<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>Literature &#8211; Probashi Kantho</title>
	<atom:link href="https://probashikantho.com/category/literature/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://probashikantho.com</link>
	<description></description>
	<lastBuildDate>Wed, 01 Jul 2026 20:41:06 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=7.1.3</generator>

<image>
	<url>https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2021/04/thumbnail_thumbnail-150x150.jpg</url>
	<title>Literature &#8211; Probashi Kantho</title>
	<link>https://probashikantho.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>প্রকাশিত হলো মুস্তফা চৌধুরীর নতুন বই “বাংলাদেশের অভ্যুদয় : কানাডার কূটনৈতিক টানাপড়েন”</title>
		<link>https://probashikantho.com/2026/07/01/%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%a4-%e0%a6%b9%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%ab%e0%a6%be-%e0%a6%9a%e0%a7%8c%e0%a6%a7/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 01 Jul 2026 20:40:03 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Literature]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=12709</guid>

					<description><![CDATA[গবেষক ও লেখক মুস্তফা চৌধুরীর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বই “বাংলাদেশের অভ্যুদয় : কানাডার কূটনৈতিক টানাপড়েন” প্রকাশিত হয়েছে চলতি বছর। বইটি দুই]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph">গবেষক ও লেখক মুস্তফা চৌধুরীর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বই “বাংলাদেশের অভ্যুদয় : কানাডার কূটনৈতিক টানাপড়েন” প্রকাশিত হয়েছে চলতি বছর। বইটি দুই খণ্ডে বিভক্ত। এবারের টরন্টোর বাংলা বই মেলাতেও প্রদর্শিত হয়েছে খণ্ড দুটি। বিক্রিও হয়েছে।&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">প্রথম খণ্ডটি ছয়টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এতে কানাডা ও পাকিস্তানের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, একটি গোপন সামরিক হামলা, কানাডার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া, সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা, কানাডিয়ান জনমতামত, এনজিওগুলোর সম্পৃক্ততা এবং কানাডার হাউস অব কমন্স ও সিনেটে চলা বিতর্কগুলো বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে। কানাডা সরকার বিশ্বাস করতো যে, এই সংকটে যে কোনো ধরনের সরাসরি অস্থান গ্রহণ করা হলে তাদের জন্য ‘রাজনৈতিকভাবে অশোভন’ হতে পারে। </p>



<p class="wp-block-paragraph">সামরিক শাসনের সেই উত্তাল সময়ে আলোচনায় প্রাধান্য পেয়েছিল গণতন্ত্র রক্ষা, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর, দমনমূলক ব্যবস্থা বন্ধ করা, সাংবিধানিক উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তি এবং মানবিক সহায়তার মতো বিষয়গুলো-যা মূলত কানাডার গভীর উদ্বেগ ও এক ধরনের অসহায়ত্বকেই প্রতিফলিত করে। কানাডার তৎকালীন মূল লক্ষ্য ছিল বাস্তুচ্যুত বাঙালি ও ভারতের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া ভুক্তভোগীদের জন্য দ্রুত মানবিক ত্রাণ নিশ্চিত করা।</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full is-resized"><img fetchpriority="high" decoding="async" width="400" height="278" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/07/মুস্তফা-চৌধুরী.jpg" alt="" class="wp-image-12710" style="aspect-ratio:1.4388735877690968;width:551px;height:auto" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/07/মুস্তফা-চৌধুরী.jpg 400w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/07/মুস্তফা-চৌধুরী-300x209.jpg 300w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/07/মুস্তফা-চৌধুরী-392x272.jpg 392w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/07/মুস্তফা-চৌধুরী-130x90.jpg 130w" sizes="(max-width: 400px) 100vw, 400px" /><figcaption class="wp-element-caption">টরন্টোর বাংলা বই মেলায় নিজের লেখা ‘বাংলাদেশের অভ্যুদয় : কানাডার কূটনৈতিক টানাপড়েন’ বই হাতে দুজন পাঠক/ক্রেতার সঙ্গে মুস্তফা চৌধুরী (বামে)। ছবি : প্রবাসী কণ্ঠ</figcaption></figure>
</div>


<p class="wp-block-paragraph">যদিও সংবাদমাধ্যম, কানাডিয়ান এনজিও এবং প্রবাসী বাঙালিরা বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারকে জোরালো সমর্থন দিচ্ছিল, তবে কানাডা সরকার সাধারণ কানাডিয়ানদের দবির প্রতি বেশি মনোযোগী ছিল। অধিকাংশ নগরিকের চাওয়া ছিল কানাডা যেন জাতিসংঘকে ব্যবহারের মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান খোঁজে। পাকিস্তান ভেঙে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠিত হোক এমনটি কানাডার ভাবনায় কখনোই ছিল না। বরং সাধারণ জনগণের মতোই কানাডা চেয়েছিল পাকিস্তান যেন অখণ্ড, পুনর্গঠিত এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকে।</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full is-resized"><img decoding="async" width="698" height="400" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/07/মুস্তফা-চৌধুরী-বই-rotated.jpg" alt="" class="wp-image-12711" style="aspect-ratio:1.745029102699324;width:552px;height:auto" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/07/মুস্তফা-চৌধুরী-বই-rotated.jpg 698w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/07/মুস্তফা-চৌধুরী-বই-300x172.jpg 300w" sizes="(max-width: 698px) 100vw, 698px" /></figure>
</div>


<p class="wp-block-paragraph">বইয়ের দ্বিতীয় খণ্ডটি চারটি অধ্যায়ে বিভক্ত। এই অধ্যায়গুলোতে কানাডার বিভিন্ন উদ্যোগ ও কূটনৈতিক দোটানা, গৃহীত পদক্ষেপের কালানুক্রমিক বিবরণ, বাংলাদেশের জন্মের পরপরই দেশটির স্বীকৃতি প্রদানের প্রক্রিয়া এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠনে সম্পদ বরাদ্দের বিষয়গুলো বিশদভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির কারণে কানাডা শুরুতে সরাসরি এই সংকটে জড়াতে চায়নি। তবে পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হওয়া সত্ত্বেও শেখ মুজিবুর রহমানকে যেভাবে ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হয়েছিল, তা কানাডাকে ক্ষুব্ধ করেছিল। পাশাপাশি বাঙালিদের ওপর চলমান সামরিক দমন-পীড়নের ভয়াবহ পরিণাম কানাডাকে ব্যথিত করেছিল। তৎকালীন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে কানাডা বেশ সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করে এবং ভারত-পাকিস্তান ইস্যুতে সরাসরি না জড়িয়ে একটি ‘হস্তক্ষেপহীন নীতি’ বজায় রাখে। তবে তারা স্বাধীনভাবে এই সংকট নিরসনের নানা পথ খুঁজছিল। এর মধ্যে ছিল ভারত ও পাকিস্তানের নেতাদের সংযম প্রদর্শনের পরামর্শ দেওয়া, সম্মিলিতভাবে জাতিসংঘকে আহ্বান জানানো, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোকে তহবিল প্রদান এবং দেশটির ভবিষ্যৎ নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির জন্য জোরালো লবিং করা। নিরপেক্ষ অবস্থানের কারণে কানাডা একটি স্পষ্ট অবস্থান নিতে দেরি করে এবং কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সক্ষম হয়নি। কানাডা মূলত আশঙ্কা করেছিল যে, বাংলাদেশ ইস্যুতে কোনো প্রকাশ্য আলোচনা কুইবেক বিচ্ছিন্নতাবাদীদের উসকে দিতে পারে, যারা বাঙালিদের মাতৃভূমি রক্ষার লড়াইয়ের সাথে নিজেদের স্বাধীনতা সংগ্রামের যোগসূত্র খুঁজে পেতে পারত।</p>



<p class="wp-block-paragraph">বইটির মুখবন্ধে বলা হয়, ‘এই বইয়ে মুস্তফা চৌধুরী ১৯৭১ সালের মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কাল তুলে ধরেছেন, যে সময়টি পূর্ব পাকিস্তানে সামরিক অভিযানের সূচনা থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পর্যন্ত ঘটনাপ্রবাহকে ধারণ করে। একই সঙ্গে এই সময়সীমায় তিনি কানাডার রাজনৈতিক ইতিহাস এবং পাকিস্তান-বাংলাদেশ যুদ্ধে কানাডা সরকার, মিডিয়া, জনগণ ও এনজিওর ভূমিকা তুলে ধরেছেন।’</p>



<p class="wp-block-paragraph">‘আমাদের জানা মতে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ওপর অন্য সব রচনার বিপরীতে এটিই প্রথম বই, যেখানে বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামে কানাডার ভূমিকা আলোচিত হয়েছে। বইটি এক চমৎকার আখ্যান এবং বাস্তব রাজনীতির আকর্ষণীয় কেইস স্টাডি। ১৯৭১ সালে কানাডার কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জের প্রকৃত ঐতিহাসিক সত্য উন্মোচন হয়েছে এখানে। ‘&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">উল্লেখ্য যে, মুস্তফা চৌধুরী একজন বাংলাদেশি-কানাডিয়ান নাগরিক, যিনি তার কর্মজীবনের পুরোটা সময় শিক্ষা ও জনসেবায় ব্যয় করেছেন। ইংরেজি সাহিত্য, গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান এবং কানাডার ইতিহাসের ওপর উচ্চতর ডিগ্রিগুলো তাঁকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার মতো দক্ষ করে তুলেছে। দীর্ঘ ৩৪ বছর তিনি কানাডার ফেডারেল পাবলিক সার্ভিসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ ও সংস্থায় সাফল্যের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">কাজের প্রতি তাঁর গভীর একাগ্রতা ও নিষ্ঠার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি অসংখ্য পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো : Orleans Queen&#8217;s Platinum Jubilee Award এবং অরলিন্সের সংসদ সদস্য Marie-France Lalonde এর পক্ষ থেকে বিশেষ পিন। নেপিয়ানের সংসদ সদস্য চন্দ্র আর্যর পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট, যা মূলত `Service to the Bangla community and beyond’ স্বীকৃতি। Royal Canadian Mounted Police (RCMP) এর সংখ্যালঘু বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটি পরামর্শক হিসেবে তার সেবার জন্য বিশেষ প্রশংসাপত্র।</p>



<p class="wp-block-paragraph">বইটি প্রকাশ করেছে একাডেমিক প্রেস এণ্ড পাবলিশার্স লাইব্রেরি (এপিপিএল)। অনলাইনে বইটি কিনতে হলে <a href="https://www.rokomari.com/book/557614/bangladesher-ovuddoy-volume-i">https://www.rokomari.com/book/557614/bangladesher-ovuddoy-volume-i</a> এই লিংক এ ক্লিক করা যেতে পারে। </p>



<p class="wp-block-paragraph">মুস্তফা চৌধুরীর উল্লেখযোগ্য বইগুলো হলো, ’৭১-এর যুদ্ধশিশু: অবিদিত ইতিহাস’। ২০১৫ সালে বইটি প্রথম প্রকাশিত হয়। বইটি যুদ্ধশিশুদের দত্তক নেয়ার মানবিক দিকগুলো নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। লেখকের দ্বিতীয় বই Picking Up the Pieces : 1971 War Babies&#8217; Odyssey from Bangladesh to Canada. এটিও প্রকাশিত হয় ২০১৫ সালে। এই বইতে যুদ্ধশিশুদের বাংলাদেশ থেকে কানাডায় যাওয়ার সংগ্রাম ও জীবনযাত্রা তুলে ধরা হয়েছে। মুস্তফা চৌধুরীর তৃতীয় বই UNCONDITIONAL LOVE :&nbsp; Story of Adoption of 1971 War Babies. এটি প্রকাশিত হয় ২০১৬ সালে। এই বইতে যুদ্ধশিশুদের দত্তক নেওয়ার মানবিক দিকগুলো নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। &nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph"></p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>নিভৃতে</title>
		<link>https://probashikantho.com/2026/07/01/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%ad%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a7%87-19/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 01 Jul 2026 20:06:11 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Literature]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=12699</guid>

					<description><![CDATA[রীনা&#160;গুলশান (পূর্ব প্রকাশিতের পর) ২০ সকাল থেকে নাটালি আর ডেভিড সারার পায়ে পায়ে ঘুরছে। কি যন্ত্রণা- : মাম্ আমরা তোমার]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph"><strong>রীনা</strong><strong>&nbsp;</strong><strong>গুলশান</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">(পূর্ব প্রকাশিতের পর)</p>



<p class="wp-block-paragraph">২০ </p>



<p class="wp-block-paragraph">সকাল থেকে নাটালি আর ডেভিড সারার পায়ে পায়ে ঘুরছে। কি যন্ত্রণা-</p>



<p class="wp-block-paragraph">: মাম্ আমরা তোমার সাথে যাবো, ভাইয়াকে ৫ বছরের মত দেখি না। তুমি ক্যানো এমন করছো?</p>



<p class="wp-block-paragraph">: কিন্তু আমি একটু আগে যেতে চাচ্ছি। ২ দিন পর তোরা যাবি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">স্টিভেন এরপর মিন মিন করে বললো,</p>



<p class="wp-block-paragraph">: ওকে, আমরা না হয় ২ দিন মায়ের কাছে থাকবো। তারপর তোমার গ্রীণ সিগন্যাল পেলেই না হয় শ্বশুরালয়ে যাবো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এবারে সারা হেসে ফেললো। এমন সময় সারার সেল ফোনের রিং টোন বেজে উঠলো। (এটা ৫ বছর আগে ফাবিয়ান সেট করে দিয়েছিল ‘Come September’এর সেই বিখ্যাত মিউজিকটা), এখন আবার কে ফোন করলো। সারার যে কত কাজ। কাপড়-চোপড় গুছাবে, রান্না করবে। কাল সকালের ফ্লাইটে সারার যাবার টিকিট স্টিভেনই বুক করে রেখেছে। এখন আবার স্টিভেন ডেভিড আর নাটালিও সুর ধরেছে যাবার জন্য। সারা বুঝেই পাচ্ছে না যে কি করবে? এদেরকেও বিমুখ করতে কেমন যেন বাধো বাধো লাগছে। আবার ফাবিয়ানের কথা ভেবেও রীতিমত ভয় করছে। কারণ, তার মন-মর্জির তো কোন ঠিক নাই। এই মেঘ, এই বৃষ্টি!</p>



<p class="wp-block-paragraph">: মাম্, ফোন ধরছো না কেন? নাটালি বললো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সারা ফোন অন করলো। ওপাশ থেকেই কেউ বললো-</p>



<p class="wp-block-paragraph">: হ্যালো, শুধু এই একটি শব্দ শুনেই সারার শরীর যেন জমে গেল। মুখ দিয়ে একটি শব্দও বের করতে পারলো না। ফাবিয়ান তার ফাবি তাকে ফোন করেছে। তার নয়নের মণির তাকে মনে পড়েছে? হায় আল্লাহ, এতো যেন মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি। একই সাথে অজস্র আনন্দ-বেদনা সারার হৃদয় মোথিত করে চোখে নেমে এলো বন্যার মত কান্নার ঢল। নাটালি হতভম্ভ হয়ে মায়ের কাণ্ড দেখছে। ডেভিডও অবাক হয়ে গেছে, কার ফোন এলো? মা এমন করছে কেন? শুধু স্টিভেনই বুঝতে পারলো এটা ফাবিয়ানের ফোন। স্টিভেন-এর চোখেও অশ্র“ এলো। একমাত্র সেই-ই জানে, এই ফোন কি ভীষণ কাক্সিক্ষত। সারার জন্য। মনে হয় জন্ম জন্মান্তরের অপেক্ষার পর তাদের ঘরের সমস্ত চৌকাঠ ভরে গ্যালো রাঙা আলোয়। বিবাহিত জীবনের এই সমগ্র সময়টাতে সারা তাকে সমগ্র সুখ দেবার আপ্রাণ চেষ্টা করেছে। করছে। তবু একমাত্র স্টিভেনই জানে কোন কোন সময়ে সারার দেহটা এখানে থাকে, কিন্তু মন তার কোন সুদূরে ফাবিয়ানের আবর্তে ঘুরপাক খায়-</p>



<p class="wp-block-paragraph">‘সহজ লোকের মত কে চলিতে পারে?</p>



<p class="wp-block-paragraph">পথে চলে পারে পারাপারে</p>



<p class="wp-block-paragraph">উপেক্ষা করিতে চাই তারে</p>



<p class="wp-block-paragraph">মড়ার খুলির মত ধরে</p>



<p class="wp-block-paragraph">আছাড় মারিতে চাই, জীবন্ত মাথার মত ঘোরে</p>



<p class="wp-block-paragraph">তবু সে মাথার চারিপাশ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সকল লোকের মাঝে ব’সে</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমার নিজের মুদ্রাদোষে</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমি একা হতেছি আলাদা</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমার চোখেই শুধু ধাঁধাঁ</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমার পথেই শুধু বাঁধা।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আলো অন্ধকারে যাই মাথার ভিতর</p>



<p class="wp-block-paragraph">স্বপ্ন নয়, কোন এক বোধ কাজ করে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">হৃদয়ের মাঝে এক বোধ জন্ম লয়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমি তারে পারি না এড়াতে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সব কাজ তুচ্ছ হয়, পন্ড মনে হয়</p>



<p class="wp-block-paragraph">সব চিন্তা প্রার্থনার সকল সময়</p>



<p class="wp-block-paragraph">শূন্য মনে হয়</p>



<p class="wp-block-paragraph">শূন্য মনে হয়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">(জীবনানন্দ দাশ)</p>



<p class="wp-block-paragraph">সারার সেই শূন্য হৃদয়ের ভেতরে তখন সত্যিই কোন আর বোধ কাজ করে না। আর স্টিভেনের মনে অপরাধ বোধ কাজ করে। মনে হয় তারই জন্য সারার এত দূরে আসা। তাইতো ফাবির এতো অভিমান। আর সারার এই নিদারুণ হতাশার ক্রন্দন। স্টিভেন তখন ভেবে পায় না, কিভাবে যে সে এই প্রকট সমস্যার সমাধান করবে। যদিও সারা তাকে মোটেও বুঝতে দিতে চায় না। কিন্তু সে যে সারাকে প্রচন্ড ভালোবাসে। তাই ভালোবাসার মানুষকে বুঝতে হলে মুখের ভাষার খুউব প্রয়োজন হয় না। চোখের ভাষা, হাতের একটু স্পর্শেই বোঝা যায় গোটা অন্তকরণ। হঠাৎ একটা অস্ফুট রোদনে স্টিভেনের চিন্তা সূত্র ছিন্ন হয়-</p>



<p class="wp-block-paragraph">: ফাবি, আমার ফাবি- তুই&#8230; তুই.. কেমন আছিস সোনা। সারা কি বলবে বুঝতে পারে না। এবারে ঝর ঝর করে কেঁদে ফেলে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: ভালো আছি মাম্মাম্ (এটা ফাবির অনেক আদরের ডাক) ফাবিয়ানেরও কণ্ঠ বুজে আসে। মনে হয় এক সাগর রক্তাক্ত যন্ত্রণা পাড়ি দিয়ে এইমাত্র ফাবি তীরের বেশ কাছাকাছি চলে এসেছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ছেলেবেলায় যখনি তার কোন আবদার থাকতো বা টনি আঙ্কেলের সাথে দূরে কোথাও যেতো, বাড়িতে ফিরেই সারার কোমর জড়িয়ে ধরে বলতো, মাম্মাম্ আমি এসেছি। মাম্মাম্ আমার এটা চাই, ওটা চাই। আমি ওখানে বেড়াতে যাবো। ইত্যাকার আবদারে ভরপুর সেই ডাক।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আজ এ্যাদ্দিন পর সেই ছেলেবেলার তীব্র ভালোবাসায় দিনগুলি ফাবির অন্তরেও ঝাঁপিয়ে এলো। ফাবিও কথা বলতে পারছিল না। তবুও সে বললো-</p>



<p class="wp-block-paragraph">: মাম্, তুমি কবে আসছো? আমিতো ৪/৫ দিন হলো এসেছি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: হ্যাঁ সোনা, আসছি শিঘ্রি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: নাটালি, ডেভিড আর পাপাও আসছে তো?</p>



<p class="wp-block-paragraph">সারা তার কানকেই বিশ্বাস করতে পারছিল না। ছেলেবেলায় তাঁর আর আমান্ডার প্রাণান্ত চেষ্টা সত্ত্বেও কখনো ফাবি, স্টিভেনকে পাপা বলে ডাকেনি। স্টিভেন নিজেও চেষ্টার ক্রটি করেনি। কিন্তু ফাবিয়ান সারা জীবন স্টিভেনের সাথে ভাববাচ্যে কথা বলেছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: মাম্মাম্ পাপাকে একটু ফোনটা দাও তো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সারা চোখ ঈশারায় স্টিভেনকে ডেকে ফোন দিল। স্টিভেন বেচারারও একই হাল। রীতিমত মনের ভেতরে কাঁপাকাঁপি শুরু হয়েছে তার। কারণ বড় হবার পর যখনই তার সাথে কথা বলেছে, তা শুধু প্রতি উত্তরই বলা চলে। আর তাও ভাববাচ্যে। তাই ফাবিয়ানের সামনে স্টিভেন গেলেই নিজেকে তার বরাবরই আসামী মনে হতো। কানাডা যাবার পর দু’বারই বোধ হয় কথা বলেছিল, তাও সে নিজেই ফোন করেছিল। ফাবিয়ান টুকটাক কথা বলার পর জরুরি কাজের কথা বলে ফোন রেখে দিয়েছিল। আর আজ এ সব কি হচ্ছে? বুঝতে পারছে না স্টিভেন। সূর্যটা কোন দিক দিয়ে উঠেছে, কি জানি? তবু কাঁপা হাতেই ফোন ধরে বললো-</p>



<p class="wp-block-paragraph">: হ্যালো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: হাই পাপা, কেমন আছো?</p>



<p class="wp-block-paragraph">: ভা&#8230; ভা&#8230;লো আছি (পাপা? স্টিভেন ঠিক শুনেছে তো? নাকি ভুল শুনছে? আজ সৃষ্টিকর্তা এ কোন খেলায় মেতেছে)। &#8230; এতটা বছর ধরে এই পাপা ডাকটা শুনার জন্য স্টিভেনের যে কি প্রাণান্তকর চেষ্টা ছিল, আর আজ কিনা এতটা বছর পর ডাকটা শুনেও সে হাসতে পারছে না। তার চোখ ভরে গ্যালো নোনা জলে। সবাই দেখে ফেলবে তাই কান্নাগুলো গিলে কোন মতে বললো-</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full"><img decoding="async" width="288" height="457" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2024/09/নিভৃতে.jpg" alt="" class="wp-image-9956" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2024/09/নিভৃতে.jpg 288w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2024/09/নিভৃতে-189x300.jpg 189w" sizes="(max-width: 288px) 100vw, 288px" /></figure>
</div>


<p class="wp-block-paragraph">: কেমন আছো বাবা?</p>



<p class="wp-block-paragraph">: ভালো আছি পাপা (ফাবিয়ানের আজ প্রথম বারের মত পাপা ডাক। তাই ডাকতে এত ভালো লাগছে যে, সে নিজেও জানে না। প্রয়োজনের অতিরিক্ত ডেকে ফেলছে বোধহয়। তবুও মন ভরছে না। মনে মনে সারা জীবন ডেকেছে স্টিভেনকে পাপা, কিন্তু অভিমানে সামনাসামনি কখনোই ডাকতে পারেনি। তাই বোধহয়। কি এক অপার্থিব আনন্দে ফাবির কণ্ঠের কাছে তির তির করছে। এই একটি ডাক সে যে কোন দিন ডাকতে পারেনি। নিজের বাবাতো কথা বলার আগেই তাকে ছেড়ে জনমের মত চলে গ্যালো। জীবনে একটি বারের জন্যও পিছু ফিরে চাইলো না। আর মায়ের উপর তাই এত বেশি পজেসিভ হয়ে পড়েছিল যে একটি বারও মায়ের কথা, মায়ের জীবনের কথা ভাবেনি। নাওমীই তাকে কতবার বলেছে, মায়ের জীবনটা একবার ভাবো। তোমার বাবার প্রতারণার কথা একবার ভাবো। ভাবো যে ঐ অতটুকুন একটা মেয়ে কি করতো, যদি আবার বিয়ে না করতো? তাও সে ৫টি বছর অপেক্ষা করেছে। ভাবো একবার। আর তোমার নন্নার কথা ভাবো। কোন মা কি সহ্য করতে পারে যে তার মেয়ে এই রকম অসুখি একাকি জীবনযাপন করে? ভাবো তো আজ তোমার মায়ের একটি সংসার হয়েছে। যে সংসারের প্রত্যাশিত প্রতিটি মেয়ের চোখের স্বপ্ন হয়ে থাকে। হৃদয়ের মাঝখানে। তারপরও তোমার মা তোমাকে একাকি ফেলে চলে যায়নি। তোমাকে বার বার নিতে চেয়েছে। তুমিই যাওনি। অভিমানে যাওনি। নন্নার কথা ভেবে যাওনি। তোমার পাপাও তোমাকে ভালোবাসতো কিন্তু তুমিই তাকে নিষ্ঠুর আঘাতে বারবার ফিরিয়েছো। অতীতের সেইসব কথা ভেবে ফাবির আজ লজ্জাই করছিলো। তাইতো হড়বড় করে কথা বলছিল-</p>



<p class="wp-block-paragraph">: পাপা, তোমরা সব কবে আসছো। আমিতো ৪/৫ দিনের মতো এসেছি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: হ্যাঁ বাবা, আমরা খুউব শিঘ্রি আসছি। (কাল সকালেই যাবে এটা বললো না, কারণ নাটালি আর ডেভিড মানা করছিল ঈশারাতে। তারা তাদের ভাইয়াকে সারপ্রাইজ দিবে)।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: ঠিক আছে, আসবার আগে বলবে- আমি তোমাদের এয়ারপোর্টে পিকআপ করতে যাবো। আর আসবার পথে জেনেলিয়া দাদীকেও নিয়ে আসবো। তাহলে সবাই মিলে বেশ হৈ চৈ হবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: জেনিলিয়া দাদী? স্টিভেন যেন পাথর হয়ে গ্যালো! বলে কি? ছেলেটার আজ হলো কি?</p>



<p class="wp-block-paragraph">: হ্যাঁ পাপা, তা না হলে তোমার আবার পিছুটান থাকবে। এই কয়দিন দাদীও আমাদের সাথেই থাকবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: ওকে সোনা, ওকে বাবা, নাটালি আর ডেভিডের সাথে একটু কথা বল। আমাকে পাগল করে দিচ্ছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: হ্যাঁ পাপা, অবশ্যই ওদের সাথেও কথা বলবো। আসবার পর তোমার আর আর মাম্মাম্-এর জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: কি সারপ্রাইজ ফাবি?</p>



<p class="wp-block-paragraph">: উহু, এখন বললে তো আর সারপ্রাইজ থাকবে না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: ওকে, ওকে, এই ওদের সাথে কথা বল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এরপর তিন ভাই বোনের স্পিকারের ফোনালাপ শুনতে থাকলো সারা আর স্টিভেন। যতটা শুনছিল তারা, তার থেকে অনেক বেশি কাঁদছিল। আর সে কান্না ছিল আনন্দের কান্না। আজ স্টিভেন সারার থেকেও অনেক বেশি ইমোশনাল হয়ে যাচ্ছিল। সারাও বার বার স্টিভেনকে দেখছিল। সে নিজেও এতটা বছরে স্টিভেনকে এতটা ইমোশনাল হতে দেখেনি। তার মুখটা বর্ষার শেষ হয়ে যাওয়া আকাশের মত স্বচ্ছ ও আলোকিত লাগছিল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">কিন্তু একমাত্র স্টিভেনই জানে আজ সে ক্যানো এতট আবেগে ভাসমান। সে সারাকে পাগলের মত ভালোবাসে। কিন্তু সে জানে না, সারা তাকে কতটা ভালোবাসে? হয়তো সারাও তাকে সত্যিই ভালোবাসে। কিন্তু তার সমগ্র আত্মা পড়ে থাকে ফাবিয়ানের চারপাশে। মুখে কিছুই বলে না সে। কিন্তু মুখে বলতেই বা হবে কেন? সত্যিকারের ভালোবাসায় মুখে বলতে হয় না। তার চোখের দৃষ্টিই অনেক কিছু বলে দেয়। আর তাই স্টিভেন সর্বদাই মনে করেছে সারার এই অপরিমেয় দুঃখের ভার তার উপরেও অনেকটাই বর্তায়। সে যদি সুইডেনে না আসতো তাহলে হয়তোবা মা-ছেলের ভেতরে এতটা অভিমানের পলি জমতো না। আস্তে আস্তে হয়তোবা এ্যাদ্দিনে অভিমানের দেয়াল ভেঙ্গে যেত।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তাই তো আজ স্টিভেন নিজেকে অনেকটাই বিজয়ী মনে করছে। মনে হচ্ছে এতদিনে তার বিবাহিত জীবন কানায় কানায় পূর্ণ হতে চলেছে। সারার মুখ দেখতে স্টিভেনের এত ভালো লাগছে। এমনিতেই সারা অসম্ভব সুন্দরী। এমনকি এখনো মনে হয় না, সারার তিনটে এত বড় বড় বাচ্চা!</p>



<p class="wp-block-paragraph">: তাহলে চলো আমরা সব গুছিয়ে নেই। হঠাৎ সারা আনন্দিত কণ্ঠে বলে উঠলো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এতোক্ষণে ওদেরও ফোনালাপ শেষ হয়েছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: ইয়াহু মাম্, আমরাও তাহলে যাচ্ছি। দেখলে তুমিতো নিতেই চাচ্ছিলে না। ডেভিড চিৎকার করে আনন্দিত কণ্ঠে বললো-</p>



<p class="wp-block-paragraph">: ওকে বাছারা যাও, যার যার কাপড় গুছিয়ে নাও। সারাও উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বললো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">হঠাৎ দেখে নাটালি খিল খিল করে হাসছে। সাথে স্টিভেনও। একটু পর ডেভিডও সেই হাসিতে যোগ দিল। সারা খুউব বোকা বোকা মুখ করে চেয়ে আছে-</p>



<p class="wp-block-paragraph">: এই কি হলোরে তোদের? এত হাসির কি হলো, কি তোরা কি যেতে চাচ্ছিস না?</p>



<p class="wp-block-paragraph">: মাম্ আমরা কি জন্য হাসছি, তুমি শুনলে তুমিও হাসবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: কি ব্যাপার?</p>



<p class="wp-block-paragraph">: মাম্ ভাইয়া যেদিন থেকে আমাদের ফোনে বলেছিল, সে ইটালি আসছে। আমরা তো সেদিন থেকেই রেডি হচ্ছি, একটু একটু করে। আমাদের সব গুছানো শেষ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: কি, তাহলে যে বড় সকালে তোরা আমার অনুমতি চাইছিলি ইটালি যাবার জন্য? তার মানেটা কি?</p>



<p class="wp-block-paragraph">: ওহ্ মাম্, পাপা না হি&#8230; হি&#8230; একদম পুরানা এ্যাক্টর। হি&#8230; হি&#8230; হা&#8230; হা&#8230;</p>



<p class="wp-block-paragraph">: তবেরে, তোদের সব কয়টাকে আজ এমন হাল করবো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সব কয়টা ছুটে পালালো। একটু পর আবার হাসতে হাসতে একটা ডার্ক চকলেট রঙের বড় স্যুটকেস নিয়ে এলো তিনজন এক সাথে। তারপর স্যুটকেস খুলে সারাকে দেখালো, তারা কি সব শপিং করেছে ফাবির জন্য। মাই গড, জুতাই ২ জোড়া, সার্ট, প্যান্ট, ২টা জ্যাকেট (তাও ব্রান্ডেড), টাই। তারপর একদম নিচু থেকে নাটালি বের করলো একটা ফ্রেম। সারা অবাক হয়ে দেখলো, একটা চৌকা কালো কাঠের বর্ডার দেওয়া ফ্রেম তাতে একটা ছবি। ওমা, সারারতো মনেই ছিলো না, তখন ফাবিয়ান জাস্ট মিউজিকের উপর গ্রাজুয়েট করেছে। এক সামারে তারা গিয়েছিলো ইটালি। ছবিটা ডোরিন তুলেছিলো স্টিভেনের ক্যামেরা দিয়ে। বেশ কয়েকটি পোজে তুলেছিল। এই ছবিটা এত সুন্দর। মাঝখানে ২টা চেয়ারে সারা আর স্টিভেন বসা, পেছনে ফাবিয়ান আর ডেভিড দাঁড়ানো। আর নিচে উঁবু হয়ে নাটালি বসা। সবারই দাঁত বের করে হাসি। ফাবিয়ান আবার ডেভিডের কাঁধ ধরে আছে। এই সময়ের একটা অন্য রকমের পোজের ছবি বিশাল ফ্রেমে ওদের লিভিং রুমের দেয়ালে আছে। এবং তাদের যত ফ্রেন্ড আসে এবং জিজ্ঞাসা করে ফাবিয়ানের কথা সবার আগে স্টিভেন বলে উঠবে, ‘আমার বড় ছেলে’। আর মজার ব্যাপার, প্রতিবারই সারার হৃদয়ের ভেতরে এক অসম্ভব ভালো লাগায় স্টিভেনের জন্য দ্রবীভূত হয়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আজও ছবিটা দেখে সারার চোখ ভিজে উঠলো। এবং নাটালি বললো-</p>



<p class="wp-block-paragraph">: মাম্, এটাও পাপার আইডিয়া। আর ভাইয়ার জন্য প্রতিটি গিফট পাপাই কিনেছে। তবে আমাদের নিয়ে, তোমাকে লুকিয়ে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এবারে সারাও হাসলো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: ওকে, আবারো একটা দারুন সারপ্রাইজ আছে। আমিও তোমাদের বলছি না, বলেই সারাও এবার বাচ্চাদের মত দুলে দুলে হাসলো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">স্টিভেন অবাক হয়ে সারার এই মধুর হাসি দেখছিল। কি যে মিষ্টি লাগছিল ঐ মুহূর্তে সারাকে। তার সারাকে অসম্ভব আদর করতে ইচ্ছা করছিল। ছেলেমেয়েদের কথা ভেবে নিজেকে সম্বরণ করলো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: মাম্, এটা খুবই খারাপ। না, না, আমরা দেখতে চাই এখুনি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: ইয়েস মাম্, আমি এক্ষুনি দেখতে চাই। নাটালি নাকি সুরে বললো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: আমি ওদের সাথে সম্পূর্ণ একমত- স্টিভেনও জিদ্দি কণ্ঠে বললো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সারাও ওদেরকে অনেকক্ষণ নাচালো। বললো, না একেবারে ইটালি যেয়ে দেখাবে। অবশেষে যেন হার স্বীকার করলো। আসলে মনে মনে দেখাতেই চাইছিল। অনেক সময় অনেক আনন্দও লুকিয়ে রাখা খুবই কষ্টকর হয়। তাই অনেক দিন ধরে হৃদয়ের ভেতরে এই অপার্থিব আনন্দ বয়ে বেড়াচ্ছিল একাকি সে। তাই মহানন্দে তার ক্লজেট থেকে একটি লাল রঙের অতি সুদৃশ্য বক্স নিয়ে এলো। বক্সটা এনে স্টিভেনের হাতে দিল। স্টিভেন বেশ বোকা বোকা মুখ করে ছোট্ট লাল রঙের সুদৃশ্য বক্সটা খুললো। তারপর তার চোখ দুটো চমকে উঠলো হাসিতে। একটি আংটি। অসম্ভব সুন্দর একটি ওভেল সেপ শ্যাপায়ার, তাকে ঘিরে আছে হিরের দ্যুতি চারপাশ দিয়ে। নাটালি বিস্ময়াবিষ্ট হয়ে মুখটা কিঞ্চিত ফাঁক করে চেয়ে রইলো। তারপর নিজের অগোচরেই বলে ফেললো-</p>



<p class="wp-block-paragraph">: Wow মাম্, Its amazing মাম্।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: হ্যাঁ মাম্, সত্যিই সুন্দর- ডেভিডও বললো। কিন্তু কার জন্য? ভাইয়ারতো কোন মেয়েই এখনো ঠিক নাই। ডোরিনও তো ছুটে গ্যালো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: ডোরিন কখনই ফাবির ছিল না। কেউ যদি সত্যিই কাউকে ভালোবাসে, সেতো চলে যেতে পারে না। এ আংটি আমি অন্য কারো জন্য কিনেছি। সারা খুব আনন্দিত মুখে বললো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: আমি জানি তুমি কার জন্য কিনেছো? তবে আংটিটা সত্যি আমার খুউব পছন্দ হয়েছে। স্টিভেন স্মিত মুখে বললো। এখন বাচাধনের মনটা স্থির হলেই বাঁচা যায়!</p>



<p class="wp-block-paragraph">: হু। ঠিকই বলেছো। আমি নিজেও খুউব চিন্তায় আছি- বলেই বাচ্চাদের হাক দিলো, যাও সবাই ঘুমাতে যাও। কাল আমাদের ৭টার সময় ফ্লাইট।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সবাই ঘুমাতে চলে গ্যালো। সারা ঘরবাড়ি গুছাতে, মুছতে শুরু করলো। কাজের আর শেষ নাই। সারা ভেবেছিল একা যাবে, তাই বেশ কয়েক ভাগে রান্না করে রেখেছিল। এখন সেগুলো বক্সে ঢুকিয়ে ডিপ ফ্রিজে রেখে দিল। কিচেন খুউব ভালো করে মুছে রাখলো। মনের আনন্দে কাজ করতে করতে বহু দিন পর সারা এমনকি গুন গুন করে গানও গাইলো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">মনে হচ্ছে হৃদয়ের ভেতরে সুখের অনেকগুলি বলাকা ডানা মেলেছে। সারার মনে পড়ে না, এতটা তৃপ্তির ভার তার হৃদয়ে কখনোই কি ভর করেছিল? বরং সব আনন্দের মাঝেই তার গোটা জীবনে একটা কাঁটার খোঁচা রয়েই গিয়েছিলো। সেটা অবশ্য স্টিভেনও বুঝতে পেরেছে। আজ প্রথম সারার আনন্দে কোন বিবমিষা নাই।</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="300" height="279" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2021/05/রীনা-গুলশান-1.jpg" alt="" class="wp-image-4859" style="aspect-ratio:1.0753290394847381;width:150px;height:auto"/><figcaption class="wp-element-caption">রীনা গুলশান</figcaption></figure>
</div>


<p class="wp-block-paragraph"><em>রীনা</em><em>&nbsp;</em><em>গুলশান</em><em>,&nbsp;</em><em>টরন্টো</em><em><br>gulshanararina@gmail.com<br>(</em><em>লেখক</em><em>&nbsp;</em><em>রীনা</em><em>&nbsp;</em><em>গুলশান</em><em>&nbsp;</em><em>বাংলা</em><em>&nbsp;</em><em>সাহিত্যে</em><em>&nbsp;</em><em>মাস্টার্স।</em><em>&nbsp;</em><em>ইতিপূর্বে</em><em>&nbsp;</em><em>বাংলাদেশের</em><em>&nbsp;</em><em>বিভিন্ন</em><em>&nbsp;</em><em>দৈনিক</em><em>,&nbsp;</em><em>সাপ্তাহিক</em><em>&nbsp;</em><em>এবং</em><em>&nbsp;</em><em>মাসিকে</em><em>&nbsp;</em><em>তার</em><em>&nbsp;</em><em>কবিতা</em><em>,&nbsp;</em><em>ছোটগল্প</em><em>,&nbsp;</em><em>প্রবন্ধ</em><em>,&nbsp;</em><em>রম্য</em><em>&nbsp;</em><em>রচনা</em><em>&nbsp;</em><em>প্রকাশিত</em><em>&nbsp;</em><em>হয়েছে।</em><em>&nbsp;</em><em>প্রকাশিত</em><em>&nbsp;</em><em>হয়েছে</em><em>&nbsp;</em><em>কানাডার</em><em>&nbsp;</em><em>বিভিন্ন</em><em>&nbsp;</em><em>বাংলা</em><em>&nbsp;</em><em>পত্রিকাতেও।</em><em>&nbsp;</em><em>তিনি</em><em>&nbsp;‘</em><em>প্রবাসী</em><em>&nbsp;</em><em>কণ্ঠ</em><em>’&nbsp;</em><em>ম্যাগাজিন</em><em>&nbsp;</em><em>এর</em><em>&nbsp;</em><em>একজন</em><em>&nbsp;</em><em>নিয়মিত</em><em>&nbsp;</em><em>কলামিস্ট।</em><em>)</em></p>



<p class="wp-block-paragraph"></p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>নিভৃতে</title>
		<link>https://probashikantho.com/2026/06/17/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%ad%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a7%87-18/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 17 Jun 2026 20:48:21 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Literature]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=12647</guid>

					<description><![CDATA[রীনা&#160;গুলশান (পূর্ব প্রকাশিতের পর) ১৮ আজ সকাল থেকেই একেবারে স্বচ্ছ আকাশ। কোথাও মেঘলার একটু ছিটেফোটাও নাই। কে বলবে, গত দুদিন]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph"><strong>রীনা</strong><strong>&nbsp;</strong><strong>গুলশান</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">(পূর্ব প্রকাশিতের পর)</p>



<p class="wp-block-paragraph">১৮</p>



<p class="wp-block-paragraph">আজ সকাল থেকেই একেবারে স্বচ্ছ আকাশ। কোথাও মেঘলার একটু ছিটেফোটাও নাই। কে বলবে, গত দুদিন কি ভীষণ বাজে আবহাওয়া ছিল! এই রকম স্যাতসেতে গম্ভীর আবহাওয়ায় মনটাও বিমর্ষ হয়ে যায়। এমনিতেই সারার মনটা প্রচন্ড ব্যতিব্যস্ত হয়ে আছে। শরীরটা তার যদিও এখানেই পড়ে আছে। কিন্তু মনটা তার ভ্যালেলংগাতেই পড়ে আছে। ওখানে যে ওর মা আছে, শুধু তাই-ই না। ওখানে ওর জানটাও যে আজ ৩/৪ দিন ধরে আছে। তাই সারা কেবল ছটফট করছে, কখন সে ওখানে উড়াল দিবে?</p>



<p class="wp-block-paragraph">সারাতো পরের দিনই যেতে চেয়েছিল। কিন্তু ওর মা-ই বললো, কয়েকটি দিন ফাবিয়ানকে একা থাকতে দে?। দেখি আগে ফাবি কি রকম মন-মানসিকতা নিয়ে এসেছে। সেই জন্য সারা এই রকম ছটফট করছে। এদিকে ডেভিড এবং নাটালি আরো ছটফট করছে তাদের বড় ভাইকে দেখার জন্য। স্টিভেনও এবারে বলেছে,</p>



<p class="wp-block-paragraph">: আমি কিন্তু যাচ্ছি তোমার সাথে। ফাবিয়ান যতই আমাকে ঘৃণা করুক, আমার কিছুই আসে-যায় না। আমিতো ওকে ভালোবাসি। এটাই যথেষ্ঠ, বুঝলে?</p>



<p class="wp-block-paragraph">: কিন্তু তুমি জানো, ফাবি কি রকম জেদী। হয়তো তোমার সাথে ভালো ব্যবহার করবে না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: সারা, তুমি ভালো করেই জানো, আমি সেটা আশাও করি না। তবুও আমি ওকে বোঝতে চাই যে, আমি ওকে ডেভিড বা নাটালির থেকে বেশি ছাড়া কম ভালোবাসি না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: সেটাতো আমি জানি স্টিভেন। কিন্তু ঐ ছেলেটা দ্যাখো না, বুঝতেই চায় না। সারার গলাটা ধরে আসে। বোজা গলাতেই বলে, কতবার বলেছি কোন একটা ভ্যাকেশনে সুইডেনে চলে আয়। আমাকে বোকা বানায় যে, পাসপোর্ট নাই। পাসপোর্ট হলেই আসবো। আমি যেন কিছুই জানি না, কানাডিয়ান পিয়ার কার্ডধারীরা পৃথিবীর সব দেশেই যেতে পারে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: ঠিক আছে, মন খারাপ করো না। তুমিতো নিজেই বললে যে জন্মোবোধি ফাবি খুউব জেদী। তাছাড়া আমরাও তো সেই কবে থেকেই দূরে পড়ে রইলাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: হু! ওটাইতো ফাবি কোনভাবেই মেনে নিতে পারলো না। ওর মনে হলো, ওর মা ওকে ছেড়ে ইচ্ছা করেই দূরে চলে এসেছে। এরপর সুইডেনে কতবার আনতে চাইলাম, তাও আসলো না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: অবশ্য এটাও ঠিক যে, ফাবিয়ানকে নিয়ে আসলে তোমার মায়েরও বেঁচে থাকা খুব কষ্টকর হতো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: হু, ঠিকই বলেছো, মায়ের কথাটি ভেবেই তো আমি তেমন একটা জোর করিনি।</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full"><img decoding="async" width="288" height="457" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2024/09/নিভৃতে.jpg" alt="" class="wp-image-9956" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2024/09/নিভৃতে.jpg 288w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2024/09/নিভৃতে-189x300.jpg 189w" sizes="(max-width: 288px) 100vw, 288px" /></figure>
</div>


<p class="wp-block-paragraph">: কিন্তু জানো সারা, আমাদের এই গোটা বিবাহিত জীবনটাতে, আমার সব সময় মনে হয়েছে, আমি তোমাকে পুরোপুরি কখনো পাইনি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: তার মানে তুমি বলতে চাচ্ছে, আমি তোমাকে কখনো সর্বসত্ত্বা দিয়ে ভালোবাসিনি? নাহ্ স্টিভেন, সারা স্টিভেনের হাতটি তার দুই করতল দিয়ে জড়িয়ে নেয় গভীর ভালোবাসায়। আমি তোমাকে কখন জানি, কিভাবে আমার সবটুকু দিয়ে ভালোবেসে ফেলেছি। যখন ফ্রাঙ্কের চিটিং আমার চোখে ধরা পড়লো এবং আমার জীবন থেকে সে চলে গেলো। আমার সত্যি মনে হয়েছিল আমি আর এই জীবনে কখনো কাউকে ভালোবাসতে পারবো না। তারপর বাবা হারা ফাবিয়ান আমাকে পুরোপুরি গ্রাস করলো। আমিও আমার সব শূন্যতা দিয়ে ফাবিকে আঁকড়ে ধরেছিলাম। কৈ তবুও তো আমার শূন্যতা যাচ্ছিল না? তারপর হঠাৎ খুউব সন্তর্পণে তুমি এলে আমার জীবনে। আমার সব শূন্যতা, আমার হাহাকার, আমার একাকীত্ব এবং আমার এক সাগর কান্না সব, সবই ভেসে গেলো তোমার ভালোবাসার জোয়ারে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: তাই? স্টিভেন গভীর আবেগে সারাকে জড়িয়ে ধরলো। ওকে ভালোবাসায় ভাসিয়ে দিল গভীর উষ্ণতায়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">১৯</p>



<p class="wp-block-paragraph">স্টিভেন এরকমই। দেখলে মনে হবে খুব কাটখোট্টা ধরনের। আসলে ওর ভেতরটা একেবারে অন্য রকম। সবার জন্যই প্রচণ্ড ভালোবাসা। আর সবার প্রতিই দারুণ কর্তব্য পরায়ণ। এই যে ফাবিয়ানের জন্য মাসে মাসে ইউরো পাঠিয়েছে, সারা (মাঝে মধ্যে তো বেশ মোটা অংকের ইউরো পাঠাতে হয়েছে)। এর সবই স্টিভেন পাঠিয়েছে। সারা তো প্রথমে এসেই একটা পার্লারে জয়েন করেছিল। কমিশন ভিত্তিতে। ভালোই ইনকাম হচ্ছিলো। প্রতি মাসে ভালো একটা অংক মাকে পাঠাতো। এরই মধ্যে হঠাৎ করে ডেভিড পেটে এলো। আর সারা প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পড়লো। প্রথম দিকেতো বিছানা থেকে উঠতেই পারছিল না। সকালের প্রাত্যহিক অসুস্থতার পাশাপাশি বাঁ পায়ে প্রেগনেন্সি সাইটিকা হলো। উঠে দাঁড়াতেই পারতো না। কোন কাজতো দূরে থাক। স্টিভেনেরও তখন তার দুলাভাইয়ের সাথে বিজনেসে নতুনভাবে জড়িয়ে পড়া। তাই তার ব্যস্ততাও ছিল অস্বাভাবিক। তার মধ্যেও সকালের নাস্তা বানিয়ে সারাকে খাইয়ে, বেরিয়ে যেত। লাঞ্চে বাইরের থেকেই বেশির ভাগ সময় খাবার এনে দুজন বসে খেত, রাতে আবার টুকটাক সারার কাছ থেকে শুনে শুনে কিছু রান্না করতো। এরই মধ্যে এক দুপুরে হঠাৎ জেনিলিয়া গ্যালাটি ব্যাগ-ব্যাগেজ নিয়ে এসে হাজির। সারাতো ভীষণ অবাক। জেনিলিয়ার পেছনে দাঁড়িয়ে স্টিভেন মিটিমিটি হাসছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: ওমা! তুমি কখন এলে? মাম্ (স্টিভেন ওর মাকে মাম্ ডাকে), গতকালও কথা হলো, কৈ কিছুইতো বললে না? সারার বিস্মিত প্রশ্ন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: বারে, যদি বলেই দিতাম তাহলে যে সারপ্রাইজটা দিলাম, এটা হতো? জেনিলিয়া কাছে এসে সারাকে দু’হাতে জড়িয়ে ধরে আদরের চুমোয় ভরে দিল। তারপর হাসতে হাসতে ব্যাগ খুলতে খুলতে বললো, এই দ্যাখ তোর মা কত কি খাবার পাঠিয়েছে? ৪/৫ রকমের সস, আচার, জেলি এমনকি তার বিখ্যাত মিটবল পাস্তাও পাঠিয়েছে। তোর অনেক প্রিয় বলে&#8230;</p>



<p class="wp-block-paragraph">: ওমা, তোমরা দুজন না- সারা আর বলতে পারে না, আনন্দে কেঁদে ফেলে। কারণ, এই ৭/৮ সপ্তাহ সে নিজেকে খুবই অসহায় মনে করেছে। একদিকে শারীরিক অসুস্থতা। অন্যদিকে স্টিভেনের জন্য খুবই খারাপ লাগছিল। তার প্রতি এত প্রেসার পড়ছিল বলে। স্টিভেন অবশ্য তাকে মুখ দিয়ে কখনো বলেনি যে, সারা চাকরি ছেড়ে দাও। কারণ স্টিভেন জানে, তাহলে সারা আহত হতে পারে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সারা নিজেই চাকরি ছেড়ে দিল। যখন দেখলো একদিকে তার শারীরিক অসুস্থতা, অন্যদিকে স্টিভেন ব্যবসাও বেশ রমরমাই চলছিল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আর বেশ অনেক দিন পর এই দ্বিতীয় মাতৃত্বে একদিকে যেমন অসুস্থতা ছিল, আবার একই সাথে একটা অপরিমেয় আনন্দে তার ভেতরটা ভরেছিল। তার মনে হয়েছিলো এবার সময় হয়েছে, তার সর্বসত্ত্বা দিয়ে সংসারে মনোনিবেশ করা। জীবনে কখনো প্রকৃত অর্থে সাংসারি হওয়া যাকে বলে, সে তা করেনি। ফ্রাঙ্কের সাথে জীবনটা বাপের বাড়িতেই ছিল। তখন সেই বিবাহিত জীবনের জন্য তার ছিল একই সাথে গভীর লজ্জা ও বিড়ম্বনা। কারণ কোন মেয়েই বিয়ের পর বাপের বাড়ি থাকতে চায় না। বিশেষ করে যদি সেই স্বামী আরো বেকার হয়। আবার তার মধ্যে সন্তানের জন্ম দেওয়া। সারার প্রথম মাতৃত্ব ছিল একই সাথে গভীর আনন্দ। কারণ তার প্রথম মাতৃত্ব। আবার তার সাথে ছিল গভীর লজ্জাও। তবুও যখন ফাবির জন্ম হলো, প্রথম কোলে নিল তাকে, মনে হলো আকাশ থেকে নেমে এলো এক কণা চাঁদের পরশ। এত সুন্দর ছিল, ফাবিয়ান। বেশির ভাগটাই ছিল বাবার ফ্রাঙ্কের মত। ফ্রাঙ্কের ঐ রূপ দেখেইতো সে ভুলেছিল। আর সবইতো ছিল মাইনাস। এমনকি ঐ রকম সুন্দর একটা ছেলে পেয়েও সে খুব খুশি হয়নি। জীবনেও তাকে কোন কিছু কিনে এনে দেইনি। ফ্রাঙ্কের মধ্যে কোন পিতৃত্বই ছিল না। খুবই আশ্চর্যজনক ঘটনা। আর তাইতো যখন সে চলে গ্যালো জীবনে কখনো একটি বারের জন্যও ছেলেকে দেখতে আসেনি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আজ এই সুখের দিনে সারা ঐ পাষন্ডটার কথা মনে করতে চায় না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সারা তার শাশুড়িকে পেয়ে এত খুশি হলো যে, মনে হলো তার অসুস্থতার অর্ধেকটাই ভাল হয়ে গেল। জেনিলিয়াও খুব খুশি। প্রথম দাদী হতে যাচ্ছে। এর আগে অবশ্য নানী হয়েছে। তার একটাই মেয়ে স্টেফানি এবং জামাই বব। এদের অনেক আগেই বিয়ে হয়েছে। তাদের তিনটা মেয়ে। জেনিলিয়া তাদেরও অনেক ভালোবাসে। তবু ক্যানো জানি এবারে তার ভেতরে কি এক অজানিত আনন্দে টগবগ করছে। এমনকি ইটালিতেই আর ফিরে যেতে ইচ্ছা করছে না। তবুও ফিরে যেতে হবে। তার নিজের এত দিনের বিজনেস। কাটিনজিরোর সব থেকে বড় ‘স্পা’ তার। যদিও তার ‘স্পা’তে যে ম্যানেজার আছে ‘মনিকা’ খুবই বিশ্বস্ত এবং কর্মঠ। ১৭ বছর ধরে সে জেনিলিয়ার সাথে রয়েছে। মনিকা এটাকে তার নিজেরই ‘স্পা’ মনে করে। তাইতো জেনিলিয়া এতদিনের জন্য আসতে পেরেছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সে মোটামুটি সারাকে নড়তেই দিচ্ছে না। সারা খুবই বিব্রত বোধ করছে। প্রতিদিন সকালে তার প্রথম কাজ সকালের নাস্তার টেবিলে জিজ্ঞাসা করবে আজ কি খাবি সারা?</p>



<p class="wp-block-paragraph">সারা হাসে। আবার না বললে শাশুড়ি মাইন্ড করবে ভেবে বলে, আজ এটা খাবো, ওটা খাবো। আর সে খুবই উদ্ভাসিত মুখে বেরিয়ে যাবে বাজারে। তারপর বাজার এনে রান্না করবে। আর সারাকে খাওয়াবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">চার মাস পর সারা খুবই সুস্থ হয়ে গেল। তখন সব খেতে পারে। কোন মরনিং সিকনেস নাই। রান্না করলে কোন গন্ধও লাগে না। তাই তখন জেনিলিয়া বললো-</p>



<p class="wp-block-paragraph">: সারা, আমি এবারে যাই ইটালিতে। আবার বাচ্চা হবার ঠিক আগে আগে আসবো। কারণ ঐ সময় তোর খুব দরকার হবে আমাকে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সারাও বললো-</p>



<p class="wp-block-paragraph">: হ্যাঁ মাম্, এবারে যাও। আমি এখন অনেক ভালো বোধ করছি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">যাবার আগে স্টিভেন তার মায়ের হাতে অনেক গিফট কিনে দিল ফাবিয়ানের জন্য। সারা জানেও না, এগুলো সে কখন কিনেছিল। সারা শুধু ফাবির প্রিয় কিছু ক্যান্ডি আর কয়েকটি বই কিনে দিল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তারপর ঠিক বাচ্চা হবার ২ সপ্তাহ আগেই জেনিলিয়া আবার চলে এলো। যদিও আমান্ডা খুব ছটফট করছিল আসবার জন্য। কিন্তু তখন ফাবিয়ানের পরীক্ষা চলছিল। সারাও চাচ্ছিল যেন মা আসে ফাবিকে নিয়ে। ফাবিয়ানকে দেখার জন্য সারার মনটা বড় অস্থির ছিল। কিন্তু ওরা এলো না। আমান্ডা নতুন বাচ্চার জন্য অনেক কিছু দিয়ে দিয়েছিল। উলের হাতে বোনা বাটার কালারের মাথার টুপি, সোয়েটার, প্যান্ট। আবার ফাবিয়ানের ছোটবেলার বেশ কিছু কাপড় সারা যত্ন করে রেখে দিয়েছিল। সেগুলোও সুন্দর একটা প্যাকেটের মধ্যে আমান্ডা দিয়ে দিয়েছিল। প্যাকেটটা খুলে সারা গভীর আনন্দে এবং ফাবিয়ানের স্মৃতি রোমান্থনে এক রাশ কান্নায় ভেঙ্গে পড়লো। স্টিভেন তাকে সেই কান্নার মধ্যে একাকী ছেড়ে অন্য ঘরে চলে গ্যালো, সাথে জেনিলিয়াকে নিয়ে গ্যালো। কিছু কিছু কান্না সবার সামনে কাঁদা যায় না। তাতে মন হালকা হয় না। এই সব অঝোর কান্নায় বুকের ভেতরটা বহুলাংশে হালকা হয়। সেই জন্যই সারা, স্টিভেনকে শুধু ভালোই বাসে না, শ্রদ্ধাও করে অপরিসীম। স্টিভেন তার প্রতিটি পদচিহ্নে শ্রদ্ধার জন্য কিছু ফেলে যায়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">খুব শিঘ্রি কোল জুড়ে এলো ডেভিড। ডেভিড দেখতে একদম সারার মত হয়েছে। আর তাতেই যে মা-ছেলের আনন্দ দ্বিগুণ হয়ে গ্যালো। খুব বড় পার্টি দিল পুত্রের মুখ দেখাবার জন্য স্টিভেন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এর ঠিক দু’বছর পর এলো নাটালি নাটালি দেখতেও ভায়ের মত। চোখ দুটো বড় বড়, স্নিগ্ধ মিষ্টিতায় ভরপুর নাটালি। বছরে ১/২ বার যায় সারা ফাবিয়ানকে দেখতে, ওর ভাই বোনকে নিয়ে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এরপর ফাবিয়ান গ্রেড টুয়েলভ পাশ করেই হঠাৎ রোমে যাবার সিদ্ধান্ত নিল। মিউজিকের উপর পড়তে। যদিও কাটিনজারোতে অনেকেই গ্রাড করছে। তারপর আমান্ডার কান্না ভরা অশ্র“রই জয় হলো। সিদ্ধান্ত হলো কাটিনজারোতেই মিউজিকের উপর গ্রাড করবে এবং রোমে মাস্টার্স করতে যাবে। ওর ভার্সিটির যাবতীয় খরচা স্টিভেন সারার হাত দিয়ে পাঠিয়েছে। এমনকি ছেলে ভার্সিটিতে যাবে বলে প্রায় ১৫টির মত সব ব্রান্ডেড প্যান্ট, সার্ট পোস্টালে পাঠিয়ে দিল। বাবার সব দায়িত্বই স্টিভেন নিপুণভাবে করেছে। শুধু কাছে এসে থাকতে পারেনি। তবু বছরে দুই বার অন্তত সারা গেছে ছেলেদের কাছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">যদিও সেই সময়টাতেও ফাবি বেশ দূরত্ব বজায় রেখেছে। কিন্তু ডেভিড আর নাটালিকে ফাবি বরাবর খুব ভালোবাসতো। ওরাও ভায়ের জন্য পাগল থাকতো। ওদের সাথে ঠিকই কণ্টাক্ট করতো। শুধু সারাতে এসেই ফাবির যত যন্ত্রণা, কষ্ট, রাগ আর এক বুক অভিমান। (চলবে)</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="300" height="279" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2021/05/রীনা-গুলশান-1.jpg" alt="" class="wp-image-4859" style="aspect-ratio:1.0752730327639317;width:134px;height:auto"/><figcaption class="wp-element-caption">রীনা গুলশান</figcaption></figure>
</div>


<p class="wp-block-paragraph"><em>রীনা</em><em> </em><em>গুলশান</em><em>, </em><em>টরন্টো</em><em><br>gulshanararina@gmail.com<br></em><em>(</em><em>লেখক</em><em> </em><em>রীনা</em><em> </em><em>গুলশান</em><em> </em><em>বাংলা</em><em> </em><em>সাহিত্যে</em><em> </em><em>মাস্টার্স।</em><em> </em><em>ইতিপূর্বে</em><em> </em><em>বাংলাদেশের</em><em> </em><em>বিভিন্ন</em><em> </em><em>দৈনিক</em><em>, </em><em>সাপ্তাহিক</em><em> </em><em>এবং</em><em> </em><em>মাসিকে</em><em> </em><em>তার</em><em> </em><em>কবিতা</em><em>, </em><em>ছোটগল্প</em><em>, </em><em>প্রবন্ধ</em><em>, </em><em>রম্য</em><em> </em><em>রচনা</em><em> </em><em>প্রকাশিত</em><em> </em><em>হয়েছে।</em><em> </em><em>প্রকাশিত</em><em> </em><em>হয়েছে</em><em> </em><em>কানাডার</em><em> </em><em>বিভিন্ন</em><em> </em><em>বাংলা</em><em> </em><em>পত্রিকাতেও।</em><em> </em><em>তিনি</em><em> ‘</em><em>প্রবাসী</em><em> </em><em>কণ্ঠ</em><em>’ </em><em>ম্যাগাজিন</em><em> </em><em>এর</em><em> </em><em>একজন</em><em> </em><em>নিয়মিত</em><em> </em><em>কলামিস্ট।</em><em>)</em></p>



<p class="wp-block-paragraph"></p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>নিভৃতে</title>
		<link>https://probashikantho.com/2026/05/02/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%ad%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a7%87-17/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Sat, 02 May 2026 23:58:48 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Literature]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=12548</guid>

					<description><![CDATA[রীনা&#160;গুলশান (পূর্ব প্রকাশিতের পর) ১৭ অনেকক্ষণ আগে নানী জোর করে বড় এক মগ গরম দুধ খাইয়ে গেছে। দুধের মধ্যে আবার]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph"><strong>রীনা</strong><strong>&nbsp;</strong><strong>গুলশান</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">(পূর্ব প্রকাশিতের পর)</p>



<p class="wp-block-paragraph">১৭</p>



<p class="wp-block-paragraph">অনেকক্ষণ আগে নানী জোর করে বড় এক মগ গরম দুধ খাইয়ে গেছে। দুধের মধ্যে আবার ১ চা চামচ মধু দিয়েছে। নানী বলে এতে শরীরে প্রচুর এনার্জি আসে। ক্লান্তি দুল হয়। ঘুমও ভালো হয়। বিশেষ করে কানাডাতে যাবার পরতো কথাই নাই। প্রতি রাতে শোবার আগে ফোন দেবে, ও নিজে বা নন্না। কিন্তু নানী এক বারের জন্যও ভুলবে না বলতে, দুধটা খেয়ে নে, মধু দিতে ভুলিস না যেন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এটা নিয়ে সিসিলিয়া প্রথম প্রথম খুউব হাসতো। পরের দিকে অবশ্য কেয়ার করতো না। তার চরিত্রের এটাই প্রধান দিক ছিলো, কিছু কেয়ার না করা। নিজেকে নিয়ে সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকা। আর তার চারপাশে এক ধরনের ‘ ফ্যান্টাসি’ নিয়ে সে বসবাস করতো। জীবনের কোন কিছুই সিরিয়াসলি না নেবার পণ করে জীবনকে অতিবাহিত করছে। আর নাওমী ঠিক তার বিপরীত। &nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">নাওমীর কাছে গেলেই মনে হয় মহাসমুদ্রের পাশে বসে আছে। যেমন গভীর তেমনিই তার বিস্তার। নাওমীর চরিত্রের গভীরতায় ফাবিয়ান বারবার বিভ্রান্ত হয়েছে। আসলে এগুলো ফাবিয়ানের জীবনেরই নষ্ট অতীত। সেই অতীতের কাছে বার বার ও হেরে গেছে। কোন কিছুই গভীরভাবে ভাবতে শিখেনি। বাবা ফ্রাঙ্কের উপর অজানিত ঘেন্নায় এতটাই বিভ্রান্ত ছিল তার বাল্যকাল যে, জীবনের ভালো দিকগুলো তাকে উদ্ভাসিত করলেও বার বার পতিত হয়েছে নিম্নের দিকে। মাঝে মাঝে নিজেকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে ফাবি, একি তবে তার নষ্ট জ্বিনের প্রতিক্রিয়া। ফ্রাঙ্ক যেভাবে তার মা সারাকে প্রতারিত করেছে, সেও কি তার থেকে মুক্তি পেয়েছে!</p>



<p class="wp-block-paragraph">না হলে বাবা যদিও তার মাকে প্রতারিত করেছে কিন্তু তার মা কি তাকে কম ভালোবাসা দিয়েছে? আর নানা আলবার্ট বারটুচি? সে তো শুধু ভালোবাসাই নয়, তার জীবনের সমস্ত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তিও ফাবিয়ানের নামেই দিয়ে গেছে। এমনকি তার নিজের মেয়ে সারাকে তেমন কিছুই দিয়ে যায়নি। ব্যাংকের কিছু টাকা তার মায়ের নামে দিয়ে গেছে। আর ২৫ বছর পর্যন্ত তার সম্পত্তি দেখাশুনা করবে তার নন্না আমান্ডা বারটুচি। আর ২৫ বছর বয়সে ফাবিয়ান তার সম্পত্তি নিজেই দেখাশুনা করবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">যদিও ফাবি কখনো সম্পত্তির দিকে ফিরেও তাকায়নি। সব &nbsp;&nbsp;‘টনি চাচাই’ দেখাশুনা করে। অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং আন্তরিক এই টনি টাচা। প্রতিটি পাই পয়সা সে তার নানীকে বুঝিয়ে দেয়। নানী অবশ্য এই সব অর্থনৈতিক বিষয়ে ফাবির সাথে আলোচনা করতে গেলে ফাবি উড়িয়ে দ্যায়। তার যখন টাকার দরকার, তখন শুধু নন্নাকে বলে, কত টাকার দরকার?</p>



<p class="wp-block-paragraph">ফাবিয়ানের আজও ভাবলে খারাপ লাগে যখন যে কাটিনজিরোতে মিউজিকের উপর পড়তে গেলো, তখন সে প্রয়োজনেরও অতিরিক্ত টাকা উড়িয়েছে। নানী কোথা থেকে টাকা যোগাড় করতো, কোন দিন সে ভাবেনি। পড়াশুনার টাকার কথা বলে আসলে প্রচুর ঘুরাঘুরিও করেছে। বন্ধুদের পাল্লায় পড়লে যা হয়। মাও তখন ওকে প্রচুর টাকা দিত। আর ওর বন্ধুরা সবাই মোটামুটি বেশ স্বচ্ছল পরিবারের ছিল। রায়ান তো ছাত্রাবস্থায় ইটালির বিখ্যাত স্পোর্টস কারই কিনে ফেললো। যদিও ওটা সেকেন্ডহ্যান্ড ছিল। অবশ্য নাম মাত্র সেকেন্ডহ্যান্ড। রায়ান গাড়িটা কিনে ওদের সুবিধাই হয়েছিল। প্রচুর ঘোরাঘুরি করেছে ঐ গাড়িতে। রোমেও ঘুরে এসেছিল। তারপর অন্যান্য বিখ্যাত শহর সবই তারা ঘুরে বেড়িয়েছে রায়ানের গাড়িতে করে। ওরা ৪ জন। জেসন, রায়ান, রবার্ট আর ফাবিয়ান। বাকি ৩ জন অবশ্য ভাগে ভাগে তেলের খরচা দিত। রবার্টটা অবশ্য খুবই কৃপণ স্বভাবের ছিল। রবার্ট এক একটি ইউরো এইভাবে খরচা করতো যেন, ১ মিলিয়ন ইউরো খরচা করছে।</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="288" height="457" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2024/09/নিভৃতে.jpg" alt="" class="wp-image-9956" style="aspect-ratio:0.6301842924060588;width:333px;height:auto" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2024/09/নিভৃতে.jpg 288w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2024/09/নিভৃতে-189x300.jpg 189w" sizes="(max-width: 288px) 100vw, 288px" /></figure>
</div>


<p class="wp-block-paragraph">হঠাৎ অনেক পুরানো একটা কথা মনে করে ফাবিয়ান নিজে নিজেই হো&#8230; হো&#8230; করে হেসে উঠলো। ওরা তখন একই এপার্টমেন্টে থাকতো। যেহেতু, সবাই সবার সিক্রেট মোটামুটি জানতো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">রবার্ট তার নিজস্ব ইউরো রাখবার জন্য ছোট্ট একটা স্টিলের দেরাজ কিনেছিল। ওটার মধ্যে সব পয়সা-কড়ি রাখতো। তো একদিন ওরা তিনজন পরিকল্পনা করে দেরাজ (কাটা তার দিয়ে কিভাবে জানি জেসন খুলেছিল) খুলে সব টাকা সরিয়ে আবার বন্ধ করে রেখে ওরা মন দিয়ে পড়াশুনা শুরু করলো। রবার্ট ঐ দিন বেশ রাতে এলো। এসেই যথারীতি ওর ছোট্ট দেরাজ খুললো চাবি দিয়ে। তারপরই বিকট চিৎকার ওদের সবার নাম ধরে। ওরা সবাই নির্বিকারভাবে এলো এবং রায়ান হেড়ে গলায় উল্টো চিৎকার করে বললো-</p>



<p class="wp-block-paragraph">: কিরে, রাত দুপুরে এসে বিকট স্বরে চিৎকার জুড়েছিস ক্যানো?</p>



<p class="wp-block-paragraph">: না, মানে- এই দ্যাখ আমার দেরাজে কোন পয়সাই নাই। এখন স্বর একটু নেমে গেল। কারণ এপার্টমেন্ট আবার রায়ানের নামে নেওয়া।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: মানে কি? পয়সা নাই? টাকা তো আছে?</p>



<p class="wp-block-paragraph">: না, না, দ্যাখ তোরা সবাই একটা পয়সাও নাই। রবার্ট বেচারা প্রায় কান্না কান্না মুখ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: তো আমাদের এসব বলার মানে কি? আমরা চুরি করেছি?</p>



<p class="wp-block-paragraph">: না, মানে- তোদের চোর বলবো কেন? কিন্তু সকালে যখন গিয়েছি, তখনও আমার ২৬০ ইউরো ছিল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: OMG! &nbsp;তার মানে তুই বাসা থেকে বেরোবার আগে রোজ পয়সাকড়ি গুনে যাস?</p>



<p class="wp-block-paragraph">: হু, মানে- এটা আমার অভ্যাস।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ফাবিয়ান আর অভিনয় করতে পারছিল না। ও হঠাৎ পেট চেপে ধরে হাসা শুরু করলো। এরপর তো রবার্ট-এর কিল ও ফাবিয়ানের পিঠে, আবার জেসন আর রায়ান-এর কিলও ওর পিঠে। কেন ও হেসে ফেললো। ক্যানো ফাবি সব কেলো করে দিলো? আরো একটু জমিয়ে রবার্টকে কান্নাকাটি করাতো? তা নয় ফাবিয়ান সব নষ্ট করে দিল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আজ আবার অনেক দিন পর সে সব মনে করে ফাবি নিজে নিজেই হা&#8230; হা&#8230; হো&#8230; হো&#8230; করে হেসে উঠলো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ঘরের বাইরে আমান্ডা ফায়িানের খাবার গরম করে টেবিলে লাগাচ্ছিল। খুব বিষন্নভাবে ঘরে এলো, আবার কি হলো? নিশ্চয়ই কারো সাথে ফোনে কথা বলে হাসছে? আমান্ডার চিন্তিত উপরে ওঠা ওঠা ভ্রু অনেকক্ষণ পর স্বস্তির বাতাসে নিচে নেমে এলো। ও জোরে হাঁক দিলো-</p>



<p class="wp-block-paragraph">: ফাবি, এই সোনা, এবারে একটু খাবি আয়। ফাবি চলে এলো চট করে। এসেই নানীকে জড়িয়ে ১টা চুমো দিলো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: তোমাকে নিয়ে আর পারা যায় না। বললাম না, রোডিকা আন্টি অনেক কিছু খাইয়ে দিয়েছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: হু জানি, সেতো সেই লাঞ্চে- এখন বেশ হজম হয়ে গেছে। এই দ্যাখ গরম গরম চালের গুড়ো দিয়ে, ঘরে তোলা ক্রিম দিয়ে প্যান কেক করেছি। মধু দিয়ে ২/৪ টে খেয়ে দ্যাখ, আর এই এক মগ দুধ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: ওহ্! নন্না, তুমি আমার ভুড়ি নামিয়ে দেবে। তখন আমাকে দেখে আর কেউ ফিদা হবে না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: আমান্ডা মুচকি হাসলো, ফাবিয়ান শুধু ওর নাতিই নয়, ওর একমাত্র বন্ধুও।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: থাক বাবা, যথেষ্ট ফিদা করেছো। এবারে সিরিয়াস হও জীবন নিয়ে। জীবনটাকে নিয়ে আর ছেলেখেলা করা যাবে না। এবারে একদম বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: ওকে বস্! এবারে বিয়ে করে একে বারে তোমার একটা সেবাদাসী এনে দিবো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: উহু! আমার বন্ধু। আমার শেষ বয়সের কথা বলার একটা সঙ্গী এবং আমি তোমার বাচ্চাও দেখতে চাই ফাবি। এটাই আমার জীবনের শেষ চাওয়া তোমার কাছে। আশা করছি তুমি আমাকে বিমুখ করবে না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: ওহ্! নন্না, তুমি এত সিরিয়াস হয়ে যাচ্ছো কেন?</p>



<p class="wp-block-paragraph">: হু হচ্ছি, কারণ দেখলাম তুমি আদপেই হীরা চিনতে পারছো না। এবং বুঝতে পারছো না, জীবনটাকে নিয়ে কোন পথে পরিচালিত করবে? তো, আমি এখন আবার তোমাকে সেই নির্নয়ের দিকে নিয়ে যাবো, যাতে তুমি বার বার ভুল না করো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: হু! নন্না, আমি মূলতই ভুল করেছি বার বার! বিশেষ করে আমি আমার জীবনের প্রকৃত ভালোবাসাই চিনতে পারিনি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: সেটা কি আজও চিনেছো?</p>



<p class="wp-block-paragraph">: মনে হয় নন্না চিনেছি, বড় দেরিতে। তবু মনে হয়&#8230;</p>



<p class="wp-block-paragraph">হঠাৎ ওদের কথা বলার মধ্যে ফাবিয়ানের সেল ফোন বেজে উঠলো। ফাবিয়ান বেশ বিস্মিত হয়েই ফোন তুললো, এ সময় নাওমীর ফোন?</p>



<p class="wp-block-paragraph">: হ্যালো, কে? আরে তুমি? কি ব্যাপার আজ যে বড় বাসায়? কি বললে? আমার এজেন্ট ফোন করেছিল তোমাকে সকালে? ব্যাটা ম্যাকলিন? ওর কাছে তো আমার নম্বর ছিলই, তাহলে?</p>



<p class="wp-block-paragraph">: হু ছিল, তবে ম্যাকলিন বললো তোমাকে বহুবার ট্রাই করেছিল পায়নি, না পেয়ে অবশেষে আমাকে করেছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: হ্যাঁ বরাবরের মত আমি ম্যাকলিনকেও দ্বিতীয় কণ্ট্রাক্ট নম্বরে, তোমার নম্বর দিয়েছিলাম। কি ব্যাপার নাওমী? ব্যাটা আজ হঠাৎ আমাকে খুঁজছে কেন? এই সাড়ে চার বছরে তো কম ঘুরালো না, আমাকে চরকির মতো&#8230;</p>



<p class="wp-block-paragraph">: হুম, তা ঠিক। তবে জানো তো, দেরিতে পাওয়া ফল বেশি মিষ্টি হয়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: তাই? হু, তুমি মনে হয় ঠিকই বলছো, দেরিতে আসা কোন বোধোদয়ও মনে হয় স্থায়িত্ব বেশি হয়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: তাই? জানি না, আমি আর কিছু জানতেও চাই না। আচ্ছা শোন, তুমি এখুনি জন ম্যাকলিনকে ফোন করো। খুবই ইমার্জেন্সি। আমি এখন রাখবো, নন্নাকে আমার শুভ কামনা দিও- বাই।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: বাই- ফাবিয়ান স্মিত স্বরে বললো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">নন্না বললো, কিরে কোন বাজে খবর? নাওমী বেশি কথা বললো না যে?</p>



<p class="wp-block-paragraph">: না, কোন বাজে খবর নয়। আমাকে আমার এজেন্টের সাথে জলদি কথা বলতে বললো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: ওহ্! নিশ্চয়ই কোন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার, জলদি টেলিফোন কর।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: হ্যাঁ করছি, বলতে বলতে ফাবিয়ান দ্রুত হাতে জন ম্যাকলিনকে ফোনে ট্রাই করতে থাকে। বার বার এনগেজট টোন। না পেয়ে ম্যাসেজ বক্সে অনেকক্ষণ ধরে ম্যাসেজ দ্যায় ফাবি। তবু ফাবিয়ান বার বার পায়চারী করতে থাকে। ৪ বছর, হ্যাঁ ৪ বছর ৬/৭ মাস ধরে এই জন ম্যাকলিনকে টাকা দিয়ে আসছে শুধুই আশায় আশায়। একদিন জন কোন একটা কানেকশন ঘটিয়ে দেবে। টিভি বা সিনেমায়। কিছুই করতে পারেনি। একবার শুধু একটা মিউজিক ভিডিওতে মিউজিকসহ পরিচালনা করেছিল। ব্যাস এই সুদীর্ঘ ৫ বছরে ঐ একটিই। আর ঐ বোরিং জব নাইট ক্লাবে অন্যের গাওয়া গান নিজের ভোকালে। খুবই বিরক্তিকর! ঐ সব মাতালদের বাহবা পেতে তার একটুও গরজ নাই। কি জানি প্রকৃত সমঝদাররা কবে তার গান শুনতে পারে? তবে মিউজিক ভিডিওটা বাজারে ভালোই চলেছে। তবুও তেমন ক্লিক করছে না। ভাগ্য। এইসব চিন্তার মধ্যেই হঠাৎ বিকট স্বরে ফোনটা বেজে উঠলো-</p>



<p class="wp-block-paragraph">: হ্যালো জন, কেমন আছো?</p>



<p class="wp-block-paragraph">: হাই, হাই ফাবিয়ান- বিকট চিৎকার করে উঠল জন ম্যাকলিন। আরে হলো কি ব্যাটার? এত জোরে চিল্লায় ক্যানো?</p>



<p class="wp-block-paragraph">: আবে ইয়ার, তুমি কোথায়? ফোন দিয়ে দিয়ে হয়রান। তোমার বাসায়ও তো গিয়েছিলাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: ক্যানো আমি তো তোমাকে বলেছিলাম যে, আমি ইটালিতে যাচ্ছি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: হু মনে ছিলো না। যাই হোক, এখন একটা বিরাট খবর আছে। তোমার হৃদয়টাকে হাত দিয়ে ধরে রাখো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: আরে জলদি বল, আমার ধৈর্য্যরে বাঁধ ভেঙ্গে যাচ্ছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: আরে বলছি, বলছি- তোমার আসবার আগে, নাইট ক্লাবে যখন গান গেয়েছিলে তুমি নাকি খুব ইমোশনালী গেয়েছিলে, তোমার চোখ দিয়ে পানি পড়ছিল। আর তুমি নিজের হৃদয় উজাড় করে গান গাইছিলে, ঐ রাতে তোমার সামনের কোন একটা টেবিলে বসা ছিল কানাডার একজন বিখ্যাত পরিচালক এবং প্রযোজক। খুবই খ্যাতিমান সে এ্যানথোনি এ্যান্ডারসন!</p>



<p class="wp-block-paragraph">: হ্যাঁ, তাকে কে না জানে। তবে সে যে ঐ দিন ক্লাবে ছিল, আমি দেখিনি। কোন কারণে আমার মনটা খুবই খারাপ ছিল ঐ রাতে জন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: কারণ সে কোণার দিকের একটা টেবিলে বসে তোমার গান উপভোগ করছিল আলো-আঁধারিতে এবং অবশেষে&#8230;</p>



<p class="wp-block-paragraph">: অবশেষে? ফাবিয়ান চিৎকার করে উঠলো&#8230;</p>



<p class="wp-block-paragraph">: অবশেষে সে তোমার সাথে দেখা করতে চাইছে। শুধু তাই নয়, সে তার পরবর্তী মুভির সঙ্গীত পরিচালনার জন্য তোমার কথাই ভাবছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: জন, তুমি কি জান, তুমি কি বলছো? ফাবিয়ান আর কথা বলতে পারছে না। তার কণ্ঠ অসম্ভব উত্তেজনায়, আবেগে বদ্ধ হয়ে গেল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: হ্যাঁ, হ্যাঁ ফাবিয়ান, আমি জানি আমি কি বলছি? এটা তোমার জীবনের একোদ্বিতম স্বপ্নের বুনট। তোমার জীবনের সব কিছু। আর আমিও তোমার এই কঠিন স্বপ্নের সাথে গত প্রায় ৫ বছর ধরে জড়িয়ে আছি! কিছুই করতে পারছিলাম না। এবং এখনো যেটা হচ্ছে বা হতে যাচ্ছে, সেটাও তোমার নিজের হাত ধরেই আসছে। আমার যেহেতু ওদের সাথে লিংক ছিল, তাই আমাকে এ্যানথোনি এ্যান্ডারসন স্যার শুধু তোমার সাথে যোগাযোগ করে দিতে বলেছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: না, না জন ম্যাকলিন- এভাবে বলো না। তুমি যথেষ্ট চেষ্টা করেছো। আমার ভাগ্য ক্লিক করছিল না। তবে এখন আমি যে ইটালিতে, তুমি তাকে কি বলেছো?</p>



<p class="wp-block-paragraph">: হ্যাঁ, হ্যাঁ সবই বলেছি। তুমি ৩ সপ্তাহের মধ্যেই যে আসছো, তাও বলেছি। তবে তার থেকে আর ১ দিনও দেরি করবে না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: পাগল নাকি, আমি পারলে এই রাতেই চলে আসি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: না, না, তার দরকার নাই-ম্যাকলিন মধুর করে হাসলো। আমি এদিকটা সামলাচ্ছি। ওর সাথে দেখা হবার ডেট, সময় সব ফিক্সডট করছি। এসব নিয়ে ভেবো না। তুমি তোমার হলিডে উপভোগ কর, শুভ রাত্রি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: শুভ রাত্রি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ফাবিয়ান অনেকক্ষণ, কতক্ষণ পাথরের মত দাঁড়িয়ে রইলো। যতক্ষণ না নন্না এসে ওকে জড়িয়ে ধরলো। এবারে ফাবিয়ানের হতবিহ্বল ভাব চলে গিয়ে একটা চিৎকার করেই নানীকে জড়িয়ে উঁচু করে তুলে ঘুরপাক খাওয়া শুরু করলো। আর চিৎকার করে বলছিল-</p>



<p class="wp-block-paragraph">: নন্না আমি পেরেছি, আমি পেরেছি। At last নন্না, I got it, Yes I got it ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: ওরে ছাড়, ছাড়- আমি পড়ে যাবো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ফাবিয়ান নন্নাকে বসিয়ে দিল তার রকিং চেয়ারে এবং নন্নার কোলে মুখ গুঁজে সেই ছোটবেলার মত তার কোমর জড়িয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদলো-</p>



<p class="wp-block-paragraph">: ছি! বাবা এই মহাআনন্দে কি কাঁদতে আছে? সৃষ্টিকর্তা তোর ডাক শুনেছে। মাথা ঠান্ডা কর, আর চট করে ওকে একটা ফোন দে যে, তোর জন্য এত করেছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: কে? মা? ফাবিয়ান জিজ্ঞাসা করলো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমান্ডা বারটুচি মনে মনে খুবই অবাক হলো, ফাবিয়ানের মুখে ‘মা’ ডাক শুনে। মা’র নাম বললো? সে নিজেকে সামলিয়ে বললো-</p>



<p class="wp-block-paragraph">: মাকে ফোন দিবি কিনা সেটা তোর ব্যাপার, তবে নাওমীকে একটা ফোন দে। হয়তো মনে মনে অপেক্ষা করে আছে। জন ম্যাকলিন কি বললো তোকে সেটা জানার জন্য।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: হু! ঠিকই বলেছো নন্না, আমার এখুনি ওকে একটা ফোন দেওয়া উচিত।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: ওকে তুই নাওমীকে ফোন দে, আমি বরং রোডিকাদের একটু জানিয়ে দেই।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: আচ্ছা, ওহ্ নন্না শোন- মাকে তুমি বলো না, আমিই ফোন দিবো, বুঝলে?</p>



<p class="wp-block-paragraph">: ওকে! আমান্ডা অসম্ভব বিস্ময়কে যেন গিলে ফেললো মুখ বন্ধ করে। আজ এসব কি হচ্ছে? একটার পর একটা বিস্ময়। মনে হচ্ছে আনন্দে বা বিস্ময়ে আমান্ডার দম বন্ধ হয়ে যাবে! প্রথমে ডোরিনের বিয়ের কথা শুনলো। এটাতেও আমান্ডা খুবই খুশি হয়েছে। মনে হয়েছে, অনেক দিনের একটা সমাধান না হওয়া সমীকরণের অপূর্ব সমাধান হলো। ফাবিয়ান ডোরিনকে নিয়ে খুবই দোটানায় ছিল, আর গত ৫ বছরে এখানে কি কি হচ্ছিল ডোরিনের জীবনে সেটা আমান্ডাই দেখছিল। তাই সে কোনভাবেই চাচ্ছিল না, ডোরিনকে নিয়ে ফাবিয়ান আর ঐ দৃষ্টিকোণ দিয়ে ভাবুক। তারপর এলো এই দ্বিতীয় এবং তার এদ্দিনের প্রোথিত খুশি। ফাবিয়ান যে তার মিউজিকের ভবিষ্যত নিয়ে খুবই ভাবিত এবং হতাশায় নিমজ্জিত ছিলো, সেটা আমান্ডার থেকে কে আর বেশি জানে? প্রতিদিনের তাদের কেেথাপকথনের ভূভাগই থাকতো এই মিউজিকের উপর। নন্না, কিছুই হচ্ছে না। কোনই দিশা পাচ্ছি না। আমার জীবনে কি কেবলই আমাবশ্যার অন্ধকার? জীবনের কোন খানেই কি একটু আলোর দিশা দেখবো না?- এ রকমই হতো ফাবিয়ানের প্রলাপ। আমান্ডা ফাবিকে বোঝাতে বোঝাতে নিজেও কেমন জানি ভেঙ্গে পড়তো। মনে হতো সত্যিই তো, তার জানের টুকরা, নয়নের মণি ফাবিয়ান জীবনে কখনোই কি একটু শান্তি খুঁজে পাবে না? সৃষ্টিকর্তার কাছে শুধু কাঁদতো আর দু’হাত তুলে প্রার্থনা করতো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আর ফাবিয়ানের জীবনের প্রথম এবং শেষ জট ছিলো তার মা- সারা। যেদিন থেকে ওদের জীবন থেকে ফ্রাঙ্ক চলে গিয়েছিলো। সারা ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছিল। তারপর, সারা এবং ফাবিয়ান দুজন, দুজনকেই প্রচণ্ডভাবে আঁকড়ে ধরেছিল। এরপর খুউব ধীরে ধীরে সারার জীবনে এলো স্টিভেন গ্যালাটি। স্টিভেনের ভালোবাসার জোয়ারে এক সময় সারাও ভেসে গেলো। সারাকে অবশ্য ভেসে যেতে সাহায্য করেছিলো আমান্ডা এবং রোডিকা। তাছাড়া কি-ই বা করার ছিল। অতটুকু বয়সে একাকী জীবন এবং ঐ টুকুন একটা ছেলের দায়িত্ব, এটা কম কথা নয়। সারা হাসতে পর্যন্ত ভুলে গিয়েছিলো। কিন্তু সারার জীবনের সেই নতুন স্বস্তি, ভালোবাসা, ভালোবাসার ঘর কন্যায়- ফাবিয়ান কিছুতেই প্রবেশ করতে পারলো না। জন্মের থেকেই ফাবিয়ান ভীষণ একগুয়ে এবং কিছু কিছু ব্যাপারে মারাত্মক পজেসিভ। সারা চেষ্টার কম করেনি। আমান্ডাও চেষ্টা করতে করতে ব্যর্থ হয়েছে। যদিও সারা তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে আজও। সে তো মা! মায়েরা তো সন্তানের কাছ থেকে কখনোই মুখ ফেরাতে পারে না। কিন্তু ফাবিয়ান যেন মায়ের সাথে সম্পর্ক না রাখারই সংকল্প করেছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আজ হঠাৎ এতদিন পর ফাবিয়ান-এর মুখ থেকে ‘মা’ শব্দটি শুনেই আমান্ডা যেন বিস্ময়াবিষ্ট হয়ে গেল। ভাবছে যেন ভুল শুনেছে! তারপর ফাবিয়ান রীতিমত ব্যাখ্যা করলো, সে নিজেই তার ‘মা’কে সব বলবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমান্ডা আনন্দে উদ্ভাসিত হয়ে, এরপরই যেন কান্না পেল। আজ কতটা বছর ধরে এই দিনটির জন্য সে অপেক্ষা করছিল না? আমান্ডার চোখ দিয়ে সেই অপেক্ষার কান্নাগুলো অবিরাম টুপটাপ ঝরে পড়লো। আজ আমান্ডা সেই কান্না হাত দিয়ে মোছারও চেষ্টা করলো না। অশ্রুগুলোকে ঝরতে দিল।</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="300" height="279" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2021/05/রীনা-গুলশান-1.jpg" alt="" class="wp-image-4859" style="aspect-ratio:1.0752730327639317;width:144px;height:auto"/><figcaption class="wp-element-caption">রীনা গুলশান</figcaption></figure>
</div>


<p class="wp-block-paragraph"><em>রীনাগুলশান, টরন্টো<br>gulshanararina@gmail.com<br></em>(লেখক রীনা গুলশান বাংলা সাহিত্যে মাস্টার্স।ইতিপূর্বে বাংলাদেশের বিভিন্ন দৈনিক, সাপ্তাহিক এবং মাসিকে তার কবিতা, ছোটগল্প, প্রবন্ধ, রম্যরচনা প্রকাশিত হয়েছে।প্রকাশিত হয়েছে কানাডার বিভিন্ন বাংলা পত্রিকাতেও। তিনি‘প্রবাসীকণ্ঠ’ ম্যাগাজিন এর একজন নিয়মিত কলামিস্ট।)</p>



<p class="wp-block-paragraph"></p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>১লা মে কানাডার টরন্টোতে কানাডা জার্নালের প্রকাশনা অনুষ্ঠান</title>
		<link>https://probashikantho.com/2026/04/15/%e0%a7%a7%e0%a6%b2%e0%a6%be-%e0%a6%ae%e0%a7%87-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9f%e0%a6%b0%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a7%8b%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%95/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 15 Apr 2026 16:34:52 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Community]]></category>
		<category><![CDATA[Literature]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=12527</guid>

					<description><![CDATA[আগামী ১ মে শুক্রবার কানাডার টরন্টোতে সেন্ট পল ইউনাইটেড চার্চে (200 McIntosh St, Scarborough, ON M1N 3Z3) অনুষ্ঠিত হতে চলেছে]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph">আগামী ১ মে শুক্রবার কানাডার টরন্টোতে সেন্ট পল ইউনাইটেড চার্চে (200 McIntosh St, Scarborough, ON M1N 3Z3) অনুষ্ঠিত হতে চলেছে সাহিত্য প্লাটফর্ম কানাডা জার্নাল আয়োজিত প্রকাশনা উৎসব। এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন টরন্টোর অগ্রগণ্য বাঙালি সংস্কৃতিজন ড. ইখতিয়ার ওমর। বিশেষ অতিথির আসন অলঙ্কৃত করবেন খ্যাতিমান উদ্যোক্তা গোরা আদিত্য। টরন্টোর চার পোয়েট লরিয়েট জর্জ এলিয়ট ক্লার্ক, অ্যান মাইকেলস, এ এফ মরিৎজ, এবং লিলিয়ান অ্যালেন ছাড়াও বিপুল সংখ্যক বাঙালি অবাঙালি লেখক এই আয়োজনে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="400" height="200" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/04/Subrata_Dada_10th-April_2026-21.jpg" alt="" class="wp-image-12528" style="aspect-ratio:2.0000781311039924;width:543px;height:auto" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/04/Subrata_Dada_10th-April_2026-21.jpg 400w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/04/Subrata_Dada_10th-April_2026-21-300x150.jpg 300w" sizes="(max-width: 400px) 100vw, 400px" /><figcaption class="wp-element-caption">সদ্য প্রকাশিত বই ‘কানাডায় একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা’ বই নিয়ে সাপ্তাহিক বাংলামেইল এবং এনআরবি টেলিভিশনের পক্ষে শহিদুল ইসলাম মিন্টু, ব্যারিস্টার সূর্য চক্রবর্তী, সম্পাদক সুব্রত কুমার দাস, ইমিগ্রেশন কন্সালট্যান্ট মনীষ পাল এবং মর্টগেজ এজেন্ট বজলুর মারুফ। -ছবি দীপক সূত্রধর  </figcaption></figure>
</div>


<p class="wp-block-paragraph">প্রকাশনা অনুষ্ঠানে সাম্প্রতিক যে তিনটি প্রকাশনাকে উন্মোচন করা হবে সেগুলো হলো বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক সুব্রত কুমার দাস সম্পাদিত ‘কানাডায় একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা’, কলকাতা থেকে প্রকাশিত কবি শ্যামশ্রী রায় কর্মকার সম্পাদিত সাহিত্য সাময়িকী ‘সাহিত্য এখন’ এবং লন্ডন থেকে প্রকাশিত কবি উদয় শংকর দুর্জয় সম্পাদিত ‘পোয়েট্রি আউট লাউড’ সাহিত্য সাময়িকীর কানাডার সাহিত্য বিষয়ক সংখ্যা।</p>



<p class="wp-block-paragraph">প্রকাশনা অনুষ্ঠানে যে অতিথিদের উজ্জ্বল উপস্থিতি থাকবে তাঁরা হলেন &nbsp;বিচেস-ইস্ট ইয়র্ক সংসদ সদস্য নাথানিয়েল এরিস্কিন স্মিথ, স্কারবোরো সাউথ ওয়েস্ট সিটি কাউন্সিলর পার্থি ক্যান্ডেভাল, এবং বিচেস-ইস্ট ইয়র্ক সিটি কাউন্সিলর ব্রাড ব্রাডফোর্ড।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সামগ্রিক এই আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছেন ব্যারিস্টার সূর্য চক্রবর্তী, ইমিগ্রেশন কন্সালট্যান্ট মনীষ পাল এবং মর্টগেজ এজেন্ট বজলুর মারুফ। অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার সাপ্তাহিক বাংলামেইল এবং এনআরবি টেলিভিশন।&nbsp; &nbsp;</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="400" height="642" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/04/Canadai.jpg" alt="" class="wp-image-12529" style="aspect-ratio:0.6230437851388517;width:325px;height:auto" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/04/Canadai.jpg 400w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/04/Canadai-187x300.jpg 187w" sizes="(max-width: 400px) 100vw, 400px" /></figure>
</div>


<p class="wp-block-paragraph">ঢাকা থেকে গত বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে সুব্রত কুমার দাস সম্পাদিত ‘কানাডায় একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা’। রয়েল পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত এই গ্রন্থে কানাডার যে বাঙালিদের লেখা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে অশোক চক্রবর্তী, ড. দিলীপ চক্রবর্তী, তাজুল মোহাম্মাদ, সৈয়দ ইকবাল, শাহানা আকতার মহুয়া, আকবর হোসেন, বায়াজিদ গালিব, মেজর (অব.) সুধীর সাহা, সুজিত কুসুম পাল, স্বপন বিশ্বাস, রূমানা আহমদ চৌধুরী, ফুয়াদ চৌধুরী, হাসান মাহমুদ, সুলতানা শিরীন সাজি, সেলিনা শেলী, তসলিমা হাসান, ডক্টর ঝর্ণা চ্যাটার্জী, শহিদুল ইসলাম মিন্টু, নিরঞ্জন রায়, সুব্রত কুমার দাস, সুপর্ণা মজুমদার, ড. বাদল ঘোষ, রোকসানা পারভীন শিমুল, জয়ন্তী রায়, লতিফুল কবির, রোকসানা লেইস, রঞ্জনা ব্যানার্জী, তাসমিনা খান, কাজী হেলাল, আবদুল হাসিব, রথীন ঘোষ, আহমেদ হোসেন, ডক্টর শান্তনু বণিক, সুশীল কুমার পোদ্দার, শেখর ই গোমেজ, শুভ্রা শিউলী সাহা, ফাহমিদা নীপা, ঋতু মীর, অমলেন্দু ধর, স্বপন কুমার দেব, রেশমা মজুমদার শম্পা, অসীম ভৌমিক, আশীষ রায়, সৈয়দা রোখসানা বেগম, ঋতুশ্রী ঘোষ, আসমা অন্বেষা,  রতন সাহা, অতনু দাশ গুপ্ত, দেবাঞ্জনা মুখার্জী ভৌমিক,  ফারহানা আইরিন, ডা. সৈয়দ আযম মোহাম্মদ,  শাহজাহান কামাল, জাকারিয়া মুহাম্মদ মঈন উদ্দিন, হোসনে আরা জেমী, ড. জান্নাতুল ফেরদৌস,  প্রতিমা সরকার, পূর্বাশা চৌধুরী<strong>, </strong>মাহবুব ওসমানী<strong>, </strong>মনীষ পাল, মম কাজী, নারগিস দোজা,  মিত্রা চট্টোপাধ্যায়, রওশন আরা বেগম, ড. জান্নাতুল নাইম, রুমা বসু, সামিনা চৌধুরী, শ্রেয়সী বোস দত্ত, তাহমিনা সুলতানা, হাবিবুল্লাহ দুলাল, মানসী সাহা, জেবুন নাহার।  </p>



<p class="wp-block-paragraph">উল্লেখ করা যেতে পারে যে, কানাডার সাহিত্য নিয়ে ‘সাহিত্য এখন; নামের সাময়িকীটির বর্তমান সংখ্যার উন্মোচন হয় গত ২৭ ডিসেম্বর কলকাতার। কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রিগুণা সেন মিলনায়তনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কবি, লেখক, অনুবাদক, গবেষকের উপস্থিতিতে এই বিশেষ সংখ্যার পাঠ-উন্মোচনে মঞ্চে সম্পাদক শ্যামশ্রী রায় কর্মকার, কবি ও ফরাসি কবিতার অনুবাদক সৈয়দ কওসর জামাল, সাহিত্য অকাদেমির ইন্ডিয়ান লিটারেচার পত্রিকার প্রাক্তন সহ-সম্পাদক শান্তনু গঙ্গোপাধ্যায়, নদী বিশেষজ্ঞ সুপ্রতিম কর্মকারের সাথে উপস্থিত ছিলেন কানাডার সাহিত্যিক সুব্রত কুমার দাস। এই সংখ্যাটি প্রকাশে টরন্টোর যে তিন সাহিত্যপ্রেমী বন্ধু কানাডা জার্নালের সাথে এই প্রকাশনাকে সফল করেছেন তারা হলেন কবি কাজী হেলাল, অভিবাসন পরামর্শক লেখক মনিষ পাল এবং সাহিত্যানুরাগী রিয়েলস্টেট ব্যবসায়ী চিন্ময় দাস।</p>



<p class="wp-block-paragraph">পত্রিকার এই &nbsp;সংখ্যাটিতে কানাডার মার্গারেট অ্যাটউড, অ্যালিস মানরো, মাইকেল ওনডাটজে &nbsp;লেখা প্রসঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি প্রকাশিত হয়েছে জর্জ এলিয়ট ক্লার্ক, লিলিয়ান অ্যালেন, অ্যান মাইকেল, এ এফ মরিৎজে প্রমুখ কানাডীয় সাহিত্যের নক্ষত্রপ্রতিম কবিদের কবিতার অনুবাদ। প্রায় এক বছরের অধিক সময় ধরে সুব্রত কুমার দাস ও শ্যামশ্রী রায় কর্মকার এই সংখ্যার পরিকল্পনা করেছেন। তাঁরা নিরলস পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে বৃহত্তর পাঠকের সামনে কানাডীয় সাহিত্যকে তুলে ধরতে সমর্থ হয়েছেন।</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="400" height="734" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/04/POL.jpg" alt="" class="wp-image-12530" style="aspect-ratio:0.5449494411921235;width:336px;height:auto" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/04/POL.jpg 400w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/04/POL-163x300.jpg 163w" sizes="(max-width: 400px) 100vw, 400px" /></figure>
</div>


<p class="wp-block-paragraph">এই সংখ্যায় মার্গারেট অ্যাটউডের সাহিত্য নিয়ে লিখেছেন বিশিষ্ট কবি যশোধরা রায়চৌধুরী, লন্ডন প্রবাসী লেখক উদয় শংকর দুর্জয় এবং কানাডার ব্রাম্পটন প্রবাসী পণ্ডিতজন দিলীপ চক্রবর্তী। কানাডায় আদিবাসী সাহিত্য নিয়ে একটি তথ্যপূর্ণ প্রবন্ধ লিখেছেন শ্রেয়সী বোস দত্ত। অ্যালিস মানরোর ছোটগল্প নিয়ে লিখেছেন অনিন্দ্য পাল। অ্যান মাইকেলসের উপন্যাসে নিউরন মিউজিক সম্বন্ধে লিখেছেন সুজিত কুসুম পাল। লিলিয়ান অ্যালেনের বিপ্লবী লেখা নিয়ে লিখেছেন মম কাজী। তাসমিনা খান লিখেছেন সাহিত্যিক জর্জ এলিয়ট ক্লার্কের লেখা নিয়ে। মাইকেল ওন্দাটজের পোয়েটিক্স দর্শন নিয়ে লিখেছেন অমিত সরকার। জান্নাতুল নাইম কানাডিয়ান কবি রুপি করের কবিতা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ লেখা লিখেছেন। বঙ্গদেশে ক্যানলিটের চর্চা নিয়ে লিখেছেন ড. রাশিদ আসকারী।</p>



<p class="wp-block-paragraph">কানাডীয় কবিদের এক গুচ্ছ কবিতার ভূমিকাসহ অনুবাদ করেছেন সুরেশ রঞ্জন বসাক। এ. এফ. মরিৎজের কবিতার উপর চর্চা করেছেন সামিনা চৌধুরী। বিশ্ব সাহিত্যে অ্যালিস মানরোর অসীম ভূমিকা নিয়ে লিখেছেন হাসান জাহিদ। পত্রিকাটিতে কানাডার গল্পকার ম্যাভিস গ্যালান্টের গল্প অনুবাদ করেছেন শান্তনু গঙ্গোপাধ্যায়, হিমানী ব্যানার্জির গল্প অনুবাদ করেছেন বিতস্তা ঘোষাল ও সত্যব্রত ঘোষ, অভিজিৎ পালচৌধুরী অনুবাদ করেছেন মাদেলেইন থিয়েনের গল্প, পত্রিকার সম্পাদক শ্যামশ্রী রায় কর্মকারের লেখনীতে অনূদিত হয়েছে মাইকেল ক্রামির গল্প। মাইকেল ওনডাটজে গল্প অনুবাদ করেছেন অমিত সরকার।</p>



<p class="wp-block-paragraph">পত্রিকায় কানাডার কবি জর্জ এলিয়ট ক্লার্ক, এ. এফ. মরিৎজ, লিলিয়ান অ্যালেন, অ্যান মাইকেলস, কে গান্ধার চক্রবর্তী, দয়ালি ইসলাম ও অ্যান কার্সনের কবিতার নির্ভরযোগ্য অনুবাদ করেছেন জেনিথ রায়, বেবী সাউ, অর্পিতা কুণ্ডু, শ্যামশ্রী রায় কর্মকার, সুব্রত কুমার দাস, সোমা দত্ত, সায়ন রায়, জয়িতা ভট্টাচার্য এবং গৌরাঙ্গ মোহান্ত।</p>



<p class="wp-block-paragraph">কানাডার সাহিত্য নিয়ে রচিত দুটি বই নিয়ে আলোচনা করেছেন বরুণ কুমার বিশ্বাস এবং অরিত্র দ্বিবেদী। বইদুটি হলো সুব্রত কুমার দাস রচিত ‘কানাডার সাহিত্য’ এবং সুরজিৎ রায় মজুমদার অনূদিত ‘কানাডার কবিতা’।</p>



<p class="wp-block-paragraph">পত্রিকাটির ইংরাজি বিভাগে সুব্রত কুমার দাস ও জেনিথ রয় লিখেছেন যথাক্রমে কানাডার সাহিত্য কী এবং অ্যান মাইকেলসের উপন্যাস হেল্ড নিয়ে। কানাডার কবি গিয়োভানা রিচিও, প্যাট্রিক কোনরস, বিয়াট্রিজ হাউসনার, আনা ইন, পিজে ইউকন, গ্রেগরি বেটস, জিম জনস্টন, এলিস মেজর, দেবাশীস মণ্ডল, দুর্গাপ্রসাদ পাণ্ডা, মোহাম্মদ জাহিদ, নিশি পুলুগুরথা, পৌলমী চ্যাটার্জি, এবং অবন্তিকা কর্মকারের কবিতাও প্রকাশিত হয়েছে। প্রবালকুমার বসু, সৈয়দ কওসর জামাল, ঋজুরেখ চক্রবর্তী, সেবন্তী ঘোষ, পৌলমী সেনগুপ্ত ও গৌরব চক্রবর্তীর কবিতা ইংরাজিতে অনুবাদ করেছেন যথাক্রমে ঔষ্ণীক ঘোষ, বাপ্পাদিত্য রায় বিশ্বাস, জেনিথ রয় এবং তমোঘ্ন মুখোপাধ্যায়। বাপ্পাদিত্য রায় বিশ্বাসকৃত কবি সুবোধ সরকারের কবিতার দ্বিভাষিক অনুবাদগ্রন্থ নিয়ে আলোচনা করেছেন প্রীতি সান্যাল। উল্লেখ করা যেতে পারে যে এই সংখ্যার অতিথি সম্পাদক ছিলেন সুব্রত কুমার দাস।</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-large is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="732" height="1024" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/04/sahityo-ekhon-732x1024.jpeg" alt="" class="wp-image-12531" style="aspect-ratio:0.7148393987945373;width:351px;height:auto" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/04/sahityo-ekhon-732x1024.jpeg 732w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/04/sahityo-ekhon-214x300.jpeg 214w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/04/sahityo-ekhon-768x1074.jpeg 768w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/04/sahityo-ekhon.jpeg 1068w" sizes="(max-width: 732px) 100vw, 732px" /></figure>
</div>


<p class="wp-block-paragraph">যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে সাহিত্য সাময়িকী পোয়েট্রি আউট লাউড তাদের সপ্তম সংখ্যাটিতে প্রকাশ করেছে কানাডার সাহিত্য নিয়ে বিশেষ ক্রোড়পত্র। উল্লেখ করা যেতে পারে যে, পোয়েট্রি আউট লাউডের প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বরত আছেন লন্ডন প্রবাসী লেখক উদয় শংকর দুর্জয়। সম্পাদনা পরিচালক হিসেবে রয়েছেন বিশিষ্ট কবি ও অনুবাদক ড. গৌরাঙ্গ মোহান্ত। পত্রিকার উপদেষ্টা সম্পাদক হলেন কবি ডেভিড লী মরগান ও কবি অশোক কর। সম্পাদনা সহযোগী হিসেবে দায়িত্বরত আছেন লুইস হুয়াইবার্ড।</p>



<p class="wp-block-paragraph">কানাডার সাহিত্য নিয়ে বাঙালি লেখক ও গবেষকদের পরিধিকে সবার সামনে তুলে ধরতে এবং বাঙালি পাঠককে কানাডার সাহিত্য বিষয়ে আগ্রহী করতে পোয়েট্রি আউট লাউড এ বছর উদ্যোগ গ্রহণ করে কানাডার সাহিত্য নিয়ে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশের। এই &nbsp;সংখ্যায় ১৯৭২ সালে প্রকাশিত কানাডার অগ্রগণ্য কবি ও সাহিত্য উদ্যোক্তা মার্গারেট অ্যাটউডের সারভাইভাল নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেছেন পণ্ডিতজন ড. দিলীপ চক্রবর্তী। বাংলাদেশে কানাডীয় সাহিত্যের পাঠ ও চর্চা নিয়ে লিখেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক প্রফেসর ড. রাশিদ আসকারী। কানাডীয় সাহিত্যে বিশ্বসাহিত্যের উপস্থিতি নিয়ে লিখেছেন সুব্রত কুমার দাস। এছাড়া কানাডার আদিবাসী লেখকদের সাহিত্যকর্ম নিয়ে লিখেছেন শ্রেয়সী বোস দত্ত।</p>



<p class="wp-block-paragraph">কানাডার প্রধান যে কবিদের কবিতা দিয়ে এই সংখ্যাটি সাজানো হয়েছে তাঁরা হলেন অ্যান মাইকেলস, জর্জ এলিয়ট ক্লার্ক, এ এফ মরিৎজ এবং লিলিয়ান অ্যালেন। টরন্টোর প্রাক্তন তিন পোয়েট লরিয়েট এবং বর্তমান পোয়েট লরিটের কাব্যজগৎ ও কাব্য চর্চা নিয়ে লিখেছেন কানাডার চার বাঙালি লেখক সুজিত কুসুম পাল, সামিনা চৌধুরী, তাসমিনা খান এবং মম কাজী।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ক্রোড়পত্রের সম্পাদনার দায়িত্বে ছিলেন সুব্রত কুমার দাস।</p>



<p class="wp-block-paragraph">কানাডা জার্নালের পক্ষে সুব্রত কুমার দাস টরন্টো ও পার্শ্ববর্তী শহরগুলোর সকল আগ্রহী বন্ধুকে উপস্থিত থাকতে আহ্বান জানিয়েছেন। -সংবাদ বিজ্ঞপ্তি<strong></strong></p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>নিভৃতে</title>
		<link>https://probashikantho.com/2026/03/04/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%ad%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a7%87-16/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 04 Mar 2026 20:35:28 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Literature]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=12421</guid>

					<description><![CDATA[রীনা&#160;গুলশান (পূর্ব প্রকাশিতের পর) ১৫ আজকের আকাশটা খুব পরিস্কার। বেশ রোদেলা দুপুর। ঝকঝকে চারপাশ। ফাবিয়ান নাওমীর কথিত পোশাকটাই পরলো। তারপর]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph"><strong>রীনা</strong><strong>&nbsp;</strong><strong>গুলশান</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">(পূর্ব প্রকাশিতের পর)</p>



<p class="wp-block-paragraph">১৫</p>



<p class="wp-block-paragraph">আজকের আকাশটা খুব পরিস্কার। বেশ রোদেলা দুপুর। ঝকঝকে চারপাশ। ফাবিয়ান নাওমীর কথিত পোশাকটাই পরলো। তারপর কেমন যেন খুব দ্বিধান্বিত মন নিয়ে ডোরিনদের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলো। ওখানে যেয়ে দেখলো রোডিকা আন্টি বেশ রান্না নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। আর আঙ্কেল কেভিন একটা খুরপি হাতে বাগানের তদারকিতে ব্যস্ত। ডোরিনকে আশেপাশে দেখা গেল না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">(পূর্ব প্রকাশিতের পর)</p>



<p class="wp-block-paragraph">ফাবিয়ান আঙ্কেল, আন্টিকে হ্যালো বলতেই দুজনেই ছুটে এসে ওকে জড়িয়ে ধরলো। আসলে রোডিকা আর কেভিন এক প্রকার ওকে পুত্র সমানই মনে করে। ওদেরও অনেক স্বপ্ন ছিল ফাবিয়ানকে নিয়ে। যে ফাবিয়ান ওদের হাতের উপর হয়েছে। স্বপ্ন ছিল একদিন ফাবিয়ান তাদের জামাই হবে। এখনও পর্যন্ত রোডিকার সাথে সারার সপ্তাহে অন্তত দুইবার কথা হয়। এবং সেসব কথার ৮০ ভাগই প্রায় ডোরিন আর ফাবিয়ানের সম্পর্কিত। যদিও এখন প্রায় সবই ওলটপালট হয়ে গেছে। তবুও হঠাৎ করে গত রাতে ফাবিয়ানকে দেখে নির্বাপিত আশা আবার জেগে উঠেছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: এসো বাবা এসো, একেবারে ঘরেই চলে আসো- রোডিকা ফাবিয়ানের হাত ধরে একেবারে ফামিলি রুমে নিয়ে বসলো। তারপর ‘ডোরিন’ ‘ডোরি দ্যাখ কে এসেছে’- বলেই হাকডাক শুরু করলো। কেভিন আঙ্গেলও ফাবিয়ানের পাশে বসেই বউকে বললো-</p>



<p class="wp-block-paragraph">: বুঝলে ফাবির সেই প্রিয় তরমুজের স্মুতি নিয়ে আসো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: আঙ্কেল, আপনার এখনও মনে আছে?</p>



<p class="wp-block-paragraph">: কি বলিস, মনে থাকবে না? ছোটবেলায় তোর আর ডোরিনের যন্ত্রণায় ওটা বানানোর উপায় ছিল নাকি? নিজেদের ভাগেরটাতো খেতিসই আবার আমাদের ভাগেরটাও চুরি করে খেয়ে ফেলতিস।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: হা&#8230; হা&#8230; মাই গড! আপনিতো দেখি সবই মনে করে রেখেছেন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">কথা বলতে বলতেই রোডিকা ফাবিয়ানকে সল্টেড কাজু বাদাম এনে দিল। নিজেই বাড়িতে ভেজেছে তেল ছাড়া। এটাও ফাবির খুউব প্রিয়। একটু পরই ওকে ক্রিম দিয়ে ফেনায়িত কফি এনে দিল। আঙ্কেল কেভিন আবার টিপ্পনি কাটলো-</p>



<p class="wp-block-paragraph">: হু! ছেলেকে পেয়ে আর আমার কথা মনে নাই!</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full"><img decoding="async" width="288" height="457" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2024/09/নিভৃতে.jpg" alt="" class="wp-image-9956" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2024/09/নিভৃতে.jpg 288w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2024/09/নিভৃতে-189x300.jpg 189w" sizes="(max-width: 288px) 100vw, 288px" /></figure>
</div>


<p class="wp-block-paragraph">: শুনলি ফাবি, ৩ কাপও বেশি নয়। আর হবে না। একেবারে লাঞ্চের পর। তোর পছন্দের খাবার সব বানিয়েছি আজ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: তাই নাকি? কি বানিয়েছো আজ?</p>



<p class="wp-block-paragraph">: আমি বাপু তোমার নন্নার মত তো রাঁধতে তো পারবো না, ফিস বেক করেছি, বিফ বল দিয়ে পাস্তা করেছি। আর তোর প্রিয় ল্যাম্ব এর স্যুপ করেছি। সাথে গারলিক ব্রেডও বানিয়েছি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: ঙগএ! আন্টি আমার তো জিভে জল এসে গেছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">হঠাৎ করেই কেভিন ‘ডোরিন’ ডোরিন বেবী বলে চিৎকার করে ডাকাডাকি শুরু করলো-</p>



<p class="wp-block-paragraph">: এই মেয়েটার যে কি হয়েছে না, ছুটির দিন হলেই হলো, আর ঘুম ভাঙবেই না। বেলা প্রায় ১২টা, ওঠরে মেয়ে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">একটু পরই ডোরিন এলো কালো রঙের একটা হট প্যান্ট পরা, উপরে হালকা বেগুনি রঙের হাতকাটা ১টি টপস পরা। সেই কোমর পর্যন্ত ঢেউ খেলানো চুল, এখন সেটা বয়কাট দেওয়া। বাপের কাছে এসে আদুরী বেড়ালের মতন বসে বাবার গলা জড়িয়ে আদর করলো। তারপর যেন ফাবিয়ানকে দেখলো। খুবই ফরমাল কায়দায় বললো-</p>



<p class="wp-block-paragraph">: ওহ্! ফাবিয়ন, তুমি? আচ্ছা কেমন আছো? অনেক দিন পর দেখা হলো বল! আমরা তো মনে করলাম তুমি বুঝি ইটালিকে ভুলেই গিয়েছো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: কি যে বল, নিজের দেশ- দেশের মাটি; একি ভোলা যায়। কাগজপত্রের সমস্যা ছিল। এখন সব ঠিকঠাক হওয়াতে চলে এলাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: খুব ভাল করেছো, একদম পারফেক্ট সময়েই এসেছো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: মানে, ঠিক বুঝলাম না। ফাবিয়ান খুউব অস্বস্তি নিয়ে বললো। ঠিক বুঝতে পারছে না ডোরিন আসলে কি বলতে চাইছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ডোরিন খুউব উৎফুল্ল মেজাজে হঠাৎ উল্লসিত চিৎকার করলো-</p>



<p class="wp-block-paragraph">: মাম্&#8230; মাম্&#8230; জানো গত রাতে ম্যাথিউস আমাকে সরাসরি বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছে! এই দ্যাখো, বলেই তার রুবি হীরক খচিত বাম হাতের অনামিকা বাড়িয়ে ধরলো। ডোরিনের অনাকিমায় রুবী, হীরকের দ্যুতি ওর চোখ দিয়ে বের হচ্ছিল। অসাধারণ একটা আনন্দে উদ্ভাসিত অবয়ব।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ফাবিয়ানের হঠাৎ করেই অদ্ভুত একটা অনুভূতি হলো। মনে হলো বুকের ভেতরে বসে থাকা অনেক ভারী একটা পাথর যেন গড়িয়ে গড়িয়ে নেমে গেল। অদ্ভুত একটা আনন্দের অনুভূতিতে তার সমস্ত স্বত্ত্বা ছেয়ে গেল। শুধু পকেটের মধ্যে নাওমীর কিনে দেওয়া পান্না আর হীরা বসানো আংটিটির অস্তিত্বে দারুণ অস্বস্তি হচ্ছিল। নিজেকে কেমন যেন চোর চোর লাগছিল। রোডিকা আন্টির বাসায় আসবার মুহূর্তে নন্না আংটিটি দিয়ে বলেছিল, যদি দরকার হয়। বুঝলি ফাবি, তোর পকেটে করে নিয়ে যা। হঠাৎ করে মনে হলো, কিছুটা সময় যেন পৃথিবীটা স্তব্ধ হয়ে রইলো। রোডিকা আর কেভিনও কোন কথা বলছে না। তারা খুব ভালো লাগায় নাকি খুব কষ্টে কেমন যেন স্তব্ধ নিশ্চুপতায় ঝিম মেরে রইলো। হঠাৎ করে সমস্ত নির্জনতাকে উপেক্ষা করে ফাবিয়ানের উল্লসিত চিৎকার ধ্বনি পরিবেশটাকে হালকা করে দিল-</p>



<p class="wp-block-paragraph">: ঙগএ! অভিনন্দন। অনেক অনেক অভিনন্দন। বাপরে আমার ছোট্টবেলার খেলার সাথিটা যে এত্ত বড় হয়ে গেছে, ভাবতেই পারিনি! সত্যি বলছি ডোরিন, আমার খুশিতে নাচতে ইচ্ছা করছে!</p>



<p class="wp-block-paragraph">: ওকে, বিয়ের দিনেই নাচটা কি রকম করো সেটা দেখিয়ে দিও সবাইকে। ডোরিনও উদ্ভাসিত কন্ঠে বললো। তারপর ডোরিন এই প্রথম তার কানাডার জীবনযাপন সম্পর্কে নানান প্রশ্ন করতে শুরু করলো! ফাবিয়ানও খুব ক্যাজুয়ালী জবাব দিয়ে যেতে লাগলো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এরপর ফাবিয়ান এক এক করে ওদের গিফট দিল। রোডিকা এবং কেভিন তাদের গিফট পেয়ে খুবই খুশি হলো। ডোরিনের জন্য ফাবিয়ান নিজেও অনেক কিছু কিনেছিল। আবার নাওমীও কয়েকটা উপহার দিয়েছিল। ডোরিন খুব উদ্ভাসিত হলো। বিশেষ করে ‘ল্যান্ড কম’-এর কসমেটিক্স-এর সেটটা দেখে খুবই খুশি হলো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: ফাবি- তুমি এত দামী উপহার এনেছো, কি দরকার ছিল বলতো! তারপর আবার এত দামী দামী ব্রান্ডেড জামা-প্যান্ট এনেছো!</p>



<p class="wp-block-paragraph">: তোমার জন্য না আনলে কার জন্য আনবো? বলত? তুমি আমার ছোট বেলার একমাত্র বন্ধু।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: খুউব ভালোই হয়েছে। আমার বিয়েতে তোমার দেওয়া কসমেটিক্সই ঁংব করবো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: আগে জানলে তো ম্যাথিউ-এর জন্য বিয়ের স্যুটটা আমিই আনতাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: অনেক ধন্যবাদ! ফাবি, তুমি এই কথা বললে বলে। তবে, ওটার দরকার নাই। আমার বিয়ের গাউন আর ম্যাথিউ-এর স্যুট- ওর বোন নিকোল নিজেই আনবে প্যারিস থেকে। দরকার হলে আমি এখান থেকে ফিটিং করে নিবো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এরপর ওরা দুজন কথা বলতে বলতে ওদের ছোট বেলার সেই লেকের পাড়ে চলে গেল। সেই লেকের পাড়ে ফাবিয়ান কত মাছ ধরেছে। আর ডোরিন দুষ্টুমি করে ঢিল ছুড়ে মাছ তাড়িয়েছে। ফাবিয়ান বারবার স্মৃতি তাড়িত হয়ে যাচ্ছিল। ছোট ছোট এমন সব স্মৃতি ওর হৃদয়ে ফিরে ফিরে আসছিল যা কিনা এখন খুবই বাহুল্য। তবু আজ কেন জানি সেগুলোই প্রচন্ড মূল্যবান হয়ে ফিরে আসছিল। তার হঠাৎ করে অসম্ভব আবেগের তাড়িত হয়ে গলার কাছে একটা কান্নার কষ্ট দলা পাকাচ্ছিল। তবু হৃদয়ের অন্য স্বত্ত্বা ভাবছিল অন্য কথা। তার কোন অনুভূতিই ডোরিনের সামনে প্রকাশ করা উচিত হবে না। হয়তো অনেক কষ্টের পর ডোরিন তার জীবনে আবার ভালো লাগা, ভালোবাসা পেয়েছে। ফাবিয়ান তা কোনভাবেই নষ্ট করে দিতে পারে না। ফাবিয়ানের এটাই বার বার মনে হচ্ছিল। একটা সময় পরে জীবনে এমন একটা সময় আসে যখন মনে হয়, এবার সেই কাক্সিক্ষত সময়টা এসেছে। যখন সেই পুরনো সময় থেকে নিজেদেরকে বের করে নতুন সময়ের দিকে এগিয়ে নিতে হয়। তবু তার ভেতরে একটা কেন জানি দ্বৈত্য স্বত্ত্বা কাজ করছিল। এক সময়ে খুব ভালো লাগছিল ডোরিন তার কাক্সিক্ষত ফল পেয়েছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এতক্ষণ ধরে ম্যাথিউ সম্পর্কে যা সব গল্প শুনলো তাতে করে এটুকু বোঝা যায়, মানুষ হিসাবে ম্যাথিউ সত্যিই খুব ভালো মানুষ। এবং বড় হৃদয়ের। তদুপরি ধনী। নিজের সাথে কেন জানি একটা তুলনা চলে এলো। সেতো আজও কোন কিছুই করতে পারলো না। মিউজিকের উপর মাস্টার ডিগ্রিটা ছাড়া তার কিইবা আছে? আজ পর্যন্ত মিউজিকের কোন ব্রেকই পেল না। নিজের একটা বাড়ি, গাড়ি কিছুই নাই। কোন মতে দিন গুজরান করে চলেছে। জীবনে যে ব্রেকের স্বপ্নে এতোটা দিন পার করেছে। স্বপ্নে দেখেছে যে, মিউজিকে সে একটা দিকপাল হয়েছে। নাহ্! কোন স্বপ্নের পাখিরাই তার জীবনে ধরা দেয়নি। এসে এসেও আসে না! তা না হলে ভালো করে দুনিয়া দেখবার আগেই বাবাকে কেন দেখলো না? সেই যে তার বাবা ফ্রাঙ্ক ফ্রাঞ্জিপেনে জার্মান চলে গেল, আর একটি বারও পিছু ফিরে চাইলো না। কেন এমন করলো বাবা? হয়তো সারার প্রতি তার ভালোবাসা শেষ হয়ে গিয়েছিল অথবা কখনোই ভালোবাসা ছিলই না। কিন্তু ফাবিয়ান তো তারই আত্মজ! তারই ঔরশজাত প্রথম সন্তান। একটিবারও কি তার ফাবিয়ানকে দেখতে ইচ্ছা করে না? আর মা! এটা সত্যি মায়ের প্রতিও তার এক ধরনের ক্রোধ, অভিমান কাজ করতো। কারণ, মা-ই তার সব কিছু ছিল! মা, নন্না আর নানা- এরাইতো সব ছিল। তার সমস্ত দুনিয়া। মাও তাকে কিভাবে ছাড়তে পারলো! এতকাল ধরে তার মায়ের প্রতি এরকমই মনোভাব পোষণ করতো। তবে এবারই কেন জানি না এখানে আসার পর থেকে মায়ের জন্য এক ধরনের সেই ছেলেবেলার অনুভূতিগুলো গ্রাস করছে! যেদিন প্রথম ভ্যালেলংগাতে এলো, আর দেখলো তার নন্না কি অসম্ভব একাকিত্ব নিয়ে ইজি চেয়ারে ঘুমিয়ে ছিল। হঠাৎ করে নন্নাকে তার মা সারার মত লেগেছিল। আর তখুনি তার মনে হয়েছিল, তাইতো তার মাওতো এরকমই নন্নার মত একাকী হয়ে যেত। আর সারাতো তখন অপরূপ সুন্দরী ফুটফুটে একটি বালিকা মাত্র। সেই বয়সেই তার মায়ের অসম্ভব আবেগ ও ভালোবাসার ফসল সে। অন্যভাবে বলা যায় তার ভালোবাসার ভুলের ফসল। তবুও ঐ বয়সেও সারাকে একটি বাচ্চার বোঝা দিয়ে যখন ফ্রাঙ্ক পালিয়েই গেল এক রকম, তবুও একটি দিনের জন্যও সারা তাকে বোঝা মনে করেনি অথবা ফাবিয়ানকে নিজের ভুলের ফসল মনে করে অবজ্ঞাও করেনি। বরং দু’হাতে, হৃদয়ের সমস্ত ভালোবাসা আর আবেগ দিয়ে ফাবিয়ানকে বুকে আঁকড়ে রেখেছিলো। কত দিন ফাবিয়ান গভীর রাতে চোখ মেলে দেখেছে, তার মা ঘরের কোণের জানালার উপর মাথা রেখে চুপিচুপি কাঁদছে। তবু কখনো ফাবিয়ানের সামনে তার বাবাকে ধিক্কার পর্যন্ত দেয়নি। বরং একটু বড় হবার পর ফাবিয়ান যখন অনেক কিছু বুঝতে শিখেছে। তার অনেক বন্ধু-বান্ধব হয়েছে, ডোরিন, জেসন, রায়ান ইত্যাদি; ওদেরকে দেখেছে সুস্থ পারিবারিক অবস্থানে। তখন মাকে সে বাবাকে নিয়ে প্রশ্নবানে জর্জরিত করেছে। বেশি প্রশ্ন করলে মা তাকে দু’হাতে জড়িয়ে ধরে আকুল কান্নায় ভেঙ্গে পড়তো। তখন নন্না তাকে নিয়ে যেত। এবং অন্য প্রসঙ্গে তাকে ব্যস্ত করে রাখতো। তারপর ক্রমশই একটু একটু করে তার বাবার কৃতকর্মের কথা সে জানতে পেরেছে। সারার বিয়ের পর যখন ফাবিয়ান খুব ভেঙ্গে পড়েছিল, তখন রোডিকা আন্টিই তার বাবার সব কীর্তিগুলো ডিটেলস-এ বলেছিল। তবুও মা তাকে কখনো বাবার সম্পর্কে কোন খারাপ কথা বলেনি। শুধু পাথর মুখ করে বলতো-</p>



<p class="wp-block-paragraph">: সবই আমার কপালরে ফাবি! না হলে এই রকম হবে কেন?</p>



<p class="wp-block-paragraph">ফাবিয়ান রেগে ফোস ফোস করে বলতো-</p>



<p class="wp-block-paragraph">: কপাল না ছাই! দেখবে আমি একদিন বড় হয়ে ঠিকই বাবাকে খুঁজে বের করবো। তারপর একটা ছুরি দিয়ে তাকে খুন করবো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: ছি! বাবা, ওসব বলতে নেই! আমি কি তোমাকে এই শিক্ষা দিচ্ছি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">শুধু একবার মাকে খুব তীব্র ভাবান্তরে দেখেছিল। তার দ্বিতীয় বিয়ের আগের রাতে হঠাৎ করে ফাবিয়ানের মধ্য রাতে ঘুম ভেঙ্গে গিয়েছিল, কেমন যেন একটা গোঙানির মত শব্দে। তখন ফাবিয়ান দেখেছিল মা মেঝের উপর বসে হাতে একটা কিছু নিয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছিল আর কথা বলছিল। সম্ভবত ওটা বাবার ছবি ছিল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: কেন, কেন তুমি এমন করলে? কেন এমন করলে? আমার ভালোবাসায় কিসের কম ছিল? যে একবারও পেছন ফিরে চাইলে না? আমাকে কোন যন্ত্রণার সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে গেলে? আমি কেন নির্দ্বিধায় তোমার মত সামনে এগিয়ে যেতে পারছি না? স্টিভেন যে আমাকে পাগলের মত ভালোবাসে, তবু কেন আমি তাকে তোমার মত করে ভালোবাসতে পারছি না? কেন আমর সোনার পাখি ফাবির জন্য কলিজাটা ফেটে যাচ্ছে? আমি আমার ফাবিকে কিভাবে একা রেখে চলে যাবো? বল, বল ফ্রাঙ্ক, কেন তুমি আমার সাথে এমন করলে? আরও অনেক কিছু মা বলেছিল কিন্তু ফাবিয়ানের তখন বয়সও কম। ঐ কম বয়সে ঐ সব কথা বোঝার মত সমঝদারী তার হয়নি। তখন ঐ ছোট্ট ফাবিয়ানের ছোট্ট হৃদয়টাতে ছিল এক বুক ভরা ক্ষোভ, দুঃখ, হতাশা। সারাক্ষণ মায়ের উপর রাগে আর চাপা যন্ত্রণায় সাপের মত ফোঁস ফোঁস করছে। সবাই মিলে তাকে কত বুঝিয়েছে। মা তাকে জড়িয়ে ধরে অঝোরে কেঁদে চলছিলো। কিন্তু ফাবি কারো কোনো কথাই মানছিল না! তার কেবলই মনে হচ্ছিলো তার বাবা তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছে সেই কোন কালে। একবারও পেছন ফিরে চাইল না। এখন মাও তাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে। মাও আর ফিরে আসবে না। হায় ঈশ্বর! সেই দিনগুলি কি বিভৎস, কি বিভিষিকাময় ছিল। কেউ তাকে বুঝাতে পারছিলো না। সেও কাউকে বুঝতে পারছিল না। নাকি বুঝতে চাইছিলো না। একটি অবুঝ ছোট্ট হৃদয় কেবলই মা হারানোর ভয়ে, বেদনায় মুহ্যমান হয়েছিল। আর সেই ভয়, বেদনা শোক ফাবিয়ানকে এই সুদীর্ঘ পঁচিশ বছর ধরে তাড়িত করেছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">১৬</p>



<p class="wp-block-paragraph">আজ অকস্মাৎ এই তার আবাল্যের বন্ধু ডোরিনের অতি আনন্দের প্রগলভতায় তার ভেতরে সুক্ষ্ম ঈর্ষা গভীর বেদনায় আচ্ছন্ন করছে। আর এই বেদনাই মা হারানোর সেই বেদনার কাছে পৌঁছে দিল। কি বিস্ময়কর। তবে কি আসলেই ফাবিয়ান কখনই বড় হয়নি? শুধু শরীরের, বয়সই বেড়েছে! মনটা সেই বয়সেই স্থির হয়েছিল! তা না হলে আজ এই পরিণত শরীরে, মননে ডোরিনের কাছে এসে মায়ের কথা এভাবে মনে পড়ছে কেন? আজ তবে কেন মনে হচ্ছে সে আসলে মায়ের সাথে খুব, খুউব বাজে আচরণ করেছে। সারাটি জীবন সে তার মা’কে ভুল বিচার করে কঠিন সাজা দিয়ে গেছে! একটি বার নিজের থেকে ফোন করেনি, এমনকি মা সুইডেন থেকে ফোন করলে ঠিক মত কথাও বলতে চায়নি। এমনও হয়েছে কোন কোন সময় ফোন কেটে দিয়েছে। অথচ সে ভাল করেই জানে মাই-ই তার বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত খরচা দিয়েছে। যদিও আমান্ডা তাকে বুঝিয়েছে, সেই-ই তাকে টাকা দিচ্ছে! আর যখন সে কানাডা এলো, তার বেশ ভালো অংকের টাকার দরকার পড়েছিল। আমান্ডা তাকে বলেছিলো, আমাকে কিছুটা সময় দে, আমি জমি বিক্রি করে টাকা দিয়ে দিবো। আর তার যাবার সময় তার পাসপোর্ট বানানো, টিকিট এমনকি নগদ পাঁচ হাজার ডলার, যাবার আগে আগে এক স্যুটকেট ভরা শীতের পোশাক সবই সে জানতো নন্না দিয়েছে। আসলে সবই তার মা-ই দিয়েছে। কারণ এবারই এসে সে জানতে পেরেছিল টনি চাচার কাছে (কথা প্রসঙ্গে তাকে বলেছে), তাদের আসলে কোন জমি বিক্রিই হয়নি! ফাবি মনে মনে খুউব অবাক হয়েছিল। কিন্তু নানীকে জিজ্ঞাসা করতে সংকোচ হয়েছিল। হয়তো নানী কষ্ট পাবে। টনি চাচাই তখন বলেছিল, তোমার কানাডা যাবার সময় জমি বিক্রির কথা হয়েছিলো, কিন্তু পরে সারা মা সব টাকা পাঠালো তাই জমি বিক্রি করা লাগেনি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: এ্যাই ফাবি, তখন থেকে কি অত ভাবছিস? ডোরিনের অকস্মাৎ তার পীঠের উপর একটা ধাক্কা এবং তার চিৎকারে বাস্তবে ফিরে আসে। মনে হলো ফাবিয়ান যেন কোন সুদূর অতীত থেকে ফিরে এলো। ফিরে এলো হাঁটি হাঁটি পা পা, নীল চোখের, ঝাকড়া চুলের ফাবিয়ান; সারার আদরের নয়নের মণি ফাবি। এক সাগর অভিমান সাঁতরে যেন ফাবি অকস্মাৎ মায়ের স্নেহের মোহনায় ফিরে এলো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">হঠাৎ করে ফাবিয়ানের সব কিছু খুউব ভালো লাগলো। এই ঝকঝকে সকাল। টলটলে চিরচেনা লেকের পানি। সারি সারি জলপাইয়ের বৃক্ষের সারি। সব কিছুতেই খুউব ভালো লাগায় ভরে গেল। হঠাৎ করে সেই ছেলেবেলার মত, তার মুখের সামনে দুটো করোতল গোল করে মুখের উপর ধরে চিৎকার করলো-</p>



<p class="wp-block-paragraph">: ডোরিন, ডোরি- তুই কোথায়?</p>



<p class="wp-block-paragraph">ডোরিন মনে মনে খুব অবাক হলেও সেও তার করোতল গোল করে মুখের উপর ধরে চিৎকার করলো-</p>



<p class="wp-block-paragraph">: আমি নেই, হারিয়ে গেছি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: কোথায়?</p>



<p class="wp-block-paragraph">: লেকের ভেতরের জলপরীটা আমাকে ধরে নিয়ে বন্দী করে রেখেছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তারপর দুইজন ছেলেবেলার মত চিৎকার করে হেসে গড়াগড়ি দিল লেকের পাড়ের ঘন সবুজ ঘাসে! হাসতেই থাকলো দুজনেই যতক্ষণ না দুজনই দুজনকে জড়িয়ে ধরে ঝর ঝর করে কেঁদে ফেললো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আর তখনই দুজনই এক সাথে অনুভব করলো গত ৬/৭ বছরে তাদের মনের ভেতরে যে মেঘ জমেছিল, তা এই হাসি এবং কান্নার সাথে সব বৃষ্টির মত ঝরে গেল। ওরা আবার সেই ছেলেবেলার মত লেকের পাড় ধরে ছুটোছুটি করলো। আর দুজনই অনুভব করলো তাদের আজন্মের চিরচেনা সেই বন্ধুত্বের একাত্মতা। ওরা আসলে বন্ধুই। অনেক অনেক বন্ধু। বন্ধুর চেয়েও হয়তো ওরা ভাইবোনের মত। দুজন দুজনের অনেক সুহৃদ। কিন্তু ওরা কখনো প্রেমিক-প্রেমিকা হতে পারেনি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এই হঠাৎ বোধনে, ওদের হৃদয়ের ভেতর থেকে এক ধরনের অসম্ভব ভালো লাগার আনন্দ উৎসারিত হলো। সেই ভালো লাগায় ওরা আচ্ছন্ন হয়ে রইলো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তারপর এক সময় ওরা তাই ছেলেবেলার মত হাত ধরাধরি করে ঘরে ফিরলো। রোডিকা আর কেভিনের তো ওদের সেই ছেলেবেলার মত ফেরা দেখে যেন বাক্যস্ফূর্তি হচ্ছিল না। রোডিকা দৌড়ে দৌড়ে টেবিলে খাবার লাগালো। ওরা সেই আগের মত কাড়াকাড়ি করে খেল! যতটা খেলো তার থেকেও বেশি মজা করলো। তারপর এক সময় ফাবিয়ান গভীর স্বরে বললো-</p>



<p class="wp-block-paragraph">: ডোরিন, আমিতো আরো প্রায় তিন সপ্তাহের মত থাকবো এবং এবারে নন্নাকে নিয়েই যাবো ভাবছি সাথে করে। তো, এর মধ্যে যদি তোর বিয়ের ডেট দিতে পারিস, তো আমিও তোর বিয়েটা দেখে যেতে পারি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ডোরিনের হঠাৎ চোখ ভরে কান্না এলো। অনেকক্ষণ কথাই বলতে পারলো না। তারপর ফিস ফিস করে বললো, আমি আজই ম্যাথিউ-এর সাথে কথা বলবো। আমি আপ্রাণ চেষ্টা করবো যেন তুই থাকতেই সব হয়ে যায়!</p>



<p class="wp-block-paragraph">ফাবিয়ান ডোরিনের হাত দুটো নিজের হাতের মধ্যে নিয়ে মধুর হাস্যে বললো, জানিস ডোরি, এর থেকে ভালো আর কি হতে পারে? যেমন করে বাবা-মা অনেক আদরের কন্যাকে খুউব আনন্দে এবং দুঃখে আর একজন ছেলের হাতে তুলে দেয়। তুলে দেবার সময় তাদের দু’রকম প্রতিক্রিয়া হয়। আমার মেয়ে চলে যাবে, আবার একই সময় মনে হবে আমার মেয়ে খুব খুউব সুখে থাকবে। আমারও সেই রকম মনে হবে। যখন তোকে ম্যাথিউর হাতে তুলে দিব। আমার আজীবনের দেখা অবাল্যের সখী ডোরিন চলে যাবে। কিন্তু আমি জানবো, আমার ডোরিন খুউব সুখে থাকবে। ভালো থাকবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ডোরিন অনেক ভালোবাসায় ফাবিয়ানকে জড়িয়ে ধরে ওর কাঁধের উপর মুখ লুকিয়ে বললো, ‘জানিস ফাবি, ম্যাথিউ সত্যিই আমাকে খুউব ভালোবাসে। তুই কোন চিন্তাই করিস না।’</p>



<p class="wp-block-paragraph">দিনের আলো একটু একটু করে চলে গেলো রাতের দিকে। ফাবিয়ান উঠলো, যেতে হবে। নন্না অপেক্ষা করে আছে তার ফাবির জন্য। রোডিকা আন্টি এবং কেভিন আঙ্কেলের কাছে বিদায় নিলো। তারা বার বার বললো,</p>



<p class="wp-block-paragraph">: তাহলে ঐ কথাই রইলো- ডোরিন ডেট ফিক্সডট করেই তোকে জানাবে। বাকি সব তোর দায়িত্ব।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: হ্যাঁ আন্টি, আপনি কোন চিন্তাই করবেন না। ফাবিয়ান দেখলো ডোরিনের সমস্ত অবয়ব যেন ঝলমল করছে খুশির আলোয়। ফাবিয়ানের বুকের মধ্যে অজানা একটা অনুভূতি। কি জানি কিসের? আনন্দ নাকি বেদনার? নাকি গভীর স্বস্তির! বুকের মধ্যে এক ধরনের অপরাধ বোধ, রাগ, ভালো লাগা, গভীর ভালোবাসা এবং বুঝতে না পারার একটা কাঁটা ওকে গত ৪/৫ বছরে বুকের মধ্যে অবিরত খুঁচিয়েছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ফাবিয়ান ডোরিনদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলো। ভেতরের পথ দিয়ে গেলে ২ মিনিটের পথ। কিন্তু ফাবি মেইন রাস্তায় নেমে এলো। রাস্তায় এরই মধ্যে আলো-আঁধারের খেলা। বেশ সুনশান। এটাই চাচ্ছিল ফাবি। ওর একটু একাকী নিজের জন্য সময় দরকার ছিল। ওর কি ডোরিনের জন্য কোন কষ্ট হচ্ছে? না, ফাবিয়ান হাত দিয়ে কপাল থেকে চুল উপরের দিকে উঠিয়ে দিল। হঠাৎ করে প্যান্টের পকেটের মধ্যে ডায়মন্ড আর এ্যামারান্ডের আংটিটির অস্তিত্ব¡ অনুভব করলো। পকেটে হাত দিয়ে ছোট্ট কালো রঙের ‘ চবড়ঢ়ষব&#8217;ং’-এর বক্সটা বের করলো। খুব সুন্দর আংটিটা! ওাভেল আকারের পান্না চারপাশে ডায়মন্ড। দারুন। ৩ থেকে ৪ হাজার ডলার হবেই। পাগলী আস্ত পাগলী, ফাবিয়ান নিজের মনেই ফিসফিস করে বললো এবং মনে মনেই হেসে ফেললো। বাক্সটা আবার পকেটে ঢুকিয়ে দিল। এরপর একটা গভীর স্বস্তির অনুভূতি ফাবিয়ান নিজের মনেই অনুভব করলো। তারপর ওর প্রিয় গানের কলি গুন গুন করে গাইতে গাইতে সামনে এগিয়ে চললো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">Oceans apart day after day<br>And I slowly go insane<br>&#8230;&#8230;.</p>



<p class="wp-block-paragraph">If I see you next to never<br>How can we say forever</p>



<p class="wp-block-paragraph">Richard Marx&#8211;র এই গানটি তার মায়ের খুব প্রিয় ছিল। কখন জানি মায়ের ভালো লাগা ফাবির বুকের মধ্যে বাসা বেধেছে। ওহ্! মা, মাগো আমি খুব খারাপ, খুউব খারাপ; তোমাকে কত কষ্ট দিয়েছি। অকস্মাৎ ফাবি চোখে হাত চেপে ধরলো। হু হু করে কেঁদে ফেললো। ইস্, মাকে খুউব কষ্ট দিয়েছে। নাহ্ কাল সকালেই মাকে ফোন করবো। মাকে ইটালি আসতে বলবো। মা তার ফোন পেয়ে কি করবে? রাগ হবে? দুঃখ পাবে? নাকি ফোনই ধরবে না? ওতো ডিজার্ভই করে এর থেকেও খারাপ ব্যবহারের। না, তার মা কখনো এই রকম করবে না। ফাবিয়ান যতই খারাপ ব্যবহার করুক না কেন। কানাডাতে মা কতবার ফোন করেছে, ইস্ ফাবি কি রকম বাজে ব্যবহার করেছে! ওর বুকের মধ্যে নিজের প্রতি একটা ক্রোধ এবং লজ্জা একই সাথে অনুভব করলো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">একটু ঘুরাঘুরি করে রাত ৮টার দিকেই বাসায় চলে এলো। নানী আবার বেশি রাত জাগতে পারে না। তবু গত রাতে তো প্রায় অর্ধেক রাত নন্না জেগে জেগে তার সাথে গল্প করেছে। বাসায় ঢুকতেই দেখলো, নন্না রাস্তার দিকেই তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ফাবিকে দূর থেকে দেখেই একটা স্বস্তির শাস ফেললো। কি জানি, কি হলো ঐ বাড়িতে। কি হলো? না, আমান্ডা দ্রুত মন ঠিক করে ফেললো, সে কিছু জিজ্ঞাসা করবে না। যদি ফাবি নিজের থেকে কিছু না বলে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ফাবিয়ান বাড়ির বারান্দায় পা দিয়েই নানীকে জড়িয়ে ধরলো গভীর ভালোবাসায়। তারপর বললো, নন্না কিচ্ছু খাবো না। রোডিকা আন্টি অনেক কিছু খাইয়ে দিয়েছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: দুধ তো খাবি? এক গ্লাস গরম দুধ শুধু খা সোনা।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: আচছা এখন না, ঘন্টা খানেক পরে দিও। আমি এখন একটু গোসল করবো। তারপর ঘুম পারবো। খুউব ক্লান্ত লাগছে। সকালে একটু কাজ আছে, মাকে ফোন করবো (মনে মনে বললো)।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: আচ্ছা যা, বাথরুমে তোর রাতের পোশাক রাখা আছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: নন্না, এই তোমার দোষ। তুমি আমাকে আবার খোঁড়া করে দেবে, আমাকে কিচ্ছু করতে দাও না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: যা, যা, ডেপোমি করিস না। (চলবে)</p>



<p class="wp-block-paragraph"><em>রীনা গুলশান, টরন্টো<br>gulshanararina@gmail.com<br><em>(লেখক রীনা গুলশান বাংলা সাহিত্যে মাস্টার্স। ইতিপূর্বে বাংলাদেশের বিভিন্ন দৈনিক, সাপ্তাহিক এবং মাসিকে তার কবিতা, ছোটগল্প, প্রবন্ধ, রম্য রচনা প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত হয়েছে কানাডার বিভিন্ন বাংলা পত্রিকাতেও। তিনি ‘প্রবাসী কণ্ঠ’ ম্যাগাজিন এর একজন নিয়মিত কলামিস্ট।)</em></em></p>



<p class="wp-block-paragraph"></p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>নিভৃতে</title>
		<link>https://probashikantho.com/2026/02/08/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%ad%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a7%87-15/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 08 Feb 2026 21:24:33 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Literature]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=12368</guid>

					<description><![CDATA[রীনা&#160;গুলশান (পূর্ব প্রকাশিতের পর) ১৪ফাবিয়ান খুব দ্রুত ওদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলো। খুব ক্লান্ত লাগছে। সারাদিনের এই পথ পরিক্রমণ এবং]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph"><strong>রীনা</strong><strong>&nbsp;</strong><strong>গুলশান</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">(পূর্ব প্রকাশিতের পর)</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full"><img decoding="async" width="288" height="457" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2024/09/নিভৃতে.jpg" alt="" class="wp-image-9956" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2024/09/নিভৃতে.jpg 288w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2024/09/নিভৃতে-189x300.jpg 189w" sizes="(max-width: 288px) 100vw, 288px" /></figure>
</div>


<p class="wp-block-paragraph">১৪<br>ফাবিয়ান খুব দ্রুত ওদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলো। খুব ক্লান্ত লাগছে। সারাদিনের এই পথ পরিক্রমণ এবং এই সব কিছু মিলিয়ে খুব খুউব ক্লান্ত লাগছে। মনে হচ্ছে এইটুকু পথও ও হাঁটতে পারছে না। সেকি শুধুমাত্র দীর্ঘ পথ যাত্রা করে এসেছে, তাই? নাকি আশা ভঙ্গের বেদনা? কিসের আশা ভঙ্গ? ও কি এখনো ডোরিনের কাছে কিছু আশা করেছিল যে ডোরিন তার জন্য উন্মুখ হয়ে পথ চেযে বসে আছে? সে আসলেই তাকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেবে? সে পথতো ওদের অনেক আগেই শেষ হয়েছিলো।<br>এতদিন পর নিজেকেই যেন পর্যালোচনা করতে শুরু করলো। নাহ্! এখন ওর কিছু আর ভাবতে ভালো লাগছে না। বড় বড় পা ফেলে বাড়ি চলে এলো।<br>নানী ওর জন্য অধীর হয়ে অপেক্ষমান ছিল। ও যেতে তাড়া লাগালো-<br>: নাহ্ বাবা, তোরা পারিসও বটে! এত দূর থেকে এসেই পাশের বাসায় ছুট লাগালি। কি হতো যদি কাল সকালেই যেতিস?<br>: কিছুই হতো না নন্না, তবে আজ যেয়ে ভালোই হয়েছে! চারপাশের আবহাওয়াটা ভালো করে দেখে এলাম।<br>: ওহ্! তা ডোরিনের সাথে দেখা হলো? আমান্ডার বেশ সাবধানী গলা।<br>: হু! সবার সাথেই দেখা হয়েছে- বলতে বলতে ফাবিয়ান দ্রুত ওয়াশরুমে চলে গেল। নাহলে এই এখনি রাজ্যের কাসুন্দি গাইতে হতো। কি দরকার! ওর এখন গ্যাজাতে মোটেই ইচ্ছা করছে না।<br>গোসল করলো অনেকক্ষণ ধরে। এরপর বেশ ঝরঝরে লাগছে। যদিও মাথাটা এখনো বেশ ভার ভার লাগছে। ভাল একটা ঘুম দিতে হবে। খাবার ঘরে এসে দেখে এরই মধ্যে নানী ২/৩ পদের রান্না করে ফেলেছে।<br>: ইস্! দ্যাখতো কত রাত করে ফেললি। নে এখন ভাল করে পেট ভরে খা।<br>: ওমা, তুমি এত শিঘ্রি এত কিছু করলে কি করে?<br>: থাক, অত ঢং করতে হবে না- খাতো। আহারে আমার সোনারে, না খেয়ে খেয়ে শরীরটাতো দড়ি দড়ি হয়ে গেছে।<br>ফাবিয়ান নানীর কথা শুনে হেসে আর বাঁচে না। ইস্রে, এই সব খাবার আর এই সব নানীর ভালোবাসায় মাখামাখির সংলাপ- কি করে সে এতটা দিন ভুলে ছিল? কিভাবে কাটিয়ে দিল প্রায় ৫টি বছর? ফাবিয়ান খেতে খেতে তার খাবারগুলো আর দেখতে পারছিল না। সব ঝাপসা। চোখ দিয়ে টপটপ করে কান্না ঝরছিল তার অগোচরেই। তারপর চট করে নানীকে লুকিয়ে কান্না বা হাত দিয়ে মুছে ফেললো। নানী দেখলে আবার অনর্থ হবে। খাবার সময় কান্না ভালো কথা নয়। নানীর আবার নানান কুসংস্কার আছে। সে সব মনে করে আবার ফাবির হাসি পেয়ে গেল।<br>খাবার খেয়ে নানীর বিছানায় যেয়ে গড়িয়ে পড়লো-<br>: কিরে, তোর ঘরে যাবি না?<br>: না, তুমি ভালো করেই জান আমি এখন তোমার সাথে গল্প করবো।<br>: কিন্তু এখন অনেক রাত হয়েছে। সারা দিন জার্নি করে এসে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিস। এখন ঘুমিয়ে পড়- বলতে বলতে ফাবিয়ানের কাছে যেয়ে সেও ওকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে পড়লো। তারপর দুজন অনেক রাত ধরে পুটপুট করে কথার মালা গাঁথলো। কখন তারা ঘুমিয়ে পড়লো নিজেরাই জানে না। প্রায় ৯টার দিকে উঠলো আমান্ডা। নিজেই অবাক হলো এত বেলা পর্যন্ত সে কিভাবে শুয়েছিল? তাড়াতাড়ি নাস্তা বানাতে বসলো। টনিকে টাকা দিয়ে বাজারে পাঠালো। সব ফাবিয়ানের প্রিয় জিনিসের লিস্ট দিয়ে। নিজে এক কাপ চা খেল এক পিস বিস্কিট দিয়ে। আর তখনি সারাকে টেলিফোনও করলো।<br>: কি ব্যাপার মা? আজ যে এত্ত সকালে তুমি ফোন দিলে!<br>: হ্যাঁ দিলাম তো? বলতো কেন করেছি এরকম সকাল সকাল?<br>: নিশ্চয়ই রাতে ভালো ঘুম হয়নি। আমাকে নিয়ে কোন বাজে স্বপ্ন দেখেছো, ঠিক বলিনি?<br>: উহু! রাতে আর স্বপ্ন দেখবার সময়ই পেলাম কোথায়? সারা রাত তো প্রায় জেগেই ছিলাম।<br>: না, না- এটা ঠিক নয়। এ বয়সে এরকম রাত জাগা ঠিক নয়। তোমাকে কত বার বলেছি, টনিকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাও। তা নয়, তুমিতো আমার কোন কথাই শুনতে চাও না।<br>: আরে বাপু, এতো আমার দুঃখের জাগরণ নয়। এ আমার সুখের জাগানীয়া। আরে বোকা মেয়ে, তুই এখনো আন্দাজ করতে পারলি না। তোর ছেলে এসেছে, আমার ফাবি…<br>: মা, মা- কি বললে; আমার ফাবি বাবা এসেছে? শেষ পর্যন্ত এসেছে? ওহ্! মা, আজ এই সকালে আমি কার মুখ দেখে উঠেছিলাম। উহ্! আমি, আমি ভাবতেই পারছি না। মা আমি আগামীকালই চলে আসবো, তুমি ওকে বল না কিন্তু। বেশ একটা সারপ্রাইজ দেওয়া যাবে।<br>: সে তো বুঝলাম, তা তুই একাই আসবি- না বাচ্চাদেরও আনবি?<br>: না মা, আমি একাই আসবো। আমি আর ফাবি, এবারে আমাদের সাক্ষাতের মধ্যে কোন তৃতীয় মানুষ রাখতে চাই না। তুমিতো জানো মা, জন্মাবধি আমার পাশে আর কাউকে ও সহ্য করতে পারে না।<br>: ঠিক আছে বাপু, যা ভালো মনে করিস তাই কর।<br>: হ্যাঁ মা, তাহলে মনে রেখ কথাটা। খবরদার যেন ফাবি কোনভাবেই জানতে না পারে আমি আসছি।<br>: আরে বাবা, মনে থাকবে। তবে আমি বলি কি, কয়েকটা দিন পর আয়।<br>: কেন মা?<br>: ওকে একটু সময় দে, হয়তো নিজের থেকেই তোকে আসতে বলতে পারে।<br>: হু, তা ঠিক বলেছো। তবু আমি যখন আসবো ওকে সারপ্রাইজই দিবো কিন্তু।<br>: ওকে বাবা, তাই হবে।<br>আমান্ডা মনে মনে হেসেই আর বাঁচে না। মেয়েটা তার এখনো ছেলে মানুষই রয়ে গেছে। ছোটবেলা থেকেই ওর সবাইকে সারপ্রাইজ করার সখ! সেটা আজও বজায় আছে। ওহ্! আমান্ডা এখন কোনটা রেখে যে কোনটা করবে। এখন ফাবির জন্য তার প্রিয় পিঠা বানাবে। এটা চালের গুড়া আর ময়দা মিশিয়ে মায়ান দিয়ে তারপর রুটির মত বেলে, তার মধ্যে আলু, ডিম, আর স্প্যাগেটি সিদ্ধ মিশিয়ে মধ্যে পেঁয়াজ আর ফ্রেশ গোল মরিচের গুড়ো টমেটোর (খুব বেশি পাকা না) কুচি, কিছু পার্সলি আর রেড চিলির ভাজা গুড়া মিশিয়ে রুটির মধ্যে দিয়ে বেশ টেনিস বলের মতো সাইজ করতে হবে। তারপর স্টিম করতে হবে। গরম গরম খেতে দারুন মজা। সাথে ঘরে বানানো সুইট এ্যান্ড সাওয়ার টমেটো সস তো আছেই। এটা এমনকি ফাবিয়ানের নানারও খুব প্রিয়। একবারে সে ২০/৩০টা পর্যন্ত খেতে পারতো। খুব খানেওয়ালা মানুষ ছিল। তেমনি শক্তিশালীও ছিলো। আমান্ডা মনেমনে ভাবে, সারা এলে আবারও বানাবো।<br>বেশ বেলা হয়েছে। সাড়ে দশটা বাজে। আমান্ডার সব রেডি। ফাবিয়ানতো ওঠে না। পিঠা বানিয়ে গরম স্টিমারের উপর রেখে দিয়েছে। সাথে আবার টমেটোর সস বাদেও অন্য আর একটা চাটনী বানিয়েছে মিনট আর বেজিলের সাথে কাঁচা টমেটোর কাঁথ, ঝাল এবং রসুন দিয়ে (এটা সারা বছরের মত বানিয়ে রাখে) মিশিয়ে বেশ ঝাল ঝাল একটা চাটনি। এটা গাঢ় সবুজ বর্ণের হবে। ফাবিয়ানের খুউব প্রিয়। নাহ্ এবারে ছেলেটাকে ওঠাতে হবে। ঘরে যেয়ে দেখে ফাবিয়ান ভুট হয়ে ঘুমিয়ে আছে। হাত, পা ছড়ানো বেশ আয়েশ করে ঘুমাচ্ছে। যেন কত দিন ঘুমায় না। আহারে আমার সোনার পাখিটা। ওকে ডাকতেও আমান্ডার কষ্ট হচ্ছে। তবুও অনেক বেলা হয়েছে, আর কখন সকালের খাবার খাবে? আমান্ডা ফাবির পাশে বসে ধীরে ধীরে ওর চুলে হাত বুলিয়ে দিল। পিঠে আদরের চাপড় মারলো। তখন ফাবিয়ান সাড়া দিল। উ! নন্না, আর একটু ঘুমাবো।<br>: ওঠ, বাছা আর কত ঘুমাবি? দ্যাখ বেলা কোথায় উঠেছে? একটু পরেই দুপুরের খাবারের সময় হয়ে যাবে, আর সকালের নাস্তাতে তোর সব প্রিয় ডিশ বানিয়েছি। পিঠা বানিয়েছি, খাবি না? ঠাণ্ডা হলে ওগুলো আর ভালো লাগবে?<br>: পিঠা বানিয়েছো?<br>: হ্যাঁরে পাগলা, আবার খেয়ে একটু ডোরিনদের বাসায় যেতে হবে। তোর কেভিন আঙ্কেল তোকে ডাকতে এসেছিল। তুই ঘুম শুনে চলে গেছে। আজ নাকি ডোরিনের ছুটি। পার্লারে যাবে না। তাই হয়তো…<br>: ওহ্! তাই নাকি? আচ্ছা, তুমি খাবার ঘরে যাও, আমি এক দৌড়ে আসছি।<br>ফাবিয়ান ডাইনিং-এ যেয়ে দেখলো মোটামুটি পাহাড় পরিমাণ নাস্তা বানিয়ে আমান্ডা বসে আছে। ফাবি সব নাস্তা অল্প চাখলো, তারপরই পিঠার উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো। আজ তার নানার রেকর্ড ভাঙতে হবে। উহ্! কি মজা, খেতে খেতে ওর আনন্দের চোখটা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ নাওমীর মুখটা মনে হলো, আহারে নাওমী থাকলে পিঠাটা খেতে পারতো। ইস্! নাওমীকে এখনো পর্যন্ত পৌঁছানো সংবাদই দিল না। বড় ভুল হয়ে গেছে। আসবার সময় নাওমী কি দৌড়াদৌড়িই না করেছে। সত্যি বড্ড ভুল হয়ে গেছে।<br>: কিরে, কি ভাবছিস? পিঠা ভাল হয়নি?<br>: আমার খাওয়া দেখে বুঝতে পারছো না?<br>: হু, পারছি তো, হঠাৎ যেন একটু চিন্তিত দেখছি?<br>: হ্যা, নন্না একটা খুউব ভুল হয়ে গেছে। আসবার পর এখনো পর্যন্ত নাওমীকে একটা পৌঁছানো সংবাদ দেইনি। জানো তো মেয়েটা আমার জন্য কিনা করেছে। রায়ানকেও একটা ফোন দিতে হবে।<br>: আহারে সত্যিই বড্ড ভুল করেছিস। আচ্ছা তুই খা, আমি তোর সেল ফোনটা নিয়ে আসছি।<br>আমান্ডা এক দৌড়ে ফাবিয়ানের সেল ফোনট নিয়ে এলো। খেতে খেতেই ফাবিয়ান নাওমীকে রিং দিল। একটি রিং শেষ না হতেই নাওমী হ্যালো বললো। ফাবিয়ান খুব অবাক হলো। আরো অবাক হলো নাওমীর কণ্ঠস্বর খুবই ভাঙা ভাঙা এবং ভেজা কণ্ঠস্বর-<br>: নাওমী, আমি খুবই দুঃখিত দেরীতে ফোন দেবার জন্য। কাল রাতটা আসলে কিভাবে যে গেল বুঝতেই পারিনি। আর আজ এইমাত্র ঘুম থেকে উঠলাম!<br>: ইটস ওকে, ফাবিয়ান। আমি বুঝতে পারছি তোমার পারিপার্শ্বিকতা। কত দিন পর নন্নাকে পেয়েছো। তাছাড়া আরো সব্বাই কে, তাই না? তারপরও যে আমাকে মনে করে ফোন দিয়েছো সে জন্য অজস্র ধন্যবাদ।<br>: নাওমী, তোমার কি হয়েছে? শরীর খারাপ? নিশ্চয়ই খুব ঠাণ্ডা লাগিয়েছো? গলাটা একদম ভেঙ্গে গেছে…<br>: বাদ দাও ওসব, আগে বল নানী কেমন আছে? আমার, হাই বলনা উনাকে প্লিজ।<br>: ওকে বলছি (নন্না তোমাকে নাওমী হাই বলছে- নন্না খুব মধুরভাবে হেসে মাথা নাড়লো)! আর কিছু ম্যাডাম?<br>: হু! বল? ডোরিনকে কেমন দেখলে? ভালো তো?<br>: হু! মন্দ না।<br>: এ আবার কেমন উত্তর! আর শোন, শুধু এনগেজমেন্টই করো না, পারলে একেবারে বিয়েটাও সেরে এসো, বুঝলে?<br>: হুম।<br>: আবার হুম, হয়েছেটা কি তোমার। তোমার তো আবার কিছু মনে থাকে না। তোমার স্যুটকেসের ডানদিকে সেভিং কিটস্ এর ব্যাগের ভেতরেই দেখবে র‌্যাপিং করা ডায়মন্ডের রিং-এর বাক্সটা আছে। আজ যখন যাবে তখন ওটা নিতে ভুলো না। বুঝলে? আর যাবার সময় ভাল করে শেভ করে, ঐ যে দেখো হালকা আকাশী রঙের ‘হুগো বস’ সার্ট- ওটা পরে যেও। আর এ্যাশ রঙের জিনসটা পরবে। বুঝলে বোকাচন্দর!<br>: চেষ্টা করবো, ফাবিয়ান অনেক কষ্টে দীর্ঘশ্বাস চাপলো। একটা মানুষ কোন পর্যন্ত ভালো হলে তার ভালোবাসার মানুষটাকে আর একজন নারীকে হাসতে হাসতে দিয়ে দিতে পারে!<br>: ওকে ফাবি, গুডলাক ফর এভরিথিং।<br>: ধন্যবাদ।<br>: আমান্ডা, অবাক হয়ে ওদের কথা শুনছিল। মেয়েটা শুধু ভালোই না। রীতিমত মহিয়সী রমণী। আমান্ডা ফাবিয়ানর জীবনের সব কিছু জানে। কারণ, ফাবি তার কাছে কিছু গোপন করে না। এমনকি সিসিলিয়ার কথাও। আর বাকিটা গতকাল রাতে ফাবিয়ান তাকে সবই বলেছে। এমনকি আসবার ঘন্টা খানেক আগে ফাবিয়ান আবিস্কর করেছে যে, নাওমী তাকে সেই প্রথম পরিচয়ের শুরু থেকেই ভালোবাসে। এ কথা শোনার পর আমান্ডা একটুও অবাক হয়নি। আমান্ডা উল্টো বলেছে ফাবিয়ানকে-<br>: আমি তো শুরু থেকেই এটাই সন্দেহ করেছিলাম। কিন্তু তোরা পুরুষরা সর্বদা উপরটা দেখিস। সব সময় হীরা ফেলে কাঁচ ধরিস। ভালোবাসার গভীরতায় তোরা যেতেই পারিস না। আর একটা নারীই ক্যাবল এরকম নির্লোভ এবং নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসতে পারে।<br>: নন্না তাহলে সিসিলিয়ার ব্যাপারে কি বলবে?<br>: কিছুই বলবো না, গোবরে যেমন পদ্মফুল হয়- তেমনি গোলাপেও কাঁটা থাকে, মনে রাখিস।<br>এমন নাস্তা করলো যে ফাবিয়ান উঠতেই পারছে না। যাই হোক, নানীকে নিয়ে ঘরে গেল। তারপর স্যুটকেস খুলে সবার গিফট দেখালো। নানীকে নাওমী যা যা দিয়েছিল সব নানীর হাতে দিল। সে নিজেও যার যার জন্য যা কিছু কিনেছিল তাও দিল নানীকে। হার্বাল ওষুধ আর আইস বাম পেয়ে নানী খুব খুশি হলো। তারপর অন্যদের গিফটও দেখালো। নাটালি আর ডেভিডের গিফটও নানীকে দেখালো। এমনকি সারার স্বামী স্টিভেন গ্যালাটির জন্য খুব সুন্দর একটা ব্রান্ডেড ডার্ক ব্লু রঙের ব্লেজার এনেছে। এসব দেখে আমান্ডা খুব অবাক হলো মনে মনে। মুখে অবশ্য কিছু বললো না। এমনকি টনি আঙ্কেলের জন্যও একটা সার্ট এনেছে। কেভিন এবং রোডিকার জন্য পারফিউম এনেছে। সবেশেষে ডোরিনের জন্য আনা একটা দামী পারফিউম, সেটাও নানীকে দেখালো। তারপর ডায়মন্ডের রিংটা অবশেষে নানীর হাতে তুলে দিল, বললো-<br>: এটা তোমার কাছে রেখে দাও। যদি দরকার হয় তোমার কাছে থেকে নিয়ে নিব। যদিও আমি জানি যে আমার মন তৈরি নাই। আবার এটাও মনে হচ্ছে যে, সম্ভবত এ আংটিটার দরকারও হবে না।<br>: তাহলে কিনেছিস কেন?<br>: আমিতো কিনিনি নন্না। ঐ বোকা এবং মহৎ মেয়েটা যার মাথায় ক্যাবলই মহান হবার ভুত চেপেছে। ঐ নাওমীই কিনেছে।<br>: সত্যি! আশ্চর্য! আমার জানিস নাওমীকে খুব দেখতে ইচ্ছা করছে! এত্ত মহৎও কোন মানুষ হয়?<br>: ঠিকই বলেছো। আমি নিজেও আজ ২ দিন ধরে ক্যাবোলই এটাই ভেবে চলেছি।<br>: ফাবি, তোর হাত ব্যাগটাতো খুললি না? ওটার মধ্যে কিরে? বলতে বলতে আমান্ডা নিজেই ব্যাগটার চেইন খুলে ফেললো। দেখলো, ২/৩টা পুরনো সার্ট ফাবির আর একটা রূপালী রঙের র‌্যাপিং পেপারে মোড়া একটা বাক্স।<br>: নন্না, না, না- ওটা খুলো না প্লিজ।<br>: ওকে বাবা, খুলছি না- বলে আমান্ডা মুচকি হাসলো। ও ঠিকই বুঝতে পেরেছে ওর ভেতরে কি আছে? অবশ্যই সারার জন্য কিছু এনেছে। কিন্তু মায়ের ব্যাপারে সকলের সামনে এতটাই নেগেটিভ মাইন্ডেড থাকে যে, তার অসম্ভব এবং চাপা দেওয়া ভালোবাসাকে ও ক্যাবোলই লুকিয়ে রাখে। কিন্তু আমান্ডা তো শুধু ওর নানীই না, ওর বন্ধুও বটে! তাই আমান্ডা হাসি চেপে বলে-<br>: তা হ্যাঁরে, এসব শপিং করলো কে? তুইতো আবার শপিং করবার মানুষ না।<br>: হ্যাঁ নন্না, ঠিকই বলেছো। যা কিছু দেখছো এর সবই আমি আর নাওমী কিনেছি। অবশ্য তোমার জন্য মালিশ করবার মলম তোমার পায়ের ব্যাথার জন্য ইলেক্ট্রিক প্যাড সব ও কিনেছে।<br>: নাহ্! মেয়েটাকে খুব দেখতে ইচ্ছা করছে।<br>: হু! তাতো দেখবেই। তুমি তো খুব শিঘ্রিই যাবে, তাই না?<br>: ক্যানো বাপু, এই বুড়িটাকে টানাটানি করছিস? তোর নানার ভিটেতেই আমাকে মরতে দে।<br>সাথে সাথে ফাবিয়ান ঝাঁপিয়ে পড়ে নানীর মুখ চেপে ধরে। এবং নানীর কোমর জড়িয়ে ধরে কোলের মধ্যে মুখ লুকায়-<br>: আচ্ছা পাগল ছেলে তো! আরে বাপু, বুড়ো হয়েছি, মরতে তো একদিন হবেই। আমান্ডা ফাবির পিঠের উপর আদরের চাপড় মারতে মারতে বললো-<br>: না, তুমি কখনো এই কথাটা বলবে না। যদি বলো আমার মরা মুখ দেখবে।<br>: বালাই ষাট, ওকি কথা? আমার সাথে তোর কি তুলনা। আচ্ছা রূপালী র‌্যাপ করা প্যাকেটের জিনিসগুলো কে কিনেছে রে? সেটাতো বলবি?<br>: উ… উ… সব গিফটই নাওমী আর আমি মিলেই কিনেছি। শুধু তোমার গুলো ও একাই কিনেছে।<br>: ও বাব্বা, কত কি?<br>ফাবিয়ান ঐ প্রসঙ্গ ঘুরাবার জন্য তাড়াতাড়ি কিছু গিফট হাতে নিয়ে (রোডিকা আন্টিদের) বাসায় যাবার জন্য উঠে দাঁড়ালো। তারপর নানীকে বললো-<br>: ওকে নন্না, আমি তাহলে ও বাড়ি থেকে ঘুরে আসছি। আর বিকালে রায়ানদের বাড়ি যাবো ওদের গিফট দিতে।<br>: তা দুপুরের খাবার কি ও বাড়ি থেকে খেয়ে আসবি?<br>: বুঝতে পারছি না। পরিস্থিতির উপর নির্ভর করবে। (চলবে)</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="300" height="279" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2021/05/রীনা-গুলশান-1.jpg" alt="" class="wp-image-4859" style="aspect-ratio:1.0752730327639317;width:157px;height:auto"/><figcaption class="wp-element-caption">রীনা গুলশান</figcaption></figure>
</div>


<p class="wp-block-paragraph"><em>রীনা গুলশান, টরন্টো<br>gulshanararina@gmail.com<br>(লেখক রীনা গুলশান বাংলা সাহিত্যে মাস্টার্স। ইতিপূর্বে বাংলাদেশের বিভিন্ন দৈনিক, সাপ্তাহিক এবং মাসিকে তার কবিতা, ছোটগল্প, প্রবন্ধ, রম্য রচনা প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত হয়েছে কানাডার বিভিন্ন বাংলা পত্রিকাতেও। তিনি ‘প্রবাসী কণ্ঠ’ ম্যাগাজিন এর একজন নিয়মিত কলামিস্ট।)</em></p>



<p class="wp-block-paragraph"></p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>নিভৃতে</title>
		<link>https://probashikantho.com/2026/02/08/%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%ad%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a7%87-14/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 08 Feb 2026 20:25:05 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Literature]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=12360</guid>

					<description><![CDATA[রীনা গুলশান (পূর্ব প্রকাশিতের পর) সূর্যটা ডুব মেরেছে অনেকক্ষণ হলো। যদিও উঠোনের উপর এখনো অবদি রয়েছে আলো-ছায়ার খেলা। রাতে কোন]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph"><strong>রীনা</strong><strong> </strong><strong>গুলশান</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">(পূর্ব প্রকাশিতের পর)</p>



<p class="wp-block-paragraph">সূর্যটা ডুব মেরেছে অনেকক্ষণ হলো। যদিও উঠোনের উপর এখনো অবদি রয়েছে আলো-ছায়ার খেলা। রাতে কোন একটা নাম না জানা পাখি জলপাই গাছের মগডালের বসে সমানে ডেকে চলেছে। আর এটা তো সেই কুটুম পাখি। ওর শাশুড়ি বলতেন, এটাকে ‘কুটুম পাখি’ বলে। আমান্ডা হেসে ফেললো। রকিং চেয়ারে শুয়ে হেলান দিয়ে। ওর কাছে আবার কোন কুটুম (অতিথি) আসবে? আছেটা কে? মা-বাবা, ভাইবোন কেউ নাই। থাকার মধ্যে আছে ওর মেয়েটা আর নাতি ৩ জন! তার মধ্যে তার ফাবিয়ান তো কোথায় যে পড়ে রয়েছে, কে জানে? কত দিন আসে না? পায়ের ব্যাথা আর অসম্ভব ক্লান্তিতে আমান্ডা রকিং চেয়ারে হেলান দিয়ে বুঝি একটু ঘুমিয়েই পড়েছিল। হঠাৎ কেমন একটা অদ্ভুত অনুভূতিতে অথবা হালকা কোন শব্দে চোখ মেলে চাইলো। চোখ মেলেই বিস্ময়ে স্তব্ধ হয়ে রইলো। দেখলো তার সামনেই দাঁড়িয়ে তার ফাবিয়ান। বুকের উপর দুই হাত দিয়ে সেই ছেলেবেলার মত মাথাটা হালকা কাত করে দুষ্টু দুষ্টু হাসছে। একি স্বপ্ন? হ্যাঁ, অবশ্যই স্বপ্ন। রাত-দিন ঐ পাজীটার কথা ভেবে ভেবে এই অবস্থা। আমান্ডা আবার চোখ বন্ধ করে ফেললো। ভাবলো অবশ্যই স্বপ্ন। স্বপ্নটা খুব সুন্দর। অতি আকাক্সিক্ষত স্বপ্ন। হঠাৎ আমান্ডা দেখলো সেই স্বপ্নটা ঝুপ করে মাটিতে বসে ছেলেবেলার মত ওর কোমর জড়িয়ে ধরে ওর কোলে মুখ গুঁজে দিয়েছে। আমান্ডার মনে হলো একটা দীর্ঘ স্বপ্নের ভেতর দিয়ে দৌড়ে বাস্তবে লাফিয়ে আসলো তার আকাক্সক্ষা। ওমা! এ যে সত্যি! তার ফাবিয়ান। তার সোনা পাখি। ওহ্! হো&#8230;ও ও আমান্ডা ফাবির মাথাটা হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো। এই প্রায় ৫ বছরের জমানো মেঘ আজ বর্ষণের মধ্য দিয়ে ঝরিয়ে ফেললো। এদিকে ফাবিয়ানও নানীর কোলে মুখ ডুবিয়ে অঝোরে কেঁদে চলেছিল। আর তার নানীর কোলে মুখ ডুবিয়ে তার বাল্যের, কৈশোরের এবং যৌবনের সেই সোঁদা গন্ধ নিচ্ছিলো। অনেকক্ষণ পর্যন্ত কেউ কোন কথা বললো না। অনেকক্ষণ। কে জানে কতক্ষণ পর আমান্ডাই তার আদরের সোনা পাখির মুখ তুলে ধরে, কপালে চুমু দিলো। এতক্ষণে মুখ দিয়ে কথা বের হলো-</p>



<p class="wp-block-paragraph">: ওঠ! পাগল ছেলে। কেমন করে মাটিতে লেপ্টে বসেছে সেই ছেলেবেলার মত। বড় আর হলো না। ওঠ, ওঠ-যা দৌড়ে যা একেবারে গোসল করে আয়। আমি তোর রাতের খাবারের যোগাড় করি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: না, তোমাকে কিচ্ছু করতে হবে না- বলে ফাবিয়ান। ও ওর নানীকে আবার জড়িয়ে ধরে মুখে, কপালে অনেকগুলো চুমো খেলো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: হু বললেই হলো, কিচ্ছু করতে হবে না। এখন তো আমান্ডার শরীরে হাতির শক্তি ফিরে এসেছে!</p>



<p class="wp-block-paragraph">: সারা দিন ঠিক মত খেয়েছিস কিনা তার নাই ঠিক।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: নন্না, আমি কি এক ছুটে ও বাড়ি হয়ে আসবো?</p>



<p class="wp-block-paragraph">: মানে, ডোরিনদের বাড়ির কথা বলছিস? আমান্ডাকে কি রকম সঙ্কুচিত এবং ভিত দেখালো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: না, না- তার আর দরকার নাই। এখন প্রায় রাত ১০টা বাজে, ওরা আজকাল খুব জলদি জলদি ঘুমায়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: কি যে বল তুমি নন্না, তার নাই ঠিক। ডোরিন রাত ১২টার আগে বিছানায়ই যায় না। তুমি খাবার রেডি কর আমি এক ছুটে একটু হাই বলে আসি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: আচ্ছা! তাহলে জলদি করে আয়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ফাবিয়ান প্রায় ছুটতে ছুটতে ডোরিনদের বাড়ির দিকে চললো। তার বুকের মধ্যে যেন ড্রামের বীট হচ্ছিল। একটা অসম্ভব ভালো লাগায় হৃদয়ের ভেতরে দ্রবীভূত হচ্ছিলো। নাম না জানা ভালোবাসায় আচ্ছন্ন ছিল শরীরের প্রতিটি তন্ত্রী। আবার বেশ খানিকটা আশঙ্কা কাজ করছিল। সব মিলিয়ে দারুণ একটা উত্তেজনা ছিল। বাড়ির সামনে গিয়ে সে অবাক হলো। সত্যি বাড়িটা কি রকম নিঝুম মেরে আছে। কোন সাড়া শব্দ নাই। ভেতরের দিকে অবশ্য একটা টিমটিমে বাতি দেখা গেল। ফাবিয়ান খুবই ইতস্তত মনে ওদের ডোরবেল বাজালো। ২/৩ বার ডোরবেলের শব্দে একটা শব্দ এলো-</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full"><img decoding="async" width="288" height="457" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2024/09/নিভৃতে.jpg" alt="" class="wp-image-9956" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2024/09/নিভৃতে.jpg 288w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2024/09/নিভৃতে-189x300.jpg 189w" sizes="(max-width: 288px) 100vw, 288px" /></figure>
</div>


<p class="wp-block-paragraph">: কে? আঙ্কেল কেভিনের কণ্ঠ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: আমি ফাবি, দরজাটা কি একটু খোলা যাবে?</p>



<p class="wp-block-paragraph">খুব দ্রুত একটা চম্পলের শব্দ করে একটা মানুষ দরজার কাছে এলো। আর তখুনি সবগুলো বাতি জ্বলে উঠলো যেন এক সাথে। কেভিনের প্রায় পেছনেই রোডিকাও চলে এলো দরজার কাছে। দরজা খুলেই প্রচণ্ড বিস্ময়ে ফাবিয়ানের দিকে চেয়ে রইলো ওরা দুজন। দুজনেরই মুখে একই সাথে খেলা করছিল নানান অভিব্যক্তি। আনন্দ, বিস্ময় আবার একই সাথে কেমন যেন সংকোচ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: ফাবিয়ান তুমি, কখন এলে? কেভিন আর রোডিকা প্রায় একই সাথে জিজ্ঞাসা করলো চেঁচিয়ে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: এই তো আঙ্কেল ঘন্টা খানেক আগে। এখনো এমনকি ফ্রেশ রুমেও যাইনি। তার আগেই ছুটে এলাম আপনাদের একটিবার দেখতে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: আচ্ছা, আচ্ছা। আগেতো ওকে ভেতরে আসতে দাও, বলতে বলতে রোডিকা ফাবিয়ানকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেললো। ফাবিয়ান মনে মনে খুবই বিস্মিত হলো রোডিকার কান্নায়। তবু ভেতরে গেল আন্টির হাত ধরে। লিভিং রুমে বসে চার দিকে চাইলো। নাহ্! ঘরের কোন কিছু তেমন বদলায়নি। শুধু মানুষগুলোই এই মাত্র ৫ বছরেই কেমন যেন খুব দ্রুত বদলে গেছে। আঙ্কেল কেভিন কেমন যেন বুড়িয়ে গেছে। আর রোডিকা আন্টি এমনিতেই বেশ স্লিম ছিল, কিন্তু এখন আরো অনেক শুকিয়ে গেছে। আর কপালে বেশ অনেকগুলো বলিরেখা পড়েছে। মুখের সেই চকচকে ভাবটাও নাই। কত আর বয়স? তার মায়েরই সমবয়সী। তাহলে এই বয়সে এ রকম অবস্থা কেন?</p>



<p class="wp-block-paragraph">: তো আপনারা সবাই কেমন আছেন?</p>



<p class="wp-block-paragraph">: আর! আমাদের আবার থাকা। বেঁচে আছি বাবা- কেভিনই জবাব দিল কেমন যেন বিষন্ন কণ্ঠে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ফাবিয়ান খুব অবাক হলো। কারণ, আঙ্কেল কেভিন জীবন দর্শনে খুবই পজেটিভ ধরনের মানুষ। সারা জীবন দেখেছে তাকে সারাক্ষণ হৈ চৈ করে থাকতে। রোডিকা আন্টি বললো-</p>



<p class="wp-block-paragraph">: তো হঠাৎ করে এলি যে বড়?</p>



<p class="wp-block-paragraph">: না, ঠিক হঠাৎ নয়। মানসিক প্রস্তুতি ছিল অনেক দিন ধরেই। শুধু পাসপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। ওটা হাতে পেলাম ২/৩ মাস আগে। তবে এসেছি না জানিয়ে যে, আপনাদের একটু অবাক করে দেবো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: রায়ান এসেছে?</p>



<p class="wp-block-paragraph">: না, ও আসবে আগামী বছর। ওর গত মাসে এনগেজমেন্ট হয়েছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: তাই-ই, দারুন খবর। কার সাথে হলো?</p>



<p class="wp-block-paragraph">: ঐ, ওর সেই মটু মামার মেয়ে মিরান্ডার সাথে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: ও! তা তুই কিছু খাবিতো?</p>



<p class="wp-block-paragraph">: নাহ্! আন্টি আমি এখনো ধরা চুড়োই ছাড়িনি। গোসলও করিনি। নন্নাকে তো জানেনই এতক্ষণে দৌড়াদৌড়ি শুরু করেছে আমার খাবারের জন্য। তো আন্টি ডোরিনকে দেখছি না যে। এতক্ষণে দেখলাম না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: ও, ওতো- মানে এখনো পর্যন্ত কাজ থেকেই আসেনি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: সেকি? এত রাত, এখনতো প্রায় রাত এগারোটা।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: হু! জানি না, আজ কেন এত দেরি হচ্ছে- বলেই রোডিকা চকিতে তার স্বামীর দিকে চাইলো। এমন সময় বাইরে একটা গাড়ির জোর ব্রেক করার শব্দ শুনলো। ওদের লিভিং রুমের জানালা দিয়ে বাড়ির সামনের গেইটের সমস্তটা দেখা যায়। ফাবিয়ান পর্দাটা সরিয়ে বাইরে দেখলো, একটা ঝকঝকে গাড়ি (মনে হচ্ছে ক্যাডিলাক! এই ছোট্ট শহরে এত দামী গাড়ি। রাতের বেলায় তাই দূর থেকে রঙটা ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। স্বল্প আলোয় মনে হচ্ছে সিলভার এ্যাশ রঙের গাড়িটা) থেকে ডোরিন নামলো। আর ড্রাইভিং সিট থেকে একটু টলমলে পায়ে একজন যুবক নামলো। তারপর ডোরিনকে জড়িয়ে চুম্বন করলো। না, এটা বিদায়ী চুম্বন না, গভীর নিমগ্ন প্রেমময় চুম্বন। দুজন যেন দুজনকে ছাড়তেই চাইছে না। তারপর ডোরিন কোনমতে নিজেকে ছাড়িয়ে নিল। একটু পর বেশ টলমলে পায়ে দরজায় বেল টিপলো। আর দরজা খুললো স্বয়ং ফাবিয়ান। ডোরিনের অবশ্য কোন দিকে দেখবার মত শারীরিক অবস্থানে ছিল না। কোন মতে ঘরে ঢুকে তার বেডে শুয়ে পড়তে চাইছে। কাজ শেষ হয়েছে সন্ধ্যা ৬টায়। তারপর থেকে ম্যাথিউয়ের সাথে নাইট ক্লাবে হৈ হুল্লাড়ে মেতে ছিল। আজ আবার ওদের একটা কমন বন্ধু ব্রোনটি জেলিশপাই-এর জন্মদিন ছিল। ও আবার ক্লাবে জন্মদিনের পার্টি দিয়েছিল। অজস্র মদের ফোয়ারা। যে যত খুশি খাও আর সাথে ছিল পিৎজা আর ক্রিসপি ক্যাসুনাট। আজ ডোরিন মারাত্মক ড্রাঙ্ক হয়ে গেছে। অবশ্য প্রায় প্রতি রাতেই ফেরে মদ খেয়ে। মাঝে মধ্যে রাতে ফেরেই না। কোন কোন সময় ৭/৮ দিনের জন্য ম্যাথিউকে নিয়ে কোথাও হলিডে স্পেন্ড করতে যায়! ম্যাথিউ ছেলেটা দারুন, ওর জীবন যাপন, শারীরিক, মানসিক, এমনকি অর্থনৈতিক দিক দিয়েও সব কিছু বদলে দিয়েছে। মনটাও খুব বড়। ধনী হলেই যে তার মনটা বড় হবে এমনতো কোন কথা নেই। তো ম্যাথিউ আসলেও বিশাল হৃদয়ের। ওকে যখন তখন খুবই দামী দামী উপহার দিয়ে দারুণ সারপ্রাইজ করে দেয়। এমনকি ম্যাথিউ-এর বাড়িতে যে ‘স্পা এবং বিউটি সাপ্লালাইয়ের’ যে পার্লার দিয়েছে, সেখানে আগে ও শুধু একজন ‘হেয়ার স্টাইলিস্ট’ই ছিল। কিন্তু এখন তা নয়। এখন ম্যাথিউ তাকে ওটার ম্যানেজার করে দিয়েছে। ম্যাথিউ তাকে শুধু যে স্বপ্ন দেখায় তাই-ই নয়, সে তাকে স্বপ্নের বেদিতে বসিয়ে দেয়। ওর বাবা-মাও খুব ভালো মানুষ। তারা অবশ্য এখানে থাকে না। কিন্তু ৫/৬ মাস পর পরই আসে। ম্যাথিউর বাবা ‘রোমে’ থাকে। ওখানেও ওদের অনেক বড় ব্যবসা। কিন্তু ম্যাথিউ নিজে কিছু করতে চাইছিল। অন্য কোন শহরে। ওখানে তার ভাল লাগছিল না। ওর সব সময় ছোট শহর ভাল লাগে। ওদের একমাত্র বোন নিকোল গ্যারিসটো, প্যারিসের একজন ‘বিউটি আর্টিস্ট’। নিকোল প্যারিসে বেশ ভালভাবে জমিয়ে বসেছে। আগে চাকরি করতো। এখন নিকোল এবং তার বহু দিনের বয়ফ্রেন্ড ববটেইলর নিজেদের ব্যবসা খুলে বসেছে। নিকোল ম্যাথিউর থেকে ৩/৪ বছরের বড়। এরাও একবার এসেছিল ভ্যালেল্যংগাতে। ডোরিনকে দেখে গেছে, তাদের খুব পছন্দ হয়েছে। ম্যাথিউয়ের বাবা-মায়েরও গোড়া থেকেই ডোরিনকে খুবই পছন্দ। কারণ, ম্যাথিউয়ের বাবাই এখানে একদা বেড়াতে এসে এই ভ্যালেলংগা এতটাই পছন্দ হয়েছিল যে, সে এখানে সেটেলড করার কথা ভেবেছিল। পরে তারা আবার রোমে ফিরে গেলেও ম্যাথিউ আর যায় নাই। সেও তো সাড়ে ৪ বছর আগের কথা। আর ম্যাথিউ সেই প্রথম দেখাতেই ডোরিনের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আজ ব্রোনটির জন্মদিনের পার্টি আসলে একটা অবতারণা, ডোরিনকে মজা করে প্রোপোজাল করবার। যার জন্য ওদের পার্লারের সবাইকে ইনভাইট করেছে। এছাড়া ম্যাথিউয়ের বেশ কিছু বন্ধুদেরও ইনভাইট করেছে। ডোরিনও আজ মাতাল করা সাজে এসেছিলো। গোল্ডেন কাঁধ খোলা লং ড্রেস, মাথার মধ্য ভাগ পর্যন্ত উঁচু করে পনিটোল। গলায় একটা লম্বা কুন্দনের সোনালী রঙের চোখার। মনে হচ্ছে আকাশ থেকে নেমে আসা পরি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">কেক কাটার আগেই হঠাৎ ম্যাথিউ সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললো, আমি কিছু কথা বলতে চাই, তোমাদের কারো কোন আপত্তি আছে?</p>



<p class="wp-block-paragraph">সবাই সমস্বোরে চিল্লালো, নাই-ই, বল? কি বলবে?</p>



<p class="wp-block-paragraph">ম্যাথিউ আস্তে আস্তে&nbsp; ডোরিন-এর দিকে এগিয়ে এলো। হঠাৎ ওর এক হাত সামনে হাঁটু গেড়ে বসে পড়লো এবং দু’হাত দুদিকে দিয়ে নাটকীয় কায়দায় এক চিৎকার করে বললো-</p>



<p class="wp-block-paragraph">: হে আকাশ থেকে নেমে আসা পরি, আমি তোমাকে ভালোবাসি। সারা জীবন পাগলের মত ভালোবাসতে চাই। তোমার উত্তরাধিকারদের বাবা হতে চাই! তুমি কি আমাকে বিয়ে করতে সম্মত আছো? বলেই পকেট থেকে একটি আংটি বের করলো, আর ডোরিনের সামনে তুলে ধরলো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সবাই চিৎকার করে হ্যাঁ বল, হ্যাঁ বল করে তালি দিয়ে যাচ্ছে!</p>



<p class="wp-block-paragraph">ডোরিন লাজুক হেসে বাম হাত বাড়িয়ে বললো, বিয়ে করবো কিনা জানি না, তবে এই মুহূর্তে বাম হাতের অনামিকায় তোমার আংটি পরতে রাজি!</p>



<p class="wp-block-paragraph">সবাই হৈ হৈ করে তালি দিয়ে উঠলো। ম্যাথিউ উঠে দাঁড়িয়ে ওর অনামিকায় আংটি পরিয়ে দেয়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আংটি দেখে ডোরিন অভিভূত। রুবি, ওভেল শেফ আর চারপাশে ডায়মন্ড। অনেক আগে কথা প্রসঙ্গে ডোরিন ম্যাথিউকে এমন একটি পছন্দের কথা বলেছিল। ডোরিনের চোখে আনন্দ অশ্র“ এসে পড়লো। ম্যাথিউ ওর হাত নিয়ে চুম্বন করলো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তারপর তারা পার্টিতে প্রচুর হৈ চৈ করলো। আনন্দে আজ দুজন প্রায় মাতাল হয়ে গেলো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তারপর ম্যাথিউ ডোরিনকে নিয়ে চলে এলো, ডোরিনকে ড্রপ করবার জন্য।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তবে আজ ম্যাথিউ বিশেষ কথা বলছিল না। ডোরিনই আনন্দে অনেক কথা বলছিল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তবে তার বাবা-মা, বোনদের জলদিই ডাকবে তার বিয়ের জন্য। এটা কনফার্ম করলো। তখন ডোরিন হাসতে হাসতে বললো-</p>



<p class="wp-block-paragraph">: কি ব্যাপার, আজ দেখি তোমার মুখে কোন কথা নাই। অন্যদিন তো তোমার কথার তোড়ে আমার শব্দ হারিয়ে যায়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: কি করবো বল? তোমাকে কাছে পেলে শব্দের পাখিরা ডানা মেলে উড়ে যায়। তাই, কি যে বলবো বুঝেই পাই না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: ইস! এ যে একেবারে কবি কবি ভাব।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: হু! তাহলেই বোঝ তোমাকে ভালোবেসে আমি আরো যে কত কি হবো, বুঝতে পারছি না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: ওকে বাপু, আজই মা-বাবাকে বলবো। হলো এবার?</p>



<p class="wp-block-paragraph">ডোরিনের মন আজ সত্যিই আনন্দে ভরপুর। মনে হচ্ছে এই মুহূর্তে ওর মত সুখী এই পৃথিবীতে আর কেউ নাই। জীবনে যা কিছু চেয়েছে, সব ওর হাতের মুঠোয়! এ যেন সেই একটি অনামিকা, একটি আংটি, আর এক মুঠো স্বপ্ন ভরা সুখ। ডোরিন তাই আনন্দে অনেক বেশি মাতাল হয়ে গেছে। কিছু কিছু অনুভূতি থাকে যার জন্য মাতাল হতে খুব ভালো লাগে। খুউব বেশি দুঃখ আবার খুব বেশি আনন্দ। বেশ টাল হয়ে ছিল। এলোমেলো পায়ে এসে বেল বাজালো। মুহূর্তে দরজা খুলে দিলো ফাবিয়ান।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ডোরিন বেশ কিছুক্ষণ হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। কিছুক্ষণ নাকি বহুক্ষণ, তারপর দরজার চৌকাঠ ধরে চোখ টেনে ধরে ফাবিয়ানের দিকে তাকিয়ে হাসলো-</p>



<p class="wp-block-paragraph">: আরে মিস্টার ফাবিয়ান! কো&#8230; থা থেকে উদয় হলে? আসমান থেকে? নাকি পাতাল ফুড়ে?</p>



<p class="wp-block-paragraph">: এই তো- ফাবিয়ান বেশি কথা বলতে পারে না। আসলে বহু দিনের অন্তর্হিত আবেগ ওর কণ্ঠের মধ্যে দলা পাকায়। মারাত্মক আবেগে দিশেহারা অবস্থা। তাছাড়া ডোরিনকে দেখেই ওর জীবনের সমগ্র অতীতটা যেন সামনে এসে দাঁড়ালো। আবার ডোরিনকে এভাবে দেখবার জন্যও ফাবি মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিল না। ওর এখন এমন অবস্থা যে, না পারছে কথা বলতে, না পারছে নিজেকে থামাতে। অজস্র কথার মালা যা ও প্লেনে আসবার সময় গেঁথেছে, তার সব একে একে বলবার জন্য ওর হৃদয় আকুপাকু করছে। কিন্তু ডোরিন তার সমস্ত আবেগের পরে নির্জলা খুব শীতল জল ঢেলে দেয়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: ওহ্! ফাবি, আমি খুবই দুঃখিত। অসম্ভব ক্লান্ত আমি- বলতে বলতে বড় করে হাই ওঠায় তারপর ফাবির দিকে না তাকিয়েই বলে-</p>



<p class="wp-block-paragraph">: ওকে, কাল দেখা হবে- বলেই শ্লথ গতিতে তার শোবার ঘরে যেয়ে দরজা বন্ধ করে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ফাবিয়ান অবাক হতেও যেন ভুলে গেল। আন্টি রোডিকার এবং কেভিন আঙ্কেলের কথাবার্তা শুনে মনে হচ্ছিলো যে, ডোরিনের কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। এমনকি তার নানীও বারবার ডোরিনের প্রসঙ্গে অন্য কথার অবতারণা করছিল। জেসন আর ওর বৌও বারবার ডোরিনের প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাচ্ছিলো। ফাবিয়ান ধারণা করেছিল যে, ডোরিন তাকে আর পছন্দ করে না। আর এটাই হয়তোবা এদের সকলের এড়িয়ে যাবার কারণ। কিন্তু এভাবে ও কল্পনাও করেনি। মানুষতো পরিবর্তনশীল। ডোরিনেরও যে পরিবর্তন হবে, এটা অবশ্যাম্ভাবী। কিন্তু এরকম পরিবর্তন ডোরিনের ক্ষেত্রে ঠিক ও আশা করেনি। ফাবিয়ানের আত্মস্থ হতে সময় লাগলো। ও বেশ তাড়াতাড়ি রোডিকা এবং কেভিনের কাছে বিদায় চাইলো-</p>



<p class="wp-block-paragraph">: ওকে তাহলে আমিও যাই, রাত হয়েছে- নানী অপেক্ষা করছে। কাল আসবো। কালতো ডোরিনের ছুটি বললেন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: হ্যাঁ, হ্যাঁ ফাবি, সেই ভালো। একেবারে কালই এসো। আমরা এক সাথে লাঞ্চও করবো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">: ঠিক আছে কাল আসবো। তবে লাঞ্চের কথা ঠিক বলতে পারছি না। নানীকে তো আপনারা জানেনই। (চলবে)</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="300" height="279" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2021/05/রীনা-গুলশান-1.jpg" alt="" class="wp-image-4859" style="aspect-ratio:1.0753290394847381;width:140px;height:auto"/><figcaption class="wp-element-caption">রীনা গুলশান</figcaption></figure>
</div>


<p class="wp-block-paragraph"><em>রীনা গুলশান, টরন্টো<br>gulshanararina@gmail.com<br>(লেখক রীনা গুলশান বাংলা সাহিত্যে মাস্টার্স। ইতিপূর্বে বাংলাদেশের বিভিন্ন দৈনিক, সাপ্তাহিক এবং মাসিকে তার কবিতা, ছোটগল্প, প্রবন্ধ, রম্য রচনা প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত হয়েছে কানাডার বিভিন্ন বাংলা পত্রিকাতেও। তিনি ‘প্রবাসী কণ্ঠ’ ম্যাগাজিন এর একজন নিয়মিত কলামিস্ট।)</em></p>



<p class="wp-block-paragraph"></p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>উত্তর আমেরিকার চালচিত্র</title>
		<link>https://probashikantho.com/2025/11/18/%e0%a6%89%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%b0-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Tue, 18 Nov 2025 21:18:32 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Literature]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=12028</guid>

					<description><![CDATA[সাইদুল হোসেন : ‘উত্তর আমেরিকার চালচিত্র’ বইটি লিখেছেন নজরুল ইসলাম মিন্টো। তিনি উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশ সমাজে এক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। সেই]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph"><strong>সাইদুল হোসেন</strong> : ‘উত্তর আমেরিকার চালচিত্র’ বইটি লিখেছেন নজরুল ইসলাম মিন্টো। তিনি উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশ সমাজে এক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। সেই ১৯৯১ সনে টরন্টো থেকে প্রকাশিত সর্বপ্রথম সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা ‘দেশে বিদেশে’ প্রকাশের সাহসী উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি পত্রিকাটির প্রধান সম্পাদক।</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full is-resized"><img decoding="async" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2025/11/বই.jpg" alt="" class="wp-image-12029" style="width:251px;height:auto"/></figure>
</div>


<p class="wp-block-paragraph">তবে জনাব মিন্টো শুধুমাত্র একজন সম্পাদক ও পত্রিকা প্রকাশকই নন, তাঁর মেধা ও কুশলতা অন্যান্য ক্ষেত্রেও ছড়িয়ে আছে। তিনি একাধারে – সাংবাদিক, লেখক ও সংগঠক। একজন মিডিয়া পেশাজীবী। আযান টিভি ও ঝংকার টিভি’র প্রতিষ্ঠাতা। এছাড়াও তিনি প্রতিষ্ঠাতা ‘বাংলাদেশ ওয়েলকাম সেন্টার ক্যানাডা’র। &nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">জনাব মিন্টোর ‘উত্তর আমেরিকার চালচিত্র’ বইটি পড়ার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। বইটি অতি সুখপাঠ্য এবং বহু বিষয়ে তথ্যবহুল রচনা যা গর্বের সাঙ্গে অন্যান্য বিখ্যাত সব লেখকদের কাতারে মাথা উচুঁ করে দাঁড়াতে পারে। নিজস্ব হোম লাইব্রেরীতে শোভা পেতে পারে। প্রিয়জনকে উপহার দেয়া যেতে পারে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">কি আছে এই বইতে সেটার তালিকা তৈরী করতে গিয়ে বইয়ের মলাটে পেয়ে গেলাম সব বর্ণনা, যা এরকম :</p>



<p class="wp-block-paragraph">“উত্তর আমেরিকার চালচিত্র কেবল আমেরিকা ও কানাডাকেন্দ্রিক নয় – এটি ‘তৃতীয় বাংলা’য় বসবাসকারী প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ের ছবি। লেখক তাঁর প্রায় পঞ্চাশ বছরের প্রবাস জীবনের প্রত্যক্ষ্য অভিজ্ঞতার আলোকে এই চালচিত্রে তুলে ধরেছেন প্রবাসী জীবনের বহুমাত্রিক রূপ, আবেগ, সংগ্রাম ও সাফল্যের নানা দিক।</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="400" height="446" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2025/11/Untitled-1-1.jpg" alt="" class="wp-image-12030" style="width:248px;height:auto" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2025/11/Untitled-1-1.jpg 400w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2025/11/Untitled-1-1-269x300.jpg 269w" sizes="(max-width: 400px) 100vw, 400px" /><figcaption class="wp-element-caption">নজরুল ইসলাম মিন্টো। ছবি : ফেসবুক</figcaption></figure>
</div>


<p class="wp-block-paragraph">গ্রন্থটিতে একদিকে উঠে এসেছে আমেরিকা-কানাডার মূলধারার সামাজচিত্র, অন্যদিকে তুলে ধরা হয়েছে প্রবাসী বাঙালি কমিউনিটির সুখ-দুঃখ, উৎসব-অনুষ্ঠান ও আত্মিক টানাপোড়নের বিচিত্র কাহিনী।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এখানে স্থান পেয়েছে পশ্চিমা সংস্কৃতির রঙিন অধ্যায়; পাশাপাশি রয়েছে বাঙালি ঐতিহ্যের উজ্জ্বল উপস্থিতি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">নানান তথ্য, অভিজ্ঞতা ও বিশ্লেষণে সমৃদ্ধ এ গ্রন্থের প্রতিটি লিখায় ছড়িয়ে আছে লেখকের সূক্ষ্ম রসবোধ, জীবনবোধ ও প্রজ্ঞার ছাপ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">প্রবাসীদের দেশপ্রেম, তাদের মেধা, শ্রম, সততা ও বাঙালি কৃতি সন্তানদের সাফল্যের চিত্র ইতঃপূর্বে কেউ এমন করে তুলে ধরেনি।”</p>



<p class="wp-block-paragraph">বইটি প্রকাশ করেছে ঢাকার অভ্র প্রকাশন। কানাডায় প্রাপ্তিস্থান : এটিএম মেগা স্টোর, ২৯৭২ ড্যানফোর্থ, টরন্টো। দাম ৪০ ডলার। সংস্করণ: ২০২৫। পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৫৬। বইটিতে বৈচিত্রপূর্ণ ৬৬ টি লেখা রয়েছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমি এই মূল্যবান বইটার সমাদর ও বহুল প্রচার কামনা করি। বইটার লেখককে জানাই আন্তিরিক ধন্যবাদ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সাইদুল হোসেন</p>



<p class="wp-block-paragraph">মিসিসাগা</p>



<p class="wp-block-paragraph"></p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>টরন্টোতে বিদ্যাসাগর- জীবনানন্দ দাশ সন্ধ্যা</title>
		<link>https://probashikantho.com/2025/11/03/%e0%a6%9f%e0%a6%b0%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a7%8b%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%97%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a7%80%e0%a6%ac/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Mon, 03 Nov 2025 21:45:22 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Community]]></category>
		<category><![CDATA[Literature]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=12021</guid>

					<description><![CDATA[মোয়াজ্জেম খান মনসুর : গত ২৬ শে অক্টোবর, শনিবার ২০২৫ বাংলা সাহিত্য পরিষদ টরন্টো, ক্যানাড ‘র &#160;উদ্যোগে আয়োজিত হয় ঈশ্বরচন্দ্র]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-large is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="1024" height="151" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2025/11/বক্তাগণ-1024x151.jpg" alt="" class="wp-image-12023" style="width:1125px;height:auto" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2025/11/বক্তাগণ-1024x151.jpg 1024w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2025/11/বক্তাগণ-300x44.jpg 300w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2025/11/বক্তাগণ-768x113.jpg 768w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2025/11/বক্তাগণ.jpg 1200w" sizes="(max-width: 1024px) 100vw, 1024px" /><figcaption class="wp-element-caption">আলোচনা ও অবৃত্তিতে অংশগ্রহণকারী কবি,সাহিত্যিক, গবেষক, লেখক ও সাংবাদিকগণ</figcaption></figure>
</div>


<p class="wp-block-paragraph">মোয়াজ্জেম খান মনসুর : গত ২৬ শে অক্টোবর, শনিবার ২০২৫ বাংলা সাহিত্য পরিষদ টরন্টো, ক্যানাড ‘র &nbsp;উদ্যোগে আয়োজিত হয় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর- জীবনানন্দ দাশ সন্ধ্যা ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">টরন্টো শহরে হেমন্ত ঋতুর বাতাসে কার্তিকের আকাশে হালকা শীতের হীমেল কোলাহল। প্রকৃতি জুড়ে দৃশ্যমান ঋতু বদলের পালা। ম্যাপল লীফ ,পাইন গাছের পল্লবে -পল্লবে চলছে রং বদলের খেলা । লাল, কমলা, বেগুনী রঙে -রঙে সেজে গুজে এবার হেমন্তের বিদায়ের পালা। মৌসুম তার বদল দিনে বলে যায় মনে রেখো আমারে! &#8220;সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন সন্ধ্যা আসে।&#8221;</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="400" height="265" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2025/11/জয়ন্তী-২.jpg" alt="" class="wp-image-12024" style="width:573px;height:auto" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2025/11/জয়ন্তী-২.jpg 400w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2025/11/জয়ন্তী-২-300x199.jpg 300w" sizes="(max-width: 400px) 100vw, 400px" /></figure>
</div>


<p class="wp-block-paragraph">শহুরে সন্ধ্যার বাতি জ্বেলে টরন্টো শহরের একদল কবি,সাহিত্যিক গবেষক, লেখক,সাংবাদিক ও সাহিত্য বোদ্ধা এসে জড়ো হন বাংলার দুই নক্ষত্রের স্মরণে এক সাহিত্য আসরে । বন্ধু কেমন আছ বল! এমনি ধারার কোলাহল, আনন্দ ও কুশল বিনিময় চলে কিছুক্ষণ। তার সাথে ধুমায়িত চায়ের কাপে কফির পেয়ালায় চুমুকে চুমুকে চলে যাপিত জীবনের রঙ বিনিময়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সন্ধ্যা সাতটায় শুরু হয় আসর। বিদ্যাসাগর- জীবনানন্দ দাশ সন্ধ্যা। অনুষ্ঠানের শুরুতে ছিল আলোচনা পর্ব। আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণ করেছিলেন : লেখক গবেষক সোনা কান্তি বড়ুয়া, কবি অধ্যাপক ড. গওসর রেজা, লেখক অধ্যাপক মাহমুদা নাসরিন, কবি লেখক কলামিস্ট রীনা গুলশান, বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রাপ্ত জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক জাসিম মল্লিক, প্রবাসী কন্ঠ ম্যাগাজিনের সম্পাদক খুরশিদ আলম, কবি লেখক ঋতুশ্রী ঘোষ ও কবি গল্পকার প্রাবন্ধিক মোয়াজ্জেম খান মনসুর।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আলোচকদের প্রাণবন্ত জ্ঞানগর্ভ আলোচনায় উঠে এসেছিল বাঙালীর রেনেঁসা যুগের এক প্রাণ ভোমরার নাম। যার নাম এবং তার বিশাল কর্মযজ্ঞের ইতিহাস তার জন্মের ২০৫ পাঁচ বছর পর আজ প্রায় বিবর্ণ এবং অনুচ্চারিত। তিনি হলেন বাঙালীর ইতিহাসে কিংবদন্তি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। ধর্মের কুসংস্কারে নিমজ্জিত গভীর অন্ধকার থেকে যিনি নারীদের আলোর মশাল হাতে মুক্তির পথ দেখিয়েছিলেন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">হিন্দু সমাজের পর্বতসমান প্রবল বাধা &#8211; বিপত্তি ভেংগে অসহায় অবহেলিত নির্যাতিত বিধবা নারীদের আইন করে বিবাহের প্রচলন ঘটিয়েছিলেন। অক্ষর বর্ণজ্ঞানহীন নারীদের জন্য শিক্ষার দরজা উন্মোচন করেছিলেন। তিনি নিজের ব্যক্তিগত চেষ্টায় ৩৮টি বাংলা স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">শিশুদের জন্য উপহার দিয়েছিলেন সহজ &#8216;বর্ণমালা&#8217; বই। বাংলা সাহিত্যে প্রথম যতি এবং বিরামচিহ্ন ব্যবহার চালু করেন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আলোচকদের আলোচনায় আসে &#8216;আবার আসিব ফিরে এই বাংলায়&#8217; কবি জীবনানন্দ দাশের ব্যক্তি জীবনের পাওয়া না পাওয়ার কথা, কাব্য সাহিত্যের বিভিন্ন শাখার তার অনন্য অনুপম উচ্চতার কথা। নির্জনতার কবি, কবিতার জাদুকর,শুদ্ধতম কবি এবং কবিদের কবিকে নিয়ে হয় এক সমৃদ্ধ অপূর্ব মুগ্ধকর আলোচনা।</p>



<p class="wp-block-paragraph">দ্বিতীয় পর্বে ছিল আবৃত্তি অনুষ্ঠান</p>



<p class="wp-block-paragraph">অংশগ্রহণে ছিলেন: কবি লেখক জালাল কবির, লেখক অধ্যাপক মাহমুদা নাসরিন, কবি গল্পকার নার্গিস দোজা, কবি লেখক ঋতুশ্রী ঘোষ, কবি লেখক মোয়াজ্জেম খান মনসুর।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সবশেষে গান গেয়ে শুনিয়েছেন টরন্টোর জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী সূমি বর্মন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সাহিত্য আসরে আরো উপস্থিত ছিলেন সাবেক কুয়েট ডিন অধ্যাপক ড. কাজিম খন্দকার, প্রকৌশলী পিযুষ বর্মন , বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী সারোয়ার, ফরিদা আক্তার ইয়াসমীন এবং সাবেক প্রিন্সিপাল রিয়েলটর ও সমাজকর্মী সৈয়দ আমিনুল ইসলাম। &nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">অনুষ্ঠানটির সার্বিক দায়িত্বে এবং অনবদ্য মনমুগ্ধকর সঞ্চালনায় ছিলেন আহ্ববায়ক কবি মোয়াজ্জেম খান মনসুর।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সম্পাদক খুরশিদ আলম এবং ফরিদা আক্তার ইয়াসমীন ভাবীর গৃহে আমরা আপ্যায়িত হয়েছিলাম পরম যত্নে এবং আন্তরিক ভালবাসায়। তাদের প্রতি যারপর নেই আমাদের কৃতজ্ঞতা । অনুষ্ঠানে ছবি তুলেছেন কাজী সারোয়ার ও পিযুষ বর্মন। </p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
