কানাডায় দলবদলের রাজনীতি

কনফেডারেশনের পর থেকে ৩০০ জনেরও বেশি এমপি সংসদে ফ্লোর অতিক্রম করেছেন : সম্প্রতি প্রভিন্সিয়াল লেভেলে দলবদল করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপিপি ডলি বেগমও

প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬ : কানাডার আলবার্টা প্রভিন্সের এমপি ম্যাট জেনেরাক্স কনজারভেটিভ পার্টি ছেড়ে লিবারেল ককাসে যোগদান করেছেন, যার ফলে বর্তমান সংখ্যালঘু লিবারেল পার্টির আসন সংখ্যা পার্লামেন্টে আরও একটি বৃদ্ধি পেয়েছে। খবর দি কানাডিয়ান প্রেস এর।

উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি লিবারেল পার্টির এমপি ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড এবং বিল ব্লেয়ারের পদত্যাগের মাধ্যমে দুটি আসন হারানোর পর, দলটি সংসদে কার্যকরী সংখ্যাগরিষ্ঠতার ক্ষেত্রে আরও পিছিয়ে আছে।

এমপি ম্যাট জেনেরাক্স কনজারভেটিভ পার্টি ছেড়ে দেওয়ায় সাম্প্রতিক মাসগুলিতে এটি রক্ষণশীল নেতা পিয়েরে পোইলিভ এর উপর তৃতীয়বারের মতো আঘাত আসলো।

নোভা স্কটিয়ার এমপি ক্রিস ডি’এন্ট্রেমন্ট কনজারভেটিভ ককাস ত্যাগ করে লিবারেলদের সাথে যোগদানের কয়েকদিন পর, নভেম্বরের গোড়ার দিকে জেনেরাক্স তার পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এরপর ১৮ ডিসেম্বর অন্টারিওর এমপি মাইকেল মা কনজারভেটিভ পার্টি থেকে লিবারেল পার্টিতে যোগদানকারী দ্বিতীয় ব্যক্তি হন।

লিবারেল ককাস হলিডে পার্টিতে কনজারভেটিভ পার্টি থেকে লিবারেল পার্টিতে আসা মাইকেল মা-এর হাত তুলছেন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। ছবি : জাস্টিন ট্যাং/দ্য কানাডিয়ান প্রেস

কোন একটি দল থেকে নমিনেশন পেয়ে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর পরবর্তীতে সেই দল ছেড়ে অন্যদলে যোগদান (যা ফ্লোর ক্রসিং নামে পরিচিত) একটি বিতর্কিত অনুশীলন কানাডায়। তবুও দেখা গেছে, ১৮৬৭ সাল থেকে ৩০০ জনেরও বেশি সংসদ সদস্য ক্ষমতায় থাকাকালীন দল পরিবর্তন করেছেন।

কানাডায় প্রথম সংসদ সদস্য হিসেবে ফ্লোর অতিক্রম করেছিলেন স্টুয়ার্ট ক্যাম্পবেল, নোভা স্কটিয়ার এমপি, যিনি ৩০শে আগস্ট, ১৮৬৮ তারিখে কনফেডারেট-বিরোধী দল থেকে লিবারেল-কনজারভেটিভদের কাছে চলে এসেছিলেন। ডিকশনারি অফ কানাডিয়ান বায়োগ্রাফি অনুসারে, ক্যাম্পবেলকে পরে একটি “সামাজিক অনুষ্ঠানে” ডিম ছোঁড়া হয়েছিল।

লাইব্রেরি অফ পার্লামেন্টের তথ্য থেকে দেখা যায় যে, গত ২৫ বছরে প্রায় ৮০ জন সংসদ সদস্য তাদের দলের সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করেছেন। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের পরিবর্তনের পর, অথবা কখনও কখনও দলের সম্পূর্ণ সংস্কারের পর এই পরিবর্তনগুলি প্রায়শই ঘটে।

২০০০ সালের সেপ্টেম্বরে, কুইবেকের এমপি ডেভিড প্রাইস এবং ডায়ান সেন্ট-জ্যাকস প্রগ্রেসিভ কনজারভেটিভদের দল ত্যাগ করে লিবারেলদের সাথে যোগ দেন যখন জো ক্লার্ক প্রগ্রেসিভ কনজারভেটিভ পার্টির নেতা হিসেবে হাউস অফ কমন্সে ফিরে আসেন।

২০০৩ সালে, প্রগ্রেসিভ কনজারভেটিভ পার্টিকে কানাডিয়ান অ্যালায়েন্সের সাথে একীভূত করে আধুনিক কনজারভেটিভ পার্টি গঠনের পর, প্রগ্রসিভ কনজারভেটিভ এমপি স্কট ব্রিসন লিবারেলদের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন যে, দলটি তার ব্যক্তিগত মূল্যবোধকে আরও ভালোভাবে প্রতিফলিত করে। এর পর তিনি লিবারেল পার্টিতে যোগ দেন।

২০০৪ সালের গোড়ার দিকে নতুন কনজারভেটিভ পার্টির নেতৃত্বের জন্য প্রতিযোগিতায় নেমেছিলেন বেলিন্ডা স্ট্রোনাচ। পরে ২০০৫ সালে তিনি লিবারেল পার্টিতে যোগ দেন। তিনি বলেছিলেন যে, তৎকালীন কনজারভেটিভ নেতা স্টিফেন হার্পার দেশের সকল অংশের চাহিদার প্রতি সংবেদনশীল ছিলেন না।

২০০৬ সালে, ডেভিড এমারসন একজন লিবারেল হিসেবে ফেডারেল নির্বাচনে জয়লাভ করার মাত্র দুই সপ্তাহ পরেই কনজারভেটিভ দলে যোগ দেন। এমারসন সেই সময় প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন হার্পারের প্রথম মন্ত্রিসভায় একজন মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার এই পদক্ষেপের ফলে এথিক্স কমিশনারের অফিস তদন্ত শুরু করেছিল। তবে তদন্তে দেখা যায় যে এমারসন বা হার্পার কেউই কোনও নিয়ম ভঙ্গ করেননি।

উল্লেখ্য যে, অতি সম্প্রতি দলবদল করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিক ডলি বেগমও। তবে এটি ছিল প্রভিন্সিয়াল এনডিপি থেকে ফেডারেল লিবারেল পার্টিতে যোগদান। তিনি এনডিপি’র এমপিপি ও ডেপুটি লীডার ছিলেন। এমপিপি ও ডেপুটি লীডারের পদ ছেড়ে দিয়ে তিনি এখন একই রাইডিং থেকে ফেডারেল লিবারেল এর প্রার্থী হয়ে আগামী বাই ইলেকশনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। সম্প্রতি ঐ রাইডিং থেকে লিবারেল এর এমপি বিল ব্লেয়ার পদত্যাগ করেন। কারণ তাকে যুক্তরাজ্যে কানাডার রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। 

গত বছর অন্টারিও’র পার্লামেন্ট নির্বাচনে তৃতীয়বারের মত বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে ডলি বেগম ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন। ঐ নির্বাচনে ডলি বেগম ভোট পেয়েছিলেন ১৪,৫৫৭ টি যা ‘স্কারবরো সাউথওয়েস্ট রাইডিং’ এ প্রদত্ত মোট ভোটের ৪২.৮৯%।

২০১৮ সালে অন্টারিও পার্লামেন্টের নির্বাচনে প্রথমবার জয়ী হয়ে ডলি বেগম প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সৃষ্টি করেছিলেন এক ইতিহাস। অন্টারিওসহ কানাডার অন্য কোন প্রভিন্সে কোন বাংলাদেশি কানাডিয়ান তখন পর্যন্ত এরকম মর্যাদায় ভূষিত হননি। এবং এখন পর্যন্তও না। এমপিপি বা এমপি কোনো পদেই ডলি বেগম ছাড়া আর কোনো বাংলাদেশি কানাডিয়ান  পাশ করতে পারেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *