলে আসতে লজ্জা পাস না।</p>



<p>: আরে না, তোর কাছে আবার কিসের লজ্জা।</p>



<p>এরপরও ৩/৪ মাস চলে গেল খুড়িয়ে খুড়িয়ে। পকেটে রেস্ত প্রায় জীরোর কোঠায়। এ মাসের আজ ১৭ তারিখ। শেষ হতেও আর বাকি নাই। খাওয়ার চিন্তার থেকেও ঘর ভাড়া কিভাবে দিবে, সে চিন্তাই দিন রাত্রি ফাবিয়ানকে কুরে কুরে খাচ্ছে। এখন প্রায় সাড়ে তিনটার মত বাজে। সকাল থেকে পেটে কোন দানাপানি পড়েনি। ভোর হতেই ঘাড়ে গিটার খানা ঝুলিয়ে বেরিয়ে পড়েছিল। কুইনের প্রায় প্রতিটি ক্লাব এবং রেস্টুরেন্টে হানা দিয়েছে যদি কোন কাজ পাওয়া যায়! কিন্তু না। বিফল মনোরথ ফাবিয়ান ডানডাস এন্ড ইয়াং-এর মোড়ে একটা ‘টিম হর্টনে’ ঢুকে একটা বেইগল আর কফি নিল। ১ ডলার ৬৪ সেন্টের মধ্যে হয়ে গেল। ওটাই তাবিয়ে তাবিয়ে খেল। তারপর কফি শেষ করে বেরিয়ে এলো। দেখলো ডানডাস স্কোয়ারের মোড়ের উপর ৭০-এর কাছাকাছি একটা চুলদাড়ি লম্বা লোক অনেকক্ষণ ধরে গান গাইছে। সামনে তার গিটারের বক্স খোলা, ২/১টা লুনি, টুনি আছে। তেমন কেউ পয়সা দিচ্ছে না। মানুষটা খুব ক্লান্ত হয়ে এখন বসে পড়েছে। ফাবিয়ান হাটি হাটি তার কাছে গেল। ওকে হাই বলে কথা শুরু করলো। লোকটা বললো, ও একজন মিউজিশিয়ান ছিল। এখন ফুসফুসে পানি জমেছে। ভালো করে গান গাইতে পারে না। একটা গাইলেই হাফ ধরে যায়। নাম তার জনাথন। ফাবি তার অনুমতি নিয়ে বলল-</p>



<p>: আমি কি তোমার জন্য একটা গান গাইবো?</p>



<p>: আমার জন্য? মানে ঠিক বুঝলাম না!</p>



<p>: মানে হলো, আমি তোমার জন্য গাইবো। পয়সা যা হবে সব তোমার, আমি নিব না।</p>



<p>: তুমি ঠিক বলছো? ওকে তবে গাও, লোকটা মিনমিন করে বললো, ঠিক বিশ্বাস করতে পারছে না।</p>



<p>ফাবিয়ান তার গিটার খানা খুলে মাথার ক্যাপ চোখের কাছাকাছি নামিয়ে উদাত্ত কণ্ঠে গাওয়া শুরু করলো। সে যে কি গান! মনে হচ্ছে গাছের পাতা পড়ে যাবে। তন্ময় হয়ে জীবনের সমস্ত পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে যেন ও গান গাইছে। প্রতিটি শব্দ থেকে যেন ব্যাথা ঝরে পড়ছে। (গান)</p>



<p>Oceans apart day after day<br>And I slowly go insane<br>I hear your voice on the line<br>But it doesn&#8217;t stop the pain</p>



<p>If I see you next to never<br>How can we say forever</p>



<p>Wherever you go, whatever you do<br>I will be right here waiting for you<br>Whatever it takes or how my heart breaks<br>I will be right here waiting for you</p>



<p>রিচার্ড মার্কসের এই বিখ্যাত গানটি যখন ফাবিয়ান গাইছিল, এমনকি জনাথনের চোখ দিয়েও টপটপ করে অশ্র“ ঝরে পড়ছিল। ওদের ঘিরে বেশ একটা ভিড় হয়ে গেল মানুষের। সবাই টপটপ পয়সা ফেলছে। এক বুড়োতো চোখ মুছে ১০ ডলারের একটা নোট দিল। বক্সটা প্রায় ভরে গেল খুচরো এবং নোট-এ। জনাথনের ক্লান্ত দুঃখী চোখে আনন্দাশ্র“। গান শেষে ফাবিয়ান তার গিটারের বাক্স বন্ধ করে চলে যাবার সময় জনাথন বললো-</p>



<p>: তুমি কে বাবা জানি না, তবে আজ আমার জন্য তো দেবদূত হয়ে এসেছো। তুমি বাবা এখান থেকে অর্ধেক পয়সা নিয়ে যাও। না হলে আমার একটুও ভালো লাগবে না।</p>



<p>ফাবিয়ান মিষ্টি করে হেসে তার হাত বাড়িয়ে শেকহ্যান্ড করলো, তারপর দুঃখী গলায় বললো-</p>



<p>: আমি ফাবিয়ান। আমার খুব মন খারাপ ছিল তাই তোমার জন্য গাইলাম। আবার দেখা হবে জনাথন। আমার জন্য দোয়া করবে, বলেই ফাবিয়ান ডানভাস স্কোয়ারের রোড ক্রস করলো। হঠাৎ পিছন থেকে কেউ বললো-</p>



<p>: এক্সকিউজমি, আমি কি তোমার সাথে একটু কথা বলতে পারি?</p>



<p>ফাবিয়ান খুব অবাক হয়ে পেছন ফিরে দেখে, একটা মেয়ে খুব কৌতুহলী চোখে ওর দিকে চেয়ে আছে।</p>



<p>: শিওর। বলুন কি বলতে চান?</p>



<p>: নাহ্ মানে একটু কথা বলতাম আর কি? তার আগে পরিচয়টা সেরে নেই, আমি নাওমী সুলেভান বলেই নাওমী হাত বাড়িয়ে দিল। ফাবিয়ান অসম্ভব বিস্মিত হয়ে তার হাত বাড়িয়ে শেক হ্যান্ড করতে করতে বললো-</p>



<p>: আর আমি ফাবিয়ান ফ্রাঞ্জিপেনে।</p>



<p>: আচ্ছা, যদি কিছু মনে না কর, বাকি কথাবার্তা আমরা এই ‘বার্গার কিং-এ’ বলি।</p>



<p>: ওকে, ততোক্ষণে ফাবিয়ানের কৌতুহলে প্রায় নাবিশ্বাস অবস্থা। কারণ, সে জানে এখানেও কাউকেই চেনে না। একে তো নয়ই। তাহলে কে এই মেয়েটি? জীবনে কখনো দেখেছে বলেও মনে পড়ে না। যাই হোক, মেয়েটির পিছু পিছু গিয়ে ‘বার্গার কিং’-এর ভেতরে ঢুকলো। তার দোস্ত এরকমই একটা বার্গার কিং-এ কাজ করে। ফাবিয়ান অবশ্য ইটালিতে প্রচুর খেয়েছে। তবে কানাডাতে এখনই প্রথম ঢুকলো। নাওমী ভেতরে ঢুকে একে একটি টেবিলের পাশের চেয়ার দেখিয়ে বললো-</p>



<p>: প্লিজ একটু বসো এখানে, আমি খাবার নিয়ে আসছি। তুমি চিকেন অথবা বীফ কোনটা পছন্দ কর?</p>



<p>: চিকেন প্লিজ।</p>



<p>: ধন্যবাদ, বলেই এক ছুটে দুটো চিকেন বার্গার, অনিয়ন রিং এবং দুটো পেপসি অর্ডার করলো। তারপর বিল দিয়ে নিজেই ট্রেটা হাতে করে আনলো। এসে নিজেই ফাবিয়ানের হাতে ১টা প্যাকেট ধরিয়ে দিল। ফাবিয়ান দেখলো প্যাকেটে অনেক কিছু। একটু কুণ্ঠিত হলো এই জন্য যে ওর পকেট প্রায় শূন্যের কোঠায়। কিন্তু নাওমী বেশ দ্বিধাহীনভাবে খাওয়া শুরু করলো। এতক্ষণে ফাবি মেয়েটিকে একটু খুটিয়ে দেখলো। নাওমী বেশ ফ্যাকাশে সাদা, হালকা লালচে ব্লন্ড চুল, চোখগুলো মাঝারি আকারের গাঢ় নীলাভ সবুজ, মুখটা পাতলা লম্বাটে, স্লিম ফিগার, লম্বায় সম্ভবত ৫ ফুট ৫ বা ৬ ইঞ্চি। তবে মেয়েটার সবচেয়ে সুন্দর ওর হাসি। অপূর্ব ঝকঝকে নির্মল হাসি। কে যেন বলেছিল, যার হাসি যত সুন্দর এবং নির্মল, তার হৃদয়ও নাকি ততোটাই সুন্দর। কে বলেছিল? ধুৎ ছাই মনে পড়ছে না। ফাবিয়ান একটু লজ্জা পেল, এভাবে সদ্য পরিচিত কোন মেয়েকে দেখে নাকি? মেয়েটা তার সম্পর্কে কি ভাবছে কে জানে?</p>



<p>: ফাবিয়ান, তুমিতো খুব সুন্দর গাও, তো পথে গান গেয়ে ভিক্ষা করছিলে কেন? আর কোন সুযোগ কি পাওনি? তাছাড়া তুমি তো খুবই ইয়াং।</p>



<p>: তুমি এক সঙ্গে তিনটে প্রশ্ন করেছো, প্রথমটার উত্তর আমি ভিক্ষা করছিলাম না। আমি ঐ মানুষটাকে সাহায্য করছিলাম যে কিনা এক সময় মিউজিশিয়ান ছিল। এখন তার শরীর খুবই খারাপ। আমি টিম হর্টনে কফি কিনে হঠাৎ ওর অবস্থা দেখে খুব মায়া হলো, তাই ওকে এইভাবে একটু সাহায্য করলাম। কারণ, অর্থ দিয়ে সাহায্য করবার মত আমার নিজেরই দশা নাই। কিন্তু, যেহেতু গানটা একটু জানি, তাই ওটা দিয়েই সাহায্য করছিলাম। দ্বিতীয় উত্তর, আমি সত্যিই কোন সুযোগও পাইনি। যদিও আমার কানাডার অবস্থানও খুব বেশি দিন নয়।</p>



<p>: তাই নাকি? তা কোথা দিয়ে এসেছো?</p>



<p>: আমি ইটালিয়ান। মাত্র ৬/৭ মাস হলো এসেছি। তো বিভিন্ন জায়গাতে রিজ্যুমি দিচ্ছি, কোথাও থেকে ডাক আসছে না। আর আমি মূলত গানের উপরই চেষ্টা চালাচ্ছিলাম এতদিন।</p>



<p>: ওহ্! তা তোমার গানের উপর কোন একাডেমিক সার্টিফিকেট আছে নাকি?</p>



<p>: হ্যাঁ, আমি মিউজিকের উপর কালাব্রীয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করেছি।</p>



<p>: বলকি?</p>



<p>: হ্যাঁ, তাছাড়া আমার নিজের একটা গানের দলও ছিলো।</p>



<p>: তা এখানে কেন এলে?</p>



<p>: আসলে আমার এক বন্ধু রবার্ট ওর নাম, ওর মাধ্যমে শুনলাম এখানে লেগে থাকলে ভাল সুযোগ পাওয়া যাবে। তাই অত সাত পাঁচ না ভেবেই চলে এসেছি। তবে বর্তমানে পকেটের অবস্থা বেশ খারাপ।</p>



<p>: হু। এত খারাপ, তবুও তো ঐ লোকটা তোমাকে ওর ডলারের অর্ধেক নিতে বললো, তাও তো নিলে না?</p>



<p>: কারণ, তাহলে তো ওকে আমার সাহায্য করা হতো না। উল্টো, সাহায্য নেওয়া হতো।</p>



<p>: হ্যাঁ, হ্যাঁ তা ঠিক।</p>



<p>: আসলে এখনও ঠিক অতটা নিচে নামতে পারিনি।</p>



<p>: শুনে ভালো লাগলো। তবে কিনা বিপাকে পড়লে মানুষকে সবই করতে হয়।</p>



<p>: ঠিকই বলেছো, তা ২/৪ দিনে আমিও কিছু ম্যানেজ না করতে পারলে, আমাকেও জনাথনের সাথে হাত মিলাতে হবে!</p>



<p>: হা&#8230; হা&#8230; হি&#8230; হি&#8230; তুমি তো খুব রসিক।</p>



<p>: খুব না, তবে পেটে খাবার পড়েছে তো, তাই একটু হাসির কথা বলতে পারছি।</p>



<p>: বেশ তাহলে খাওয়া হলো। অল্প স্বল্প গল্পও হলো। এবারে তাহলে আমার সাথে চলো।</p>



<p>: তোমার সাথে? কোথায়?</p>



<p>: কেন, আমার সাথে যেতে আপত্তি আছে?</p>



<p>: না, তা অবশ্য নাই। শুধু জানতে চাইছিলাম কোথায়? কারণ এখনতো বিকাল ৫টা বাজে।</p>



<p>: হ্যাঁ, এটাই আমার অফিসের সময়- বলতে বলতে বেশ দ্রুত লয়েই হাঁটতে আরম্ভ করে দিল। ফাবি তাকে অনুসরণ করলো।</p>



<p>: আমার কাজের সময় আসলে ৬টায়। তবে এক ঘণ্টা আগে কাজে যেতে হয়। কারণ ড্রেস চেঞ্জ করা লাগে। আমি একটা নাইট ক্লাবে ‘বারটেনডারের’ কাজ করি। এই তো প্রায় এসে পড়েছি। অফিসের দিকে যাচ্ছিলাম। বেশ ক্ষিধা পেয়েছিল। খাবার জন্য এদিকটাতে এসেছিলাম। হঠাৎ তোমার গান শুনে থমকে দাঁড়িয়ে ছিলাম। অনেক দিন পর এত সুন্দর একটা কণ্ঠ শুনলাম-</p>



<p>: ধন্যবাদ, অনেক ধন্যবাদ।</p>



<p>: তাছাড়া ‘রিচার্ড মার্কসের’ এই গানটা আমার নিজেরও অসম্ভব প্রিয়। রোজই বলতে গেলে একবার গানটি শুনি।</p>



<p>: তাই নাকি? আমারও খুব প্রিয়। বিশেষ করে যখন আমার পুরানো কোন দুঃখেরা আমাকে পরিবেষ্টিত করে, তখনই এই গানটির মধ্যে আমি নিজের সুখ খুঁজি।</p>



<p>: বলকি, দুঃখের গানে সুখ খোঁজ?</p>



<p>: কেন জানো না, বিষে বিষ ক্ষয়!</p>



<p>: ওহো, হো&#8230;</p>



<p>কথা বলতে বলতেই কখন জানি ওরা নাইট ক্লাবটির সামনে উপস্থিত হয়েছে। ফাবিয়ান দেখলো অনেক বড় করে লেখা ‘হীচ হাইকার’।</p>



<p>: শিঘ্রি চলো, আজ যে কপালে কি আছে কে জানে? নাওমী বেশ ছুটতে ছুটতেই ভেতরে ওকে নিয়ে ঢুকে পড়লো।</p>



<p>: এই যে সুন্দরী! এতক্ষণে আসা হয়েছে? একটা বিশাল হেড়ে গলার চিৎকারে ফাবিয়ান চমকে পেছনে ফিরে দেখলো, একটা বিশাল দেহী মানুষ ওদের পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে।</p>



<p>: ফাবিয়ান এই যে আমার বস্। এ্যান্থনি বারজেস। বস্ এ ফাবিয়ান ফ্রাঞ্জিপেনে।</p>



<p>: এটাকে আবার কোথা থেকে উঠিয়ে আনলে? আর তুমি আজও বারো মিনিট লেট। তোমাকে কিন্তু এবারে আমার এই লাস্ট ওয়ার্নিং।</p>



<p>: ওকে বস্। আমি বুঝতে পেরেছি। বস আমার একটা আর্জি আছে প্লিজ, একটু কথা বলতে দাও আমাকে।</p>



<p>: আচ্ছা, আচ্ছা- কি বলতে চাও।</p>



<p>: বস, এই ছেলেটা অপূর্ব গান গায়। আমি নিজে শুনেছি আজ। তোমার ঐ গাইয়ে ছেলেটি মানে মাইলস ওর থেকে ফাবিয়ান মিলিয়ন গুন ভালো গায়।</p>



<p>: আচ্ছা! এ্যান্থনির গলায় বিদ্রুপ।</p>



<p>: না, বস আমি সত্যি বলছি। তুমি অন্তত একটি বার ওকে শোন প্লিজ, তারপর তোমার পছন্দ না হলে তাড়িয়ে দাও- আমি কিচ্ছু বলবো না।</p>



<p>: ওকে, ওকে- তাহলে আজ স্টেজে মাইলস-এর জায়গাতে এই-ই গাইবে। এই ছোকড়া, যদি সকলে তোমাকে পছন্দ করে তবেই&#8230;</p>



<p>ফাবিয়ান তখন মনে মনে ‘ইয়েস’ বলে একটা চিৎকার দিল। ওহ্ গড, এই দিনটির জন্য আজ সে বহু দিন অপেক্ষায় আছে। এতদিনে তবে ঈশ্বর মুখ তুলে চেয়েছে। আহ্, নাওমী এই মেয়েটি তার জীবনে এ্যাঞ্জেল এর রূপ নিয়ে এসেছে!</p>



<p>তারপর। হ্যাঁ, তারপর আর কখনো ফাবিয়ানকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। শুধু এ্যান্থনি বারজেসই নয়, মোটামুটি এখানকার সমস্ত ক্লাইন্টরাই তাকে পছন্দ করেছে। যদিও আজও সে তার কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। তবু মোটামুটি তার সুখ্যাতি ভালো ছড়িয়েছে। এই ক্লাবের গান করবার ফলশ্র“তিতে এখানকার মিউজিক্যাল স্কুলেও সে চান্স পেয়েছে। সপ্তাহে ২ দিন ২টা ক্লাস নেয়। এছাড়া ৪/৫টা ছাত্রকে প্রাইভেটেও মিউজিক শেখায়। (চলবে)</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="300" height="279" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2021/05/রীনা-গুলশান-1.jpg" alt="" class="wp-image-4859" style="width:151px;height:auto"/><figcaption class="wp-element-caption">রীনা গুলশান</figcaption></figure>
</div>


<p><em>লেখক রীনা গুলশান বাংলা সাহিত্যে মাস্টার্স। ইতিপূর্বে বাংলাদেশের বিভিন্ন দৈনিক, সাপ্তাহিক এবং মাসিকে তার কবিতা, ছোটগল্প, প্রবন্ধ, রম্য রচনা প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত হয়েছে কানাডার বিভিন্ন বাংলা পত্রিকাতেও। তিনি ‘প্রবাসী কণ্ঠ’ ম্যাগাজিন এর একজন নিয়মিত কলামিস্ট।</em></p>



<p></p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>নিভৃতে</title>
		<link>https://probashikantho.com/2025/07/09/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%ad%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a7%87-11/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 09 Jul 2025 15:43:44 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Literature]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=11544</guid>

					<description><![CDATA[রীনা গুলশান (পূর্ব প্রকাশিতের পর) এরপর দুজন এক সাথে বের হলো, প্রথমে পাশের বিশাল গ্রোসারী স্টোর ‘নো ফ্রিলস’ থেকে তিন]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p><strong>রীনা গুলশান</strong></p>



<p>(পূর্ব প্রকাশিতের পর)</p>



<p>এরপর দুজন এক সাথে বের হলো, প্রথমে পাশের বিশাল গ্রোসারী স্টোর ‘নো ফ্রিলস’ থেকে তিন বেলা খাবারের সমস্ত বাজার করলো। তারপর পাশের একটা ‘হোম স্টোর’ থেকে রাইস কুকার, প্যান, চায়ের প্যান কাপ, গ¬াস, চামচ, আরো টুকিটাকি বেশ কিছু জিনিসপত্র কিনলো। ঐ দোকানেরই আর এক পাশে কাপড়-চোপড় ব্ল্যাংকেট- এসব বিক্রি করছে দেখে চটপট দুজন দুটো ব্ল্যাংকেট কিনে ফেললো। হলুদের মধ্যে বিশাল বাঘের ছবি দেওয়া একটা ব্ল্যাংকেট নিল ফাবিয়ান। রায়ান নিল গাঢ় নীল রঙের পোলকা বল দেওয়া। ২টা বিছানার চাদরও কিনলো। গতকাল রাতে খুবই অস্বস্তিহয়েছিলো পুরানো কম্বল গায়ে দেওয়াতে। কেমন জানি ঘিনঘিনে অনুভূতিতে ফাবিয়ান ঘুমুতেই পারছিলো না। অনেক কিছু কিনে ফেললো। এরপর সব কিছু বাসায় রেখে ‘ডলারামা’তে গেল ঝাড়ু কিনলো। জানালার ১টা পর্দাও কিনলো ওখান থেকে। আবার টুকিটাকি আরো কিছু জিনিসপত্র কিনে ফেললো। ওখানে থেকে বেরিয়েই সোজা ‘ম্যাকডোনাল্ডে’। ক্ষিধায় তখন পেটের মধ্যে চো চো শুরু হয়েছে। ডাবল বিগ ম্যাক কিনে গব গব করে দুজনে খেয়ে ফেললো। এরপর সোজা ঘরে। ঘরে যেয়ে রায়ান গুছানো শুরু করলো। আর ফাবিয়ান রাঁধতে গেল। তখন বেজমেন্টের অন্য ভাড়াটে দুজন নাই। একটু বেশি করে রাঁধলো যেন ২/৩ দিন চলে যায়। আবার ওখান থেকে এক বাটি পাস্তা এলিজাবেথকে দিয়ে আসলো। এলিজাবেথ তো রীতিমতো বিস্মিত-<br>: ওমা! এরই মধ্যে তোমরা বাজার সদাই করে ফেলেছো? আবার রান্নাও করেছো? তোমরাতো দেখি খুবই কাজের? কোন অসুবিধা হলেই বলবে, বুঝলে?<br>এরপর এলিজাবেথ সরাসরি কাজের কথা বললো-<br>: তোমরা আগামীকাল সকাল ৯টার মধ্যেই ‘লিংকে’ চলে যাবে। ওখানে গেলে ইংরেজিটাও ভালো শিখতে পারবে। তাছাড়া কাজ কামের অন্যান্য ইনফরমেশন ওরা তোমাদের বলে দেবে। রিজ্যুমী বানানোও শিখিয়ে দেবে।<br>ফাবিয়ানের ইংলিশ মোটামুটি চলে। রায়ানের লিসেনিং এর বেশ সমস্যা। বিশেষ করে চৈনিকদের কথা কিছুই বুঝতে পারছে না। এলিজাবেথকে এটা বলতেই হেসে লুটোপুটি। বললো, এই রকম অনেক দেশীই আছে তাদের কথা বুঝতেই পারবে না। তারা আদৌ ইংলিশ বলছে না তাদের নিজেদের ভাষায় কথা বলছে সেটাও বুঝতে পারবে না।<br>ওরা অনেক ধন্যবাদ দিয়ে চলে এলো। রাতে পেট পুরে অনেক দিন পর দেশী খাবার খেয়ে মনটা ভালো হয়ে গেল। তারপর কলিং কার্ড দিয়ে নানীকে ফোন করে অনেকক্ষণ কথা বললো। নানী আসবার সময় একটুও কাঁদেনি। কিন্তু আজ টেলিফোনের মধ্যে অনেকক্ষণ কাঁদলো। সে কান্না শুনে ফাবিয়ানও নিজেকে সম্বরণ করতে পারলো না। পরে নানী ওর কান্না শুনে, উল্টো ওকে বোঝানো শুরু করলো।<br>রাতে ফাবিয়ান অনেকক্ষণ দুঃখে আচ্ছন্ন হয়ে রইলো নানীর জন্য। রোডিকা আন্টিদের কথা মনে হলো। ডোরিনের সাথে কথা বলবে? যখনি এটা মনে হলো, তখনি লাফ মেরে আবার ফোন করলো ডোরিনের নাম্বারে। অনেকক্ষণ চেষ্টার পর ডোরিন ধরলো-<br>: হ্যালো কে?<br>: ডোরিন আমি, আমি ফাবিয়ান।<br>: ওহ্!<br>: তুমি কেমন আছো?<br>: আমি ভালোই আছি। কিন্তু কি জন্যে ফোন করেছো?<br>: এটা কেমন প্রশ্ন ডোরিন? আমি কি তোমাকে ফোন করতে পারি না?<br>: না, পারো না। তোমার আর সে অধিকার নাই!<br>: এটা তোমার রাগের কথা ডোরিন, তুমি জানো যে, আমার সে অধিকার আছে।<br>: হয়তো কখনো ছিল। আজ আর নাই। আমি তো এসব কথা তোমার যাবার আগেই বলে দিয়েছি। তাহলে কেন আবার এসব প্যাচাল পাড়ছো?<br>: তুমি কি সত্যিই তবে আমার সাথে সম্পর্ক রাখতে চাও না?<br>: না, না, না- কত বার বলবো? আমাকে আমার মত থাকতে দাও। আমাকে আর কখনো ডিসটার্ব করবে না প্লিজ।<br>: ডোরিন, একটু বোঝবার চেষ্টা করো? আমার অপরাধটা কি?<br>: সেটা তুমি ভালোই জানো ফাবি!<br>: এই যে তোমার কথা অমান্য করে আমি কানাডাতে চলে এসেছি?<br>: সে যাই-ই হোক, আমি আর এইসব ব্যাপারে তোমার সাথে আলোচনা করতে চাই না- বলেই লাই কেটে দিল। ফাবিয়ান অনেকক্ষণ হ্যালো, হ্যালো বললো। বেশ কিছুক্ষণ পর বুঝতে পারলো ডোরিন তার লাইনটা কেটে দিয়েছে।<br>ফাবিয়ান এবারে সত্যিই বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেল। ও সত্যিই বুঝতে পারলো না, ডোরিন কেন তার সাথে এরকম ব্যবহার করছে। কি তার অপরাধ। সে ইটালি থেকে কানাডা চলে এসেছে, এটাই তার একমাত্র অপরাধ? নাকি আসবার পরিকল্পনাটা তাকে বলেনি বলে? এটা কি তাদের এত কালের ভালোবাসার বিচ্ছিন্নতার কারণ হতে পারে? নাকি ফাবিয়ান যখন ভ্যালেলংগা ছেড়ে কাটিনজিরোতে পড়তে গেল ঐ ৪/৫ বৎসরেই তাদের বিচ্ছিন্নতার সূত্রপাত হয়েছিল? কিন্তু তার দিক দিয়েতো কখনো কোন পরিবর্তন আসেনি। কাটিনজিরোতে থাকতে কত কত সুন্দরী রমনীরা তার প্রতি আকর্ষিত হয়েছে, কিন্তু ফাবিয়ান কখনোই কারো দিকে সেভাবে দেখেওনি। কারণ, সে জানতো তার জীবনে এক এবং অদ্বিতীয় একমাত্র তার চিরকালের ডোরিন। অথচ সেই ডোরিনের একি ব্যবহার!<br>ফাবিয়ান এবারে সত্যি সত্যিই ভেঙ্গে পড়ে। বালিশে মুখ ডুবিয়ে ছোট বাচ্চার মত কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। বেশ খানিকক্ষণ পর রায়ান এসে তার পিটে হাত রাখে। রায়ান সবই দেখেছে, সবই শুনেছে। দুজনকেই ছোট বেলা থেকেই দেখেশুনে বড় হয়েছে। ও নিজেই বেশ খানিকটা বিস্মিত হয়েছে ডোরিনের ব্যবহারে। বন্ধুকে কিভাবে সান্ত্বনা দেবে, ও নিজেই ভেবে পাচ্ছে না। তবু খুব দুঃখিত স্বরে বললো-<br>: ফাবি, শোন আমরা নতুন দেশে এসেছি। এখন আমাদের জীবনে যে কত চড়াই-উৎরাই আছে, তুই এখন সেটাই ভাব। একটা কথা ভেবে দ্যাখ, আমাদের আর পিছু ফিরলে চলবে না। এখন আমাদের অনেক কিছু করার আছে। চিন্তা কর রবার্ট পর্যন্ত কি বেঈমানিটা করলো, চিন্তা কর। যার জন্য আমরা কানাডা আসবার চিন্তা করেছি আর আজ নিজের গার্লফ্রেন্ড পেয়ে আমাদের এত দিনের বন্ধ্ত্বু পর্যন্ত ভুলে গেল। যেন আমাদের চেনেই না। ডোরিনেরও নিশ্চয়ই কোন ব্যাপার আছে, তাছাড়া ছোটবেলা থেকেই দেখছি তো, ডোরিন বেশ অন্তর্মুখী। ওর মনে কি আছে ঈশ্বর ছাড়া কেউ জানে না। হয়তোবা ওরও কোনো বয়ফ্রেন্ড আছে আমরা জানি না। তোকে ছাড়ার এটা ছিল একটা বাহানা মাত্র, বুঝলি?<br>পরদিন থেকেই সকাল সকাল নাস্তা করে দুজনে ৯টার মধ্যেই খওঘক -এ ছোটে। সব কাগজপত্রও সঙ্গে নিয়ে গেল। কর্তৃপক্ষ নানান রকম প্রশ্ন করে জেরবার করে দিল। তারপর বললো, আগামীকাল ২টার দিকে আসবে, তোমাদের ইন্টারভিউ নিব। তারপর আমরা সাব্যস্ত করবো তোমরা কোন লেভেলে চান্স পাবে। পর দিন ইন্টারভিউতে দুজইন চান্স পেল ৩ৎফ লেবেলে।<br>২ মাস ধরে টানা ক্লাস করলো। কিন্তু মাথার মধ্যে ক্রমাগত ডলার ঘুরছে। পড়াশুনা ভালো লাগবে কেন? এরই মধ্যে ডলার প্রায় তলানীতে নেমে এসেছে। দুজনের মিলে $ ২০০ ডলারেরও কম আছে। খুবই চিন্তার মধ্যে পড়লো। কিছু একটা করা দরকার। এভাবে চললে অতি শিঘ্র এটা তলানীতে চলে যাবে। কথায় আছে না, ‘বসে খেলে রাজার ধনও ফুরিয়ে যায়।’ আর ওদেরতো ভিক্ষুকের ধন। বিভিন্ন স্টোর, রেস্টুরেন্ট এবং কাছে পিঠের সব মলগুলোতে হানা দিল। সব একই উত্তর-<br>: ওকে, তোমাদের রিজ্যুমী রেখে দাও, আমরা দরকার মত ডাক দেবো। অথবা<br>: সরি, ই-আমরা এখন হায়ার করছি না।<br>: তোমাদের কি এই ব্যাপারে অভিজ্ঞতা আছে?<br>মোটামুটি সব একই ধরনের কথাবার্তা। দুজনই মারাত্মক হতাশায় আক্রান্ত। তার মধ্যে রায়ানের আবার ধৈর্য্যরে খুবই অভাব। সে তো রাত দিন বিড় বিড় করছে-<br>: এখন আমাদের কি হবে? টাকা তো শেষের পথে। তখন কি হবে? ঘর ভাড়া কিভাবে দিবো? খাবোই বা কি? কানাডার যাতায়াত ভাড়াও তো অনেক। কোথাও যে যাবো সেই পয়সাটাতো থাকবে না। আর হারামজাদা রবার্ট একজনের ঘাড়ে উঠে বসে আছে। দিব্যি আছে। খাচ্ছে, শুচ্ছে। ফাজিলের ফাজিল! আমাদের যেন চেনেই না। মনে হয় ওর পশ্চাদদেশে একটা লাথি মারি। রায়ানের রাগ চরমে উঠলেই সে আরাম করে রবার্টকে গালি দেয়। মনে হয়, ওর রাগ বেশ প্রশমিত হয়। বিশেষ করে রবার্টই ওদের প্রভাবিত করেছিল কানাডাতে আসবার ব্যাপারে।<br>ফাবিয়ান এত দুঃখেও এ সব বকবকানি শুনে নিঃশব্দে হাসে। আবার বন্ধুকে সান্ত্বনা দেয়। তাতেও কোন কাজ হয় না। রায়ান দিনকে দিন হতাশার চরমে চলে যায়। এরই মধ্যে একদিন দেশের থেকে রায়ানের বাবার ফোন এলো-<br>: হ্যালো রায়ান?<br>: হ্যাঁ বাবা, কেমন আছো তোমরা?<br>: আমরাতো ভালোই আছি। তোরা কেমন আছিস? কোন কাজ কাম পেলি?<br>: না, বাবা কিচ্ছু না, কিচ্ছু না। রায়ান প্রায় ফুঁপিয়ে ওঠে।<br>: আচ্ছা, আচ্ছা শোন, অত বিচলিত হবার কিছু নাই। শোন তোর সেই এডুইন মামার কথা মনে আছে? ঐ যে তোর মায়ের চাচাতো ভাই।<br>: ঐ যে মামা খুব মোটা আর খুব লম্বা ছিল, আবার খুব সুন্দর হারমোনিকা বাজাতো?<br>: হ্যাঁ, হ্যাঁ- সেই এডুইন গ্যারিসটো। ওতো প্রায় ১৫/১৬ বৎসর ধরে কানাডাতে আছে।<br>: ওহ্ হ্যাঁ, মনে পড়েছে, তো?<br>: আহা, শোন না, কাল হঠাৎ অনেক কাল পর তোর মাকে ফোন করলো। সবার খোঁজখবর করছিল। তো, তোর মা সাথে সাথে তোর কথা বললো, বুঝলি সে তো এখন বেশ বড় বিজনেসম্যানরে, ওখানকার একটা লন্ডন আছে না?<br>: অন্টারিও লন্ডন?<br>: হ্যাঁ, হ্যাঁ, ওখানেই সে থাকে। তার নিজের একটা ‘বার্গার কিং’ আছে।<br>: তো আমি কি করবো? রায়ান খেকিয়ে উঠলো।<br>: আরে শোন না, অত অধৈর্য্য হলে চলে? মন দিয়ে কথা শোন তোর মা বললো যে, রায়ানরা প্রায় ৪/৫ মাসের উপর গেছে এখনো কোনো চাকরি পায়নি।<br>: আচ্ছা তারপর?<br>: তা তোর মামা বললো, এটা একটা কথা হলো, আমি থাকতে আমার ভাগ্নে না খেয়ে থাকবে? ওকে এখুনি আমার সাথে যোগাযোগ করতে বল।<br>: তাই নাকি, এতক্ষণে রায়ান যেন ধড়ে প্রাণ পেল। তো, ফোন নাম্বারটা শিঘ্র বল।<br>রায়ান ফোন নাম্বারটা লিখতে লিখতেই বললো-<br>: কিন্তু ফাবিয়ানের কথা বলেছো তো?<br>: হ্যাঁ রে বাবা, আমরা কি বোকা নাকি? তোর মাকে তো জানিসই, চান্স পেলে কি আর কথা কম বলবে। সে সব ডিটেলস-এ তোদের কথা বলেছে।<br>: তাহলে তো খুবই ভালো হলো।<br>: তোর মামা বলেছে, কোন ব্যাপারই না এটা তার কাছে। তুই এখুনি যোগাযোগ কর।<br>: ওকে বাবা, ধন্যবাদ। অনেক ধন্যবাদ।<br>রায়ানের আর ধৈর্য্য নাই, সে এক দৌড়ে পাশের দোকান থেকে একটা ১ ডলারের কলিং কার্ড কিনে আনলো। সাথে সাথে মামাকে ফোন করবার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়লো। ফাবিয়ান নির্বিকারভাবে রাতের রান্না করা শুরু করলো। রায়ানের এই উত্তেজনা তাকে একটুও স্পর্শ করছে না। কেন, কে জানে? রায়ান বেশ অবাক হয়ে বার বার ফাবিয়ানকে দেখছে আর ফোন ট্রাই করছে। অনেকক্ষণ গ্যাক গ্যাক করে কানেকশন মিললো-<br>: হ্যালো… লো, বিকট চিৎকার করে কেউ বললো।<br>: হ্যালো, আমি কি এ্যাডুইন গ্যারিসটোর সাথে একটু কথা বলতে পারি, প্লিজ?<br>: হ্যাঁ পারো, তা এতদিন এরকম ঘুরপাক না খেয়ে সরাসরি মামাকে কল করলেই পারতে।<br>: মামা! কি কান্ড। আপনি আমাকে চিনলেন কি করে? আমাকে তো সেই ৬/৭ বছর আগে দেখেছিলেন?<br>: হা.. হা… আমি তোর মামা, আর তুই ভাগ্নে। মামারা সব সময়ই বুদ্ধিমান হয় ভাগ্নেরা হয়…<br>: বোকার হদ্দ, হা… হা… এবারে রায়ান তার কথা কেড়ে নিয়ে বললো। এটা তাদের ছোটবেলার একটা মজা। ওরা কোন কিছু না পারলেই এ্যাডুইন (মটু মামা) তাদের মাথায় একটা গাট্টা মেরে এই কথাটা বলতো।<br>এরপর মামা ভাগ্নের অনেক মজার মজার কথা হলো। অবশেষে মামা ইতি টানলো-<br>: বুঝলে ভাগ্নে, তাহলে টরেন্টোতে আর একটা দিনও অযথা নষ্ট না করে, এখানে চলে এসো। থাকারও কোন অসুবিধা নাই। আমার অনেক বড় বাড়ি। বেজমেন্টেই প্রায় ৩টা শোবার ঘর। ওগুলো খালিই পড়ে থাকে। আমার একটাই মেয়ে। তোমাদের কোন অসুবিধাই হবে না। তা, আসবার টাকাটা আছে তো?<br>: হ্যাঁ মামা, তা আছে। মামা অনেক ধন্যবাদ।<br>: রাখ তোর ধন্যবাদ। মামাকে আবার ধন্যবাদ দ্যায়, ব্যাটা ফাজিলের ফাজিল।<br>ফোন রেখে রায়ানতো খুশিতে একেবারে গদগদ। এরপরতো তার মটু মামার বিভিন্ন গুণ কীর্তন শুরু করলো। তার আনন্দোচ্ছাস আর থামেই না।<br>: আচ্ছা এবারে খেতে আয়- ফাবিয়ান তাড়া দেয়, রাত অনেক হলো, শুধু বক বক করলেই হবে। মটু মামাকে তো আমিও চিনি। খুবই ভালো মানুষ।<br>: তাইতো রে। আমারতো খুশিতে একেবারে মরে যেতে ইচ্ছা করছে।<br>: আচ্ছা, তা মরে গেলে লন্ডনে যাবি কিভাবে?<br>: ইয়ার্কি মারিস না, বুঝলি। ব্যাটা রবার্টকে এবারে আচ্ছা মতন একটু পটাকা মারতে হবে।<br>: তা কিভাবে?<br>: এরকম যে আমরা লন্ডন অন্টারিওতে বিশাল একটা জব নিয়ে চলে যাচ্ছি। ও ব্যাটা ফাজিলের ফাজিল ‘গেরি’র টয়লেট পরিস্কার করুক। হা… হা…।<br>: তা যা বলেছিস। তা তুই ওর উপর অত ক্ষেপে আছিস কেন?<br>: না, ক্ষেপবো না, তো কি করবো? শালা এক সাথে বছর ছয়েক হোস্টেলে থাকলাম। ওই ব্যাটাই আমাদেরকে এরকম গ্যাড়াকলে ফেললো। এই কানাডা আসবার পরিকল্পনা তো ঐ-ই করলো। আর শেষে করলোটা কি বল? শালা চোখের উপর কিনা ঐ গেরী বেটার কোমর জড়িয়ে বেডরুমের দরজা বন্ধ করলো! (চলবে)</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="300" height="279" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2021/05/রীনা-গুলশান-1.jpg" alt="" class="wp-image-4859" style="width:177px;height:auto"/><figcaption class="wp-element-caption">রীনা গুলশান</figcaption></figure>
</div>


<p><em>লেখক রীনা গুলশান বাংলা সাহিত্যে মাস্টার্স। ইতিপূর্বে বাংলাদেশের বিভিন্ন দৈনিক, সাপ্তাহিক এবং মাসিকে তার কবিতা, ছোটগল্প, প্রবন্ধ, রম্য রচনা প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত হয়েছে কানাডার বিভিন্ন বাংলা পত্রিকাতেও। তিনি ‘প্রবাসী কণ্ঠ’ ম্যাগাজিন এর একজন নিয়মিত কলামিস্ট।</em></p>



<p></p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
