<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?><rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>Column &#8211; Probashi Kantho</title>
	<atom:link href="https://probashikantho.com/category/column/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>https://probashikantho.com</link>
	<description></description>
	<lastBuildDate>Sun, 03 May 2026 00:26:20 +0000</lastBuildDate>
	<language>en-US</language>
	<sy:updatePeriod>
	hourly	</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>
	1	</sy:updateFrequency>
	<generator>https://wordpress.org/?v=6.9.4</generator>

<image>
	<url>https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2021/04/thumbnail_thumbnail-150x150.jpg</url>
	<title>Column &#8211; Probashi Kantho</title>
	<link>https://probashikantho.com</link>
	<width>32</width>
	<height>32</height>
</image> 
	<item>
		<title>সৎ মানুষের খোঁজে</title>
		<link>https://probashikantho.com/2026/05/02/%e0%a6%b8%e0%a7%8e-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%b7%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%96%e0%a7%8b%e0%a6%81%e0%a6%9c%e0%a7%87/</link>
					<comments>https://probashikantho.com/2026/05/02/%e0%a6%b8%e0%a7%8e-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%b7%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%96%e0%a7%8b%e0%a6%81%e0%a6%9c%e0%a7%87/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 03 May 2026 00:26:19 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Column]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=12554</guid>

					<description><![CDATA[সাইদুল হোসেন (পূর্ব প্রকাশিতের পর) FOUND SOME MONEY YESTERDAY. IF YOU LOST SOME MONEY, AND CAN TELL ME HOW MUCH,]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p><strong>সাইদুল হোসেন</strong></p>



<p>(পূর্ব প্রকাশিতের পর)</p>



<p>FOUND SOME MONEY YESTERDAY. IF YOU LOST SOME MONEY, AND CAN TELL ME HOW MUCH, I WILL RETURN IT. IF NOT CLAIMED, I WILL PURCHASE SOME LOTTERY TICKETS WITH IT.</p>



<p>COME TO APT. # 108.</p>



<p>THANK YOU.</p>



<p>HOWARD</p>



<p>উপরের Noticeটা তিন দিন ধরে আমাদের কমিউনিটি বিল্ডিংয়ের একতলায় Notice Board -এ দু’টি board pin দিয়ে আটকানো ছিল। নোটিস দাতা Howard কে আমি চিনি। চমৎকার তার আচার-ব্যবহার।</p>



<p>গতকাল বিকালে আমাদের mail box check করতে নীচে গেলাম। দেখি আমার পরিচিত ভিয়েতনামীজ একজন রেসিডেন্ট এই নোটিসটাকে বোর্ড থেকে তুলে নিচ্ছে। জিজ্ঞাসা করলাম, “এটাকে তুমি তুলে নিচ্ছ কেন?”</p>



<p>সে বলল, “আমার ডলারগুলো আমি ফেরত পেয়েছি, তাই নোটিসটার প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়েছে।”</p>



<p>বললাম, “খুশী হলাম জেনে যে তুমি তোমার হারানো ডলারগুলো ফিরে পেয়েছ। হাওয়ার্ড খুব চমৎকার লোক, আমি তাকে চিনি।”</p>



<p>লোকটি তখন জানালো যে হাওয়ার্ডের ব্যবহারে সে মুগ্ধ। ডলারগুলোর সঠিক বর্ণনা দিতেই সে তার পার্সটা ডলারশুদ্ধ তার হাতে তুলে দিলো হাসিমুখে। সে খুব খুশী। গড ব্লেস হাওয়ার্ড।</p>



<p>ওর কথা শেষ হলে ওকে বললাম, “তোমার হাতের কাগজটা আমাকে দাও।”</p>



<p>সে জানতে চাইলো এটাকে দিয়ে আমি কি করবো। বললাম, “মানুষের সততার&nbsp; বিষয়ে এটাকে কেন্দ্র করে একটা গল্প লিখবো ম্যাগাজিনে পাবলিশ করার জন্য।”</p>



<p>অবাক বিষ্ময়ে সে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বলল, You? You a story writer? Wow! Happy to meet you. I read stories- Vietnamese- all my life but I never met a writer in my life before! Congratulations!”</p>



<p>তারপর কাগজটা আমার দিকে বাড়িয়ে ধরল। বলল, “এই নাও কাগজটা।”</p>



<p>ওকে ধন্যবাদ জানিয়ে কাগজটা হাতে নিয়ে ঘরে ফিরে এলাম।</p>



<p>সততার অপর একটি দৃষ্টান্ত</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full"><img fetchpriority="high" decoding="async" width="400" height="300" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/05/টি.jpg" alt="" class="wp-image-12555" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/05/টি.jpg 400w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/05/টি-300x225.jpg 300w" sizes="(max-width: 400px) 100vw, 400px" /><figcaption class="wp-element-caption">টিটিসি’র লস্ট আর্টিকেলস অফিস । ছবি : wheree.com</figcaption></figure>
</div>


<p>(আমার পুরানো ডায়েরী থেকে।)</p>



<p>২০০৪ সন। টরন্টোর নর্থ ইয়র্কে বাস করি স্বামীস্ত্রী আমরা দু’জন। বাসে-সাবওয়েতে চলাফেরা করি আমরা। মে মাসের ৩ তারিখে আমার স্ত্রী তার নানা ডকুমেন্টেস এবং নগদ ডলারে পূর্ণ Purseটা সাবওয়েতে সীটে ভুলক্রমে রেখে বাসায় চলে আসে। তাৎক্ষণিকভাবে TTC LOST ARTICLES Office এ ফোন করলাম। আমার বর্ণনা শেষ হলে অপর প্রান্ত থেকে মহিলাটি জানালো যে পরদিন Bay Subway station -এ ওদের অফিসে গিয়ে অনুসন্ধান করতে হবে।</p>



<p>পরদিন (৪ মে) আমরা স্বামীস্ত্রী দু’জন মিলে গেলাম সেই অফিসে। সেখানে কর্মরত মহিলাকে Purseটার description দিতেই সে একটা রুমের একটা বড় টেবিলের উপর রাখা সারিসারি Purse -এর দিকে ইশারা করে আমাদেরটা আছে কিনা check করতে বললো। দুরুদুরু বুকে দেখতে দেখতে আমাদেরটা পাওয়া গেল। সেটার ভেতরে check করে দেখা গেল যে সবকিছুই ঠিক আছে, কিছুই চুরি যায়নি। অবিশ্বাস্য রকম সততার উজ্জল দৃষ্টান্ত। Many thanks, TTC.</p>



<p>(ছয়)</p>



<p>ইগ্লা অক্ত লয়, আজা, ইগ্লা অং, অং</p>



<p>রংপুর জেলার গ্রামাঞ্চলে চাকরি জীবনের প্রাথমিক পাঁচটি বছর কাটাতে হয়েছিল আমাকে (১৯৫৬-১৯৬১ সন)। লক্ষ্য করেছি সেখানে “বাহে” কথাটার সর্বত্র প্রচলন : কুটি যাচ্ছেন বাহে? (কোথায় যাচ্ছেন?); কি খালেন বাহে? (কি খেয়েছেন?); কি করিচ্ছেন বাহে? (কি করছেন?) ইত্যাদি।</p>



<p>অপর যে বিষয়টি আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করতো তা হলো : ওরা ‘র’-কে বলতো ‘অ’; “ন”-কে বলতো “ল”। কিছু দৃষ্টান্ত দিচ্ছি।</p>



<p>রক্ত &#8211; অক্ত; রবিবার &#8211; অবিবার; নয় &#8211; লয়; আমি/আমার বলতে ওরা বলতো হামি/হামার; ইত্যাদি। ফলে রোজা &#8211; রমজান হতো ওজা &#8211; অমজান; রশিদ/রউফ/রস/রাগ হতো অশিদ/ওফ/অস/আগ। রেল গাড়ি হতো “এলগাড়ি”। রাজাকে “আজা” এবং রাণীকে “আনি” উচ্চারণ করা হতো। শব্দের এমন উচ্চারণ বৈচিত্র্য নিয়ে একটা রসিকতাও শুনেছিলাম সেই কালে। ডায়ালগ (dialogue) টা ছিল এরকম :</p>



<p>Stage -এ নাটক আভিনীত হচ্ছে। রাজকীয় পোশাক পরে রাজা সিংহাসনে বসে আছেন, এমন সময় Stage -এ সুসজ্জিতা রাণী প্রবেশ করলেন। রাজা লক্ষ্য করলেন যে রাণীর মুখে ও কপালে এখানেওখানে লাল রংয়ের ছোপ। শংকিত কণ্ঠে রাজা জিজ্ঞাসা করলেন, “আনী, আনী, তোমার মুখে-কপালে এত অক্ত কেন?”</p>



<p>রাজাকে অভয় দিয়ে রাণী জবাব দিলেন, “ভয় পাবেন না আজা। ইগ্লা অক্ত লয়, ইগ্লা অং, অং।”</p>



<p>(অর্থাৎ ওগুলো রক্ত নয়, লাল রং মাত্র। ভয়ের কিছু নেই।)</p>



<p>(সাত)</p>



<p>মানুষের মনের উপর রংয়ের প্রভাব</p>



<p>মনের উপর রংয়ের প্রভাবের একটা বাস্তব প্রমাণ পেলাম আজ।</p>



<p>আমাদের ডাইনিং টেবিলটাই আমার রাইটিং টেবিল, ওটাতে বসেই আমি প্রতিদিন আমার সব লেখালেখি করে থাকি।</p>



<p>৩-৪ দিন আগে সেই ডাইনিং টেবিলের উপর বিছানো সাদা রংয়ের টেবিল ক্লথটা বদলে নূতন একটা টেবিল ক্লথ বিছানো হলো। রংটা তার pink, দেখতে বেশ আকর্ষণীয়। কিন্তু তারপর থেকে আমি পড়ে গেলাম জটিল এক সমস্যায়। কি সেই সমস্যা?</p>



<p>সমস্যাটা হলো যে সেই pink টেবিল ক্লথটার দিকে তাকালেই চোখে একটা অস্বস্তি (irritation), একটা জ্বালা (burning) অনুভব করি, চোখ দিয়ে পানি পড়তে শুরু করে। মনটা বিষন্ন হয়ে পড়ে। সেই অনুভূতিটা আরো তীব্রতা লাভ করে যখন দীর্ঘক্ষণ ধরে সেই টেবিলে বসে লেখালেখি করি। চোখে ঝাপসা দেখি, বারবার টিস্যু পেপার দিয়ে চোখ মুছতে হয়।</p>



<p>বিরাট সমস্যা। এর সমাধান কি?</p>



<p>আমার পরিবর্তিত অনুভূতিগুলো বাস্তব না কল্পনা সেটা পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে আজ সকালে সেই pink table cloth টা সরিয়ে আগের white table clothটা আবার বিছানো হলো। আমি আবার লিখতে বসলাম। এবং কি আশ্চর্য! সেই সাদা রংয়ের প্রভাবে অল্পক্ষণ পর থেকেই আমার সব জ্বালা ও অস্বস্তি ধীরেধীরে দূর হতে লাগলো, আমি আমার স্বাভাবিক অনুভুতিগুলো ফিরে পেতে লাগলাম এবং এক সময় ভুলে গেলাম আমার সেই কষ্টগুলোকে!</p>



<p>Everything back to normal. Strange!</p>



<p>(আট)</p>



<p>শাবাশ, ভাগ্নে আমার!</p>



<p>আমার এক ভাগ্নে আছে। সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। টরন্টোতে বড় একটা কন্স্ট্রাকশান কোম্পানীতে সুনামের সংগে কাজ করছে। গত ২০২৪-এর নভেম্বর মাসের কোন এক তারিখে সকালবেলা ফোন পেলাম সেই ভাগ্নের কাছ থেকে। ভাগ্নে আমাকে জানালো, “মামা, সুখবর আছে, বলছি শুনুন।”</p>



<p>১.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; আমার চাকরির ২০ বছর পূর্ণ হয়েছে গতমাসে। সেই উপলক্ষে গতকাল আমার কোম্পানী ম্যানেজমেন্ট একটা রিসেপশনের আয়োজন করেছিল।</p>



<p>২.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; উপস্থিত সবার সামনে আমাকে একটা APPRECIATION NOTE দিয়েছে। আমার efficiency, sincerity and devotion to work and loyalty to the company’র উচ্চ প্রশংসা করেছে।</p>



<p>৩.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; ক্যাশ বোনাস দিয়েছে চার হাজার ডলার।</p>



<p>৪.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; আমাদের কোম্পেনীর ৩৫০ জন কন্স্ট্রাকশান, টেকনিক্যাল, এডমিনিস্ট্রেটিভ, ফিনান্স এন্ড একাউনটিং এমপ্লোয়ির মাঝে সিনিয়রিটি লিস্টে আমার স্থান এখন ২৫তম।</p>



<p>৫.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; ম্যানেজমেন্ট নিশ্চয়তা দান করেছে যে আমার ভবিষ্যৎ খুবই উজ্জল।</p>



<p>শুনে খুব খুশী লাগলো। আল্লাহর কাছে ওর এবং ওর পরিবারের উপর রহমতের জন্য দু’আ করলাম।</p>



<p>এবার অন্য প্রসংগ।</p>



<p>ভাগ্নের বাড়ি ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া শহরে। ওর স্ত্রী সিলেটি মেয়ে। বড়ই মিষ্টি স্বভাব ও আচার-ব্যবহার। ওরা সুযোগ পেলেই আমাদের বাসায় বেড়াতে আসে। ওরা মামা-মামীকে আন্তরিকভাবে ভালোবাসে। ওদের দুই ছেলে। ওরাও আমাদেরকে ভালোবাসে।</p>



<p>ভাগ্নেবৌকে একদিন জিজ্ঞাসা করলাম, তুমি তো সিলেটি ফুরি (সিলেটি মেয়ে)। তুমি এখনো তোমাদের সিলেটি মাৎ মাতনি? (তুমি এখনো সিলেটি ভাষায় কথা বল কি?)</p>



<p>হেসে দিয়ে সে বললো, “না মামা, আর মাতি না (অর্থাৎ আর বলি না।) আপনার ভাগ্নের সংগে বিয়ে হওয়ার পর থেকে তো আমি “বেংগলী” হয়ে গেছি! এখন আমি আপনাদের মত “বেংগলী” মাতি (বাংলা ভাষায় কথা বলি।) (চলবে)</p>



<p>সাইদুল হোসেন<br>মিসিসাগা</p>



<p></p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://probashikantho.com/2026/05/02/%e0%a6%b8%e0%a7%8e-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%b7%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%96%e0%a7%8b%e0%a6%81%e0%a6%9c%e0%a7%87/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>বিশ্বে যুদ্ধবিগ্রহ ও  নিরাপত্তাহীনতা</title>
		<link>https://probashikantho.com/2026/05/02/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a7%87-%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b9-%e0%a6%93-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0/</link>
					<comments>https://probashikantho.com/2026/05/02/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a7%87-%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b9-%e0%a6%93-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0/#respond</comments>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 03 May 2026 00:18:44 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Column]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=12551</guid>

					<description><![CDATA[নজরুল ইসলাম (পূর্ব প্রকাশিতের পর) যুগে যুগে পৃথিবীতে বিশেষ মেধা নিয়ে কিছু মানুষ এসেছে&#160;যাদের সৎ ও একনিষ্ঠ প্রচেষ্টার &#160; মাধ্যমে&#160;জাতিকে]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p><strong>নজরুল ইসলাম</strong></p>



<p>(পূর্ব প্রকাশিতের পর)</p>



<p>যুগে যুগে পৃথিবীতে বিশেষ মেধা নিয়ে কিছু মানুষ এসেছে&nbsp;যাদের সৎ ও একনিষ্ঠ প্রচেষ্টার &nbsp; মাধ্যমে&nbsp;জাতিকে আলোর পথ দেখিয়েছে।&nbsp;এ সব মানুষ মরেও অমর; এরা মানুষের মাঝে চিরস্মরণীয় হয়ে বেঁচে আছে&nbsp;এবং ইতিহাস থেকে এদের নাম কখনও মুছে ফেলা যায় না। আবার কিছু নেতার ভুল সিদ্ধান্ত ও&nbsp;ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে&nbsp;জাতি বা গোষ্ঠী সীমাহীন দুঃখ কষ্ট&nbsp;পায়; এদের নাম&nbsp;ও কুখ্যাত ব্যক্তিদের খাতায় লেখা থাকে। কোনো নেতা বা নেতাদের&nbsp;ক্ষমতার লোভ, দুর্নীতি,অত্যাচার, ভুল সিদ্ধান্তে যে কোনো জাতিকে বিপথে&nbsp;পরিচালিত&nbsp;করে। নেতার সৎ চিন্তা ও সৎ কাজের মাধ্যমে দেশের মানুষের মুখে হাঁসি ফোটে।&nbsp;</p>



<p>এশিয়া এবং আফ্রিকার&nbsp;অনেক দেশেই লাখ লাখ মানুষ যুদ্ধবিগ্রহে নিরাপত্তাহীনতায় তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ এবং বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের মতো পরিস্থিতি দুটি উদাহরণ মাত্র। সুদানের সংঘাতের কারণে দেশটির অভ্যন্তরে ৩৪ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। যারা সুদান থেকে পালিয়ে গেছে তারা মিশর, লিবিয়া, চাদ, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, এবং ইথিওপিয়াসহ এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশে আশ্রয়হীন অবস্থায় রয়েছে।&nbsp;&nbsp;</p>



<p><strong>নিম্নে লিবিয়ায় মুয়াম্মর গাদ্দাফির সময়ের পরিস্থিতি নিয়ে কিছু আলোচনা করা হলো : </strong></p>



<p>১৯৬৯ সনে লিবিয়ার নেতা কর্নেল মুয়াম্মর গাদ্দাফি&nbsp;তাঁর দেশের রাজতন্ত্র বিলোপ করে ক্ষমতায় এসেছিলেন; সে সময় এই মরুভূমি দেশের লোকসংখ্যা মাত্র&nbsp;২ মিলিয়ন ছিল। তিনি লিবিয়াকে&nbsp;৪২ বৎসর নেতৃত্ব দিয়ে&nbsp;একটা ধনী দেশ করেছিলেন, যার ৯০% সাহারা&nbsp;মরুভূমি। ১৯৬৯ সনে&nbsp; মাথাপিছু আয় ছিল&nbsp;১,০১৮ ডলার এবং তাঁর সময় মাথাপিছু আয়&nbsp;১১,০০০&nbsp;ডলার । লিবিয়াকে আফ্রিকার মধ্যে একটি উন্নয়নশীল&nbsp;দেশ বলা হতো। পৃথিবীর অনেক দেশ থেকে ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার ও বিভিন্ন পেশার লোক ওই দেশে কাজ করে দেশে রেমিটেন্স পাঠাতো। আমাদের বাংলাদেশ থেকে ও বিভিন্ন পেশার লোক এই দেশে বহুদিন কাজ করেছে।&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full is-resized"><img decoding="async" width="400" height="327" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/05/গা.jpg" alt="" class="wp-image-12552" style="aspect-ratio:1.2232522578487122;width:418px;height:auto" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/05/গা.jpg 400w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/05/গা-300x245.jpg 300w" sizes="(max-width: 400px) 100vw, 400px" /><figcaption class="wp-element-caption"><br>লিবিয়ার প্রয়াত নেতা কর্নেল মুয়াম্মর গাদ্দাফি। ছবি : ইসমাইল জিতুনি &#8211; রয়টার্স</figcaption></figure>
</div>


<p>গাদ্দাফি তাঁর এই দীর্ঘ শাসনামলে দেশে অনেক কাজ করেছেন: তন্মধ্যে ” মানবসৃষ্ট মহান নদী (Great man made river) বৃহত্তর কাজ, যাকে বলা হয় পাইপের নেটওয়ার্ক, মরুভূমির দেশ&nbsp; লিবিয়া জুড়ে&nbsp;জল সরবরাহ করেছেন । ১৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ&nbsp;মরুভূমি অতিক্রম করে,দেশের মিঠা পানি ৭০% জনগণের চাহিদা পূরণ করেছেন ।</p>



<p>১৯৬৯ সাল থেকে ২০১১ সালের শুরু পর্যন্ত, লিবিয়ার রাজনীতি কার্যত মুয়াম্মার গাদ্দাফি দ্বারা&nbsp; পরিচালিত হয়েছিল। গাদ্দাফি ১৯৫১-পরবর্তী লিবিয়ার সংবিধান বিলুপ্ত করেন এবং ১৯৭০-এর দশকে প্রকাশিত তার সবুজ বইয়ের(Green book) উপর ভিত্তি করে তার নিজস্ব রাজনৈতিক দর্শন প্রবর্তন করেন। তাঁর রাজনীতির মতাদর্শ এই বইতে দেখানো হয়েছিল এবং যা স্কুল ,কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হতো। লিবিয়ার রাজনৈতিক ব্যবস্থা তত্ত্বগতভাবে গাদ্দাফির&nbsp; গ্রিন বইয়ের রাজনৈতিক দর্শনের উপর ভিত্তি করে তৈরি, যা সমাজতান্ত্রিক ও ইসলামি তত্ত্বগুলিকে একত্রিত করে এবং সংসদীয় গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক দলগুলিকে প্রত্যাখ্যান করে এক নায়কত্ব শাসন ব্যবস্থা চালু করেন।&nbsp;&nbsp;</p>



<p>লিবিয়া ১৯৬১ সনে তেল উৎপাদন&nbsp;শুরু করে&nbsp;এবং ১৯৬৫ সালের মধ্যে লিবিয়া বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম তেল রফতানিকারক দেশ হিসাবে পরিচিতি লাভ করে ।&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>গাদ্দাফির আমলে কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ বা ভিন্ন মতাদর্শের কোনো রাজনৈতিক দল তাঁর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারে নি।&nbsp;তিনি এক নায়কত্ব কায়েম করে দেশ পরিচালনা করেন। তবে তাঁর শাসনামলে দেশের লোক শান্তিতে ছিল। মানুষের বাক স্বাধীনতা না থাকলে,শুধু খেয়েদেয়ে ভালো থাকলেই সুখী হয় না। গণতন্ত্রের মাধ্যমে একটা জাতি মত প্রকাশের স্বাধীনতা পায়,আর এই স্বাধীনতা না থাকলে, নিজ দেশে জনগণ পরাধীন।&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে কেন হত্যা করা হয়েছিল?&nbsp;বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তার উত্তরাধিকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে এবং অনেকে ভাবছে যে তিনি একজন স্বৈরশাসক&nbsp;ছিলেন, দেশের লোক তাঁর বিরুদ্ধে কথা বলার অধিকার ছিল না।&nbsp;যারাই তাঁর বিরুদ্ধে কথা বলতে গেছে,তারাই জেল,ফাঁসির স্বীকার হতে হয়েছে।&nbsp;</p>



<p>আবার অনেকের মতে&nbsp;মুয়াম্মার গাদ্দাফি একজন সত্যিকারের আফ্রিকান হিরো ছিলেন, আফ্রিকান অখণ্ডতার রক্ষক এবং আফ্রিকান ঐক্যের যোদ্ধা ছিলেন। আফ্রিকা রাতারাতি উন্নত দেশগুলির কাতারে চলে আসবে এটা অনেক দেশ সহ্য করতে পারতো না।&nbsp;তবে আর যাই হোক না কেন, দেশের মানুষের বাক স্বাধীনতা ছিল না ।&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>ব্রিটিশ শাসন শেষ হওয়ার প্রাক্কালে প্যালেস্টাইন ভূখণ্ডকে ইসরাইল (ইহুদি)রাষ্ট্র হিসাবে মে ১৪,১৯৪৮ ঘোষণা করে; প্যালেস্টাইনের নেতা ইয়াসির আরাফাত ও প্যালেসটিন বিতাড়িত মুসলমান এই রাষ্ট্রের বিরোধিতা করে;সে সময় আরাফাতকে&nbsp;সন্ত্রাসী হিসাবে পশ্চিমা দেশগুলি চিহ্নিত করা হতো। যেহেতু মুয়াম্মর গাদ্দাফি ইয়াসার আরাফাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছিলেন, তাই তাঁকে&nbsp; ও সন্ত্রাসী হিসাবে ধরা হতো। ১৯৮৬ সনে আমেরিকা গাদ্দাফিকে শাস্তি দেয়ার জন্য তাঁর রাজপ্রাসাদ আক্রমণ করে। গাদ্দাফি প্যালেস্টাইন এর ইয়াসির&nbsp;আরাফাতকে আর্থিক সহযোগিতা ও&nbsp; সমর্থন করতেন যা পশ্চিমা দেশগুলি এক সময় পছন্দ করতো না। আরাফাত ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্যালেস্টাইন জনগণের দাবি নিয়ে সারা জীবনই সংগ্রাম করেছেন। আরাফাত পশ্চিমা বিশ্বে একজন বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন এবং পশ্চিমা দেশগুলির সাথে তার সম্পর্ক প্রায়শঃই &nbsp;উত্তেজনাপূর্ণ ছিল;এর অন্যতম কারণ ছিল পশ্চিমা বিশ্বের দৃষ্টিতে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা।&nbsp;এই একই কারণে গাদ্দাফি ও পশ্চিমা দেশগুলির নিকট সন্ত্রাসী বলে সমালোচিত ব্যক্তি ছিলেন। দেশের জনগণের জন্য গাদ্দাফি অনেক ভালো কাজ করেছিলেন ; অনেকের ধারণা&nbsp; গাদ্দাফির&nbsp;এ ভাবে মৃত্যু দেশের জন্য ভালো কিছু নিয়ে আসে নি; বরং ওর মৃত্যুতে দেশে বিশৃঙ্খলতা এনেছে। গাদ্দাফি ৪২ বৎসর লিবিয়া তে স্বৈরতান্ত্রিক সরকার পরিচালনা করলে ও অনেক জনহিতকর কাজ করেছে।&nbsp;&nbsp;</p>



<p><strong>নিম্নে মুয়াম্মর গাদ্দাফির কিছু ভালো কাজের বিশ্লেষণ করা হলো :</strong></p>



<p>১ )&nbsp;মুয়াম্মর গাদ্দাফির সময়&nbsp;লিবিয়ার জনগণ কোনও বিদ্যুৎ বিল দিতে হতো না,&nbsp; সমস্ত নাগরিকের জন্য বিদ্যুৎ বিনামূল্যে দেয়া হতো।&nbsp;&nbsp;</p>



<p>২ ) লিবিয়ার ব্যাংকগুলি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এবং দেশের&nbsp; সমস্ত নাগরিককে দেওয়া ঋণ আইন দ্বারা 0% সুদে দেওয়া হতো । ঋণের টাকা সহজ কিস্তিতে আদায় করা হতো এবং কেউ অপারগ হলে রাষ্ট্র মাফ করে দিতো।&nbsp;&nbsp;</p>



<p>৩) লিবিয়ায়&nbsp;বাসস্থানকে একটি মানবাধিকার হিসাবে বিবেচনা করা হত, এবং কার্যত কোনও গৃহহীন লিবীয় রাস্তাঘাটে বা আশ্রয়হীন ছিল না।&nbsp;গাদ্দাফির অধীনে লিবিয়া পুরোপুরি নারকীয় ছিল না, যেমনটি বিশ্বকে বিশ্বাস করতে বাধ্য করা হয়েছে এবং বাক স্বাধীনতা না থাকলে ও নাগরিকদের জীবনযাত্রার উচ্চ মান ছিল। গাদ্দাফি অঙ্গীকার করেছিলেন যে ” লিবিয়ার প্রত্যেকের কাছে একটি বাড়ি না থাকা পর্যন্ত তাঁর বাবা-মা একটি বাড়ি পাবেন না। ”&nbsp;</p>



<p>৪) লিবিয়ার প্রতিটি&nbsp;নব-দম্পতিকে&nbsp;প্রথম অ্যাপার্টমেন্ট কেনার জন্য সরকার&nbsp; বিনা শর্তে&nbsp; ৫০,০০০ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ&nbsp; লিবিয়ান মুদ্রা অনুদান দেওয়া হতো ।</p>



<p>৫) লিবিয়ায় প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা&nbsp; বিনামূল্যে দেয়া হতো । গাদ্দাফি ক্ষমতায় আসার পূর্বে&nbsp; লিবিয়ার মাত্র ২৫ শতাংশ মানুষ লেখাপড়া জানতো। গাদ্দাফি এই শিক্ষা ব্যবস্থাকে সার্বজনীন করে দেয়ার ফলে বর্তমানে এ হার দাঁড়িয়েছে ৮৩ শতাংশে। যদি নাগরিকরা লিবিয়ায় তাদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা বা সুবিধা না পায়, সে ক্ষেত্রে&nbsp; সরকার তাদের বিদেশে যাওয়ার জন্য অর্থায়ন করতো । দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নত দেশের সঙ্গে তুলনা করে গাদ্দাফি তাঁর দেশের ছেলেমেয়েদের বিদেশে পাঠিয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশে&nbsp; এনে কাজে লাগিয়ে&nbsp; দেশকে উন্নয়নমুখী করে নিয়েছিলেন।&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>৬) গাদ্দাফির সময় লিবিয়ানরা কৃষিকাজ প্রাধান্য দিয়ে উৎপাদনের নিমিত্তে খামার জমি, সরঞ্জাম, বীজ এবং গবাদি পশু খরিদ করার জন্য সরকারের কাছ থেকে বিনামূল্যে অর্থ পেতেন।</p>



<p>৭)&nbsp; লিবিয়ানরা তাঁর সময়&nbsp;বিনামূল্যে চিকিৎসার&nbsp;সুবিধা পেতো, যাতে দেশের মানুষ সু-চিকিৎসা পায় ; দুরারোগ্য চিকিৎসার জন্য সাধারণ মানুষকে সরকারি খরচে বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করানোর সুবিধা দেয়া হতো ।&nbsp;&nbsp;</p>



<p>৮) গাদ্দাফির সময়&nbsp;যদি কোনো লিবিয়ান গাড়ি খরিদ করতো,&nbsp;সরকার&nbsp;দামের ৫০ শতাংশ ভর্তুকি দেয়ার নিয়ম ছিল।</p>



<p>৯) লিবিয়ায় কোনো গাড়ির মালিক পেট্রোলের জন্য কিছুই দিতে হতো না,যার যা খুশি&nbsp; বিনা মূল্যে ব্যবহার করতে পারতো।&nbsp;&nbsp;</p>



<p>১০) গাদ্দাফির&nbsp;সময়&nbsp; লিবিয়ার কোন বৈদেশিক ঋণ ছিল না এবং দেশের&nbsp; রিজার্ভের পরিমাণ ১৫০ বিলিয়ন ডলার যা বর্তমানে বিদেশি ব্যাংকে হিমায়িত।</p>



<p>১১ ) যদি কোনও লিবিয়ান পড়াশুনার শেষে&nbsp; চাকরি পেতে অক্ষম হতো, রাষ্ট্র&nbsp;বেকারত্ব ভাতা&nbsp; প্রদান করতো যে পর্যন্ত&nbsp;কর্মসংস্থান না হয়।&nbsp;&nbsp;</p>



<p>১২ ) লিবিয়ার তেল বিক্রয়ের একটি অংশ সরাসরি সমস্ত লিবিয়ার নাগরিকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হতো যাতে জনগণ পরিবার নিয়ে সুখে থাকতে পারে।&nbsp;&nbsp;</p>



<p>১৩) গাদ্দাফির সময় সন্তান জন্ম দানকারী&nbsp;মা&nbsp;মাতৃত্বকালীন ভাতা ৫,০০০ মার্কিন ডলারের সম-পরিমাণ&nbsp;লিবিয়ান মুদ্রা&nbsp;পেতেন।&nbsp;&nbsp;</p>



<p>অনেকের মতে গাদ্দাফি আফ্রিকার একজন সেরা নেতা ছিলেন। দেশের মানুষের জন্য এত কিছু করার পর ও দেশের লোক কেন তাঁকে পছন্দ করতেন না ? কিছু&nbsp;কারণ&nbsp; নিম্নে বর্ণনা করা হলো :</p>



<p>১ ) লিবিয়ার বিপ্লবকারীদের মতে গাদ্দাফি একজন স্বৈরাচারী নেতা ছিলেন।&nbsp;কেউ তাঁর সমালোচনা করুক তা তিনি পছন্দ করতেন না। ১৯৭৪ সালের ৯ নভেম্বর এক ভাষণে গাদ্দাফি বলেছিলেন- “আমি যে কোনো মুহূর্তে তাদের গণআদালতে পাঠাতে পারি; গণআদালত&nbsp;আইনের উপর ভিত্তি করে মৃত্যুদণ্ড জারি করবে, যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী রাজনৈতিক দল গঠন করে, তার বা তাদের ভাগ্যে মৃত্যুদণ্ড ”।&nbsp;লিবিয়ার জনগণের বাকস্বাধীনতা ছিল না,অপরদিকে আরব বিশ্বের জনগণ আজকাল রাজতন্ত্র বা স্বৈরাচারী সরকার চায় না। তারা দুনিয়ার সবার মতো স্বাধীন হতে চায়।&nbsp;১৯৭৬ সালে গাদ্দাফির বিরুদ্ধে ব্যর্থ অভ্যুত্থানের ফলে বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক এবং কিছু&nbsp;সরকারি কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেন।&nbsp;</p>



<p>২ )&nbsp;১৯৮৪ সালের মে মাসে দেশের ব্যর্থ অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার ফলে হাজার হাজার লোককে কারারুদ্ধ করা হয় এবং বহু লোককে&nbsp;মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।&nbsp;&nbsp;</p>



<p>৩) অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতে, লিবিয়া সরকার “গণ নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও আটক, “গুম”, নির্যাতন এবং মৃত্যুদণ্ড” চালু করেছিল। দেশে কেউ&nbsp;গাদ্দাফির বিরুদ্ধে কোনো রকম সমালোচনা করলে তাকে বা তাদেরকে চরম মূল্য&nbsp; দিতে হতো।&nbsp;&nbsp;</p>



<p>৪&nbsp; )&nbsp;১৯৯৬ সালের গণহত্যা : মুয়াম্মর গাদ্দাফি দেশের আবু সেলিম কারাগারে ১২০০ জন কয়েদি বিনা কারণে হত্যা করে&nbsp;এবং তার খবর নিজ নিজ পরিবারকে সময়মতো জানানো হয় নি, এবং এই হত্যাকাণ্ড সে সময় সরকার অস্বীকার করেছে ।</p>



<p>অবশেষে ২০০৪ সালের এপ্রিলে গাদ্দাফি স্বয়ং বলেছিলেন যে সেখানে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এবং বন্দীদের পরিবারের কী ঘটেছে তা জানার অধিকার রয়েছে। কিন্তু কিভাবে কারাগারের&nbsp;এত এত লোক হত্যা করা হয়েছিল, ঘটনার কোনও আনুষ্ঠানিক বিবরণ পাওয়া যায়নি।&nbsp;</p>



<p>দেশের&nbsp; জনগণ&nbsp;: মুয়াম্মর গাদ্দাফি এবং তাঁর সরকারের স্বৈরতান্ত্রিক কার্যকলাপের দরুন অতিষ্ঠ হয়ে বিপ্লব করে শেষ পর্যন্ত তাঁকে হত্যা করে। ইতিহাসে এই জাতীয় হত্যাকাণ্ড বিরল।&nbsp;&nbsp;</p>



<p>লিবিয়ার গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরে মুয়াম্মার গাদ্দাফির সশস্ত্র বাহিনী বহুদিক থেকে দেশের জনগণের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব লঙ্ঘনের মধ্যে রয়েছে বিচারবহির্ভূত হত্যা, জাতিগত নিধন&nbsp;এবং বেসামরিক নাগরিকদের ওপর বোমা হামলা।</p>



<p>অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে “আল-গাদ্দাফি বাহিনী যুদ্ধাপরাধ এবং গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন সহ আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন করেছে, যা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের দিকে ইঙ্গিত করে। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে অসংখ্য নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীকে হত্যা ও আহত করেছে; প্রতিপক্ষ ও সমালোচকদের জোরপূর্বক গুম ও নির্যাতন&nbsp; এবং নির্বিচারে অসংখ্য বেসামরিক নাগরিককে আটক করেছে।&nbsp;&nbsp;</p>



<p>তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা&nbsp; না থাকার দরুন অনেক দেশে-ই&nbsp;সময় সময় গণ-&nbsp;বিপ্লব দেখা দিয়ে থাকে; এ বিপ্লবকে নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে সরকার ভাড়াটিয়া বাহিনী লেলিয়ে দিয়ে গণহত্যার মতো জঘন্য কাজ করে এবং অতীতে যে ভালো কাজটুকু করে, তাও মুছে যায়। বিপ্লবের ফলে নিরীহ জনগণের দুঃখ দুর্দশা চরমে পৌঁছে।&nbsp;এ ভাবেই পৃথিবীর গরিব দেশগুলির জনগণ দিনের পর দিন না খেয়ে&nbsp;এবং বেঁচে থাকার তাগিদে&nbsp; অন্য দেশে আশ্রয় নিয়ে চরম দুর্দশায়&nbsp;বৎসরের পর বৎসর ভোগে।&nbsp;&nbsp;</p>



<p>ত্রুটিপূর্ণ শাসন ব্যবস্থা এবং স্বার্থান্বেষী শাসক গোষ্ঠীর কারণে আফ্রিকা, এশিয়া এবং ইউরোপের উদ্‌বাস্তু সমস্যা দিনের পর দিন বেড়ে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা মুসলিম শত শত বৎসর মিয়ানমারের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও &nbsp;ওখানকার নাগরিকত্ব পায় নি; সামরিক সরকার এক মিলিয়নের উপর রোহিঙ্গা মুসলিম বে-আইনি ভাবে&nbsp;বাংলাদেশে&nbsp;পাঠিয়ে উদ্‌বাস্তু সমস্যার সৃষ্টি করেছে।&nbsp;জাতিসংঘ, ইউরোপ, আমেরিকার ও অন্যান্য দেশগুলি এগিয়ে এসে স্থায়ী&nbsp;সমাধান করে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাবে&nbsp; বলে আশা করছি।&nbsp;&nbsp;</p>
]]></content:encoded>
					
					<wfw:commentRss>https://probashikantho.com/2026/05/02/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a7%87-%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b9-%e0%a6%93-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0/feed/</wfw:commentRss>
			<slash:comments>0</slash:comments>
		
		
			</item>
		<item>
		<title>স্মৃতির মিছিল</title>
		<link>https://probashikantho.com/2026/04/05/%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%9b%e0%a6%bf%e0%a6%b2/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 05 Apr 2026 19:07:14 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Column]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=12492</guid>

					<description><![CDATA[সাইদুল হোসেন (পূর্ব প্রকাশিতের পর) বহু কথা-ই বলেছি ইতিপূর্বে কিন্তু বহু কথা-ই বলা হয়নি। ঘটনাবহুল সুদীর্ঘ জীবন আমার। কিছু না-বলা]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p><strong>সাইদুল হোসেন</strong></p>



<p>(পূর্ব প্রকাশিতের পর)</p>



<p>বহু কথা-ই বলেছি ইতিপূর্বে কিন্তু বহু কথা-ই বলা হয়নি। ঘটনাবহুল সুদীর্ঘ জীবন আমার। কিছু না-বলা কথার স্মৃতিচারণ করছি এখানে একে একে।</p>



<p>(এক)</p>



<p><strong>Remember who is the boss. OK?</strong></p>



<p>মার্চ ২৫, ২০২৫</p>



<p>আজ আমার জন্মবার্ষিকী। ৯২ বছর পূর্ণ হলো। ৯৩-তে পা রাখলাম। দীর্ঘ জীবন শুধু নয়, সুদীর্ঘ জীবন লাভ করেছি আমি। অথচ আমার বাবা মারা গেলেন ১৯৫৫ সনে, বয়স হয়েছিল তাঁর মাত্র ৪৭ বছর। গলায় ক্যানসারের আক্রমণে অকাল মৃত্যু। আমার বয়স এখন তার দ্বিগুণ।</p>



<p>আমার জন্ম এমন এক গ্রামে (১৯৩৩ সন) যেখানে ক্লাস সিক্স পর্যন্ত পড়ার উপযুক্ত একটা তখনকার দিনের Middle High School ছিল। ঐ এলাকার একমাত্র উচ্চ&nbsp; শিক্ষার স্কুল যদিও সেটা ক্লাস টেন পর্যন্ত পড়ার High School ছিল না। বহু দূরের গ্রাম থেকে ছেলেরা সেই স্কুলে পড়তে আসতো- শুকনার দিনে পায়ে হেঁটে, বর্ষাকালে নিজেরাই নৌকা বেয়ে। হিন্দু-মুসলিম দুই-ই, সবাই ছিল কৃষকের সন্তান। দেখতে বেশ বড়সড়। বেশী বয়সী। ওদের মাবাবা ওদের পড়তে পাঠাতো স্কুলের পাঠ শেষ করে শিক্ষিতদের দলে নাম লিখিয়ে তাদের ছেলেরা গ্রামের/সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি হিসাবে সমাদৃত হওয়ার আকাংখা নিয়ে।</p>



<p>অপর উদ্দেশ্য ছিল বিয়ের সময় শিক্ষিত পাত্র হিসাবে পাত্রীপক্ষ থেকে অধিক পরিমাণ যৌতুক আদায় করা। স্পষ্ট মনে পড়ে যে ১৯৪৫-এ যখন আমি ক্লাস সিক্সে পড়ি (বয়স আমার মাত্র ১২ বছর) তখন আমাদের সহপাঠী আমাদেরই গ্রামের ছেলে আবুল হাসেম (আমার চেয়ে বয়সে অনেক বড়) বিয়ে করে আমাদের ক্লাসে হৈচৈ বাঁধিয়ে দিয়েছিল। বিয়ের পর মেহেন্দিমাখা হাত নিয়ে সলজ্জমুখে একদিন ক্লাসে এসেছিল সে। বিয়ের কারণ হিসাবে বলল যে তার দাদাদাদী নাতি বৌয়ের মুখ দেখতে চান। তাদের পছন্দেরই কনে। তাই এই বিয়ে। এই ছিল ওর শেষ ক্লাসে আসা, অতঃপর আবুল হাশেম আর স্কুলমুখো হয়নি।</p>



<p>গ্রামের স্কুলের পড়া শেষ করে ১৯৪৬ সনে ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া শহরে গিয়ে সেখানে এক হাই স্কুলে ভর্তি হলাম। সেখানেও দেখলাম একই দৃশ্য, আমার চেয়ে অধিক বয়সের ছেলেরা ছিল আমার সহপাঠী।</p>



<p>কেন জানি না আজ সকালে এই প্রশ্নটা মনে জেগে উঠলো ঃ অতীতের আমার সেই সব স্কুল সহপাঠীদের মাঝে কেউ আজো বেঁচে আছে কি কোথাও? কিন্তু কে জবাব দেবে?</p>



<p>তবে না থাকলেই আমি খুশী হবো। খুশী হবো এই জন্য যে ওরা আমার মত অতিবার্ধক্যের নিত্য যাতনা থেকে মুক্তি পেয়েছে।</p>



<p>এবার দৃশ্যান্তরে যাই।</p>



<p>বর্তমানে আমরা স্বামীস্ত্রী সরকারী যে সিনিয়র সিটিজেনস রেসিডেন্স্ বিল্ডিংয়ে বাস করি সেখানে প্রচুর পরিমাণ রেসিডেন্ট আছে যাদের বয়স ৯০-১০০ বছর। এরা সবাই হোয়াইট ক্যানাডিয়ান্স, সবাই walker -এর উপর নির্ভরশীল।</p>



<p>বছর দু’য়েক আগে এক গরমের দিনের বিকালে আমরা কয়েকজন বিল্ডিংয়ের সামনে বড় একটা বকুল ফুল গাছের তলায় নিজেদের walker -এ বসে গল্প করছিলাম। এক পর্যায়ে আমার সামনে তার walker -এর সীটে বসা আইরিন অতি জীর্ণ-শীর্ণ হাড্ডি-চর্মসার এক হোয়াইট মহিলা রেসিডেন্ট আমাকে প্রশ্ন করলো :</p>



<p>“How old are you, Sayed?”</p>



<p>বললাম, “90 years.”</p>



<p>জবাবে বললো, Only 90? I’m 96, six years your senior. Remember who is the boss. OK?”</p>



<p>হেসে বললাম, “Sure”</p>



<p>আইরিন ছিল খুবই হাসিখুশী মেজাজের মহিলা। বার্ধক্যজনিত কোন কষ্ট নিয়ে কোনদিন কোন অভিযোগ করতে শুনিনি ওকে। আমরা একই ফ্লোরে পাশাপাশি বাস করতাম। এলিভেটরে অথবা নীচে লবীতে দেখা হলেই প্রশ্ন করতো, “How are you, Sayed”? আমার স্ত্রীও আইরিনকে খুব পছন্দ করতো। দু’মাস আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হসপিটালে গেল, আর জীবিত ফিরে এলো না। ওর বয়স হয়েছিল ৯৮ বছর। ওর এপার্টমেন্টের সামনে দিয়েই আমাদের এলিভেটরে যেতে, বাসায় ফিরতে&nbsp; হতো। সে আজ নেই, কিন্তু ওর এপার্টমেন্টের সামনে পৌঁছলেই কানে বাজে Remember who is the boss. OK?</p>



<p>(দুই)</p>



<p><strong>তিন ঘড়ির গল্প</strong></p>



<p>১)&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; ছোট বড় তিনটা ঘড়ি আছে আমাদের ঘরে। সবচেয়ে ছোটটা আমার দীর্ঘদিনের সংগী। লাল রং টেবিল ক্লক। সেটাকে কিনেছিলাম সেই ১৯৯৪ সনের জানুয়ারী মাসে এলার্ম ক্লক হিসাবে। মূল্য ৪ ডলার মাত্র। তখন আমি নাইট শিফটে কাজ করতাম (রাত ১১টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত)। কাজের শেষে দেড় ঘন্টা বাস জার্নি করে (পথে একবার বাস বদলাতে হতো।) বাসায় ফিরে কাপড়চোপড় ছেড়ে গোসল সেরে ব্রেকফাস্ট করে নিজের রুমে এসে দিতাম লম্বা ঘুম। তখন আমি টরন্টো সিটির ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির সন্নিকটে ২৬ তলা একটা বিল্ডিংয়ের ২৬ তলায় আরো দু’জনসহ একটা মেসে বসবাস করতাম। সে আমাকে সময়মত বেজে উঠে জাগিয়ে দিতো। তারপর আমি কাজে চলে যেতাম। আজকাল সেটাকে আর এলার্ম ক্লক হিসাবে ব্যবহার করি না, বাথরুমে রেখে দিয়েছি সময় দেখার জন্য।</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full"><img decoding="async" width="400" height="440" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/04/ঘড়ি.jpg" alt="" class="wp-image-12493" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/04/ঘড়ি.jpg 400w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/04/ঘড়ি-273x300.jpg 273w" sizes="(max-width: 400px) 100vw, 400px" /><figcaption class="wp-element-caption">STAIGER. QUARTZ technology-তে তৈরী ঘড়ি</figcaption></figure>
</div>


<p>এতক্ষণ ধরে এত কথা বললাম এই জন্য যে সেই ছোট্ট ঘড়িটা (ব্যাটারির সাহায্যে চলে) দীর্ঘ ৩২ বছর পরও সঠিক সময় দেখিয়ে চলেছে। অবাক কান্ড বটে!</p>



<p>দ্বিতীয় ঘড়িটাও একটা টেবিল ক্লক। রং সাদা। আগেরটার চেয়ে বেশ একটু বড়। এই ঘড়িটার বৈশিষ্ঠ্য হচ্ছে চারটি :</p>



<p>ঘড়িটা খুব ভারী কারণ এটা একটা ভারী crystal case এর ভেতরে আবদ্ধ,&nbsp; plastic case নয়।</p>



<p>এটা সোভিয়েট আমলের ওয়েস্ট জার্মেনীতে তৈরী। সেটার ডায়ালটাতে লেখা রয়েছে West Germany. নাম STAIGER. QUARTZ technology-তে তৈরী। সোভিয়েট আমলের জার্মেনীতে অবসান ঘটেছে ১৯৯১ সনে Berlin Wall ভেংগে &nbsp;East Germany (Soviet Russia) এবং West Germany (USA) এই দু’টির unification এর ফলে। ঘড়িটা স্পষ্টতঃই&nbsp; ১৯৯১ সনের আগের কোন এক সনে তৈরী। কিন্তু সেটার বয়স হিসাব করা যাচ্ছে না।</p>



<p>তৃতীয় বৈশিষ্ট্যটা হচ্ছে এই যে এটা একটা atomic clock, ব্যাটারীচালিত বা বিদ্যুৎচালিত নয়। তাই এটাতে কখনো নূতন ব্যাটারী লাগাতে হয় না অথবা কোন electric outlet -এ plug-inI করতে হয় না। সে আপনমনে চলছে নিজের সময় দেখিয়ে যা আমাদের ক্যানাডার Eastern Time -এর চেয়ে এক ঘন্টা পেছনে। সময়টাকে re-set করার কোন পথ খোলা নেই। বহু বছরের সংগী আমাদের এই ঘড়িটা।</p>



<p>চতুর্থ বৈশিষ্ট্যটা হচ্ছে এই যে atomic clock হওয়ার কারণে ওটাকে ভেংগে না ফেলা পর্যন্ত সে কোনদিন slow অথবা fast হবে না, অথবা থেমেও যাবে না। মানুষের বুদ্ধি কতটা প্রখর ও সৃজনশীল হতে পারে আমাদের এই ঘড়িটা তারই একটা জ্বলন্ত প্রমাণ।</p>



<p>তৃতীয় ঘড়িটা হচ্ছে একটা বড় Wall clock , তিনটা AA battery’র সাহায্যে চলে সে। কিনেছিলাম ৬০ ডলার খরচ করে ১৯৯৭ সনে- আজ থেকে ২৮ বছর আগে। ঘড়িটার dial/face -এ ১২টি পাখির ছবি আছে ১২টি ঘন্টার দাগের উপর। তবে বৈশিষ্ট্যটা হচ্ছে এই যে প্রতিটি ঘন্টায় ছবিতে দেখানো পাখিটার ডাক স্পষ্ট শুনতে পাওয়া যায়। এই দীর্ঘ ২৮ বছর পরও পাখির ডাকের কোন তারতম্য ঘটেনি। আমরা মুগ্ধ!</p>



<p>(তিন)</p>



<p><strong>POKEMON Cards, chicken sandwich, money</strong></p>



<p>আমার এক নিকটাত্মীয় টরন্টো থেকে ওর ওয়াইফ ও জমজ দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে (বয়স ১৪ বছর) লাঞ্চ করতে এসেছিল কিছুদিন আগে। ওরা স্বামীস্ত্রী দু’জনেই খুব নামাজী-মুসল্লী। স্ত্রী মহিলা খুব হিজাবী তবে নিকাবী নয়। ছেলেমেয়ে দু’টিকেও নামাজ শিক্ষা দিয়েছে।</p>



<p>সেদিন ছিল শুক্রবার। ওরা আসার পথে কোন এক মসজিদে জুমার সালাত আদায় করে এসেছে। ক্যানাডাতে জন্ম বাচ্চাদের, ওদের ভাষা ইংলিশ।</p>



<p>লাঞ্চের শেষে আমি ছেলেটিকে জিজ্ঞাসা করলাম, “When you prayed your Salat, what did you ask for from Allah?”</p>



<p>জবাবে সে জানালো, “I asked Allah to give me POKEMON Cards, Popeye’s chicken sandwich and some money.”</p>



<p>(চার)</p>



<p><strong>জুতা বদল</strong></p>



<p>একদিন টরন্টো থেকে দুই পরিবার লাঞ্চে এসেছিলেন আমাদের বাসায়। একে অন্যের অপরিচিত। আমি তাদেরকে পরিচয় করিয়ে দিলাম। লাঞ্চের পর একজন বিদায় নিয়ে চলে গেলেন।</p>



<p>অন্যজনের সংগে আরো বেশ কিছুক্ষণ গল্প করার পর তিনিও বিদায় চাইলেন। কিন্তু বিপত্তি ঘটলো জুতা নিয়ে। আগের ভদ্রলোক এই অতিথির জুতা পরে চলে গেছেন!</p>



<p>সংগেসংগে ফোন করে সেই ভদ্রলোককে জুতা বদলের কথাটা জানালাম। তিনি বললেন, “সেই জুতাগুলো আমার পায়ে খুব ফিট হওয়াতে আমি নির্ভাবনায় সেগুলো আমারই মনে করে পায়ে দিয়ে চলে এলাম, কোন অসুবিধা হচ্ছে না। হা-হা-হা-হা!”</p>



<p>বললাম, কিন্তু এতে তো সমস্যাটার সমাধান হচ্ছে না। জুতা জোড়া বদলানো প্রয়োজন।</p>



<p>শুনে তিনি বললেন, “আমি খুব দুঃখিত এই সমস্যাটা সৃষ্টি করার জন্য। যাহোক আমি বাসাতেই আছি, এই আমার ঠিকানা। অপর পক্ষকে বলুন আমার বাসায় এসে জুতা জোড়া বদলে নিতে।”</p>



<p>কি আর করা? দ্বিতীয় অতিথি তাই টরন্টোতে ঐ বাসায় গিয়ে জুতা বদল করে তারপর নিজের বাসায় ফিরে গেলেন। বহু সময় ব্যয়, পরিশ্রম ও অসুবিধা ভোগ করতে হলো দ্বিতীয় জনকে। (চলবে)</p>



<p>সাইদুল হোসেন<br>মিসিসাগা</p>



<p></p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>বিশ্বের অনুন্নত দেশগুলির অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থার কুফল</title>
		<link>https://probashikantho.com/2026/04/05/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a6%a4-%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%b0/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Sun, 05 Apr 2026 19:02:05 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Column]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=12490</guid>

					<description><![CDATA[নজরুল ইসলাম (পূর্ব প্রকাশিতের পর) ১ তৃতীয় বিশ্ব একটি অপ্রচলিত শব্দ যা প্রথম এবং দ্বিতীয় বিশ্বের দেশগুলির সংঘর্ষের ফলে যে]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p><strong>নজরুল ইসলাম</strong></p>



<p>(পূর্ব প্রকাশিতের পর)</p>



<p>১</p>



<p>তৃতীয় বিশ্ব একটি অপ্রচলিত শব্দ যা প্রথম এবং দ্বিতীয় বিশ্বের দেশগুলির সংঘর্ষের ফলে যে দেশগুলি অনুন্নত বা উন্নয়নশীল তাদের বুঝানো হয়ে থাকে। যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, জাপান এবং কিছু পশ্চিম ইউরোপীয় দেশ যেখানে উন্নত গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা রয়েছে- এ সব দেশকে প্রথম বিশ্বের দেশ বলা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বের দেশগুলি যেমন বুলগেরিয়া, চেকোস্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি, মঙ্গোলিয়া, উত্তর কোরিয়া, পোল্যান্ড, রোমানিয়া, সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং চীন; এ সব দেশগুলি কমিউনিস্ট বা পরিকল্পিত অর্থনীতি ব্যবস্থা দ্বারা পরিচালিত। তৃতীয় বিশ্ব- দরিদ্র এবং উন্নয়নশীল দেশগুলিকে বুঝানো হয়, এ সব দেশ গণতন্ত্রহীনতা, অর্থনৈতিক মন্দা বা দুর্নীতির জন্য পরিচিত। এ সব দেশের অধিকাংশ-ই দুর্নীতিগ্রস্ত। গণতন্ত্রহীনতা ও শাসনতান্ত্রিক অরাজকতা থাকার জন্য তৃতীয় বিশ্বের দেশ হিসাবে চিহ্নিত এরা। এ সব দেশে সীমাহীন সমস্যা, অদক্ষ শাসন ব্যবস্থা, ক্ষমতাসীন লোভী শাসকগোষ্ঠী জনগণের কাজ করার পূর্বে নিজেদের স্বার্থকে বড় করে দেখে এবং পরিকল্পিত শোষণ ব্যবস্থা চালু করে। ক্ষমতাসীন সরকার নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য নিরীহ জনগণের মতামত উপেক্ষা করে, পুলিশ বা দলীয় পেটোয়া বাহিনী দিয়ে ভয়ভীতি, গুম, খুন করে&nbsp; বিরোধী দলের সদস্যদের দূরে সরিয়ে রাখে। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে জবাবদিহিতার অভাব, দেশ শাসনের নামে জনগণের অর্থ যথা কোষাগার লুন্ঠন, বিদেশী ব্যাংকে অর্থ পাচার , বাড়ি ঘর, ব্যবসা বাণিজ্য খরিদ করে; এক সময় তল্পিতল্পা নিয়ে বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করে। কাজের নামে ফাঁকি, নিজের দোষ অন্যের ঘাড়ে কি ভাবে চাপানো যাবে এ নিয়ে মহা ব্যস্ত থাকে ।<br>২</p>



<p>দক্ষিণ আফ্রিকার নাম স্মরণে আসলেই শ্রদ্ধার সঙ্গে একটি নাম চোখের সামনে ভেসে উঠে আর তা হলো ” নেলসন মেন্ডেলা “, যিরি সারাজীবন দেশের অবহেলিত জনগণের মুক্তি ও গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন । এ জাতীয় কিছু কিছু মানুষ সময় সময় পৃথিবীতে আগমন করে , আলোর বর্তিকা হাতে নিয়ে জাতিকে অন্ধকার থেকে আলোর পথ দেখায় । নেলসন মেন্ডেলার ত্যাগের বিনিময়ে পরাধীনতার শিকল থেকে একটি জাতিকে মুক্ত করেছেন ; এই সে ব্যক্তি যার নামে সারা বিশ্বে বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,সড়ক ও বিশেষ বিশেষ প্রতিষ্ঠানের নাম করণ করা হয়েছে। নেলসন মেন্ডেলা তাঁর কঠোর পরিশ্রমের জন্য ” নোবেল পুরস্কার ” পেয়েছিলেন ।</p>



<p>১৯৪৪ সালে ছাত্র রাজনীতিতে আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসে (এএনসি) মেন্ডেলা যোগ দেন , কৃষ্ণাঙ্গ-মুক্তিকামী দল, এবং এর নেতা হিসাবে যোগ দিয়ে জাতিকে মুক্তির স্বপ্ন দেখান। নেলসন ম্যান্ডেলা ছিলেন একজন কিংবদন্তি নেতা যিনি দক্ষিণ আফ্রিকা এবং বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মানুষের ন্যায়বিচার এবং গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করার পথ দেখিয়েছিলেন। তিনি সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মানবতাবাদী হিসাবে ব্যাপকভাবে বিবেচিত হন ।</p>



<p>তাঁর বিশেষ কয়েকটি দিক হল:<br>১ ) তিনি ও তাঁর দলের লোকজন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বর্ণবৈষম্য, জাতিগত বিচ্ছিন্নতা এবং নিপীড়িত জনগণের জন্য শ্বেতাঙ্গদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে মৌলিক অধিকার আদায় করেছিলেন । শ্বেতাঙ্গ সরকারের নিপীড়নের কারণে মেন্ডেলা ও তার দলের অধিকাংশ নেতৃস্থানীয় কর্মীদেরকে লুকিয়ে আন্ডারগ্রাউন্ড একটিভিটিস করতে হয়।<br>২) মেন্ডেলা মানবাধিকার, গণতন্ত্র এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজ করেন । তিনি অবিচার, নিপীড়ন এবং সহিংসতার বিরুদ্ধে দেশের ভিতর এবং বাইরের মুক্তি আন্দোলনকে সমর্থন করেছিলেন।<br>৩) তিনি সাহস, সহানুভূতি এবং প্রজ্ঞা দিয়ে বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন। তিনি দেখিয়েছিলেন যে একজন ব্যক্তি তার কর্মের মাধ্যমে পার্থক্য তৈরি করতে পারে। তিনি দেখিয়েছেন ক্ষমা করা ঘৃণা, সহিংসতা ও প্রতিশোধের চেয়ে বেশি শক্তিশালী। মেন্ডেলা শ্বেতাঙ্গদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে একত্রে কাজ করার নিদর্শন দেখিয়েছেন। তিনি আমাদের শিখিয়েছিলেন যে “বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় গৌরব নিজের বা জাতির পতন নয়, বরং উত্থানের মধ্যে নিহিত।“<br>৪) তিনি একজন সত্যিকারের রাষ্ট্রীয় নায়ক ছিলেন, যিনি বিশ্বকে আরও ভাল জায়গায় পৌঁছে দিয়েছেন ।<br>৫ ) তাঁর জীবনের উৎস ছিল “আমি নিজের দেশের জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন করবো, আমি আমার নিজের ও দেশের পথ নির্দেশক “। মেন্ডেলা ক্ষমতার লোভী ছিলেন না, তিনি একবারের বেশি দেশের নেতৃত্ব দেননি বা পরিবারের কাউকে টেনে ক্ষমতার মসনদে বসাতে চান নি। তাঁর মতে “জনগণ ক্ষমতার উৎস এবং জনগণ যাকে পছন্দ ক্ষমতায় বসাবে”।</p>



<p>দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গ বসতি স্থাপনের ইতিহাস শুরু হয় ১৬৫২ সালে, ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এ দেশে ব্যবসার উদ্দেশ্যে এসে উপনিবেশ স্থাপন করে এবং ১৮৬১ সালে যুক্তরাজ্য কর্তৃক সংযুক্ত হওয়ার আগে প্রায় দুই শতাব্দী ধরে এই দেশ ডাচ শাসনের অধীনে ছিল। সেই সময়, দক্ষিণ আফ্রিকা ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত সংখ্যালঘু লোকের শাসন ব্যবস্থা ছিল, যাদের বেশিরভাগই এখনও ডাচ বংশোদ্ভূত । বর্তমানে এই দেশে লোকসংখ্যা ৬১ মিলিয়ন এর মাত্র ৫ মিলিয়ন শ্বেতাঙ্গ যা মূল জনসংখ্যার ১২% ।</p>



<p>সে যুগে ট্রেনে যাতায়াতের জন্য কৃষ্ণাঙ্গ এবং শ্বেতাঙ্গদের কম্পার্টমেন্ট আলাদা ছিল। একবার গান্ধী ১৮৯৩ সালের ৭ ই জুন ডারবান থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়া যাচ্ছিলেন, তাঁকে প্রথম শ্রেণির গাড়ি থেকে তৃতীয় শ্রেণির বগিতে যেতে বলা হয়েছিল, যদিও তার কাছে বৈধ প্রথম শ্রেণীর টিকিট ছিল। তিনি আদেশ মানতে অস্বীকার করেছিলেন এবং পিটারমারিৎজবার্গ স্টেশনে জোর করে তাকে ট্রেন থেকে সরানো হয়েছিল। এই ঘটনা গান্ধীর জীবনের একটি টার্নিং পয়েন্ট ছিল (Turning point ) এবং ভারতের অহিংস প্রতিরোধের মাধ্যমে জাতিগত বৈষম্য ও অবিচারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে তাকে অনুপ্রাণিত করে।</p>



<p>গান্ধী দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবৈষম্য নিয়ে এই উপলব্ধির মুখোমুখি হয়েছিলেন যে ভারতীয় (ব্রাউন ইন্ডিয়ান) হওয়ার কারণে তিনিও এর শিকার হয়েছেন । তিনি একজন আইনজ্ঞ ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও আলাদা কোনো মর্যাদা পান নি। তাঁর দেশ ভারতে শ্বেতাঙ্গরা এ ধরনের ঘৃণার উপলব্ধি নিয়ে দেশ শোষণ করে যাচ্ছে। কাজেই তাঁর কাজ হবে আর বিলম্ব না করে ভারত থেকে বিপ্লব করে শ্বেতাঙ্গদের বিতাড়িত করা ।<br>গান্ধী ভারতীয় এবং আফ্রিকান কৃষ্ণাঙ্গদের সমান দৃষ্টিতে দেখতেন, ওদের স্বাধীনতা অর্জন এবং শ্বেতাঙ্গদের মতো একই অধিকার ভোগ করার জন্য পরিকল্পনা ও প্রচার করতেন ;যে জন্য গান্ধী শ্বেতাঙ্গদের দৃষ্টিতে একজন শত্রু ; কৃষ্ণাঙ্গ এবং ভারতীয়দের মদদ দাতা হিসাবে আখ্যায়িত হন, ফলে ওকে নিরাপদ মনে করতেন না। তাছাড়া ভারতে হিন্দু, পার্সি, মুসলিম ও খ্রিস্টান বণিক ও শ্রমিকদের আত্মরক্ষাহীনতা প্রত্যক্ষ করে গান্ধী মনে করতেন ইউরোপীয় প্রশাসকদের দ্বারা সৃষ্ট শত্রুতার একটি চক্র এখানে ও রয়েছে, যাদের উৎখাত করা প্রয়োজন ।</p>



<p>বর্ণবৈষম্য শ্বেতাঙ্গ শাসনের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয়তাবাদী (এ এন সি ) দল ১৯৯০ এর দশকের গোড়ার দিকে ধারাবাহিক পদক্ষেপের (মেন্ডেলাকে মুক্ত করে) মাধ্যমে স্বাধীনতার সংগ্রাম শেষ করে ১৯৯৪ সালে গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের দিকে পরিচালিত হয়।</p>



<p>তবে তাঁকে এর জন্য অনেক মূল্য দিতে হয়েছে ; শ্বেতাঙ্গদের উৎখাত করার ষড়যন্ত্রের জন্য ১৯৬২ সালে তাঁকে গ্রেপ্তার করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তবে গণ জাগরণের মাধ্যমে অবশেষে তিনি মুক্তি পান।</p>



<p>১৯৯০-এর দশকে সার্বজনীন ভোটাধিকারের পক্ষে বর্ণবৈষম্যের অবসানের ফলে ম্যান্ডেলাসহ দক্ষিণ আফ্রিকার লাখ লাখ মানুষ প্রথমবারের মতো ভোট দিতে সক্ষম হন। এভাবে ভারতের মতো বহু দেশ উপনিবেশ শাসনের হাত থেকে জাতিকে মুক্ত করতে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার নেলসন ম্যান্ডেলা আজ জীবিত নেই ;তবে তাঁর দেশ স্বাধীন হিসাবে বেঁচে আছে এবং চিরদিন থাকবে এবং ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে তাঁর নাম লেখা থাকবে।<br>ডাচ, পর্তুগিজ এবং ব্রিটিশরা বিভিন্ন কারণে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল। সে সময় সুয়েজ ক্যানাল ছিল না, তার পরিবর্তে এই পথে এশিয়া,ইউরোপ এবং আফ্রিকার বাণিজ্য জাহাজ চলাচল করতো। গুরুত্বের দিকে বিবেচনা করে ব্রিটিশ, ফরাসি এবং ডাচ সরকার বাণিজ্য পথ রক্ষার জন্য ‘কেপ’-এ একটি স্থায়ী উপনিবেশ স্থাপন করেছিল।পর্তুগিজরা প্রথম ইউরোপীয় যারা দক্ষিণ আফ্রিকায় পা রেখেছিল এবং আজকের কেপ টাউনের অঞ্চলটিকে “দ্য কেপ অফ গুড হোপ” নামকরণ করেছিল। তাছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকা এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে কৃষ্ণাঙ্গ দাস জোর করে ইউরোপ এবং আমেরিকার মতো দেশগুলিতে বিক্রি করা হতো।</p>



<p>৩<br>কালা পানি কি?<br>বিদ্রোহী এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীদের মোকাবেলা করার জন্য ব্রিটিশদের দ্বারা প্রবর্তিত একটি শাস্তি মূলক ব্যবস্থা, যারা তাদের ঔপনিবেশিক শাসনের জন্য হুমকি স্বরূপ ছিল। দোষী সাব্যস্ত এবং রাজনৈতিক বন্দীদের ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে অনেক দূরে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে, ক্যারিবিয়ান, দক্ষিণ আফ্রিকা, মরিশাস এবং ফিজি অবস্থিত উপনিবেশগুলিতে পাঠিয়ে দিতো।</p>



<p>আপনি যেখানেই যাবেন, সেখানেই নিজের দেশের লোক না পেলে ও ভারতীয় পাবেন এবং ওরা যত দূরেই থাক না কেন; নিজেদের ভাষা এবং কৃষ্টি ছেড়ে দেয় নি। এক সময় নাইজেরিয়ায় আমি সরকারি চাকুরী করতাম; প্রতি শনিবারে ওখানকার টেলিভিশনে ভারতীয় হিন্দি মুভি দেখানো হতো। আমাদের অফিসের সহ- কর্মীদের কেউ কেউ হিন্দি মুভির কথোপকথন বা গান বুঝতে না পেরে আমার মতো অনেকের সঙ্গে আলাপ করতো; আমি নিজেও ভালো হিন্দি বা উর্দু জানিনা, তথাপি কিছু না কিছু বুঝিয়ে দিতে চেষ্টা করতাম।</p>



<p>শত শত বৎসর ইউরোপীয়রা সারা পৃথিবী জোর করে শাসন ও শোষণ করে নিজেদের দেশ সমৃদ্ধ করেছে। এখনোও ব্রিটিশদের অনেক উপনিবেশ রয়েছে এবং স্বাধীনতা না দিয়ে নিজেরা ভোগ দখল করে যাচ্ছে। ১৯৮২: ফকল্যান্ড যুদ্ধ, যা দক্ষিণ আটলান্টিক যুদ্ধ নামে পরিচিত, আর্জেন্টিনা এবং যুক্তরাজ্যের মধ্যে অঘোষিত যুদ্ধ । যুদ্ধের প্রথম দিকে মনে হয়েছিল, আর্জেন্টিনা ফকল্যান্ড দখলে রাখতে পারবে। কিন্তু শেষ রক্ষা করতে পারে নি। যুক্তরাজ্য তার দেশ থেকে ৮,০৫০ মাইল দূরে গিয়ে ১৭৬৫ থেকে এই দ্বীপ দখল নিয়েছিল, যা আজ ও তাদের হাতছাড়া হয় নি ।<br>ব্রিটিশ ব্যবসায়ীরা নিজেদের দেশীয় পণ্য আফ্রিকাতে বিক্রি করত, পরিবর্তে তারা আফ্রিকানদের কাছ থেকে ক্রীতদাস ও অন্যান্য পণ্য নিয়ে আমেরিকাতে প্রচুর মুনাফা পেতো। এ ছাড়া তারা আফ্রিকান ও ভারতীয়দের দিয়ে চিনি, তামাক এবং তুলার মতো কাঁচামাল উৎপাদন করতো। ব্রিটিশ জাহাজগুলি ব্যবসা শেষ করে দেশে ফিরে যাওয়ার আগে ব্রিটেনে বিক্রি করার জন্য চিনি এবং রাম (মদ) বোঝাই করে নিয়ে যেত।</p>



<p>আমেরিকায় যারা দাসত্বের শিকার হয়েছিল তাদের করুণ কাহিনী এবং নিপীড়নের কথা স্মরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র আমেরিকায় আফ্রিকার ক্রীতদাসদের নাগরিকত্ব রক্ষার জন্য তাঁর জীবন দিয়ে গেছেন।<br>মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র, একজন আফ্রিকান-আমেরিকান ধর্মযাজক এবং নাগরিক অধিকার নেতা; তিনি সারাজীবন কৃষ্ণাঙ্গদের স্বাধীন এবং আমেরিকার নাগরিকত্বের জন্য সংগ্রাম করেছিলেন। তাঁকে জীবন দিতে হলো টেনেসির মেমফিসের লরেন মোটেলে; ১৯৬৮ সালের ৪ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬:০১ মিনিটে আততায়ীর গুলিতে বিদ্ধ হয়ে। তিনি নাগরিক অধিকার আন্দোলনের একজন বিশিষ্ট নেতা এবং নোবেল শান্তি পুরষ্কার বিজয়ী ছিলেন। আজও আমেরিকায় মার্টিন লুথার কিং দিবস পালিত হয়। (চলবে)</p>



<p>নজরুল ইসলাম</p>



<p>টরন্টো</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>আমার দেখা দু’টি বিচিত্র চরিত্রের নারী</title>
		<link>https://probashikantho.com/2026/03/04/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a6%be-%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%9a/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 04 Mar 2026 20:20:49 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Column]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=12412</guid>

					<description><![CDATA[সাইদুল&#160;হোসেন (পূর্ব প্রকাশিতের পর) এখানে বর্ণিত চরিত্র দু’টির দু’জনই ক্যানাডিয়ান সিটিজেন বহুদিন ধরেই। আমি ওদের পরিচিত। নানা পরিবেশে তাদের সংগে]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p><strong>সাইদুল</strong><strong>&nbsp;</strong><strong>হোসেন</strong></p>



<p>(পূর্ব প্রকাশিতের পর)</p>



<p>এখানে বর্ণিত চরিত্র দু’টির দু’জনই ক্যানাডিয়ান সিটিজেন বহুদিন ধরেই। আমি ওদের পরিচিত। নানা পরিবেশে তাদের সংগে আমার পরিচিতি ও আলাপচারিতা। তাদেরকে নিয়েই সাম্প্রতিক দু’টি গল্প বলছি।</p>



<p>(কাহিনী এক)</p>



<p>ত্রিশোর্ধ বয়সের ইরানী মহিলা। পেশায় একজন ফার্মাসিস্ট। প্রায়ই দেখা হয় সেই ফার্মেসীতে গেলে। অতি অমায়িক, শ্রদ্ধাপূর্ণ ব্যবহার করেন আমার সংগে। ২০২১ সন থেকে আমাদের পরিচয়।</p>



<p>তিনি একদিন তার নোটপ্যাডের একটা পাতায় একটা নাম লিখে তার সামনের কাউন্টারে রেখে আমাকে বললেন, “এটা আমার ছেলের নাম। মাত্র ১১ মাস আগে আমি মা হয়েছি, এটা আমার প্রথম সন্তান। খুব শিঘ্রই আবার মা হওয়ার ইচ্ছা আছে। এই নামটা আমার এবং আমার হাজব্যান্ডের খুবই পছন্দ। কিন্তু নামটার অর্থ আমরা জানি না। Can you please help us, sir? “</p>



<p>মহিলার কথা শুনে আমি তো অবাক। অর্থ না জেনে একটা নাম নিজের সন্তানের জন্য রাখলেন, এরা কেমন মা-বাবা?</p>



<p>আরো একটা বিষয়ে ধাক্কা খেলাম।</p>



<p>সেটা হলো এই যে, মহিলা তো ইরানী। ঐ দেশের বাসিন্দারা প্রায় সবাই মুসলিম (শিয়া অথবা সুন্নী) অথচ বাচ্চাটার নামটা মুসলিম বলে পরিচয় দেয় না, নামটা ক্রিশ্চিয়ান ধাঁচের। কিন্তু মুখে কিছু না বলে বললাম, “আমার কাছে দু’টি Dictionary of Christian Names আছে, আমি সেগুলোতে আপনার ছেলের নামটা খুঁজে দেখবো। তারপর আপনাকে জানাবো।”</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full is-resized"><img decoding="async" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/03/1979441-HSC00001-7-1.jpg" alt="" class="wp-image-12414" style="aspect-ratio:1.3414727099496393;width:406px;height:auto"/><figcaption class="wp-element-caption">অর্থ না জেনে সন্তানের নাম রাখা কি ঠিক? ছবি : সাচ্চি আর্ট এর সৌজন্যে</figcaption></figure>
</div>


<p>ঘরে ফিরে এসে সেই ডিকশনারী দু’টিতে নামটা খুঁজলাম। একটাতে পেলাম না, দ্বিতীয়টাতে পেলাম, কিন্তু নামের অর্থটা এমন যে সেটা কোন মানুষের নাম হওয়ার যোগ্য নয়।</p>



<p>কয়েকদিন পর ওষুধ আনতে গেলাম সেই ফার্মেসীতে। সংগে নিয়ে গেলাম সেই ডিকশনারীটা। আরো নিলাম A Dictionary of Muslim Names. সেই মহিলা আমাকে দেখে দৌড়ে আমার কাছে আসলেন। তখন আমি তাকে Christian Names -এর ডিকশনারীটা খুলে সেটার সেই পৃষ্ঠাটা খুলে ধরলাম যেখানে তার ছেলের নামটা অর্থসহ প্রিন্ট করা রয়েছে। মুখে কিছুই বললাম না।</p>



<p>তিনি সেই নামটা ও তার অর্থটা পড়ে মলিন মুখে বললেন, “বলতে-শুনতে এমন মিষ্টি একটা নামের অর্থ এতো কুৎসিৎ? এখন কি করি?”</p>



<p>দুশ্চিন্তার ছাপ তার মুখে।</p>



<p>আমি তখন তাকে বললাম, “যদি কিছু মনে না করেন তাহলে আমি একটা কথা বলি। আপনি তো একজন ইরানী- হয় শিয়া মুসলিম নয়তো সুন্নী মুসলিম কিন্তু মুসলিম তো বটে। আপনার ছেলের জন্য একটা মুসলিম নাম রাখলে কেমন হয়? আমার সংগে একটা Dictionary of Muslim Names আছে। সেটা আপনি বাড়ি নিয়ে যান, স্বামী-স্ত্রী দু’জনে মিলে দেখেশুনে সুন্দর অর্থবহ একটা নাম select করুন। সমস্যাটা দূর হয়ে যাবে।”</p>



<p>আমার কথা শেষ হলে মহিলা বললেন, “আমার বাবা-মা মুসলিম, তাঁরা বেঁচে আছেন। তবে আমি নিজেকে একজন মুসলিম বলে দাবী করি না। আমি ক্রিশ্চিয়ানও নই তবে আমার হাজব্যান্ড একজন ক্রিশ্চিয়ান। যাহোক আমি আপনার আনা ডিকশনারী দু’টিই সংগে নিয়ে যাচ্ছি। একটা পারিবারিক আলোচনা করে দেখবো কি করা যায়। Many thanks for your sincere efforts, sir.” আমি আমার ওষুধটা নিয়ে চলে এলাম। আবার যখন ফার্মেসীতে যাবো তখন হয়তো জানতে পারবো তাদের সিদ্ধান্তটা।</p>



<p>(কাহিনী দুই)</p>



<p>মহিলা একজন পাকিস্তানী মুসলিম। একটা বড় ফার্মেসীতে কাজ করতেন মিসিসাগা সিটিতে ২০১৮-২০২০এর দিকে। তখনি আমাদের প্রথম পরিচয়। অতি সুন্দর ভদ্র আচরণ তার। তিনি এখন রিটায়ার করেছেন। একটা সিনিয়র রেসিডেন্টস বিল্ডিংয়ে একজন tenant হিসাবে বাস করছেন।</p>



<p>মহিলার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে যে তিনি সদাসর্বদা হাফশার্ট ও প্যান্ট পরে চলাফেরা করেন। অন্যান্য পাকিস্তানী মহিলাদের মত শালওয়ার-কামীজ-হিজাব তার পরনে আমি কোনদিন দেখিনি।</p>



<p>অল্প কিছুদিন আগে আবার আমাদের দেখা এক স্টোরে। তার পরনে পূর্বেকার মতই হাফশার্ট ও প্যান্ট। বললেন, “আসসালামু আলাইকুম। হাউ আর ইউ?”</p>



<p>বললাম, “ওয়ালাইকুম সালাম। আই এম ফাইন। থ্যাংক ইউ।”</p>



<p>তখন তিনি আমাকে জানালেন যে তিনি এখন একজন “হাজ্জন”।</p>



<p>বুঝতে না পেরে তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, “হোয়াট ইজ “হাজ্জন”?”</p>



<p>হেসে দিয়ে বললেন, “পুরুষরা হাজ্জ করলে হন “হাজী” কিন্তু মহিলারা হাজ্জ করলে তারা হয়ে যান “হাজ্জন”- হাজী কথাটার স্ত্রীলিঙ্গ।”</p>



<p>বুঝলাম। বললাম, “মাশাআল্লাহ! খুশীর খবর।”</p>



<p>তখন তিনি জানালেন যে সবেমাত্র (২০২৫) তিনি হাজ্জ করে ফিরে এসেছেন।</p>



<p>পূর্ব পরিচয়ের জের ধরে হেসে বললাম, “হাজ্জ তো করে এসেছেন, একজন হাজ্জনও হয়েছেন। ভালো কথা। কিন্তু আপনার লেবাস (পোশাক) তো সেই আগের মত শার্ট ও প্যান্ট রয়ে গেছে! সেটা বদলানো দরকার নয় কি? হিজাবী হবেন না?”</p>



<p>মাথা নেড়ে বললেন, “নো, আই এম ফাইন উইদ মাই কারেন্ট নরমাল ড্রেস। আল্লাহ নোজ বেস্ট।”</p>



<p><strong>YouTube Shorts </strong>থেকে</p>



<p><strong>Motivational speech</strong><strong></strong></p>



<p>ব্যক্তিত্ব ধরে রাখবেন কিভাবে?</p>



<p>১.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; শুনুন বেশী, বলুন কম।</p>



<p>২.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; কৌতুক করে হলেও কখনো মিথ্যা বলবেন না।</p>



<p>৩.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; কথা দিলে কথা রাখার চেষ্টা করুন।</p>



<p>৪.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; ভুল হলে তর্ক না করে সরি (sorry) বলুন।</p>



<p>৫.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; অকারণে এবং অপ্রয়োজনে হাসবেন না।</p>



<p>৬.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; দ্রুত কথা না বলে ধীরেধীরে কথা বলুন।</p>



<p>৭.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; যা জানেন না তা নিয়ে কথা বলতে যাবেন না।</p>



<p>৮.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; অজানা বিষয়ে তর্কে জড়াবেন না।</p>



<p>৯.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; কাউকে বুঝাতে যাবেন না যে আপনিই শ্রেষ্ঠ।</p>



<p>১০.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; অন্যকে বলতে দিন, তার কথা আগে শুনুন। কারো কথার মাঝখানে বাধা দেবেন না। তার কথা শেষ হতে দিন।</p>



<p>১১.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; শব্দ করে খাবার খাবেন না।</p>



<p>১২.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; রাগ উঠলে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করুন।</p>



<p>১৩.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; কেউ ভুল করলে সহজে ক্ষমা করে দিন।</p>



<p>১৪.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; ছেঁড়া জামাজুতা পরবেন না।</p>



<p>১৫.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; সহজে কারো কাছে হাত পাতবেন না।</p>



<p>১৬.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; পারলে অন্যকে খাওয়ান কিন্তু দাবী করে খাবেন না।</p>



<p>১৭.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; খাবার সামনে এলে আগে অন্যকে নিতে দিন।</p>



<p>১৮.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; ছোটবড় সবাইকে সম্মান করে কথা বলুন।</p>



<p>১৯.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; মুখ ও শরীরের দুর্গন্ধ থেকে নিজেকে মুক্ত থাকুন।</p>



<p>২০.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; নিজেকে সব সময় ছোট ভাবুন। এটা হলো নম্রতা।</p>



<p>২১.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; অপমানিত স্থানে দ্বিতীয়বার কখনো যাবেন না।</p>



<p>২২.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; নিরাশা হলো উন্নতির পথে বড় বাধা। নিরাশ হবেন না। আশাবাদী হোন। চেষ্টা চালিয়ে যান।</p>



<p>২৩.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; কথায় ও কাজে আবেগটাকে দমন করুন, আপনার মেধা ও মস্তিষ্ককে কাজে লাগান।</p>



<p>২৪.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; মানুষের মুখ বন্ধ করা সম্ভব নয়। ভিত্তিহীন বিরূপ সমালোচনা অবহেলা (ignore) &nbsp;&nbsp;&nbsp;করতে শিখুন।</p>



<p>২৫.&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; ছোটবড় সব ধরনের সাহায্যের জন্যই আপনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে কেউ ছোট হয় না।</p>



<p><strong>QUOTATION</strong></p>



<p>*&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; *&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; *</p>



<p><strong>Religion</strong></p>



<p>“There is no bad religion, there are only bad people.”</p>



<p>(Morgan Freeman)</p>



<p>(চলবে)</p>



<p><strong>সাইদুল</strong><strong>&nbsp;</strong><strong>হোসেন</strong></p>



<p>মিসিসাগা, কানাডা</p>



<p>নভেম্বর ৩, ২০২৫</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলিতে সঠিক নেতৃত্বের অভাব</title>
		<link>https://probashikantho.com/2026/03/04/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%87/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 04 Mar 2026 20:08:54 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Column]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=12409</guid>

					<description><![CDATA[নজরুল ইসলাম (পূর্ব প্রকাশিতের পর) বিবেক মানুষের অভ্যন্তরীণ অনুভূতি&#160; যা ন্যায়- অন্যায়ের&#160; নির্দেশিকা&#160; হিসাবে কাজ করে।&#160; এটি নিজের আচরণ বা]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p><strong>নজরুল ইসলাম</strong></p>



<p>(পূর্ব প্রকাশিতের পর)</p>



<p>বিবেক মানুষের অভ্যন্তরীণ অনুভূতি&nbsp; যা ন্যায়- অন্যায়ের&nbsp; নির্দেশিকা&nbsp; হিসাবে কাজ করে।&nbsp; এটি নিজের আচরণ বা চরিত্রের&nbsp; বহিঃপ্রকাশ, পাশাপাশি সঠিক কাজ করার বা ভাল হওয়ার বাধ্যবাধকতার অনুভূতি; ব্যক্তিগত&nbsp; দৈনন্দিন জীবনে নৈতিকভাবে কাজ করতে বাধ্য করে, অন্যের&nbsp; কষ্ট এড়াতে বা উপশম করতে সহায়তা করে; অন্যদিকে সামাজিক পরিবর্তন এক সমাজ থেকে অন্য সমাজ এবং দেশ ও জাতির পরিবর্তন করে।&nbsp; সঠিক যত্নের অভাবে জমিতে ভালো ফসল হয় না, ঘরের খুঁটি যদি দুর্বল হয়, সে ঘর বেশিদিন টিকে&nbsp; না।&nbsp; সৎ ও&nbsp; সঠিক নেতৃত্বের অভাবে একটি জাতি ও ভালোভাবে বেড়ে উঠে না ।&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>আমরা ছোটকালে “চরিত্র গঠন” রচনা মুখস্থ করে পরীক্ষার খাতায় লিখতাম। ” অর্থ হারিয়ে গেলে কিছুই নষ্ট হয় না, স্বাস্থ্য হারিয়ে গেলে কিছু হারিয়ে যায়, চরিত্র হারিয়ে গেলে সবকিছু হারিয়ে যায়। ”&nbsp; “চুরি করা পাপ ” আদর্শলিপি বইতে ছোট সময়ে পড়েছি। ঘরে সিঁধ কেটে &nbsp; ধান চাল , সোনাগহনা, চুরি করে ;বাজারে ভিড়ে বা বাসে পকেটমার টাকা চুরি করলে&nbsp; আমরা চোর বলি। এ সব লোক পেটের দায়ে ঠুনকো চুরি করে; কেউ কি সাদে সিঁধ কাটতে বা পকেট মারতে যায় ? আমরা চোরকে&nbsp; চোর চোর বলে&nbsp; মারধর করে থানায় পাঠাই। কিন্তু আমাদের শিক্ষিত সমাজে লোকজন স্যুট টাই পরে&nbsp; অফিসে চাকুরি করে একদিকে বেতন ,অপরদিকে&nbsp; দুর্নীতি করে রাতারাতি বড়ো লোক হয়। এ সব লোকদের আমরা চোর বলি না ; বরং&nbsp; দাঁড়িয়ে সম্মান করি, এদের ক্ষমতার জন্য চোখ বুজে আমরা নীরবে সব কিছু সহ্য করি।&nbsp; এই হলো আমাদের তৃতীয় বিশ্বের সামাজিক ব্যবস্থা।&nbsp; আমাদের সামাজিক বিবেক&nbsp; জটিল, বহুমুখী যা ঘুনেধরা শিক্ষা, সমাজ ব্যবস্থা&nbsp; এবং&nbsp; অভিজ্ঞতার মতো বিভিন্ন কারণ দ্বারা প্রভাবিত হয়।</p>



<p>সামাজিক সুষ্ঠু &nbsp;বিবেক বিকাশের সঠিক সময়&nbsp; অনুমান করা কঠিন। সমাজে সরকার ও জনগণের যৌথ উদ্যোগে&nbsp; সামাজিক পরিবর্তন ধীরে ধীরে আসতে পারে। অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশগুলির সামাজিক অবস্থা একসময় আমেরিকার মতো উন্নত দেশেও ছিল।&nbsp; ১৯৬০ এর দিকে&nbsp; কৃষ্ণ আমেরিকানদের ভোটের অধিকার ও ছিল না।&nbsp; মার্টিন লুথার&nbsp; কিং (জুনিয়র ) এর&nbsp; মতো অনেকেই সামাজিক পরিবর্তনের জন্য নিজেদের জীবন দিয়েছেন । কৃষ্ণ আফ্রিকানদের পণ্যের মতো এক সময় কেনাবেচা&nbsp; হতো, তাদের ক্রীতদাস হিসাবে ব্যবহার করা হতো।&nbsp; বহুদিন হয় এই ক্রীতদাস প্রথা উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং ধীরে ধীরে পরিবর্তন এসেছে। কোনো কিছুই সহজে পরিবর্তন হয় না , তার জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়।&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশের সামাজিক বিবেক একটি ক্রমাগত প্রক্রিয়া যা আমাদের চারপাশের বিশ্বের সাথে আত্ম-প্রতিফলন, সহানুভূতি এবং সক্রিয় সম্পৃক্ততা প্রয়োজন। প্রথমে সমাজে বিদ্যমান সমস্যাগুলি শনাক্ত করা এবং তাদের সমাধানের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন । ব্যক্তি বা সামাজিক পরিস্থিতি এবং প্রতিশ্রুতির বিভিন্ন স্তরের উপর নির্ভর করে এই প্রক্রিয়াটি কয়েক বছর বা এমনকি কয়েক দশক সময় ও নিতে পারে।&nbsp;</p>



<p>সামাজিক বিবেক গড়ে তোলা একটি চলমান যাত্রা যার জন্য ধৈর্য, অধ্যবসায়, সু-শিক্ষা&nbsp; এবং বেড়ে ওঠার ইচ্ছা প্রয়োজন। এটি এমন কিছু নয় যা রাতারাতি অর্জন করা যেতে পারে, বরং ন্যায়সঙ্গত&nbsp; সামাজিক বিবেক&nbsp; তৈরির আজীবন প্রচেষ্টা।&nbsp; উন্নত বিশ্বের দেশগুলিতে আজীবন চেষ্টা করে সামাজিক পরিবর্তন এনেছে।&nbsp; আমাদের&nbsp; ভালোভাবে বেঁচে থাকতে হলে চারপাশের সামাজিক অবস্থার দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করতে হবে -তবেই আমাদের সামাজিক পরিবর্তন আসবে।&nbsp;&nbsp;</p>



<p><strong>শিক্ষা জাতিকে দারিদ্রতা থেকে মুক্তি দেয়</strong></p>



<p>শিক্ষা যে কোনো জাতিকে&nbsp; দারিদ্র্য থেকে বের করে আনার অন্যতম নিশ্চিত উপায়। শিক্ষা একটি মৌলিক মানবাধিকার যা মানুষের জন্য আর্থিক সচ্ছলতা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেয়।&nbsp;এটি আর্থিক স্থিতিশীলতা অর্জন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রচারের অন্যতম শীর্ষ উপায়। আজ যেখানে বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ শিশু স্কুলে যেতে পারে না,তাদের সে সুযোগ নেই। ” শিক্ষার সুযোগের অভাব দারিদ্র্যকে এক প্রজন্ম থেকে পরবর্তী প্রজন্মে স্থানান্তরিত করার একটি প্রধান ভবিষ্যদ্বাণী। অন্য কথায়, শিক্ষা এবং দারিদ্র্য সরাসরি সংযুক্ত।” যে জাতি যত শিক্ষিত, সে জাতি তত উন্নত। দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাসকারী পরিবারকে প্রায়শঃই চিন্তা করতে হয় তাদের শিশুকে স্কুলে বা অন্যান্য মৌলিক চাহিদা (রুটি রোজগার) মধ্যে কোনটি সঠিক বেছে নিতে হয়। দরিদ্রতম পরিবারগুলির জন্য স্কুল ব্যয়বহুল, দুই বেলা খেয়ে বেঁচে থাকা প্রথম কাজ। শিশুকে স্কুলে পাঠাতে হলে মৌলিক কাপড়,বই খাতা, পেন্সিল এবং সর্বোপরি দুইবেলা খাবার ব্যবস্থা ঘরে থাকতে হবে। যে পরিবারে দুবেলা খাবার ব্যবস্থা নেই ,তার জন্য শিশুকে স্কুলে পাঠানো ইচ্ছা থাকলেও সম্ভব হয় না।&nbsp;কাজেই শিশুকে বাড়িতে বসিয়ে কাজ করতে বাধ্য হয় বা কাজ করার প্রয়োজন হয়। তাছাড়া একটি দেশে যদি সরকারি পর্যাপ্ত স্কুল, সবার জন্য অবৈতনিক পড়ার ব্যবস্থা&nbsp; না থাকে, সে ক্ষেত্রে ছেলেমেয়েরা সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয় । সুযোগ পেলে লক্ষ লক্ষ ছেলেমেয়ে পড়াশুনা করে দারিদ্রের হাত থেকে বেরিয়ে আসতে&nbsp; পারে। যাইহোক, মৌলিক শিক্ষার অভাব মানুষের পক্ষে স্বাবলম্বী হওয়া কঠিন করে তোলে এবং তাদের অদক্ষ, কম বেতনের চাকরিতে সীমাবদ্ধ করে। অতএব, প্রতিটি দেশের&nbsp; জন্য মানসম্মত শিক্ষায় বিনিয়োগ করা প্রয়োজন ।&nbsp;&nbsp;</p>



<p>কানাডায় দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি ছেলেমেয়ের জন্য উন্মুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা এবং সমান&nbsp; সুযোগ রয়েছে। তাছাড়া সরকারি কি বেসরকারি বা কলকারখানা,যেখানেই কাজ করুক না কেন ; বেতন স্কেল বাজারের সঙ্গে মিল করে রাখা হয়েছে যাতে প্রতিটি মানুষ খেয়েদেয়ে মোটামুটি বাঁচতে পারে। এ দেশে যে কাজ-ই&nbsp; করুক না কেন, কেউ কাউকে জিজ্ঞেস করে না, তুমি কি কাজ করো ?&nbsp; কাজের জন্য কেউ কাউকে হেয় করে দেখে না বা সমালোচনা করে না। অনেক সময় দেখা যায় যারা বেশি পরিশ্রম করে, তারাই অল্প সময়ে বাড়ি গাড়ি কিনে প্রতিষ্ঠিত হয়। কানাডা সরকার সে ভাবেই দেশের নিয়ম কানুন তৈরি করেছে। এই সমস্যা আমাদের তৃতীয় বিশ্বে রয়েছে যার ফলে মানুষ মানুষে পার্থক্য দেখা যায় ।&nbsp; আমরা কর্মকর্তাকে&nbsp; স্যার বলে সম্বোধন করি; কিন্তু এ সব দেশে স্যার বলতে কিছু নেই , ” জো হুকুম জাঁহাপনা ” নেই। যত বড় ” বস” হন না কেন -সবাই নাম ধরে ডাকে যেমন মি: জর্জ, মিস লেন, ইত্যাদি&nbsp; ।&nbsp;</p>



<p>তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে এর ব্যতিক্রম, না আছে পর্যাপ্ত পরিমাণ স্কুল, কলেজ বা ইউনিভার্সিটি, না আছে সু-শিক্ষিত টিচার যারা ছেলেমেয়েদের সু-শিক্ষা দেবে। তাছাড়া সব শিশুরা স্কুলে গেলে বসার ব্যবস্থা দেয়া যাবে না। আমি যে প্রাথমিক স্কুলে পড়তাম,তা লম্বা দোচালা টিনের ঘর, মুলির বেড়া, কাঁচা ভিটি, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ছেলেমেয়েরা মাটিতে হোগলার উপর বসতো। মাস্টারগণ বেত ছাড়া ক্লাসে আসতো না। ঝড়ের দিনে স্কুলের ছালা ও বেড়া উড়িয়ে নিয়ে যেত। কয়েকবার ক্লাসরুমে সাপ ঢুকেছে ; ভয়ে চিৎকার করে ক্লাস থেকে বের হয়েছি। আমার গ্রামের ১০% ছেলেমেয়ে স্কুলে যেত; ১% মনোযোগ দিয়ে পড়াশুনা করতো। শিশু ছেলেমেয়েরা স্কুলে না গিয়ে ক্ষেতে-খামারে কাজ করে মা-বাবাকে সাহায্য করতো ।&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>আমার আজও মনে পড়ে আমার ছোটবেলার স্কুল জীবনের কিছু কাহিনী। আমি পড়াশুনায় মোটামুটি ভালো ছিলাম, আমার চারপাশে শিক্ষার কোনো পরিবেশ ছিল না। গ্রামের ৯০% ছেলেমেয়ে স্কুলে না গিয়ে কাজ করে মাবাবাকে ও পরিবার পরিজনকে সাহায্য করতো।&nbsp; আমি ছেলেমেয়েদের মাবাবাকে বলতে শুনেছি, ” আমাদের ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার দরকার নেই। আবার কেউ কেউ স্কুলে গেলেও বাড়িতে পড়াশুনার কোনো পরিবেশ ছিল না বিধায় ভালো করে নি। অনেকেই প্রাথমিক স্কুলের ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত শেষ করলেও উচ্চমাধ্যমিক ভর্তি হতো না; আমাদের থানায় (উপজেলায়) ৫টা&nbsp; উচ্চমাধ্যমিক স্কুল ছিল, পায়ে হেঁটে বা নৌকা করে অনেক দূরে যেতে হতো। যারা পরের বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করতে পারতো, তারাই ভর্তি হতো।&nbsp;মেয়েদের পক্ষে কোনোমতেই সম্ভব ছিল না বা মেয়েরা ছেলেদের সঙ্গে স্কুলে পড়াশুনা করবে? মেয়েদের বেলায় ১০০ % -৫ম শ্রেণী পর্যন্ত না গিয়ে স্কুল থেকে ঝরে পড়তো। বৈশাখ,জ্যৈষ্ঠ বা আষাঢ় মাসের শুরুতেই&nbsp; অবিরত বৃষ্টির ফলে খাল বিল, মাঠঘাট ভরে যেত; গ্রামে মেঠো পথ বা রাস্তা বলতে যা ছিল তাও বৃষ্টির পানিতে ভরে যেত,&nbsp;নৌকা ব্যতীত স্কুলে যাওয়া যেত না।&nbsp;</p>



<p>এই পরিস্থিতি শুধু আমাদের তদানীন্তন পূর্ব বাংলায় ছিল না; এই সমস্যা অতীতে এবং আজ ও পৃথিবীর বহু দেশে&nbsp; আছে। বিশ্বব্যাংক এবং ইউনেস্কোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলির ৫৩ শতাংশ শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয় পড়াশুনা শেষে একটি সাধারণ গল্প পড়তে এবং বুঝতে পারে না। এই হলো আমাদের অনুন্নত দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা।</p>



<p><strong>সিরিয়ার ঘরোয়া যুদ্ধ এবং বর্তমান পরিস্থিতি : </strong></p>



<p>অনেক দিন হয়, আমি ফেইসবুক ও পারবাসিব্লগে সিরিয়ার অবস্থা নিয়ে একটা লেখা দিয়েছিলাম। যে ভাবে&nbsp; আমাদের&nbsp; শেখ হাসিনা ছাত্র আন্দোলনের মুখে&nbsp; পালিয়ে দেশ ত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নিলেন, ঠিক একই পর্যায়ে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট হাফেজ আসাদ ও বিদ্রোহীদের আক্রমণের মুখে অবশেষে দেশ ত্যাগ করে পরিবার নিয়ে মস্কো, রাশিয়া আশ্রয় নিয়েছেন।&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>এরিস্টটলের মতে ” যেখানে&nbsp; সমাজে সংখ্যাগরিষ্ঠ দরিদ্র, সেখানে গণতন্ত্র&nbsp; চলে না ; তার কারণ দরিদ্র&nbsp; অশিক্ষিত লোক গণতন্ত্রের অর্থ বুঝবে না। দরিদ্ররা দৈনন্দিন ভাত -কাপড়ের&nbsp; চিন্তায় মগ্ন, নিজেদের বেঁচে থাকার তাগিদে ব্যস্ত, কী ভাবে দেশের অর্থনীতির চাকা&nbsp; চলে, সে সম্পর্কে অজ্ঞ; “কামারের দোকানে ধর্মের আলোচনা করার মতো। ”&nbsp;</p>



<p>তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে ভোটের কারচুপি,&nbsp; হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, যোগ্যতা নিয়ে তো লড়াই করে না; ক্ষমতায় কে যাবে এ নিয়ে লড়াই।&nbsp; এ সব দেশে এক জাতীয় শিক্ষিত চতুর লোক জনগণকে ধোঁকা দিয়ে অসদুপায়ে ক্ষমতা নিয়ে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে। অধিকাংশ দেশগুলিতে দেখা যায় ভোটার কারচুপি, ব্যাংক থেকে অসৎ উপায়ে অর্থ নিয়ে গা ঢাকা দিয়ে দেশকে দেউলিয়ার খাতায় নাম লেখায়।&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>সিরিয়ার&nbsp; হাফেজ আল-আসাদ ছিলেন একজন সামরিক কর্মকর্তা, বিপ্লবী নেতা ও রাজনীতিবিদ যিনি ১২ মার্চ ১৯৭১ থেকে ১০ জুন ২,০০০&nbsp; সালে তাঁর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সিরিয়ার ১৮ তম রাষ্ট্রপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।&nbsp;আসাদ মৃত্যুর পর্বে তাঁর ছেলে বাসার আসাদকে রাষ্ট্র পরিচালনার সব ধরনের কায়দাকানুন শিখিয়ে গিয়েছিলেন যাতে&nbsp; শত্রু/মিত্র চিনে দেশ পরিচালনা করতে পারেন।&nbsp; তিনি মৃত্যুর পূর্বে নিশ্চিত করেছিলেন, তাঁর&nbsp; ছেলে বাশার একটি অনুগত সামরিক বাহিনী উত্তরাধিকার সূত্রে পায়; প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অনুগত আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থা তৈরি করেছিলেন তাঁর পরবর্তীতে&nbsp; রাজবংশ সঠিক ভাবে&nbsp; টিকে থাকে। সে থেকে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে&nbsp;কোনো সামরিক অভ্যুত্থান হয় নি; এই ১২ বৎসরের গৃহ যুদ্ধে দেশের ক্ষতি যতটুকুই হোক না কেন, তাঁকে শাসন ব্যবস্থা থেকে সরাতে পারে নি। এতেই প্রমাণিত হয় যে তাঁর বাবা মৃত্যুর পূর্বে একটি অনুগত সরকার এবং সামরিক বাহিনী রেখে গেছেন।</p>



<p>সিরিয়ার বিধ্বংসী গৃহযুদ্ধের প্রায় তেরো বৎসর, দেশটি প্রায় সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত এবং গভীরভাবে বিভক্ত, ব্যাপক অর্থনৈতিক সংকট, সীমিত রাজনৈতিক অগ্রগতি এবং বিশ্বের বৃহত্তম বাস্তুচ্যুত সংকটের মুখোমুখি, যেখানে জনসংখ্যার ৭০ শতাংশের এখন মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। এই দেশে গৃহযুদ্ধের ফলে ৫থেকে&nbsp;৬ লক্ষ লোক বা তার ও বেশি&nbsp;এ যাবৎ মারা গেছে। ৬ থেকে ৭ মিলিয়ন লোক ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপত্তার জন্য দেশের বিভিন্ন অংশে, ৫ মিলিয়ন&nbsp; বা তার ও অধিক&nbsp; প্রতিবেশী&nbsp; দেশ,&nbsp; ইউরোপ,আমেরিকা বা কানাডায় আশ্রয় নিয়েছে।&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p><strong>সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের কারণগুলি জটিল এবং বহুমুখী, তবে কিছু প্রধান কারণ হল:</strong></p>



<p>ক) ১৯৭০&nbsp; সাল থেকে হাফেজ আসাদ রাজনৈতিক নিপীড়ন ও স্বৈরাচারী শাসন&nbsp; ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশ পরিচালনা শুরু করেন। তিনি সেনাবাহিনী, সচিবালয় আমলাতন্ত্র এবং সংখ্যালঘু শিয়া মুসলমানদের সুযোগ সুবিধা দিয়ে দেশ শাসন করেন। সুন্নি মুসলমান ৭৪% হওয়া সত্ত্বেও তাঁর শাসনামলে সব ধরনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল।&nbsp;তাছাড়া শাসন ব্যবস্থা নিজের পরিবারে মধ্যে রাখার জন্য উত্তরসূরি পুত্র বাসার আসাদকে প্রশিক্ষণ দিয়ে ঠিক ঠাক মতো ব্যবস্থা করেন। তাঁর আমলে শিয়া সুন্নি অসন্তোষ চরমে পৌঁছে; তবে গৃহ যুদ্ধ বাঁধে নি ।</p>



<p>খ)) সুন্নি (৭৪%)সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং শিয়া ১৩ %(আলাউই ১২%,১% ইসমাইলিয়া) সংখ্যালঘুদের মধ্যে মতাদর্শ এবং সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের পার্থক্য বহুদিনের । সুন্নি এবং শিয়া মতপার্থক্য মুহাম্মদ (সা:) এর মৃত্যুর অব্যবহিত পর থেকে গত ১৪ শত বৎসর চলে আসছে যার কোনো সমাধান আজ ও হয় নি। বাসার পরিবারের শাসনামলে &nbsp; সংখ্যালঘু শিয়া মুসলিমরাই রাষ্ট্রের সুবিধাভোগী; অফিস, বড়ো বড়ো ব্যবসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সর্বত্রই ওদের প্রাধান্য যার দরুন শিয়া সুন্নীর মধ্যে অনেকদিনের অসন্তোষ দানাবেঁধে ছিল।&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>গ) খরা, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং অসম অর্থনীতি যা অনেক সিরীয়দের জীবনযাত্রার অবস্থাকে আরও জটিল করে তুলে। সিরিয়ার খরা, যা ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল, দেশের কৃষি, অর্থনীতি এবং সমাজের উপর বিধ্বংসী প্রভাব ফেলেছিল। খরার ফলে ফসল নষ্ট হয়, গবাদি পশুর মৃত্যু, খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি পায় এবং গ্রামের জনগণ শহরের দিকে ধাবিত হয়।&nbsp;এই কারণগুলি সামাজিক অস্থিরতা, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং গৃহযুদ্ধের দিকে ধাবিত করে ।&nbsp; তাছাড়া বেকার সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করে ; ছাত্র- ছাত্রীরা পড়াশুনা শেষ করে বেকার; দেশের জনগণের দৈনন্দিন রোজগার এবং নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের সঙ্গে বৈষম্য দেখা দেয়।&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>ঘ ) আঞ্চলিক ও বৈদেশিক&nbsp; শক্তির&nbsp; হস্তক্ষেপ এবং সমর্থন :সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে বিদেশী সম্পৃক্ততা, সংঘাত, হস্তক্ষেপ এবং সমর্থন&nbsp; একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। সিরিয়ার পরিস্থিতি জটিল ও বহুমুখী। যদিও বিদেশী হস্তক্ষেপ সংঘাতকে আরও বাড়িয়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, এটি একমাত্র কারণ নয়। অন্যান্য কারণগুলির মধ্যে রয়েছে সাম্প্রদায়িকতা, অর্থনৈতিক বৈষম্যতা , রাজনৈতিক দমন এবং ঐতিহাসিক অভিযোগ। শিয়া বনাম সুন্নি&nbsp; দমন নীতি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে নতুন কিছু নয়।&nbsp;যুগ যুগ ধরে এ সমস্যা চলে আসছে&nbsp;।&nbsp; ইরানের শিয়া সরকার সিরিয়ার সংখ্যালঘু সরকারকে টিকিয়ে রাখার জন্য হেজবুল্লাহ বাহিনী দিয়ে পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়েছে। এ ছাড়া দেশ অর্থনৈতিক সংকট এবং রাজনৈতিক দমননীতির ফলে গৃহযুদ্ধ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে ।&nbsp;&nbsp;</p>



<p>চ) শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারী এবং বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং রাষ্ট্রীয় দমন, সহিংসতা ও হস্তক্ষেপ আর একটি কারণ। সিরিয়ায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারী ও বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং রাষ্ট্রীয় সহিংসতা ব্যাপক। স্বৈরশাসক বাশার আসাদের সরকার ২০১১ সালের গণতন্ত্রপন্থী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকে নৃশংসভাবে দমন করতে গিয়ে গৃহ যুদ্ধ&nbsp; বাঁধিয়েছে।&nbsp;গত ১২-১৩ বছরে হাজার হাজার&nbsp; বিরোধীদের কারারুদ্ধ , নির্যাতন&nbsp; এবং হত্যা করেছে বলে অনেক অভিযোগ রয়েছে। বিদেশিরা সরাসরি সরকার এবং শিয়া-সুন্নিকে অস্ত্র দিয়ে পরস্পর বিরোধী সংঘর্ষ, নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ করে বলে জানা গেছে।&nbsp;</p>



<p>সিরিয়ার পুরা দেশ আসাদ সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই, এখন পর্যন্ত ১২% (ইদলিব,উত্তর আলেপ্পো, তাল আবিয়াদ এবং রাস আল-আইন ) অঞ্চল &nbsp; বিরোধীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রতিনিয়তই এখানে যুদ্ধ,আঞ্চলিক প্রতিবেশী দেশ থেকে ও আক্রমণ হচ্ছে, সারা দেশেই ক্ষণে ক্ষণে বোমাবাজি , রকেট হামলা চলছে। বিদেশী শক্তিগুলির মধ্যে ইরান,রাশিয়া, তুরস্ক এবং আমেরিকা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ উপস্থিতি পুরা দেশকে সংঘাতময় করে তুলেছে।&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>ইউনাইটেড নেশনস হাই কমিশনার ফর রিফিউজিস (ইউএনএইচসিআর) এর মতে&nbsp; ‘ সিরিয়া এ&nbsp; সময়ের সবচেয়ে বড় মানবিক ও শরণার্থী সংকট। ” এ বৎসরের ফেব্রুয়ারির দিকে দক্ষিণ-পূর্ব তুরকি এবং উত্তর সিরিয়ায় দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার ফলে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারায় এবং এই অঞ্চলজুড়ে বাড়িঘর ও অবকাঠামোর অবর্ণনীয় ক্ষতি হয় । অভ্যন্তরীণভাবে ও বাস্তুচ্যুত সিরীয়&nbsp; শরণার্থীদের করুন অবস্থা, হাজার হাজার আশ্রয়স্থল ধ্বংস এবং কয়েক লক্ষ&nbsp; শরণার্থী&nbsp; বিপদগ্রস্ত, “মরার উপর খাঁড়ার ঘা “, এক বিপদের উপর এর এক বিপদ&nbsp; দেখা দিয়েছে ।&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>সিরিয়া সংকট যখন দ্বাদশ বছরে প্রবেশ করছে, তখন মানবিক পরিস্থিতি আগের চেয়ে আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন এবং জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি তাদের বাড়িঘর থেকে বাস্তুচ্যুত রয়েছে – প্রতিবেশী দেশগুলিতে বসবাসকারী কয়েক&nbsp; মিলিয়ন শরণার্থী মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে আছে । বাস্তুচ্যুতদের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি নারী ও শিশু।</p>



<p>সংঘাত, নিপীড়ন, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং সহিংসতার ফলে বিশ্বব্যাপী ১০০ মিলিয়ন বা তার ও অধিক মানুষ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়েছে । সিরিয়া, ভেনিজুয়েলা, আফগানিস্তান, দক্ষিণ সুদান ও মায়ানমার বাস্তুচ্যুত মানুষের দুই-তৃতীয়াংশ; বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের মধ্যে ৪২ শতাংশই ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু।</p>



<p>বছরের পর বছর ধরে, সিরিয়ানরা অসাধারণ ধৈর্য দেখিয়েছে, কিন্তু যুদ্ধ অব্যাহত থাকার সাথে সাথে আশা দ্রুত ম্লান হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে সিরিয়ার ৯০ শতাংশেরও বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে।&nbsp; লেবাননে বহুদিনের অভ্যন্তরীণ গৃহ যুদ্ধ, ইসরাইলের সঙ্গে&nbsp; সংঘর্ষ ; তদুপরি সিরিয়ার ১৫ লক্ষ শরণার্থী যা দেশের অর্থনীতিকে চেলেঞ্জের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>নিঃসন্দেহে গণতন্ত্র তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলির স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ  হুমকি, এর অনুপস্থিতি এবং স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার ফলে পৃথিবী ব্যাপী ব্যাপক সমস্যা দেখা দিয়েছে । আফ্রিকা এবং এশিয়ার অনেক দেশে অযোগ্য স্বৈরাচারী সরকারের  ক্ষমতা ধরে রাখার লোভ বা প্রবণতার ফসল এই সমস্যা। কোনো নেতা বা নেতৃবৃন্দ এর বিরুদ্ধে কিছু বলতে গেলে শত শত কেস দিয়ে বাকরুদ্ধ করে ;রাতের অন্ধকারে ঘর থেকে ধরে নিয়ে পুরা পরিবারকে আতঙ্কে ফেলবে ও  বিনা বিচারে বৎসরের পর বৎসর জেলে রেখে দেবে। (চলবে। </p>



<p>নজরুল ইসলাম</p>



<p>টরন্টো</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>আমার বর্তমান জীবন</title>
		<link>https://probashikantho.com/2026/02/03/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%9c%e0%a7%80%e0%a6%ac%e0%a6%a8/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 04 Feb 2026 01:43:42 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Column]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=12345</guid>

					<description><![CDATA[সাইদুল&#160;হোসেন (পূর্ব প্রকাশিতের পর) আমার জীবনটাকে নিয়ে যখন ভাবি, অতীত ও বর্তমানের দিকে যখন মনোনিবেশ করি, তখন একটা কথা বারবার]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p><strong>সাইদুল&nbsp;হোসেন</strong></p>



<p>(পূর্ব প্রকাশিতের পর)</p>



<p>আমার জীবনটাকে নিয়ে যখন ভাবি, অতীত ও বর্তমানের দিকে যখন মনোনিবেশ করি, তখন একটা কথা বারবার মনে পড়ে যে আমি বুদ্ধিমানদের দলের একজন নই। যার ফলে আজ এই ৯৩ বছর বয়সে পৌঁছেও নিজের পায়ের উপর দাঁড়াতে পারলাম না, স্ত্রীসহ আমি সরকারী সাহায্যের উপর নির্ভরশীল। বিরাট, বিষাদময় পরাজয় নিঃসন্দেহে।</p>



<p>সুদীর্ঘ কর্মজীবন নিজেরই বিচক্ষণতার অভাবে, সাহসের অভাবে হাতের কাছে আসা সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে পারিনি। অন্যেরা এগিয়ে গেল, আমি পেছনে পড়ে রইলাম। আমার এই অসাফল্যের কারণে আমার স্ত্রী কষ্ট ভোগ করলো, কষ্ট পেয়েছে আমার সন্তানেরাও যদিও ওরা আজ জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত নিজনিজ কর্মক্ষেত্রে এই ক্যানাডাতেই। সাফল্য আমার এটুকুই যে ওদেরকে প্রয়োজনীয় উচ্চ শিক্ষা দিতে&nbsp; পেরেছিলাম, সৎচরিত্র নিয়ে জীবনযাপনে দীক্ষা দিতে পেরেছিলাম।</p>



<p>তবে আমার অসাফল্যের কারণে সৃষ্ট দারিদ্র্যের বোঝাটা আমার স্ত্রী আজো বয়ে বেড়াচ্ছে। সচ্ছলতার মুখ তাকে আমি দেখাতে সক্ষম হইনি। তথাপি চরম দুর্দিনেও সে আমাকে ত্যাগ করেনি আমার প্রতি তার গভীর ভালোবাসার কারণেই হোক অথবা তাকে বিহনে আমার অসহায়তার কথা ভেবেই হোক। তার প্রতি আমার ঋণের এবং কৃতজ্ঞতার কোন শেষ নেই। আজ সেই আমার শেষ ভরসা।</p>



<p>অতীতে আমার নির্বুদ্ধিতার কারণে সৃষ্ট নানা সমস্যা সমাধানে বহু আপন ও পর সাহায্যের হাত বাড়িয়েছিলো, অভয় দিয়ে এগিয়ে চলার সাহস জুগিয়েছেলো। আমি তাদের সবার কাছেই কৃতজ্ঞ।</p>



<p>তবে ভুলে যাইনি আমার সেই সব আপনজনদের কথাও যারা আমার চরম দুর্দিনে আমাকে পরিত্যাগ করেছিলো, আমার স্ত্রী ও বিপদগ্রস্ত সন্তানদের প্রতি নির্মম ব্যবহার করেছিলো।</p>



<p>আর্থিক অনটনের বেদনার পাশাপাশি আমার স্থায়ী দৈহিক সদাবর্তমান যাতনাও&nbsp; (severe arthritic pain in the lower back and the two knees) আমাকে চিরতরে পংগু করে দিয়েছে। বারো বছর আগে (২০১৩) বাম পা’টাতে surgery করে একটা artificial knee লাগাতে হয়েছে।&nbsp; Walker -এর সাহায্য ছাড়া দু’পাও হাঁটতে পারি না। ঘরের চার দেয়ালের ভেতরে আবদ্ধ আমার জীবন। অসহায়। একমাত্র মৃত্যুই আমার এই যন্ত্রণার অবসান ঘটাতে পারে।</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full"><img loading="lazy" decoding="async" width="400" height="400" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/02/বৃ.jpg" alt="" class="wp-image-12346" srcset="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/02/বৃ.jpg 400w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/02/বৃ-300x300.jpg 300w, https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/02/বৃ-150x150.jpg 150w" sizes="(max-width: 400px) 100vw, 400px" /><figcaption class="wp-element-caption">নিঃসঙ্গ বৃদ্ধ-বৃদ্ধা। ছবি : ইটসে .কম</figcaption></figure>
</div>


<p>ঘরে স্ত্রী ছাড়া কথা বলার মত লোকজনও কমে গেছে। বন্ধু-বান্ধবের সংখ্যা কখনো ৮-১০ জনের বেশি ছিলো না। বাকিরা আমার মতই অথর্ব। তারাও আজ নিজেদেরকে সামলাতেই ব্যস্ত, আমাকে ফোন করার মত সময়ের বড় অভাব। তাছাড়া আমি তো কোন ধনবান অথবা খ্যাতিমান ব্যক্তিও নই যে যোগাযোগ রাখাটা লাভজনক। ফলে সপ্তাহেও একটা ফোন পাই না কারো কাছ থেকে। আমি নিজেও ফোন করার মত উৎসাহ বোধ করি না। সুতরাং অন্যদের দোষ দিই না।</p>



<p>বর্তমান বাসস্থানের দূরত্বের কারণে আত্মীয়-বন্ধুদের বেড়াতে আসাও কমে গিয়েছে যা ইতিপূর্বে টরন্টো শহরে থাকাকালীন সময়ে ছিলো নিয়মিত। পরিস্থিতির শিকার সবাই, তাই কাউকেই দোষ দিতে পারি না। ফলে আমাদের একাকীত্ব (isolation/loneliness)&nbsp; ক্রমেই বাড়ছে। তবে অসুখ-বিসুখ হলে সবাই খোঁজ-খবর নেয়। উদ্বেগ প্রকাশ করে একথা ঠিক।</p>



<p>Dry eyes condition -এর কারণে চোখে জ্বালাপোড়া নিয়ে কষ্ট করে দিনগুলো কাটে। Unknown virus -এর তীব্র আক্রমণে অসহনীয় কাশিতে ভুগেছি মে-জুন ২০২৫-এ। তাই পড়াশোনা এবং লেখালেখি দু’টি কাজই কমিয়ে দিতে হয়েছে।&nbsp; যেটুকুই করতে পারছি সেটুকুই পারতাম না যদি সহৃদয় বন্ধুর স্ত্রী সেগুলো computer typing করে, email ইত্যাদি করে আমাকে অনবরত সাহায্য না করতেন। ধন্যবাদ। হাতে প্রচুর অবসর সময়, তার কিছুটা অংশ দিনের বেলাতে ঘুমিয়ে কাটাই। নিজেকে খুবই ক্লান্ত বোধ করি।</p>



<p>মুখে দারুণ রকম অরুচি, কোনকিছুই আর স্বাদ লাগে না। ক্ষুধা কমে গেছে, হজম শক্তিও কমে গেছে। ফলে খাওয়ার পরিমাণও কমিয়ে দিতে হয়েছে। এতে অবশ্য কোন কষ্ট হয় না, অভ্যস্থ হয়ে গেছি। অন্য কোথাও নিমন্ত্রণ সাধারণতঃ গ্রহণ করি না।</p>



<p>চলাফেরার অপারগতার কারণে আজ প্রায় ১০ বছর ধরে মসজিদে গিয়ে শুক্রবারের জুমার সালাত আদায় করতে পারি না। বছরের দু’টি ঈদের দিনও ঘরে বসেই কাটে, ঈদের জামাতে নিয়ে যেতে কেউ ride দিতে আসে না। সেই উপলক্ষ্যে কিছু visitor -এর দেখা অবশ্য পাওয়া যায়। আমার স্ত্রীর হাতের রান্নার খুব সুনাম।</p>



<p>চোখে জ্বালাপোড়া এবং দৈহিক ক্লান্তি সত্ত্বেও গত কয়েক মাসে নূতন একটা গল্পের বই লিখতে পেরেছি “জীবনের বহু রং।” বহু স্বাদের গল্প-কাহিনী আছে তাতে। অনলাইন পাবলিশ করেছেন মাসিক প্রবাসী কণ্ঠ ম্যাগাজিন টরন্টো থেকে। ম্যাগাজিন কর্তৃপক্ষের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। ইতিপূর্বেও তাঁরা আমার কয়েকটা গল্পগ্রন্থ অনলাইন পাবলিশ করেছেন।</p>



<p>বই লেখা প্রসংগে একথাটা যোগ করা যেতে পারে যে যদিও লেখক হওয়ার মত আমার কোন ব্যাকগ্রাউন্ড ছিলো না তথাপি ঘটনাচক্রে কলম হাতে নিতে হয়েছে সেই ১৯৯২ সন থেকে ক্যানাডায় টরন্টো শহরে এসে। টরন্টো থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক বাংলা দেশে বিদেশে পত্রিকাতে সর্বপ্রথম লেখালেখিতে হাতেখড়ি। কোন মাদ্রাসা-মক্তবে লেখাপড়া না থাকা সত্বেও আমার ২০০৪ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত প্রকাশিত ২৩টি বইয়ের মাঝে ১৫টিই ইসলাম ধর্মের নানা প্রসংগ নিয়ে লেখা। বাকিগুলো ছোটগল্প, selfhelp এবং কবিতা।</p>



<p>২০১৯-২০২৫ পর্যন্ত নূতন লেখা বইয়ের সংখ্যা ১৪টি (ইসলামী ৯টি এবং গল্প-কবিতা -selfhelp ৫টি)। দু’টি গল্পগ্রন্থ published online .বাকি ১২টি আজো অপ্রকাশিত।</p>



<p>বলতে গেলে এই সাহিত্যকর্মই আমার জীবনের উল্লেখযোগ্য achievement.</p>



<p>ইতিমধ্যে আরো একটা কাজ করেছি। আমার তিনটা ভিন্নভিন্ন বই থেকে তিনটা লেখা একসাথে করে একটা আলাদা বই রচনা করেছি (২৩ পৃষ্ঠা), নাম দিয়েছি “আদর্শ জীবন” (আত্মউন্নয়ণমূলক কিছু আলোচনা)। বইটার ৩০টা কপি করে দেশে ও বিদেশে আত্মীয়-বন্ধুদের কাছে একে একে পাঠিয়ে দিয়েছি। কাজটা করতে পেরে আমি খুব তৃপ্তি বোধ করছি।</p>



<p>একটা সরকারী সিনিয়র্স বিল্ডিংয়ে বর্তমানে আমরা বাস করি। ছেলেরা নিয়মিত খোঁজখবর নেয়। সরকারের দেয়া মাসিক Old Age Security পাই, আর্থিক কোন সমস্যা নেই। স্বাস্থ্যগত সমস্যা যদিও সদাবর্তমান। Doctor’s appointments &nbsp;আমরা স্বামীস্ত্রী দু’জনেই করি। Transport -এর ব্যবস্থাও আমরাই করি। জীবন একেবারেই নিশ্চল নয়। প্রাণের স্পন্দন আজো আছে।</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>এক সমুদ্র রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাঙ্গালীর  বিজয়</title>
		<link>https://probashikantho.com/2026/02/03/%e0%a6%8f%e0%a6%95-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%ae%e0%a6%af%e0%a6%bc/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Wed, 04 Feb 2026 01:39:04 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Column]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=12343</guid>

					<description><![CDATA[নজরুল ইসলাম (পূর্ব প্রকাশিতের পর) ১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১, তৎকালীন ঐতিহাসিক রেসকোর্স (সারওয়ার্দী উদ্যান )  ময়দানের সে বিজয়  দেখা আমার   সৌভাগ্য হয় নি। পাকিস্তানের লেফটেন্যান্ট জেনারেল  এ এ কে নিয়াজী আত্মসমর্পণ চুক্তিতে স্বাক্ষর এবং নব- বাংলাদেশের পক্ষে লিবারেশন ফোর্সের জয়েন্ট কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা এই স্বাক্ষরিত অনুষ্ঠানটি প্রতিবারই টেলিভিশন ও পত্রপত্রিকায়  দেখানো হয়।  এটা সত্যিই বাংলাদেশের জন্য একটা গৌরবময় মুহূর্ত   ; পৃথিবী যতদিন টিকে থাকবে  এই স্মৃতি  ইতিহাসের পাতায় ছবি সহ লেখা থাকবে, এমন কি প্রচার মাধ্যমে বারবার]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p><strong>নজরুল ইসলাম</strong></p>



<p>(পূর্ব প্রকাশিতের পর)</p>



<p>১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১, তৎকালীন ঐতিহাসিক রেসকোর্স (সারওয়ার্দী উদ্যান )  ময়দানের সে বিজয়  দেখা আমার   সৌভাগ্য হয় নি। পাকিস্তানের লেফটেন্যান্ট জেনারেল  এ এ কে নিয়াজী আত্মসমর্পণ চুক্তিতে স্বাক্ষর এবং নব- বাংলাদেশের পক্ষে লিবারেশন ফোর্সের জয়েন্ট কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা এই স্বাক্ষরিত অনুষ্ঠানটি প্রতিবারই টেলিভিশন ও পত্রপত্রিকায়  দেখানো হয়।  এটা সত্যিই বাংলাদেশের জন্য একটা গৌরবময় মুহূর্ত   ; পৃথিবী যতদিন টিকে থাকবে  এই স্মৃতি  ইতিহাসের পাতায় ছবি সহ লেখা থাকবে, এমন কি প্রচার মাধ্যমে বারবার আসবে, আমাদের বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দেখে আনন্দে শিহরিয়া উঠবে, ভাববে যদি ওই বিশেষ মুহূর্তটি দেখতে পেতাম ! </p>



<p>৯ মাসের রক্তক্ষয়ী&nbsp; যুদ্ধে ৩০ লক্ষ জনতা&nbsp; রক্ত দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছে। পৃথিবীতে&nbsp; অনেক &nbsp;ধ্বংসাত্মক বড়ো বড়ো&nbsp; যুদ্ধ হয়েছে এবং আজ ও হচ্ছে- যেমন -প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (১৯১৪–১৮), রাশিয়ান গৃহযুদ্ধ (১৯১৮-২০), দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ (১৯৩৯-৪৫), পারস্য উপসাগরীয় যুদ্ধ (১৯৯০–৯১), আফগানিস্তান যুদ্ধ (২০০১–১৪), সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ (২০১২–),আরও কত কি ? কিন্তু বাংলাদেশ-পাকিস্তান মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১ মূলত&nbsp; গেরিলা যুদ্ধ ;&nbsp; বাংলার দামাল ছেলেরা&nbsp; যে ভাবে নিজের যা কিছু সম্বল ছিল&nbsp; তা নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করেছে ,তা ইতিহাসে বিরল। &nbsp; বঙ্গবন্ধুর ডাকে&nbsp; শহর বা গ্রাম সর্বত্রই অভূতপূর্ব সাড়া দিয়ে যুদ্ধে&nbsp; অংশ নিয়েছে । গ্রামের কৃষাণ ছেলেরা প্রতিবেশী ভারতে প্রশিক্ষণ নিয়ে লুঙ্গি, গেঞ্জি পরে একদিকে গ্রামকে পাহারা ও&nbsp; পাকিস্তানী সৈন্যদের আক্রমণ প্রতিহত এবং পাল্টা আক্রমণ করেছে ;অপর পক্ষে মা-বোন ও বৃদ্ধরা&nbsp; মুক্তি যোদ্ধাদের থাকা খাওয়ার নিরাপত্তা দিয়েছে । &nbsp; এ দিক থেকে বিচার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় কম -বেশি প্রতিটি পরিবার-ই&nbsp; দেশের স্বাধীনতায় অবদান রেখেছে । এই যে এক কোটি&nbsp; শরণার্থী বাড়িঘর ছেড়ে ভারতে যাওয়ার&nbsp; পথে জনগণ থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করেছে,আহতদের সেবা দিয়েছে, ওদের অবদান কি ভুলে যাওয়ার ?&nbsp;&nbsp;</p>



<p>১৯৪৭ সালে&nbsp; ভারতীয় উপমহাদেশ বিভক্ত হয়ে&nbsp; পাকিস্তান, ভারতের পশ্চিম ও পূর্ব দিকে ১২০০ মাইল দূরত্বে&nbsp; দুইটি&nbsp; অসংলগ্ন আঞ্চলিক সত্তা নিয়ে রাষ্ট্র গঠিত&nbsp; হয়। পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানি জনগণ ধর্মের দিক থেকে&nbsp; মুসলমান /ইসলামী হওয়া সত্ত্বেও, জাতিগত, সংস্কৃতি&nbsp; এবং ভাষাগত ভিত্তিতে বিভক্ত ছিল। পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ একমাত্র ভাষা&nbsp; বাংলায়;পশ্চিম পাকিস্তানে আঞ্চলিক ভিত্তিক &nbsp; -পাঞ্জাবি,সিন্দি,বেলুচি ও পশতু ভাষায় কথা বলে ।&nbsp; &nbsp; উর্দু ছিল ভারত থেকে আগত মুষ্টিমেয়&nbsp; শিক্ষিত (এলিট), যাদের হাতে ছিল রাষ্ট্রের&nbsp; ক্ষমতা ;ওরা উর্দু ভাষাকে প্রাধান্য দিয়ে জনগণের&nbsp; ইচ্ছার বিরুদ্ধে&nbsp; চাপিয়ে দেয়ার ব্যর্থ প্রচেষ্টা নিয়েছে ।&nbsp;</p>



<p>বাংলাদেশের জনগণ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিকভাবে ভারতের পূর্বাঞ্চল, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ,&nbsp; ত্রিপুরা ও আসাম&nbsp; রাজ্যের সাথে সংযুক্ত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, শরৎচন্দ্র ও অনেক সাহিত্যিকদের প্রভাব রাজনৈতিকভাবে সৃষ্ট সীমানা অতিক্রম করে বাঙ্গালী&nbsp; জনগণের সাধারণ ভাষাগত ঐতিহ্য হিসাবে দেখা দেয়, পূর্ব বাংলার&nbsp; জনগণ&nbsp; ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির সাথে সাথেই&nbsp; পশ্চিমা উর্দু ভাষাকে জাতীয় ভাষা হিসাবে মেনে নিতে পারে নি।&nbsp;&nbsp;</p>



<p>জাতি যত বড় বা ছোট আকারের হোক না কেন,কেউ নিজের মায়ের ভাষাকে অবজ্ঞা করে না। কানাডার&nbsp; জনসংখ্যার ৭% লোক কুইবেক ফ্রেঞ্চ ভাষায় কথা বলে; এ দেশে ফ্রেঞ্চ কে দ্বিতীয় ভাষা হিসাবে সরকারিভাবে মর্যাদা দেয়া হয়েছে। কুইবেক&nbsp; প্রদেশের প্রধান সার্বভৌমত্ববাদী রাজনৈতিক দল, “পার্টি কুইবেকোইস,” দেশকে কানাডা থেকে আলাদা করার জন্য দুইবার ভোটাভোটিতে হেরে যায়।&nbsp; কিন্তু তাদের মুখের ভাষা(ফ্রেঞ্চ) দেশের গঠনতন্ত্রে দ্বিতীয় ভাষা, প্রতিটি স্কুল এবং অফিস আদালতে চালু রয়েছে।&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>অখণ্ড ভারতীয় মুসলিম লীগ গোড়া থেকেই পাকিস্তানের ভাষা উর্দু হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।&nbsp;&nbsp;</p>



<p>দেশ ভাগ হওয়ার পর থেকেই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ,লিয়াকত আলী খান,আয়ুব খাঁন আর ও&nbsp; অনেকেই ছলেবলে পূর্ব বাংলায় উর্দু ভাষা চালু করার &nbsp; চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ&nbsp; &nbsp;হয়।&nbsp; ১৯৫২র&nbsp; ২১শে ফেব্রুয়ারী পূর্ব বাংলার গভর্নর নুরুল আমিন ঢাকার ছাত্র আন্দোলনে গুলি চালানোর নির্দেশ দেয়ার ফলে – সালাম , বারকাত , রফিক , জব্বার এবং শাফিউর শহীদ হয়।&nbsp;&nbsp;</p>



<p>পাকিস্তানী চক্র উর্দু ভাষাকে চাপিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র বন্ধ করে নি। ১৯৫৮ সনে&nbsp; আয়ুব খান ক্ষমতায় এসে পূর্ব পাকিস্তানের স্কুলে উর্দু ভাষা চালু করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, এ দেশের নেতৃবৃন্দ এবং জনগণ তা মেনে নেয় নি।&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত পাকিস্তান জাতীয় সংসদে&nbsp; সদস্য হিসাবে তার নির্বাচনী এলাকা কুমিল্লা থেকে প্রতিনিধিত্ব করে ছিলেন। ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি করাচিতে পাকিস্তান গণপরিষদে&nbsp; বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম দাপ্তরিক ভাষা করার আহ্বান জানিয়ে একটি ভাষণ দিয়েছিলেন, যা বাংলাদেশীদের কাছে সর্বাধিক স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই বক্তব্য নিয়ে জাতীয় সংসদে দত্ত সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। পাকিস্তানে রাষ্ট্রীয় বৈষম্য ও কর্তৃত্ববাদের প্রতি দত্তের জোরালো যুক্তির কারণে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের শুরুতে শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তারের তিন দিন পর, ১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ দত্তকে কুমিল্লায় তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে&nbsp; তার ছেলে দিলীপ কুমার দত্তকে সহ&nbsp; ময়নামতি সেনানিবাসে নিয়ে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়।</p>



<p>এ সময়&nbsp; আমি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ক্যাম্পবেলপুর (বেসামরিক)কর্মরত ছিলাম।&nbsp; ১৯৭০ সনের অক্টোবর কি নভেম্বরের দিকে জুলফিকার আলী ভুট্টো ভোট&nbsp; প্রচার অভিযানে ক্যাম্পবেলপুর জনসভা করেছিলেন।&nbsp; আমরা অফিস থেকে অনেকে ওর বক্তব্য শুনার জন্য ওই জনসভায় উপস্থিত ছিলাম।&nbsp; ভুট্টো বক্তৃতার প্রায় পুরো সময় পূর্ব পাকিস্তান এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান&nbsp; সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন। পাকিস্তানী জনগণের মধ্যে এ নিয়ে সর্বদাই আলোচনা হতো এবং অফিসে অনেকে এ নিয়ে আমাদের বিভিন্ন প্রশ্ন করতেন ।</p>



<p>সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকাতে, পূর্ব পাকিস্তানে কোথায় কি হচ্ছে সীমিত আকারে পত্র -পত্রিকায় আসতো। &nbsp; এই ছোট্ট শহরে আমরা সবাই মেস করে থাকতাম এবং আর্মি অফিসার্স মেসে দুবেলা খাওয়া হতো।&nbsp; রুটি, মাংস, ডাল ও সপ্তাহে একদিন একটু ভালো খাওয়া । খেতে খেতে ক্লান্ত হয়ে মাঝে মধ্যে নিজেরা রান্না করে ডাল ভাত খেতাম।&nbsp; অফিসে হালকা কাজ, বিকেলে পায়ে হেটে শহরে ঘোরাঘুরি করে রাতে খেয়েদেয়ে কেউ কেউ তাস&nbsp; খেলা এবং আমি লাইব্রেরি থেকে কিছু বই এনে সময় পার করতাম।&nbsp;&nbsp;</p>



<p>কয়েক মাসের মধ্যেই আমি ক্লান্ত হয়ে চাকুরী ছেড়ে দিয়ে ইসলামাবাদ&nbsp; কৃষি মন্ত্রণালয়ে নতুন চাকুরী নিয়ে চলে গেলাম।&nbsp; জি ৬-২ আপপাড়া কয়েকজন মিলে এক বাসায় থাকি ।&nbsp; রাত&nbsp; হলেই ট্রানজিস্টর নিয়ে নাড়াচাড়া করি মুক্তিযুদ্ধের খোঁজখবর নেয়ার জন্য।&nbsp; কিন্তু কোনো ক্রমেই ১২ ০০ মাইল দূরে কোথায় কি হচ্ছে, কিছুই জানতাম&nbsp; না। &nbsp; নভেম্বর ১৯৭১ এর দিকে অফিস থেকে আমাদের চাকুরী থেকে ছাঁটাই করে বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছে।&nbsp; ঢাকা চলে আসতে চাই, প্লেনের টিকেট পাওয়া যাচ্ছে না, তাছাড়া এরোপ্লেন ভর্তি সেনাবাহিনীর লোক নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।&nbsp; আব্দুস সাত্তার (সিএসপি) কাবুল বর্ডার দিয়ে পার হতে গিয়ে ধরা খেয়ে ফেরত পাঠিয়েছেন।&nbsp; আমাদের আর এক অফিসার, দেশে স্ত্রী ও মাবাবা কে কোথায় আছে,খবর না পেয়ে অস্থির। সে&nbsp; একটা চিঠি লিখে&nbsp; রেখে আত্মহত্যা করেছে।&nbsp; এ নিয়ে পুরা ইসলামাবাদে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;</p>



<p>ডিসেম্বর ১৯৭১ প্রথম দিকে ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডির আকাশে ভারতীয় আক্রমণ শুরু হলো।&nbsp; প্রতিরাতেই ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডি শহরে ব্ল্যাক আউট এবং এয়ার সাইরেন শুনা যাচ্ছে।&nbsp; সারা শহর অন্ধকার ; এক রাতে আমাদের বাসার দরোজায় কড়ানাড়ার আওয়াজ হচ্ছে।&nbsp; আমরা ৪ জন বাংলাদেশী যুবক ভয় পেয়ে ভিতর থেকে বলছি কে কে ? উর্দুতে বলে আমরা তোমাদের প্রতিবেশী; ভয়ে দরজা খুলছি না।&nbsp; ওরা বলে&nbsp; তোমরা আকাশে টর্চ মেরে&nbsp; শত্রুকে বোম্বিং করার জন্য উৎসাহ দিচ্ছো ।&nbsp; আমরা হতভম্ব হয়ে যত বলি এটা হতেই পারে না। কোনো অবস্থাতেই দরজা খুলছি না , শেষে আমাদের শাসিয়ে চলে যায়।&nbsp;&nbsp;</p>



<p>দেশ স্বাধীন হয়ে গেলো ।&nbsp; পূর্ব পাকিস্তান থেকে দুই সংসদ সদস্য নুরুল আমিন(মুসলিম লীগ ) ও রাজা ত্রিদিব রায় (স্বতন্ত্র) ইসলামাবাদ ছিলেন;&nbsp; নুরুল আমিন সাহেব কে&nbsp; ভাইস প্রেসিডেন্ট ও রাজা ত্রিদিব রায়কে সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী হিসাবে&nbsp; নিয়োগ দিলেন। পাকিস্তান /আফগানিস্তান বর্ডার কিছুটা শিথিল হলে আমরা কয়েকজন মিলে দালালের স্বরণাপন্য হয়ে পায়ে হেটে কাবুল,&nbsp; আফগানিস্তান পৌঁছি।&nbsp; কাবুল থেকে দিল্লি হয়ে দেশে পৌঁছতে প্রায় তিন সপ্তাহ লেগেছিলো।&nbsp;&nbsp;</p>



<p>১৩</p>



<p>বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট&nbsp;</p>



<p>১<br>তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে প্রায়শই সরকার ও বিরোধী শক্তির মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব লেগে থাকে। এর একমাত্র কারণ এ সব দেশে নামে গণতন্ত্র,কাজে অগণতন্ত্র, অর্থনৈতিক হতাশা, ক্ষমতাসীন দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারের সুবিধাভোগী কার্যকলাপে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বল্গাহীন অবস্থায় থাকে।&nbsp; &nbsp;। প্লেটোর ভাষায় “গণতন্ত্র গরিব ও অশিক্ষিত সমাজে অযোগ্য। ” গরিব দেশে মানুষের প্রথম চাহিদা হলো ভাত (রুটি) ,অতি সাধারণ পরিধেয় বস্ত্র এবং বেঁচে থাকার জন্য চিকিৎসা, ও জাতিসংঘের সনদ অনুযায়ী সবার জন্য মুক্ত শিক্ষানীতির প্রবর্তন করা। অনুন্নত দেশগুলিতে এই তিনটি অধিকারের কোনটিই পুরাপুরি নেই। এক শ্রেণীর লোক ক্ষমতার অপব্যবহার করে সুবিধা ভোগ করে; কিছু লোক সরকারের ধামাধরা নীতির ফলে&nbsp; নিজেরা ও সুবিধা ভোগ করে।&nbsp; বাকি জনতা এ সব সুবিধাভোগীদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ভূমিকা নিয়ে গণমিছিল, জ্বালাও পোড়াও থেকে শুরু করে গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।</p>



<p>প্লেটোর মতে গণতন্ত্র বলতে জনগণের অনিয়ন্ত্রিত সমাজ ব্যবস্থা , অনাকাঙ্খিত বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার বুঝায় । স্বৈরাচারী সরকার জনগণকে মিথ্যা প্রতিচ্যুতি দিয়ে ক্ষমতা দখল করে যে তার শাসনামলে গণতান্ত্রিক বিশৃঙ্খলার অবসান ঘটাবে। কিন্তু তা বাস্তবে সম্ভব হয় না । অনুন্নত দেশগুলিতে শিক্ষার উপর গুরুত্ব দেয়া হয় না ; তাছাড়া জনগণের শিক্ষার প্রতি মনোভাব ও পাল্টায় না । গরিব ঘরের যেখানে দুবেলা রুটির ব্যবস্থা নেই,ওদের পক্ষে ছেলেমেয়েদের সময় নষ্ট করে স্কুলে পাঠানো দরকার নেই বলে অনেক বাবামায়ের অভিমত । এক যুগে আমাদের সমাজে ছেলেমেয়েদের পড়াশুনা করানো বিলাসিতা বলে গণ্য হতো , অনেকেই মনে করতো অযথা অর্থ ও সময়ের অপচয়। যে সমাজের মানুষ অশিক্ষিত,ওরা গণতন্ত্রের মূল্য বুঝবে না। যে সমাজে অর্থের বিনিময়ে ভোট বিক্রি হয়, মিথ্যা মামলা দিয়ে লোক ফাঁসানো হয়, খুন হলে খুনির শাস্তি হয় না ; সে সমাজে গণতন্ত্রের সঠিক মূল্যায়ন হতে পারে না।</p>



<p>তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে স্বচ্ছ জবাবদিহি সরকারি&nbsp; নির্বাচন বা দেশ পরিচালনা হয় না।&nbsp; উদাহরণ স্বরূপ বাংলাদেশে গত কয়েকটি নির্বাচন সঠিক হয়নি বা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল বলে অনেকের ধারণা।&nbsp;&nbsp; এ দেশে একদলের প্রতিনিধিরা রাষ্ট্র পরিচালনা এবং অপর দল মিছিল,হরতাল,জ্বালাও পোড়াও কাজে ব্যস্ত থাকে; দেশের বড় দুইটি দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই মেরুতে বাস করে। দেশে অনেক অগ্রগতি হয়েছে ; তবে দুর্নীতি চরমে পৌঁছেছে বলে অনেকের ধারণা।</p>



<p>বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট ‘ :<br><br></p>



<p>১৯৪৭ সনের ভারত ভাগ হওয়ার পর পাকিস্তানের ২৩ বৎসরের ইতিহাসে একটি মাত্র নির্বাচন (১৯৭০ ) সঠিক ভাবে হয়েছিল যা তৎকালীন পাকিস্তান সরকার মেনে না নিয়ে ৯ মাস পূর্ব পাকিস্তানে গৃহযুদ্ধ বেঁধে দেয়ার ফলে ১৯৭১ সনে দেশ ভাগ হয়ে বাংলাদেশের সৃষ্টি হয়। ১৯৭১ সন থেকে দেশে দুর্ভিক্ষ,অনাবৃষ্টি ,অতিবৃষ্টির ফলে বন্যা, খাদ্য সংকট কাটিয়ে উঠতে বেশ সময় লেগেছে। পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠী সম্পদের ন্যায্য হিস্যা না দিয়ে আমাদের ঠকিয়েছে। দেশে সাড়ে সাত কোটি মানুষ, খাদ্য সমস্যা তো ছিল ; উল্লেখযোগ্য ঘটনার মধ্যে দুর্ভিক্ষ, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা , সেনা অভ্যুত্থান, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ছিল । এ সব সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে অনেক সময় লেগেছে।</p>



<p>১৯৪৭ সনে পূর্ব বাংলা শিক্ষা, শিল্প,কল- কারখানায় অনগ্রসর এবং ব্রিটিশ আমলে যা কিছু উন্নতি হয়েছিল কলিকাতা ভিত্তিক। ভারতের হিন্দু মাড়োয়াড়ি ও মধ্যম শ্রেণীর ব্যাবসায়ী যা কিছু অর্থ বিনিয়োগ করেছে ,সবই পশ্চিম বঙ্গে তথা কলিকাতায় । মুসলমান মেজরিটি হলেও -গরিব মজুর, রিকশা চালক, খেটে খাওয়া বাঙ্গালী। এমন একটি ভূখণ্ড নিয়ে পূর্ব পাকিস্তান তৈরি হলো যার হৃদপিন্ড পশ্চিম বঙ্গে ; এ নিয়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী শহীদ সারওয়ার্দী বলিষ্ঠ কণ্ঠে আপত্তি জানিয়ে ছিলেন। ১৯৪৬ সনের কলিকাতার হিন্দু -মুসলমান দাঙ্গায় কয়েক&nbsp; হাজার মুসলমান প্রাণ দিয়েছিলো ; তা কোনোদিন ভুলে যাওয়ার মতো না। গানের ভাষায় বলা হতো “রানাঘাট, শিয়ালদহ আজ ও আছে ভাই ,আমি যাবো আমার দেশে সোজা রাস্তা নাই। ” এ সব সমস্যা কাটিয়ে আজকের বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ, রাস্তাঘাট এবং শিল্পে অনেকখানি এগিয়েছে- এই অগ্রযাত্রাকে ধরে রাখতে হলে, দেশে আস্থাশীল সরকার থাকা দরকার।</p>



<p>ক) দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট বিদ্যমান থাকলে বিদেশী বিনিয়োগ ক্রমেই হ্রাস পাবে। রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কালো ছায়া ফেলছে। ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং অর্থনীতিবিদরা উদ্বিগ্ন যে রাজনৈতিক দলগুলি রাস্তায় নেমে যেভাবে সহিংসতা ছড়িয়ে দিচ্ছে তাতে ব্যবসা, বাণিজ্য এবং শিল্প কর্মকাণ্ডে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হচ্ছে।<br>খ ) হরতাল,অবরোধ অবশ্যই অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর- যদি এখনই গণতান্ত্রিক সরকার না আসে,এতে পুরো দেশ আরও বড় সমস্যায় পড়বে।<br>গ ) আমাদের সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলির উপর নির্ভর করছে দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলা। আজকের দুনিয়া একে অপরের দেয়া- নেয়া, একের প্রতি অন্যের বিশ্বাস স্থাপনের উপর নির্ভর করে। যদি দেশে রাজনৈতিক শান্ত পরিবেশের অভাব হয়,তা বিদেশী পুঁজি বিনিয়োগের উপর প্রভাব পড়বে , এতে দেশের ক্ষতি ও জনগণের ভোগান্তি বাড়বে। সবাইকে নিয়ে “হারিজিতি নাহি লাজ ” পলিসি নিয়ে দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে নেয়ার বিকল্প কোনো পথ নেই।</p>



<p>২</p>



<p>পৃথিবীতে অনেক দেশ রয়েছে, যে সব দেশে স্বৈরাচার ও অনভিজ্ঞ সরকারের দরুন জনগণের দুর্ভোগ চরমে -তাদেরই একটি সুদান। সুদান উত্তর-পূর্ব আফ্রিকায় অবস্থিত, আয়তন ১,৮৮৬,০৬৮ বর্গ কিলোমিটার বা ৭২৮,২১৫ বর্গমাইল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। দেশটির দুই অংশের লোক সংখ্যা ৫০ মিলিয়ন , যার ১০ মিলিয়ন দক্ষিণ সুদানে এবং ৪০ মিলিয়ন উত্তর সুদানে। ব্রিটিশ ও মিশরীয় উপনিবেশ থেকে স্বাধীন হওয়ার পর গৃহ যুদ্ধ শুরু হয়; সুদান তেল সমৃদ্ধ দেশ হওয়া সত্ত্বেও নানা সমস্যার মধ্যে তেল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।</p>



<p>১৯৫৬ সনে সুদান ব্রিটিশ ও মিশরীয় উপনিবেশ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে।স্বাধীনতার ৬ মাসের মাথায় এই দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। জনসংখ্যার দিকে তাকালে দেখা যাবে যে উত্তর সুদানে 97% মুসলিম এবং দক্ষিণ সুদানে ৬১% খ্রীষ্টান ধর্মাবলম্বী। দুই অংশের মধ্যে বহুদিনের ধর্ম ও নানা দিক নিয়ে সমস্যা ও গৃহযুদ্ধ চলে আসছে। সুদানের প্রথম গৃহযুদ্ধ শুরু হয় যখন ব্রিটিশ ও মিশরীয় শাসকরা এই অঞ্চলকে উপনিবেশ মুক্ত করে। দক্ষিন সুদানের জনগণ উত্তর সুদানের কর্তৃত্ব মেনে নিতে পারে নি যার ফলে বিদ্রোহ শুরু হয় এবং দক্ষিণ সুদান ২০১২ সালে সমগ্র সুদান থেকে স্বাধীনতা লাভের পর নিজেদের মধ্যে সংঘাতপূর্ণ অবস্থার মধ্যে রয়েছে।<br>২০১৯ সালের এপ্রিলে সাবেক প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে সুদান রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। সামরিক ও বেসামরিক গোষ্ঠীগুলির মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।</p>



<p>রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক,সামাজিক এবং আরও নানা কারণে সুদানে সংঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। সুদানের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য জাতিগত সংঘাত গুলির উল্লেখযোগ্য হ’ল দারফুর সংঘাত এবং দক্ষিণ সুদানের গৃহযুদ্ধ । দারফুর সংঘাত ২০০৩ সালে শুরু হয়েছে এবং এর ফলে লক্ষ লক্ষ লোক মারা গেছে এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছে।</p>



<p><br>দুর্বল প্রশাসন : দেশে সঠিক আইনের প্রয়োগ নেই । অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, দুর্নীতি এবং সামাজিক অস্থিরতা দেশে বিশৃঙ্খলতার সৃষ্টি করেছে। সরকার ও বেসরকারি গোষ্ঠীর মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব বহুদিন থেকে চলে আসছে ।</p>



<p>তেল সম্পদ ব্যবস্থাপনার সমস্যা : সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে সুদান তেল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, উৎপাদনের সঠিক অর্থ দেশের কাজে ব্যবহৃত না হয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে।</p>



<p><br>ক্ষমতালোভীদের সংঘাত : সুদানে ক্ষমতার লড়াই সামরিক বাহিনী এবং প্যারামিলিটারি বা রেপিড সাপোর্ট ফোর্সের (আরএসএফ) মধ্যে দীর্ঘদিনের সমস্যা। দুটি গোষ্ঠী রাষ্ট্র এবং এর সম্পদের নিয়ন্ত্রণের জন্য লড়াই করছে।</p>



<p>দক্ষিণ সুদানের গৃহযুদ্ধ, সরকার, বিরোধী বাহিনীর মধ্যে একটি বহুমুখী দ্বন্দ্ব এবং এই সংঘাতের ফলে প্রায় ৪ লক্ষ মানুষ মারা যায় ; বহু লোক দেশের ভিতর ও বাহিরে আশ্রয় নিয়েছে।<br>দারফুর সুদানের একটি অঞ্চল যা সামাজিক বৈষম্য, পরিবেশগত সংকট, প্রাকৃতিক সম্পদ কে নিয়ন্ত্রণ করবে এ নিয়ে প্রতিযোগিতা, এবং বিরূপ শাসনের একটি জটিল ইতিহাসের মুখোমুখি হয়েছে। এই অঞ্চলটি মিলিশিয়াদের সহিংসতায় ভুগছে ;যারা গ্রামগুলি পুড়িয়ে দিয়েছে, লুটপাট করছে । আইনের শাসন, নিরাপত্তা এবং মানবিক সহায়তার অভাবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন প্রত্যাহারের ফলে এই সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।</p>



<p>অনুন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির সঠিক রাজনৈতিক দিকনির্দেশনার অভাব রয়েছে । এ সব দেশে শিক্ষা নিম্নমানের, গণতন্ত্রের ব্যবহার নেই বললেই চলে । ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য নিজেদের ও সরকারি শক্তি কাজে লাগিয়ে শাসনের নামে শোষণ করে। দেশের মঙ্গলের চেয়ে নিজের আত্ত্বতৃপ্তির কথা ভেবে পরিবার কেন্দ্রিক রাজনীতি দিয়ে দেশ পরিচালনা করে।</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>বিয়ের বেড়াজাল</title>
		<link>https://probashikantho.com/2026/01/15/%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b2/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 16 Jan 2026 01:50:10 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Column]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=12272</guid>

					<description><![CDATA[সাইদুল হোসেন (পূর্ব প্রকাশিতের পর) একজন সরলমনা নারীর মুখে শুনা দু’টি কাহিনী ঢাকা। ১৯৮৯ অথবা ১৯৯০ সন। স্থান : Personnel Training]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p class="has-medium-font-size"><strong>সাইদুল হোসেন</strong></p>



<p class="has-medium-font-size">(পূর্ব প্রকাশিতের পর)</p>



<p class="has-medium-font-size"><strong>একজন সরলমনা নারীর মুখে শুনা দু’টি কাহিনী</strong></p>



<p>ঢাকা। ১৯৮৯ অথবা ১৯৯০ সন। স্থান : Personnel Training Institute Office</p>



<p>(এক)</p>



<p class="has-medium-font-size"><strong>আমার বড় বোনের কথা</strong></p>



<p>আমরা চার বোন। বড় বোন বেশ সুন্দরী। চোখে পড়ার মত সুন্দরী সে। ক্লাস টেনে পড়ার সময়েই এক যুবক ওর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে প্রেম নিবেদন করে। আমার বড়বোনও সেই ডাকে সাড়া দেয়। গভীর প্রেম। একে অন্যকে ছাড়া বাঁচবে না, এমনি অবস্থা। সময় যায় কিন্তু সেই প্রেমিক বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে আসে না। ওদিকে বোন আমার বিয়ে করে ঘর-সংসার করতে, সন্তানের মা হতে আগ্রহী।</p>



<p>এমনি সময়ে এক ধনী লোক আমার বড় বোনকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। বোন রাজী হয় না। “আমার একজন প্রেমিক আছে, আমি তাকে ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করবো না। আমরা দু’জন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ”, জানালো সে অকপটে।</p>



<p>“আপনার সেই প্রেমিক কে?” জানতে চাইলো সেই লোকটা। বোন তার পরিচয় দিলে সে বললো, “আরে সে তো গরীব লোক। আপনাকে বিয়ে করে সে প্রতিপালন করবে কিভাবে?”</p>



<p>বোন বললো, “তাহোক আমি তাকেই বিয়ে করবো।”</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full"><img loading="lazy" decoding="async" width="400" height="225" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/01/বি.jpg" alt="" class="wp-image-12273"/><figcaption class="wp-element-caption">বিয়ের অনুষ্ঠানে বর-কনে। ছবি : সংগৃহীত</figcaption></figure>
</div>


<p>বোন অধীর আগ্রহে বিয়ের প্রস্তাবের অপেক্ষা করছে। একদিন খবর পেলো যে তার প্রেমিক অন্য এক মেয়েকে বিয়ে করে ঘর-সংসার করছে।</p>



<p>খবরটা শুনে বোন আমার পাগলের মত দৌড়ে সেই ছেলের বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত। সে বাড়িতেই ছিল। “তুমি অন্য মেয়েকে বিয়ে করেছ একথাটা কি সত্যি?” বোন আমার জানতে চাইলো।</p>



<p>ছেলেটা নিস্পৃহ গলায় জবাব দিল, “হ্যাঁ, কথাটা সত্যি।”</p>



<p>“তুমি আমাকে বিয়ে করার কসমটা কেন ভংগ করলে?” “তোমার চেয়ে আরো ভালো মেয়ে পেলাম, তাই।” জবাব দিল সে।</p>



<p>হতাশ হয়ে ঘরে ফিরে এলো বোন আমার। কয়েক সপ্তাহ মন মরা অবস্থায় কান্নাকাটি করে আঘাতটা সামলে নিয়ে দেখা করতে গেল সেই ধনী লোকটার সাথে। তাকে বললো, “আপনার প্রস্তাবে আমি রাজী।”</p>



<p>লোকটা বললো, “দুঃখিত, বড় দেরী করে ফেলেছেন। ইতিমধ্যে আমি তো বিয়ে করে ফেলেছি।”</p>



<p>শুনে আমার বোন বললো, “আপনি যদি রাজী থাকেন আমি আপনার দ্বিতীয় স্ত্রী হয়ে সতীন নিয়ে ঘর করতে রাজী আছি।”</p>



<p>লোকটা বললো, “আমাকে কিছুদিন সময় দিন, ভেবে দেখি।”</p>



<p>কয়েক সপ্তাহ পর সেই লোকটা আমাদের রাড়িতে এসে বাবা-মার কাছে প্রস্তাব দিলো, “আপনাদের বড় মেয়ে আমার ঘরে একজন স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও তাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দিয়েছে। সতীনের সংসারে ওর কোন আপত্তি নেই। আমি আমার স্ত্রীকে বুঝিয়েশুনিয়ে রাজী করিয়েছি। এখন আপনারা রাজী হলে বিয়ের দিন-তারিখ ধার্য করতে পারেন।”</p>



<p>বাবা-মা বড় আপাকে ডেকে ওর মতামত জানতে চাইলে সে সম্মতি দেয়। বিয়ে হয়ে গেল একদিন। বড় বোন তার স্বামীর বাড়ি চলে গেল।</p>



<p>আমার বোনটা তার প্রেমিকের উপর প্রতিশোধটা নিলো এইভাবে বটে কিন্তু তার পর থেকে ওর সুন্দর মুখটাতে মিষ্টি সেই হাসিটা আর নেই, হারিয়ে গেছে। বেশ কিছু বছর হয়ে গেল, কোন সন্তানাদিও নেই এপর্যন্ত।</p>



<p>(দুই)</p>



<p class="has-medium-font-size"><strong>আমার কথা</strong></p>



<p>আমি কোন সুন্দরী নারী নই, তবে লোকমুখে শুনতে পাই যে আমার মাঝেও নাকি আকর্ষণীয় কিছু আছে। কিন্তু সেসব জানার বা অনুসন্ধান করার কোন সুযোগ আমি পাইনি। আমার বয়স যখন মাত্র ১২-১৩ বছর, এক এম.বি.বি.এস. ডাক্তার আমাকে বিয়ে করার জন্য প্রস্তাব দেয়। “আমাদের মেয়ের বিয়ের বয়স হয়নি” বলে যতই আমার বাবা-মা আপত্তি জানায়, ডাক্তার ততই বলে, “সব ঠিক হয়ে যাবে। আমি একজন ডাক্তার, আমি জানি।”</p>



<p>আমার জন্য একজন ডাক্তার স্বামী খোঁজা মা-বাবার ধারণাতেই ছিল না। সেই লোভনীয় পাত্র এখন সামনে হাজির। বিয়ে করতে আগ্রহী। বলছে, কোন খরচও লাগবে না। মেয়েকে তো একদিন বিয়ে দিতেই হবে। আবার এমন সুযোগ আসবে না। এসব কথা বিবেচনা করে তাঁরা রাজী হয়ে গেলেন।</p>



<p>বিয়ে হয়ে গেল। স্বামীর বাড়ি চলে গেলাম আমি। ছ’ মাস না যেতেই প্রেগন্যন্ট হয়ে গেলাম। সময়মতই এক কন্যা সন্তান প্রসব করলাম। সুন্দরী, স্বাস্থ্যবতী কন্যা। ডাক্তার দারুণ খুশী। খুশী আমিও।</p>



<p>কিন্তু খুশী-আনন্দটা বেশীদিন স্থায়ী হলো না। মেয়ের বয়স যখন ছ’ মাস, ডাক্তারের&nbsp; ব্যবহারে পাগলামীর লক্ষণ দেখা দিলো এবং মাস তিনেক পরেই বদ্ধ পাগল হয়ে কোথায় যে চলে গেলো, কোন সন্ধানই করতে পারলাম না আমরা।</p>



<p>শ্বশুর বাড়ি ছেড়ে মেয়েটাকে সংগে নিয়ে বাপের বাড়ি ফিরে এলাম। দিন যায় কিন্তু স্বামীর দেখা নেই। মা-বাবা আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। দুশ্চিন্তাগ্রস্ত আমি নিজেও। দু’বছর চলে গেল এমনি করে করে।</p>



<p>আমাকে আবার বিয়ে দেয়ার চিন্তা শুরু হলো। কিন্তু আমি তো এখনো একজনের স্ত্রী, সেটার কি হবে?</p>



<p>মা-বাবা ও শ্বশুর-শাশুড়ী গেলেন মসজিদে ইমাম ও মুল্লাদের পরামর্শ নিতে। ঘটনার বিবরণ শুনে তাঁরা বললেন যে আমি বর্তমানে একজন তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী কারণ ইসলামী শারী’আ আইনের বিধান অনুসারে পাগল স্বামীর স্ত্রী পাগলামী শুরুর দু’বছর পর automatically তালাক হয়ে যায়। আর এই ক্ষেত্রে তো সেই পাগল স্বামীও নিখোঁজ। সুতরাং আগ্রহী কোন পাত্র পেলে আপনাদের মেয়েকে নির্ভাবনায় আবার বিয়ে দিতে পারেন। কোন সমস্যা নেই।</p>



<p>আরো এক বছর পর এক আগ্রহী পাত্র এগিয়ে এলো। বললো যে আমার সন্তানটি সহই সে আমাকে বিয়ে করতে রাজী আছে। বিয়ে হয়ে গেলো। পাতলাম দ্বিতীয় সংসার। সেঘরে এলো পরপর আরো দু’টি মেয়ে। ম্যাটৃকটা পাস করলাম এসব ঝামেলার মাঝেই। স্বামীর অফিসেই একটা ছোটখাট কাজও জুটিয়ে দিলেন তার বস। দু’জনের আয়ে সুখেদুঃখে দিনগুলো কেটে যাচ্ছে। আমার এই স্বামীটা একজন উত্তম লোক, সে আমাকে খুব ভালোবাসে। আমার বয়স এখন ২৮ বছর।</p>



<p>(তিন)</p>



<p class="has-medium-font-size"><strong>ইয়েস অর নো?</strong></p>



<p>১৯৯৫ সনের জুন অথবা জুলাই মাসের ঘটনা। টরন্টো শহরের কোন এক ঠিকানায়&nbsp; আমার যাওয়া দরকার ছিল কিন্তু জায়গাটা আমার অপরিচিত। তাই খোঁজ খবর নিয়ে সাবওয়েতে গিয়ে ট্রেনে চড়লাম এক সকালে। ট্রেইন থেকে নেমে উপরে উঠলাম বাস ধরতে। আমাকে বলা হয়েছিল সাউথবাউন্ড বাসে চড়তে কিন্তু বহু খোঁজাখুঁজি করেও সাউথবাউন্ড বাসস্টপ পেলাম না, পেলাম নর্থবাউন্ড বাসস্টপ। সেখানে একজন মাত্র বৃদ্ধ যাত্রী দাঁড়িয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন। তাঁকে আমার সমস্যার কথা বললাম। শুনে তিনি বললেন, “তুমি ঠিক জায়গাতেই পৌঁছেছ। সাউথবাউন্ড কোন বাস নেই এখানে, তুমি যেখানে যেতে চাচ্ছ সেখানে এই নর্থবাউন্ড ধরেই যেতে হয়। আমি তো ওখানেই যাচ্ছি। ফলো মি। ইয়েস অর নো?”</p>



<p>হেসে বললাম, “ইয়েস। থ্যাঙ্কস্। তবে রাস্তার পুলিশ অফিসার এবং বাসে যেতে হলে বাস ড্রাইভারই হচ্ছে বেস্ট গাইড। বাস আসলে ড্রাইভারকেও জিজ্ঞাসা করা যেতে পারে।” বলতে বলতেই দূরে একটা বাস আসতে দেখা গেল। বৃদ্ধ বললেন যে ওটাই আমাদের নর্থবাউন্ড বাস। বাস এসে আমাদের ঠিক সামনেই থামল। দেখলাম, হ্যাঁ, ১৮নং নর্থবাউন্ড বাসই বটে। বৃদ্ধ আমার পিঠে হাত রেখে প্রশ্ন করলেন, “ইয়েস অর নো?” বললাম, “ইয়েস।” তারপর বললাম, “আপনি আগে উঠুন, আমি আপনাকে ফলো করব।”</p>



<p>বাসে উঠে ড্রাইভারকে আমার গন্তব্যস্থানের কথা বললে সে জানাল যে আমি সঠিক বাসেই চড়েছি, নো প্রোবলেম। বৃদ্ধ তাঁর পাশের সীটে আমার জন্যে জায়গা দখল করে রেখেছেন। আমার কথা শেষ হতেই তিনি ইশারায় আমাকে তাঁর পাশে গিয়ে বসতেই তিনি প্রশ্ন করলেন, “ড্রাইভার কি বলল? আমি যা বলেছিলাম তা ঠিক? ইয়েস অর নো?” বৃদ্ধের কথাবার্তায় আমি খুব মজা পাচ্ছিলাম। তাই হেসে বললাম, “ইয়েস।” ইতিমধ্যে বাস চলতে শুরু করেছে। তিনি তাঁর বাঁ হাত বাড়িয়ে একটা রাস্তা দেখিয়ে আমাকে বললেন, ওই দিকটা হলো সাউথবাউন্ড কিন্তু কোন বাস ওদিকে রান করে না। দেখবে আমাদের বাসটা রাইট টার্ন নেবে, সে-দিকটা হলো নর্থ।</p>



<p>বাস ঠিক তাই করল। তখন উজ্জ্বল চোখে আমার দিকে তাকিয়ে বৃদ্ধ আবার জিজ্ঞাসা করলেন, “ইয়েস অর নো?” পূর্ববৎ হেসে জবাব দিলাম, “ইয়েস।”</p>



<p>তারপর প্রসঙ্গ বদলে প্রশ্ন করলেন, “ডু আই লুক লাইক আ ক্যানাডিয়ান? লুক এট মাই ফেইস এ্যান্ড সে ইয়েস অর নো।” তাঁর গায়ের চামড়ার রঙ এবং ইংরেজী বলার ধরণ কোনটাই ক্যানাডিয়ানদের মত নয়। তাই বললাম, নো। তিনি সজোরে মাথা ঝাঁকিয়ে বললেন, “রা-ই-ট! নো ডাউট এ্যাবাউট ইট। পঁয়তাল্লিশ বছর ধরে এদেশে বাস করছি বটে তবে আসলে আমি একজন পর্তুগীজ, পর্তুগাল হচ্ছে আমার দেশ।” বাস চলছে।</p>



<p>সামনে একটা মেজর রোড ইন্টারসেকশন। ওটা দেখিয়ে তিনি বললেন, “ওখানে আমরা নামব।” নামলাম। দেখলাম আমার হাতের কাগজে লেখা অফিসের নাম, রাস্তার নাম ও নাম্বার এবং টেলিফোন নাম্বার একটা সাইনবোর্ডে স্পষ্টাক্ষরে লেখা রয়েছে। বৃদ্ধ আমার হাত ধরে রাস্তা পার করালেন এবং ঠিক সেই অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে বড় একটা হাসি দিয়ে আমার দিকে ডানহাত বাড়িয়ে দিলেন। আমি তাঁর হাত আমার হাতে নিলাম। বললেন, “আমি তোমাকে ঠিক বলেছিলাম না? ইয়েস অর নো?”</p>



<p>বললাম, “ইয়েস এ্যান্ড থ্যাঙ্কস্।” আমার ডান হাতে চাপ দিতে দিতে আবার বললেন, “অলওয়েজ ট্রাস্ট অ্যান ওল্ডম্যান।” বললাম, “ইয়েস এ্যান্ড আই উইল রিমেম্বার দ্যাট।” শুনে আমার হাতে একটা ঝাঁকি দিয়ে ছেড়ে দিলেন। তারপর ‘বা-ই বলে হাত নাড়িয়ে লম্বা লম্বা পা ফেলে একটা ওয়াকওয়ে ধরে একটা রেসিডেন্সিয়াল এরিয়ার ভিতর ঢুকে গেলেন। এবার আমিও সেই অফিসের দিকে পা বাড়ালাম। এবং ভাবতে লাগলাম, কি বিচিত্র এই জগৎ!</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
		<item>
		<title>আমেরিকা ও কানাডা শরণার্থীর দেশ</title>
		<link>https://probashikantho.com/2026/01/15/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%be-%e0%a6%93-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%a1%e0%a6%be-%e0%a6%b6%e0%a6%b0%e0%a6%a3%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a5/</link>
		
		<dc:creator><![CDATA[Khurshid]]></dc:creator>
		<pubDate>Fri, 16 Jan 2026 01:40:06 +0000</pubDate>
				<category><![CDATA[Column]]></category>
		<guid isPermaLink="false">https://probashikantho.com/?p=12269</guid>

					<description><![CDATA[নজরুল ইসলাম (পূর্ব প্রকাশিতের পর) “১৯৮৬ সালের অভিবাসন সংস্কার ও নিয়ন্ত্রণ আইন, আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান কর্তৃক স্বাক্ষরিত হয়ে]]></description>
										<content:encoded><![CDATA[
<p><strong>নজরুল ইসলাম</strong></p>



<p>(পূর্ব প্রকাশিতের পর)</p>



<p>“১৯৮৬ সালের অভিবাসন সংস্কার ও নিয়ন্ত্রণ আইন, আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান কর্তৃক স্বাক্ষরিত হয়ে আইনে পরিণত হয়। এ প্রসঙ্গে রিগ্যান কোনো এক সময় বলেছিলেন, “ জাপানের মতো ধনী দেশেও যদি অবৈধ অভিবাসী বা&nbsp; উদ্বাস্তু প্রবেশ করে, সে দেশের সরকার ওদের স্থায়ী নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার দেয় না। কিন্তু আমরা অবৈধ অভিবাসীদের সে সুযোগ দিয়ে থাকি। এই দেশের আনাচে কানাচে যে সব বহিরাগত অবৈধ লোক সূর্যের আলোতে গা ঢাকা দিয়ে জীবিকা অর্জন করে, তাদের অন্ধকার থেকে আলোর পথে আসার সুযোগ দেব। ”</p>



<p>আমেরিকা ও কানাডাকে শরণার্থীর দেশ (refugee country ) বলা হয়। আলবার্ট আইনস্টাইন একজন জার্মান নাগরিক; অ্যাডলফ হিটলার জার্মানিতে ইহুদিদের বিরুদ্ধে নাৎসি “নির্মূলের যুদ্ধে” জড়িয়ে পড়ায় আতঙ্কিত হয়ে আলবার্ট আইনস্টাইন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং তাঁকে আমেরিকান নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছিল। আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল ছিলেন স্কটিশ বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান-মার্কিন উদ্ভাবক, বিজ্ঞানী এবং প্রকৌশলী যিনি প্রথম ব্যাবহারিক টেলিফোনের আবিষ্কারক। আমেরিকা এবং কানাডায় যত বড়ো বড়ো ব্যক্তি, সবাই ইউরোপ ও অন্যান্য দেশ থেকে এসে কঠোর পরিশ্রম করে এ দেশকে ঢেলে সাজিয়েছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার অব্যবহিত পর থেকে ইউরোপের শরণার্থী আমেরিকা ও কানাডায় এসে আশ্রয় নিয়েছে, আমাদের দেশের লোকেরাও ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়া বাস করে। আফ্রিকার প্রতিটি দেশে ভারতীয় বংশোদ্ভূত লোক বাস করে আসছে। ঋষি সুনাক, ভূতপূর্ব ব্রিটিশ প্রধান মন্ত্রী ভারতীয় বংশোদ্ভূত। ১৯৬০ এর দশকে পূর্ব আফ্রিকা থেকে তাঁর পিতামাতা ব্রিটেনে অভিবাসিত হয়েছিলেন। কমলা হ্যারিস, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট; তিনি প্রথম আফ্রিকান আমেরিকান, প্রথম এশীয় আমেরিকান এবং প্রথম মহিলা ভাইস প্রেসিডেন্ট। কমলা হারিস বর্তমানে প্রেসিডেনশিয়াল নোমিনেশন নিয়ে ডোনাল ট্রাম্পের সঙ্গে নির্বাচনে নেমেছেন, কে জানে হয়ত আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হবেন। ঐতিহ্যগতভাবে, নেটিভ আমেরিকানরা উত্তর-পূর্ব এশিয়া থেকে এসেছে বলে মনে করা হয়। আজ কানাডা বিশ্বের সবচেয়ে বহু-সাংস্কৃতিক দেশ, এবং বিশ্বের প্রতিটি দেশ থেকে প্রতিটি জাতিগত এবং ধর্মীয় গোষ্ঠীর অভিবাসীদের আবাসস্থল। কিন্তু কানাডায় বসবাসকারী একমাত্র মানুষ ছিল কানাডার “আদিবাসী “জনগোষ্ঠী বা কানাডার মূল বাসিন্দা, যারা অনেকাংশে অবহেলিত এবং সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত।&nbsp;</p>



<p>২</p>



<p>কিন্তু সব দেশ কি মানুষকে সে ভাবে মূল্যায়ন করে?</p>



<p>মায়ানমারে অনেক জাতিগত সংখ্যালঘু যেমন : শান, বার্মিজ, চীনা, মগ, রোহিঙ্গাসহ আরও বহু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোক বাস করে। রোহিঙ্গারা মূলত মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বাস করে। ঐতিহাসিকভাবে, তারা কৃষিকাজ, মাছ ধরা এবং বাণিজ্যসহ বিভিন্ন পেশায় নিযুক্ত ছিল। নিরীহ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ঐতিহাসিকভাবে নিম্ন শ্রেণির বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত, ওই দেশের সামরিক সরকার তাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে, দেশের মৌলিক পরিষেবাগুলিতে সীমিত প্রবেশাধিকার দিয়েছে এবং বাস্তুচ্যুত করেছে।</p>


<div class="wp-block-image">
<figure class="alignleft size-full"><img loading="lazy" decoding="async" width="500" height="333" src="https://probashikantho.com/wp-content/uploads/2026/01/রো.jpg" alt="" class="wp-image-12270"/><figcaption class="wp-element-caption">বাংলাদেশে আসছে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা। ছবি :  ইউনিসেফ / লেময়েন</figcaption></figure>
</div>


<p>বহুদিন থেকেই মায়ানমারে রোহিঙ্গারা বৈষম্যের শিকার। এই রোহিঙ্গারা মায়ানমারের অনেক জাতিগত সংখ্যালঘুদের মধ্যে একটি। ২০১৭ সালের শুরুতে মায়ানমারে প্রায় ১০ লাখ বা তার ও বেশি রোহিঙ্গা ছিল, তারা দেশটির অনেক জাতিগত নির্যাতিত সংখ্যালঘুদের মধ্যে অন্যতম। তাদের “রোহিঙ্গা মুসলিম”, “মুসলিম আরাকানিজ” এবং “বার্মিজ মুসলিম” বলা হয়।&nbsp;</p>



<p>দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের (১৯৩৯-১৯৪৫ ) সময়, রোহিঙ্গারা ব্রিটিশদের পক্ষে সমর্থন দিয়েছিলো, যদিও মায়ানমারের জাতীয়তাবাদীরা জাপানিদের সমর্থন করেছিল। যুদ্ধের পর ব্রিটিশরা রোহিঙ্গাদের কিছু কিছু লোককে মর্যাদাপূর্ণ সরকারি পদে পুরস্কৃত করে এবং তাদের কে স্বায়ত্তশাসিত রাষ্ট্র দেওয়ার অঙ্গীকারও করে, যদিও তা বাস্তবে দেয়া হয়নি।</p>



<p>মায়ানমার ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীনতার পর রোহিঙ্গারা প্রতিশ্রুত স্বায়ত্তশাসিত রাষ্ট্রের দাবি জানালেও মায়ানমার কর্মকর্তারা তাদের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে। তাদেরকে বিদেশি আখ্যায়িত করে নাগরিকত্ব দিতে অস্বীকার করে। ১৯৫০ সালে কিছু রোহিঙ্গা নিজেদের দাবিদাওয়া নিয়ে সরকারের নীতির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। তারা নাগরিকত্ব দাবি করে, তারা সেই স্বায়ত্তশাসিত রাষ্ট্র &nbsp;চেয়েছিল যা ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক তাদের প্রতিশ্রুতি দেওয়াও হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনী সেই &nbsp;আন্দোলনকে দমন করে।</p>



<p>১৯৮২ সালে প্রণীত মায়ানমারের নাগরিকত্ব আইন আনুষ্ঠানিকভাবে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের অধিকার অস্বীকার করে। তাদেরকে বিদেশি আখ্যায়িত করে এবং সেনাবাহিনী তাদের উপর হত্যা, নির্যাতন চালায়, ধর্ষণ করা হয় অসংখ্য নারীকে। তারা রোহিঙ্গাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। তারা বেসরকারি রোহিঙ্গা ব্যাবসাও বন্ধ করে দেয়, যার ফলে গোষ্ঠীটি আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। উপরন্তু, রোহিঙ্গারা জোরপূর্বক শ্রম, নির্বিচারে আটক এবং শারীরিক আক্রমণের শিকার হয়েছিল।</p>



<p>২০১৭ সালে মায়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের উপর নতুন করে আক্রমণ চালায়, বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয় এবং দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য করে। এ পর্যন্ত এগারো লক্ষ (১.১ মিলিয়ন ) বা তার ও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী মায়ানমারে জাতিগত ও ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।</p>



<p>বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার ব্যাপারে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সকল সদস্যের উচিত, মায়ানমারের সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা এবং বিষয়টি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে প্রেরণ করা। ভেদাভেদ ভুলে, সকল সদস্য দেশ এগিয়ে এসে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির স্থায়ী নিষ্পত্তি করা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।&nbsp;</p>



<p>মায়ানমারে সামরিক শাসন দীর্ঘদিন স্থায়ী ছিল এবং ২০২১ সালে পুনরায় অং সান সু চি’র বেসামরিক নেতৃত্বাধীন সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে পুনরায় ক্ষমতা দখল করে। মায়ানমার ২০১৮ সালে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করার ব্যাপারে সম্মত হলে ও বাস্তবে হয়নি।&nbsp;&nbsp;</p>



<p>যে সব দেশে সামরিক সরকার একবার ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বসে, সে সব দেশে গণতান্ত্রিক সরকার বেশিদিন টিকে থাকতে পারে না, মায়ানমারে ও তাই হচ্ছে। এ দেশটি বিশৃঙ্খল অবস্থায় রয়েছে এবং দেশের অর্থনীতি ও বিপর্যয়ের মুখে। কোনো দেশেই স্বৈরাচারী সরকার সুষ্ঠুভাবে বেশিদিন দেশ পরিচালনা করতে পারে না। লিবিয়ার গাদ্দাফি স্বৈরাচার সরকার চলে যাওয়ার পর, দেশ আজ পর্যন্ত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে আছে এবং স্থিতিশীল সরকার গঠন করা সম্ভব হচ্ছে না। সিরিয়ার হাফেজ আসাদ চলে যাওয়ার পর তাঁর উত্তরসূরি বাসার আসাদ এবং দেশের অরাজকতা চরমে, এ দেশটিও বর্তমানে দুই ভাগে বিভক্ত এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল রয়েছে।&nbsp;</p>



<p>মায়ানমারের ১.১ মিলিয়ন শরণার্থী বাংলাদেশের জন্য বিরাট সংকট নিয়ে এসেছে; প্রতি বছর রোহিঙ্গা শরণার্থীদের থাকা খাওয়া ও বিবিধ খরচের জন্য প্রচুর পরিমাণ অর্থ সাহায্য দরকার। এ ছাড়া এদের জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য বাড়তি খরচ ও প্রয়োজন। বাংলাদেশ ঘনবসতিপূর্ণ, এ দেশে এই বাড়তি জনসংখ্যা স্থায়ীভাবে রাখা কোনোক্রমেই সমীচীন হবে না। চীন এবং রাশিয়া&nbsp; সহ প্রতিটি UNO সদস্য দেশ এ সমস্যা সমাধানে এগিয়ে এসে মায়ানমারের সামরিক সরকারকে চাপ দিয়ে রোহিঙ্গাদের নিজের দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি। “জোর যার মুল্লক তার” এই নীতির ফলে সারা দুনিয়াতে অশান্তি চরমে পৌঁছেছে। সবাই মুখে মুখে বলে ” আমরা শান্তি চাই “; কিন্তু বাস্তবে তার বিপরীত।</p>



<p>নজরুল ইসলাম</p>



<p>টরন্টো</p>



<p>ডিসেম্বর ১৫, ২০২৫</p>
]]></content:encoded>
					
		
		
			</item>
	</channel>
</rss>
