ছোটখাট গাড়ি দুর্ঘটনার কথা বীমা কোম্পানিকে না জানালে হতে পারে বড় বিপদ
মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণের মামলায় জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না
প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ : সম্প্রতি প্রকাশিত এক জরিপে দেখা গেছে, ছোটখাট বা হালকা সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে প্রতি ১০ জনের ৪ জন নিজেরাই গাড়ি মেরামতের খরচ বহন করেছেন। খবর সিবিসি নিউজের।
‘কস্ট অফ লিভিং’ কর্তৃক পরিচালিত ঐ জরিপে দেখা গেছে যে, গত পাঁচ বছরে দুর্ঘটনার শিকার ৪৩ শতাংশ ব্যক্তি নিজের পকেট থেকে মেরামতের খরচ বহন করেছেন – এবং তাদের মধ্যে ৫৭ শতাংশ বলেছেন যে তারা তাদের প্রিমিয়ামের বৃদ্ধি এড়াতে চান।
কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে এটি একটি সাশ্রয়ী পদক্ষেপ মনে হলেও ভবিষ্যতে এর জন্য তাদেরকে বড় ধরনের বিপদে পড়তে হতে পারে। আইন ও বীমা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চালকরা কেবল স্বল্পমেয়াদী খরচ বিবেচনা করছেন। কিন্তু এটি তাদেরকে পার্সোনাল ইনজুরী মামলার ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। তাদের বীমা পলিসি বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয় এবং ভবিষ্যতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি মাত্রার প্রিমিয়াম গুনতে হতে পারে। এমনকি কোন বীমা কোম্পানী হয়ত তাদেরকে নতুন করে কোন বীমা পলিসি ইস্যু নাও করতে পারে।

কারণ বীমাকারীর কাছে দুর্ঘটনার কথা প্রকাশ না করা আইনবিরোধী, এমনকি যদি বীমা গ্রহীতা নিজেই ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি মেরামতের জন্য অর্থ প্রদান করার সিদ্ধান্ত নেন।
কিন্তু যে কোনও কারণে হোক, “বেশিরভাগ মানুষ বুঝতে পারে না” যে দুর্ঘটনার কথা বীমা কোম্পানিকে জানানো একটি আইনি দায়িত্ব। কানাডার বীমা ব্যুরোর ভোক্তা ও শিল্প সম্পর্ক বিভাগের জাতীয় পরিচালক রব ডি প্রুইস জরিপ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘দ্য কস্ট অফ লিভিং’-কে এ কথা বলেছেন।
উল্লেখ্য যে, কানাডায় গাড়ির বীমা প্রিমিয়াম বৃদ্ধি পাচ্ছে। COVID-19 মহামারীর সময় অবশ্য কিছুটা হ্রাস পেয়েছিল যখন অনেকেই মূলত বাড়ি থেকে কাজ করতেন। এপ্রিল ২০২৫ সালের স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার এক প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, দেশব্যাপী, ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রিমিয়াম ৩৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইতিপূর্বে প্রকাশিত এক রিপোর্ট থেকে জানা যায়, অন্টারিও প্রভিন্সে অটো ইন্সুরেন্স প্রিমিয়াম রেট কানাডার মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। প্রথম অবস্থানে আছে ব্রিটিশ কলম্বিয়া। অন্টারিওতে একজন ড্রাইভারকে বছরে ১৩৫০ ডলার ব্যয় করতে হয় অটো ইন্সুরেন্স এর জন্য। এটি গড় হিসেব। ব্রিটিশ কলম্বিয়ায় একজন ড্রাইভারকে অটো ইন্সুরেন্স এর জন্য ব্যয় করতে হয় গড়ে ১৪০০ ডলার। সাম্প্রতিক সময়ে এই রেট আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
গাড়ি দুর্ঘটনার পর একজন চালককে কতদিনের মধ্যে বীমা কোম্পানিকে জানাতে হবে তা নির্ভর করে তিনি কোথায় থাকেন তার উপর। রিপোর্ট করার আইন প্রদেশভেদে কিছুটা ভিন্ন। কিছু জায়গায়, যেমন অন্টারিওতে, ড্রাইভারদের সাত দিনের মধ্যে রিপোর্ট করতে হবে। অন্যদিকে আলবার্টাতে, সময়সীমা একটু বেশি অস্পষ্ট। বলা আছে- “যত তাড়াতাড়ি সম্ভব।”
নির্ধারিত এই সময়সীমার মধ্যে রিপোর্ট না করার পরিণতি কখনও কখনও বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বীমা আইনে বিশেষজ্ঞ আইনজীবী এবং অন্টারিওর কিংস্টনে অবস্থিত কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এরিক নুটসেন এ কথা বলেন সিবিসি নিউজকে।
তিনি বলেন, চুপ থাকার অর্থ বীমাকারীর সাথে আপনার চুক্তির লঙ্ঘনের শামিল। এবং যখন আপনার পলিসি নবায়নের সময় আসে তখন ঝুঁকি আরও বেশি থাকে। সেই সময়ে, সম্পূর্ণ দুর্ঘটনার ইতিহাস প্রকাশ না করা জালিয়াতির সমতুল্য, নুটসেন বলেন।
নুটসেন আরও বলেন, এই চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য কারও বিরুদ্ধে ফৌজদারি (Criminal) অভিযোগ আনার সম্ভাবনা কম, তবে এটি বীমা পলিসি বাতিল করে দিতে পারে এবং একজন চালককে ক্ষতিপূরণের দায়বদ্ধতার মধ্যে ফেলে দেয়।
উদাহরণস্বরূপ, যারা হালকা বা সামান্য দুর্ঘটনার কথা চেপে গিয়ে নিজের পকেট থেকে ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদান করতে চান তারা হয়ত কয়েক মাস পরে পার্সোনাল ইনজুরীর মামলার শিকার হতে পারেন। কারণ অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় দুর্ঘটনার পর আঘাতজনিত কারণে কোন ব্যক্তির ইন্টারনাল ইনজুরীর বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ পায় না। এক দেড় মাস সময় নিতে পারে সিম্পটমগুলো প্রকাশ পেতে। এবং সেটা আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তির জন্য খুবই কষ্টকর হতে পারে তখন। এমনকি তা দীর্ঘমেয়াদীও হতে পারে। নুটসেন বলেন, যদি ঘটনাটি পরে রিপোর্ট করা হয় তবে বীমা কোম্পানির খরচ বহন করার কোনও বাধ্যবাধকতায় থাকবে না। আর তার অর্থ হলো, যিনি তথ্য গোপন করেছেন তাকে সম্ভাব্য কয়েক মিলিয়ন ডলারের মামলার ঝুঁকিতে পড়তে হতে পারে। এটি নির্ভর করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির ইনজুরি কতটা ব্যাপক হয় তার উপর।
‘হ্যামিল্টন স্পেক্টেটর’ এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, অন্টারিওর আইন অনুসারে, নিম্নলিখিত পরিস্থিতিগুলি প্রযোজ্য হলে চালককে অবশ্যই তার বীমা কোম্পানিকে দুর্ঘটনার বিষয়টি রিপোর্ট করতে হবে:
• দুর্ঘটনায় জড়িত সমস্ত যানবাহনের সম্মিলিত ক্ষতি $2,000 এর বেশি হলে।
• দুর্ঘটনার ফলে কেউ আহত হলে বা কারোর মৃত্যু হলে।
• দুর্ঘটনায় জড়িত কোন একজন চালকের বীমা না থাকলে।
• দুর্ঘটনায় একজন পথচারী বা সাইকেল আরোহী জড়িত থাকলে।
• পৌরসভা বা ব্যক্তিগত সম্পত্তির ক্ষতি হলে।
• কোন সরকারি যানবাহন জড়িত থাকলে। এবং
• বিপজ্জনক পণ্য পরিবহণকারী কোনো যানবাহন জড়িত থাকলে।
(বি: দ্র: উপরের রিপোর্টটি কোন আইনি পরামর্শ নয়। প্রয়োজনে আপনি আপনার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে পারেন।)
