কানাডা ২০২৬ সালে অভিবাসন নিয়ম কঠোর করবে
প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ : কানাডা ২০২৬ সালে অভিবাসন নিয়ম কঠোর করবে এবং কম সংখ্যক নতুন ইমিগ্রেন্ট, শিক্ষার্থী এবং অস্থায়ী কর্মী গ্রহণ করবে। নতুন ইমিগ্রেন্ট গ্রহণের বিষয়ে চলমান কাটছাঁট প্রক্রিয়া দেশটির জন্য একটি বড় পরিবর্তন, যা বছরের পর বছর ধরে অভিবাসনের মাত্রা বাড়িয়ে আসছিল। খবর সিটিভি নিউজের।
২০২৪ সালের শেষের দিকে কানাডায় বেকারত্বের হার হ্রাস, আবাসন ক্রয়ক্ষমতা মোকাবেলা এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো সরকারি পরিষেবার উপর চাপ কমানোর জন্য কম সংখ্যক নতুন ইমিগ্রেন্ট, শিক্ষার্থী এবং অস্থায়ী কর্মী গ্রহণ করার নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল।
তবে কানাডা সাধারণভাবে ২০২৬ সালে নতুন ইমিগ্রেন্ট এবং অস্থায়ী কর্মীদের সংখ্যা কমিয়ে আনলেও যারা দক্ষ কর্মী, ফরাসি ভাষাভাষী এবং যাদের রয়েছে কানাডিয়ান কাজের অভিজ্ঞতা, তাদেরকে কানাডায় আসার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। কারণ তারা কানাডার অর্থনীতিতে বেশি অবদান রাখতে পারবে। সিটিভি নিউজকে এ কথা বলেন ক্যালগারি-ভিত্তিক অভিবাসন পরামর্শদাতা মনদীপ লিদার। তিনি আরও বলেন, সামগ্রিকভাবে কানাডার অভিবাসন নীতি কম সংখ্যক কিন্তু বিশেষ দক্ষ কর্মীদের বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

ইতিপূর্বে অভিবাসন পরিকল্পনায়, কানাডা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তারা ২০২৪ সালে প্রথম চালু হওয়া কাটছাঁট অব্যাহত রাখবে। কারণ ফেডারেল সরকার অভিবাসীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যহারে কমাতে চায়। আর এই কারণে নতুন অভিবাসন পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সরকার। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৫ সালে পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছিল ৩৯৫,০০০ জন। ২০২৬ সালে এই সংখ্যা দাঁড়াবে ৩৮০,০০০ জনে এবং ২০২৭ সালে ৩৬৫,০০০ জনে। ২০২৪ সালের ২৪ অক্টোবর নতুন এই ঘোষণা দেয়া হয়েছিল।
বস্তুত, সাম্প্রতিক সময়ে কানাডায় আবাসন সংকট এবং চিকিৎসা সংকট তীব্র আকার ধারণ করায় লোক সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ নেয় ফেডারেল সরকার। আর সে কারণেই কানাডায় অভিবাসীদের সংখ্যা কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য যে, কানাডা গত বছর ৩,৯৩,৫০০ জন নতুন ইমিগ্রেন্টকে কানাডায় প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে। ইমিগ্রেশন, রিফিউজি এণ্ড সিটিজেনশিপ কানাডার (IRCC) মতে, এই সংখ্যাটি নতুন ইমিগ্রেন্টদের স্বাগতম জানানোর লক্ষ্যমাত্রার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। তবে এটি আসলে ২০২৪ সালের শরৎকালে ঘোষিত পূর্বাভাসের তুলনায় কিছুটা কম। হিসাবে দেখা গেছে এই সংখ্যা ২০২৫ সালের জন্য নির্ধারিত ৩,৯৫,০০০ জন ব্যক্তির লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ২০০০ জন কম।
মনদীপ লিদার বলেন, “ইমিগ্রেশন পলিসি পরিবর্তনের অর্থ হল, উন্নত শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং পেশাদার পটভূমি সম্পন্ন আবেদনকারীরা কানাডায় প্রবেশ করার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন। ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বছরের পর বছর ধরে বেশি সংখ্যায় ইমিগ্রেন্ট গ্রহণের পর নতুন ইমিগ্রেশন পলিসি একটি কাঠামোগত সংশোধন এবং কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থার একটি বড় ধরণের পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত দেয়।”
ইমিগ্রেন্ট বা পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট হলেন তারা যারা কানাডার নাগরিক নন। কিন্তু এরা দীর্ঘ সময়ের জন্য কানাডায় বসবাস এবং কাজ করার জন্য অনুমতি পান। তারা কর প্রদান করেন এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো পরিষেবার পান। কিন্তু নাগরিকদের মতো তারা কানাডায় ভোট দিতে পারে না। তবে পর্যায়ক্রমে তারা নাগরিকত্ব পান কানাডার।
কানাডার নতুন ইমিগ্রেশন পলিসির আওতায় শ্রম ঘাটতি এবং সরকারি অগ্রাধিকার পূরণের জন্য, স্বাস্থ্যসেবা, সমাজসেবা, বাণিজ্য পেশা, কৃষি, শিক্ষা এবং STEM (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল এবং গণিত) পেশায় অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদেরও এক্সপ্রেস এন্ট্রি সিস্টেমের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
ফরাসী ভাষায় দক্ষ ইমিগ্রেন্টের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে
যদিও কানাডা সামগ্রিক অভিবাসন সংখ্যা কমিয়েছে, তবে ফরাসী ভাষায় দক্ষ (ফ্রাঙ্কোভাষী) ইমিগ্রেন্টের সংখ্যা বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির। ২০২৬ সালের জন্য নতুন ফ্রাঙ্কোভাষী স্থায়ী বাসিন্দাদের লক্ষ্যমাত্রা ৯ শতাংশ করা হয়েছে যা ২০২৫ সালে ৮.৫ শতাংশ ছিল। এই লক্ষ্যমাত্রা ২০২৭ সালে ৯.৫ শতাংশ এবং ২০২৮ সালে ১০.৫ শতাংশে উন্নীত হবে।
শরণার্থীদের বেলায় কঠোর আশ্রয় বিধি এবং লক্ষ্যমাত্রা
২০২৬ সালে শরণার্থী, প্রটেক্টেড বা সুরক্ষিত ব্যক্তি এবং মানবিক কারণে আশ্রয় চাওয়া ব্যক্তিদের লক্ষ্যমাত্রা ৫৬,২০০ জন নির্ধারণ করা হয়েছে, যা পূর্ববর্তী লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ১২,০০০ কম। ২০২৭ সালে এই সংখ্যা আবার ৫৪,৩০০-এ নেমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং ২০২৮ সালেও এই সংখ্যাটি একই থাকবে।
কানাডা বিল সি-২ নামে নতুন এক আইনও প্রস্তাব করছে গত বছর জুনে যেখানে বলা আছে, কোনো ব্যক্তি কানাডায় পৌঁছানোর এক বছরেরও বেশি সময় পরে অথবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্থল সীমান্ত অতিক্রম করার ১৪ দিনেরও বেশি সময় পরে যদি শরণার্থী হিসাবে আশ্রয়ের দাবি জমা দেন তবে তা অগ্রহণযোগ্য হবে। নতুন এই বিল সি-২ ‘স্ট্রং বর্ডারস অ্যাক্ট’ নামেও পরিচিত। যদিও এটি এখনও পাস হয়নি। বিল সি-২ কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিকভাবে অভিবাসন নথি এবং আবেদন বাতিল করার ক্ষমতাও দিতে পারে।
