টরন্টো ইসলামিক সেন্টারে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ স্টাইলে হামলা চালানোর হুমকি!

প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ : টরন্টো ইসলামিক সেন্টার অ্যান্ড কমিউনিটি সার্ভিসেস জানিয়েছে যে তারা ‘গভীরভাবে ত্রাসসৃষ্টিকারী’ একটি ফোন কল পেয়েছে যেটি ইসলামিক সেন্টার এবং এর কর্মীদের ক্ষতি করার হুমকি দিচ্ছে। ঘটনার পর পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে। খবর সিবিসি নিউজের।

টরন্টো পুলিশ জানিয়েছে যে শহরের মধ্যাঞ্চলের একটি মসজিদে মসজিদ এবং এর কর্মীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার হুমকি দিয়ে দুটি ফোন কল আসার পর তারা তদন্ত করছে।

ইসলামিক সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ ফেব্রুয়ারি বুধবার সন্ধ্যা ৭:২০ এবং রাত ৮:৪১ মিনিটে কলগুলি গ্রহণ করা হয়। প্রথম কলটি প্রায় এক মিনিটের ছিল,  দ্বিতীয়টি ১৪ মিনিট স্থায়ী ছিল। কেন্দ্রের একজন কর্মী যখন প্রথম কলটি পেয়ে ৯১১ নম্বরে ফোন করছিলেন, তখন দ্বিতীয় কলটি আসে।

টরন্টো ইসলামিক সেন্টার। ছবি : গুগুল ম্যাপ

ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ কানাডিয়ান মুসলিমস, (একটি অ্যাডভোকেসি সংস্থা) তাদের ইনস্টাগ্রাম পেজে একটি কলের অডিও পোস্ট করেছে। এতে একজন ব্যক্তিকে কলকারীর সাথে কথা বলতে শোনা যাচ্ছে, যিনি ব্রেন্টন ট্যারান্টের (Brenton Tarrant) কথা উল্লেখ করছেন। এই ব্রেন্টন ট্যারান্ট হলেন সেই ব্যক্তি যিনি ২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে অবস্থিত দুটি মসজিদে নামাজরত ৫১ জন মুসলিমকে হত্যা করেছিলেন।

সেদিন নিউজিল্যান্ডের ক্রাইসচার্চ শহরে অবস্থিত দুটি মসজিদে জুম্মার নামাজ এর সময় সন্ত্রাসী ব্রেন্টন ট্যারান্টের অতর্কিত বন্দুক হমলায় ৫১  জন মুসল্লি নিহত হন। এদের মধ্যে ৫ জন বাংলাদেশিও রয়েছেন। সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন আরো প্রায় ৪৮ জন। হামলার ঘটনাটি ফেসবুকে লাইভ প্রচার চালিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়া থেকে আগত ঐ শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তি ব্রেন্টন। দুই বছর ধরে তিনি ঐ হামলার পরিকল্পনা করছিলেন বলে জানা যায়।

এবার সেই ব্রেন্টন এর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে টরন্টোর মসজিদে হামলা চালানোর হুমকি দিলেন অজ্ঞাত এক ব্যক্তি। ফোনে ঐ ব্যক্তি দাবি করেন তিনি কানাডিয়ান নন। এবং যিনি ফোন ধরেছিলেন তাকে ব্রেন্টন ট্যারান্টের নাম অনুসন্ধান করতে বলেন। এরপর হুমকি দিয়ে বলেন, “তোমাদের মসজিদে ক্রাইস্টচার্চের মতো আরেকটি  ঘটনা ঘটতে চলেছে।”

ইসলামিক সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, “ফোনে কথা বলার সময়, অজ্ঞাত সেই ব্যক্তিটি ইসলামোফোবিক এবং বর্ণবাদী ভাষা ব্যবহার করেছিলেন এবং হত্যার স্পষ্ট হুমকি দিয়েছিলেন।”

ইসলামিক সেন্টারের  মহাব্যবস্থাপক শাফনি নালির বলেন, “টেলিফোনে হুমকি পাওয়ার এটি প্রথম ঘটনা নয়, তবে এবারের হুমকিটি ছিল ‘পরবর্তী স্তরের’ এবং বিশেষ করে ‘ভয়ানক’।”

তিনি বলেন, ২০২০ সালে, এই সেন্টারটি একজনের কাছ থেকে একটি হুমকিমূলক ইমেল পেয়েছিল যেখানে বলা হয়েছিল যে, সে মসজিদটি গুলি করে ধ্বংস করবে। ২০২৩ সালে  একজন মসজিদে এসে ফজরের নামাজের পর বাইরে কিছু লোকের উপর হামলা চালিয়েছিল।

কোথা থেকে ফোন এসেছে তা পুলিশ নির্ধারণ করতে পারেনি

পুলিশ জানিয়েছে যে তারা জানে না যে কলগুলি কোথা থেকে এসেছে এবং কলগুলি ঘৃণামূলক অপরাধ হিসেবে তদন্ত করা হবে কিনা তাও তারা বলেনি।

টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চাউ সোশ্যাল মিডিয়া ‘এক্স’ এ দেওয়া এক পোস্টে হুমকিগুলিকে “জঘন্য” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “টরন্টো এমন একটি শহর যা সহানুভূতি, বৈচিত্র্য এবং সকল ধর্মের মানুষের প্রতি গভীর শ্রদ্ধার উপর নির্মিত। আমরা সহিংসতা, ইসলামোফোবিয়া বা যেকোনো ধরনের ঘৃণার হুমকি সহ্য করব না। নিজ নিজ উপাসনালয়ে প্রতিটি বাসিন্দার নিরাপদ বোধ করার অধিকার রয়েছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *