<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>Column &#8211; Probashi Kantho</title>
	<atom:link href="https://probashikantho.com/category/column/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://probashikantho.com</link>
	<description></description>
	<lastBuildDate>Thu, 01 Oct 2026 16:44:14 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=7.1.3</generator>

<image>
	<url>https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2021/04/thumbnail_thumbnail-150x150.jpg</url>
	<title>Column &#8211; Probashi Kantho</title>
	<link>https://probashikantho.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>কতই না বৈচিত্র্যে ভরা মানুষের জীবন!</title>
		<link>https://probashikantho.com/2026/10/01/%e0%a6%95%e0%a6%a4%e0%a6%87-%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a7%88%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%87-%e0%a6%ad%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8/</link>
					<comments>https://probashikantho.com/2026/10/01/%e0%a6%95%e0%a6%a4%e0%a6%87-%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a7%88%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%87-%e0%a6%ad%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 01 Oct 2026 16:44:13 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Column]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=12962</guid>

					<description><![CDATA[নানা সূত্র থেকে সংগৃহীত কিছু দৃষ্টান্ত। আশা করি পাঠকেরা এতে কিছু ভাবনার খোরাক পাবেন। (কাহিনী এক) মাত্র ১০টি ডলার নিয়েছি]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph"><strong>নানা সূত্র থেকে সংগৃহীত কিছু দৃষ্টান্ত। আশা করি পাঠকেরা এতে কিছু ভাবনার খোরাক পাবেন।</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">(কাহিনী এক)</p>



<p class="has-medium-font-size wp-block-paragraph"><strong>মাত্র ১০টি ডলার নিয়েছি আমি</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">মহিলার মনটা &nbsp;ক’দিন ধরে খুবই খারাপ, বিষন্ন মন নিয়ে দিনগুলো কাটাচ্ছেন। গত সপ্তাহে সুপারমার্কেটে শপিং করতে গিয়ে বহু নগদ ডলার ও জরুরী ডকুমেন্টসে পূর্ণ পার্সটি তিনি কোথায় যে ভুলে ফেলে রেখে এসেছেন মোটেই স্মরণ করতে পারছেন না। বহু আর্থিক ক্ষতির আশংকা তো আছেই, তদুপরি হারানো ডকুমেন্টস রিনিউ করার ঝামেলা-জটিলতাও তার মনটাকে অশান্ত করে রেখেছে। কি যে করবেন সেটা ভেবে উঠতে পারছেন না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">দুপুর বেলা। দরজায় কেউ একজনের করাঘাত শুনে দরজাটা খুলে দেখলেন যে তাদের এলাকার রেগিউলার মেইলম্যান তার সামনে দাঁড়িয়ে, তার হাতে একটা বড়সড় প্যাকেজ। সেটা ডেলিভারী নিয়ে খুলে চোখে পড়ল তার সেই হারানো পার্সটা! বুকের ভেতরে ধক্ করে উঠল। তাড়াতাড়ি সেটা খুলতেই পেলেন একটা ছোট্ট কাগজের টুকরা, তাতে অপরিচিত হাতে লেখা, “Here is your purse, m’am. I have taken just ten dollars to pay for the necessary postal charges. Everything else inside is OK. I hope you will understand.”</p>



<p class="wp-block-paragraph">কোন নাম-ঠিকানা নেই তাতে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">পার্সটা চেক করে দেখলেন যে সেই ১০টি ডলার ছাড়া বাকি সবকিছুই ঠিক আছে, কিছুই খোয়া যায়নি। বুক থেকে ভারী বোঝাটা নেমে গেল নিমেষেই। কিন্তু কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ধন্যবাদ জানানোর কোন রাস্তা তো খোলা নেই সেই সৎ মানুষটিকে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">(<strong>কাহিনী দুই)</strong></p>



<p class="has-medium-font-size wp-block-paragraph"><strong>Halloween Angels</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">কোন এক অকটোবর মাসের ৩১ তারিখের সন্ধ্যা। চিরাচরিত Halloween Night. Treats নিতে বাচ্চারা আসবে, সেটা হাতে নিয়ে Thank you জানিয়ে হাসিমুখে বিদায় নেবে, পাশের বাসায় যাবে, আবার বলবে Trick-or-treat?</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমি ঘরে চুপচাপ বসে আছি। অসুস্থ, মরণাপন্ন স্ত্রী চোখ বুঁজে বিছানায় শুয়ে। আমি ওর মুখের দিকে তাকিয়ে আছি। ৬০ বছরের বিবাহিত জীবনের অবসান ঘটতে যাচ্ছে অচিরেই। আমার চোখে পানি। </p>



<p class="wp-block-paragraph">এমনি সময়ে ১৪-১৫ বছর বয়সী তিনটি মেয়ে এসে বলল Trick-or-treat?”</p>



<p class="wp-block-paragraph">শুনে বলল, “নো প্রোব্লেম।” বিদায় নিল কিন্তু পাঁচ মিনিট পরই ফিরে এল। একটি মেয়ের হাতে বেশ কিছু পরিমাণ treats ভর্তি একটা প্লাস্টিক ব্যাগ। সেটা আমার হাতে ধরিয়ে দিল। বলল, এগুলো তোমার জন্য। অন্যরা আসলে ওদের খালিহাতে ফিরিয়ে দিও না। তোমার ওয়াইফ খুব শিঘ্রই সেরে উঠবে।” তারপর ওরা চলে গেল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">কান্নাভরা কণ্ঠে বললাম, “সরি, গার্লস! আমরা এতই গরীব যে treats কেনার মত পয়সা আমাদের নেই। আমার ওয়াইফ খুবই অসুস্থ।”</p>



<p class="wp-block-paragraph">তাদের এই simple act of kindness আমার সেই অন্ধকার দিনেও আমার মনে আশার আলো জ্বালিয়ে গেল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমার ওয়াইফ বাঁচেনি। কিন্তু সেই মেয়ে তিনটিকে আমি আজো ভুলিনি। May God bless them.</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full"><img fetchpriority="high" decoding="async" width="400" height="353" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/10/হেলোইন.jpg" alt="" class="wp-image-12963" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/10/হেলোইন.jpg 400w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/10/হেলোইন-300x265.jpg 300w" sizes="(max-width: 400px) 100vw, 400px" /><figcaption class="wp-element-caption">টরন্টোতে হেলোইন নাইট। ছবি : ওয়াইএমসিএ, টরন্টো</figcaption></figure>
</div>


<p class="wp-block-paragraph">(কাহিনী তিন)</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>Happy Holidays!</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">একটা সুপারমার্কেটে একজন মহিলা কাস্টমার তার Credit Card-টা তার ক্যাশিয়ারের সামনে রাখা reader -এ tap করে দেখতে পেল Not Approved. সেটা দেখে সে খুব ঘাবড়ে গেল। এমনটা তো হওয়ার কথা নয়! গতকালই সে তার Welfare থেকে পাওয়া monthly cheque টা ব্যাংকে ডিপোজিট করেছে। দু’মিনিট অপেক্ষা করার পর সে আবার tap করল। নাহ! আবারও Not Approved.</p>



<p class="wp-block-paragraph">এদিকে তার পেছনে অন্য কাস্টমারদের লাইনটা ক্রমে লম্বা হচ্ছে, ওদিকে তার পাশে ছোটছোট পাঁচটা বাচ্চা মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে; ছোট্ট দু’টি বলছে, Mummy, I am hungry!” একটা embarrassing situation বটে!</p>



<p class="wp-block-paragraph">তৃতীয় বারেও যখন Not Approved দেখা গেল, তখন মহিলার পেছনে দাঁড়ানো কাস্টমার (একজন মহিলা) তাকে ভদ্রভাবে বলল, “I can see you have a problem there. I am in a hurry to meet an appointment. If you don’t mind, let me pay your bill. How much is it?”</p>



<p class="wp-block-paragraph">প্রথম মহিলা বলল, “One hundred and five dollars.”</p>



<p class="wp-block-paragraph">No problem বলে দ্বিতীয় মহিলা তার Credit Card টা &nbsp;reader -এ tap করে পেমেন্টটা করে দিলো। বললো, ” Your children, they are so sweet. Happy Holidays! Enjoy your Christmas.”</p>



<p class="wp-block-paragraph">প্রথম মহিলা অপ্রস্তুত এবং হতভম্ব হয়ে কান্নাভরা চোখে বললো, ” God bless you”. স্বামী পরিত্যক্তা single mother. সেই দয়ালু মহিলা সেই দুঃখী পরিবারের মুখে হাসি ফোটিয়ে বিদায় নিলেন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">(কাহিনী চার)</p>



<p class="wp-block-paragraph">পরিবারের ষোলতম সন্তান।</p>



<p class="wp-block-paragraph">কাহিনীটা ভদ্রলোক নিজ মুখেই সেই আড্ডায় উপস্থিত আমাদের সবাইকে শুনালেন। তার জীবনেরই অতীতের কথা। বয়স ৮৮ বছর। মুসলিম। প্যালেস্টাইনিয়ান। বহু বছর ধরে ক্যানাডাবাসী। বর্তমানে একাকী জীবন কাটাচ্ছেন একটা সরকারী সিনিয়র্স রেসিডেন্শিয়াল বিল্ডিংয়ে।&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">“ক্যানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ডে অতীতে প্রায় প্রতিটি পরিবারে সচরাচর ১২টি থেকে ১৬টি সন্তানের দেখা পাওয়া যেতো। সেখানের অধিবাসীদের জীবিকা ছিল কৃষি কাজ এবং মাছ ধরা। জন্মনিয়ন্ত্রণের বৈজ্ঞানিক পন্থাটা তখনো আবিষ্কৃত হয়নি। সুতরাং বিরল দৃষ্টান্ত ছাড়া সেদেশে প্রতিটি পরিবারেই বছর-দু’বছরে নিয়মিত একটি করে সন্তান জন্ম নিতো। ওদের ভরণপোষণ করতে গিয়ে সংসারে দারিদ্র্য ছিল নিত্যসঙ্গী। ফলে ১২-১৪ বছর বয়স হলেই ছেলেরা স্বাধীন জীবিকার সন্ধানে পরিবার ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতো। ঘরে থাকতো শুধু মেয়েরা। জীবন ছিল সংগ্রামময়। কদাচিৎ সেই ছেলেরা গ্রামে ফিরে আসতো, ভাইবোনদের মাঝে বিরাট ব্যবধান সৃষ্টি হতো, একে অন্যকে চিনতো না।”</p>



<p class="wp-block-paragraph">“ভবঘুরে আমি ক্যানাডায় ইমিগ্রেশান পাওয়ার পর চলে গেলাম নিউফাউন্ডল্যান্ডে। একটা বাসস্থান ও একটা কাজ জোগাড় করে নিলাম। স্ত্রী মৃত, সন্তানেরা আপন-আপন ঠিকানা বেছে নিয়েছে। যোগাযোগ নেই বললেই চলে। একাকী জীবন। একজন স্ত্রীর বড় প্রয়োজন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">খোঁজাখুঁজি করে যার সন্ধান পেলাম সেই মেয়েটি ছিল ওর পরিবারের ১৬তম সন্তান। মাবাবা বর্তমান কিন্তু বড় ভাইবোনেরা প্রায় সবাই নিউফাউন্ডল্যান্ডের বাইরে। মেয়েটি বড় হয়ে ওদের নাম শুনেছে কিন্তু দেখেনি প্রায় কাউকেই!”</p>



<p class="wp-block-paragraph">“যাক, যথারীতি বিয়েটা হয়ে গেল। কিন্তু সুখটা কপালে সইলো না। মাত্র পাঁচ বছর পরই ঠান্ডায় নিউমোনিয়াতে ভুগে মারা গেল বৌটা আমার। ঘরে আর মন টিকলো না, আবার বের হয়ে পড়লাম নিরুদ্দেশের পথে। চলতে চলতে অবসন্ন আমি। বর্তমানে ঠাঁই নিয়েছি এই সরকারী বৃদ্ধাশ্রমে। বাকি আল্লাহ মালিক।”</p>



<p class="wp-block-paragraph">এই বলে থামলেন তিনি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">A Footnote about 16 children in the family</p>



<p class="wp-block-paragraph">পরিবারে ১৬টি সন্তান আমি আগেও দেখেছি আমার নিজের জীবনে, সেই সম্পর্কে দু’টি কথা।</p>



<p class="wp-block-paragraph">প্রথম দৃষ্টান্ত ১৯৪৬ সন। আমি তখন ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া কলেজিয়েট স্কুলে ক্লাস সেভেনের ছাত্র। আমার এক সহপাঠীর নাম ছিল ওয়াদুদ। আমাদেরই স্কুলের আরবী টিচারের ছেলে। ওয়াদুদরা ছিল ১৬ ভাইবোন, একই বাবামার সন্তান- ৮ ভাই, ৮ বোন। ওদের বাড়িতে আমি মাঝেমাঝে বেড়াতে যেতাম ওদের গাছের কদবেল খাওয়ার লোভে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">দ্বিতীয় দৃষ্টান্ত ১৯৬১ সন। তখন আমি বগুড়া জেলার জয়পুরহাট শুগার মিলের একান্টস্ ডিপার্টমেন্টে চাকরি করি। সেখানে ছিল আমার এক সহকর্মী, নাম মন্জুর। সে বলতো যে ওর নানানানীর মোট সন্তান সংখ্যা ১৬ জন- ৮ ছেলে, ৮ মেয়ে। ওর মা ছিলেন ভাইবোনদের মাঝে সবার বড়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">(কাহিনী ছয়)</p>



<p class="wp-block-paragraph">আপনার কপালে দুঃখ আছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">গত জুন ১৬, ২০২৬-এর টরন্টো স্টার পত্রিকায় প্রকাশিত একটা চিঠি ও সেটার জবাবের উপর ভিত্তি করে রচিত আমার এই গল্প। আমি শুধু বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেছি মাত্র, কোন কথা যোগও করিনি, কোন কথা বাদও দিইনি। কাহিনীটা সংক্ষেপে এই :</p>



<p class="wp-block-paragraph">এক ভদ্রলোক পত্রিকাটার Marriage Counsellor -কে চিঠি দিয়ে জানালেন যে তার স্ত্রী তার কাছে অকপটে প্রকাশ করলো যে সে বিগত ছ’টি মাস ধরে তার অজান্তে, অজ্ঞাতে অন্য এক পুরুষের সংগে নিয়মিত যৌনজীবন যাপন করছিলো। মহাসুখে দিনগুলো কাটছিলো। এক পর্যায়ে সে তার স্বামীকে ছেড়ে সেই লোকটাকে বিয়ে করার ইচ্ছা প্রকাশ করলে লোকটা সেই প্রস্তাবটা তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করলো। সে বললো, “না, আমি তোমার মত চরিত্রহীন, বিশ্বাসঘাতক নারীকে কখনো বিয়ে করে স্ত্রী হিসাবে আমার ঘরে নেবো না। আনন্দফুর্তি করতে চাও, রাজী আছি। কিন্তু বিয়ে? No. Never?”</p>



<p class="wp-block-paragraph">“সেকথা শুনার পর থেকে আমি নার্ভাস ব্রেকডাউনে ভুগছি, খুবই অশান্তিতে আছি। এবং সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আমি বাকি জীবনটা তোমাকে নিয়েই কাটাবো। তুমি আমাকে একটা সুযোগ দেবে কি?”</p>



<p class="wp-block-paragraph">সেই ভদ্রলোক Marriage Counsellor -কে প্রশ্ন করলেন : “আমি এখন কি করবো? কি জবাব দেবো তাকে?”</p>



<p class="wp-block-paragraph">জবাবে তিনি জানালেন যে-</p>



<p class="wp-block-paragraph">“ ১)&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; ঘটনার বিবরণ থেকে একথাটা স্পষ্ট যে আপনার স্ত্রী আপনাকে মোটেই ভালোবাসে না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">২)&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; সে চরিত্রহীনা, বিশ্বাসঘাতিনী। She cheated you.</p>



<p class="wp-block-paragraph">৩)&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; সে অসৎপথে সুখভোগের প্রত্যাশী।</p>



<p class="wp-block-paragraph">৪)&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; সে চঞ্চলমতী এক নারী। সুযোগ পেলেই সে অন্য পুরুষের কাছে চলে যাবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এতসব জানার পরেও তাকে একটা সুযোগ দেয়ার কথা ভাবছেন? বরং বিপরীতটা ভাবুন। কোন ল’ ইয়ারের কাছে যান, ডির্ভোসের ব্যবস্থা করুন। এই সুযোগটা হাতছাড়া করবেন না কিছুতেই। তার চরিত্রহীনতা ও বিশ্বাসঘাতকতার প্রমাণটা তাজা থাকতেই তাকে বিদায় করুন আপনার জীবন থেকে। ”</p>



<p class="wp-block-paragraph">“আর যদি এখনি তা না করেন, তাহলে আপনার কপালে দুঃখ আছে।”</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমি আমাগো প্রিয় ঢাকাইয়্যা কুট্টি ভাইদের জবানে কইতে আচি : সাবের নসীবে খারাবী আছে হালায়!</p>



<p class="wp-block-paragraph">সাইদুল হোসেন</p>



<p class="wp-block-paragraph">মিসিসাগা, ক্যানাডা</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://probashikantho.com/2026/10/01/%e0%a6%95%e0%a6%a4%e0%a6%87-%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a7%88%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%87-%e0%a6%ad%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>কানাডা বিশ্বের শান্তিকামী দেশগুলির অন্যতম</title>
		<link>https://probashikantho.com/2026/10/01/%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%ae/</link>
					<comments>https://probashikantho.com/2026/10/01/%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%ae/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 01 Oct 2026 16:36:12 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Column]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=12959</guid>

					<description><![CDATA[আমি&#160; গত ৩৬&#160; বৎসর কানাডার মতো একটি উন্নত গণতান্ত্রিক দেশে বাস করি। এই দীর্ঘ সময়ে এ দেশে যতগুলি নির্বাচন&#160; (মিউনিসিপাল,প্রভিন্সিয়াল]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph">আমি&nbsp; গত ৩৬&nbsp; বৎসর কানাডার মতো একটি উন্নত গণতান্ত্রিক দেশে বাস করি। এই দীর্ঘ সময়ে এ দেশে যতগুলি নির্বাচন&nbsp; (মিউনিসিপাল,প্রভিন্সিয়াল এবং ফেডারেল) দেখেছি, প্রতিটি নির্বাচন নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হয়েছে। নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ভোট কারচুপি হয়েছে বলে আমি কারও মুখে&nbsp; একবারও শুনিনি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এখানকার জনগণ বা স্কুল, কলেজ কি ইউনিভার্সিটির ছেলেমেয়েরা এই নির্বাচন নিয়ে কোনো সময় নষ্ট করে না। এ দেশে ইউনিভার্সিটিতে ছাত্র/ছাত্রী সংগঠন আছে, তবে কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ নিয়ে মাথা ঘামায় না। সরকার বা বিরোধী দল ছাত্র/ছাত্রীদের কাদা ছোড়াছুড়ি করতে দেয় না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এ দেশে অনেকেই কথা প্রসঙ্গে বলে থাকেন,” তুমি সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করো অথবা নির্বাচন করে জনগণের কাজ করো; ভালো কাজ করলে অনেকদিন কাজে থাকবে, আর না হয় তুমি চাকুরিচ্যুত হবে, জনগণ ভোট দেবে না ,অত্যন্ত সহজ।”</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমি অনেক সময় কাজের জায়গায়, পরিচিত বা অপরিচিতের সঙ্গে কানাডার রাজনীতি নিয়ে অযাচিত আলাপ করতে গিয়ে যা উত্তর পেয়েছি তা নিম্নরূপ :</p>



<p class="wp-block-paragraph">১) কাউকে কাউকে বলতে শুনেছি, আমি বা আমরা ভোট দেই না, ভোট অযথা দিয়ে কোনো লাভ নেই , এ দেশ এ ভাবেই চলবে। আমার বা তোমার ভোট দেয়া নেয়া নিয়ে কিছু যায় আসে না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">২) দলের নেতৃস্থানীয়ের মধ্যে হাড্ডা হাড্ডি লড়াই টেলিভিশন খুললে দেখি । মিডিয়া কোন পার্টি কতদূর এগিয়ে আছে বা পিছিয়ে আছে দেখায় , রিপোর্টারদের মধ্যে বিভিন্ন দলের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের &nbsp;বক্তব্য নিয়ে আলোচনা বা সমালোচনা করতে শুনি। কিন্তু বাইরে জনগণের মধ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া বা সাড়াশব্দ নেই। কাউকে আলোচনা, সমালোচনা করতে ও দেখি না।</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full is-resized"><img decoding="async" width="400" height="262" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/10/নির্বাচন.jpg" alt="" class="wp-image-12960" style="aspect-ratio:1.5267489711934157;width:476px;height:auto" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/10/নির্বাচন.jpg 400w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/10/নির্বাচন-300x197.jpg 300w" sizes="(max-width: 400px) 100vw, 400px" /><figcaption class="wp-element-caption">টরন্টোতে নির্বাচনী প্রচারের পোস্টার। ছবি : প্রবাসী কণ্ঠ</figcaption></figure>
</div>


<p class="wp-block-paragraph">এ দেশে ১০০% লোক শিক্ষিত, এরা প্রচার মাধ্যমে সরকারের জনপ্রিয়তা, ভালো, মন্দ দেখে এবং কাকে পরবর্তীতে ভোট দেবে মনে মনে ঠিক করে। তাছাড়া ভোটের পূর্বে পার্টি প্রধানদের মধ্যে হাড্ডা হাড্ডি বিতর্ক (ডিবেট) হয়, ওতে কোন পার্টি এগিয়ে ,কোন পার্টি পিছিয়ে, ভালোভাবে দেখে এবং সিদ্ধান্ত নিয়ে ভোট দেয়ার চিন্তা করে ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">৩ ) গত ফেডারেল নির্বাচনে আমার স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী এসে আমার বাড়ির দরজা নক করলে আমি দরজা খুলে অভ্যর্থনা জানাই। ওরা বলে তোমার বাড়ির সামনে একটা নির্বাচনী সাইন লাগাতে চাই; তুমি কি আমি বা আমার দলকে সমর্থন দাও?</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমি প্রত্যুত্তরে বললাম ” দুঃখিত, কাকে সমর্থন করি, এ ব্যাপারে&nbsp; কিছুই বলতে পারছি না। এটা আমার ব্যক্তিগত &nbsp;ব্যাপার। প্রশ্নকর্তা এবং তার লোকজন মাথা নিচু করে সাইন না লাগিয়ে চলে গেছে। যদিও আমি ওকে এবং এই দলকেই ভোট দিয়েছি। কিন্তু আইন অনুসারে সে জিজ্ঞেস করতে পারে না বা আমিও বলতে পারি না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">রাস্তার মোড়ে, ড্রাইভওয়েতে বা কারো কারো বাড়ির সামনে প্রার্থীর ছবি সহ সাইন দেখা যায়। কিন্তু ভোট কেন্দ্রে গেলে দেখি অনেক প্রার্থী যারা কখনই চেহেরা দেখাতে আসে নি। কাকে ভোট দেব ?</p>



<p class="wp-block-paragraph">এদের ভোটের জন্য মাথা ব্যথা &nbsp;নেই, পয়সা খরচ করে না ক্যাম্পেইন করার জন্য, মারামারি তো দূরের কথা । “ভোট দেব কাকে, অমুক ভাইকে, তমুক ভাইকে, কেউ বলে না।” পাশ করলে চার বৎসরের জন্য চাকুরী হয়ে গেলো, না হলে শখ করে দেখলো । এ দেশে আমাদের দেশের মতো মার্কা বলতে “হাতি,ঘোড়া,বাঘ, মহিষ ,হরিণ” কিছু নেই। ভোটার লিস্টে দলীয় মনোনীত ব্যক্তির &nbsp;নাম আছে, আপনার পছন্দের ব্যক্তিকে বা যাকে পছন্দ ভোট দিয়ে দেবেন। কেউ আপনাকে কোনো প্রশ্নই করবে না। ভোট দিতে ভোটার কার্ড, না থাকলে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখে আপনাকে শনাক্ত করবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">৪ ) এ দেশে অগ্রিম ভোটদান পদ্ধতি আছে , দুই/তিন সপ্তাহ পূর্ব থেকে ভোট নেয়া শুরু করে বা পোস্ট অফিসের মাধ্যমে (ডাকে) ও ভোট দিতে পারেন। যে কোনো লোক তার কাজের সুবিধা অনুযায়ী অবসর সময়ে গিয়ে ভোট দিয়ে আসে। ভোট দিয়ে কাজের জায়গায় যদি বলি আমি ভোট দিয়েছি, আমার সহকর্মীরা তাকিয়ে থাকবে, কোনো আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করবে না ” তুমি কাকে ভোট দিয়েছো ?” এটা তার আলোচনার বিষয় নয়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">৫) কানাডার যে কোনো স্থান থেকেই ভোটার ভোট দিতে পারেন নিজের এলাকার পছন্দের ব্যক্তিকে। ওরা আপনার মূল্যবান ভোট জায়গা মতো পাঠিয়ে দেবে। কোনো ক্যাম্পেইন, কারো সঙ্গে আলাপ করার প্রয়োজন নেই। এমন কি নিজের স্ত্রী বা ছেলে মেয়েকে ও বলার দরকার নেই, কেউ এসে ঘাড়ে চেপে এ ব্যাপারে জোর জবরদস্তি করবে না। কানাডার আইন কানুন সবাই মেনে চলে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">৬) ভোটের দিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহণ চলে। ভোট কেন্দ্রে সকাল এবং বিকেলের দিকে কিছুটা ভিড় হয়, বাকি সারা দিন ভিড় হয় না। তাছাড়া অনেকেই অগ্রিম ভোট দিয়ে থাকে যে জন্য ভোট কেন্দ্রে লোকজনের উপস্থিতি কম। সব প্রার্থীর লোক হয়তো বা ভোট কেন্দ্রে থাকে শুধু নিয়ম শৃঙ্খলার জন্য; কিন্তু ভোট কেন্দ্রে টু শব্দটি ও হয় না ; ভোট দেয়ার পর পর বাসায় গিয়ে লোকজন টেলিভিশনে ভোট গণনা দেখে এবং রাত ১২টার মধ্যে মোটামুটি ধারণা করা যায় কে বা কোন দল পাশ করছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">৭) রাত ১টার দিকে প্রথমে পরাজিত দলের প্রধান মঞ্চে এসে হইচই করে পরাজয় স্বীকার করে জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখে এবং নিজেদের ব্যর্থতার &nbsp;কারণ ব্যাখ্যা , পরবর্তীতে আরও শক্তি নিয়ে মাঠে আসবে ও অপর দলকে অভিনন্দন জানিয়ে সরকার গঠনের জন্য আহ্বান জানায়। কি সুন্দর ব্যবস্থা ? পরাজিত ব্যক্তি বা দল অতি সহজেই পরাজয় মেনে নিয়ে অপরকে সাহায্য করে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">৮) এবার বিজয়ী দল জয় জয় স্লোগান দিয়ে মঞ্চে আসে এবং পরাজিত দলকে বক্তব্যের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য শুরু করে। এ ছাড়া যা যা জনগণের নিকট অঙ্গীকার করেছে,বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়ে হইচই করে বক্তব্য দিয়ে পর্ব শেষ করে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">৯) এখানে পরাজিত বা বিজয়ী দল কোনোরকম কাদা ছড়াছড়ি করে না। এই হলো কানাডার নির্বাচন নিয়ম কানুন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">১০) পরাজিত প্রধান মন্ত্রী হোক বা দল প্রধান হোক, সাধারণত জনসমর্থন নেই বলে দল প্রধান থেকে অব্যাহতি নেয় এবং অন্য নতুন কাউকে সুযোগ দিয়ে রাজনীতি থেকে বিদায় নিয়ে থাকে। বিজয়ী দল সরকার গঠন করে নিজের অঙ্গীকার অনুযায়ী কাজ করে যায় এবং পূর্ব প্রশাসনের ব্যর্থতা &nbsp;নিয়ে আলোচনা,সমালোচনা না করে নিজের দেয়া কর্মসূচি অনুযায়ী কাজ করে। এ দেশের সরকার বা জনগণ অযথা পূর্বের সূত্র টেনে এনে ঝগড়া করে না বা পছন্দ করে না। এখানকার জনগণ খেয়াল করে সরকার ঠিক ভাবে কাজ করছে কি না ?</p>



<p class="wp-block-paragraph">মিডিয়া সময় সময় তথ্য দিয়ে জানিয়ে পর্যালোচনা করে সরকারের যোগ্যতা এবং অযোগ্যতা;সময় সময় জনপ্রিয়তা যাচাই করে এবং এর উপর নির্ভর করে এই দল পরবর্তীতে সরকার ঘটনা করার মতো কি না ?</p>



<p class="wp-block-paragraph">১১) আমি ১৯৮৮ সন থেকে এ দেশে বিভিন্ন নির্বাচন দেখে আসছি, সে সময় কানাডার প্রধান মন্ত্রী সম্মানিত মার্টিন ব্রায়ন মালরোনি (Martin Brian Mulroney) ছিলেন। মার্টিন ব্রায়ান মালরোনি, একজন আইনজীবী, ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ এবং (১৯৮৪ থেকে ১৯৯৩ কনসারভেটিভ পার্টি ) ৯ বৎসর দেশের প্রধান মন্ত্রী ছিলেন। মালরোনি শেষের দিকে উত্তর আমেরিকার মুক্তবাণিজ্য (North American Free trade ) বাস্তবায়ন করতে গিয়ে জনপ্রিয়তা হারিয়ে ফেলেন এবং নিজ থেকে রাজনীতি থেকে সরে পড়েন। মালরোনি জনসমর্থন হারালেও ওর দেয়া North American Free Trade আজ ও কানাডা, USA এবং মেক্সিকো মেনে চলছে। মালরোনি জনসমর্থন হারিয়ে পদত্যাগ করে কিম ক্যাম্বেলকে (Kim Campbell ) ক্ষমতা ছেড়ে দেন । জন সমর্থন না থাকলে কেউ জোর করে গদি বা দলের পদ ধরে না রেখে অন্যকে সুযোগ দিয়ে রাজনীতি থেকে সরে পড়ে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">১২) সম্মানিত মিসেস কিম ক্যাম্পবেল (জুন ১৯৯৩ থেকে নভেম্বর ১৯৯৩ ) ৬ মাস প্রধান মন্ত্রী ছিলেন। তাঁর জনসমর্থন না থাকায় লিবারেল পার্টি জন ক্রিস্টিয়েনর (Jean Chrétien) নিকট নির্বাচনে হেরে যান ,যার ফলে রাজনীতি থেকে সরে পড়েন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">১৩) জন ক্রিস্টিয়েন (লিবারেল) একজন আইনজীবী এবং রাজনীতিবিদ যিনি (১৯৯৩ থেকে ২০০৩) ১০ বৎসর কানাডার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন । কিন্তু জনপ্রিয়তা হ্রাস পেলে তৎকালীন ফিনান্স মিনিস্টার পল মার্টিন স্থলাভিষিক্ত হন ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">১৯৯৫ সালের কুইবেক গণভোট: জন ক্রিস্টিনের সময় ৩০ অক্টোবর, ১৯৯৫ তারিখে কানাডার কুইবেক প্রদেশে অনুষ্ঠিত গণভোট, যা কুইবেক এবং কানাডার বাকি অংশের মধ্যে একটি নতুন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অংশীদারিত্বের মধ্যে প্রদেশের জন্য সার্বভৌমত্বের প্রস্তাব করে। গণভোটে মাত্র ১ শতাংশ বা ৫৫,০০০ এরও কম ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়। ফলে কুইবেক আর কানাডা থেকে আলাদা হতে পারে নি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">১৪ ) সম্মানিত পল মার্টিন (Paul Martin), ব্যবসায়ী এবং রাজনীতিবিদ যিনি কানাডার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (২০০৩-২০০৬) ৬ বৎসর । ২০০৩ নির্বাচনে পল মার্টিন কনজারভেটিভ স্টিফেন জোসেফ হার্পার (Stephen Joseph Harper ) এর নিকট হেরে যান।</p>



<p class="wp-block-paragraph">১৫) স্টিফেন জোসেফ হার্পার একজন রাজনীতিবিদ যিনি (২০০৬ থেকে ২০১৫) ৯ বৎসর কানাডার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">১৬) কানাডার প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী পিয়ার এলিয়ট ট্রুডোর ছেলে জাস্টিন ট্রুডো (Justin Pierre James Trudeau) ২০১৫ সালে তার বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে কানাডার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচনে স্টিফেন জোসেফ হার্পারকে হারিয়ে জয়লাভ করেন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">জাস্টিন ট্রুডো, প্রধান মন্ত্রী, মাসে অন্তত একবার মিডিয়াতে এসে দেশের করোনা পরিস্থিতি, ও দেশের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা করেন। রিপোর্টার প্রশ্নের পর প্রশ্ন করে জর্জরিত করে এবং সব প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য। বক্তব্য শেষ করে যে চেয়ার এ বসে ছিলেন, নিজ থেকে সরিয়ে উঠে চেয়ার সুন্দর করে রেখে মিডিয়া থেকে বিদায় নেয়; কতখানি নম্র/ভদ্র হলে একজন প্রধান মন্ত্রী নিজের বসার চেয়ার ঠিক করে রেখে যেতে পারে ?</p>



<p class="wp-block-paragraph">নজরুল ইসলাম</p>



<p class="wp-block-paragraph">টরন্টো</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://probashikantho.com/2026/10/01/%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%ae/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>যে ঋণ পরিশোধ করা গেল না</title>
		<link>https://probashikantho.com/2026/09/16/%e0%a6%af%e0%a7%87-%e0%a6%8b%e0%a6%a3-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a7%8b%e0%a6%a7-%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%97%e0%a7%87%e0%a6%b2-%e0%a6%a8%e0%a6%be/</link>
					<comments>https://probashikantho.com/2026/09/16/%e0%a6%af%e0%a7%87-%e0%a6%8b%e0%a6%a3-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a7%8b%e0%a6%a7-%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%97%e0%a7%87%e0%a6%b2-%e0%a6%a8%e0%a6%be/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 16 Sep 2026 15:58:34 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Column]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=12883</guid>

					<description><![CDATA[সাইদুল হোসেন মনে পড়ছে ১৯৯১ সনের ২১ মার্চ তারিখটার কথা যেদিন আমরা স্বামীস্ত্রী দু’জন ঢাকা থেকে Visitor’s Visa নিয়ে সর্বপ্রথম]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph"><strong>সাইদুল হোসেন</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">মনে পড়ছে ১৯৯১ সনের ২১ মার্চ তারিখটার কথা যেদিন আমরা স্বামীস্ত্রী দু’জন ঢাকা থেকে Visitor’s Visa নিয়ে সর্বপ্রথম ক্যানাডার পিয়ারসন এয়ারপোর্টে (টরন্টো এয়ারপোর্টে) নেমে এদেশের মাটি স্পর্শ করেছিলাম। সে আজ ৩৪ বছরেরও আগের কথা।</p>



<p class="wp-block-paragraph">কিন্তু একটা কথা স্পষ্ট মনে পড়ছে যে আমাদের সংগের লাগেজ ক্যারি করে Arrival Lounge -এর বাইরে যাওয়ার জন্য Trolly নিতে Canadian one dollar coin (Loony) আমাদের হাতে ছিল না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ছেলেরা বাইরে দাঁড়িয়ে আছে কিন্তু ওদের কাছে তো পৌঁছা যাচ্ছে না যে একটা Loony চেয়ে আনবো। মহা সমস্যা।</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full"><img decoding="async" width="400" height="267" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/09/লাগেজ-1.jpg" alt="" class="wp-image-12885" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/09/লাগেজ-1.jpg 400w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/09/লাগেজ-1-300x200.jpg 300w" sizes="(max-width: 400px) 100vw, 400px" /><figcaption class="wp-element-caption">পিয়ারসন এয়ারপোর্টে  ট্রলি।  ছবি : টরন্টো টেক্সি লিমো</figcaption></figure>
</div>


<p class="wp-block-paragraph">Trolly ভর্তি লাগেজ নিয়ে মুখ কালো করে দাঁড়িয়ে আছি। চোখে অসহায়ের দৃষ্টি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এমনি সময়ে Black এক Porter এগিয়ে এলো। জানতে চাইলো, ” Need any help?”</p>



<p class="wp-block-paragraph">বললাম ওকে আমাদের সমস্যার কথাটা। শুনে বললো, No problem. Here is the Loony. Get going. Goodluck!!”</p>



<p class="wp-block-paragraph">Thank you জানিয়ে ওর দেয়া dollar coin -টা হাতে নিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, “But how to pay you back? ”</p>



<p class="wp-block-paragraph">কালো মুখের সবগুলো সাদা দাঁত বের করে হেসে দিয়ে বললো, “No pay back. Pray for me. OK?”</p>



<p class="wp-block-paragraph">তারপর আমাদের Trolly -টাকে Gate &#8211; এর দিকে ঠেলে দিয়ে বললো, ” Welcome to Canada!”</p>



<p class="wp-block-paragraph"></p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>পুরান ঢাকার মহল্লার কুট্টি সর্দারের ভাষণ</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">বহু অতীতের গল্প। ১৯৫৪ সন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ঢাকা শহর। সেখানে আমার প্রথম পদার্পণ ঘটে ১৯৫৩ সনে। উদ্দেশ্য : কলেজে বি.কম. পড়া ও তৎসংগে জীবনধারণের জন্য চাকরি খোঁজা। বসবাস পুরান ঢাকার চক বাজার অঞ্চলের বেচারাম দেউড়িতে। আদি অধিবাসী কুট্টিদের মহল্লায়। “আমি হালায়”, “তুমি হালায়”, “বাপ হালায়” ইত্যাদি স্থানীয় ভাষার সংগে পরিচয় ঘটতে থাকে ক্রমশঃ। তখন পুরান ঢাকা শহরের মহল্লাগুলো স্থানীয় সর্দার সা’বগো কথায় উঠাবসা করতো। সর্দার সা’ব “হ্যাঁ” বললে “হ্যাঁ”, তিনি “না” বললে “না”।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সেই যুগের কথা বলছি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সর্দার সা’বের উপস্থিতিতে মহল্লার একটা Ping Pong Game Competition -এর সমাপ্তিতে স্থানীয় Sports Committee’র President মহল্লার সর্দারকে সেই উপলক্ষে একটা ভাষণ দিতে বিনীত অনুরোধ জানালো। সর্দার সেই অনুরোধ গ্রহণ করে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বললেন :</p>



<p class="wp-block-paragraph">“আমার নজরের সামনে অত বড় জমায়েত দেইখ্যা আমার দিল্ডা হালায় খোশ হয়া গেছেগা। লেকিন হালায় এই খেলাডার আমি কিছুই বুঝলাম না। তয় একটা কথা হালায় আমার কইতেই অইবো।”</p>



<p class="wp-block-paragraph">“আমি সাবাসী দেই না (প্রশংসা করি না) হেই হালারে যে হালায় খেলায় জিতচে, আমি বদনামী করি না হেই হালার যে হালায় হারচে। লেকিন সাবাসী দেই (প্রশংসা করি) আমি হেই হালারে যে হালায় ঐ আন্ডাডারে (সাদা পিং পং বলটাকে) বানাইচে। ওরা দুইজনে মিইলা ওঠারে কত পিটন পিটাইলো মগর হালায় ঐ আন্ডাডারে ভাংগবার পারলো না।”</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>অবাক মৃত্যু!</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">১৯৭২ সন থেকে ক্যানাডানিবাসী স্বামীস্ত্রী দু’জন। আমাদের অতি নিকটাত্মীয় ছিলো ওরা, বর্তমানে মৃত। আমরা স্বামীস্ত্রী দু’জন ক্যানাডায় আছি ১৯৯১ সন থেকে। অহরহ যাওয়া-আসা ছিল আমাদের মাঝে। ওদেরই মৃত্যু নিয়ে কিছু স্মৃতিচারণ করছি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">বহুদিন লিউকেমিয়াতে ভুগে কষ্টের জীবন কাটিয়ে স্বামী কামাল ও দুই কন্যাকে দুনিয়াতে রেখে মৃত্যুবরণ করে হামিদা ১২ই জানুয়ারী ২০১২ সন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ওদের ছিলো ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে এম.এ. ক্লাস থেকেই প্রেমের বন্ধন, তারপর বিয়ে মা-বাবার সম্মতি নিয়ে। ওদের দু’জনেরই জন্ম মাস ছিলো আগষ্ট, তারিখ ভিন্নভিন্ন। বয়সে ওরা এক বছরের ছোট বড় ছিলো। নিজেদের বাড়িতেই বাস করতো ওরা ব্রাম্পটনে। সুখী পরিবার।</p>



<p class="wp-block-paragraph">হামিদার মৃত্যুতে গভীর শোক নেমে এলো কামালের জীবনে। হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে হামিদার লাশবহনকারী খাটিয়াটা চেপে ধরে কামাল বলে উঠলো, Hamida, wait for me for just three years only. I’ll meet you there again.”</p>



<p class="wp-block-paragraph">এবং অতি আশ্চর্য্যরে ব্যাপার ঘটলো ঠিক তিনটি বছর পরই। ২০১৫ সনের জানুয়ারী মাসের ১৬ তারিখ সকালে হঠাৎ হার্টফেইল করে মারা গেলো কামাল ওর ভবিষ্যদ্বাণীকে সফল করে দিয়ে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ওদের জন্ম মাস এক, মৃত্যু মাসও এক! এবং ভবিষ্যদ্বাণীও ঠিকঠিক ফলে গেলো। আশ্চর্যের বিষয় নয়কি!</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>তালাশ</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">তালাশ। অনুসন্ধান। খোঁজাখুঁজি। Search. ভিন্ন শব্দ, ভিন্ন প্রকাশভংগী, কিন্তু বিষয়টা মূলতঃ এক- কোন একটা নির্দিষ্ট বস্তুর প্রাপ্তি অথবা দর্শন লাভের জন্য নিরন্তর প্রয়াস। সাধনাও বলা যেতে পারে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">Bollywood Hindi movie Life in a Metro –তে একজন অভিনেতার মুখে এই কথাটা শুনেছিলাম-</p>



<p class="wp-block-paragraph">তালাশ কভি খতম নেহী হোতি</p>



<p class="wp-block-paragraph">লেকিন ওয়াক্ত খতম হো যাতা হ্যায়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">(তালাশ কখনো শেষ হয় না কিন্তু সময় যায় ফুরিয়ে।)</p>



<p class="wp-block-paragraph">অতি খাঁটি কথা। বড়ই মূল্যবান বক্তব্য। লাখ কথার এক কথা। কারণ তালাশটা চিরন্তন, কারো জীবনকালের দৈর্ঘ্য দ্বারা সে সীমাবদ্ধ নয়। Search is eternal.</p>



<p class="wp-block-paragraph">এজগতের সব মানুষই একটা না একটা কিছুর তালাশে (খোঁজে) জীবনটা কাটিয়ে দিচ্ছে। তাদের তালাশের বস্তু ভিন্ন ভিন্ন কারণ নারী অথবা পুরুষ তাদের প্রত্যেকেরই চাহিদার বস্তুটি তার নিজস্ব প্রয়োজন বা রুচি অনুসারে হয়ে থাকে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">&#8211;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; কেউ খোঁজে ধন-সম্পদ-ক্ষমতা-দাপট;</p>



<p class="wp-block-paragraph">&#8211;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; কেউ খোঁজে রূপবতী নারী অথবা গুণবতী</p>



<p class="wp-block-paragraph">সোহাগিনী স্ত্রী। নারী খোঁজে নির্ভরযোগ্য স্বামী;</p>



<p class="wp-block-paragraph">&#8211;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; কেউ খোঁজে নিঃস্বার্থ প্রেম-ভালোবাসা;</p>



<p class="wp-block-paragraph">&#8211;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; কেউ খোঁজে আনন্দ (যার মাধ্যম হতে পারে সুরা-</p>



<p class="wp-block-paragraph">নারী-নৃত্য-সংগীত);</p>



<p class="wp-block-paragraph">&#8211;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; কেউ করে সাহিত্য চর্চা, চায় প্রতিষ্ঠা ও সুনাম;</p>



<p class="wp-block-paragraph">&#8211;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; কেউবা আধ্যাত্ম্যবাদী হয়ে খোঁজে স্রষ্টাকে;</p>



<p class="wp-block-paragraph">&#8211;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; কেউ খোঁজে বেড়ায় শান্তি অথবা সত্যকে;</p>



<p class="wp-block-paragraph">&#8211;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; বিজ্ঞানের নানা শাখায় গবেষণায় মত্ত থাকেন</p>



<p class="wp-block-paragraph">বৈজ্ঞানিক, খোঁজেন নানা প্রশ্নের উত্তর অথবা</p>



<p class="wp-block-paragraph">নানা সমস্যার সমাধান;</p>



<p class="wp-block-paragraph">&#8211;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; কেউ করে নাচে-গানে উৎকর্ষ লাভের সাধনা;</p>



<p class="wp-block-paragraph">&#8211;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; কেউ খোঁজে বাধা-বন্ধনহীন নিরবচ্ছিন্ন সুখ;</p>



<p class="wp-block-paragraph">&#8211;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; কেউ খোঁজে নেতৃত্ব; দেশ গড়ার সুযোগ;</p>



<p class="wp-block-paragraph">&#8211;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; কেউ খোঁজে তার পেশায় অথবা শিল্প-বাণিজ্যে প্রতিষ্ঠা;</p>



<p class="wp-block-paragraph">&#8211;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; কেউ খোঁজে প্রতিযোগিতায় উত্তম সাফল্য;</p>



<p class="wp-block-paragraph">&#8211;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; কেউ চায় সঞ্চয়ী হতে;</p>



<p class="wp-block-paragraph">&#8211;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; চতুর চরিত্রের অধিকারীরা সদাই খোঁজে বিনা অথবা অল্প</p>



<p class="wp-block-paragraph">আয়াসে দ্রুত আখের গোছানোর সহজ পন্থা, চোরা গলি, shortcut pat ;</p>



<p class="wp-block-paragraph">&#8211;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; কেউ ছোটে আদর্শবাদের/ Perfection -এর পেছনে-&nbsp; আদর্শ</p>



<p class="wp-block-paragraph">শিক্ষক, আদর্শ পিতা, আদর্শ মাতা, আদর্শ নাগরিক ইত্যাদি;</p>



<p class="wp-block-paragraph">&#8211;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; আবার চাওয়া-পাওয়ার বস্তুটি উপরে বর্ণিত বিষয়গুলোর বাইরেও</p>



<p class="wp-block-paragraph">হতে পারে কারণ সেটা ব্যক্তিটির মনোজগতের অন্তর্গত।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এই জগতে পাওয়ার অথবা জানার যোগ্য বন্তু অসংখ্য, সীমাহীন। মানুষের আকাঙ্ক্ষা সীমাহীন। প্রশংসনীয় উচ্চতার কোন গন্তব্যেই হুট করে পৌঁছে যাওয়া যায় না- কারণ সর্বক্ষেত্রেই লক্ষ্যে পোঁছার জন্য আয়াস বা প্রচেষ্টার প্রয়োজন যার জন্য লাগে প্রচুর সময়, ধৈর্য ও মেধা। তাকে হতে হয় একজন আশাবাদী চরিত্রের অধিকারী এবং পরিশ্রমী। অলস ও নিরাশাবাদীরা সচরাচরই জীবন যুদ্ধে হেরে যায় কারণ তারা মাঝপথে হাল ছেড়ে দেয়। ঘটে তালাশের সমাপ্তি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ব্যক্তিটির মানসিক গঠন, পরিবেশ-পারিপার্শ্বিকতা, পারিবারিক/সামাজিক অবস্থান (Status), শিক্ষার মান, স্বাস্থ্য, সুযোগ-সুবিধার (resources -এর) সহজলভ্যতা ইত্যাদি তাকে তার অভীষ্ট অর্জনে প্রভূতভাবে সাহায্য করে। ফলে একজনের জন্য যা অতি সহজলভ্য, অন্যজনের ক্ষেত্রে তা হতে পারে নাগালের বাইরে। সুতরাং তাকে লক্ষ্য অর্জনের উচ্চতাটা তার সাধ্যের সীমানার নীচেই নির্ধারণ করতে হবে, তাকে বাস্তববাদী হতে হবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">অন্যদিকে প্রতিটি মানুষের চেহারা যেমন আলাদা আলাদা, তেমনি তাদের মানসিক গঠনও আলাদা। তাদের রুচি আলাদা, পছন্দ আলাদা, তাদের জীবনের প্রত্যাশা বা aim ও ভিন্ন ভিন্ন। চরিত্রগতভাবেই একজনের কর্মসম্পাদন পদ্ধতি অন্যের চেয়ে আলাদা কারণ তাদের I.Q. &nbsp;তাদের level of intelligence তাদের কাজের (performance -এর) গুণগত মান (quality) নির্ধারণ করে থাকে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">কিন্তু উপরোক্ত সব বর্ণনা বা বিশ্লেষণই এক জায়গায় এসে অকেজো হয়ে যায়, তালাশ যায় থেমে। আর সেটা হলো সময়, time , ওয়াক্ত। অর্থাৎ সময় ফুরিয়ে গেলে, মৃত্যুর ডাক এসে উপস্থিত হলে সর্বকর্ম অসমাপ্ত রেখে সেই ডাকে সাড়া দিতে হয়, এর কোনই বিকল্প নেই। অথচ সেই ডাকটা যে কখন আসবে, কোন বয়সে আসবে তা কেউ জানে না একমাত্র সৃষ্টিকর্তা ছাড়া। তিনিই নিয়ন্ত্রণ করেন এজগতের সবকিছু। মানুষ সেখানে সম্পূর্ণ অসহায়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তাই তালাশের গতিটা বাড়াতে হবে, যথাসাধ্য দ্রুত কর্তব্যটা সম্পাদনের, লক্ষ্যে পৌঁছার চেষ্টা করতে হবে যাতে সময় ফুরিয়ে যাবার আগেই পূর্ণরূপে না হলেও অন্ত—তঃ তালাশের কিছুটা সাফল্যের আনন্দটা উপভোগ করে আংশিক তৃপ্তি নিয়ে হলেও পরপারে পাড়ি জমানো যায়। হতাশা নিয়ে নয়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সাইদুল হোসেন </p>



<p class="wp-block-paragraph">মিসিসাগা, ক্যানাডা</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://probashikantho.com/2026/09/16/%e0%a6%af%e0%a7%87-%e0%a6%8b%e0%a6%a3-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a7%8b%e0%a6%a7-%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%97%e0%a7%87%e0%a6%b2-%e0%a6%a8%e0%a6%be/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>কানাডার নির্বাচন নিয়ে কিছু আলোচনা</title>
		<link>https://probashikantho.com/2026/09/16/%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%a8-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87-%e0%a6%95/</link>
					<comments>https://probashikantho.com/2026/09/16/%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%a8-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87-%e0%a6%95/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 16 Sep 2026 15:48:52 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Column]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=12881</guid>

					<description><![CDATA[নজরুল ইসলাম বিশ্বের প্রথম সারির গণতান্ত্রিক দেশগুলির মধ্যে কানাডা একটি। এ দেশের গণতান্ত্রিক নিয়ম কানুন দেখলে মনে হয় তৃতীয় বিশ্বের]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph"><strong>নজরুল ইসলাম</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">বিশ্বের প্রথম সারির গণতান্ত্রিক দেশগুলির মধ্যে কানাডা একটি। এ দেশের গণতান্ত্রিক নিয়ম কানুন দেখলে মনে হয় তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলির-&nbsp; যাদের গণতন্ত্র প্রাথমিক পর্যায়ে, স্বৈরাচারী সরকার বা মৌলিক গণতন্ত্র নাম দিয়ে দেশ শাসন করে; তাদের উচিত এ সব দেশ থেকে গণতন্ত্রের দীক্ষা নিয়ে নিজেদের দেশে কাজে&nbsp; লাগানো ।&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">কানাডার&nbsp; প্রদেশ ও অঞ্চল গুলিতে নিজস্ব আইন কানুন (স্বায়ত্তশাসন) অনুযায়ী চলে; যেমন কুইবেক( ফ্রেঞ্চ স্পিকিং)&nbsp; নিজেদের আলাদা জাতি&nbsp; হিসাবে দাবি করে। ১৯৮০ এবং ১৯৯৫ (দুই বার&nbsp; ) ক্যুবেক আলাদা হওয়ার জন্য গণভোট (রেফারেন্ডাম) দিয়ে কানাডা থেকে আলাদা হতে চেয়েছিলো ;&nbsp; ব্লক কুইবেকুয়া (বিচ্ছিন্নতাবাদী দল ) &nbsp;কেন্দ্রীয় সরকারে যোগদান করলেও ওরা নিজেদের স্বতন্ত্র জাতি হিসাবে&nbsp; দেখে। এ দেশ সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক পদ্ধতি মেনে চলে ; এ দেশের সরকার এবং&nbsp; রাজনীতিবিদ জনগণের মতামতের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে।&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">একটা প্রত্যক্ষ উদাহরণ দিয়ে শুরু করা যেতে পারে : &nbsp;বেশকয়েক বছর আগে&nbsp; কানাডার অ্যালবার্টার&nbsp; প্রিমিয়ার(মুখ্যমন্ত্রী)&nbsp;জেসন কেনি তাঁর জনসমর্থন যাচাই করতে গিয়ে ইউসিপি সদস্যদের কাছ থেকে তার নেতৃত্বের ৫১.৪ শতাংশ অনুমোদন পাওয়ার পর ও&nbsp; ইউনাইটেড কনজারভেটিভ পার্টির নেতা হিসাবে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন । অ্যালবার্টা (মুখ্যমন্ত্রী ) প্রাদেশিক রাজনীতিতে প্রবেশের আগে, কেনি ২০০৬ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন হার্পারের অধীনে ফেডারেল সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রিসভা পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এমন একজন জাদরেল রাজনীতিবিদ যখন বুঝতে পারলেন যে তার জনসমর্থন কমে যাচ্ছে ; কোনোরকম টালবাহানা না করে অন্যকে সুযোগ দিয়ে নিজে প্রিমিয়ার(মুখ্যমন্ত্রী) থেকে সরে পড়লেন । এ দেশে কেউ রাজনীতিতে কাদা ছোড়াছুড়ি&nbsp;করে না, জনসমর্থন না থাকলে নিজ থেকে সরে পড়েন।&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">কানাডা&nbsp; তিন ধরণের নির্বাচন হয় : পৌর সরকার, প্রাদেশিক সরকার এবং ফেডারেল (জাতীয়) সরকার।&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">কানাডার কেন্দ্রীয় পার্লামেন্টে&nbsp; দুটি চেম্বার : হাউস অফ কমন্সে ৩৩৮ জন সদস্য,&nbsp; সর্বাধিক চার বছরের মেয়াদে নির্বাচিত হয় ।&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">সিনেটে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে গভর্নর জেনারেল (রানীর প্রতিনিধি)&nbsp;ও&nbsp; ১০৫ জন সদস্য নিয়োগ দেয়া হয়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">বেশিরভাগ কেন্দ্রীয় সংসদ সদস্য&nbsp;বিভিন্ন&nbsp; রাজনৈতিক দলের , যদিও প্রার্থীরা যে কোনও রাজনৈতিক দলের সাথে সংযুক্ত বা&nbsp; নির্দলীয় হিসাবেও&nbsp; নির্বাচনে দাঁড়াতে পারেন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">বেশ কয়েকটি দল সাধারণত সংসদে প্রতিনিধিত্ব করে; কানাডায়&nbsp; ঐতিহাসিকভাবে দুটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল : লিবারেল পার্টি এবং কনজারভেটিভ পার্টি, এরা ঘুরেফিরে সরকার গঠন করে। তাছাড়া (এনডিপি) নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টি অফ কানাডা, একটি কাছাকাছি দ্বিতীয় দল ।&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">ব্লক কুয়েবেকোইস (বিকিউ)&nbsp; কানাডার একটি ফেডারেল রাজনৈতিক দল যা কুইবেক জাতীয়তাবাদ এবং কুইবেকের সার্বভৌমত্বের প্রচারের জন্য নিবেদিত এবং অন্য আর একটি&nbsp; গ্রীন পার্টি&nbsp; । কানাডার দশটি প্রদেশ এবং ইউকন&nbsp; ফেডারেল নির্বাচনে একই ভোটিং সিস্টেম ব্যবহৃত হয়&nbsp; ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তবে প্রদেশ গুলি, স্বাধীন প্রাদেশিক নির্বাচন কমিশন দ্বারা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ এবং সংগঠিত হয়; ফেডারেল সরকারের কাছ থেকে অনুমতি ছাড়া আইনগতভাবে তাদের নির্বাচনী ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে পারে যদি তারা তা করতে চায়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য কানাডায় পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বেশিরভাগ প্রদেশে একই তারিখে তাদের সমস্ত পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এ দেশের রাজনীতিবিদ&nbsp; রাজনীতি করে&nbsp; ধনী হওয়ার চিন্তা করে না। এদের পিছনে কোনো চাটুকার থাকে না। এ দেশে মানুষ বাঁচার জন্য যে কোনো কাজ-ই করে।&nbsp; চাকরি চলে গেলে, আর একটা কিছু করে খাবে এবং পাছে কে কি বললো, who&nbsp; care ?&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">এ দেশের নির্বাচনী ভোটিং সিস্টেম&nbsp; বেশ ভালো লাগে; তার কারণ অত্যন্ত নিয়ম শৃঙ্খলার মধ্যে ভোট দেয়া হয়। আমি কাকে ভোট দেব এটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার ; এ ব্যাপারে কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করে না ” তুমি কি আমাকে ভোট দেবে ? “</p>



<p class="wp-block-paragraph">তার কারণ হিসাবে বলা যেতে পারে&nbsp;এদের কোনো লুকানো ( হিডেন) এজেন্ডা নেই। ইলেক্শনে পাশ না করলে&nbsp; হেঁসে হেঁসে জনগণকে ধন্যবাদ&nbsp; দিয়ে নিজ থেকে সরে পড়বে; কাদা ছোড়াছুড়ি করবে না।&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">সিনেট এবং সংসদ:</p>



<p class="wp-block-paragraph">ক) কানাডা একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র, যেখানে রাষ্ট্রপ্রধান এবং সরকার প্রধানের দায়িত্বগুলি স্বতন্ত্র। গভর্নর জেনারেল রাষ্ট্রপ্রধান, যুক্তরাজ্যের মহামান্য রাজার ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালন করেন। গভর্নর জেনারেলের সাংবিধানিক দায়িত্বগুলির মধ্যে রয়েছে:</p>



<p class="wp-block-paragraph">কানাডার প্রধানমন্ত্রী, ক্যাবিনেট মন্ত্রী এবং প্রধান বিচারপতির শপথ গ্রহণ;<br>সংসদ ডাকা, মুলতুবি করা এবং ভেঙে দেওয়া;<br>সিংহাসন থেকে বক্তৃতা প্রদান;<br>সংসদের কর্মকাণ্ডে রাজকীয় সম্মতি প্রদান;</p>



<p class="wp-block-paragraph">প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে প্রিভি কাউন্সিলের সদস্য, লেফটেন্যান্ট গভর্নর এবং কিছু বিচারক নিয়োগ করা; সরকারী দস্তাবেজগুলি কার্যকর করার জন্য স্বাক্ষর করা, যেমন অর্ডার-ইন-কাউন্সিল।&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">খ) দেশের কাজকর্ম এবং ব্যবসা পরিচালনার দায়িত্ব সরকারের এবং প্রধানমন্ত্রী দ্বারা পরিচালিত হয়। ।&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">ফেডারেল ও প্রাদেশিক নির্বাচন:&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">কানাডায় প্রতি চার বছর পর পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী সমস্ত কানাডিয়ান নাগরিক ভোট দিতে পারেন এবং স্বাধীনভাবে কাকে ভোট দেবেন তা পছন্দ&nbsp; করতে পারেন।&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">সংসদে&nbsp;শক্তিশালী বিরোধী দল রয়েছে এবং সরকারকে অনেক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়।&nbsp; তবে এরা সভ্য ভদ্র ভাবে কথা বলে এবং কেউ চেয়ার উঠিয়ে সংসদে মারামারি করে না।&nbsp; সবাই মনে করে আমি জনগণের দেয়া দায়িত্ব পালন করছি; সঠিক ভাবে কাজ না করলে জনগণ আমাকে পরবর্তীতে ভোট দেবে না।&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">কানাডায় জনগণ যুক্তিসঙ্গত জিনিসপত্রের দর হ্রাস পাওয়ার পক্ষে। গ্যাসের দাম এবং নিত্য ব্যবহার্য জিনিসের দর হ্রাস হলেই জনগণ&nbsp;খুশি। সীমিত আয়ের লোক জীবন যাত্রার ক্রমবর্ধমান ঊর্ধ্বগতি নিয়ে বিচলিত ।&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">অন্টারিও প্রাদেশিক নির্বাচন:</p>



<p class="wp-block-paragraph">২০১৮ সনের নির্বাচনে কনজারভেটিভ পার্টি প্রধান ড্যাগ ফোর্ড&nbsp; সংখ্যা গরিষ্ঠ ভোটে সরকার গঠন করেছেন । ভোটের পূর্বে ফোর্ড অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন,”আমি এই করবো, সেই করবো” ; কিন্তু বাস্তবে গত ৪ বৎসরে ৫০% প্রতিশ্রুতি ও রক্ষা করতে পারেনি।&nbsp; সে ক্ষমতায় এসেই প্রথমে মিউনিসিপাল সিটি কাউন্সিলর সংখ্যা ৫০% কমিয়ে ২৫ প্লাস মেয়র = ২৬ নামিয়ে আনে। এ নিয়ে অনেক হইচৈ হলেও সে শুনেনি ।এবারও সে অনেক কিছু করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিলে ও বাস্তবে কতটা কি করবে বলা মুশকিল।&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">কিছুদিন পূর্বে গত দুই বৎসরের জনগণের গাড়ি নবায়ন লাইসেন্স ফী ফেরত দিয়েছে; অন্টারিও ভোটার রাস্তার যানবাহন খরচ (গ্যাসের দাম ) এবং জীবনযাত্রার ব্যয়(cost of living) নিয়ে উদ্বিগ্ন। নির্বাচন মাঠে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে ; কে এবারে সংখ্যা গরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করবে, কিছুই বলা যাচ্ছে না।&nbsp; এমন ও হতে পারে সংখ্যা গরিষ্ট না পেলে কেন্দ্রীয় সরকারের মতো জোট ও হতে পারে।&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">দেশে অর্থনৈতিক স্থবিরতা চলছে; কিছুদিন হয় দোকানপাট, ব্যবসা বাণিজ্য পুরা চালু হয়েছে। কানাডা সরকার গত দুই বৎসর সরকারি সাবসিডি দিয়ে&nbsp; দেশের শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান &nbsp; চালিয়ে রেখেছে।&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">প্রায় ৮৫% জনগণ কভিড-১৯&nbsp; ভ্যাক্সিন নিয়েছে। বর্তমানে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক না হলেও মানুষ করোনার ভয়ভীতি থেকে এখনো বের হয়ে আসতে পারেনি,এখনোও বাহিরে কলে কারখানায়,&nbsp;অফিস, আদালতে অনেকে সতর্কতা হিসাবে মাস্ক ব্যবহার করে;&nbsp;রেস্টুরেন্ট, কফি শপে আগের মতো ভিড় নেই।&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">একজনের কাজের পয়সায় এখানে সংসার খরচ চলে না; স্বামী স্ত্রী দুইজনকেই কাজ করতে হয়।&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">চাহিদা এবং সরবরাহের উপর মূল্য নির্ধারিত হয়।&nbsp; যুদ্ধের কারণে রাশিয়া থেকে গ্যাস এবং উক্রেন থেকে গম সরবরাহ বন্ধ রয়েছে ; এর ফলে সারা পৃথিবীতে দর বেড়ে গিয়েছে। তাছাড়া ব্যাবসায়ীরা ও সুবিধা নিচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে রয়েছে।&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">চলমান প্রাদেশিক রাজনৈতিক&nbsp; প্রচারণায়, দলগুলি ওন্টারিয়দের আর্থিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিলেও মানুষের মনে সন্দেহ রয়েছে। অন্টারিও প্রিমিয়ার ড্যাগ ফোর্ড বার্ষিক যানবাহন নিবন্ধন ফি বাতিল করেছে। কিন্তু প্রপার্টি ট্যাক্স, এনব্রিজ গ্যাস বিল ,বিদ্যুৎ বিল, বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ, বলতে গেলে সব কিছুর দামই ধরাছোয়ার বাইরে। বাড়ি এবং এপার্টমেন্টের মালিক&nbsp; সংস্কারের নাম করে ভাড়াটিয়াদের উঠিয়ে দিয়ে সংস্কার করে কয়েকগুন ভাড়া বাড়িয়ে পুরাতনের স্থলে নতুন ভাড়াটিয়া বসাচ্ছে। কিন্তু লোকজনের মজুরি সে অনুপাতে বাড়ে নি।&nbsp;নির্বাচনে&nbsp; যদিও সবাই প্রতিজ্ঞা করছে যে নতুন বিল্ডিং তৈরী করে লোকদের চাহিদা মেটানো হবে ; বাস্তবে তা কতখানি সম্ভব, সময়ে দেখা যাবে।&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">টেলিভিশন খুললে দেখা যায় কোন পার্টি কোথায় কি বলছে।&nbsp;দুইদিন আগে বিভিন্ন পার্টি প্রধানদের সামনা সামনি হাড্ডাহাড্ডি তর্ক বিতর্ক হয়ে গেলো। একদল অন্য দলের সমালোচনা করতে দ্বিধাবোধ করছে না। রাস্তা বের হলে এখানে সেখানে বিভিন্ন লোকের পোস্টার নজরে পরে; দুই এক জন বাসা নক করে তাদের পোস্টার দিয়ে গেছে।&nbsp; তবে আমাদের দেশের মতো উত্তেজনা বা মারামারি নেই।&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">বেশিরভাগ কানাডিয়ানরা যুক্তিসঙ্গত ভাবে চিন্তা করে। এই&nbsp; মুদ্রাস্ফীতির&nbsp; বাজারে&nbsp; যেই পাশ করুক না কেন; অলৌকিক&nbsp; কোনো পরিবর্তন আসবে বলে মনে হয় না।&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">এ দেশে অগ্রিম ভোট দেয়ার নিয়ম রয়েছে ; তাছাড়া পোস্ট অফিসের মাধ্যমে ও ভোট দেয়া যায়। যারা কর্ম ব্যস্ত থাকে তারা ব্যালট পেপার নিয়ে অগ্রিম ভোট দিতে পারে।&nbsp;ভোট কেন্দ্রে গেলে নিজের ইচ্ছায় যাকে পছন্দ ভোট দিতে পারা যায়।&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">নজরুল ইসলাম</p>



<p class="wp-block-paragraph">টরন্টো&nbsp;&nbsp;</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://probashikantho.com/2026/09/16/%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%a8-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87-%e0%a6%95/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>বাংলাদেশ  পল্লী উন্নয়ন একাডেমি  ও  ড. আখতার হামিদ খান   </title>
		<link>https://probashikantho.com/2026/08/05/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6-%e0%a6%aa%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a7%80-%e0%a6%89%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%a8-%e0%a6%8f/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 05 Aug 2026 21:08:14 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Column]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=12799</guid>

					<description><![CDATA[মাহবুবুর &#160;রব চৌধুরী বিশিষ্ট &#160;সমাজ &#160;বিজ্ঞানী,&#160; &#160;মনীষী ,&#160;&#160;সমাজ সেবক , &#160;আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন &#160;উন্নয়ন কর্মী&#160;&#160;&#160;&#160;ও&#160;&#160;&#160; শিক্ষক&#160;&#160;ড. আখতার&#160;&#160;হামিদ খান &#160;১৫ জুলাই ১৯১৪]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph"><strong>মাহবুবুর &nbsp;রব চৌধুরী</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">বিশিষ্ট &nbsp;সমাজ &nbsp;বিজ্ঞানী,&nbsp; &nbsp;মনীষী ,&nbsp;&nbsp;সমাজ সেবক , &nbsp;আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন &nbsp;উন্নয়ন কর্মী&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;ও&nbsp;&nbsp;&nbsp; শিক্ষক&nbsp;&nbsp;ড. আখতার&nbsp;&nbsp;হামিদ খান &nbsp;১৫ জুলাই ১৯১৪ সালে &nbsp;ভারতের&nbsp;&nbsp;উত্তর প্রদেশে&nbsp;&nbsp;আগ্রা&nbsp;&nbsp; শহরে&nbsp;&nbsp;জন্ম &nbsp;গ্রহণ করেন।&nbsp;&nbsp;তিনি &nbsp;বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি&nbsp; বার্ড এর&nbsp; প্রতিষ্ঠাতা I &nbsp;(Bangladesh academy for rural development &nbsp;&#8211; &nbsp;BARD &nbsp;)&nbsp;&nbsp;<br>১৯৩৪ সালে&nbsp; আগ্রা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ ডিগ্রি&nbsp; অর্জনের পর&nbsp; তিনি&nbsp; ইংরেজ &nbsp;শাসন &nbsp;আমলে &nbsp;ভারতীয় সিভিল সার্ভিস (আই সি এস) &nbsp;এ &nbsp;যোগ দেন।&nbsp;পরবর্তীতে আইসিএস-এর শিক্ষানবিশ হিসেবে তিনি ক্যাম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে &nbsp;সাহিত্য এবং ইতিহাস অধ্যয়ন করেন&nbsp; এবং &nbsp;তিনি&nbsp; এম.এ ডিগ্রি লাভ করেন।&nbsp;&nbsp;চাকুরী জীবনে তার &nbsp;প্রথম &nbsp;পোস্টিং &nbsp;ছিল তৎ &nbsp;কালীন পূর্ব &nbsp;বঙ্গের&nbsp; বর্তমান বাংলাদেশের &nbsp;কুমিল্লায়।&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">১৯৪৩-এর মহা &nbsp;দুর্ভিক্ষ বা&nbsp;&nbsp;মহা মন্বন্তরের&nbsp;&nbsp;সময়&nbsp;তিনি &nbsp;ছিলেন নেত্রকোনার&nbsp; মহকুমা প্রশাসক I ( S.D.O ) .&nbsp;&nbsp;সে&nbsp; সময় ঔপনিবেশিক শাসকদের &nbsp;খামখেয়ালিপনা &nbsp;ও প্রচণ্ড উদাসীনতা তাঁকে এতটাই ব্যথিত করে যে তিনি&nbsp; ভারতীয় সিভিল সার্ভিসের&nbsp;সরকারি চাকুরী থেকে পদত্যাগ করেন।&nbsp;&nbsp;আকর্ষণীয়,&nbsp;গুরুত্বপূর্ণ&nbsp;এই&nbsp;জব&nbsp;তখন&nbsp;আর&nbsp;তাকে&nbsp;সরকারে ধরে রাখতে &nbsp;পারেনি।</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="503" height="397" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/08/পল্লি.jpg" alt="" class="wp-image-12800" style="aspect-ratio:1.2670130279056953;width:432px;height:auto" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/08/পল্লি.jpg 503w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/08/পল্লি-300x237.jpg 300w" sizes="(max-width: 503px) 100vw, 503px" /><figcaption class="wp-element-caption">ড. আখতার&nbsp;&nbsp;হামিদ খান। ছবি : বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি</figcaption></figure>
</div>


<p class="wp-block-paragraph">দেশের &nbsp;মানুষের &nbsp;বিশেষ করে &nbsp;দেশের কৃষকের বহুমাত্রিক সমস্যা গুলি &nbsp;বাস্তবে &nbsp;হাতে &nbsp;হাতে &nbsp;জানতে &nbsp;এবং &nbsp;নিজ জীবন দিয়ে উপলব্ধি করতে চাকুরী ছেড়ে&nbsp;নেত্রকোনা থেকে&nbsp;&nbsp;&nbsp;তিনি&nbsp;&nbsp;আলীগড়ের&nbsp; নিকট &#8216;মামুল&#8217; নামের &nbsp;একটি গ্রামে এসে &nbsp;কৃষি কাজ শুরু করেন। কৃষি কাজের ন্যূনতম আয় দিয়ে জীবনধারণের অসহায়ত্ব এবং &nbsp;দেশের &nbsp;কৃষকের বহুমাত্রিক সমস্যা নিজের জীবন দিয়ে&nbsp;&nbsp;তখন&nbsp;&nbsp;তিনি হাড়ে &nbsp;হাড়ে উপলব্ধি করতে পারলেন। অতঃপর &nbsp; এই সমস্যাসমূহ সমাধানের পথ হিসাবে এখান&nbsp;থেকে&nbsp;&nbsp;পাওয়া &nbsp;জ্ঞান &nbsp;ও বুদ্ধি &nbsp;থেকেই তাঁর মাথায় &#8216;গ্রাম ভিত্তিক সমবায়ের&#8217; মাধ্যমে&nbsp; &#8216;পুঁজি গঠন&#8217;&nbsp; ও &nbsp;আয় বাড়িয়ে কৃষকদের &#8216;শোষণ মুক্তির&#8217; চিন্তা । এই &nbsp;বুদ্ধি &nbsp;ও &nbsp;চিন্তার &nbsp;বাস্তব &nbsp;প্রয়োগ &nbsp;কল্পে&nbsp;&nbsp;পরবর্তী &nbsp;সময়ে&nbsp; আবারও&nbsp;&nbsp; তিনি&nbsp;&nbsp;কুমিল্লাতে ফিরে &nbsp;আসেন।&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">প্রথমে&nbsp; তিনি &nbsp;কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ-এ অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি এ কলেজে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত চাকুরি করেন।&nbsp; ওই &nbsp;সময় কালে &nbsp;কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষের অধিকাংশই ছিলেন সত্যিকারের &nbsp;নম্র &nbsp;, ভদ্র &nbsp;অগাধ পান্ডিত্যের &nbsp;অধিকারী, উৎসর্গীকৃত, প্রশাসনিক দক্ষতা সম্পন্ন একই সাথে সত্যিকারের &nbsp; দুর্দান্ত &nbsp;ব্যক্তিত্ব &nbsp;সম্পন্ন &nbsp;মানুষ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">&nbsp;অতঃপর &nbsp; পল্লী উন্নয়নের উপর বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য তিনি মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটিতে যোগ দেন। &nbsp;প্রশিক্ষণ &nbsp;শেষে এই প্রশিক্ষণ বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে ১৯৫৯ সালে তিনি কুমিল্লায় পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) প্রতিষ্ঠা করেন এবং এর প্রথম কার্যকরী পরিচালক&nbsp; হিসাবে &nbsp;দায়িত্ব &nbsp;গ্রহণ &nbsp;করেন&nbsp;।&nbsp; এই একাডেমি, &#8216;সমন্বিত গ্রাম উন্নয়ন কর্মসূচীকে&#8217; একটি প্যাকেজে একীভূত করে, এক সেট পাইলট প্রকল্প&nbsp;&nbsp;হিসাবে&nbsp;দেশবাসীর &nbsp;সামনে &nbsp;তুলে &nbsp;ধরেন&nbsp;&nbsp; যেটি বিস্তৃতভাবে ‘কুমিল্লা মডেল’ নামে পরিচিতি &nbsp;লাভ করে । কুমিল্লা মডেলের প্রধান চারটি উপাদান হচ্ছেঃ&nbsp; &nbsp;১- থানা ট্রেনিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (টিটিডিসি),&nbsp;২ &#8211; রুরাল ওয়ার্কস প্রোগ্রাম (আরডব্লিউপি),&nbsp;&nbsp;৩ &#8211;&nbsp; থানা ইরিগেশন প্রোগ্রাম (টিআইপি) ও&nbsp; ৪ &#8211; প্রতিটি থানায় (যা এখন উপজেলা) টু-টায়ার কো-অপারেটিভ সিস্টেম (কেএসএস)&nbsp; এ চারটি &nbsp;স্তর&nbsp; তখন সারা &nbsp;দেশজুড়ে &nbsp;করা হয়েছিল।&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমী (বার্ড) আখতার হামিদ খানকে কিংবদন্তিতে পরিণত &nbsp;করেছিল।&nbsp;এবং&nbsp; এটি &nbsp;তখন &nbsp;তাকে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দেয়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">পল্লী উন্নয়নে তাঁর অগ্রণী ভূমিকার জন্য ১৯৬১ সালে &nbsp;তাঁকে সিতারা-ই-পাকিস্তান &nbsp;প্রদান করা হয়। ১৯৬৩ সালে ড. আখতার হামিদ খান তাঁর কুমিল্লা মডেলের জন্য এশিয়ার&nbsp; নোবেল পুরস্কার&nbsp;খ্যাত ‘রামোন ম্যাগসেসে’ পুরস্কার’ পান&nbsp;। মিশিগান স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৬৪ সালে তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টর অব লজ’ এ ভূষিত করেন&nbsp; । &nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">চাকুরী &nbsp;সুবাদে &nbsp;কর্ম &nbsp;ক্ষেত্রে &nbsp;এসে &nbsp;বাংলাদেশের &nbsp;মানুষকে &nbsp;তিনি &nbsp;অন্তর &nbsp;থেকে &nbsp;ভালোবেসে &nbsp;ছিলে ন।&nbsp;&nbsp;এ&nbsp;&nbsp;দেশের &nbsp;মানুষের &nbsp;আন্তরিকতা &nbsp;ও &nbsp;সরলতা &nbsp;দেখে &nbsp;তিনি &nbsp;মুগ্ধ &nbsp;হয়েছিলেন&nbsp;&nbsp; এবং&nbsp;&nbsp;তাদেরকে&nbsp;&nbsp;তার&nbsp;&nbsp;আপন জন &nbsp;ভেবে &nbsp;নিয়েছিলেন।&nbsp;&nbsp;তাই &nbsp;তিনি &nbsp;এদেশে বার বার &nbsp;ফিরে &nbsp;এসেছেন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">পরবর্তীতে &nbsp;তিনি &nbsp;লায়ালপুরস্থ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও &nbsp;করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো হিসেবে ১৯৭২-১৯৭৩ সাল পর্যন্ত কাজ করেন। ১৯৭৩-৭৯ সালে তিনি মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে কাজ করেন। ১৯৭৮-৭৯ সালে তিনি বগুড়ায় পল্লী উন্নয়ন একাডেমীর উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সুইডেনের লুন বিশ্ববিদ্যালয়ের উড্র উইলসন স্কুল, প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়েও ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে কাজ করেন।&nbsp;রেলফ &nbsp;শুমেখার তার বইয়ে লিখেছেন: &#8220;তার স্কেন্ডিনেভিয়ান &nbsp; বিশিষ্ট &nbsp;প্রভাবশালী&nbsp;&nbsp;সহকর্মী এবং &nbsp;তার &nbsp;বন্ধু&nbsp;অন্যান্য উপদেষ্টারা তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কারর জন্য মনোনীত করেছিলেন।&#8221;&nbsp;তবে পঞ্চাশের &nbsp;মহা মন্বন্তর &nbsp;নামে পরিচিত ১৯৪৩-এর মহা &nbsp;দুর্ভিক্ষ &nbsp;কালীন &nbsp;সময়&nbsp; নেত্রকোনার&nbsp; মহকুমা প্রশাসকের &nbsp;( S.D.O ) পদ থেকে পদত্যাগ &nbsp;করে &nbsp;বাংলার &nbsp;মানুষের পক্ষে &nbsp;যে &nbsp;প্রতিবাদী আওয়াজ &nbsp;তিনি &nbsp;দিয়েছেন &nbsp;ঔপনিবেশিক &nbsp;ইংরেজ &nbsp;সেটিকে &nbsp;সহজ ভাবে &nbsp;নেয়নি। এটিকে &nbsp;তারা &nbsp;নেটিভের &nbsp;এক &nbsp;ধরনের &nbsp;ঔদ্ধত্য মনে করেছেন। তারই &nbsp;প্রচ্ছন্ন &nbsp;ছায়া নোবেল পুরস্কার কমিটির &nbsp;বিবেচনার টেবিলেও &nbsp;পড়েছে বলে অনেকে &nbsp;মনে &nbsp;করে&nbsp; থাকেন।&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">&nbsp;একটি &nbsp;বিষয় &nbsp;মানতেই&nbsp; হয় , এক সময়&nbsp; যে &nbsp;বাংলাদেশের &nbsp;পাঁচ কোটি &nbsp;মানুষের &nbsp;জন্য &nbsp;খাদ্যের &nbsp;চাহিদা মেটাতে &nbsp;১০ লক্ষ &nbsp;টন খাদ্য &nbsp;আমদানি &nbsp;করতে &nbsp;হত &nbsp;আজ&nbsp; &nbsp; সে &nbsp;একই &nbsp;বাংলাদেশের &nbsp;২০ কোটি &nbsp;বাংলাদেশির &nbsp;খাদ্য &nbsp;ভান্ডারের &nbsp;ভারসাম্য &nbsp;বজায় &nbsp;রাখতে &nbsp;বাংলাদেশ &nbsp;পল্লী উন্নয়ন একাডেমি সহ &nbsp;বাংলাদেশের &nbsp;কৃষি &nbsp;বিশ্ববিদ্যালয় , কৃষি কলেজ ও &nbsp;কৃষি প্রতিষ্ঠান &nbsp;গুলি &nbsp;যে &nbsp;অবদান &nbsp;রেখে &nbsp;চলেছে &nbsp;তা &nbsp;অস্বীকার &nbsp;করা &nbsp;যায় না।&nbsp; যাবে না।&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">ইংরেজি, বাংলা, আরবি, ফারসি, উর্দু ও হিন্দি ভাষায়&nbsp;&nbsp;সমভাবে&nbsp;&nbsp;দক্ষ আখতার হামিদ খান বহু নিবন্ধ, প্রতিবেদন ও গ্রন্থ রচনা করেছেন। বার্ড &nbsp;তাঁর লেখাগুলিকে তিনটি খন্ড&#8221;&nbsp;&nbsp;দা ওয়ার্কস অব আখতার হামিদ খান&#8221; &nbsp;এই &nbsp;শিরোনামে(১৯৮২)তে &nbsp;প্রকাশ করেছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">মহাপ্রাণ&nbsp;ড. আখতার হামিদ খান&nbsp;০৯ অক্টোবর ১৯৯৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুবরণ করেন। (১৫ জুলাই ১৯১৪- ৯ অক্টোবর ১৯৯৯)&nbsp; জীবন শেষে &nbsp;করাচীর আওরঙ্গ জেব&nbsp;ক্যাম্পাসে তাকে &nbsp;কবর দেওয়া &nbsp;হয়েছে।&nbsp; সব শেষে&nbsp;মৃত্যুহীন&nbsp;এই &nbsp;প্রাণ&nbsp;আজ সেখানেই &nbsp;শায়িত।</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="144" height="204" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2025/06/মাহবুব-রব.jpg" alt="" class="wp-image-11347" style="aspect-ratio:0.7058598238222903;width:109px;height:auto"/></figure>
</div>


<p class="wp-block-paragraph"><em>মাহবুবুর</em><em> </em><em>রব</em><em> </em><em>চৌধুরী</em><em>, </em><em>টরন্টো</em><em>&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;I</em></p>



<p class="wp-block-paragraph"><em>লেখক</em><em> </em><em>পরিচিতি</em><em>: </em><em>ইতিহাস</em><em> </em><em>গবেষক</em><em>, </em><em>রাজনীতি</em><em> </em><em>বিশ্লেষক</em><em> </em><em>I</em></p>



<p class="wp-block-paragraph"></p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>দ, প -এর দাপট</title>
		<link>https://probashikantho.com/2026/08/05/%e0%a6%a6-%e0%a6%aa-%e0%a6%8f%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a6%9f/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 05 Aug 2026 21:03:33 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Column]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=12796</guid>

					<description><![CDATA[সাইদুল হোসেন দাশু দত্ত দর্শনার বাসিন্দা। দেশসেবা, দানদক্ষিণা, দরিদ্রের প্রতি দয়া তাঁর চরিত্রের বৈশিষ্ট্য। দৈনিক দুই কিলোমিটার হাঁটা দারুন গ্রীষ্মেও]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="has-medium-font-size wp-block-paragraph"><strong><strong>সাইদুল হোসেন</strong></strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">দাশু দত্ত দর্শনার বাসিন্দা। দেশসেবা, দানদক্ষিণা, দরিদ্রের প্রতি দয়া তাঁর চরিত্রের বৈশিষ্ট্য। দৈনিক দুই কিলোমিটার হাঁটা দারুন গ্রীষ্মেও অব্যাহত রাখেন। দেহ তাঁর দেবদারু বৃক্ষের মত ঋজু। দক্ষিণ হস্তের ক্রিয়াতেও তিনি খুব দক্ষ। দেবতা-তুল্য চরিত্রবান। দেশপ্রেমী। দলমত নির্বিশেষে সবার সম্মানিত ব্যক্তি। ‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তার উপরে নাই’ এই মতাদর্শের দৃঢ় সমর্থক তিনি। দই-দুধ তাঁর প্রিয় খাদ্য। দীর্ঘ কাল দাড়ি, সুন্দর সাদা দাঁতের সারি, দ্রুত চলন, দরাজ গলা, দিল-দরিয়া স্বভাব ইত্যাদি কারণে দত্তবাবু একজন দর্শনীয় ব্যক্তি। তিনি দাবা খেলায় খুবই পারদর্শী। রাজনৈতিক বা স্বার্থকেন্দ্রিক দলাদলি তাঁর অপছন্দ। দেবভাষায় অর্থাৎ সংস্কৃত ভাষায় তাঁর দখল গভীর। কেনাকাটার বেলায় তিনি দরাদরি পছন্দ করেন না। দক্ষিণ-দুয়ার বাড়ীতে বাস করেন। তবে তাঁর স্ত্রীটি বড় দজ্জাল মেয়েমানুষ, অতি দুর্মুখ, স্বল্প অপরাধে গুরু দন্ডদাত্রী। দু’জনে এক অসুখী দম্পতি। তিনি একটি দোয়েল পাখী পোষেন, দর্প করে দাবি করেন এটা দেবতার দান, তাই সে তার ঘরের লক্ষ্মী। দিনদিন দত্তগিন্নীর দাপট ও দেমাক বাড়ছে, ফলে দত্ত মশায়ের জীবনে দহন এবং দুঃখও বাড়ছে স্ত্রীর দাবড়ানি খেয়ে খেয়ে। এই রোগের কোন দাওয়াই দত্তমশায়ের জানা নেই, তাই তিনি দারুণ দুর্বিপাকে পড়েছেন। এই দিকদারি আর কাহাঁতক সহ্য করা যায়?</p>



<p class="wp-block-paragraph">দত্তবাবুর বাড়ীর দারোয়ান এক দীর্ঘদেহী লোক, নাম তার দীনবন্ধু দাস। দস্যুর মত স্বভাব তার। তার ডান পায়ে একটা দগ্দগে ঘা, তাই সে আরও বদমেজাজী। তাকে দেখামাত্র দুষ্টলোকের বুক দুরদুর করে কাঁপতে থাকে। আগে চর-দখলদারির কাজে সে দাঙ্গাবাজি করে বেড়াত। অন্যরকম দুর্নামও তার রয়েছে।</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="511" height="425" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/08/বর্ণ.jpg" alt="" class="wp-image-12797" style="aspect-ratio:1.2023603808963566;width:375px;height:auto" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/08/বর্ণ.jpg 511w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/08/বর্ণ-300x250.jpg 300w" sizes="(max-width: 511px) 100vw, 511px" /></figure>
</div>


<p class="wp-block-paragraph">দত্তমশাই দু’বছর আগে একবার দিনাজপুরের দেবহাটা গ্রামে গিয়েছিলেন এক দাওয়াতে। সেদিন ছিল দেওয়ালি উৎসব। সেখানে এক প্রাচীন দেবালয় হিন্দুদের এক বিশেষ দ্রষ্টব্য স্থল। দেবী দুর্গার পাথরের মূর্তি দারুণ আকর্ষণীয় বস্তু, যদিও বা খানিকটা দুর্দশাগ্রস্ত। সঙ্গে একটি দৈত্যের মূর্তিও আছে। পুরোহিত সেখানে উপস্থিত ভক্তদের সামনে দেবতার মাহাত্ম্য বর্ণনা করেন। দেহাতি লোকদের খুব ভীড় জমে সে মন্দিরে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">দেশীয় দ্রব্যাদি ও খাদ্যের খুবই ভক্ত দত্তবাবু। দেশবিদেশ ভ্রমণও তিনি ভালোবাসেন। দার্জিলিং, দিল্লী, দক্ষিণ ভারত, দুবাই, দোহা ইত্যাদি দুনিয়ার বহু দেশ ও শহর তিনি ঘুরেছেন। দম-দেওয়া পুতুলের মত অক্লান্তভাবে তিনি দেশ ভ্রমণ করে থাকেন। ধন-দৌলত তাঁর প্রচুর, তাই চিত্ত ভাবনাহীন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">দাম্ভিক লোককে পরিহার এবং দয়ালু লোককে আমন্ত্রণ করেন তিনি। এলাকার দারোগা সাহেব দত্তবাবুকে পছন্দ করেন। কেউ দায়ে ঠেকলে তিনি তাকে সাধ্যমত দান করেন। তাঁর বাড়ীর সামনে একটা বড় দীঘি, তাতে তিনি দিব্যি সাঁতার কাটেন। দুদ্ধবতী দু’টি গাভী পালন করেন তিনি, এবং অকাতরে দুধ বিলান পড়শীদের মাঝে। দোনলা একটি বন্দুক নিয়ে তিনি দূরে জঙ্গলে ডোরাকাটা বাঘ শিকারেও যান। গ্রামের দবির দেওয়ান তাঁর শিকারের সঙ্গী।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তাঁর একমাত্র দুহিতা দেবযানীকে নিকটেই দশমঙ্গল গ্রামে এক দাপটওয়ালা জমিদার পরিবারে বিয়ে দিয়েছেন। দেবযানীর শ্বশুর দরকষাকষি করে বাবার কাছে থেকে নগদ দু’লক্ষ টাকা যৌতুক বাবদ আদায় করে ছেড়েছেন। ওর স্বামী দেবদুলাল আবার দারুতে দারুণ আসক্ত। ওদের বিয়ে হয় দোল পূর্ণিমার রাতে; দ্বিরাগমনের পর দুলাল ওকে দ্বাদশ দিবসের জন্যে দ্বারভাঙ্গা শহরে বেড়াতে নিয়ে গিয়েছিল। ওদের শয়নকক্ষে ঘৃতদীপ জ্বলে, বিদ্যুৎ-বাতি নয়। দোদুল্যমান হৃদয় নিয়ে সে স্বামীর ঘর করছে, যদিও দোহারা চেহারার দুলালকে সে দৈনন্দিন জীবনে ক্রমেই দেহ ও মন সমর্পণ করে চলেছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">পুত্র-মুখ দেখতে পারেননি, এটা দত্তবাবুর জীবনে এক বড় দুঃখ। সদাই দুশ্চিন্তা- এই অগাধ সম্পদ তাঁর মৃত্যুর পর কে ভোগ করবে, বংশের প্রদীপ নিভে যাবে, দশভুতে লুটে খাবে সব। দুশমনি করার লোক তো দুর্লভ নয় এ সমাজে। এই দুর্ভাবনা কখনো কখনো দুর্বহ হয়ে উঠে, দত্তবাবু তখন নিজেকে বড় দুর্বল, বড় অসহায় বলে অনুভব করেন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">শিকারে গিয়ে একদিন এক দাঁতাল শূকরের রোষদৃষ্টিতে পড়েন দত্তবাবু। দোষ অবশ্য তাঁরই। অতি নিকট থেকে গুলি করতে এগিয়ে গেলেন কিন্তু যথা সময়ে বন্দুক থেকে গুলি বের না হওয়াতেই বিপদ ঘটল। দৈবক্রমে বেঁচে গেলেন সে দফা। গাভীর দুধ দোহন করতেও সখ হয় তাঁর কখনো কখনো। একদিন তো গাভীর লাথি খেয়ে দুধের পাত্রসহ দড়াম করে মাটিতে পড়ে গেলেন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সৌখিন মানুষ দাশু দত্ত। ফলের বাগান করেছেন বাড়ীতে। দেলদুয়ারের জমিদার বাড়ী থেকে দিলখোশ আমের কলম করে এনে সেই বাগানে লাগিয়েছেন। এই দুই পরিবারে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও দহরম-মহরম। দুধসাগর আমও ফলে সেই বাগানে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তিনি দূরদর্শী লোক। দেনা-পাওনার বিষয়ে খুবই সতর্ক দৃষ্টি রাখেন, নাহলে ভবিষ্যতে দৈন্যদশায় পড়তে হবে একথা তিনি সর্বদা মনে রাখেন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তাঁর ছোটভাই দিনু দত্তের ছিল দোকানদারী ব্যবসা, কিন্তু দেনার দায়ে এখন মাথার চুল পর্যন্ত মহাজনের কাছে বাঁধা তাঁর, বড়ই দুঃসময় যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে ছোটমেয়ে দিতিকে দোজবরে বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন দু’মাস আগে। বড় দত্তবাবু খবর পেয়ে বাধা দিয়েছেন এবং দিতির বিয়ের সব দায়-দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমরা দাশু দত্তের দীর্ঘায়ু কামনা করি।</p>



<p class="has-medium-font-size wp-block-paragraph"><strong>বাংলা অক্ষর প-এর পাঁচালী</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">(ইংরেজী সাহিত্যে বহু শতাব্দী ধরে পরিচিত ও প্রচলিত Nonsense Rhymes. বিখ্যাত কবিদের রচিত। অপর নাম Nonsense Poetry, Nonsense Poems, or Nonsense Verse.</p>



<p class="wp-block-paragraph">Nonsense poetry does not always make any sense. Those are written only for fun. মনটাকে হালকা করাই উদ্দেশ্য। Google search করলে বহু তথ্য পাওয়া যাবে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সেই সূত্র ধরেই রচিত আমার এই প্রবন্ধ। উদ্দেশ্য : বাংলা ভাষাভিত্তিক ক্ষণিকের জন্য বিনোদন বা fun মাত্র, কোন message দেয়ার জন্য নয়। তবে কেউ যদি স্মরণীয় কিছু খুঁজে পান, তবে সেটা আমার সৌভাগ্য।)&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">বাংলা বর্ণমালার পাঁচটি বর্ণ : প-ফ-ব-ভ-ম। শুরুতেই আছে প। প-এর বহুবিধ ব্যবহার ও প্রয়োগ নিয়ে কিছু পল্কা আলাপচারিতা।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আসুন তাহলে শুরু করা যাক।</p>



<p class="wp-block-paragraph">প্রারম্ভেই বলি, “চাচা, আপন প্রাণ বাঁচা!”</p>



<p class="wp-block-paragraph">পাঁচ-পঞ্চ-পর্ব-পেঁচা-প্যাঁচ-প্যাঁচাল-পাঁচালী,</p>



<p class="wp-block-paragraph">পরিচয়-প্রেম-প্রণয়-পরিণয়-পরিণাম-প্রণয়ী।</p>



<p class="wp-block-paragraph">প না হলে যেমন লেখা যায় না প্রসিদ্ধ,</p>



<p class="wp-block-paragraph">ঠিক তেমনি লেখা যায় না অপ্রসিদ্ধ-ও।</p>



<p class="wp-block-paragraph">প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক, এখানেও সেই প।</p>



<p class="wp-block-paragraph">প্রতিযোগিতা সম্ভব নয় কিছু প্রতিযোগী উপস্থিত না থাকলে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">নিবাসে থাকলে তবেই যাওয়া যায় প্রবাসে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">প্রসাদ পেতে হলে যেতে হবে পূজার মন্দিরে,</p>



<p class="wp-block-paragraph">আর রাজদর্শন পেতে হলে যেতে হবে তাঁর প্রাসাদে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">রাজতন্ত্রের চেয়ে অধিকতর কাম্য প্রজাতন্ত্র।</p>



<p class="wp-block-paragraph">প্রমাণ, প্রমাণিত লিখতে গেলে চাই প,</p>



<p class="wp-block-paragraph">প্রচারে এবং অপপ্রচারেও প অপরিহার্য।</p>



<p class="wp-block-paragraph">প্রবীণ-প্রাচীন-প্রাচীর-প্রলয়-প্রধান-প্রকান্ড-প্রকট-প্রাণী,</p>



<p class="wp-block-paragraph">এরাও প-এর অনুগামী।</p>



<p class="wp-block-paragraph">প্রতিরোধ-প্রতিশোধ-পাঞ্জা-পান্তা-পান্থ-প্রান্থ,</p>



<p class="wp-block-paragraph">পান্না-পাক্কা-প্রাচ্য-প্রতীচ্য-পুরুষ-পৌরুষ-পাষন্ড :</p>



<p class="wp-block-paragraph">সর্বত্রই উপস্থিত প।</p>



<p class="wp-block-paragraph">পদযাত্রা করতে গেলে যেমন লাগে দু’টি পা,</p>



<p class="wp-block-paragraph">পরিশ্রম ছাড়া তেমনি পাগলামীও সারে না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">পথিকের ভরসা যেমন তার যুগল পা,</p>



<p class="wp-block-paragraph">প্রার্থীর ভরসা তেমনি দাতার প্রসন্নতা।</p>



<p class="wp-block-paragraph">প্রচার-প্রসার-প্রকার-প্রাকার-প্রণাম-প্রণামী,</p>



<p class="wp-block-paragraph">প্রসন্ন-প্রফুল্ল-প্রগতি-প্রগতিশীল-প্রগতিশালী।</p>



<p class="wp-block-paragraph">পরমা সুন্দরী পরম বন্ধু হলে প্রাণে বিরাজে প্রশান্তি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">যুক্তির ধারাটা প্রায়শঃই বদলে দেয় প্রযুক্তি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">প্রায় থেকে প্রায়শঃ যেমন ক্রম থেকে ক্রমশঃ,</p>



<p class="wp-block-paragraph">প্রতিশ্র“তি-প্রতিদান-প্রবৃত্তি-প্রবৃদ্ধি-পরস্ব-পরশ্ব।</p>



<p class="wp-block-paragraph">সুপ্রতিষ্ঠিত ও অপ্রতিষ্ঠিতের মাঝে থাকে গুণ ও মানের ব্যবধান।</p>



<p class="wp-block-paragraph">প্রিয়জন হলো আমাদের পরিবার-পরিজন,</p>



<p class="wp-block-paragraph">সমাজে পদপিষ্ঠ হয় তারা যারা “হরিজন।”</p>



<p class="wp-block-paragraph">পুরাতন স্থান পায় প্রাচীনের দলে,</p>



<p class="wp-block-paragraph">পশুপাখিরা বাস করে পাহাড়ে-পর্বতে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">প্রবলেরা প্রায়শঃই দুর্বলের উপর তাদের প্রভাব খাটায়।</p>



<p class="wp-block-paragraph">প্রণত না হলে অসন্তুষ্ট হন ব্রাক্ষ্মণ বটে,</p>



<p class="wp-block-paragraph">অতীতে পন্ডিত মশায়ের পিটুনীও প্রাপ্য হতো</p>



<p class="wp-block-paragraph">পাঠশালায় পড়া না পারিলে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">প্রখর রোদে প্রচুর পরিশ্রম করে</p>



<p class="wp-block-paragraph">কৃষক শুকায় তাদের ভেজা পাট,</p>



<p class="wp-block-paragraph">প্রকৃত মূল্য না পেলে হতাশায় দেয় কপালে হাত।</p>



<p class="wp-block-paragraph">প্রজন্ম-প্রজাতি-প্রজাপতি-প্রশান্তি-প্রবেশ,</p>



<p class="wp-block-paragraph">পিঠ-পিঠা-পাঠ্য-প্রাপ্য-প্রবল-প্রবাল-প্রাণেশ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">প্রাচুর্য-পারা-পারাবত-পারাবার-পরশ-পারদ,</p>



<p class="wp-block-paragraph">পার্শ্ব-পোষ্য-পার্থিব-পাগল-পোশাক-পরিচ্ছদ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">পাজামা-পাঞ্জাবী-পাদুকা-পাগড়ি, নারীদের পোশাক ঘাগরি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">প্রসারিত-প্রচারিত-প্রশমিত-প্রভাবিত-প্রবাহিত-প্রজ্জ্বলিত,</p>



<p class="wp-block-paragraph">প্রত্যুষ-প্রথম-প্রতুল-প্রমত্ত-প্রতীক-পতিত-পালিত।</p>



<p class="wp-block-paragraph">পাঁক-পাক-পাকা-পাখা-পাশা-পাড়া-পালা-পাজী,</p>



<p class="wp-block-paragraph">পিরিত-পীরিতি-পুতুল-পুতলি-পুকুর-পাশরি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">পথ-পথিক-পাথেয়-প্রদর্শন-প্রশমণ-প্রচলন-প্রহসন,</p>



<p class="wp-block-paragraph">পীত-প্রীত-প্রেত-প্রীতি-পূনঃ-প্রিয়-পিষ্টক-পৃথক-প্রহরণ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">পানশুপারি-পানশালা-পাশাপাশি-পরগাছা-পরমায়ু।</p>



<p class="wp-block-paragraph">পৈতৃক-পুরাকাল-পুরনারী-পুরাতন-পুরাপুরি-প্রাণবায়ু।</p>



<p class="wp-block-paragraph">প্রতারিত-প্রতিদিন-প্রতিশোধ-প্রতিরোধ-প্রতিদান,</p>



<p class="wp-block-paragraph">প্রদান-প্রগাঢ়-প্রসার-প্রদাহ-প্রবাহ-প্রদেশ-প্রবেশ-প্রস্থান।</p>



<p class="wp-block-paragraph">পেশা-পেষা-পোষা-প্রগতি-প্রসূতি-প্রকৃতি-প্রভৃতি,</p>



<p class="wp-block-paragraph">পুলক-পূরব-পূনশ্চঃ-পুস্তক-পুস্তিকা-প্রতীকী।</p>



<p class="wp-block-paragraph">পাপ-পাপী-পাপাশয়-প্রস্তুত-পরাজিত-প্রস্ফুটিত।</p>



<p class="wp-block-paragraph">পরিমাণ-পরিধান-প্রশাসন-প্রলয়-প্রশ্রয়-প্রজনন-প্রসাধন,</p>



<p class="wp-block-paragraph">প্রয়োগ-প্রহার-প্রহর-প্রবল-প্রলম্বিত-পরমত-প্রশিক্ষণ,</p>



<p class="wp-block-paragraph">প্রাণবান-পরাধীন-পরাশক্তি-পরকাল-পরস্পর-পরম্পরা-পরধন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">প্রাদুর্ভাব-প্রাদেশিক-প্রাণহরা-প্রাণেশ্বর-পিতা-পিতামহ-পীতাম্বর,</p>



<p class="wp-block-paragraph">প্রশ্নবোধক-প্রশ্নাতীত-প্রয়োজন-প্রযোজন-প্রদক্ষিণ-পীনোন্নত-পয়োধর ॥</p>



<p class="wp-block-paragraph">সাইদুল হোসেন</p>



<p class="wp-block-paragraph">মিসিসাগা, ক্যানাডা</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>কানাডার নির্বাচন থেকে তৃতীয় বিশ্বের শিক্ষণীয়</title>
		<link>https://probashikantho.com/2026/08/05/%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%a8-%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%a4%e0%a7%83/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 05 Aug 2026 20:59:34 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Column]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=12793</guid>

					<description><![CDATA[২০অধিক জল্পনা কল্পনার পর অবশেষে গত ২রা জুন, ২০২২ কানাডায় অন্টারিও প্রাদেশিক নির্বাচন হয়ে গেলো।  মিসেস ডলি বেগম আমাদের গর্ব,]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph">২০অধিক জল্পনা কল্পনার পর অবশেষে গত ২রা জুন, ২০২২ কানাডায় অন্টারিও প্রাদেশিক নির্বাচন হয়ে গেলো। </p>



<p class="wp-block-paragraph">মিসেস ডলি বেগম আমাদের গর্ব, আমাদের অহংকার। নিকটতম প্রার্থীর চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ ভোটের ব্যবধানে&nbsp; দ্বিতীয় বারের মতো এম পি পি&nbsp; (মেম্বার অব প্রভিন্সিয়াল পার্লামেন্ট) নির্বাচিত হলেন । জয়, জয়, ডলি বেগমের জয়। কানাডার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত বাঙ্গালীর মুখে মুখে শুধু ডলি বেগম। কে এই ভাগ্যবান&nbsp; বাবামা, যাদের মেয়ের নাম বাঙ্গালীদের মুখে মুখে?&nbsp;</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full"><img loading="lazy" decoding="async" width="500" height="278" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/08/ডলি.jpg" alt="" class="wp-image-12794" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/08/ডলি.jpg 500w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/08/ডলি-300x167.jpg 300w" sizes="(max-width: 500px) 100vw, 500px" /><figcaption class="wp-element-caption">প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে ডলি বেগম। ছবি : দ্য কানাডিয়ান প্রেস/লরা প্রোক্টর।</figcaption></figure>
</div>


<p class="wp-block-paragraph">সিলেটের মৌলভীবাজারে জন্ম নেয়া এই ডলি বেগম শিশু অবস্থায় বাবা মায়ের সাথে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য কানাডাতে চলে আসেন। এরপর, স্কুল, ইউনিভার্সিটি পড়া শেষে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ডলি বেগম রাজনীতিতে ঢোকার পূর্বে এ দেশে&nbsp;সমাজ কল্যাণ কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সে এ&nbsp; প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের এ পথে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন এবং অদূর ভবিষ্যতে হয়ত অনেকেই তাঁকে স্বরণ করে এগিয়ে যাবে।&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">কানাডা এক&nbsp; বহু জাতিক উদ্বাস্তু দেশ । এ দেশে সারা পৃথিবীর লোক শান্তিপূর্ণ ভাবে বাস করে; এদের&nbsp; চেহেরা ও গঠন এক রকম নয় । কারো বৃহত্তর শরীর, লম্বা নাক, সাদা&nbsp; বা কালো রঙ, আবার করো ছোট চ্যাপ্টা নাক, ছোট শরীর; &nbsp;হেজেল, নীল বা সবুজ চোখসহ মাঝারি বাদামী থেকে হালকা বাদামী, কালো বা স্বর্ণকেশী চুল। সমস্ত কালো আফ্রিকান/ আমেরিকান প্রাকৃতিকভাবে মিশ্র কোঁকড়ানো চুল। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের লোকদের ভাষা ও&nbsp; উচ্চারণ&nbsp; ভিন্ন ভিন্ন রকম&nbsp; যেমন ব্রিটিশ ইংলিশ আর কানাডিয়ান ইংলিশ স্পিকিং লোকদের কথাবার্তা ভিন্ন রকম।&nbsp; সবার শিকড় বাইরে, কে মূল কানাডিয়ান বলা মুশকিল; ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের জিজ্ঞেস করলে বলে ” I&nbsp; am born Canadian“.&nbsp; সরাসরি মুখ বন্ধ করে দিলো ; হয়তো তার পেরেন্টস বাংলাদেশি বা শ্রীলঙ্কান বা ইন্ডিয়ান বা পাকিস্তানি বা অন্য কোনো দেশ। কাজেই নিজের দেশের একজন এম পি পি&nbsp; ( প্রাদেশিক সংসদ সদস্য ) পাওয়া অনেক ভাগ্যের কথা; যদিও আমাদের দেশের মতো কেউ চাকরি (ব্যবসা ) তদবিরের জন্য ধারে কাছেও যায় না বা তার অফিসে ভিড় জমায় না।&nbsp; এ দেশে ইন্ডিয়ান, পাকিস্তানি বহু যুগ থেকে শিকড় গেঁড়ে আছে এবং সংসদে ওদের লোক পাওয়া যায়। এমন কি সোমালিয়ান মন্ত্রী (মিস্টার: হোসাইন) এবং আফগানিস্তানি মন্ত্রী&nbsp; ( মিসেস: মারিয়াম ) ও এদিক থেকে বেশ এগিয়ে আছে।&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">কানাডার ১০টি প্রদেশ&nbsp; এবং তিনটি টেরিটরির&nbsp; মোট লোকসংখ্যার (৪০&nbsp; মিলিয়ন) ৩৮% অন্টারিও প্রদেশে, ২৩ % কুইবেক, ১৩% ব্রিটিশ কলম্বিয়া ও ১২ % আলবার্টায়। বাকি লোক অন্যান্য প্রদেশ ও&nbsp; তিন টেরিটোরিতে বাস করে।&nbsp; Yellowknife&nbsp; 0.12%,Nunavut&nbsp; 0.01% ও Yukon&nbsp; 0.01% বাস করে।&nbsp; অতিরিক্ত বরফ ও&nbsp; শীতের দরুন এই তিন টেরিটোরিতে&nbsp; লোক সংখ্যা একেবারেই কম। প্রতিটি প্রদেশ ও টেরিটোরির নিজস্ব স্বায়ত্তশাসন (autonomy) থাকায় বিভিন্ন সময় নিজেদের সুবিধামতো ইলেকশন করে&nbsp;থাকে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">অন্টারিও প্রিমিয়ার&nbsp; মিস্টার ড্যাগ ফোর্ড, প্রাদেশিক রক্ষণশীল দল (প্রভিন্সিয়াল কনজারভেটিভ পার্টি ) থেকে আরেকটি সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠন করলেন&nbsp; ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">মে মাসের তিন তারিখ থেকে ২রা জুন পর্যন্ত মোট ২৮ দিন বিভিন্ন পার্টি ও স্বতন্ত্র ব্যক্তিগণের জন্য সরকারিভাবে ভোট প্রচার করার সময় বেঁধে দেয়া হয়েছিল।&nbsp; ২০১৮ থেকে ২০২২, এই চার বৎসর প্রাদেশিক রক্ষণশীল দল (কনজারভেটিভ পার্টি) ক্ষমতায় ছিল এবং যেহেতু ড্যাগ ফোর্ড মোটামুটি ভালোই চালিয়েছেন , অনেকেই ধারণা করেছিল আবারও কনজারভেটিভ ক্ষমতায় আসতে পারে এবং বাস্তবেও তাই হলো।&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">এ দেশে রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীরা নির্বাচনি অর্থায়নের জন্য প্রবিধানের (গভর্নমেন্ট রেগুলেশন্স ) সরকারি নিয়মকানুনের মুখোমুখি হতে হয়; কোনো দল বা ব্যক্তি কত অর্থ প্রচার কাজে খরচ করবে তা সরকার লক্ষ রাখে এবং নির্বাচনের পর প্রার্থীকে তা জানাতে হয় সরকারকে। রাস্তায় বের হলে বিভিন্ন লোকের পোস্টার রাস্তার মোড়ে নজরে পড়েছে, তবে দু/একজনকে বাড়িতে এসে দরজা নক করে প্রচারপত্র দিয়ে যেতে দেখেছি। আমার বাড়ির সামনে কোনো পোস্টার লাগানো হয় নি বা লাগাতে হলে মালিকের অনুমতি দরকার পড়ে ।&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">সকল ভোটারের জন্য ভোট দান সহজ করার জন্য, এ দেশে&nbsp; অগ্রিম ভোট দান এবং পোস্ট অফিসের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার&nbsp; বিকল্প নিয়ম রয়েছে এবং সে জন্য অনেকেই অগ্রিম ভোট দিয়ে থাকে। আমি নিজেও অগ্রিম ভোট দেয়া পছন্দ করি এবং দিয়েছি।&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">অন্টারিও প্রগ্রেসিভ কনজারভেটিভ পার্টি টানা দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার জিতেছে, এবং ৮৩ টি রাইডিংয়ে নির্বাচিত হয়েছে। এটি আগের নির্বাচনের চেয়ে বেশি এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম ৬৩ টিরও বেশি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি&nbsp; আবারও সরকারি বিরোধী দল গঠন করেছে। কারণ তারা দ্বিতীয়-সর্বাধিক আসন পেয়েছে , তবে দলের নেতা মিসেস আন্দ্রেয়া হোরওয়াথের (Andrea Horwath) পক্ষে এটি যথেষ্ট ছিল না, যিনি সরাসরি ঘোষণা করেছেন&nbsp; যে তিনি তার চতুর্থ নির্বাচনি চক্রে সরকার গঠনে ব্যর্থ হওয়ার পরে নেতার পদ থেকে পদত্যাগ করবেন।&nbsp; দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দেয়ার পর আন্দ্রেয়া যখন বুঝতে পেরেছেন তাঁর দ্বারা সরকার গঠন করা সম্ভব হচ্ছে না, বিলম্ব না করে সরাসরি জনগণের নিকট নিজের অক্ষমতা ব্যক্ত করলেন। মিসেস আন্দ্রেয়া কোনোরকম কারণ দেখাতে চাইলেন না এবং অন্যকে নেতৃত্ব দিয়ে সরে পড়বেন বলে অঙ্গীকার করলেন। আন্দ্রিয়া পরিশ্রমী মহিলা এবং জনগণের স্বার্থে সংসদে যথেষ্ট পরিশ্রম করেছেন এবং ভালো নেতৃত্বের জন্য তাঁর যথেষ্ট সুনাম রয়েছে । তাছাড়া সে নিজে পাশ করা সত্ত্বেও পার্টির স্বার্থে নেতৃত্ব ধরে রাখতে চাইলেন না।&nbsp; তাঁর এই সুন্দর দৃষ্টান্ত থেকে আমাদের তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলির অনেক শিক্ষণীয় আছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">কানাডার রাজনীতিতে কোনোরকম মারামারি (রক্তক্ষরণ) দেখা যায় না।&nbsp; জনগণ চাইলো না বা সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে সরে পড়েন এবং অন্য কিছু করে জীবনযাপন করেন। এদের অনেকের&nbsp; যথেষ্ট সাপোর্ট থাকা সত্ত্বেও নিজের মানসম্মান নিয়ে রাজনীতি থেকে বিদায় নেন।&nbsp;কিন্তু তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে এ দৃষ্টান্ত দেখা যায় না, গদিতে একবার বসলে বিনা রক্তপাতে আর নামতে চায় না ।&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">নজরুল ইসলাম</p>



<p class="wp-block-paragraph">টরন্টো</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>বিশ্বকাপ ২০২৬ ফাইনালে ফিফা ও রেফারির নগ্ন হস্তক্ষেপ: এ লজ্জা কার?</title>
		<link>https://probashikantho.com/2026/07/23/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%aa-%e0%a7%a8%e0%a7%a6%e0%a7%a8%e0%a7%ac-%e0%a6%ab%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%ab%e0%a6%bf/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Thu, 23 Jul 2026 04:10:45 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Column]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=12766</guid>

					<description><![CDATA[শৈলেন কুমার দাশ বর্তমান ফুটবল বিশ্বের এক নান্দনিক ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসি। যার পায়ের জাদুতে অভিনব ফুটবলের নয়ন মুগ্ধকর চিত্রকর্ম]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph"><strong>শৈলেন কুমার দাশ</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">বর্তমান ফুটবল বিশ্বের এক নান্দনিক ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসি। যার পায়ের জাদুতে অভিনব ফুটবলের নয়ন মুগ্ধকর চিত্রকর্ম তৈরি হয় সবুজের গালিচায়। আর এই জাদুতে বিশ্বব্যাপী কোটি মানুষের প্রাণে ছড়িয়ে যায় আনন্দ উল্লাসের এক নবীন শিহরণ। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের প্রিয় জন্মভূমি আর্জেন্টিনার প্রতিটি মেসে দ্যুতি ছড়িয়েছে তাঁর পায়ের নিপুণ যাদু! হয়ে উঠেছিল বিশ্বকাপ আসরের&nbsp; শৈল্পিক উদ্দীপক কোটি মানুষের প্রাণে। ফাইনাল মেসটিও অসাধারণ উপভোগ্য হবে এই বিস্ময়কর জাদুকরের পায়ের অবিশ্বাস্য জাদুতে, সেই আশায় ছিল বিশ্বের শত শত কোটি মানুষ। কিন্তু সেই আশা ও সবুজের বুকে প্রতি মুহূর্তে নয়ন মুগ্ধকর আলপনা দেখা থেকে বঞ্চিত হল বিশ্ববাসী! এর পেছনে লুকায়িত কারণ হলো স্বয়ং ফিফার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র এবং রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ এর নগ্ন রেফারিং। মেসিকে আটকাতে হবে; আর্জেন্টিনাকে আটকাতে হবে! স্পেনকে জেতাতে হবে! তা নাহলে উচ্চবর্ণের ইউরোপিয়ানদের মান থাকবে না! তাই এই জঘন্য কুৎসিত খেলায় মেতে উঠেছিল গোপনে ফিফা! তাই তারা মাঠে পাঠালো আর্জেন্টিনার চিরশত্রু স্লোভেনিয়ান এই চরম শঠ রেফারিকে। এ পর্যন্ত সে আর্জেন্টিনার যতটি খেলা পরিচালনা করেছে তার একটিতেও সে আর্জেন্টিনাকে জিততে দেয়নি। আপনাদের মনে আছে ২০২২ সালের বিশ্বকাপে সৌদি আরবের সাথে আর্জেন্টিনার মেসটির কথা? সেই মেসেও এই ভিনচিচ ছিল রেফারি। যে মেসে সে আর্জেন্টিনাকে ২-১ গোলে হারাতে আনকোরা সৌদিআরবকে নগ্ন সাহায্য করেছিল এই অভিশপ্ত রেফারি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এই রেফারি ভিনচিচের ব্যক্তিগত জীবনও পরিচ্ছন্ন নয়। ২০২০ সালের মে মাসে, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় একটি কেবিনে অভিযান চালানোর সময় পুলিশ তাকে আটক করেছিল। মাদক পাচার, অবৈধ অস্ত্র রাখা এবং পতিতাবৃত্তি আয়োজনের অভিযোগে সে ছিল সন্দেহভাজনের তালিকায়। আর ফিফা এসব জানার পরও এই পাপিষ্ঠ রেফারিকে বিশ্বকাপের মত আসরে তাকে মেস পরিচালনার দায়িত্ব দেয়? তাহলে বুঝতে হবে ফিফার মত জগৎনন্দিত প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব আজ কোন নিম্নতর মাত্রায় পৌঁছেছে!</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full"><img loading="lazy" decoding="async" width="500" height="453" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/07/মেসি.jpg" alt="" class="wp-image-12767" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/07/মেসি.jpg 500w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/07/মেসি-300x272.jpg 300w" sizes="(max-width: 500px) 100vw, 500px" /><figcaption class="wp-element-caption">ফাইনালে পরাজয়ের পর কাঁদছেন লিওনেল মেসি। ছবি: সংগৃহীত</figcaption></figure>
</div>


<p class="wp-block-paragraph">বিষয়টি এমন ছিল যে মেসিকে আটকাতে হবে; আর্জেন্টিনাকে আটকাতে হবে! মেসিকে কোন পজিশন ও রিওয়ার্ড দেয়া যাবে না! মেসি যখন &#8216;গোল্ডেন বুট&#8217; দখলের সীমানায় তখনই আরেক মেস পাতানোর কুৎসিত পরিকল্পনা করে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড তৃতীয় স্থান নির্ধারণী মেসে। জগৎ দেখেছে কি হাস্যকরভাবে গোলের বন্যা বয়ে গেল এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ মেসে! মূল বিষয় হচ্ছে ফ্রান্সের এমবাপের গোলের সংখ্যা যদি ১০ বা ১০এর অধিক হয়ে যায় তাহলে মেসি আর &#8221;গোল্ডেন বুট&#8217; পাবে না। তাই ব্রিটিশরা তাকে মনখুলে গোল দেয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। হায়রে নোংরামি! ব্রিটিশ নোংরামি আবার দেখলো গোটা বিশ্ববাসী!</p>



<p class="wp-block-paragraph">ব্রিটিশ ফুটবল দলকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই বাংলায় বহুল প্রচলিত সেই বিখ্যাত প্রবাদটি। &#8220;অপরের জন্য কুৎসিত খাল খনন করলে, নিজেকেই সেই খালে পড়ে হাবুডুবু খেতে হয়।&#8221; গোটা বিশ্বব্যাপী বিশেষ করে ভারতবর্ষে ১৯০ বছরের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক নিপীড়নের ফল তো এখন গোটা ব্রিটেন ভোগ করছে। ব্রিটিশ সমাজে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা আজ কোথায়‌ এসে দাঁড়িয়েছে? এসব কিন্তু চরম নিপীড়ন ও নির্যাতনের ফল! আর আজকের এই ফুটবলের সুন্দর বিশ্ব আসরকে কুৎসিত ব্রিটিশ চিন্তায় কলুষিত করার ফলও কিন্তু ব্রিটিশ ফুটবলে কলঙ্কিত অধ্যায় রচনা করবে। লিপিবদ্ধ হবে ঘৃণ্য ও অতি নিম্নমানের ইতিহাস যারা এক সময় গোটা পৃথিবীকে ফুটবল শিখিয়েছে সেই ব্রিটিশদের জন্য। একটু গভীরভাবে সজ্জন ব্রিটিশদের বিষয়টি অনুধাবনের জন্য অনুরোধ করছি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">প্রিয় মেসি হয়তো তোমার জীবনের শেষ বিশ্বকাপের ম্যাচ ছিল এটি! তবে তোমার এই বিদায় আসরটি এমন নগ্ন দুর্বৃত্তায়নে সাজাবে ফিফা তা সত্যিই আমরা ভাবতে পারিনি! ফিফা এতটা নগ্ন ও অসৎ হবে আমাদের ভাবনার সপ্ত আকাশেও ছিল না। আজ চারিদিকে শুধু প্রশ্ন, আর্জেন্টিনা কেন তাদের চিরসুন্দর নান্দনিক ফুটবল খেলতে পারেনি? না তাঁদেরকে তাঁদের চিরচেনা খেলা না খেলতে বাধ্য করেছে ফিফা বা বিশ্বকাপের জন্য অসুস্থ লালায়িত স্পেন?</p>



<p class="wp-block-paragraph">বাতাসে এ গুঞ্জনও ভেসে বেড়াচ্ছে আর্জেন্টিনার হেড কোচ লিওনেল স্কালোনিসহ অনেক ফুটবলার যারা স্পেনের ক্লাবে খেলে তাঁদের পরিবার পরিজন বসবাস করছে স্পেনে। স্পেনের পক্ষ থেকে আর্জেন্টিনাকে বলা হয়েছে তাঁরা যদি ফাইনাল মেসে খারাপ খেলে না হারে তাহলে তাঁদের পরিবারকে জিম্মি করা হবে! এ যদি সত্যি হয় তাহলে এরচেয়ে জঘন্য নিম্নমানের কাজ কি হতে পারে? সেজন্যই নাকি মেসিসহ‌ আর্জেন্টিনার কোন প্লেয়ার ভাল খেলেনি! স্বয়ং মেসিকেও নাকি লাল কার্ড দেয়ার পরিকল্পনা ছিল এই চাটুকার রেফারি ভিনচিচের। খুব ভাল ফর্মে থাকা লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে হঠাৎ তোলে নেয়া এবং রোমেরো এর ইনজুরি এবং তুলে নেয়া নাকি স্প্যানিশদের কুৎসিত পরিকল্পনার অংশ! অপ্রতিরোধ্য এনজো ফার্নান্দেজ যখন গোটা মাঠে একাই প্রতিরোধ ব্যূহ রচনা করছিল তখনই রেফারি মহাঘাতকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে তাঁকে লাল কার্ড দিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেয় অথচ ফার্নান্দেজ স্প্যানিশ ঐ প্লেয়ারের গায়ে স্পর্শই করেনি। সে নিজে ইচ্ছাকৃতভাবে অনিয়ন্ত্রিতভাবে দৌড়ে এসে ফার্নান্দেজ এর গায়ে পড়ে এবং মাটিতে গড়াগড়ি করে অভিনয় করতে থাকে। ফার্নান্দেজ এবং মেসি বার বার VAR এ বিষয়টি নিরীক্ষণের জন্য পাঠানোর অনুরোধ জানালেও পক্ষপাত রোগাক্রান্ত&nbsp; রেফারি কোন কর্ণপাত করেনি। মানসিক অসুস্থ এই রেফারির মিশনই ছিল আর্জেন্টিনাকে পরাজিত করা। তারপরও যখন স্পেনের ক্লিব প্লেয়াররা গোল দিতে পারেনি, তখন নাকি আর্জেন্টিনাই প্লেয়ারদের বাধ্য করা হয় ভুল পাসে স্প্যানিশ প্লেয়ারদের পায়ে বল তুলে দেয়ার জন্য! এই ছিল বিশ্বকাপ ফাইনালে জঘন্য ফিফা ও স্পেনের কুৎসিত ও অতি ঘৃণ্য ভূমিকা। এসব জঘন্য ও অতি নিম্নমানের আচরণ দেখে সব সুশীল জনেরা বলছেন &#8220;এই আসর আয়োজনের দরকার কি? যাকে পছন্দ হয় তাকে কাপ দিয়ে দিলেই হয়?&#8221;</p>



<p class="wp-block-paragraph">&nbsp;সুতরাং প্রিয় পাঠক, কেন আর্জেন্টিনা তাঁদের স্বাভাবিক খেলাটি খেলতে পারেনি এখন হয়তো অনুধাবন করতে পারছেন? কেন ফিরতে পারেনি তাদের চিরচেনা ফুটবলের নান্দনিক শিল্পকর্মে? আর পারবেইবা কিভাবে, সবই যে পূর্ব কুৎসিত পরিকল্পনার অংশ! আরও বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করলে সবকিছুই দিবালোকের মত পরিস্কার হয়ে যাবে। রেফারি ভিনচিচ আর্জেন্টিনাকে ৫টি হলুদ কার্ড এবং ২টি লাল কার্ড দিয়েছে (১টি খেলা শেষে)! এর পর কি করে একটি দল তার স্বাভাবিক খেলা খেলে? রেফারি সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে লাল কার্ডটি দিয়েছে আর্জেন্টিনাকে হারানোর জন্য। প্রথম থেকেই তার রেফারিং এর নমুনায় বুঝা গেছে সে যেন আর্জেন্টিনাকে হারানোর জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়ে মাঠে নেমেছে। তার আচরণ দেখে আমি প্রথমেই মনে মনে ভাবছিলাম ফুটবলের নান্দনিক সৌন্দর্যে সাজানো একটি বিশ্বকাপ ফাইনাল মেস দেখা থেকে বঞ্চিত হবে আজ গোটা বিশ্ববাসী! আর সত্যি সত্যি তাই হল। অনেকেই এই রেফারির একচোখা আচরণ দেখে বলেছেন সে হয়তো মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ঘুষ নিয়েছে স্পেনের নিকট থেকে বা স্বয়ং ফিফা তাকে আর্জেন্টিনাকে যেনতেনভাবে হারানোর মিশন দিয়েই মাঠে নামিয়েছে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">পরে দ্বিতীয় ভাবনাটিই সত্য বলে ধরে নিয়েছে বিশ্ববাসীর মন। কারণ ফিফা যখন &#8216;গোল্ডেন বলটি&#8217; গোটা এই বিশ্বকাপ আসরকে ফুটবলের অপার নান্দনিক সৌন্দর্যে যিনি সাজিয়েছেন সেই মেসিকে না দিয়ে স্পেনের &nbsp;মিডফিল্ডার রুদ্রিকে দিয়েছে, যে কিনা গোটা আসর জুড়ে একটিও গোল করেনি। তার খেলার মধ্যে গায়ের জোরে দৌড়ানো ছাড়া ফুটবলের নান্দনিক শিল্পকর্মের কোন ছোঁয়া নেই! এসব বুঝা ফিফার আমলাতান্ত্রিক ও নির্দিষ্ট অঞ্চলকেন্দ্রিক মানসিকতা সম্পন্ন কর্মকর্তাদের অন্ধ পরিসরের অনেক দূরে। সত্যি বিশ্বব্যাপী সর্বক্ষেত্রে আজ সুশীল, সুন্দর ও নিরপেক্ষ চিন্তার খরা চলছে। ভাবছিলাম ফুটবল আসরটি এ থেকে দূরে? কিন্তু আজ ফাইনাল মেসের খেলা পরিচালনা দেখে আমার সেই ধারণা সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হল। এই মানসিকতার পরিবর্তন ও নিরপেক্ষ সরল সৌন্দর্যের আবরণে সজ্জিত না হলে একদিন হয়তো এই আসরে অনেক দেশই ঘৃণা আর তিরস্কারের সাথে পা রাখবে না। বা পাশাপাশি জন্ম নিতে পারে ফুটবল শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য নিরপেক্ষ ফুটবল বিচার ও বিচক্ষণতা শৈলী মহাদেশীয়, আন্তঃমহাদেশীয়, এমনকি বৈশ্বিক ফুটবল সংস্থার। যারা ফুটবলের কালো অধ্যায় দূর করে নিরপেক্ষ ফুটবল শৈলী ও রেফারিং এর অলংকারে সাজাবে বিশ্ব ফুটবল আসরকে!</p>



<p class="wp-block-paragraph">কোনকিছুই অসম্ভব নয়! সময় তার নিজস্ব নিরপেক্ষ অবস্থান আপন অলংকারে সাজাতে নিজেই সব পুরানো কালো অধ্যায় পরিহার করে জ্যোতিস্নাত হয় নবীন আলোর ধারায়। মনে হয় এখন সময় এসেছে ফিফার অত্যাচার, অনিয়মের একচ্ছত্র ঘৃণ্য আধিপত্য থেকে বিশ্ব ফুটবলকে মুক্তি দিতে। ফিফার এই বিমাতা সুলভ আচরণের বার বারই বলি হয় আর্জেন্টিনার মত অর্থনৈতিকভাবে দ্বিতীয় সারিতে থাকা দেশগুলো।</p>



<p class="wp-block-paragraph">দু&#8217;দলের খেলায় একদল তো হারবেই। এটাই তো&nbsp; ফুটবলের স্বাভাবিক সৌন্দর্যে কিন্তু এই ঘৃণ্য অনিয়ম আর পক্ষপাতিত্ব কেন? যা সত্যি আজ ফিফার মেস পরিচালনার আচরণ নিয়ে গোটা বিশ্ববাসীর মনে নানাবিধ মলিন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে?</p>



<p class="wp-block-paragraph">এ রকম ফাইনাল খেলায় কোন টিমকে লাল কার্ড দেয়া মানে ঐ টিমকে হারানোর জন্য দেয়া! লাল কার্ড দেয়া হয় কখন? যখন কোন খেলোয়াড় মারাত্মক কোন ফাউল করে? রেফারির যুক্তি হয়তো এক্ষেত্রে আর্জেন্টাইন মিড ফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ দু&#8217;টি হলুদ কার্ডের জন্য লাল কার্ড পেয়েছেন। আসলেই কি ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ডটি পাওয়ার যোগ্য ছিলেন? এরচেয়ে তো স্প্যানিশরা মারাত্মক দু&#8217;টি ফাউল করেছিল মেসির উপর। সেখানে তো লাল কার্ড দেয়া দূরের কথা হলুদ কার্ডও দেয়নি কানা রেফারি! এটি খুবই পরিষ্কার যে রেফারিকে মাঠে পাঠানো হয়েছিল আর্জেন্টিনাকে পরাজিত করার মিশন দিয়ে। যা সত্যি ফিফার জন্য কলঙ্ক, ফুটবলের জন্য কলঙ্ক এবং বিশ্বকাপ ২০২৬ এর জন্য কলঙ্ক।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আরো একটু বিস্তারিত বললে আর্জেন্টিনাকে হারানোর বিষয়টি যে রেফারি/ফিফার পূর্ব পরিকল্পিত তা বুঝা যাবে! এই মেসে রেফারি আর্জেন্টিনার ফাউল ধরেছে ২৪টি আর স্পেনের ২১টি (মূলতঃ স্পেনের ফাউল ছিল আরো বেশি ২৯টির মত)। কিন্তু রেফারি স্পেনকে একটিও হলুদ কার্ড দেয়নি অথচ আর্জেন্টিনাকে দিয়েছে ৫টি হলুদ কার্ড ও ২টি লাল কার্ড (খেলা শেষ হওয়ার পর ১)? মেসিকে দু&#8217;বার স্প্যানিশরা মারাত্মক ফাউল করেছে কিন্তু রেফারি কোন হলুদ কার্ড দেয়নি! অথচ যে গ্ৰাউন্ডে আর্জেন্টিনার বিখ্যাত মিড ফিল্ডারকে লাল কার্ড দিল, মেসিকেও মারাত্মকভাবে ফাউলের জন্য স্প্যানিসদের অন্ততঃ একটা লাল কার্ড প্রাপ্য ছিল। কানা, একচোখা রেফারি এ ক্ষেত্রে হলুদ কার্ড পর্যন্ত দেয়নি। স্প্যানিশরা মেসিকে এমন মারাত্মকভাবে ট্যাকল করার বডি ল্যাংগুয়েজ প্রদর্শন বা অনিয়ন্ত্রিত আক্রমণ করেছে ফলে মেসি বল ধরতেই পারেননি। অর্থাৎ বল ধরতে গেলেই মেসির উপর অনিয়ন্ত্রিত আক্রমণ। রেফারির পক্ষ থেকে এ অবস্থা উত্তরণের কোন প্রচেষ্টা চোখে পড়েনি। মেসির মত বিশ্বের প্রথম সারির ফুটবলারদের গায়ে স্পর্শ করলেই ফাউল এমনকি হলুদ কার্ড দেয়া হয় সাধারণতঃ যাতে মেসিরা ফুটবলে শৈল্পিক নৈপুণ্য প্রদর্শন করতে পারে। কিন্তু এই ফাইনাল মেসে রেফারির আচরণ যা সত্যি অনাকাঙ্ক্ষিত এবং মারাত্মকভাবে ফুটবলের এবং বিশ্বকাপের সৌন্দর্যকে ধূলিলুণ্ঠিত করেছে। আবারও বলছি এর ফলে এমন অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে আগামীতে, অনেক দেশই হয়তো কলঙ্কিত এই বিশ্বকাপ আসরে পা বাড়াবে না!</p>



<p class="wp-block-paragraph">বিশ্বকাপ আসরকে ফুটবল শিল্পের অসাধারণ নৈপুণ্য দিয়ে দেদীপ্যমান আলোর ধারায় প্রথম থেকে শেষ অবধি যিনি দু&#8217;হাতে সাজিয়ে দিয়েছেন তিনি হচ্ছেন মেসি। শিল্পীর নিপুণ তুলির নিখুঁত রং ছড়ানোর মতই করেছেন ৮টি নান্দনিক গোল! আর ৪টি শৈল্পিক এসিস্ট! যা দেখলে সময় যেন থমকে যায় ক্ষণকালের জন্য! চক্ষু যেন স্থির হয়ে যায় বাতাসে ভেসে ভেসে বলের গোলের নির্দিষ্ট লক্ষ্য অতিক্রমের সময়ের অপার সৌন্দর্যে! আর সার্থক এক শিল্পীর রং জড়ানো নান্দনিক তুলির আঁচরের মত বার বার সাজিয়ে দিয়েছে সতীর্থদের খেলার আসর! যা বিশ্বব্যাপী ফুটবল প্রেমীদের নয়নকোণে স্থান করে নিয়েছে ম্যাজিকের মত! এর পরও যখন মেসিকে &#8216;গোল্ডেন বল&#8217; না দিয়ে অন্য কাউকে দেয়া হয় &#8216;গোল্ডেন বল&#8217; তখন ফিফার দুরভিসন্ধি আর বুঝতে কি বাকি থাকে? তাতে কি এটি বুঝতে সহজ হয়না যে মেসি ও আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে পরাজিত করার মিশন ছিল স্বয়ং ফিফার? ছি ছি ও ধিক্কার এই একচোখা, কানা ও অনিরপেক্ষ ফিফাকে। ফুটবলের অমিয় সুন্দর, নান্দনিক শিল্পের উৎকর্ষ বিধানে নিরপেক্ষ বিচারবোধের উজ্জ্বল আবিরে সজ্জিত হতে পারলে এই ফিফা টিকে থাকুক, তা না হলে থেমে যাক এ পথ, জন্ম নিক এক সম্পূর্ণ সুন্দর, সুশীল ও নিরপেক্ষ এক আগামী বিশ্ব ফুটবল সংস্থার।</p>



<p class="wp-block-paragraph">পরিশেষে প্রিয় মেসিকে বলবো এই একটি ম্যাচ কখনোই আপনার মত একজন ফুটবল কিংবদন্তির পরিচয় বদলে দিতে পারে না! বদলে দিতে পারে না বিশ্ব ফুটবল আসরের নান্দনিক এক জাদুকরের পায়ের জাদুতে সাজানো এক শিল্পের রঙিন দিগন্তরেখা! অসীম সৃষ্টি ও স্মৃতিময় ফুটবলের বর্ণাঢ্য পথরেখা! এক জীবনে সবকিছু পাওয়া যায় না ভেবে সান্ত্বনা খুঁজবেন মনে। আর মাপ করে দিবেন তাদেরকে যারা আপনার পরাজয়ের এমন কলুষিত পথরেখা সাজিয়েছে ঘৃণ্য পরিকল্পনায়! তারপরও আপনি সবাইকে ছাপিয়ে ফুটবল গগনে এক বিস্ময়কর উজ্জ্বল নক্ষত্র, এই শতাব্দীর অন্যতম সেরা ফুটবলার, কোটি মানুষের অনুপ্রেরণা ও ভালোবাসা বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আজ হয়তো আপনার চোখে কষ্টের জল; হতে পারতো আনন্দের অশ্রু! হয়নি কেন তাই ছিল আজকের আলোচনার উপজীব্য বিষয়! কিন্তু ফুটবলকে আপনি যা দিয়েছেন, এই অঙ্গনে দু&#8217;হাতে যে রং ছড়িয়েছেন তা ইতিহাস কখনো ভুলবে না। আপনার দু&#8217;পায়ের অকল্পনীয় জাদু, আপনার জয়োদীপ্ত লড়াই, আপনার বিনম্র বিনয়, সতীর্থদের প্রবল মনোবলে সাজিয়ে দেয়ার শক্তি &#8230;. এসবই আপনাকে অমর করে রাখবে&nbsp; বিশ্বময় শুধু ফুটবল আসর নয়; মানুষের প্রাণের আসরে! আপনার নাম প্রজন্মের পর প্রজন্মে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও অনুরাগে উচ্চারিত হবে বিশ্বব্যাপী কোটি মানুষের প্রাণে!</p>



<p class="wp-block-paragraph">শৈলেন কুমার দাশ</p>



<p class="wp-block-paragraph">কলামিস্ট, কানাডা</p>



<p class="wp-block-paragraph"></p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>বোঝার ভার</title>
		<link>https://probashikantho.com/2026/07/01/%e0%a6%ac%e0%a7%8b%e0%a6%9d%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b0/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 01 Jul 2026 20:23:46 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Column]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=12705</guid>

					<description><![CDATA[সাইদুল হোসেন এপ্রিল ০৫, ২০২৬ (পূর্ব প্রকাশিতের পর) Uneasy lies the head that wears the crown. যে করে শিরে তার]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph"><strong>সাইদুল হোসেন</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">এপ্রিল ০৫, ২০২৬</p>



<p class="wp-block-paragraph">(পূর্ব প্রকাশিতের পর)</p>



<p class="wp-block-paragraph">Uneasy lies the head that wears the crown.</p>



<ul class="wp-block-list">
<li>English Proverb</li>
</ul>



<p class="wp-block-paragraph">যে করে শিরে তার রাজমুকুট ধারণ;</p>



<p class="wp-block-paragraph">রাতের সুখনিদ্রা সে করে যে হরণ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">* &nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; &nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;*&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; *</p>



<p class="wp-block-paragraph">“মন মাঝি তোর বৈঠা নে রে,</p>



<p class="wp-block-paragraph">আমি আর বাইতে পারি না”</p>



<p class="wp-block-paragraph">বোঝার ভারটা বইতে কেউই পছন্দ করে না। আমিও করি না। কিন্তু বেঁচে থাকলে বোঝার ভার বহন করার হাত থেকে কারো মুক্তি নেই যদি না সেই ব্যক্তি হয় একজন নির্বোধ অথবা পাগল। শিশুরা এই ভার থেকে মুক্ত।</p>



<p class="wp-block-paragraph">বোঝা সাধারণতঃ দু’ ধরণের- দৃশ্যমান ও অদৃশ্য। দৃশ্যমান বোঝাটার ওজনটা অনুমান বা নিরুপণ করাটা সহজ- এতো পাউন্ড অথবা এতো কেজি।</p>



<p class="wp-block-paragraph">অন্যদিকে অদৃশ্য বোঝাটার ওজনটা মাপা যায় না, এমনকি তা অনুমান করাটাও সম্ভব নয় কখনো কারণ সেটা তো লোকচক্ষুর অন্তরালে স্মৃতির বোঝা যার কোন ওজন নেই, এমনকি সেটার কোন আকৃতিও নেই। তবে হ্যাঁ, সেটার একটা প্রকৃতি আছে বটে। তার প্রকৃতিটা হলো দুঃখময়, বেদনাময়। সুখময় স্মৃতির অবশ্য কোন বোঝা নেই, সে হয় হালকা-পাতলা এবং আনন্দময়, গায়ে লাগা ফুরফুরে হাওয়ার মতো। গায়ে লাগে, তারপর হারিয়ে যায়।</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="400" height="264" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/07/বৃদ্ধ.jpg" alt="" class="wp-image-12706" style="aspect-ratio:1.515182006510802;width:443px;height:auto" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/07/বৃদ্ধ.jpg 400w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/07/বৃদ্ধ-300x198.jpg 300w" sizes="(max-width: 400px) 100vw, 400px" /><figcaption class="wp-element-caption">বেঁচে থাকলে বোঝার ভার বহন করার হাত থেকে কারো মুক্তি নেই। ছবি: সংগৃহীত</figcaption></figure>
</div>


<p class="wp-block-paragraph">দুঃখময় স্মৃতির অপর বৈশিষ্ট্য হলো এই যে বয়সটা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেটারও ওজন (তীব্রতা) ক্রমে ক্রমে বাড়তে থাকে। কখনোবা সেই বোঝার ভারটা অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছে যায়। অতীতের কোন গুরুতর অপরাধের অথবা পাপের স্মৃতির ক্ষেত্রে সচরাচর এমনটা ঘটে থাকে। বিবেকের অনবরত দংশন এমতাবস্থায় একজন মানুষকে দৈহিকভাবে অসুস্থ করে তুলতে পারে, এমনকি মানসিক ভারসাম্যও হারিয়ে ফেলতে পারে কেউ কেউ। হয়ে যেতে পারে পাগলও।</p>



<p class="wp-block-paragraph">দৃশ্যমান বোঝাটার একটা রূপ হলো একজন মানুষের উপর আরোপিত দায়িত্ব-কর্তব্যের গুরুত্ব ও তার ব্যাপ্তি। যদি সেই ব্যক্তিটি mature, intelligent and competent হয়, তাহলে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু তা না হলে সেই ভারপ্রাপ্ত ব্যক্তিটি বোঝাটা বহন করতে পারবে না, সৃষ্টি হবে নানা সমস্যার।&nbsp; অযোগ্য ব্যক্তির উপর ভারী কোন দায়িত্বের বোঝা চাপালে সে তা সন্তোষজনকভাবে পালন করতে পারবে না তার প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও কর্ম-অভিজ্ঞতার অভাবে। পদে পদে ভুল করবে, হোঁচট খাবে সেই বোঝার ভারে। কাজটা রয়ে যাবে অসমাপ্ত অথবা হবে সেটা ক্রটিযুক্ত। নিজের অযোগ্যতাটাকে ঢাকতে গিয়ে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিটি কখনো দোষ দেয় তার সহকর্মীদের অথবা কখনো তার কাজের যন্ত্রপাতির উপর। ইংরেজী প্রবাদ : A bad worker blames his tools.</p>



<p class="wp-block-paragraph">সুদূর অতীতে বাল্যকালে যখন গ্রামে বাস করতাম তখন কৃষকদের মুখে শুনতাম, তারা বলতো, “ছাগল দিয়ে কখনো হালের জোয়াল টানা যায় না, তাতে দরকার গরুর।” কথাটা খাঁটি সত্য, প্রতিবাদের কোন অবকাশ নেই এখানে।</p>



<p class="wp-block-paragraph">বোঝার ভারটা লাঘব করার একটা উপায় হলো সম্ভব হলে সেটা ভাগাভাগি করে নেয়া। বাংলা প্রবাদ : “দশের লাঠি একের বোঝা।”</p>



<p class="wp-block-paragraph">বোঝার ভারটা লাঘব করার আর একটা উপায় হলো দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিটির তার কর্তব্যের প্রতি সহনশীল মনোভাব, অপ্রতিবাদী মনোভাব। দায়িত্বটা পালনের প্রতি আগ্রহ, প্রতিবাদ নয়। কাজকে, দায়িত্ব পালনকে ভালোবাসতে হবে আর তাহলেই বোঝাটা অসহনীয় বলে বোধ হবে না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">কাজ-পাগলা লোকেরা সুখী কারণ তাদের “অলস কাল” বলে কিছু নেই, তারা কর্তব্যসম্পাদনে সদা ব্যস্ত। ব্যস্ততাই তাদের জীবনীশক্তি (fuel). ইংরেজীতে একটা কথা আছে : &nbsp;If you want to get something done, go to a busy person, not to a lazy guy. কাজ-পাগলা ব্যস্ত ব্যক্তিটি তার শত কাজের মাঝেও তোমার কাজটা করে দেয়ার মত সময় বের করে নেবে, কিন্তু অলস লোকটা তার অখণ্ড অবসরেও তোমার কাজটা করে দেয়ার মত উদ্যোগ নেবে না। কথাটা সত্য। অলসেরা কর্মবিমুখ এবং দায়িত্বগ্রহণে অনাগ্রহী।</p>



<p class="wp-block-paragraph">&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; *&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; *&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; *</p>



<p class="wp-block-paragraph">প্রাচীন বাংলা কবিতা।</p>



<p class="wp-block-paragraph">“সতীর পূণ্যে পতির পূণ্য সর্বলোকে জানে,</p>



<p class="wp-block-paragraph">সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে ॥”</p>



<p class="wp-block-paragraph">বহু যুগ আগের কথা। মনে পড়ে যে আমাদের গ্রামের বাড়ির বৈঠকখানায় (আমরা বলতাম “বাংলা ঘর”।) দেয়ালে আয়নাতে বাঁধানো দু’টি সুদৃশ্য ফ্রেইম (frame)&nbsp; ছিল যার একটাতে লেখা ছিল “ভুলো না আমায়”, আর অন্যটাতে লেখা ছিল “সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে।”</p>



<p class="wp-block-paragraph">এই বাক্যটি নিয়ে গুরুজনদের মাঝে আলোচনাও শুনতাম। বয়স ও বিদ্যা দুই-ই ছিল কম, সব কথা ঠিক মত বুঝতাম না। পরে পরিণত বয়সে সেসব আলোচনার রেশ মনে পড়তো। বুঝতে পারতাম যে বাক্যটির দু’টি অর্থ করা হতো। একটা মত ছিল এই যে ঘরের রমণীরা (স্ত্রীরা) বাস্তবিকই তাদের নানা গুণাবলীর কারণে প্রশংসনীয়া।</p>



<p class="wp-block-paragraph">আর দ্বিতীয় মতটি ছিল এই যে, সব রমণীই সমান গুণবতী নয়। উপরে বর্ণিত প্রশংসাটা আসলে পুরুষদের একটা মিথ্যা স্তোকবাক্য মাত্র যাতে নারীরা মোহিত হয়ে নিজেদের কষ্ট ভুলে সংসারের সর্বরকম কাজের বোঝা ঘাড়ে তুলে নিয়ে পুরুষদের অব্যাহতি দেয় এবং তারা পরম সুখে নারীদের সেই সর্বক্ষণিক সেবাটুকু উপভোগ করতে পারে।</p>



<p class="wp-block-paragraph"><strong>সাইদুল হোসেন</strong></p>



<p class="wp-block-paragraph">মিসিসাগা</p>



<p class="wp-block-paragraph">অন্টারিও</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>মার্কিন নির্বাচন ও কাদা ছোড়াছুড়ি</title>
		<link>https://probashikantho.com/2026/07/01/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%a8-%e0%a6%93-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%be-%e0%a6%9b/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 01 Jul 2026 20:18:14 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Column]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=12701</guid>

					<description><![CDATA[নজরুল ইসলাম (পূর্ব প্রকাশিতের পর) রাজনীতি ও ক্ষমতা এমন এক জিনিস যা নিয়ে বিভিন্ন দেশে অহরহ ঝগড়া, মারামারি, হানাহানি&#160; বৎসরের]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="wp-block-paragraph">নজরুল ইসলাম</p>



<p class="wp-block-paragraph">(পূর্ব প্রকাশিতের পর)</p>



<p class="wp-block-paragraph">রাজনীতি ও ক্ষমতা এমন এক জিনিস যা নিয়ে বিভিন্ন দেশে অহরহ ঝগড়া, মারামারি, হানাহানি&nbsp; বৎসরের পর বৎসর লেগেই থাকে। এইতো&nbsp; ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসের&nbsp; চাঞ্চল্যকর এক স্মৃতি আজ ও চোখের সামনে ভাসছে :&nbsp; কে হোইটহাউজ দখল করবে এ নিয়ে কত কি হয়ে গেলো, দুনিয়ার মানুষ অবাক হয়ে তাকিয়েছিলো যে আমেরিকার মতো একটি বৃহৎ শক্তিশালী দেশে&nbsp; কি হতে যাচ্ছে? গণ-নির্বাচনে পরাজিত ব্যক্তি বা দল সন্তুষ্ট হয় না। তাছাড়া&nbsp; সুষ্ঠু নির্বাচন হয়-ই না, বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। এই যদি আমেরিকার মতো দেশে ইলেক্শনকে কেন্দ্র করে এমন কাণ্ড হয়,তাহলে তৃতীয় বিশ্বের গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলে কি হবে ?&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে স্বৈরশাসক নাম মাত্র গণতন্ত্র দিয়ে দেশ পরিচালনা করে। বহু দেশে ভোট কেন্দ্র দখল, ব্যালট পেপার চুরি করে সীল মেরে বক্সে ঢুকানো, জয় কে পরাজয়,পরাজয়কে জয় তো সরকারের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে, এ নতুন কিছু নয়। তাছাড়া তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলি এই ভোট দেয়া-নেয়া নিয়ে অহরহ ঝগড়া,মারামারি&nbsp; করে থাকে। নিজেদের পরিচিত ও আপন আত্মীয়ের প্রতিও&nbsp; অনাত্মীয়ের মতো আচরণ এবং দলাদলি বা মারামারি করতে দ্বিধা করে না। ভোটাভোটি শেষ হলে সরকার কোরান, বাইবেল, গীতা বা অন্য ধর্মের বই ছুঁয়ে শপথ নিয়ে বলে আমি সত্য কথা এবং সততার সঙ্গে কাজ করবো। কিন্তু পরে ওয়াদা এবং কাজের কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায় না।&nbsp; তিন, চার বা পাঁচ বৎসর মেয়াদ পর্যন্ত সরকারি ও&nbsp; বিরোধীদলের মধ্যে&nbsp; সংসদে বা বাইরে বাকবিতণ্ডা, হাতাহাতি থেকে শুরু করে মারামারি পর্যন্ত হতে থাকে।&nbsp;&nbsp;</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full is-resized"><img loading="lazy" decoding="async" width="500" height="333" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/07/ক্যাপিটল-1.jpg" alt="" class="wp-image-12703" style="aspect-ratio:1.5015250340199897;width:480px;height:auto" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/07/ক্যাপিটল-1.jpg 500w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/07/ক্যাপিটল-1-300x200.jpg 300w" sizes="(max-width: 500px) 100vw, 500px" /><figcaption class="wp-element-caption">২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে ক্যাপিটল হিলে হামলা। ছবি : জেমস কেইভম/নিউয়র্ক পোস্ট</figcaption></figure>
</div>


<p class="wp-block-paragraph"> এইতো গত সপ্তাহে কানাডার মতো একটি গণতান্ত্রিক দেশে , NDP লিডার জগমিত সিং সমালোচনা করে (লিবারেল এবং NDP জোট) সরকারের  প্রধানমন্ত্রী  জাস্টিন ট্রুডোকে দাবি দাওয়া না মেনে নিলে জোট সরকার থেকে সরে দাঁড়াবে বলেছে । কানাডার বর্তমান সরকার  লিবারেল  সংখ্যালঘু সংসদ সদস্য হওয়ায় NDP এর সঙ্গে জোট সরকার করেছে। কোনো গ্যারান্টি  নেই যে চার বৎসর একত্রে দেশ চালাতে পারবে।  বর্তমান সরকার ইতিপূর্বেও জোট সরকার ছিল এবং পুরা মেয়াদে  সংসদ চালাতে পারে নি , পুনরায় ইলেকশন দিয়ে সংখ্যালঘু সরকার গঠন করেছে।   কানাডা একটা সভ্য দেশ, এখানে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সে ভাবে কাদা ছোড়াছুড়ি  হয় না।</p>



<p class="wp-block-paragraph">তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে গণতন্ত্রের ব্যর্থতার পিছনে যে কারণগুলি রয়েছে :</p>



<p class="wp-block-paragraph">১) ক্ষমতার লোভ&nbsp; :</p>



<p class="wp-block-paragraph">রাজনীতিতে ব্যক্তিগত সুবিধাভোগের কারণ&nbsp; তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলির একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য এবং এই দেশগুলিতে সত্যিকারের গণতন্ত্রের পথে এটিই সবচেয়ে বড় বাধা। ব্রিটিশ সরকার&nbsp; ভারত থেকে বিদায় নেয়ার পর&nbsp; থেকেই নেহেরু –গান্ধী পরিবার বহুদিন ক্ষমতা ধরে রাখছে, জনগণকে বুঝানো হয়েছে যে&nbsp; ভারতে আর কোনো যোগ্য ব্যক্তি নেই বা হবে না। অপরদিকে পাকিস্তানের জুলফিকার আলী ভুট্টো ও তার কন্যা বেনজির ভুট্টো এবং নেওয়াজ শরীফ পরিবার মনে করেছিল পাকিস্তানের মালিকানা ওদের, এই দুই পরিবার ব্যাতিত আর কোনো ব্যক্তি নেই দেশ পরিচালনার জন্য।&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">সিরিয়ার হাফেজ আল –আসাদ ১৯৭১ থেকে একটানা ২০০০ সন ও তার ছেলে বাসার আসাদ এ পর্যন্ত ক্ষমতায় রয়েছে। এই পরিবার ছাড়া কি আর কেউ দেশ পরিচালনা করার যোগ্য ব্যক্তি নেই ? মূলতঃ এরা ক্ষমতা ছেড়ে যাবে কোথায় ? ক্ষমতা ছেড়ে দিলে নিজেদের কৃত অপরাধের বিচার হবে সে ভয়ে ক্ষমতা ছাড়তে চায় না।&nbsp; অপর দিকে দেশ আজ ধ্বংস প্রাপ্ত, হাফেজ আসাদ যেটুকু দেশের জন্য ভালো কাজ করেছিল , তাঁর সুযোগ্য পুত্র দেশকে ঊনবিংশ শতাব্দীতে পৌঁছে দিয়েছে/&nbsp; ধ্বংস করে ফেলেছে।&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">পাকিস্তানের তৎকালীন সামরিক আইন প্রশাসক জেনারেল আয়ুব খান&nbsp; তাঁর ম্যান্টর&nbsp; প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জাকে সরিয়ে ক্ষমতা নেন ।&nbsp; ইস্কান্দার মির্জা আয়ুব খানকে exceptional promotion&nbsp; দিয়ে&nbsp; সেনাবাহিনী প্রধান করেন।&nbsp; কিন্তু ক্ষমতা পাওয়ার পর দেরি না করে মির্জাকে ক্ষমতাচ্যুত করে সপরিবারে লন্ডন পাঠিয়ে দেন। তাঁর পরের ঘটনা সবার জানা। তাঁর যুক্তি ছিল সাধারণ মানুষ ভোটের মর্যাদা বুঝে না, কাজেই ওদের&nbsp; প্রতিনিধি (ইউনিয়ন মেম্বার,চেয়ারম্যানে) ভোট দিলেই চলবে।&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">২ )স্বৈরাচারী শাসন:&nbsp;&nbsp; সামরিক সরকার তৃতীয় বিশ্বে বিভিন্ন দেশে গণতন্ত্রের মসৃণ প্রবাহকে যুগে যুগে বাধাগ্রস্ত করেছে। উগান্ডার ইদি আমীন, ঘানার নক্রুমাহ-সহ আরোও কত ব্যক্তি যারা যুগে যুগে ক্ষমতা ধরে রেখে দেশের ধ্বংস করেছে, তা বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না।&nbsp; প্রকৃতপক্ষে&nbsp; স্বৈরাচারী সরকার জনগণের মধ্যে ভয়ভীতির সৃষ্টি করে&nbsp; এমন ভাবে দেশ পরিচালনা করে যে , কেউ মুখ ফুটে সরকারের বিরুদ্ধে কিছু বলতে গেলে হয় জেল , না হয় গুম খুন ।&nbsp; ইদি আমিনের&nbsp;&nbsp; শাসনামলে উগান্ডার ৫০,০০০&nbsp; এশীয়কে বহিষ্কার করেছে।&nbsp; ১২ মিলিয়ন লোকসংখ্যার দেশ উগান্ডা, আমিনের শাসনামলে ৫০০,০০০ লোককে হত্যা করেছে ।</p>



<p class="wp-block-paragraph">একইভাবে, রুয়ান্ডা একটি তৃতীয় বিশ্বের দেশ , কিন্তু এর সরকার, মিডিয়ার সহায়তায়, হুতু সংখ্যাগরিষ্ঠদের&nbsp; অস্ত্রে সজ্জিত&nbsp; করতে সক্ষম হয়েছিল এবং একশত দিনের ব্যবধানে সরকার হুতুদের দিয়ে ৮০০,০০০ বা তাঁর ও&nbsp; বেশি&nbsp; সংখ্যালঘু&nbsp; তুতসি&nbsp; হত্যা করেছিল।</p>



<p class="wp-block-paragraph">৩) উচ্চ নিরক্ষরতা: তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে শিক্ষার হার নিম্নমানের, কি শিক্ষিত, কি অশিক্ষিত ভোটের মূল্য বুঝে না এবং কেউ বুঝলেও অন্যের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে ভোট দেয়, ব্যালট বাক্স চুরি করে।&nbsp; এই ভোট দেয়া নেয়া নিয়ে নিজের জীবনও দিয়ে থাকে।&nbsp; একটা লোক বুঝে না যে “আমি একজনকে অনাকাঙ্ক্ষিত ভোট দিতে গিয়ে কেন নিজের জীবন দেব এবং নিজের পরিবারকে বিপদে ফেলবো ।&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">৪) তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে বেশির ভাগ রাজনীতিবিদই জনগণের সত্যিকারের প্রতিনিধি নন। তারা তাদের ভোটারদের কল্যাণ ও উন্নয়নের জন্য কাজ করার পরিবর্তে, তাদের নিজস্ব&nbsp; স্বার্থ অনুসরণ &nbsp;করে। এ সব লোক নিজের স্বার্থের প্রতি খেয়াল রেখে বহু পয়সা খরচ করে নির্বাচিত হয়।&nbsp; নির্বাচিত হওয়ার পর নিজের পেট ভরার কথা চিন্তা করে।&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">৫) রাজনৈতিক সামাজিকীকরণের অভাব: তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে বেশিরভাগ মানুষ গ্রামাঞ্চলে বাস করে যেখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল এবং সংবাদ মাধ্যম থেকে বঞ্চিত থাকে এবং তাই তারা রাজনৈতিক উন্নয়ন এবং সরকারী উত্থানের প্রতি উদাসীন।</p>



<p class="wp-block-paragraph">এ থেকে বোঝা যায় যে, রাজনীতি শিক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ। কানাডার মতো উন্নত দেশগুলিতে&nbsp; স্কুলে রাজনীতি, সমাজনীতি সম্পর্কে ছেলেমেয়েদের শিক্ষা দেয়া হয়।&nbsp; তাছাড়া&nbsp; এমনভাবে &nbsp;শিক্ষা ব্যবস্থার প্রচলন করা হয়েছে যাতে&nbsp; ছেলেমেয়েদের নৈতিক চরিত্র গড়ে উঠে।&nbsp; ছেলেমেয়েদের অন্যায় কাজ থেকে যাতে বিরত থাকে সে দিকে খেয়াল রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। তবে কানাডার রাজনীতিবিদগণ নিজেদের পেশাদার রাজনীতিবিদ মনে করেন না,ওরা এই পেশাকে সরকারি চাকুরী হিসেবে মনে করেন।&nbsp; সে জন্য দেখা যায় অনেকে বিভিন্ন চাকুরী থেকে নির্বাচনে অংশ নেয়। যেমন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো একজন শিক্ষক থেকে রাজনীতিতে আসেন।&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p class="wp-block-paragraph">“অ্যারিস্টটলের মতে , গণতন্ত্র হলো&nbsp; সরকারের একটি জঘন্য রূপ, যেখানে অনেকে তাদের ক্ষমতাকে সাধারণের ভালোর জন্য নয় বরং তাদের নিজের জন্য ব্যবহার করে। “</p>



<p class="wp-block-paragraph">নজরুল ইসলাম</p>



<p class="wp-block-paragraph">টরন্টো</p>



<p class="wp-block-paragraph">জানুয়ারি, ২০২৩</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
