<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>Column &#8211; Probashi Kantho</title>
	<atom:link href="https://probashikantho.com/category/column/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://probashikantho.com</link>
	<description></description>
	<lastBuildDate>Wed, 01 Jul 2026 20:24:29 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=7.0.2</generator>

<image>
	<url>https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2021/04/thumbnail_thumbnail-150x150.jpg</url>
	<title>Column &#8211; Probashi Kantho</title>
	<link>https://probashikantho.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>বোঝার ভার</title>
		<link>https://probashikantho.com/2026/07/01/%e0%a6%ac%e0%a7%8b%e0%a6%9d%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b0/</link>
					<comments>https://probashikantho.com/2026/07/01/%e0%a6%ac%e0%a7%8b%e0%a6%9d%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b0/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 01 Jul 2026 20:23:46 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Column]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=12705</guid>

					<description><![CDATA[সাইদুল হোসেন এপ্রিল ০৫, ২০২৬ (পূর্ব প্রকাশিতের পর) Uneasy lies the head that wears the crown. যে করে শিরে তার]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph"><strong>সাইদুল হোসেন</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">এপ্রিল ০৫, ২০২৬</p>



<p class="wp-block-paragraph">(পূর্ব প্রকাশিতের পর)</p>



<p class="wp-block-paragraph">Uneasy lies the head that wears the crown.</p>



<ul class="wp-block-list">
<li>English Proverb</li>
</ul>



<p class="wp-block-paragraph">যে করে শিরে তার রাজমুকুট ধারণ;</p>



<p class="wp-block-paragraph">রাতের সুখনিদ্রা সে করে যে হরণ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">* &nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; &nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;*&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; *</p>



<p class="wp-block-paragraph">“মন মাঝি তোর বৈঠা নে রে,</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমি আর বাইতে পারি না”</p>



<p class="wp-block-paragraph">বোঝার ভারটা বইতে কেউই পছন্দ করে না। আমিও করি না। কিন্তু বেঁচে থাকলে বোঝার ভার বহন করার হাত থেকে কারো মুক্তি নেই যদি না সেই ব্যক্তি হয় একজন নির্বোধ অথবা পাগল। শিশুরা এই ভার থেকে মুক্ত।</p>



<p class="wp-block-paragraph">বোঝা সাধারণতঃ দু’ ধরণের- দৃশ্যমান ও অদৃশ্য। দৃশ্যমান বোঝাটার ওজনটা অনুমান বা নিরুপণ করাটা সহজ- এতো পাউন্ড অথবা এতো কেজি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">অন্যদিকে অদৃশ্য বোঝাটার ওজনটা মাপা যায় না, এমনকি তা অনুমান করাটাও সম্ভব নয় কখনো কারণ সেটা তো লোকচক্ষুর অন্তরালে স্মৃতির বোঝা যার কোন ওজন নেই, এমনকি সেটার কোন আকৃতিও নেই। তবে হ্যাঁ, সেটার একটা প্রকৃতি আছে বটে। তার প্রকৃতিটা হলো দুঃখময়, বেদনাময়। সুখময় স্মৃতির অবশ্য কোন বোঝা নেই, সে হয় হালকা-পাতলা এবং আনন্দময়, গায়ে লাগা ফুরফুরে হাওয়ার মতো। গায়ে লাগে, তারপর হারিয়ে যায়।</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full is-resized"><img fetchpriority="high" decoding="async" width="400" height="264" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/07/বৃদ্ধ.jpg" alt="" class="wp-image-12706" style="aspect-ratio:1.515182006510802;width:443px;height:auto" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/07/বৃদ্ধ.jpg 400w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/07/বৃদ্ধ-300x198.jpg 300w" sizes="(max-width: 400px) 100vw, 400px" /><figcaption class="wp-element-caption">বেঁচে থাকলে বোঝার ভার বহন করার হাত থেকে কারো মুক্তি নেই। ছবি: সংগৃহীত</figcaption></figure>
</div>


<p class="wp-block-paragraph">দুঃখময় স্মৃতির অপর বৈশিষ্ট্য হলো এই যে বয়সটা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেটারও ওজন (তীব্রতা) ক্রমে ক্রমে বাড়তে থাকে। কখনোবা সেই বোঝার ভারটা অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছে যায়। অতীতের কোন গুরুতর অপরাধের অথবা পাপের স্মৃতির ক্ষেত্রে সচরাচর এমনটা ঘটে থাকে। বিবেকের অনবরত দংশন এমতাবস্থায় একজন মানুষকে দৈহিকভাবে অসুস্থ করে তুলতে পারে, এমনকি মানসিক ভারসাম্যও হারিয়ে ফেলতে পারে কেউ কেউ। হয়ে যেতে পারে পাগলও।</p>



<p class="wp-block-paragraph">দৃশ্যমান বোঝাটার একটা রূপ হলো একজন মানুষের উপর আরোপিত দায়িত্ব-কর্তব্যের গুরুত্ব ও তার ব্যাপ্তি। যদি সেই ব্যক্তিটি mature, intelligent and competent হয়, তাহলে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু তা না হলে সেই ভারপ্রাপ্ত ব্যক্তিটি বোঝাটা বহন করতে পারবে না, সৃষ্টি হবে নানা সমস্যার।&nbsp; অযোগ্য ব্যক্তির উপর ভারী কোন দায়িত্বের বোঝা চাপালে সে তা সন্তোষজনকভাবে পালন করতে পারবে না তার প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও কর্ম-অভিজ্ঞতার অভাবে। পদে পদে ভুল করবে, হোঁচট খাবে সেই বোঝার ভারে। কাজটা রয়ে যাবে অসমাপ্ত অথবা হবে সেটা ক্রটিযুক্ত। নিজের অযোগ্যতাটাকে ঢাকতে গিয়ে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিটি কখনো দোষ দেয় তার সহকর্মীদের অথবা কখনো তার কাজের যন্ত্রপাতির উপর। ইংরেজী প্রবাদ : A bad worker blames his tools.</p>



<p class="wp-block-paragraph">সুদূর অতীতে বাল্যকালে যখন গ্রামে বাস করতাম তখন কৃষকদের মুখে শুনতাম, তারা বলতো, “ছাগল দিয়ে কখনো হালের জোয়াল টানা যায় না, তাতে দরকার গরুর।” কথাটা খাঁটি সত্য, প্রতিবাদের কোন অবকাশ নেই এখানে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">বোঝার ভারটা লাঘব করার একটা উপায় হলো সম্ভব হলে সেটা ভাগাভাগি করে নেয়া। বাংলা প্রবাদ : “দশের লাঠি একের বোঝা।”</p>



<p class="wp-block-paragraph">বোঝার ভারটা লাঘব করার আর একটা উপায় হলো দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিটির তার কর্তব্যের প্রতি সহনশীল মনোভাব, অপ্রতিবাদী মনোভাব। দায়িত্বটা পালনের প্রতি আগ্রহ, প্রতিবাদ নয়। কাজকে, দায়িত্ব পালনকে ভালোবাসতে হবে আর তাহলেই বোঝাটা অসহনীয় বলে বোধ হবে না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">কাজ-পাগলা লোকেরা সুখী কারণ তাদের “অলস কাল” বলে কিছু নেই, তারা কর্তব্যসম্পাদনে সদা ব্যস্ত। ব্যস্ততাই তাদের জীবনীশক্তি (fuel). ইংরেজীতে একটা কথা আছে : &nbsp;If you want to get something done, go to a busy person, not to a lazy guy. কাজ-পাগলা ব্যস্ত ব্যক্তিটি তার শত কাজের মাঝেও তোমার কাজটা করে দেয়ার মত সময় বের করে নেবে, কিন্তু অলস লোকটা তার অখণ্ড অবসরেও তোমার কাজটা করে দেয়ার মত উদ্যোগ নেবে না। কথাটা সত্য। অলসেরা কর্মবিমুখ এবং দায়িত্বগ্রহণে অনাগ্রহী।</p>



<p class="wp-block-paragraph">&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; *&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; *&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; *</p>



<p class="wp-block-paragraph">প্রাচীন বাংলা কবিতা।</p>



<p class="wp-block-paragraph">“সতীর পূণ্যে পতির পূণ্য সর্বলোকে জানে,</p>



<p class="wp-block-paragraph">সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে ॥”</p>



<p class="wp-block-paragraph">বহু যুগ আগের কথা। মনে পড়ে যে আমাদের গ্রামের বাড়ির বৈঠকখানায় (আমরা বলতাম “বাংলা ঘর”।) দেয়ালে আয়নাতে বাঁধানো দু’টি সুদৃশ্য ফ্রেইম (frame)&nbsp; ছিল যার একটাতে লেখা ছিল “ভুলো না আমায়”, আর অন্যটাতে লেখা ছিল “সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে।”</p>



<p class="wp-block-paragraph">এই বাক্যটি নিয়ে গুরুজনদের মাঝে আলোচনাও শুনতাম। বয়স ও বিদ্যা দুই-ই ছিল কম, সব কথা ঠিক মত বুঝতাম না। পরে পরিণত বয়সে সেসব আলোচনার রেশ মনে পড়তো। বুঝতে পারতাম যে বাক্যটির দু’টি অর্থ করা হতো। একটা মত ছিল এই যে ঘরের রমণীরা (স্ত্রীরা) বাস্তবিকই তাদের নানা গুণাবলীর কারণে প্রশংসনীয়া।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আর দ্বিতীয় মতটি ছিল এই যে, সব রমণীই সমান গুণবতী নয়। উপরে বর্ণিত প্রশংসাটা আসলে পুরুষদের একটা মিথ্যা স্তোকবাক্য মাত্র যাতে নারীরা মোহিত হয়ে নিজেদের কষ্ট ভুলে সংসারের সর্বরকম কাজের বোঝা ঘাড়ে তুলে নিয়ে পুরুষদের অব্যাহতি দেয় এবং তারা পরম সুখে নারীদের সেই সর্বক্ষণিক সেবাটুকু উপভোগ করতে পারে।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>সাইদুল হোসেন</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">মিসিসাগা</p>



<p class="wp-block-paragraph">অন্টারিও</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://probashikantho.com/2026/07/01/%e0%a6%ac%e0%a7%8b%e0%a6%9d%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b0/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>মার্কিন নির্বাচন ও কাদা ছোড়াছুড়ি</title>
		<link>https://probashikantho.com/2026/07/01/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%a8-%e0%a6%93-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%be-%e0%a6%9b/</link>
					<comments>https://probashikantho.com/2026/07/01/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%a8-%e0%a6%93-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%be-%e0%a6%9b/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 01 Jul 2026 20:18:14 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Column]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=12701</guid>

					<description><![CDATA[নজরুল ইসলাম (পূর্ব প্রকাশিতের পর) রাজনীতি ও ক্ষমতা এমন এক জিনিস যা নিয়ে বিভিন্ন দেশে অহরহ ঝগড়া, মারামারি, হানাহানি&#160; বৎসরের]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph">নজরুল ইসলাম</p>



<p class="wp-block-paragraph">(পূর্ব প্রকাশিতের পর)</p>



<p class="wp-block-paragraph">রাজনীতি ও ক্ষমতা এমন এক জিনিস যা নিয়ে বিভিন্ন দেশে অহরহ ঝগড়া, মারামারি, হানাহানি&nbsp; বৎসরের পর বৎসর লেগেই থাকে। এইতো&nbsp; ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসের&nbsp; চাঞ্চল্যকর এক স্মৃতি আজ ও চোখের সামনে ভাসছে :&nbsp; কে হোইটহাউজ দখল করবে এ নিয়ে কত কি হয়ে গেলো, দুনিয়ার মানুষ অবাক হয়ে তাকিয়েছিলো যে আমেরিকার মতো একটি বৃহৎ শক্তিশালী দেশে&nbsp; কি হতে যাচ্ছে? গণ-নির্বাচনে পরাজিত ব্যক্তি বা দল সন্তুষ্ট হয় না। তাছাড়া&nbsp; সুষ্ঠু নির্বাচন হয়-ই না, বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। এই যদি আমেরিকার মতো দেশে ইলেক্শনকে কেন্দ্র করে এমন কাণ্ড হয়,তাহলে তৃতীয় বিশ্বের গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলে কি হবে ?&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে স্বৈরশাসক নাম মাত্র গণতন্ত্র দিয়ে দেশ পরিচালনা করে। বহু দেশে ভোট কেন্দ্র দখল, ব্যালট পেপার চুরি করে সীল মেরে বক্সে ঢুকানো, জয় কে পরাজয়,পরাজয়কে জয় তো সরকারের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে, এ নতুন কিছু নয়। তাছাড়া তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলি এই ভোট দেয়া-নেয়া নিয়ে অহরহ ঝগড়া,মারামারি&nbsp; করে থাকে। নিজেদের পরিচিত ও আপন আত্মীয়ের প্রতিও&nbsp; অনাত্মীয়ের মতো আচরণ এবং দলাদলি বা মারামারি করতে দ্বিধা করে না। ভোটাভোটি শেষ হলে সরকার কোরান, বাইবেল, গীতা বা অন্য ধর্মের বই ছুঁয়ে শপথ নিয়ে বলে আমি সত্য কথা এবং সততার সঙ্গে কাজ করবো। কিন্তু পরে ওয়াদা এবং কাজের কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায় না।&nbsp; তিন, চার বা পাঁচ বৎসর মেয়াদ পর্যন্ত সরকারি ও&nbsp; বিরোধীদলের মধ্যে&nbsp; সংসদে বা বাইরে বাকবিতণ্ডা, হাতাহাতি থেকে শুরু করে মারামারি পর্যন্ত হতে থাকে।&nbsp;&nbsp;</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full is-resized"><img decoding="async" width="500" height="333" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/07/ক্যাপিটল-1.jpg" alt="" class="wp-image-12703" style="aspect-ratio:1.5015250340199897;width:480px;height:auto" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/07/ক্যাপিটল-1.jpg 500w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/07/ক্যাপিটল-1-300x200.jpg 300w" sizes="(max-width: 500px) 100vw, 500px" /><figcaption class="wp-element-caption">২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে ক্যাপিটল হিলে হামলা। ছবি : জেমস কেইভম/নিউয়র্ক পোস্ট</figcaption></figure>
</div>


<p class="wp-block-paragraph"> এইতো গত সপ্তাহে কানাডার মতো একটি গণতান্ত্রিক দেশে , NDP লিডার জগমিত সিং সমালোচনা করে (লিবারেল এবং NDP জোট) সরকারের  প্রধানমন্ত্রী  জাস্টিন ট্রুডোকে দাবি দাওয়া না মেনে নিলে জোট সরকার থেকে সরে দাঁড়াবে বলেছে । কানাডার বর্তমান সরকার  লিবারেল  সংখ্যালঘু সংসদ সদস্য হওয়ায় NDP এর সঙ্গে জোট সরকার করেছে। কোনো গ্যারান্টি  নেই যে চার বৎসর একত্রে দেশ চালাতে পারবে।  বর্তমান সরকার ইতিপূর্বেও জোট সরকার ছিল এবং পুরা মেয়াদে  সংসদ চালাতে পারে নি , পুনরায় ইলেকশন দিয়ে সংখ্যালঘু সরকার গঠন করেছে।   কানাডা একটা সভ্য দেশ, এখানে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সে ভাবে কাদা ছোড়াছুড়ি  হয় না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে গণতন্ত্রের ব্যর্থতার পিছনে যে কারণগুলি রয়েছে :</p>



<p class="wp-block-paragraph">১) ক্ষমতার লোভ&nbsp; :</p>



<p class="wp-block-paragraph">রাজনীতিতে ব্যক্তিগত সুবিধাভোগের কারণ&nbsp; তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলির একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য এবং এই দেশগুলিতে সত্যিকারের গণতন্ত্রের পথে এটিই সবচেয়ে বড় বাধা। ব্রিটিশ সরকার&nbsp; ভারত থেকে বিদায় নেয়ার পর&nbsp; থেকেই নেহেরু –গান্ধী পরিবার বহুদিন ক্ষমতা ধরে রাখছে, জনগণকে বুঝানো হয়েছে যে&nbsp; ভারতে আর কোনো যোগ্য ব্যক্তি নেই বা হবে না। অপরদিকে পাকিস্তানের জুলফিকার আলী ভুট্টো ও তার কন্যা বেনজির ভুট্টো এবং নেওয়াজ শরীফ পরিবার মনে করেছিল পাকিস্তানের মালিকানা ওদের, এই দুই পরিবার ব্যাতিত আর কোনো ব্যক্তি নেই দেশ পরিচালনার জন্য।&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">সিরিয়ার হাফেজ আল –আসাদ ১৯৭১ থেকে একটানা ২০০০ সন ও তার ছেলে বাসার আসাদ এ পর্যন্ত ক্ষমতায় রয়েছে। এই পরিবার ছাড়া কি আর কেউ দেশ পরিচালনা করার যোগ্য ব্যক্তি নেই ? মূলতঃ এরা ক্ষমতা ছেড়ে যাবে কোথায় ? ক্ষমতা ছেড়ে দিলে নিজেদের কৃত অপরাধের বিচার হবে সে ভয়ে ক্ষমতা ছাড়তে চায় না।&nbsp; অপর দিকে দেশ আজ ধ্বংস প্রাপ্ত, হাফেজ আসাদ যেটুকু দেশের জন্য ভালো কাজ করেছিল , তাঁর সুযোগ্য পুত্র দেশকে ঊনবিংশ শতাব্দীতে পৌঁছে দিয়েছে/&nbsp; ধ্বংস করে ফেলেছে।&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">পাকিস্তানের তৎকালীন সামরিক আইন প্রশাসক জেনারেল আয়ুব খান&nbsp; তাঁর ম্যান্টর&nbsp; প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জাকে সরিয়ে ক্ষমতা নেন ।&nbsp; ইস্কান্দার মির্জা আয়ুব খানকে exceptional promotion&nbsp; দিয়ে&nbsp; সেনাবাহিনী প্রধান করেন।&nbsp; কিন্তু ক্ষমতা পাওয়ার পর দেরি না করে মির্জাকে ক্ষমতাচ্যুত করে সপরিবারে লন্ডন পাঠিয়ে দেন। তাঁর পরের ঘটনা সবার জানা। তাঁর যুক্তি ছিল সাধারণ মানুষ ভোটের মর্যাদা বুঝে না, কাজেই ওদের&nbsp; প্রতিনিধি (ইউনিয়ন মেম্বার,চেয়ারম্যানে) ভোট দিলেই চলবে।&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">২ )স্বৈরাচারী শাসন:&nbsp;&nbsp; সামরিক সরকার তৃতীয় বিশ্বে বিভিন্ন দেশে গণতন্ত্রের মসৃণ প্রবাহকে যুগে যুগে বাধাগ্রস্ত করেছে। উগান্ডার ইদি আমীন, ঘানার নক্রুমাহ-সহ আরোও কত ব্যক্তি যারা যুগে যুগে ক্ষমতা ধরে রেখে দেশের ধ্বংস করেছে, তা বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না।&nbsp; প্রকৃতপক্ষে&nbsp; স্বৈরাচারী সরকার জনগণের মধ্যে ভয়ভীতির সৃষ্টি করে&nbsp; এমন ভাবে দেশ পরিচালনা করে যে , কেউ মুখ ফুটে সরকারের বিরুদ্ধে কিছু বলতে গেলে হয় জেল , না হয় গুম খুন ।&nbsp; ইদি আমিনের&nbsp;&nbsp; শাসনামলে উগান্ডার ৫০,০০০&nbsp; এশীয়কে বহিষ্কার করেছে।&nbsp; ১২ মিলিয়ন লোকসংখ্যার দেশ উগান্ডা, আমিনের শাসনামলে ৫০০,০০০ লোককে হত্যা করেছে ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">একইভাবে, রুয়ান্ডা একটি তৃতীয় বিশ্বের দেশ , কিন্তু এর সরকার, মিডিয়ার সহায়তায়, হুতু সংখ্যাগরিষ্ঠদের&nbsp; অস্ত্রে সজ্জিত&nbsp; করতে সক্ষম হয়েছিল এবং একশত দিনের ব্যবধানে সরকার হুতুদের দিয়ে ৮০০,০০০ বা তাঁর ও&nbsp; বেশি&nbsp; সংখ্যালঘু&nbsp; তুতসি&nbsp; হত্যা করেছিল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">৩) উচ্চ নিরক্ষরতা: তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে শিক্ষার হার নিম্নমানের, কি শিক্ষিত, কি অশিক্ষিত ভোটের মূল্য বুঝে না এবং কেউ বুঝলেও অন্যের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে ভোট দেয়, ব্যালট বাক্স চুরি করে।&nbsp; এই ভোট দেয়া নেয়া নিয়ে নিজের জীবনও দিয়ে থাকে।&nbsp; একটা লোক বুঝে না যে “আমি একজনকে অনাকাঙ্ক্ষিত ভোট দিতে গিয়ে কেন নিজের জীবন দেব এবং নিজের পরিবারকে বিপদে ফেলবো ।&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">৪) তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে বেশির ভাগ রাজনীতিবিদই জনগণের সত্যিকারের প্রতিনিধি নন। তারা তাদের ভোটারদের কল্যাণ ও উন্নয়নের জন্য কাজ করার পরিবর্তে, তাদের নিজস্ব&nbsp; স্বার্থ অনুসরণ &nbsp;করে। এ সব লোক নিজের স্বার্থের প্রতি খেয়াল রেখে বহু পয়সা খরচ করে নির্বাচিত হয়।&nbsp; নির্বাচিত হওয়ার পর নিজের পেট ভরার কথা চিন্তা করে।&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">৫) রাজনৈতিক সামাজিকীকরণের অভাব: তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে বেশিরভাগ মানুষ গ্রামাঞ্চলে বাস করে যেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল এবং সংবাদ মাধ্যম থেকে বঞ্চিত থাকে এবং তাই তারা রাজনৈতিক উন্নয়ন এবং সরকারী উত্থানের প্রতি উদাসীন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এ থেকে বোঝা যায় যে, রাজনীতি শিক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ। কানাডার মতো উন্নত দেশগুলিতে&nbsp; স্কুলে রাজনীতি, সমাজনীতি সম্পর্কে ছেলেমেয়েদের শিক্ষা দেয়া হয়।&nbsp; তাছাড়া&nbsp; এমনভাবে &nbsp;শিক্ষা ব্যবস্থার প্রচলন করা হয়েছে যাতে&nbsp; ছেলেমেয়েদের নৈতিক চরিত্র গড়ে উঠে।&nbsp; ছেলেমেয়েদের অন্যায় কাজ থেকে যাতে বিরত থাকে সে দিকে খেয়াল রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। তবে কানাডার রাজনীতিবিদগণ নিজেদের পেশাদার রাজনীতিবিদ মনে করেন না,ওরা এই পেশাকে সরকারি চাকুরী হিসেবে মনে করেন।&nbsp; সে জন্য দেখা যায় অনেকে বিভিন্ন চাকুরী থেকে নির্বাচনে অংশ নেয়। যেমন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো একজন শিক্ষক থেকে রাজনীতিতে আসেন।&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">“অ্যারিস্টটলের মতে , গণতন্ত্র হলো&nbsp; সরকারের একটি জঘন্য রূপ, যেখানে অনেকে তাদের ক্ষমতাকে সাধারণের ভালোর জন্য নয় বরং তাদের নিজের জন্য ব্যবহার করে। “</p>



<p class="wp-block-paragraph">নজরুল ইসলাম</p>



<p class="wp-block-paragraph">টরন্টো</p>



<p class="wp-block-paragraph">জানুয়ারি, ২০২৩</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://probashikantho.com/2026/07/01/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%a8-%e0%a6%93-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%be-%e0%a6%9b/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>ভাষার সৌন্দর্য</title>
		<link>https://probashikantho.com/2026/06/17/%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b7%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a7%8c%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 17 Jun 2026 20:38:36 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Column]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=12641</guid>

					<description><![CDATA[সাইদুল হোসেন “আ মরি বাংলা ভাষা!” “বিনে স্বদেশী ভাষা পুরে কি আশা?” না, পূরে না। কখনো পূরে না। তাই বাংগালী]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph"><strong>সাইদুল হোসেন</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">“আ মরি বাংলা ভাষা!” </p>



<p class="wp-block-paragraph">“বিনে স্বদেশী ভাষা পুরে কি আশা?”</p>



<p class="wp-block-paragraph">না, পূরে না। কখনো পূরে না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তাই বাংগালী জনগণের প্রাণের ভাষা বাংলার মান প্রতিষ্ঠা ও রক্ষার জন্য ঘটে গেল ১৯৭১ সনের লক্ষ প্রাণঘাতী রক্তাক্ত সংগ্রাম, মুক্ত হলো বাংলা উর্দুভাষী পাকিস্তানীদের কবল থেকে- প্রতিষ্ঠিত হলো স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র পৃথিবীর বুকে। বুকভরা নিঃশ্বাস টেনে গর্বের সংগে মাথা উঁচু করে নির্ভয়ে বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারছি আমরা আজ। পৃথিবীর এমন কোন দেশ নেই যেখানে বাংগালীরা নেই, বাংলা ভাষার চর্চা নেই, পরিচিতি নেই। বর্তমান পৃথিবীতে সর্বাধিক কথিত ভাষাগুলোর মাঝে বাংলা ভাষার স্থান ৭ম- বাংলাদেশ ও ইন্ডিয়ার প্রায় ৩০০ মিলিয়ন লোক বাংলা ভাষায় কথা বলে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">২.০&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; তবে দিন বদলাচ্ছে। বিরাট-বিশাল বহুভাষী এই পৃথিবী ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে, সে এখন রূপ নিয়েছে ছোট্ট একটা Global Village -এর। টেকনোলোজির উন্নতি এবং দ্রুত প্রসারের ফলে পৃথিবীবাসীরা ক্রমে একটা common language -এ পরস্পর মতবিনিময় করার প্রয়াসে লিপ্ত। সব ভাষাকে ছাড়িয়ে English language সেই স্থান দখল করে নিয়েছে। ইংলিশ বুঝে না এমন দেশ বর্তমান জগতে একটিও খুঁজে পাওয়া যাবে না। আনুমানিক ১.৫ বিলিয়ন মানুষ ইংলিশে কথা বলে। Mandarin Chinese ভাষায় কথা বলে প্রায় ১.২ বিলিয়ন মানুষ। Internet এ ব্যাপারে ব্যাপক ভূমিকা রেখে চলেছে।&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">৩.০&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; বর্তমানে পৃথিবীর সর্বাধিক জনবহুল দেশ ইন্ডিয়ার জনসংখ্যা ১৫০০ মিলিয়ন (প্রায়), যেখানে ১২টি প্রধান ভাষায় লোকেরা কথা বলে থাকে (হিন্দি, বাংলা, মারাঠি, তেলুগু, তামিল, গুজরাটি, উর্দু ইত্যাদি)। তবে হিন্দিভাষীর সংখ্যা ৭০০ মিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে, এবং দেশটির আনাচে-কানাচে হিন্দির উপস্থিতি লক্ষ্যণীয়। ২৫৬ মিলিয়ন জনসংখ্যার দেশ পাকিস্তানের ভাষা উর্দু, সংগে আছে পাঞ্জাবী, সিন্ধি, বালুচি ইত্যাদিও।</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full"><img decoding="async" width="400" height="256" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/06/ভাষা.jpg" alt="" class="wp-image-12642" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/06/ভাষা.jpg 400w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/06/ভাষা-300x192.jpg 300w" sizes="(max-width: 400px) 100vw, 400px" /><figcaption class="wp-element-caption">সংগৃহীত ছবি</figcaption></figure>
</div>


<p class="wp-block-paragraph">৪.০        উল্লেখযোগ্য যে প্রায় ১৭৬ মিলিয়ন লোকসংখ্যাবহুল বাংলাদেশে আমরা সবাই একটা মাত্র ভাষায় কথা বলে থাকি। বাংলা ভাষা। বাংলা শব্দভান্ডারের (Vocabulary) এক লাখ শব্দের মাঝে প্রায় ২৮,০০০ শব্দ অন্য ভাষা থেকে ধার নেয়া (Loan words) যার মাঝে আছে প্রায় ৬,০০০ শব্দ যেগুলোর মূল আরবী, ফার্সী, হিন্দি ও টার্কিশ ভাষা। এমন কি ৩০টি পতুর্গীজ শব্দও আছে যা আমাদের ভাষাকে সমৃদ্ধ করেছে দৈনন্দিন জীবনে। যথা : বালতি, বোতাম, সাবান, পেয়ারা, কপি, কামরা, আচার, পাউরুটি, পেঁপে, আয়া, গামলা, জানালা, গির্জা, গুদাম, আলমারি, বোমা, বোতল, ইংরেজ, টুপি ইত্যাদি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">৫.০       দৃষ্টান্ত আরো দেখা যায়। অগণিত ইংলিশ শব্দ আমরা ধার নিয়েছি সেই ভাষা থেকে। তাদের সহজবোধ্যতার কারণে আমরা বহুক্ষেত্রেই বাংলার বদলে ইংলিশ শব্দ ব্যবহার করে থাকি। যথা : লাইট-ফ্যান-চেয়ার-টেবিল-ব্রেকফাস্ট-লাঞ্চ-ডিনার-ডাক্তার-পেশেন্ট-নার্স-ফ্লাইট-ল্যান্ডিং-রেইল-স্টীমার- অপারেশান/সার্জারি-ডেলিভারি-ব্যাংক-একাউন্ট-ডিসকাউন্ট-ডিপোজিট-ইন্টারনেট-ম্যাক্সিমাম-মিনিমাম ইত্যাদি। এই ধার নেয়ার ধারাটা পৃথিবীর অন্যান্য ভাষাতেও চালু আছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">৬.০       বহুল প্রচলিত ভাষাগুলোর প্রতিটিরই নিজস্ব বৈশিষ্ঠ্য ও মিষ্টতা রয়েছে। বহু ভাষায় পন্ডিত ডঃ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় সিরাজ রব্বানী কর্তৃক সংকলিত উর্দু-বাংলা অভিধান ফ’রহঙ্গঁ-ই-রব্বানীর ভূমিকায় (কলিকাতা, ২৬শে জুলাই, ১৯৫২) এই প্রবচনটির উল্লেখ করেছেন :</p>



<p class="wp-block-paragraph">“আরবী অ’কল, ফারসী শকর</p>



<p class="wp-block-paragraph">হিন্দী নিমক, তুরকী হুনর ॥”</p>



<p class="wp-block-paragraph">যার অনুবাদটা এরকম :</p>



<p class="wp-block-paragraph">“আরবী হইতেছে জ্ঞান, ফারসী শর্করা,</p>



<p class="wp-block-paragraph">হিন্দী লবণ ও তুর্কী হইতেছে শিল্পকলা।”</p>



<p class="wp-block-paragraph">(শর্করা অর্থ মিষ্টত্ব/মিষ্টতা)</p>



<p class="wp-block-paragraph">উর্দু ভাষাটা উপরে উল্লিখিত ভাষাগুলোর সমন্বয়ে সৃষ্ট। তাই তিনি আরো যোগ করেছেন যে, “উর্দুর বিরোধী ব্যক্তিরাও স্বীকার করিবেন, উর্দু একটি জোরদার ভাষা, মিঠা ভাষা।”&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">৭.০&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; নির্দিষ্ট কোন ভৌগলিক সীমার মাঝে গড়ে উঠা একটা ভাষা স্বভাবতঃই নানা সীমাবদ্ধতায় ভুগে, তার প্রকাশ ভংগীতে থাকে জড়তা-আড়ষ্টতা। কিন্তু যখনি সে ভিন্ন কোন দেশ বা অঞ্চলের ভাষার সংস্পর্শে আসে এবং আদান-প্রদানে লিপ্ত হওয়ার সুযোগ পায়, তখনি সে তার প্রয়োজনীয় ভাবপ্রকাশক শব্দ/ শব্দগুলো সেই নূতন ভাষাটা থেকে সাদরে গ্রহণ করে। তাতে ভাষাগুলো সমৃদ্ধ হয়, পরস্পর ভাববিনিময়ে সাবলীলতা পায়। পৃথিবীতে প্রচলিত সব ভাষাই গড়ে উঠেছে, শক্তিশালী হয়েছে অন্য ভাষা থেকে নূতন শব্দ ধার নিয়ে- এটাকে অনেকটা রোগীর চিকিৎসা ক্ষেত্রে necessary blood transfusion এর সংগে তুলনা করা যায়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমাদের বাংলা ভাষাও এই প্রক্রিয়ার ব্যতিক্রম নয়। আমরা আজো ভিন্নভিন্ন ভাষা থেকে নূতন নূতন শব্দ ধার নিচ্ছি, ভাষাটাকে আরো সমৃদ্ধ করছি। এই প্রক্রিয়াটা চলমান কারণ কোন ভাষাই স্থবির নয়, সে প্রাণচঞ্চল, জীবন্ত।&nbsp;</p>



<ul class="wp-block-list">
<li>৮.০           অতীতের বৃটিশ ইন্ডিয়ার বর্তমান তিন দেশ- বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ইন্ডিয়া, মোট লোকসংখ্যা প্রায় ১৮৯৫ মিলিয়ন- প্রধানতঃ তিনটি ভিন্নভিন্ন ভাষায় কথা বলে থাকে, যথা ঃ হিন্দি, উর্দু এবং বাংলা। কিন্তু ভাষা তিনটি ভিন্নভিন্ন হলেও এক জায়গায় বেশ মজার কিছু মিল চোখে পড়ে। আর সেটা হলো এই যে ইন্ডিয়ানরা হিন্দি বললে বাংগালীরা সে ভাষার কিছুটা হলেও বুঝে, পাকিস্তা-নীরা উর্দু বললে বাংগালীরা তারও কিছুটা বুঝে, অন্যদিকে হিন্দিভাষী ইন্ডিয়ানরা ও উর্দুভাষী পাকিস্তানীরা বাংলা ভাষাটা বুঝে না। This is a paradox indeed!</li>
</ul>



<p class="wp-block-paragraph">৯.০&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; অপর মজার খবর হচ্ছে এই যে উর্দুভাষীরা হিন্দি ভাষাটা পুরোপুরিই বুঝতে পারে, এবং হিন্দিভাষীরাও উর্দু ভাষাটা পুরোপুরিই বুঝতে পারে। এর কারণ হলো এই যে আজ থেকে ৪-৫শত বছর আগে ইন্ডিয়াতে মুঘল বাদশাহদের আমলে উর্দু ভাষাটার সৃষ্টি করা হয়েছিল তৎকালীন হিন্দি ভাষার উপর ভিত্তি করে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">১০.০&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; পৃথিবীতে বর্তমানে চাইনীজ ভাষায় প্রায় ১.২ বিলিয়ন লোক কথা বলে। চাইনীজ ভাষাটা দুই প্রকার- Mandarin Chinese (spoken in Mainland China) and Cantonese Chinese (spoken in HongKong). দুটিতে বেশ পার্থক্য বর্তমান, ফলে একে অন্যেরটা বুঝতে বেগ পেতে হয়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">১১.০&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; এমনকি মূল ভাষাটা ইংলিশ হওয়া সত্বেও British English, Canadian English, American English, Australian English and New Zealand English পুরোপুরি এক নয়, বিস্তর ব্যবধান রয়েছে এদের মাঝে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">১২.০&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান ভাষা আরবী হলেও বিভিন্ন আরব দেশে যথেষ্ট পার্থক্য বর্তমান। সাউদী আরবী এবং ইজিপশিয়ান আরবী পুরোপুরি এক নয়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">১৩.০&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; আরো জানা যায় যে ইন্ডিয়ার ২৯টি রাজ্যের (state -এর) state language এক নয়, তারা ভিন্নভিন্ন কিন্তু অরুনাচল প্রদেশ, মেঘালয়া ও নাগাল্যান্ড- এই রাজ্যগুলোর &nbsp;state language হচ্ছে English. অবশ্য স্থানীয় ভাষাও পাশাপাশি চালু আছে।</p>



<ul class="wp-block-list">
<li>ক) A very short list of English words that were derived from the Arabic language.</li>
</ul>



<p class="wp-block-paragraph">English&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; Arabic</p>



<p class="wp-block-paragraph">1. Algebra&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; al-jabr</p>



<p class="wp-block-paragraph">2. Alcohol&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; al-kuhl</p>



<p class="wp-block-paragraph">3. Admiral&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; amir al-bahr</p>



<p class="wp-block-paragraph">4. Cotton qutn</p>



<p class="wp-block-paragraph">5. Coffee&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; gahwah</p>



<p class="wp-block-paragraph">6. Magazine&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; makhazin</p>



<p class="wp-block-paragraph">7. Mattress&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; matrah</p>



<p class="wp-block-paragraph">8. Sugar&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; sukkar</p>



<p class="wp-block-paragraph">9. Safari&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; safar (meaning journey)</p>



<p class="wp-block-paragraph">10. Zero&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; sifr (meaning empty or nothing)</p>



<p class="wp-block-paragraph">14.0 খ) A very short list of current English words derived from various Indian languages.</p>



<p class="wp-block-paragraph">English&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; Derived from the Indian Language</p>



<p class="wp-block-paragraph">1. Avatar&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; Avatar (Sanskrit)</p>



<p class="wp-block-paragraph">(A deity from the heaven)</p>



<p class="wp-block-paragraph">2. Bungalow&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; Bangla (Bengali, meaning a house in the Bengal style)</p>



<p class="wp-block-paragraph">3. Chit&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; chitthi (Hindi, meaning a letter)</p>



<p class="wp-block-paragraph">4. Ganja&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; Hindi (cannabis Indica)</p>



<p class="wp-block-paragraph">5. Guru&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; Guru (Sanskrit) A teacher</p>



<p class="wp-block-paragraph">6. Jungle&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; Jangala (Sanskrit)</p>



<p class="wp-block-paragraph">7. Mantra&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; Sanskrit (a word or phrase used in meditation)</p>



<p class="wp-block-paragraph">8. Pundit&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; Pandit (Sanskrit) (a learned person or a teacher)</p>



<p class="wp-block-paragraph">9. Shampoo&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; Shampo (Hindi)</p>



<p class="wp-block-paragraph">10. Typhoon&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; Toofaan (Urdu) meaning a cyclonic storm.</p>



<p class="wp-block-paragraph">সাইদুল হোসেন</p>



<p class="wp-block-paragraph">মিসিসাগা</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যবস্থায় দেশের ক্রমবর্ধমান অগ্রগতি</title>
		<link>https://probashikantho.com/2026/06/17/%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%aa%e0%a7%82%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a3-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a7%88%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 17 Jun 2026 20:30:18 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Column]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=12637</guid>

					<description><![CDATA[নজরুল ইসলাম (পূর্ব প্রকাশিতের পর) একটা দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার আদর্শ সংজ্ঞা হল বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব বা ব্যাপক অসন্তুষ্টি]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph"><strong>নজরুল ইসলাম</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">(পূর্ব প্রকাশিতের পর)</p>



<p class="wp-block-paragraph">একটা দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার আদর্শ সংজ্ঞা হল বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব বা ব্যাপক অসন্তুষ্টি । তৃতীয় বিশ্বের অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশগুলিতে প্রায়শই রাজনৈতিক ক্ষমতার দ্বন্দ্ব দেখা যায়। অতীতের ইতিহাস থেকে দেখা গেছে, এই অসন্তুষ্টিকে&nbsp; কেন্দ্র করে&nbsp;&nbsp; বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, জনসাধারণ রাস্তায় নেমে এসে গণ মিছিল, ভাঙচুর,জ্বালাও পোড়াও&nbsp; করে: এতে&nbsp; দেশের কল-কারখানা, শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হয়, জিডিপি ( গ্রস ডোমেস্টিক প্রোডাক্ট )&nbsp; হ্রাস পায়,&nbsp; বিদেশিদের নিকট সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়, এবং&nbsp; সরকারের পতনের প্রবণতা বাড়ায় । এছাড়াও, একটি সরকারি পরিবর্তনের ঘটনা থেকে পরবর্তী পরিবর্তনের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলে। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা অব্যাহত&nbsp; থাকলে দেশের জনগণ এবং সরকার কাজ করার প্রবণতা হারিয়ে ফেলে ; দেশে অর্থনৈতিক মন্দা&nbsp; দেখা দেয়।&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থা যাই হোক না কেন, যদি একটি দেশকে সংঘাত মুক্ত রাখা যায়, শাসনতন্ত্রের&nbsp; আমূল পরিবর্তন সম্পর্কে চিন্তা করার প্রয়োজন না হয়, তবে জনগণ কাজ, সঞ্চয় এবং বিনিয়োগের দিকে মনোনিবেশ করতে পারে। স্থিতিশীল সরকার&nbsp; দেশে থাকলে, দেশের জনগণ শান্তিতে থাকে ; শিল্পে, ব্যবসা বাণিজ্যে , শিক্ষাদীক্ষায় অগ্রগতি এবং&nbsp; প্রতিযোগিতা একমাত্র শান্তিপূর্ণ স্থিতিশীল&nbsp; সরকারের পক্ষে সম্ভব।&nbsp; যেসব দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা&nbsp; এবং উন্নত জীবনযাত্রার অবস্থা রয়েছে, তাদের স্থিতিশীল দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ইউরোপের দেশগুলোতে সবচেয়ে বেশি ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনীতি রয়েছে, তার কারণ ও সব দেশে গণতন্ত্রের চাকা বার বার পাল্টাতে হয় না, জনগণ নিশ্চিন্তে কাজ করে। সরকার জনগণের দেয়া ম্যান্ডেট অনুযায়ী স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করে দেশকে &nbsp;সুনির্দিষ্ট পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">জার্মানির অর্থনৈতিক অবস্থার দিকে তাকালে আমরা কি দেখতে পাই ? দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের&nbsp; পর&nbsp; একটা ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশ, কিভাবে পরিশ্রম করে উন্নত বিশ্বের&nbsp; প্রথম সারির দেশ হিসাবে,&nbsp; গত ৭৫ বৎসরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে।&nbsp; শুধু কি তাই ? ইউরোপের প্রায় সব কটা দেশ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ধ্বংসপ্রাপ্ত ছিল; ওদের&nbsp; সরকার ও জনগণ কঠোর পরিশ্রম করে এগিয়ে নিয়েছে।&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">গত কয়েক বৎসরে ২৭টি দেশ মিলে (EU) ইউরোপ ইউনিয়ন ভুক্ত হয়েছে এবং একমাত্র কারেন্সী ইউরো (ইংল্যান্ড কে বাদ দিয়ে) করেছে।&nbsp; নিজেদের মধ্যে মুক্তবাজার নীতি চালু করেছে,&nbsp; সবাই মিলে মিশে কাজ করে যেভাবে&nbsp; এগিয়ে গিয়েছে, তা থেকে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলির অনেক কিছু শিক্ষণীয় রয়েছে।&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের নীতিগুলির&nbsp; মধ্যে শ্রমজীবী&nbsp; মানুষ, পণ্য, পরিষেবা এবং মূলধনের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যৌথভাবে কাজ করে;&nbsp; ন্যায়বিচার ও গৃহ বিষয়ে আইন প্রণয়ন; এবং বাণিজ্য, কৃষি, মৎস্য ও আঞ্চলিক উন্নয়ন সম্পর্কিত সাধারণ নীতি বজায় রেখে চলেছে ।&nbsp; ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দেশগুলির মধ্যে ভ্রমণের জন্য পাসপোর্ট নিয়ন্ত্রণ বিলুপ্ত করা হয়েছে।&nbsp; এই সদস্য দেশগুলি&nbsp; নিয়ে গঠিত গোষ্ঠী যা অর্থনৈতিক ও আর্থিক ইউনিয়নকে সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করেছে এবং ইউরো মুদ্রা ব্যবহার করেছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সাধারণ পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতির মাধ্যমে, ইউনিয়নটি বাহ্যিক সম্পর্ক এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে একটি ভূমিকা তৈরি করেছে। বাহিরের কোনো দেশ,&nbsp; ইউনিয়নভুক্ত যে কোনো দেশকে আক্রমণ করলে একযোগে সবাই তার প্রতিরক্ষার জন্য এগিয়ে আসার নীতি নির্ধারণ করেছে; এতে সবার নিরাপত্তা জোরদার&nbsp; হবে।&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">ইউরোপীয় ইউনিয়ন&nbsp; সারা বিশ্বে স্থায়ী কূটনৈতিক মিশন পরিচালনা করে এবং জাতিসংঘ, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা, জি-৭ এবং জি-২০ তে নিজেদের প্রতিনিধিত্ব করে। বিশ্বব্যাপী প্রভাবের কারণে, ইউরোপীয় ইউনিয়নকে কিছু পণ্ডিতরা একটি উদীয়মান পরাশক্তি হিসাবে বর্ণনা করেছেন। এটা একটা সাহসী পদক্ষেপ যা নিজেদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করবে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এগিয়ে নেবে।&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">আফ্রিকা এবং এশিয়ার কিছু কিছু দেশের মধ্যে&nbsp; সব চেয়ে বেশি সমস্যা ; কারণ হিসাবে বলা যায় এ সব দেশগুলিতে শিক্ষার মান নিম্ন, মানুষ গণতন্ত্রের&nbsp; মূল্য বুঝে না, অর্থনীতি সবচেয়ে অস্থির। এক সময় যা একটি প্রতিশ্রুতিশীল অর্থনীতি বলে মনে করা হয়েছিল তা সম্প্রতি সঙ্কটে পড়েছে; উদাহরণ হিসাবে বলা যেতে পারে সোমালিয়া,লিবিয়া,সিরিয়া,ইরাক, আফগানিস্তান এবং আরো অনেক ।&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">আফ্রিকার দুর্বল অর্থনীতির জন্য বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে: ঐতিহাসিকভাবে,আফ্রিকার অনেক দেশ ইউরোপিয়ান সাম্রাজ্যবাদের কবলে থাকায় নিজেদের ইচ্ছানুসারে&nbsp; বিশ্বের অনেক অংশের সাথে বাণিজ্য করার সুযোগ পায়নি, তাছাড়া এ সব দেশে বেশিরভাগ মানুষ উপজাতীয় গ্রামীণ সমাজে বাস করত;&nbsp; ইউরোপীয় উপনিবেশ&nbsp; শেষ হলেও পরবর্তী শীতল যুদ্ধ, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি&nbsp; হওয়াতে সঠিকভাবে এগোতে পারে নি। তাছাড়া ও এ সব দেশগুলির আর্থিক সংকট,গণতন্ত্র বাস্তবায়ন ,বিভিন্ন গোষ্ঠীর সংঘাত, নিম্নমানের শিক্ষা অনেকাংশে দায়ী।&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">এক সময় আফ্রিকাকে বিশ্বের দরিদ্রতম অধ্যুষিত মহাদেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হতো । যাইহোক, বিশ্বব্যাংক আশা করে যে বেশিরভাগ আফ্রিকান দেশ ২০২৫ সালের মধ্যে “মধ্যম আয়ের” অবস্থানে পৌঁছাবে ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">কিছু আফ্রিকান রাষ্ট্র&nbsp; GDP&nbsp; উচ্চ বৃদ্ধির হার অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে তারা স্থিতিশীল, তবে বেশ কয়েকটি উন্নয়নশীল আফ্রিকান রাষ্ট্রেরও উল্লেখযোগ্যভাবে স্থিতিশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থা রয়েছে।&nbsp; স্থিতিশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থা থাকলে, যে কোনো অনুন্নত দেশ ও বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সক্ষম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ভারতে ১৯৪৭ সন থেকেই স্থিতিশীল সরকার রয়েছে।&nbsp; নেহেরু,ইন্দিরা এবং রাজীব গান্ধী পরিবার দেশটিকে&nbsp; ৩৫ বৎসর শাসন করেন। গত ৭৫ বৎসরের ইতিহাসে ভারতে&nbsp; স্থিতিশীল সরকার&nbsp; দেশ পরিচালনা করছে।&nbsp; ভারতের লোকসংখ্যা ১.৩০ বিলিয়ন বা তারও&nbsp; বেশি যা পৃথিবীর লোকসংখ্যার দিক থেকে&nbsp; প্রথম।&nbsp; এ দেশে ৮০% লোক হিন্দু ,১৪% মুসলিম এবং ২.৫% খ্রীষ্টান ও বাকি অন্য ধর্মের লোক।&nbsp; এ দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র&nbsp; রয়েছে; এত বড় দেশ, ভোটাভোটির মাধ্যমে সরকার গঠন করা হয়। এ দেশে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা আছে বলে, গত ৭৫ বৎসর গণতান্ত্রিক সরকার&nbsp; সম্ভব হয়েছে।&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">ভারতের সংবিধান ১৯৫০ সালে কার্যকর হয়, যা দেশের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থাকে সমর্থন করে। রাষ্ট্র প্রযুক্তিগতভাবে ধর্মনিরপেক্ষ, বহুবিধ ধর্মীয় বা সামাজিক গোষ্ঠীর কোনওটিকেই অগ্রাধিকার দেয় না। ভারতের গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত এবং কয়েক দশক ধরে জাতীয় ও রাজ্য সংসদের জন্য সঠিক ভাবে নির্বাচন দিতে সক্ষম হয়েছে।&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">ভারত বিশ্বের একটি বড় অর্থনীতি, উন্নয়নশীল ও&nbsp; দ্রুত উদীয়মান দেশ এবং এর&nbsp; অর্থনীতি গত দুই দশক ধরে খুব দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভারতীয় অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় অবদান হল আইটি(IT) সেক্টর এবং ব্যবসায়িক ক্ষেত্র। IT তে দক্ষ লোক দেশে এবং বিদেশে কাজ করে দেশকে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অনেক উন্নত করেছে।&nbsp;&nbsp;&nbsp; ভারত&nbsp; গত কয়েক বৎসরে, কয়েক লক্ষ দক্ষ শ্রমিক&nbsp; বিদেশে কাজ করে দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করেছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে ওদের অর্থনীতি মন্দা ছিল, গত ২৫ বৎসরে জিডিপি হার ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>দক্ষ শ্রমিক বাজার সৃষ্টি করা :</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">দক্ষ শ্রম: এর জন্য শ্রমিকদের নির্দিষ্ট প্রতিভা থাকতে হবে যা&nbsp; শিল্পে বা অফিসে&nbsp; ব্যবহৃত হয়; ইঞ্জিনিয়ার, ওয়েল্ডার, ইলেক্ট্রিশিয়ান, কম্পিউটার এবং আরও&nbsp; অনেক&nbsp;&nbsp; ধরণের&nbsp; কাজ যাদের বিশেষ চাহিদা পূরণের জন্য অত্যন্ত বিশেষ প্রশিক্ষণ এবং অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">অদক্ষ শ্রম:&nbsp;&nbsp; এমন কর্মীদের বোঝায় যাদের প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতার অভাব রয়েছে। এই কাজগুলি দক্ষ শ্রম কাজের মতোই গুরুত্বপূর্ণ, তবে এ কাজ করতে কোনও&nbsp; স্কুল, কলেজ বা প্রযুক্তিগত বিশেষ ধরণের বিদ্যার&nbsp; দরকার পড়ে না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সব সময় উন্নত দেশগুলিতে দক্ষ শ্রমিক খুঁজে বেড়ায় ; ইউরোপ,আমেরিকা,অস্ট্রেলিয়া, বা কানাডার মতো উন্নত দেশগুলিতে দক্ষ শ্রমিকের অভাব এবং তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে এই শ্রমিক খুঁজে নিজেদের দেশে কর্মসংস্থান বা স্থায়ী ইমিগ্রেশন দিয়ে রেখে দেয়।&nbsp;&nbsp;&nbsp; যাদের কাজের দক্ষতা থাকে, তাদের জন্য কাজ খুঁজে পাওয়া বা ইমিগ্রেশন নেয়া কঠিন কিছু না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">অনুন্নত দেশের দক্ষ শ্রমিকদের অনেকেই দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতায় হতাশ হয়ে উন্নত দেশে সুযোগ –সুবিধার লোভে পাড়ি জমায় । এমন ও দেখা গিয়েছে, সরকারি/ আধা –সরকারি বা বেসরকারি কর্মচারীদের&nbsp; উচ্চতর শিক্ষার জন্য ইউরোপ/আমেরিকায় পাঠানো হয়েছে,&nbsp;&nbsp; সরকারের পয়সায় পড়াশুনা শেষ করে দেশে আর ফেরত যায় নি। এ অবস্থা চলতে থাকলে, অনুন্নত দেশে দক্ষ শ্রমিক কোথায় পাবে ?&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">মূল কথা, একটা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার উপর দেশের অর্থনীতি , বিদেশী বিনিয়োগ এবং জনগণের আস্থা থাকলে আপনাতেই দেশ উন্নতির দিকে ধাবিত হয়।&nbsp; দেশ ও সরকার জনগণের আর্থিক ও নিরাপদ জীবন ব্যবস্থার&nbsp;&nbsp; অঙ্গীকার দিলে জনগণ দেশেই নির্বিঘ্নে বিনিয়োগ করতে বাধ্য।&nbsp; যে সব দেশে&nbsp; সরকার জনগণের আর্থিক ও জীবনের নিরাপত্তা&nbsp; দিতে ব্যর্থ হয়, শিক্ষিত, বিত্তবান&nbsp; লোক বসে না থেকে বাহিরে চলে যায় ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমাদের দেশে স্বল্পকালীন&nbsp; শীত, ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারী পর্যন্ত;&nbsp; শীতের মৌসুমে সাইবেরিয়া ও অন্যান্য দেশের পাখি এসে নিরাপদ আশ্রয় নিয়ে থাকে।&nbsp; মানুষের স্বভাব ও অনেকটা পাখির মতোই।&nbsp; কানাডা, ইউরোপ,&nbsp; আমেরিকায় বা যেখানে নিজে ও ছেলেমেয়ে নিয়ে ভালো থাকবে, দেশের অর্থ এনে&nbsp; বিনিয়োগ করে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখে এবং বাস্তবে ও তাই হচ্ছে।&nbsp;&nbsp; এই কানাডা এবং আমেরিকাকে রেফিউজি (উদ্বাস্তু)&nbsp; দেশ বলা হয়; এ সব দেশে সারা বিশ্বের শিক্ষিত এবং অর্থ -সম্পদশালিরা এসে ভিড় জমিয়েছে, যার দরুন এ সব দেশে আজকাল বাড়িঘরের দাম মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে।&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">&nbsp;কানাডাকে বিশ্বের সবচেয়ে স্থিতিশীল অর্থনীতিগুলির মধ্যে একটি হিসাবে বিবেচনা করা হয়।&nbsp; কানাডা একটি সংসদীয় গণতন্ত্র এবং&nbsp; সাংবিধানিক রাজতান্ত্রিক দেশ।&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">কানাডা বেশ কয়েকটি দেশের সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে&nbsp; করেছে । মুক্ত বাজার(Free trade) নীতি অবলম্বন করে, আমদানি ও রপ্তানি অর্থনীতিতে অবদান রাখছে; যদিও কানাডা অনেক দেশের সাথে ব্যবসা করে, তবে ৮০%&nbsp; বাণিজ্য অংশীদার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।</p>



<p class="wp-block-paragraph">নজরুল ইসলাম</p>



<p class="wp-block-paragraph">টরন্টো</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>সৎ মানুষের খোঁজে</title>
		<link>https://probashikantho.com/2026/05/02/%e0%a6%b8%e0%a7%8e-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%b7%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%96%e0%a7%8b%e0%a6%81%e0%a6%9c%e0%a7%87/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 03 May 2026 00:26:19 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Column]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=12554</guid>

					<description><![CDATA[সাইদুল হোসেন (পূর্ব প্রকাশিতের পর) FOUND SOME MONEY YESTERDAY. IF YOU LOST SOME MONEY, AND CAN TELL ME HOW MUCH,]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph"><strong>সাইদুল হোসেন</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">(পূর্ব প্রকাশিতের পর)</p>



<p class="wp-block-paragraph">FOUND SOME MONEY YESTERDAY. IF YOU LOST SOME MONEY, AND CAN TELL ME HOW MUCH, I WILL RETURN IT. IF NOT CLAIMED, I WILL PURCHASE SOME LOTTERY TICKETS WITH IT.</p>



<p class="wp-block-paragraph">COME TO APT. # 108.</p>



<p class="wp-block-paragraph">THANK YOU.</p>



<p class="wp-block-paragraph">HOWARD</p>



<p class="wp-block-paragraph">উপরের Noticeটা তিন দিন ধরে আমাদের কমিউনিটি বিল্ডিংয়ের একতলায় Notice Board -এ দু’টি board pin দিয়ে আটকানো ছিল। নোটিস দাতা Howard কে আমি চিনি। চমৎকার তার আচার-ব্যবহার।</p>



<p class="wp-block-paragraph">গতকাল বিকালে আমাদের mail box check করতে নীচে গেলাম। দেখি আমার পরিচিত ভিয়েতনামীজ একজন রেসিডেন্ট এই নোটিসটাকে বোর্ড থেকে তুলে নিচ্ছে। জিজ্ঞাসা করলাম, “এটাকে তুমি তুলে নিচ্ছ কেন?”</p>



<p class="wp-block-paragraph">সে বলল, “আমার ডলারগুলো আমি ফেরত পেয়েছি, তাই নোটিসটার প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়েছে।”</p>



<p class="wp-block-paragraph">বললাম, “খুশী হলাম জেনে যে তুমি তোমার হারানো ডলারগুলো ফিরে পেয়েছ। হাওয়ার্ড খুব চমৎকার লোক, আমি তাকে চিনি।”</p>



<p class="wp-block-paragraph">লোকটি তখন জানালো যে হাওয়ার্ডের ব্যবহারে সে মুগ্ধ। ডলারগুলোর সঠিক বর্ণনা দিতেই সে তার পার্সটা ডলারশুদ্ধ তার হাতে তুলে দিলো হাসিমুখে। সে খুব খুশী। গড ব্লেস হাওয়ার্ড।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ওর কথা শেষ হলে ওকে বললাম, “তোমার হাতের কাগজটা আমাকে দাও।”</p>



<p class="wp-block-paragraph">সে জানতে চাইলো এটাকে দিয়ে আমি কি করবো। বললাম, “মানুষের সততার&nbsp; বিষয়ে এটাকে কেন্দ্র করে একটা গল্প লিখবো ম্যাগাজিনে পাবলিশ করার জন্য।”</p>



<p class="wp-block-paragraph">অবাক বিষ্ময়ে সে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বলল, You? You a story writer? Wow! Happy to meet you. I read stories- Vietnamese- all my life but I never met a writer in my life before! Congratulations!”</p>



<p class="wp-block-paragraph">তারপর কাগজটা আমার দিকে বাড়িয়ে ধরল। বলল, “এই নাও কাগজটা।”</p>



<p class="wp-block-paragraph">ওকে ধন্যবাদ জানিয়ে কাগজটা হাতে নিয়ে ঘরে ফিরে এলাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সততার অপর একটি দৃষ্টান্ত</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full"><img loading="lazy" decoding="async" width="400" height="300" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/05/টি.jpg" alt="" class="wp-image-12555" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/05/টি.jpg 400w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/05/টি-300x225.jpg 300w" sizes="(max-width: 400px) 100vw, 400px" /><figcaption class="wp-element-caption">টিটিসি’র লস্ট আর্টিকেলস অফিস । ছবি : wheree.com</figcaption></figure>
</div>


<p class="wp-block-paragraph">(আমার পুরানো ডায়েরী থেকে।)</p>



<p class="wp-block-paragraph">২০০৪ সন। টরন্টোর নর্থ ইয়র্কে বাস করি স্বামীস্ত্রী আমরা দু’জন। বাসে-সাবওয়েতে চলাফেরা করি আমরা। মে মাসের ৩ তারিখে আমার স্ত্রী তার নানা ডকুমেন্টেস এবং নগদ ডলারে পূর্ণ Purseটা সাবওয়েতে সীটে ভুলক্রমে রেখে বাসায় চলে আসে। তাৎক্ষণিকভাবে TTC LOST ARTICLES Office এ ফোন করলাম। আমার বর্ণনা শেষ হলে অপর প্রান্ত থেকে মহিলাটি জানালো যে পরদিন Bay Subway station -এ ওদের অফিসে গিয়ে অনুসন্ধান করতে হবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">পরদিন (৪ মে) আমরা স্বামীস্ত্রী দু’জন মিলে গেলাম সেই অফিসে। সেখানে কর্মরত মহিলাকে Purseটার description দিতেই সে একটা রুমের একটা বড় টেবিলের উপর রাখা সারিসারি Purse -এর দিকে ইশারা করে আমাদেরটা আছে কিনা check করতে বললো। দুরুদুরু বুকে দেখতে দেখতে আমাদেরটা পাওয়া গেল। সেটার ভেতরে check করে দেখা গেল যে সবকিছুই ঠিক আছে, কিছুই চুরি যায়নি। অবিশ্বাস্য রকম সততার উজ্জল দৃষ্টান্ত। Many thanks, TTC.</p>



<p class="wp-block-paragraph">(ছয়)</p>



<p class="wp-block-paragraph">ইগ্লা অক্ত লয়, আজা, ইগ্লা অং, অং</p>



<p class="wp-block-paragraph">রংপুর জেলার গ্রামাঞ্চলে চাকরি জীবনের প্রাথমিক পাঁচটি বছর কাটাতে হয়েছিল আমাকে (১৯৫৬-১৯৬১ সন)। লক্ষ্য করেছি সেখানে “বাহে” কথাটার সর্বত্র প্রচলন : কুটি যাচ্ছেন বাহে? (কোথায় যাচ্ছেন?); কি খালেন বাহে? (কি খেয়েছেন?); কি করিচ্ছেন বাহে? (কি করছেন?) ইত্যাদি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">অপর যে বিষয়টি আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করতো তা হলো : ওরা ‘র’-কে বলতো ‘অ’; “ন”-কে বলতো “ল”। কিছু দৃষ্টান্ত দিচ্ছি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">রক্ত &#8211; অক্ত; রবিবার &#8211; অবিবার; নয় &#8211; লয়; আমি/আমার বলতে ওরা বলতো হামি/হামার; ইত্যাদি। ফলে রোজা &#8211; রমজান হতো ওজা &#8211; অমজান; রশিদ/রউফ/রস/রাগ হতো অশিদ/ওফ/অস/আগ। রেল গাড়ি হতো “এলগাড়ি”। রাজাকে “আজা” এবং রাণীকে “আনি” উচ্চারণ করা হতো। শব্দের এমন উচ্চারণ বৈচিত্র্য নিয়ে একটা রসিকতাও শুনেছিলাম সেই কালে। ডায়ালগ (dialogue) টা ছিল এরকম :</p>



<p class="wp-block-paragraph">Stage -এ নাটক আভিনীত হচ্ছে। রাজকীয় পোশাক পরে রাজা সিংহাসনে বসে আছেন, এমন সময় Stage -এ সুসজ্জিতা রাণী প্রবেশ করলেন। রাজা লক্ষ্য করলেন যে রাণীর মুখে ও কপালে এখানেওখানে লাল রংয়ের ছোপ। শংকিত কণ্ঠে রাজা জিজ্ঞাসা করলেন, “আনী, আনী, তোমার মুখে-কপালে এত অক্ত কেন?”</p>



<p class="wp-block-paragraph">রাজাকে অভয় দিয়ে রাণী জবাব দিলেন, “ভয় পাবেন না আজা। ইগ্লা অক্ত লয়, ইগ্লা অং, অং।”</p>



<p class="wp-block-paragraph">(অর্থাৎ ওগুলো রক্ত নয়, লাল রং মাত্র। ভয়ের কিছু নেই।)</p>



<p class="wp-block-paragraph">(সাত)</p>



<p class="wp-block-paragraph">মানুষের মনের উপর রংয়ের প্রভাব</p>



<p class="wp-block-paragraph">মনের উপর রংয়ের প্রভাবের একটা বাস্তব প্রমাণ পেলাম আজ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমাদের ডাইনিং টেবিলটাই আমার রাইটিং টেবিল, ওটাতে বসেই আমি প্রতিদিন আমার সব লেখালেখি করে থাকি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">৩-৪ দিন আগে সেই ডাইনিং টেবিলের উপর বিছানো সাদা রংয়ের টেবিল ক্লথটা বদলে নূতন একটা টেবিল ক্লথ বিছানো হলো। রংটা তার pink, দেখতে বেশ আকর্ষণীয়। কিন্তু তারপর থেকে আমি পড়ে গেলাম জটিল এক সমস্যায়। কি সেই সমস্যা?</p>



<p class="wp-block-paragraph">সমস্যাটা হলো যে সেই pink টেবিল ক্লথটার দিকে তাকালেই চোখে একটা অস্বস্তি (irritation), একটা জ্বালা (burning) অনুভব করি, চোখ দিয়ে পানি পড়তে শুরু করে। মনটা বিষন্ন হয়ে পড়ে। সেই অনুভূতিটা আরো তীব্রতা লাভ করে যখন দীর্ঘক্ষণ ধরে সেই টেবিলে বসে লেখালেখি করি। চোখে ঝাপসা দেখি, বারবার টিস্যু পেপার দিয়ে চোখ মুছতে হয়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">বিরাট সমস্যা। এর সমাধান কি?</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমার পরিবর্তিত অনুভূতিগুলো বাস্তব না কল্পনা সেটা পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে আজ সকালে সেই pink table cloth টা সরিয়ে আগের white table clothটা আবার বিছানো হলো। আমি আবার লিখতে বসলাম। এবং কি আশ্চর্য! সেই সাদা রংয়ের প্রভাবে অল্পক্ষণ পর থেকেই আমার সব জ্বালা ও অস্বস্তি ধীরেধীরে দূর হতে লাগলো, আমি আমার স্বাভাবিক অনুভুতিগুলো ফিরে পেতে লাগলাম এবং এক সময় ভুলে গেলাম আমার সেই কষ্টগুলোকে!</p>



<p class="wp-block-paragraph">Everything back to normal. Strange!</p>



<p class="wp-block-paragraph">(আট)</p>



<p class="wp-block-paragraph">শাবাশ, ভাগ্নে আমার!</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমার এক ভাগ্নে আছে। সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। টরন্টোতে বড় একটা কন্স্ট্রাকশান কোম্পানীতে সুনামের সংগে কাজ করছে। গত ২০২৪-এর নভেম্বর মাসের কোন এক তারিখে সকালবেলা ফোন পেলাম সেই ভাগ্নের কাছ থেকে। ভাগ্নে আমাকে জানালো, “মামা, সুখবর আছে, বলছি শুনুন।”</p>



<p class="wp-block-paragraph">১.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; আমার চাকরির ২০ বছর পূর্ণ হয়েছে গতমাসে। সেই উপলক্ষে গতকাল আমার কোম্পানী ম্যানেজমেন্ট একটা রিসেপশনের আয়োজন করেছিল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">২.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; উপস্থিত সবার সামনে আমাকে একটা APPRECIATION NOTE দিয়েছে। আমার efficiency, sincerity and devotion to work and loyalty to the company’র উচ্চ প্রশংসা করেছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">৩.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; ক্যাশ বোনাস দিয়েছে চার হাজার ডলার।</p>



<p class="wp-block-paragraph">৪.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; আমাদের কোম্পেনীর ৩৫০ জন কন্স্ট্রাকশান, টেকনিক্যাল, এডমিনিস্ট্রেটিভ, ফিনান্স এন্ড একাউনটিং এমপ্লোয়ির মাঝে সিনিয়রিটি লিস্টে আমার স্থান এখন ২৫তম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">৫.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; ম্যানেজমেন্ট নিশ্চয়তা দান করেছে যে আমার ভবিষ্যৎ খুবই উজ্জল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">শুনে খুব খুশী লাগলো। আল্লাহর কাছে ওর এবং ওর পরিবারের উপর রহমতের জন্য দু’আ করলাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এবার অন্য প্রসংগ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ভাগ্নের বাড়ি ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া শহরে। ওর স্ত্রী সিলেটি মেয়ে। বড়ই মিষ্টি স্বভাব ও আচার-ব্যবহার। ওরা সুযোগ পেলেই আমাদের বাসায় বেড়াতে আসে। ওরা মামা-মামীকে আন্তরিকভাবে ভালোবাসে। ওদের দুই ছেলে। ওরাও আমাদেরকে ভালোবাসে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ভাগ্নেবৌকে একদিন জিজ্ঞাসা করলাম, তুমি তো সিলেটি ফুরি (সিলেটি মেয়ে)। তুমি এখনো তোমাদের সিলেটি মাৎ মাতনি? (তুমি এখনো সিলেটি ভাষায় কথা বল কি?)</p>



<p class="wp-block-paragraph">হেসে দিয়ে সে বললো, “না মামা, আর মাতি না (অর্থাৎ আর বলি না।) আপনার ভাগ্নের সংগে বিয়ে হওয়ার পর থেকে তো আমি “বেংগলী” হয়ে গেছি! এখন আমি আপনাদের মত “বেংগলী” মাতি (বাংলা ভাষায় কথা বলি।) (চলবে)</p>



<p class="wp-block-paragraph">সাইদুল হোসেন<br>মিসিসাগা</p>



<p class="wp-block-paragraph"></p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>বিশ্বে যুদ্ধবিগ্রহ ও  নিরাপত্তাহীনতা</title>
		<link>https://probashikantho.com/2026/05/02/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a7%87-%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b9-%e0%a6%93-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 03 May 2026 00:18:44 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Column]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=12551</guid>

					<description><![CDATA[নজরুল ইসলাম (পূর্ব প্রকাশিতের পর) যুগে যুগে পৃথিবীতে বিশেষ মেধা নিয়ে কিছু মানুষ এসেছে&#160;যাদের সৎ ও একনিষ্ঠ প্রচেষ্টার &#160; মাধ্যমে&#160;জাতিকে]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph"><strong>নজরুল ইসলাম</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">(পূর্ব প্রকাশিতের পর)</p>



<p class="wp-block-paragraph">যুগে যুগে পৃথিবীতে বিশেষ মেধা নিয়ে কিছু মানুষ এসেছে&nbsp;যাদের সৎ ও একনিষ্ঠ প্রচেষ্টার &nbsp; মাধ্যমে&nbsp;জাতিকে আলোর পথ দেখিয়েছে।&nbsp;এ সব মানুষ মরেও অমর; এরা মানুষের মাঝে চিরস্মরণীয় হয়ে বেঁচে আছে&nbsp;এবং ইতিহাস থেকে এদের নাম কখনও মুছে ফেলা যায় না। আবার কিছু নেতার ভুল সিদ্ধান্ত ও&nbsp;ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে&nbsp;জাতি বা গোষ্ঠী সীমাহীন দুঃখ কষ্ট&nbsp;পায়; এদের নাম&nbsp;ও কুখ্যাত ব্যক্তিদের খাতায় লেখা থাকে। কোনো নেতা বা নেতাদের&nbsp;ক্ষমতার লোভ, দুর্নীতি,অত্যাচার, ভুল সিদ্ধান্তে যে কোনো জাতিকে বিপথে&nbsp;পরিচালিত&nbsp;করে। নেতার সৎ চিন্তা ও সৎ কাজের মাধ্যমে দেশের মানুষের মুখে হাঁসি ফোটে।&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">এশিয়া এবং আফ্রিকার&nbsp;অনেক দেশেই লাখ লাখ মানুষ যুদ্ধবিগ্রহে নিরাপত্তাহীনতায় তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ এবং বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের মতো পরিস্থিতি দুটি উদাহরণ মাত্র। সুদানের সংঘাতের কারণে দেশটির অভ্যন্তরে ৩৪ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। যারা সুদান থেকে পালিয়ে গেছে তারা মিশর, লিবিয়া, চাদ, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, এবং ইথিওপিয়াসহ এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশে আশ্রয়হীন অবস্থায় রয়েছে।&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>নিম্নে লিবিয়ায় মুয়াম্মর গাদ্দাফির সময়ের পরিস্থিতি নিয়ে কিছু আলোচনা করা হলো : </strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">১৯৬৯ সনে লিবিয়ার নেতা কর্নেল মুয়াম্মর গাদ্দাফি&nbsp;তাঁর দেশের রাজতন্ত্র বিলোপ করে ক্ষমতায় এসেছিলেন; সে সময় এই মরুভূমি দেশের লোকসংখ্যা মাত্র&nbsp;২ মিলিয়ন ছিল। তিনি লিবিয়াকে&nbsp;৪২ বৎসর নেতৃত্ব দিয়ে&nbsp;একটা ধনী দেশ করেছিলেন, যার ৯০% সাহারা&nbsp;মরুভূমি। ১৯৬৯ সনে&nbsp; মাথাপিছু আয় ছিল&nbsp;১,০১৮ ডলার এবং তাঁর সময় মাথাপিছু আয়&nbsp;১১,০০০&nbsp;ডলার । লিবিয়াকে আফ্রিকার মধ্যে একটি উন্নয়নশীল&nbsp;দেশ বলা হতো। পৃথিবীর অনেক দেশ থেকে ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার ও বিভিন্ন পেশার লোক ওই দেশে কাজ করে দেশে রেমিটেন্স পাঠাতো। আমাদের বাংলাদেশ থেকে ও বিভিন্ন পেশার লোক এই দেশে বহুদিন কাজ করেছে।&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="400" height="327" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/05/গা.jpg" alt="" class="wp-image-12552" style="aspect-ratio:1.2232522578487122;width:418px;height:auto" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/05/গা.jpg 400w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/05/গা-300x245.jpg 300w" sizes="(max-width: 400px) 100vw, 400px" /><figcaption class="wp-element-caption"><br>লিবিয়ার প্রয়াত নেতা কর্নেল মুয়াম্মর গাদ্দাফি। ছবি : ইসমাইল জিতুনি &#8211; রয়টার্স</figcaption></figure>
</div>


<p class="wp-block-paragraph">গাদ্দাফি তাঁর এই দীর্ঘ শাসনামলে দেশে অনেক কাজ করেছেন: তন্মধ্যে ” মানবসৃষ্ট মহান নদী (Great man made river) বৃহত্তর কাজ, যাকে বলা হয় পাইপের নেটওয়ার্ক, মরুভূমির দেশ&nbsp; লিবিয়া জুড়ে&nbsp;জল সরবরাহ করেছেন । ১৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ&nbsp;মরুভূমি অতিক্রম করে,দেশের মিঠা পানি ৭০% জনগণের চাহিদা পূরণ করেছেন ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">১৯৬৯ সাল থেকে ২০১১ সালের শুরু পর্যন্ত, লিবিয়ার রাজনীতি কার্যত মুয়াম্মার গাদ্দাফি দ্বারা&nbsp; পরিচালিত হয়েছিল। গাদ্দাফি ১৯৫১-পরবর্তী লিবিয়ার সংবিধান বিলুপ্ত করেন এবং ১৯৭০-এর দশকে প্রকাশিত তার সবুজ বইয়ের(Green book) উপর ভিত্তি করে তার নিজস্ব রাজনৈতিক দর্শন প্রবর্তন করেন। তাঁর রাজনীতির মতাদর্শ এই বইতে দেখানো হয়েছিল এবং যা স্কুল ,কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হতো। লিবিয়ার রাজনৈতিক ব্যবস্থা তত্ত্বগতভাবে গাদ্দাফির&nbsp; গ্রিন বইয়ের রাজনৈতিক দর্শনের উপর ভিত্তি করে তৈরি, যা সমাজতান্ত্রিক ও ইসলামি তত্ত্বগুলিকে একত্রিত করে এবং সংসদীয় গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক দলগুলিকে প্রত্যাখ্যান করে এক নায়কত্ব শাসন ব্যবস্থা চালু করেন।&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">লিবিয়া ১৯৬১ সনে তেল উৎপাদন&nbsp;শুরু করে&nbsp;এবং ১৯৬৫ সালের মধ্যে লিবিয়া বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম তেল রফতানিকারক দেশ হিসাবে পরিচিতি লাভ করে ।&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">গাদ্দাফির আমলে কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ বা ভিন্ন মতাদর্শের কোনো রাজনৈতিক দল তাঁর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারে নি।&nbsp;তিনি এক নায়কত্ব কায়েম করে দেশ পরিচালনা করেন। তবে তাঁর শাসনামলে দেশের লোক শান্তিতে ছিল। মানুষের বাক স্বাধীনতা না থাকলে,শুধু খেয়েদেয়ে ভালো থাকলেই সুখী হয় না। গণতন্ত্রের মাধ্যমে একটা জাতি মত প্রকাশের স্বাধীনতা পায়,আর এই স্বাধীনতা না থাকলে, নিজ দেশে জনগণ পরাধীন।&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে কেন হত্যা করা হয়েছিল?&nbsp;বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তার উত্তরাধিকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে এবং অনেকে ভাবছে যে তিনি একজন স্বৈরশাসক&nbsp;ছিলেন, দেশের লোক তাঁর বিরুদ্ধে কথা বলার অধিকার ছিল না।&nbsp;যারাই তাঁর বিরুদ্ধে কথা বলতে গেছে,তারাই জেল,ফাঁসির স্বীকার হতে হয়েছে।&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">আবার অনেকের মতে&nbsp;মুয়াম্মার গাদ্দাফি একজন সত্যিকারের আফ্রিকান হিরো ছিলেন, আফ্রিকান অখণ্ডতার রক্ষক এবং আফ্রিকান ঐক্যের যোদ্ধা ছিলেন। আফ্রিকা রাতারাতি উন্নত দেশগুলির কাতারে চলে আসবে এটা অনেক দেশ সহ্য করতে পারতো না।&nbsp;তবে আর যাই হোক না কেন, দেশের মানুষের বাক স্বাধীনতা ছিল না ।&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">ব্রিটিশ শাসন শেষ হওয়ার প্রাক্কালে প্যালেস্টাইন ভূখণ্ডকে ইসরাইল (ইহুদি)রাষ্ট্র হিসাবে মে ১৪,১৯৪৮ ঘোষণা করে; প্যালেস্টাইনের নেতা ইয়াসির আরাফাত ও প্যালেসটিন বিতাড়িত মুসলমান এই রাষ্ট্রের বিরোধিতা করে;সে সময় আরাফাতকে&nbsp;সন্ত্রাসী হিসাবে পশ্চিমা দেশগুলি চিহ্নিত করা হতো। যেহেতু মুয়াম্মর গাদ্দাফি ইয়াসার আরাফাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছিলেন, তাই তাঁকে&nbsp; ও সন্ত্রাসী হিসাবে ধরা হতো। ১৯৮৬ সনে আমেরিকা গাদ্দাফিকে শাস্তি দেয়ার জন্য তাঁর রাজপ্রাসাদ আক্রমণ করে। গাদ্দাফি প্যালেস্টাইন এর ইয়াসির&nbsp;আরাফাতকে আর্থিক সহযোগিতা ও&nbsp; সমর্থন করতেন যা পশ্চিমা দেশগুলি এক সময় পছন্দ করতো না। আরাফাত ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্যালেস্টাইন জনগণের দাবি নিয়ে সারা জীবনই সংগ্রাম করেছেন। আরাফাত পশ্চিমা বিশ্বে একজন বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন এবং পশ্চিমা দেশগুলির সাথে তার সম্পর্ক প্রায়শঃই &nbsp;উত্তেজনাপূর্ণ ছিল;এর অন্যতম কারণ ছিল পশ্চিমা বিশ্বের দৃষ্টিতে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা।&nbsp;এই একই কারণে গাদ্দাফি ও পশ্চিমা দেশগুলির নিকট সন্ত্রাসী বলে সমালোচিত ব্যক্তি ছিলেন। দেশের জনগণের জন্য গাদ্দাফি অনেক ভালো কাজ করেছিলেন ; অনেকের ধারণা&nbsp; গাদ্দাফির&nbsp;এ ভাবে মৃত্যু দেশের জন্য ভালো কিছু নিয়ে আসে নি; বরং ওর মৃত্যুতে দেশে বিশৃঙ্খলতা এনেছে। গাদ্দাফি ৪২ বৎসর লিবিয়া তে স্বৈরতান্ত্রিক সরকার পরিচালনা করলে ও অনেক জনহিতকর কাজ করেছে।&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>নিম্নে মুয়াম্মর গাদ্দাফির কিছু ভালো কাজের বিশ্লেষণ করা হলো :</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">১ )&nbsp;মুয়াম্মর গাদ্দাফির সময়&nbsp;লিবিয়ার জনগণ কোনও বিদ্যুৎ বিল দিতে হতো না,&nbsp; সমস্ত নাগরিকের জন্য বিদ্যুৎ বিনামূল্যে দেয়া হতো।&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">২ ) লিবিয়ার ব্যাংকগুলি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এবং দেশের&nbsp; সমস্ত নাগরিককে দেওয়া ঋণ আইন দ্বারা 0% সুদে দেওয়া হতো । ঋণের টাকা সহজ কিস্তিতে আদায় করা হতো এবং কেউ অপারগ হলে রাষ্ট্র মাফ করে দিতো।&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">৩) লিবিয়ায়&nbsp;বাসস্থানকে একটি মানবাধিকার হিসাবে বিবেচনা করা হত, এবং কার্যত কোনও গৃহহীন লিবীয় রাস্তাঘাটে বা আশ্রয়হীন ছিল না।&nbsp;গাদ্দাফির অধীনে লিবিয়া পুরোপুরি নারকীয় ছিল না, যেমনটি বিশ্বকে বিশ্বাস করতে বাধ্য করা হয়েছে এবং বাক স্বাধীনতা না থাকলে ও নাগরিকদের জীবনযাত্রার উচ্চ মান ছিল। গাদ্দাফি অঙ্গীকার করেছিলেন যে ” লিবিয়ার প্রত্যেকের কাছে একটি বাড়ি না থাকা পর্যন্ত তাঁর বাবা-মা একটি বাড়ি পাবেন না। ”&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">৪) লিবিয়ার প্রতিটি&nbsp;নব-দম্পতিকে&nbsp;প্রথম অ্যাপার্টমেন্ট কেনার জন্য সরকার&nbsp; বিনা শর্তে&nbsp; ৫০,০০০ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ&nbsp; লিবিয়ান মুদ্রা অনুদান দেওয়া হতো ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">৫) লিবিয়ায় প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা&nbsp; বিনামূল্যে দেয়া হতো । গাদ্দাফি ক্ষমতায় আসার পূর্বে&nbsp; লিবিয়ার মাত্র ২৫ শতাংশ মানুষ লেখাপড়া জানতো। গাদ্দাফি এই শিক্ষা ব্যবস্থাকে সার্বজনীন করে দেয়ার ফলে বর্তমানে এ হার দাঁড়িয়েছে ৮৩ শতাংশে। যদি নাগরিকরা লিবিয়ায় তাদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা বা সুবিধা না পায়, সে ক্ষেত্রে&nbsp; সরকার তাদের বিদেশে যাওয়ার জন্য অর্থায়ন করতো । দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নত দেশের সঙ্গে তুলনা করে গাদ্দাফি তাঁর দেশের ছেলেমেয়েদের বিদেশে পাঠিয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশে&nbsp; এনে কাজে লাগিয়ে&nbsp; দেশকে উন্নয়নমুখী করে নিয়েছিলেন।&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">৬) গাদ্দাফির সময় লিবিয়ানরা কৃষিকাজ প্রাধান্য দিয়ে উৎপাদনের নিমিত্তে খামার জমি, সরঞ্জাম, বীজ এবং গবাদি পশু খরিদ করার জন্য সরকারের কাছ থেকে বিনামূল্যে অর্থ পেতেন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">৭)&nbsp; লিবিয়ানরা তাঁর সময়&nbsp;বিনামূল্যে চিকিৎসার&nbsp;সুবিধা পেতো, যাতে দেশের মানুষ সু-চিকিৎসা পায় ; দুরারোগ্য চিকিৎসার জন্য সাধারণ মানুষকে সরকারি খরচে বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করানোর সুবিধা দেয়া হতো ।&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">৮) গাদ্দাফির সময়&nbsp;যদি কোনো লিবিয়ান গাড়ি খরিদ করতো,&nbsp;সরকার&nbsp;দামের ৫০ শতাংশ ভর্তুকি দেয়ার নিয়ম ছিল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">৯) লিবিয়ায় কোনো গাড়ির মালিক পেট্রোলের জন্য কিছুই দিতে হতো না,যার যা খুশি&nbsp; বিনা মূল্যে ব্যবহার করতে পারতো।&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">১০) গাদ্দাফির&nbsp;সময়&nbsp; লিবিয়ার কোন বৈদেশিক ঋণ ছিল না এবং দেশের&nbsp; রিজার্ভের পরিমাণ ১৫০ বিলিয়ন ডলার যা বর্তমানে বিদেশি ব্যাংকে হিমায়িত।</p>



<p class="wp-block-paragraph">১১ ) যদি কোনও লিবিয়ান পড়াশুনার শেষে&nbsp; চাকরি পেতে অক্ষম হতো, রাষ্ট্র&nbsp;বেকারত্ব ভাতা&nbsp; প্রদান করতো যে পর্যন্ত&nbsp;কর্মসংস্থান না হয়।&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">১২ ) লিবিয়ার তেল বিক্রয়ের একটি অংশ সরাসরি সমস্ত লিবিয়ার নাগরিকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হতো যাতে জনগণ পরিবার নিয়ে সুখে থাকতে পারে।&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">১৩) গাদ্দাফির সময় সন্তান জন্ম দানকারী&nbsp;মা&nbsp;মাতৃত্বকালীন ভাতা ৫,০০০ মার্কিন ডলারের সম-পরিমাণ&nbsp;লিবিয়ান মুদ্রা&nbsp;পেতেন।&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">অনেকের মতে গাদ্দাফি আফ্রিকার একজন সেরা নেতা ছিলেন। দেশের মানুষের জন্য এত কিছু করার পর ও দেশের লোক কেন তাঁকে পছন্দ করতেন না ? কিছু&nbsp;কারণ&nbsp; নিম্নে বর্ণনা করা হলো :</p>



<p class="wp-block-paragraph">১ ) লিবিয়ার বিপ্লবকারীদের মতে গাদ্দাফি একজন স্বৈরাচারী নেতা ছিলেন।&nbsp;কেউ তাঁর সমালোচনা করুক তা তিনি পছন্দ করতেন না। ১৯৭৪ সালের ৯ নভেম্বর এক ভাষণে গাদ্দাফি বলেছিলেন- “আমি যে কোনো মুহূর্তে তাদের গণআদালতে পাঠাতে পারি; গণআদালত&nbsp;আইনের উপর ভিত্তি করে মৃত্যুদণ্ড জারি করবে, যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী রাজনৈতিক দল গঠন করে, তার বা তাদের ভাগ্যে মৃত্যুদণ্ড ”।&nbsp;লিবিয়ার জনগণের বাকস্বাধীনতা ছিল না,অপরদিকে আরব বিশ্বের জনগণ আজকাল রাজতন্ত্র বা স্বৈরাচারী সরকার চায় না। তারা দুনিয়ার সবার মতো স্বাধীন হতে চায়।&nbsp;১৯৭৬ সালে গাদ্দাফির বিরুদ্ধে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের ফলে বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক এবং কিছু&nbsp;সরকারি কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেন।&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">২ )&nbsp;১৯৮৪ সালের মে মাসে দেশের ব্যর্থ অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার ফলে হাজার হাজার লোককে কারারুদ্ধ করা হয় এবং বহু লোককে&nbsp;মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">৩) অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতে, লিবিয়া সরকার “গণ নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও আটক, “গুম”, নির্যাতন এবং মৃত্যুদণ্ড” চালু করেছিল। দেশে কেউ&nbsp;গাদ্দাফির বিরুদ্ধে কোনো রকম সমালোচনা করলে তাকে বা তাদেরকে চরম মূল্য&nbsp; দিতে হতো।&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">৪&nbsp; )&nbsp;১৯৯৬ সালের গণহত্যা : মুয়াম্মর গাদ্দাফি দেশের আবু সেলিম কারাগারে ১২০০ জন কয়েদি বিনা কারণে হত্যা করে&nbsp;এবং তার খবর নিজ নিজ পরিবারকে সময়মতো জানানো হয় নি, এবং এই হত্যাকাণ্ড সে সময় সরকার অস্বীকার করেছে ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">অবশেষে ২০০৪ সালের এপ্রিলে গাদ্দাফি স্বয়ং বলেছিলেন যে সেখানে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এবং বন্দীদের পরিবারের কী ঘটেছে তা জানার অধিকার রয়েছে। কিন্তু কিভাবে কারাগারের&nbsp;এত এত লোক হত্যা করা হয়েছিল, ঘটনার কোনও আনুষ্ঠানিক বিবরণ পাওয়া যায়নি।&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">দেশের&nbsp; জনগণ&nbsp;: মুয়াম্মর গাদ্দাফি এবং তাঁর সরকারের স্বৈরতান্ত্রিক কার্যকলাপের দরুন অতিষ্ঠ হয়ে বিপ্লব করে শেষ পর্যন্ত তাঁকে হত্যা করে। ইতিহাসে এই জাতীয় হত্যাকাণ্ড বিরল।&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">লিবিয়ার গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরে মুয়াম্মার গাদ্দাফির সশস্ত্র বাহিনী বহুদিক থেকে দেশের জনগণের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব লঙ্ঘনের মধ্যে রয়েছে বিচারবহির্ভূত হত্যা, জাতিগত নিধন&nbsp;এবং বেসামরিক নাগরিকদের ওপর বোমা হামলা।</p>



<p class="wp-block-paragraph">অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে “আল-গাদ্দাফি বাহিনী যুদ্ধাপরাধ এবং গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন সহ আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন করেছে, যা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের দিকে ইঙ্গিত করে। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে অসংখ্য নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীকে হত্যা ও আহত করেছে; প্রতিপক্ষ ও সমালোচকদের জোরপূর্বক গুম ও নির্যাতন&nbsp; এবং নির্বিচারে অসংখ্য বেসামরিক নাগরিককে আটক করেছে।&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা&nbsp; না থাকার দরুন অনেক দেশে-ই&nbsp;সময় সময় গণ-&nbsp;বিপ্লব দেখা দিয়ে থাকে; এ বিপ্লবকে নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে সরকার ভাড়াটিয়া বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে গণহত্যার মতো জঘন্য কাজ করে এবং অতীতে যে ভালো কাজটুকু করে, তাও মুছে যায়। বিপ্লবের ফলে নিরীহ জনগণের দুঃখ দুর্দশা চরমে পৌঁছে।&nbsp;এ ভাবেই পৃথিবীর গরিব দেশগুলির জনগণ দিনের পর দিন না খেয়ে&nbsp;এবং বেঁচে থাকার তাগিদে&nbsp; অন্য দেশে আশ্রয় নিয়ে চরম দুর্দশায়&nbsp;বৎসরের পর বৎসর ভোগে।&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">ত্রুটিপূর্ণ শাসন ব্যবস্থা এবং স্বার্থান্বেষী শাসক গোষ্ঠীর কারণে আফ্রিকা, এশিয়া এবং ইউরোপের উদ্‌বাস্তু সমস্যা দিনের পর দিন বেড়ে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা মুসলিম শত শত বৎসর মিয়ানমারের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও &nbsp;ওখানকার নাগরিকত্ব পায় নি; সামরিক সরকার এক মিলিয়নের উপর রোহিঙ্গা মুসলিম বে-আইনি ভাবে&nbsp;বাংলাদেশে&nbsp;পাঠিয়ে উদ্‌বাস্তু সমস্যার সৃষ্টি করেছে।&nbsp;জাতিসংঘ, ইউরোপ, আমেরিকার ও অন্যান্য দেশগুলি এগিয়ে এসে স্থায়ী&nbsp;সমাধান করে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাবে&nbsp; বলে আশা করছি।&nbsp;&nbsp;</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>স্মৃতির মিছিল</title>
		<link>https://probashikantho.com/2026/04/05/%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%9b%e0%a6%bf%e0%a6%b2/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 05 Apr 2026 19:07:14 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Column]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=12492</guid>

					<description><![CDATA[সাইদুল হোসেন (পূর্ব প্রকাশিতের পর) বহু কথা-ই বলেছি ইতিপূর্বে কিন্তু বহু কথা-ই বলা হয়নি। ঘটনাবহুল সুদীর্ঘ জীবন আমার। কিছু না-বলা]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph"><strong>সাইদুল হোসেন</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">(পূর্ব প্রকাশিতের পর)</p>



<p class="wp-block-paragraph">বহু কথা-ই বলেছি ইতিপূর্বে কিন্তু বহু কথা-ই বলা হয়নি। ঘটনাবহুল সুদীর্ঘ জীবন আমার। কিছু না-বলা কথার স্মৃতিচারণ করছি এখানে একে একে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">(এক)</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>Remember who is the boss. OK?</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">মার্চ ২৫, ২০২৫</p>



<p class="wp-block-paragraph">আজ আমার জন্মবার্ষিকী। ৯২ বছর পূর্ণ হলো। ৯৩-তে পা রাখলাম। দীর্ঘ জীবন শুধু নয়, সুদীর্ঘ জীবন লাভ করেছি আমি। অথচ আমার বাবা মারা গেলেন ১৯৫৫ সনে, বয়স হয়েছিল তাঁর মাত্র ৪৭ বছর। গলায় ক্যানসারের আক্রমণে অকাল মৃত্যু। আমার বয়স এখন তার দ্বিগুণ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমার জন্ম এমন এক গ্রামে (১৯৩৩ সন) যেখানে ক্লাস সিক্স পর্যন্ত পড়ার উপযুক্ত একটা তখনকার দিনের Middle High School ছিল। ঐ এলাকার একমাত্র উচ্চ&nbsp; শিক্ষার স্কুল যদিও সেটা ক্লাস টেন পর্যন্ত পড়ার High School ছিল না। বহু দূরের গ্রাম থেকে ছেলেরা সেই স্কুলে পড়তে আসতো- শুকনার দিনে পায়ে হেঁটে, বর্ষাকালে নিজেরাই নৌকা বেয়ে। হিন্দু-মুসলিম দুই-ই, সবাই ছিল কৃষকের সন্তান। দেখতে বেশ বড়সড়। বেশী বয়সী। ওদের মাবাবা ওদের পড়তে পাঠাতো স্কুলের পাঠ শেষ করে শিক্ষিতদের দলে নাম লিখিয়ে তাদের ছেলেরা গ্রামের/সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি হিসাবে সমাদৃত হওয়ার আকাংখা নিয়ে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">অপর উদ্দেশ্য ছিল বিয়ের সময় শিক্ষিত পাত্র হিসাবে পাত্রীপক্ষ থেকে অধিক পরিমাণ যৌতুক আদায় করা। স্পষ্ট মনে পড়ে যে ১৯৪৫-এ যখন আমি ক্লাস সিক্সে পড়ি (বয়স আমার মাত্র ১২ বছর) তখন আমাদের সহপাঠী আমাদেরই গ্রামের ছেলে আবুল হাসেম (আমার চেয়ে বয়সে অনেক বড়) বিয়ে করে আমাদের ক্লাসে হৈচৈ বাঁধিয়ে দিয়েছিল। বিয়ের পর মেহেন্দিমাখা হাত নিয়ে সলজ্জমুখে একদিন ক্লাসে এসেছিল সে। বিয়ের কারণ হিসাবে বলল যে তার দাদাদাদী নাতি বৌয়ের মুখ দেখতে চান। তাদের পছন্দেরই কনে। তাই এই বিয়ে। এই ছিল ওর শেষ ক্লাসে আসা, অতঃপর আবুল হাশেম আর স্কুলমুখো হয়নি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">গ্রামের স্কুলের পড়া শেষ করে ১৯৪৬ সনে ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া শহরে গিয়ে সেখানে এক হাই স্কুলে ভর্তি হলাম। সেখানেও দেখলাম একই দৃশ্য, আমার চেয়ে অধিক বয়সের ছেলেরা ছিল আমার সহপাঠী।</p>



<p class="wp-block-paragraph">কেন জানি না আজ সকালে এই প্রশ্নটা মনে জেগে উঠলো ঃ অতীতের আমার সেই সব স্কুল সহপাঠীদের মাঝে কেউ আজো বেঁচে আছে কি কোথাও? কিন্তু কে জবাব দেবে?</p>



<p class="wp-block-paragraph">তবে না থাকলেই আমি খুশী হবো। খুশী হবো এই জন্য যে ওরা আমার মত অতিবার্ধক্যের নিত্য যাতনা থেকে মুক্তি পেয়েছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এবার দৃশ্যান্তরে যাই।</p>



<p class="wp-block-paragraph">বর্তমানে আমরা স্বামীস্ত্রী সরকারী যে সিনিয়র সিটিজেনস রেসিডেন্স্ বিল্ডিংয়ে বাস করি সেখানে প্রচুর পরিমাণ রেসিডেন্ট আছে যাদের বয়স ৯০-১০০ বছর। এরা সবাই হোয়াইট ক্যানাডিয়ান্স, সবাই walker -এর উপর নির্ভরশীল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">বছর দু’য়েক আগে এক গরমের দিনের বিকালে আমরা কয়েকজন বিল্ডিংয়ের সামনে বড় একটা বকুল ফুল গাছের তলায় নিজেদের walker -এ বসে গল্প করছিলাম। এক পর্যায়ে আমার সামনে তার walker -এর সীটে বসা আইরিন অতি জীর্ণ-শীর্ণ হাড্ডি-চর্মসার এক হোয়াইট মহিলা রেসিডেন্ট আমাকে প্রশ্ন করলো :</p>



<p class="wp-block-paragraph">“How old are you, Sayed?”</p>



<p class="wp-block-paragraph">বললাম, “90 years.”</p>



<p class="wp-block-paragraph">জবাবে বললো, Only 90? I’m 96, six years your senior. Remember who is the boss. OK?”</p>



<p class="wp-block-paragraph">হেসে বললাম, “Sure”</p>



<p class="wp-block-paragraph">আইরিন ছিল খুবই হাসিখুশী মেজাজের মহিলা। বার্ধক্যজনিত কোন কষ্ট নিয়ে কোনদিন কোন অভিযোগ করতে শুনিনি ওকে। আমরা একই ফ্লোরে পাশাপাশি বাস করতাম। এলিভেটরে অথবা নীচে লবীতে দেখা হলেই প্রশ্ন করতো, “How are you, Sayed”? আমার স্ত্রীও আইরিনকে খুব পছন্দ করতো। দু’মাস আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হসপিটালে গেল, আর জীবিত ফিরে এলো না। ওর বয়স হয়েছিল ৯৮ বছর। ওর এপার্টমেন্টের সামনে দিয়েই আমাদের এলিভেটরে যেতে, বাসায় ফিরতে&nbsp; হতো। সে আজ নেই, কিন্তু ওর এপার্টমেন্টের সামনে পৌঁছলেই কানে বাজে Remember who is the boss. OK?</p>



<p class="wp-block-paragraph">(দুই)</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>তিন ঘড়ির গল্প</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">১)&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; ছোট বড় তিনটা ঘড়ি আছে আমাদের ঘরে। সবচেয়ে ছোটটা আমার দীর্ঘদিনের সংগী। লাল রং টেবিল ক্লক। সেটাকে কিনেছিলাম সেই ১৯৯৪ সনের জানুয়ারী মাসে এলার্ম ক্লক হিসাবে। মূল্য ৪ ডলার মাত্র। তখন আমি নাইট শিফটে কাজ করতাম (রাত ১১টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত)। কাজের শেষে দেড় ঘন্টা বাস জার্নি করে (পথে একবার বাস বদলাতে হতো।) বাসায় ফিরে কাপড়চোপড় ছেড়ে গোসল সেরে ব্রেকফাস্ট করে নিজের রুমে এসে দিতাম লম্বা ঘুম। তখন আমি টরন্টো সিটির ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির সন্নিকটে ২৬ তলা একটা বিল্ডিংয়ের ২৬ তলায় আরো দু’জনসহ একটা মেসে বসবাস করতাম। সে আমাকে সময়মত বেজে উঠে জাগিয়ে দিতো। তারপর আমি কাজে চলে যেতাম। আজকাল সেটাকে আর এলার্ম ক্লক হিসাবে ব্যবহার করি না, বাথরুমে রেখে দিয়েছি সময় দেখার জন্য।</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full"><img loading="lazy" decoding="async" width="400" height="440" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/04/ঘড়ি.jpg" alt="" class="wp-image-12493" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/04/ঘড়ি.jpg 400w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/04/ঘড়ি-273x300.jpg 273w" sizes="(max-width: 400px) 100vw, 400px" /><figcaption class="wp-element-caption">STAIGER. QUARTZ technology-তে তৈরী ঘড়ি</figcaption></figure>
</div>


<p class="wp-block-paragraph">এতক্ষণ ধরে এত কথা বললাম এই জন্য যে সেই ছোট্ট ঘড়িটা (ব্যাটারির সাহায্যে চলে) দীর্ঘ ৩২ বছর পরও সঠিক সময় দেখিয়ে চলেছে। অবাক কান্ড বটে!</p>



<p class="wp-block-paragraph">দ্বিতীয় ঘড়িটাও একটা টেবিল ক্লক। রং সাদা। আগেরটার চেয়ে বেশ একটু বড়। এই ঘড়িটার বৈশিষ্ঠ্য হচ্ছে চারটি :</p>



<p class="wp-block-paragraph">ঘড়িটা খুব ভারী কারণ এটা একটা ভারী crystal case এর ভেতরে আবদ্ধ,&nbsp; plastic case নয়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এটা সোভিয়েট আমলের ওয়েস্ট জার্মেনীতে তৈরী। সেটার ডায়ালটাতে লেখা রয়েছে West Germany. নাম STAIGER. QUARTZ technology-তে তৈরী। সোভিয়েট আমলের জার্মেনীতে অবসান ঘটেছে ১৯৯১ সনে Berlin Wall ভেংগে &nbsp;East Germany (Soviet Russia) এবং West Germany (USA) এই দু’টির unification এর ফলে। ঘড়িটা স্পষ্টতঃই&nbsp; ১৯৯১ সনের আগের কোন এক সনে তৈরী। কিন্তু সেটার বয়স হিসাব করা যাচ্ছে না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তৃতীয় বৈশিষ্ট্যটা হচ্ছে এই যে এটা একটা atomic clock, ব্যাটারীচালিত বা বিদ্যুৎচালিত নয়। তাই এটাতে কখনো নূতন ব্যাটারী লাগাতে হয় না অথবা কোন electric outlet -এ plug-inI করতে হয় না। সে আপনমনে চলছে নিজের সময় দেখিয়ে যা আমাদের ক্যানাডার Eastern Time -এর চেয়ে এক ঘন্টা পেছনে। সময়টাকে re-set করার কোন পথ খোলা নেই। বহু বছরের সংগী আমাদের এই ঘড়িটা।</p>



<p class="wp-block-paragraph">চতুর্থ বৈশিষ্ট্যটা হচ্ছে এই যে atomic clock হওয়ার কারণে ওটাকে ভেংগে না ফেলা পর্যন্ত সে কোনদিন slow অথবা fast হবে না, অথবা থেমেও যাবে না। মানুষের বুদ্ধি কতটা প্রখর ও সৃজনশীল হতে পারে আমাদের এই ঘড়িটা তারই একটা জ্বলন্ত প্রমাণ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তৃতীয় ঘড়িটা হচ্ছে একটা বড় Wall clock , তিনটা AA battery’র সাহায্যে চলে সে। কিনেছিলাম ৬০ ডলার খরচ করে ১৯৯৭ সনে- আজ থেকে ২৮ বছর আগে। ঘড়িটার dial/face -এ ১২টি পাখির ছবি আছে ১২টি ঘন্টার দাগের উপর। তবে বৈশিষ্ট্যটা হচ্ছে এই যে প্রতিটি ঘন্টায় ছবিতে দেখানো পাখিটার ডাক স্পষ্ট শুনতে পাওয়া যায়। এই দীর্ঘ ২৮ বছর পরও পাখির ডাকের কোন তারতম্য ঘটেনি। আমরা মুগ্ধ!</p>



<p class="wp-block-paragraph">(তিন)</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>POKEMON Cards, chicken sandwich, money</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">আমার এক নিকটাত্মীয় টরন্টো থেকে ওর ওয়াইফ ও জমজ দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে (বয়স ১৪ বছর) লাঞ্চ করতে এসেছিল কিছুদিন আগে। ওরা স্বামীস্ত্রী দু’জনেই খুব নামাজী-মুসল্লী। স্ত্রী মহিলা খুব হিজাবী তবে নিকাবী নয়। ছেলেমেয়ে দু’টিকেও নামাজ শিক্ষা দিয়েছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সেদিন ছিল শুক্রবার। ওরা আসার পথে কোন এক মসজিদে জুমার সালাত আদায় করে এসেছে। ক্যানাডাতে জন্ম বাচ্চাদের, ওদের ভাষা ইংলিশ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">লাঞ্চের শেষে আমি ছেলেটিকে জিজ্ঞাসা করলাম, “When you prayed your Salat, what did you ask for from Allah?”</p>



<p class="wp-block-paragraph">জবাবে সে জানালো, “I asked Allah to give me POKEMON Cards, Popeye’s chicken sandwich and some money.”</p>



<p class="wp-block-paragraph">(চার)</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>জুতা বদল</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">একদিন টরন্টো থেকে দুই পরিবার লাঞ্চে এসেছিলেন আমাদের বাসায়। একে অন্যের অপরিচিত। আমি তাদেরকে পরিচয় করিয়ে দিলাম। লাঞ্চের পর একজন বিদায় নিয়ে চলে গেলেন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">অন্যজনের সংগে আরো বেশ কিছুক্ষণ গল্প করার পর তিনিও বিদায় চাইলেন। কিন্তু বিপত্তি ঘটলো জুতা নিয়ে। আগের ভদ্রলোক এই অতিথির জুতা পরে চলে গেছেন!</p>



<p class="wp-block-paragraph">সংগেসংগে ফোন করে সেই ভদ্রলোককে জুতা বদলের কথাটা জানালাম। তিনি বললেন, “সেই জুতাগুলো আমার পায়ে খুব ফিট হওয়াতে আমি নির্ভাবনায় সেগুলো আমারই মনে করে পায়ে দিয়ে চলে এলাম, কোন অসুবিধা হচ্ছে না। হা-হা-হা-হা!”</p>



<p class="wp-block-paragraph">বললাম, কিন্তু এতে তো সমস্যাটার সমাধান হচ্ছে না। জুতা জোড়া বদলানো প্রয়োজন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">শুনে তিনি বললেন, “আমি খুব দুঃখিত এই সমস্যাটা সৃষ্টি করার জন্য। যাহোক আমি বাসাতেই আছি, এই আমার ঠিকানা। অপর পক্ষকে বলুন আমার বাসায় এসে জুতা জোড়া বদলে নিতে।”</p>



<p class="wp-block-paragraph">কি আর করা? দ্বিতীয় অতিথি তাই টরন্টোতে ঐ বাসায় গিয়ে জুতা বদল করে তারপর নিজের বাসায় ফিরে গেলেন। বহু সময় ব্যয়, পরিশ্রম ও অসুবিধা ভোগ করতে হলো দ্বিতীয় জনকে। (চলবে)</p>



<p class="wp-block-paragraph">সাইদুল হোসেন<br>মিসিসাগা</p>



<p class="wp-block-paragraph"></p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>বিশ্বের অনুন্নত দেশগুলির অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থার কুফল</title>
		<link>https://probashikantho.com/2026/04/05/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a6%a4-%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%b0/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 05 Apr 2026 19:02:05 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Column]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=12490</guid>

					<description><![CDATA[নজরুল ইসলাম (পূর্ব প্রকাশিতের পর) ১ তৃতীয় বিশ্ব একটি অপ্রচলিত শব্দ যা প্রথম এবং দ্বিতীয় বিশ্বের দেশগুলির সংঘর্ষের ফলে যে]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph"><strong>নজরুল ইসলাম</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">(পূর্ব প্রকাশিতের পর)</p>



<p class="wp-block-paragraph">১</p>



<p class="wp-block-paragraph">তৃতীয় বিশ্ব একটি অপ্রচলিত শব্দ যা প্রথম এবং দ্বিতীয় বিশ্বের দেশগুলির সংঘর্ষের ফলে যে দেশগুলি অনুন্নত বা উন্নয়নশীল তাদের বুঝানো হয়ে থাকে। যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, জাপান এবং কিছু পশ্চিম ইউরোপীয় দেশ যেখানে উন্নত গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা রয়েছে- এ সব দেশকে প্রথম বিশ্বের দেশ বলা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বের দেশগুলি যেমন বুলগেরিয়া, চেকোস্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি, মঙ্গোলিয়া, উত্তর কোরিয়া, পোল্যান্ড, রোমানিয়া, সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং চীন; এ সব দেশগুলি কমিউনিস্ট বা পরিকল্পিত অর্থনীতি ব্যবস্থা দ্বারা পরিচালিত। তৃতীয় বিশ্ব- দরিদ্র এবং উন্নয়নশীল দেশগুলিকে বুঝানো হয়, এ সব দেশ গণতন্ত্রহীনতা, অর্থনৈতিক মন্দা বা দুর্নীতির জন্য পরিচিত। এ সব দেশের অধিকাংশ-ই দুর্নীতিগ্রস্ত। গণতন্ত্রহীনতা ও শাসনতান্ত্রিক অরাজকতা থাকার জন্য তৃতীয় বিশ্বের দেশ হিসাবে চিহ্নিত এরা। এ সব দেশে সীমাহীন সমস্যা, অদক্ষ শাসন ব্যবস্থা, ক্ষমতাসীন লোভী শাসকগোষ্ঠী জনগণের কাজ করার পূর্বে নিজেদের স্বার্থকে বড় করে দেখে এবং পরিকল্পিত শোষণ ব্যবস্থা চালু করে। ক্ষমতাসীন সরকার নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য নিরীহ জনগণের মতামত উপেক্ষা করে, পুলিশ বা দলীয় পেটোয়া বাহিনী দিয়ে ভয়ভীতি, গুম, খুন করে&nbsp; বিরোধী দলের সদস্যদের দূরে সরিয়ে রাখে। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে জবাবদিহিতার অভাব, দেশ শাসনের নামে জনগণের অর্থ যথা কোষাগার লুন্ঠন, বিদেশী ব্যাংকে অর্থ পাচার , বাড়ি ঘর, ব্যবসা বাণিজ্য খরিদ করে; এক সময় তল্পিতল্পা নিয়ে বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করে। কাজের নামে ফাঁকি, নিজের দোষ অন্যের ঘাড়ে কি ভাবে চাপানো যাবে এ নিয়ে মহা ব্যস্ত থাকে ।<br>২</p>



<p class="wp-block-paragraph">দক্ষিণ আফ্রিকার নাম স্মরণে আসলেই শ্রদ্ধার সঙ্গে একটি নাম চোখের সামনে ভেসে উঠে আর তা হলো ” নেলসন মেন্ডেলা “, যিরি সারাজীবন দেশের অবহেলিত জনগণের মুক্তি ও গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন । এ জাতীয় কিছু কিছু মানুষ সময় সময় পৃথিবীতে আগমন করে , আলোর বর্তিকা হাতে নিয়ে জাতিকে অন্ধকার থেকে আলোর পথ দেখায় । নেলসন মেন্ডেলার ত্যাগের বিনিময়ে পরাধীনতার শিকল থেকে একটি জাতিকে মুক্ত করেছেন ; এই সে ব্যক্তি যার নামে সারা বিশ্বে বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,সড়ক ও বিশেষ বিশেষ প্রতিষ্ঠানের নাম করণ করা হয়েছে। নেলসন মেন্ডেলা তাঁর কঠোর পরিশ্রমের জন্য ” নোবেল পুরস্কার ” পেয়েছিলেন ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">১৯৪৪ সালে ছাত্র রাজনীতিতে আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসে (এএনসি) মেন্ডেলা যোগ দেন , কৃষ্ণাঙ্গ-মুক্তিকামী দল, এবং এর নেতা হিসাবে যোগ দিয়ে জাতিকে মুক্তির স্বপ্ন দেখান। নেলসন ম্যান্ডেলা ছিলেন একজন কিংবদন্তি নেতা যিনি দক্ষিণ আফ্রিকা এবং বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মানুষের ন্যায়বিচার এবং গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করার পথ দেখিয়েছিলেন। তিনি সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মানবতাবাদী হিসাবে ব্যাপকভাবে বিবেচিত হন ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তাঁর বিশেষ কয়েকটি দিক হল:<br>১ ) তিনি ও তাঁর দলের লোকজন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বর্ণবৈষম্য, জাতিগত বিচ্ছিন্নতা এবং নিপীড়িত জনগণের জন্য শ্বেতাঙ্গদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে মৌলিক অধিকার আদায় করেছিলেন । শ্বেতাঙ্গ সরকারের নিপীড়নের কারণে মেন্ডেলা ও তার দলের অধিকাংশ নেতৃস্থানীয় কর্মীদেরকে লুকিয়ে আন্ডারগ্রাউন্ড একটিভিটিস করতে হয়।<br>২) মেন্ডেলা মানবাধিকার, গণতন্ত্র এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজ করেন । তিনি অবিচার, নিপীড়ন এবং সহিংসতার বিরুদ্ধে দেশের ভিতর এবং বাইরের মুক্তি আন্দোলনকে সমর্থন করেছিলেন।<br>৩) তিনি সাহস, সহানুভূতি এবং প্রজ্ঞা দিয়ে বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন। তিনি দেখিয়েছিলেন যে একজন ব্যক্তি তার কর্মের মাধ্যমে পার্থক্য তৈরি করতে পারে। তিনি দেখিয়েছেন ক্ষমা করা ঘৃণা, সহিংসতা ও প্রতিশোধের চেয়ে বেশি শক্তিশালী। মেন্ডেলা শ্বেতাঙ্গদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে একত্রে কাজ করার নিদর্শন দেখিয়েছেন। তিনি আমাদের শিখিয়েছিলেন যে “বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় গৌরব নিজের বা জাতির পতন নয়, বরং উত্থানের মধ্যে নিহিত।“<br>৪) তিনি একজন সত্যিকারের রাষ্ট্রীয় নায়ক ছিলেন, যিনি বিশ্বকে আরও ভাল জায়গায় পৌঁছে দিয়েছেন ।<br>৫ ) তাঁর জীবনের উৎস ছিল “আমি নিজের দেশের জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন করবো, আমি আমার নিজের ও দেশের পথ নির্দেশক “। মেন্ডেলা ক্ষমতার লোভী ছিলেন না, তিনি একবারের বেশি দেশের নেতৃত্ব দেননি বা পরিবারের কাউকে টেনে ক্ষমতার মসনদে বসাতে চান নি। তাঁর মতে “জনগণ ক্ষমতার উৎস এবং জনগণ যাকে পছন্দ ক্ষমতায় বসাবে”।</p>



<p class="wp-block-paragraph">দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গ বসতি স্থাপনের ইতিহাস শুরু হয় ১৬৫২ সালে, ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এ দেশে ব্যবসার উদ্দেশ্যে এসে উপনিবেশ স্থাপন করে এবং ১৮৬১ সালে যুক্তরাজ্য কর্তৃক সংযুক্ত হওয়ার আগে প্রায় দুই শতাব্দী ধরে এই দেশ ডাচ শাসনের অধীনে ছিল। সেই সময়, দক্ষিণ আফ্রিকা ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত সংখ্যালঘু লোকের শাসন ব্যবস্থা ছিল, যাদের বেশিরভাগই এখনও ডাচ বংশোদ্ভূত । বর্তমানে এই দেশে লোকসংখ্যা ৬১ মিলিয়ন এর মাত্র ৫ মিলিয়ন শ্বেতাঙ্গ যা মূল জনসংখ্যার ১২% ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সে যুগে ট্রেনে যাতায়াতের জন্য কৃষ্ণাঙ্গ এবং শ্বেতাঙ্গদের কম্পার্টমেন্ট আলাদা ছিল। একবার গান্ধী ১৮৯৩ সালের ৭ ই জুন ডারবান থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়া যাচ্ছিলেন, তাঁকে প্রথম শ্রেণির গাড়ি থেকে তৃতীয় শ্রেণির বগিতে যেতে বলা হয়েছিল, যদিও তার কাছে বৈধ প্রথম শ্রেণীর টিকিট ছিল। তিনি আদেশ মানতে অস্বীকার করেছিলেন এবং পিটারমারিৎজবার্গ স্টেশনে জোর করে তাকে ট্রেন থেকে সরানো হয়েছিল। এই ঘটনা গান্ধীর জীবনের একটি টার্নিং পয়েন্ট ছিল (Turning point ) এবং ভারতের অহিংস প্রতিরোধের মাধ্যমে জাতিগত বৈষম্য ও অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে তাকে অনুপ্রাণিত করে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">গান্ধী দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবৈষম্য নিয়ে এই উপলব্ধির মুখোমুখি হয়েছিলেন যে ভারতীয় (ব্রাউন ইন্ডিয়ান) হওয়ার কারণে তিনিও এর শিকার হয়েছেন । তিনি একজন আইনজ্ঞ ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও আলাদা কোনো মর্যাদা পান নি। তাঁর দেশ ভারতে শ্বেতাঙ্গরা এ ধরনের ঘৃণার উপলব্ধি নিয়ে দেশ শোষণ করে যাচ্ছে। কাজেই তাঁর কাজ হবে আর বিলম্ব না করে ভারত থেকে বিপ্লব করে শ্বেতাঙ্গদের বিতাড়িত করা ।<br>গান্ধী ভারতীয় এবং আফ্রিকান কৃষ্ণাঙ্গদের সমান দৃষ্টিতে দেখতেন, ওদের স্বাধীনতা অর্জন এবং শ্বেতাঙ্গদের মতো একই অধিকার ভোগ করার জন্য পরিকল্পনা ও প্রচার করতেন ;যে জন্য গান্ধী শ্বেতাঙ্গদের দৃষ্টিতে একজন শত্রু ; কৃষ্ণাঙ্গ এবং ভারতীয়দের মদদ দাতা হিসাবে আখ্যায়িত হন, ফলে ওকে নিরাপদ মনে করতেন না। তাছাড়া ভারতে হিন্দু, পার্সি, মুসলিম ও খ্রিস্টান বণিক ও শ্রমিকদের আত্মরক্ষাহীনতা প্রত্যক্ষ করে গান্ধী মনে করতেন ইউরোপীয় প্রশাসকদের দ্বারা সৃষ্ট শত্রুতার একটি চক্র এখানে ও রয়েছে, যাদের উৎখাত করা প্রয়োজন ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">বর্ণবৈষম্য শ্বেতাঙ্গ শাসনের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয়তাবাদী (এ এন সি ) দল ১৯৯০ এর দশকের গোড়ার দিকে ধারাবাহিক পদক্ষেপের (মেন্ডেলাকে মুক্ত করে) মাধ্যমে স্বাধীনতার সংগ্রাম শেষ করে ১৯৯৪ সালে গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের দিকে পরিচালিত হয়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তবে তাঁকে এর জন্য অনেক মূল্য দিতে হয়েছে ; শ্বেতাঙ্গদের উৎখাত করার ষড়যন্ত্রের জন্য ১৯৬২ সালে তাঁকে গ্রেপ্তার করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তবে গণ জাগরণের মাধ্যমে অবশেষে তিনি মুক্তি পান।</p>



<p class="wp-block-paragraph">১৯৯০-এর দশকে সার্বজনীন ভোটাধিকারের পক্ষে বর্ণবৈষম্যের অবসানের ফলে ম্যান্ডেলাসহ দক্ষিণ আফ্রিকার লাখ লাখ মানুষ প্রথমবারের মতো ভোট দিতে সক্ষম হন। এভাবে ভারতের মতো বহু দেশ উপনিবেশ শাসনের হাত থেকে জাতিকে মুক্ত করতে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার নেলসন ম্যান্ডেলা আজ জীবিত নেই ;তবে তাঁর দেশ স্বাধীন হিসাবে বেঁচে আছে এবং চিরদিন থাকবে এবং ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে তাঁর নাম লেখা থাকবে।<br>ডাচ, পর্তুগিজ এবং ব্রিটিশরা বিভিন্ন কারণে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল। সে সময় সুয়েজ ক্যানাল ছিল না, তার পরিবর্তে এই পথে এশিয়া,ইউরোপ এবং আফ্রিকার বাণিজ্য জাহাজ চলাচল করতো। গুরুত্বের দিকে বিবেচনা করে ব্রিটিশ, ফরাসি এবং ডাচ সরকার বাণিজ্য পথ রক্ষার জন্য ‘কেপ’-এ একটি স্থায়ী উপনিবেশ স্থাপন করেছিল।পর্তুগিজরা প্রথম ইউরোপীয় যারা দক্ষিণ আফ্রিকায় পা রেখেছিল এবং আজকের কেপ টাউনের অঞ্চলটিকে “দ্য কেপ অফ গুড হোপ” নামকরণ করেছিল। তাছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকা এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে কৃষ্ণাঙ্গ দাস জোর করে ইউরোপ এবং আমেরিকার মতো দেশগুলিতে বিক্রি করা হতো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">৩<br>কালা পানি কি?<br>বিদ্রোহী এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীদের মোকাবেলা করার জন্য ব্রিটিশদের দ্বারা প্রবর্তিত একটি শাস্তি মূলক ব্যবস্থা, যারা তাদের ঔপনিবেশিক শাসনের জন্য হুমকি স্বরূপ ছিল। দোষী সাব্যস্ত এবং রাজনৈতিক বন্দীদের ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে অনেক দূরে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে, ক্যারিবিয়ান, দক্ষিণ আফ্রিকা, মরিশাস এবং ফিজি অবস্থিত উপনিবেশগুলিতে পাঠিয়ে দিতো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আপনি যেখানেই যাবেন, সেখানেই নিজের দেশের লোক না পেলে ও ভারতীয় পাবেন এবং ওরা যত দূরেই থাক না কেন; নিজেদের ভাষা এবং কৃষ্টি ছেড়ে দেয় নি। এক সময় নাইজেরিয়ায় আমি সরকারি চাকুরী করতাম; প্রতি শনিবারে ওখানকার টেলিভিশনে ভারতীয় হিন্দি মুভি দেখানো হতো। আমাদের অফিসের সহ- কর্মীদের কেউ কেউ হিন্দি মুভির কথোপকথন বা গান বুঝতে না পেরে আমার মতো অনেকের সঙ্গে আলাপ করতো; আমি নিজেও ভালো হিন্দি বা উর্দু জানিনা, তথাপি কিছু না কিছু বুঝিয়ে দিতে চেষ্টা করতাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">শত শত বৎসর ইউরোপীয়রা সারা পৃথিবী জোর করে শাসন ও শোষণ করে নিজেদের দেশ সমৃদ্ধ করেছে। এখনোও ব্রিটিশদের অনেক উপনিবেশ রয়েছে এবং স্বাধীনতা না দিয়ে নিজেরা ভোগ দখল করে যাচ্ছে। ১৯৮২: ফকল্যান্ড যুদ্ধ, যা দক্ষিণ আটলান্টিক যুদ্ধ নামে পরিচিত, আর্জেন্টিনা এবং যুক্তরাজ্যের মধ্যে অঘোষিত যুদ্ধ । যুদ্ধের প্রথম দিকে মনে হয়েছিল, আর্জেন্টিনা ফকল্যান্ড দখলে রাখতে পারবে। কিন্তু শেষ রক্ষা করতে পারে নি। যুক্তরাজ্য তার দেশ থেকে ৮,০৫০ মাইল দূরে গিয়ে ১৭৬৫ থেকে এই দ্বীপ দখল নিয়েছিল, যা আজ ও তাদের হাতছাড়া হয় নি ।<br>ব্রিটিশ ব্যবসায়ীরা নিজেদের দেশীয় পণ্য আফ্রিকাতে বিক্রি করত, পরিবর্তে তারা আফ্রিকানদের কাছ থেকে ক্রীতদাস ও অন্যান্য পণ্য নিয়ে আমেরিকাতে প্রচুর মুনাফা পেতো। এ ছাড়া তারা আফ্রিকান ও ভারতীয়দের দিয়ে চিনি, তামাক এবং তুলার মতো কাঁচামাল উৎপাদন করতো। ব্রিটিশ জাহাজগুলি ব্যবসা শেষ করে দেশে ফিরে যাওয়ার আগে ব্রিটেনে বিক্রি করার জন্য চিনি এবং রাম (মদ) বোঝাই করে নিয়ে যেত।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমেরিকায় যারা দাসত্বের শিকার হয়েছিল তাদের করুণ কাহিনী এবং নিপীড়নের কথা স্মরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র আমেরিকায় আফ্রিকার ক্রীতদাসদের নাগরিকত্ব রক্ষার জন্য তাঁর জীবন দিয়ে গেছেন।<br>মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র, একজন আফ্রিকান-আমেরিকান ধর্মযাজক এবং নাগরিক অধিকার নেতা; তিনি সারাজীবন কৃষ্ণাঙ্গদের স্বাধীন এবং আমেরিকার নাগরিকত্বের জন্য সংগ্রাম করেছিলেন। তাঁকে জীবন দিতে হলো টেনেসির মেমফিসের লরেন মোটেলে; ১৯৬৮ সালের ৪ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬:০১ মিনিটে আততায়ীর গুলিতে বিদ্ধ হয়ে। তিনি নাগরিক অধিকার আন্দোলনের একজন বিশিষ্ট নেতা এবং নোবেল শান্তি পুরষ্কার বিজয়ী ছিলেন। আজও আমেরিকায় মার্টিন লুথার কিং দিবস পালিত হয়। (চলবে)</p>



<p class="wp-block-paragraph">নজরুল ইসলাম</p>



<p class="wp-block-paragraph">টরন্টো</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>আমার দেখা দু’টি বিচিত্র চরিত্রের নারী</title>
		<link>https://probashikantho.com/2026/03/04/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%be-%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%9a/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 04 Mar 2026 20:20:49 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Column]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=12412</guid>

					<description><![CDATA[সাইদুল&#160;হোসেন (পূর্ব প্রকাশিতের পর) এখানে বর্ণিত চরিত্র দু’টির দু’জনই ক্যানাডিয়ান সিটিজেন বহুদিন ধরেই। আমি ওদের পরিচিত। নানা পরিবেশে তাদের সংগে]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph"><strong>সাইদুল</strong><strong>&nbsp;</strong><strong>হোসেন</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">(পূর্ব প্রকাশিতের পর)</p>



<p class="wp-block-paragraph">এখানে বর্ণিত চরিত্র দু’টির দু’জনই ক্যানাডিয়ান সিটিজেন বহুদিন ধরেই। আমি ওদের পরিচিত। নানা পরিবেশে তাদের সংগে আমার পরিচিতি ও আলাপচারিতা। তাদেরকে নিয়েই সাম্প্রতিক দু’টি গল্প বলছি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">(কাহিনী এক)</p>



<p class="wp-block-paragraph">ত্রিশোর্ধ বয়সের ইরানী মহিলা। পেশায় একজন ফার্মাসিস্ট। প্রায়ই দেখা হয় সেই ফার্মেসীতে গেলে। অতি অমায়িক, শ্রদ্ধাপূর্ণ ব্যবহার করেন আমার সংগে। ২০২১ সন থেকে আমাদের পরিচয়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তিনি একদিন তার নোটপ্যাডের একটা পাতায় একটা নাম লিখে তার সামনের কাউন্টারে রেখে আমাকে বললেন, “এটা আমার ছেলের নাম। মাত্র ১১ মাস আগে আমি মা হয়েছি, এটা আমার প্রথম সন্তান। খুব শিঘ্রই আবার মা হওয়ার ইচ্ছা আছে। এই নামটা আমার এবং আমার হাজব্যান্ডের খুবই পছন্দ। কিন্তু নামটার অর্থ আমরা জানি না। Can you please help us, sir? “</p>



<p class="wp-block-paragraph">মহিলার কথা শুনে আমি তো অবাক। অর্থ না জেনে একটা নাম নিজের সন্তানের জন্য রাখলেন, এরা কেমন মা-বাবা?</p>



<p class="wp-block-paragraph">আরো একটা বিষয়ে ধাক্কা খেলাম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সেটা হলো এই যে, মহিলা তো ইরানী। ঐ দেশের বাসিন্দারা প্রায় সবাই মুসলিম (শিয়া অথবা সুন্নী) অথচ বাচ্চাটার নামটা মুসলিম বলে পরিচয় দেয় না, নামটা ক্রিশ্চিয়ান ধাঁচের। কিন্তু মুখে কিছু না বলে বললাম, “আমার কাছে দু’টি Dictionary of Christian Names আছে, আমি সেগুলোতে আপনার ছেলের নামটা খুঁজে দেখবো। তারপর আপনাকে জানাবো।”</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full is-resized"><img decoding="async" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/03/1979441-HSC00001-7-1.jpg" alt="" class="wp-image-12414" style="aspect-ratio:1.3414727099496393;width:406px;height:auto"/><figcaption class="wp-element-caption">অর্থ না জেনে সন্তানের নাম রাখা কি ঠিক? ছবি : সাচ্চি আর্ট এর সৌজন্যে</figcaption></figure>
</div>


<p class="wp-block-paragraph">ঘরে ফিরে এসে সেই ডিকশনারী দু’টিতে নামটা খুঁজলাম। একটাতে পেলাম না, দ্বিতীয়টাতে পেলাম, কিন্তু নামের অর্থটা এমন যে সেটা কোন মানুষের নাম হওয়ার যোগ্য নয়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">কয়েকদিন পর ওষুধ আনতে গেলাম সেই ফার্মেসীতে। সংগে নিয়ে গেলাম সেই ডিকশনারীটা। আরো নিলাম A Dictionary of Muslim Names. সেই মহিলা আমাকে দেখে দৌড়ে আমার কাছে আসলেন। তখন আমি তাকে Christian Names -এর ডিকশনারীটা খুলে সেটার সেই পৃষ্ঠাটা খুলে ধরলাম যেখানে তার ছেলের নামটা অর্থসহ প্রিন্ট করা রয়েছে। মুখে কিছুই বললাম না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তিনি সেই নামটা ও তার অর্থটা পড়ে মলিন মুখে বললেন, “বলতে-শুনতে এমন মিষ্টি একটা নামের অর্থ এতো কুৎসিৎ? এখন কি করি?”</p>



<p class="wp-block-paragraph">দুশ্চিন্তার ছাপ তার মুখে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমি তখন তাকে বললাম, “যদি কিছু মনে না করেন তাহলে আমি একটা কথা বলি। আপনি তো একজন ইরানী- হয় শিয়া মুসলিম নয়তো সুন্নী মুসলিম কিন্তু মুসলিম তো বটে। আপনার ছেলের জন্য একটা মুসলিম নাম রাখলে কেমন হয়? আমার সংগে একটা Dictionary of Muslim Names আছে। সেটা আপনি বাড়ি নিয়ে যান, স্বামী-স্ত্রী দু’জনে মিলে দেখেশুনে সুন্দর অর্থবহ একটা নাম select করুন। সমস্যাটা দূর হয়ে যাবে।”</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমার কথা শেষ হলে মহিলা বললেন, “আমার বাবা-মা মুসলিম, তাঁরা বেঁচে আছেন। তবে আমি নিজেকে একজন মুসলিম বলে দাবী করি না। আমি ক্রিশ্চিয়ানও নই তবে আমার হাজব্যান্ড একজন ক্রিশ্চিয়ান। যাহোক আমি আপনার আনা ডিকশনারী দু’টিই সংগে নিয়ে যাচ্ছি। একটা পারিবারিক আলোচনা করে দেখবো কি করা যায়। Many thanks for your sincere efforts, sir.” আমি আমার ওষুধটা নিয়ে চলে এলাম। আবার যখন ফার্মেসীতে যাবো তখন হয়তো জানতে পারবো তাদের সিদ্ধান্তটা।</p>



<p class="wp-block-paragraph">(কাহিনী দুই)</p>



<p class="wp-block-paragraph">মহিলা একজন পাকিস্তানী মুসলিম। একটা বড় ফার্মেসীতে কাজ করতেন মিসিসাগা সিটিতে ২০১৮-২০২০এর দিকে। তখনি আমাদের প্রথম পরিচয়। অতি সুন্দর ভদ্র আচরণ তার। তিনি এখন রিটায়ার করেছেন। একটা সিনিয়র রেসিডেন্টস বিল্ডিংয়ে একজন tenant হিসাবে বাস করছেন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">মহিলার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে যে তিনি সদাসর্বদা হাফশার্ট ও প্যান্ট পরে চলাফেরা করেন। অন্যান্য পাকিস্তানী মহিলাদের মত শালওয়ার-কামীজ-হিজাব তার পরনে আমি কোনদিন দেখিনি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">অল্প কিছুদিন আগে আবার আমাদের দেখা এক স্টোরে। তার পরনে পূর্বেকার মতই হাফশার্ট ও প্যান্ট। বললেন, “আসসালামু আলাইকুম। হাউ আর ইউ?”</p>



<p class="wp-block-paragraph">বললাম, “ওয়ালাইকুম সালাম। আই এম ফাইন। থ্যাংক ইউ।”</p>



<p class="wp-block-paragraph">তখন তিনি আমাকে জানালেন যে তিনি এখন একজন “হাজ্জন”।</p>



<p class="wp-block-paragraph">বুঝতে না পেরে তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, “হোয়াট ইজ “হাজ্জন”?”</p>



<p class="wp-block-paragraph">হেসে দিয়ে বললেন, “পুরুষরা হাজ্জ করলে হন “হাজী” কিন্তু মহিলারা হাজ্জ করলে তারা হয়ে যান “হাজ্জন”- হাজী কথাটার স্ত্রীলিঙ্গ।”</p>



<p class="wp-block-paragraph">বুঝলাম। বললাম, “মাশাআল্লাহ! খুশীর খবর।”</p>



<p class="wp-block-paragraph">তখন তিনি জানালেন যে সবেমাত্র (২০২৫) তিনি হাজ্জ করে ফিরে এসেছেন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">পূর্ব পরিচয়ের জের ধরে হেসে বললাম, “হাজ্জ তো করে এসেছেন, একজন হাজ্জনও হয়েছেন। ভালো কথা। কিন্তু আপনার লেবাস (পোশাক) তো সেই আগের মত শার্ট ও প্যান্ট রয়ে গেছে! সেটা বদলানো দরকার নয় কি? হিজাবী হবেন না?”</p>



<p class="wp-block-paragraph">মাথা নেড়ে বললেন, “নো, আই এম ফাইন উইদ মাই কারেন্ট নরমাল ড্রেস। আল্লাহ নোজ বেস্ট।”</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>YouTube Shorts </strong>থেকে</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>Motivational speech</strong><strong></strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">ব্যক্তিত্ব ধরে রাখবেন কিভাবে?</p>



<p class="wp-block-paragraph">১.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; শুনুন বেশী, বলুন কম।</p>



<p class="wp-block-paragraph">২.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; কৌতুক করে হলেও কখনো মিথ্যা বলবেন না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">৩.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; কথা দিলে কথা রাখার চেষ্টা করুন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">৪.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; ভুল হলে তর্ক না করে সরি (sorry) বলুন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">৫.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; অকারণে এবং অপ্রয়োজনে হাসবেন না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">৬.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; দ্রুত কথা না বলে ধীরেধীরে কথা বলুন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">৭.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; যা জানেন না তা নিয়ে কথা বলতে যাবেন না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">৮.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; অজানা বিষয়ে তর্কে জড়াবেন না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">৯.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; কাউকে বুঝাতে যাবেন না যে আপনিই শ্রেষ্ঠ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">১০.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; অন্যকে বলতে দিন, তার কথা আগে শুনুন। কারো কথার মাঝখানে বাধা দেবেন না। তার কথা শেষ হতে দিন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">১১.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; শব্দ করে খাবার খাবেন না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">১২.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; রাগ উঠলে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করুন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">১৩.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; কেউ ভুল করলে সহজে ক্ষমা করে দিন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">১৪.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; ছেঁড়া জামাজুতা পরবেন না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">১৫.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; সহজে কারো কাছে হাত পাতবেন না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">১৬.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; পারলে অন্যকে খাওয়ান কিন্তু দাবী করে খাবেন না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">১৭.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; খাবার সামনে এলে আগে অন্যকে নিতে দিন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">১৮.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; ছোটবড় সবাইকে সম্মান করে কথা বলুন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">১৯.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; মুখ ও শরীরের দুর্গন্ধ থেকে নিজেকে মুক্ত থাকুন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">২০.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; নিজেকে সব সময় ছোট ভাবুন। এটা হলো নম্রতা।</p>



<p class="wp-block-paragraph">২১.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; অপমানিত স্থানে দ্বিতীয়বার কখনো যাবেন না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">২২.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; নিরাশা হলো উন্নতির পথে বড় বাধা। নিরাশ হবেন না। আশাবাদী হোন। চেষ্টা চালিয়ে যান।</p>



<p class="wp-block-paragraph">২৩.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; কথায় ও কাজে আবেগটাকে দমন করুন, আপনার মেধা ও মস্তিষ্ককে কাজে লাগান।</p>



<p class="wp-block-paragraph">২৪.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; মানুষের মুখ বন্ধ করা সম্ভব নয়। ভিত্তিহীন বিরূপ সমালোচনা অবহেলা (ignore) &nbsp;&nbsp;&nbsp;করতে শিখুন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">২৫.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; ছোটবড় সব ধরনের সাহায্যের জন্যই আপনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে কেউ ছোট হয় না।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>QUOTATION</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">*&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; *&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; *</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>Religion</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">“There is no bad religion, there are only bad people.”</p>



<p class="wp-block-paragraph">(Morgan Freeman)</p>



<p class="wp-block-paragraph">(চলবে)</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>সাইদুল</strong><strong>&nbsp;</strong><strong>হোসেন</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">মিসিসাগা, কানাডা</p>



<p class="wp-block-paragraph">নভেম্বর ৩, ২০২৫</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলিতে সঠিক নেতৃত্বের অভাব</title>
		<link>https://probashikantho.com/2026/03/04/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%87/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 04 Mar 2026 20:08:54 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Column]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=12409</guid>

					<description><![CDATA[নজরুল ইসলাম (পূর্ব প্রকাশিতের পর) বিবেক মানুষের অভ্যন্তরীণ অনুভূতি&#160; যা ন্যায়- অন্যায়ের&#160; নির্দেশিকা&#160; হিসাবে কাজ করে।&#160; এটি নিজের আচরণ বা]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph"><strong>নজরুল ইসলাম</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">(পূর্ব প্রকাশিতের পর)</p>



<p class="wp-block-paragraph">বিবেক মানুষের অভ্যন্তরীণ অনুভূতি&nbsp; যা ন্যায়- অন্যায়ের&nbsp; নির্দেশিকা&nbsp; হিসাবে কাজ করে।&nbsp; এটি নিজের আচরণ বা চরিত্রের&nbsp; বহিঃপ্রকাশ, পাশাপাশি সঠিক কাজ করার বা ভাল হওয়ার বাধ্যবাধকতার অনুভূতি; ব্যক্তিগত&nbsp; দৈনন্দিন জীবনে নৈতিকভাবে কাজ করতে বাধ্য করে, অন্যের&nbsp; কষ্ট এড়াতে বা উপশম করতে সহায়তা করে; অন্যদিকে সামাজিক পরিবর্তন এক সমাজ থেকে অন্য সমাজ এবং দেশ ও জাতির পরিবর্তন করে।&nbsp; সঠিক যত্নের অভাবে জমিতে ভালো ফসল হয় না, ঘরের খুঁটি যদি দুর্বল হয়, সে ঘর বেশিদিন টিকে&nbsp; না।&nbsp; সৎ ও&nbsp; সঠিক নেতৃত্বের অভাবে একটি জাতি ও ভালোভাবে বেড়ে উঠে না ।&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমরা ছোটকালে “চরিত্র গঠন” রচনা মুখস্থ করে পরীক্ষার খাতায় লিখতাম। ” অর্থ হারিয়ে গেলে কিছুই নষ্ট হয় না, স্বাস্থ্য হারিয়ে গেলে কিছু হারিয়ে যায়, চরিত্র হারিয়ে গেলে সবকিছু হারিয়ে যায়। ”&nbsp; “চুরি করা পাপ ” আদর্শলিপি বইতে ছোট সময়ে পড়েছি। ঘরে সিঁধ কেটে &nbsp; ধান চাল , সোনাগহনা, চুরি করে ;বাজারে ভিড়ে বা বাসে পকেটমার টাকা চুরি করলে&nbsp; আমরা চোর বলি। এ সব লোক পেটের দায়ে ঠুনকো চুরি করে; কেউ কি সাদে সিঁধ কাটতে বা পকেট মারতে যায় ? আমরা চোরকে&nbsp; চোর চোর বলে&nbsp; মারধর করে থানায় পাঠাই। কিন্তু আমাদের শিক্ষিত সমাজে লোকজন স্যুট টাই পরে&nbsp; অফিসে চাকুরি করে একদিকে বেতন ,অপরদিকে&nbsp; দুর্নীতি করে রাতারাতি বড়ো লোক হয়। এ সব লোকদের আমরা চোর বলি না ; বরং&nbsp; দাঁড়িয়ে সম্মান করি, এদের ক্ষমতার জন্য চোখ বুজে আমরা নীরবে সব কিছু সহ্য করি।&nbsp; এই হলো আমাদের তৃতীয় বিশ্বের সামাজিক ব্যবস্থা।&nbsp; আমাদের সামাজিক বিবেক&nbsp; জটিল, বহুমুখী যা ঘুনেধরা শিক্ষা, সমাজ ব্যবস্থা&nbsp; এবং&nbsp; অভিজ্ঞতার মতো বিভিন্ন কারণ দ্বারা প্রভাবিত হয়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সামাজিক সুষ্ঠু &nbsp;বিবেক বিকাশের সঠিক সময়&nbsp; অনুমান করা কঠিন। সমাজে সরকার ও জনগণের যৌথ উদ্যোগে&nbsp; সামাজিক পরিবর্তন ধীরে ধীরে আসতে পারে। অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশগুলির সামাজিক অবস্থা একসময় আমেরিকার মতো উন্নত দেশেও ছিল।&nbsp; ১৯৬০ এর দিকে&nbsp; কৃষ্ণ আমেরিকানদের ভোটের অধিকার ও ছিল না।&nbsp; মার্টিন লুথার&nbsp; কিং (জুনিয়র ) এর&nbsp; মতো অনেকেই সামাজিক পরিবর্তনের জন্য নিজেদের জীবন দিয়েছেন । কৃষ্ণ আফ্রিকানদের পণ্যের মতো এক সময় কেনাবেচা&nbsp; হতো, তাদের ক্রীতদাস হিসাবে ব্যবহার করা হতো।&nbsp; বহুদিন হয় এই ক্রীতদাস প্রথা উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং ধীরে ধীরে পরিবর্তন এসেছে। কোনো কিছুই সহজে পরিবর্তন হয় না , তার জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়।&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশের সামাজিক বিবেক একটি ক্রমাগত প্রক্রিয়া যা আমাদের চারপাশের বিশ্বের সাথে আত্ম-প্রতিফলন, সহানুভূতি এবং সক্রিয় সম্পৃক্ততা প্রয়োজন। প্রথমে সমাজে বিদ্যমান সমস্যাগুলি শনাক্ত করা এবং তাদের সমাধানের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন । ব্যক্তি বা সামাজিক পরিস্থিতি এবং প্রতিশ্রুতির বিভিন্ন স্তরের উপর নির্ভর করে এই প্রক্রিয়াটি কয়েক বছর বা এমনকি কয়েক দশক সময় ও নিতে পারে।&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">সামাজিক বিবেক গড়ে তোলা একটি চলমান যাত্রা যার জন্য ধৈর্য, অধ্যবসায়, সু-শিক্ষা&nbsp; এবং বেড়ে ওঠার ইচ্ছা প্রয়োজন। এটি এমন কিছু নয় যা রাতারাতি অর্জন করা যেতে পারে, বরং ন্যায়সঙ্গত&nbsp; সামাজিক বিবেক&nbsp; তৈরির আজীবন প্রচেষ্টা।&nbsp; উন্নত বিশ্বের দেশগুলিতে আজীবন চেষ্টা করে সামাজিক পরিবর্তন এনেছে।&nbsp; আমাদের&nbsp; ভালোভাবে বেঁচে থাকতে হলে চারপাশের সামাজিক অবস্থার দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করতে হবে -তবেই আমাদের সামাজিক পরিবর্তন আসবে।&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>শিক্ষা জাতিকে দারিদ্রতা থেকে মুক্তি দেয়</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">শিক্ষা যে কোনো জাতিকে&nbsp; দারিদ্র্য থেকে বের করে আনার অন্যতম নিশ্চিত উপায়। শিক্ষা একটি মৌলিক মানবাধিকার যা মানুষের জন্য আর্থিক সচ্ছলতা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেয়।&nbsp;এটি আর্থিক স্থিতিশীলতা অর্জন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রচারের অন্যতম শীর্ষ উপায়। আজ যেখানে বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ শিশু স্কুলে যেতে পারে না,তাদের সে সুযোগ নেই। ” শিক্ষার সুযোগের অভাব দারিদ্র্যকে এক প্রজন্ম থেকে পরবর্তী প্রজন্মে স্থানান্তরিত করার একটি প্রধান ভবিষ্যদ্বাণী। অন্য কথায়, শিক্ষা এবং দারিদ্র্য সরাসরি সংযুক্ত।” যে জাতি যত শিক্ষিত, সে জাতি তত উন্নত। দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাসকারী পরিবারকে প্রায়শঃই চিন্তা করতে হয় তাদের শিশুকে স্কুলে বা অন্যান্য মৌলিক চাহিদা (রুটি রোজগার) মধ্যে কোনটি সঠিক বেছে নিতে হয়। দরিদ্রতম পরিবারগুলির জন্য স্কুল ব্যয়বহুল, দুই বেলা খেয়ে বেঁচে থাকা প্রথম কাজ। শিশুকে স্কুলে পাঠাতে হলে মৌলিক কাপড়,বই খাতা, পেন্সিল এবং সর্বোপরি দুইবেলা খাবার ব্যবস্থা ঘরে থাকতে হবে। যে পরিবারে দুবেলা খাবার ব্যবস্থা নেই ,তার জন্য শিশুকে স্কুলে পাঠানো ইচ্ছা থাকলেও সম্ভব হয় না।&nbsp;কাজেই শিশুকে বাড়িতে বসিয়ে কাজ করতে বাধ্য হয় বা কাজ করার প্রয়োজন হয়। তাছাড়া একটি দেশে যদি সরকারি পর্যাপ্ত স্কুল, সবার জন্য অবৈতনিক পড়ার ব্যবস্থা&nbsp; না থাকে, সে ক্ষেত্রে ছেলেমেয়েরা সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয় । সুযোগ পেলে লক্ষ লক্ষ ছেলেমেয়ে পড়াশুনা করে দারিদ্রের হাত থেকে বেরিয়ে আসতে&nbsp; পারে। যাইহোক, মৌলিক শিক্ষার অভাব মানুষের পক্ষে স্বাবলম্বী হওয়া কঠিন করে তোলে এবং তাদের অদক্ষ, কম বেতনের চাকরিতে সীমাবদ্ধ করে। অতএব, প্রতিটি দেশের&nbsp; জন্য মানসম্মত শিক্ষায় বিনিয়োগ করা প্রয়োজন ।&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">কানাডায় দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি ছেলেমেয়ের জন্য উন্মুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা এবং সমান&nbsp; সুযোগ রয়েছে। তাছাড়া সরকারি কি বেসরকারি বা কলকারখানা,যেখানেই কাজ করুক না কেন ; বেতন স্কেল বাজারের সঙ্গে মিল করে রাখা হয়েছে যাতে প্রতিটি মানুষ খেয়েদেয়ে মোটামুটি বাঁচতে পারে। এ দেশে যে কাজ-ই&nbsp; করুক না কেন, কেউ কাউকে জিজ্ঞেস করে না, তুমি কি কাজ করো ?&nbsp; কাজের জন্য কেউ কাউকে হেয় করে দেখে না বা সমালোচনা করে না। অনেক সময় দেখা যায় যারা বেশি পরিশ্রম করে, তারাই অল্প সময়ে বাড়ি গাড়ি কিনে প্রতিষ্ঠিত হয়। কানাডা সরকার সে ভাবেই দেশের নিয়ম কানুন তৈরি করেছে। এই সমস্যা আমাদের তৃতীয় বিশ্বে রয়েছে যার ফলে মানুষ মানুষে পার্থক্য দেখা যায় ।&nbsp; আমরা কর্মকর্তাকে&nbsp; স্যার বলে সম্বোধন করি; কিন্তু এ সব দেশে স্যার বলতে কিছু নেই , ” জো হুকুম জাঁহাপনা ” নেই। যত বড় ” বস” হন না কেন -সবাই নাম ধরে ডাকে যেমন মি: জর্জ, মিস লেন, ইত্যাদি&nbsp; ।&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে এর ব্যতিক্রম, না আছে পর্যাপ্ত পরিমাণ স্কুল, কলেজ বা ইউনিভার্সিটি, না আছে সু-শিক্ষিত টিচার যারা ছেলেমেয়েদের সু-শিক্ষা দেবে। তাছাড়া সব শিশুরা স্কুলে গেলে বসার ব্যবস্থা দেয়া যাবে না। আমি যে প্রাথমিক স্কুলে পড়তাম,তা লম্বা দোচালা টিনের ঘর, মুলির বেড়া, কাঁচা ভিটি, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ছেলেমেয়েরা মাটিতে হোগলার উপর বসতো। মাস্টারগণ বেত ছাড়া ক্লাসে আসতো না। ঝড়ের দিনে স্কুলের ছালা ও বেড়া উড়িয়ে নিয়ে যেত। কয়েকবার ক্লাসরুমে সাপ ঢুকেছে ; ভয়ে চিৎকার করে ক্লাস থেকে বের হয়েছি। আমার গ্রামের ১০% ছেলেমেয়ে স্কুলে যেত; ১% মনোযোগ দিয়ে পড়াশুনা করতো। শিশু ছেলেমেয়েরা স্কুলে না গিয়ে ক্ষেতে-খামারে কাজ করে মা-বাবাকে সাহায্য করতো ।&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমার আজও মনে পড়ে আমার ছোটবেলার স্কুল জীবনের কিছু কাহিনী। আমি পড়াশুনায় মোটামুটি ভালো ছিলাম, আমার চারপাশে শিক্ষার কোনো পরিবেশ ছিল না। গ্রামের ৯০% ছেলেমেয়ে স্কুলে না গিয়ে কাজ করে মাবাবাকে ও পরিবার পরিজনকে সাহায্য করতো।&nbsp; আমি ছেলেমেয়েদের মাবাবাকে বলতে শুনেছি, ” আমাদের ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার দরকার নেই। আবার কেউ কেউ স্কুলে গেলেও বাড়িতে পড়াশুনার কোনো পরিবেশ ছিল না বিধায় ভালো করে নি। অনেকেই প্রাথমিক স্কুলের ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত শেষ করলেও উচ্চমাধ্যমিক ভর্তি হতো না; আমাদের থানায় (উপজেলায়) ৫টা&nbsp; উচ্চমাধ্যমিক স্কুল ছিল, পায়ে হেঁটে বা নৌকা করে অনেক দূরে যেতে হতো। যারা পরের বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করতে পারতো, তারাই ভর্তি হতো।&nbsp;মেয়েদের পক্ষে কোনোমতেই সম্ভব ছিল না বা মেয়েরা ছেলেদের সঙ্গে স্কুলে পড়াশুনা করবে? মেয়েদের বেলায় ১০০ % -৫ম শ্রেণী পর্যন্ত না গিয়ে স্কুল থেকে ঝরে পড়তো। বৈশাখ,জ্যৈষ্ঠ বা আষাঢ় মাসের শুরুতেই&nbsp; অবিরত বৃষ্টির ফলে খাল বিল, মাঠঘাট ভরে যেত; গ্রামে মেঠো পথ বা রাস্তা বলতে যা ছিল তাও বৃষ্টির পানিতে ভরে যেত,&nbsp;নৌকা ব্যতীত স্কুলে যাওয়া যেত না।&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">এই পরিস্থিতি শুধু আমাদের তদানীন্তন পূর্ব বাংলায় ছিল না; এই সমস্যা অতীতে এবং আজ ও পৃথিবীর বহু দেশে&nbsp; আছে। বিশ্বব্যাংক এবং ইউনেস্কোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলির ৫৩ শতাংশ শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয় পড়াশুনা শেষে একটি সাধারণ গল্প পড়তে এবং বুঝতে পারে না। এই হলো আমাদের অনুন্নত দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>সিরিয়ার ঘরোয়া যুদ্ধ এবং বর্তমান পরিস্থিতি : </strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">অনেক দিন হয়, আমি ফেইসবুক ও পারবাসিব্লগে সিরিয়ার অবস্থা নিয়ে একটা লেখা দিয়েছিলাম। যে ভাবে&nbsp; আমাদের&nbsp; শেখ হাসিনা ছাত্র আন্দোলনের মুখে&nbsp; পালিয়ে দেশ ত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নিলেন, ঠিক একই পর্যায়ে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট হাফেজ আসাদ ও বিদ্রোহীদের আক্রমণের মুখে অবশেষে দেশ ত্যাগ করে পরিবার নিয়ে মস্কো, রাশিয়া আশ্রয় নিয়েছেন।&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">এরিস্টটলের মতে ” যেখানে&nbsp; সমাজে সংখ্যাগরিষ্ঠ দরিদ্র, সেখানে গণতন্ত্র&nbsp; চলে না ; তার কারণ দরিদ্র&nbsp; অশিক্ষিত লোক গণতন্ত্রের অর্থ বুঝবে না। দরিদ্ররা দৈনন্দিন ভাত -কাপড়ের&nbsp; চিন্তায় মগ্ন, নিজেদের বেঁচে থাকার তাগিদে ব্যস্ত, কী ভাবে দেশের অর্থনীতির চাকা&nbsp; চলে, সে সম্পর্কে অজ্ঞ; “কামারের দোকানে ধর্মের আলোচনা করার মতো। ”&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে ভোটের কারচুপি,&nbsp; হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, যোগ্যতা নিয়ে তো লড়াই করে না; ক্ষমতায় কে যাবে এ নিয়ে লড়াই।&nbsp; এ সব দেশে এক জাতীয় শিক্ষিত চতুর লোক জনগণকে ধোঁকা দিয়ে অসদুপায়ে ক্ষমতা নিয়ে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে। অধিকাংশ দেশগুলিতে দেখা যায় ভোটার কারচুপি, ব্যাংক থেকে অসৎ উপায়ে অর্থ নিয়ে গা ঢাকা দিয়ে দেশকে দেউলিয়ার খাতায় নাম লেখায়।&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">সিরিয়ার&nbsp; হাফেজ আল-আসাদ ছিলেন একজন সামরিক কর্মকর্তা, বিপ্লবী নেতা ও রাজনীতিবিদ যিনি ১২ মার্চ ১৯৭১ থেকে ১০ জুন ২,০০০&nbsp; সালে তাঁর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সিরিয়ার ১৮ তম রাষ্ট্রপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।&nbsp;আসাদ মৃত্যুর পর্বে তাঁর ছেলে বাসার আসাদকে রাষ্ট্র পরিচালনার সব ধরনের কায়দাকানুন শিখিয়ে গিয়েছিলেন যাতে&nbsp; শত্রু/মিত্র চিনে দেশ পরিচালনা করতে পারেন।&nbsp; তিনি মৃত্যুর পূর্বে নিশ্চিত করেছিলেন, তাঁর&nbsp; ছেলে বাশার একটি অনুগত সামরিক বাহিনী উত্তরাধিকার সূত্রে পায়; প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অনুগত আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থা তৈরি করেছিলেন তাঁর পরবর্তীতে&nbsp; রাজবংশ সঠিক ভাবে&nbsp; টিকে থাকে। সে থেকে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে&nbsp;কোনো সামরিক অভ্যুত্থান হয় নি; এই ১২ বৎসরের গৃহ যুদ্ধে দেশের ক্ষতি যতটুকুই হোক না কেন, তাঁকে শাসন ব্যবস্থা থেকে সরাতে পারে নি। এতেই প্রমাণিত হয় যে তাঁর বাবা মৃত্যুর পূর্বে একটি অনুগত সরকার এবং সামরিক বাহিনী রেখে গেছেন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সিরিয়ার বিধ্বংসী গৃহযুদ্ধের প্রায় তেরো বৎসর, দেশটি প্রায় সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত এবং গভীরভাবে বিভক্ত, ব্যাপক অর্থনৈতিক সংকট, সীমিত রাজনৈতিক অগ্রগতি এবং বিশ্বের বৃহত্তম বাস্তুচ্যুত সংকটের মুখোমুখি, যেখানে জনসংখ্যার ৭০ শতাংশের এখন মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। এই দেশে গৃহযুদ্ধের ফলে ৫থেকে&nbsp;৬ লক্ষ লোক বা তার ও বেশি&nbsp;এ যাবৎ মারা গেছে। ৬ থেকে ৭ মিলিয়ন লোক ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপত্তার জন্য দেশের বিভিন্ন অংশে, ৫ মিলিয়ন&nbsp; বা তার ও অধিক&nbsp; প্রতিবেশী&nbsp; দেশ,&nbsp; ইউরোপ,আমেরিকা বা কানাডায় আশ্রয় নিয়েছে।&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের কারণগুলি জটিল এবং বহুমুখী, তবে কিছু প্রধান কারণ হল:</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">ক) ১৯৭০&nbsp; সাল থেকে হাফেজ আসাদ রাজনৈতিক নিপীড়ন ও স্বৈরাচারী শাসন&nbsp; ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশ পরিচালনা শুরু করেন। তিনি সেনাবাহিনী, সচিবালয় আমলাতন্ত্র এবং সংখ্যালঘু শিয়া মুসলমানদের সুযোগ সুবিধা দিয়ে দেশ শাসন করেন। সুন্নি মুসলমান ৭৪% হওয়া সত্ত্বেও তাঁর শাসনামলে সব ধরনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল।&nbsp;তাছাড়া শাসন ব্যবস্থা নিজের পরিবারে মধ্যে রাখার জন্য উত্তরসূরি পুত্র বাসার আসাদকে প্রশিক্ষণ দিয়ে ঠিক ঠাক মতো ব্যবস্থা করেন। তাঁর আমলে শিয়া সুন্নি অসন্তোষ চরমে পৌঁছে; তবে গৃহ যুদ্ধ বাঁধে নি ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">খ)) সুন্নি (৭৪%)সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং শিয়া ১৩ %(আলাউই ১২%,১% ইসমাইলিয়া) সংখ্যালঘুদের মধ্যে মতাদর্শ এবং সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের পার্থক্য বহুদিনের । সুন্নি এবং শিয়া মতপার্থক্য মুহাম্মদ (সা:) এর মৃত্যুর অব্যবহিত পর থেকে গত ১৪ শত বৎসর চলে আসছে যার কোনো সমাধান আজ ও হয় নি। বাসার পরিবারের শাসনামলে &nbsp; সংখ্যালঘু শিয়া মুসলিমরাই রাষ্ট্রের সুবিধাভোগী; অফিস, বড়ো বড়ো ব্যবসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সর্বত্রই ওদের প্রাধান্য যার দরুন শিয়া সুন্নীর মধ্যে অনেকদিনের অসন্তোষ দানাবেঁধে ছিল।&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">গ) খরা, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং অসম অর্থনীতি যা অনেক সিরীয়দের জীবনযাত্রার অবস্থাকে আরও জটিল করে তুলে। সিরিয়ার খরা, যা ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল, দেশের কৃষি, অর্থনীতি এবং সমাজের উপর বিধ্বংসী প্রভাব ফেলেছিল। খরার ফলে ফসল নষ্ট হয়, গবাদি পশুর মৃত্যু, খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি পায় এবং গ্রামের জনগণ শহরের দিকে ধাবিত হয়।&nbsp;এই কারণগুলি সামাজিক অস্থিরতা, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং গৃহযুদ্ধের দিকে ধাবিত করে ।&nbsp; তাছাড়া বেকার সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করে ; ছাত্র- ছাত্রীরা পড়াশুনা শেষ করে বেকার; দেশের জনগণের দৈনন্দিন রোজগার এবং নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের সঙ্গে বৈষম্য দেখা দেয়।&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">ঘ ) আঞ্চলিক ও বৈদেশিক&nbsp; শক্তির&nbsp; হস্তক্ষেপ এবং সমর্থন :সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে বিদেশী সম্পৃক্ততা, সংঘাত, হস্তক্ষেপ এবং সমর্থন&nbsp; একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। সিরিয়ার পরিস্থিতি জটিল ও বহুমুখী। যদিও বিদেশী হস্তক্ষেপ সংঘাতকে আরও বাড়িয়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, এটি একমাত্র কারণ নয়। অন্যান্য কারণগুলির মধ্যে রয়েছে সাম্প্রদায়িকতা, অর্থনৈতিক বৈষম্যতা , রাজনৈতিক দমন এবং ঐতিহাসিক অভিযোগ। শিয়া বনাম সুন্নি&nbsp; দমন নীতি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে নতুন কিছু নয়।&nbsp;যুগ যুগ ধরে এ সমস্যা চলে আসছে&nbsp;।&nbsp; ইরানের শিয়া সরকার সিরিয়ার সংখ্যালঘু সরকারকে টিকিয়ে রাখার জন্য হেজবুল্লাহ বাহিনী দিয়ে পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়েছে। এ ছাড়া দেশ অর্থনৈতিক সংকট এবং রাজনৈতিক দমননীতির ফলে গৃহযুদ্ধ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে ।&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">চ) শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারী এবং বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং রাষ্ট্রীয় দমন, সহিংসতা ও হস্তক্ষেপ আর একটি কারণ। সিরিয়ায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারী ও বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং রাষ্ট্রীয় সহিংসতা ব্যাপক। স্বৈরশাসক বাশার আসাদের সরকার ২০১১ সালের গণতন্ত্রপন্থী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকে নৃশংসভাবে দমন করতে গিয়ে গৃহ যুদ্ধ&nbsp; বাঁধিয়েছে।&nbsp;গত ১২-১৩ বছরে হাজার হাজার&nbsp; বিরোধীদের কারারুদ্ধ , নির্যাতন&nbsp; এবং হত্যা করেছে বলে অনেক অভিযোগ রয়েছে। বিদেশিরা সরাসরি সরকার এবং শিয়া-সুন্নিকে অস্ত্র দিয়ে পরস্পর বিরোধী সংঘর্ষ, নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ করে বলে জানা গেছে।&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">সিরিয়ার পুরা দেশ আসাদ সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই, এখন পর্যন্ত ১২% (ইদলিব,উত্তর আলেপ্পো, তাল আবিয়াদ এবং রাস আল-আইন ) অঞ্চল &nbsp; বিরোধীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রতিনিয়তই এখানে যুদ্ধ,আঞ্চলিক প্রতিবেশী দেশ থেকে ও আক্রমণ হচ্ছে, সারা দেশেই ক্ষণে ক্ষণে বোমাবাজি , রকেট হামলা চলছে। বিদেশী শক্তিগুলির মধ্যে ইরান,রাশিয়া, তুরস্ক এবং আমেরিকা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ উপস্থিতি পুরা দেশকে সংঘাতময় করে তুলেছে।&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">ইউনাইটেড নেশনস হাই কমিশনার ফর রিফিউজিস (ইউএনএইচসিআর) এর মতে&nbsp; ‘ সিরিয়া এ&nbsp; সময়ের সবচেয়ে বড় মানবিক ও শরণার্থী সংকট। ” এ বৎসরের ফেব্রুয়ারির দিকে দক্ষিণ-পূর্ব তুরকি এবং উত্তর সিরিয়ায় দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার ফলে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারায় এবং এই অঞ্চলজুড়ে বাড়িঘর ও অবকাঠামোর অবর্ণনীয় ক্ষতি হয় । অভ্যন্তরীণভাবে ও বাস্তুচ্যুত সিরীয়&nbsp; শরণার্থীদের করুন অবস্থা, হাজার হাজার আশ্রয়স্থল ধ্বংস এবং কয়েক লক্ষ&nbsp; শরণার্থী&nbsp; বিপদগ্রস্ত, “মরার উপর খাঁড়ার ঘা “, এক বিপদের উপর এর এক বিপদ&nbsp; দেখা দিয়েছে ।&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">সিরিয়া সংকট যখন দ্বাদশ বছরে প্রবেশ করছে, তখন মানবিক পরিস্থিতি আগের চেয়ে আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন এবং জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি তাদের বাড়িঘর থেকে বাস্তুচ্যুত রয়েছে – প্রতিবেশী দেশগুলিতে বসবাসকারী কয়েক&nbsp; মিলিয়ন শরণার্থী মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে আছে । বাস্তুচ্যুতদের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি নারী ও শিশু।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সংঘাত, নিপীড়ন, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং সহিংসতার ফলে বিশ্বব্যাপী ১০০ মিলিয়ন বা তার ও অধিক মানুষ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়েছে । সিরিয়া, ভেনিজুয়েলা, আফগানিস্তান, দক্ষিণ সুদান ও মায়ানমার বাস্তুচ্যুত মানুষের দুই-তৃতীয়াংশ; বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের মধ্যে ৪২ শতাংশই ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু।</p>



<p class="wp-block-paragraph">বছরের পর বছর ধরে, সিরিয়ানরা অসাধারণ ধৈর্য দেখিয়েছে, কিন্তু যুদ্ধ অব্যাহত থাকার সাথে সাথে আশা দ্রুত ম্লান হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে সিরিয়ার ৯০ শতাংশেরও বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে।&nbsp; লেবাননে বহুদিনের অভ্যন্তরীণ গৃহ যুদ্ধ, ইসরাইলের সঙ্গে&nbsp; সংঘর্ষ ; তদুপরি সিরিয়ার ১৫ লক্ষ শরণার্থী যা দেশের অর্থনীতিকে চেলেঞ্জের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">নিঃসন্দেহে গণতন্ত্র তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলির স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ  হুমকি, এর অনুপস্থিতি এবং স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার ফলে পৃথিবী ব্যাপী ব্যাপক সমস্যা দেখা দিয়েছে । আফ্রিকা এবং এশিয়ার অনেক দেশে অযোগ্য স্বৈরাচারী সরকারের  ক্ষমতা ধরে রাখার লোভ বা প্রবণতার ফসল এই সমস্যা। কোনো নেতা বা নেতৃবৃন্দ এর বিরুদ্ধে কিছু বলতে গেলে শত শত কেস দিয়ে বাকরুদ্ধ করে ;রাতের অন্ধকারে ঘর থেকে ধরে নিয়ে পুরা পরিবারকে আতঙ্কে ফেলবে ও  বিনা বিচারে বৎসরের পর বৎসর জেলে রেখে দেবে। (চলবে। </p>



<p class="wp-block-paragraph">নজরুল ইসলাম</p>



<p class="wp-block-paragraph">টরন্টো</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
