কুইবেকের স্কুলসমূহে ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়ানো হলো
আইন না মানায় ইতিমধ্যেই মন্ট্রিয়লে কিছু কর্মী চাকুরিচূত্য হয়েছেন বা সাময়িকভাবে বরখাস্ত হয়েছেন অথবা কেউ কেউ নিজে থেকেই পদত্যাগ করেছেন
প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ : কুইবেকের নতুন আইনে স্কুলে ধর্মীয় প্রতীক বা পোষাক ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণের পর মন্ট্রিলের কয়েক ডজন স্কুল কর্মীকে হয় চাকুরীচ্যুত করা হয়েছে, বা সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে অথবা কেউ কেউ নিজ থেকেই পদত্যাগ করেছেন।

‘মন্ট্রিল অ্যাসোসিয়েশন অফ স্কুল প্রিন্সিপালস’ এর তথ্য অনুসারে, আরও শত শত স্কুল কর্মচারী তাদের চাকরি হারাতে পারেন। এই এসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যাথলিন লেগল্ট আরও বলেন, আমরা এমন এক সময়ে শত শত লোকের চাকরী হারানোর কথা বলছি যখন তাদের স্থানে বিকল্প কাউকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য একেবারেই কেউ নেই।” ‘রেডিও-কানাডা’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেছেন৷
তিনি বলেন, নতুন আইনের কঠোর প্রয়োগের ফলে বৃহত্তর মন্ট্রিল এলাকার স্কুল পরিষেবা কেন্দ্রগুলি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
কুইবেক সরকার ২০২৫ সালের অক্টোবরে বিলটি (Bill 94) পাস করে, যার মাধ্যমে প্রদেশে ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা কেবল শিক্ষক এবং অধ্যক্ষ্যের বেলায়ই সীমাবদ্ধ নয়, স্কুলে কর্মরত সকলের বেলায়ই এই আইন প্রযোজ্য।
মন্ট্রিয়লে একটি ডে-কেয়ারের একজন শিক্ষিকা ছিলেন মারিয়েম ঘারনোগুই। স্থানীয় একটি স্কুল কর্তৃক পরিচালিত ঐ ডে-কেয়ারে কাজ করতেন তিনি। মারিয়েম কর্মস্থলে হিজাব পরতেন। কিন্তু নতুন আইন পাস হওয়ার পর তিনি হিজাব খুলতে অস্বীকৃতি জানান এবং সে কারণে গত ফেব্রুয়ারিতে তিনি তার চাকরিটি হারান।
স্কুল পরিষেবা কেন্দ্রগুলি আইন প্রয়োগ শুরু করছে
মন্ট্রিল অঞ্চলের যে সকল স্কুল পরিষেবা কেন্দ্রের সাথে রেডিও-কানাডার পক্ষ থেকে যোগাযোগ করেছিল তারা নিশ্চিত করেছে যে গত শরতে নতুন আইনটি কার্যকর হওয়ার পর তারা ইতিমধ্যেই তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তা অনুশীলন করতে শুরু করেছে।
এদিকে `ক্যাপিটাল স্কুল সার্ভিস সেন্টার’ (CSS) বলছে যে তারা এখনও অপেক্ষা করছে সরকারের কাছ থেকে স্পষ্ট বার্তা পাওয়ার জন্য। সেই বার্তা পেলে তারা তাদের পদক্ষেপ নিবেন। তবে ইতিমধ্যে কমপক্ষে দুটি সংস্থা নতুন আইন প্রয়োগ শুরু করেছে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, কুইবেক এর `ক্যাপিটাল স্কুল সার্ভিস সেন্টার’ এর আওতাধীন des Mille-Îles এলাকায় আটজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং আরও চারজন পদত্যাগ করেছেন কারণ তারা তাদের ধর্মীয় প্রতীক অপসারণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।
অন্যদিকে `ক্যাপিটাল স্কুল সার্ভিস সেন্টার’ এর লাভাল অঞ্চলে প্রায় ৪০ জন কর্মচারী অনুমোদিত অবৈতনিক ছুটিতে রয়েছেন এবং পাঁচজন পদত্যাগ করেছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ২০ জন কর্মী আছেন যারা ১৯ মার্চ, ২০২৫ সালের আগে `ক্যাপিটাল স্কুল সার্ভিস সেন্টার’এ নিযুক্ত ছিলেন, কিন্তু তারপর থেকে তারা অবস্থান পরিবর্তন করেছেন।
কুইবেকের বিরোধী দল Québec Solidaire-র সহ-মুখপাত্র রুবা গজল এই আইনটিকে “বৈষম্যমূলক” বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন যে এর জন্য স্কুল কর্মীদের চাকরি হারানো উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, “এটা আমাদের স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য একটা বিপর্যয়। এটা তাদের জন্য খুবই খারাপ। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় অনেক সরকারি সমস্যা রয়েছে।
