আমার দেখা দু’টি বিচিত্র চরিত্রের নারী
সাইদুল হোসেন
(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
এখানে বর্ণিত চরিত্র দু’টির দু’জনই ক্যানাডিয়ান সিটিজেন বহুদিন ধরেই। আমি ওদের পরিচিত। নানা পরিবেশে তাদের সংগে আমার পরিচিতি ও আলাপচারিতা। তাদেরকে নিয়েই সাম্প্রতিক দু’টি গল্প বলছি।
(কাহিনী এক)
ত্রিশোর্ধ বয়সের ইরানী মহিলা। পেশায় একজন ফার্মাসিস্ট। প্রায়ই দেখা হয় সেই ফার্মেসীতে গেলে। অতি অমায়িক, শ্রদ্ধাপূর্ণ ব্যবহার করেন আমার সংগে। ২০২১ সন থেকে আমাদের পরিচয়।
তিনি একদিন তার নোটপ্যাডের একটা পাতায় একটা নাম লিখে তার সামনের কাউন্টারে রেখে আমাকে বললেন, “এটা আমার ছেলের নাম। মাত্র ১১ মাস আগে আমি মা হয়েছি, এটা আমার প্রথম সন্তান। খুব শিঘ্রই আবার মা হওয়ার ইচ্ছা আছে। এই নামটা আমার এবং আমার হাজব্যান্ডের খুবই পছন্দ। কিন্তু নামটার অর্থ আমরা জানি না। Can you please help us, sir? “
মহিলার কথা শুনে আমি তো অবাক। অর্থ না জেনে একটা নাম নিজের সন্তানের জন্য রাখলেন, এরা কেমন মা-বাবা?
আরো একটা বিষয়ে ধাক্কা খেলাম।
সেটা হলো এই যে, মহিলা তো ইরানী। ঐ দেশের বাসিন্দারা প্রায় সবাই মুসলিম (শিয়া অথবা সুন্নী) অথচ বাচ্চাটার নামটা মুসলিম বলে পরিচয় দেয় না, নামটা ক্রিশ্চিয়ান ধাঁচের। কিন্তু মুখে কিছু না বলে বললাম, “আমার কাছে দু’টি Dictionary of Christian Names আছে, আমি সেগুলোতে আপনার ছেলের নামটা খুঁজে দেখবো। তারপর আপনাকে জানাবো।”

ঘরে ফিরে এসে সেই ডিকশনারী দু’টিতে নামটা খুঁজলাম। একটাতে পেলাম না, দ্বিতীয়টাতে পেলাম, কিন্তু নামের অর্থটা এমন যে সেটা কোন মানুষের নাম হওয়ার যোগ্য নয়।
কয়েকদিন পর ওষুধ আনতে গেলাম সেই ফার্মেসীতে। সংগে নিয়ে গেলাম সেই ডিকশনারীটা। আরো নিলাম A Dictionary of Muslim Names. সেই মহিলা আমাকে দেখে দৌড়ে আমার কাছে আসলেন। তখন আমি তাকে Christian Names -এর ডিকশনারীটা খুলে সেটার সেই পৃষ্ঠাটা খুলে ধরলাম যেখানে তার ছেলের নামটা অর্থসহ প্রিন্ট করা রয়েছে। মুখে কিছুই বললাম না।
তিনি সেই নামটা ও তার অর্থটা পড়ে মলিন মুখে বললেন, “বলতে-শুনতে এমন মিষ্টি একটা নামের অর্থ এতো কুৎসিৎ? এখন কি করি?”
দুশ্চিন্তার ছাপ তার মুখে।
আমি তখন তাকে বললাম, “যদি কিছু মনে না করেন তাহলে আমি একটা কথা বলি। আপনি তো একজন ইরানী- হয় শিয়া মুসলিম নয়তো সুন্নী মুসলিম কিন্তু মুসলিম তো বটে। আপনার ছেলের জন্য একটা মুসলিম নাম রাখলে কেমন হয়? আমার সংগে একটা Dictionary of Muslim Names আছে। সেটা আপনি বাড়ি নিয়ে যান, স্বামী-স্ত্রী দু’জনে মিলে দেখেশুনে সুন্দর অর্থবহ একটা নাম select করুন। সমস্যাটা দূর হয়ে যাবে।”
আমার কথা শেষ হলে মহিলা বললেন, “আমার বাবা-মা মুসলিম, তাঁরা বেঁচে আছেন। তবে আমি নিজেকে একজন মুসলিম বলে দাবী করি না। আমি ক্রিশ্চিয়ানও নই তবে আমার হাজব্যান্ড একজন ক্রিশ্চিয়ান। যাহোক আমি আপনার আনা ডিকশনারী দু’টিই সংগে নিয়ে যাচ্ছি। একটা পারিবারিক আলোচনা করে দেখবো কি করা যায়। Many thanks for your sincere efforts, sir.” আমি আমার ওষুধটা নিয়ে চলে এলাম। আবার যখন ফার্মেসীতে যাবো তখন হয়তো জানতে পারবো তাদের সিদ্ধান্তটা।
(কাহিনী দুই)
মহিলা একজন পাকিস্তানী মুসলিম। একটা বড় ফার্মেসীতে কাজ করতেন মিসিসাগা সিটিতে ২০১৮-২০২০এর দিকে। তখনি আমাদের প্রথম পরিচয়। অতি সুন্দর ভদ্র আচরণ তার। তিনি এখন রিটায়ার করেছেন। একটা সিনিয়র রেসিডেন্টস বিল্ডিংয়ে একজন tenant হিসাবে বাস করছেন।
মহিলার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে যে তিনি সদাসর্বদা হাফশার্ট ও প্যান্ট পরে চলাফেরা করেন। অন্যান্য পাকিস্তানী মহিলাদের মত শালওয়ার-কামীজ-হিজাব তার পরনে আমি কোনদিন দেখিনি।
অল্প কিছুদিন আগে আবার আমাদের দেখা এক স্টোরে। তার পরনে পূর্বেকার মতই হাফশার্ট ও প্যান্ট। বললেন, “আসসালামু আলাইকুম। হাউ আর ইউ?”
বললাম, “ওয়ালাইকুম সালাম। আই এম ফাইন। থ্যাংক ইউ।”
তখন তিনি আমাকে জানালেন যে তিনি এখন একজন “হাজ্জন”।
বুঝতে না পেরে তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, “হোয়াট ইজ “হাজ্জন”?”
হেসে দিয়ে বললেন, “পুরুষরা হাজ্জ করলে হন “হাজী” কিন্তু মহিলারা হাজ্জ করলে তারা হয়ে যান “হাজ্জন”- হাজী কথাটার স্ত্রীলিঙ্গ।”
বুঝলাম। বললাম, “মাশাআল্লাহ! খুশীর খবর।”
তখন তিনি জানালেন যে সবেমাত্র (২০২৫) তিনি হাজ্জ করে ফিরে এসেছেন।
পূর্ব পরিচয়ের জের ধরে হেসে বললাম, “হাজ্জ তো করে এসেছেন, একজন হাজ্জনও হয়েছেন। ভালো কথা। কিন্তু আপনার লেবাস (পোশাক) তো সেই আগের মত শার্ট ও প্যান্ট রয়ে গেছে! সেটা বদলানো দরকার নয় কি? হিজাবী হবেন না?”
মাথা নেড়ে বললেন, “নো, আই এম ফাইন উইদ মাই কারেন্ট নরমাল ড্রেস। আল্লাহ নোজ বেস্ট।”
YouTube Shorts থেকে
Motivational speech
ব্যক্তিত্ব ধরে রাখবেন কিভাবে?
১. শুনুন বেশী, বলুন কম।
২. কৌতুক করে হলেও কখনো মিথ্যা বলবেন না।
৩. কথা দিলে কথা রাখার চেষ্টা করুন।
৪. ভুল হলে তর্ক না করে সরি (sorry) বলুন।
৫. অকারণে এবং অপ্রয়োজনে হাসবেন না।
৬. দ্রুত কথা না বলে ধীরেধীরে কথা বলুন।
৭. যা জানেন না তা নিয়ে কথা বলতে যাবেন না।
৮. অজানা বিষয়ে তর্কে জড়াবেন না।
৯. কাউকে বুঝাতে যাবেন না যে আপনিই শ্রেষ্ঠ।
১০. অন্যকে বলতে দিন, তার কথা আগে শুনুন। কারো কথার মাঝখানে বাধা দেবেন না। তার কথা শেষ হতে দিন।
১১. শব্দ করে খাবার খাবেন না।
১২. রাগ উঠলে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করুন।
১৩. কেউ ভুল করলে সহজে ক্ষমা করে দিন।
১৪. ছেঁড়া জামাজুতা পরবেন না।
১৫. সহজে কারো কাছে হাত পাতবেন না।
১৬. পারলে অন্যকে খাওয়ান কিন্তু দাবী করে খাবেন না।
১৭. খাবার সামনে এলে আগে অন্যকে নিতে দিন।
১৮. ছোটবড় সবাইকে সম্মান করে কথা বলুন।
১৯. মুখ ও শরীরের দুর্গন্ধ থেকে নিজেকে মুক্ত থাকুন।
২০. নিজেকে সব সময় ছোট ভাবুন। এটা হলো নম্রতা।
২১. অপমানিত স্থানে দ্বিতীয়বার কখনো যাবেন না।
২২. নিরাশা হলো উন্নতির পথে বড় বাধা। নিরাশ হবেন না। আশাবাদী হোন। চেষ্টা চালিয়ে যান।
২৩. কথায় ও কাজে আবেগটাকে দমন করুন, আপনার মেধা ও মস্তিষ্ককে কাজে লাগান।
২৪. মানুষের মুখ বন্ধ করা সম্ভব নয়। ভিত্তিহীন বিরূপ সমালোচনা অবহেলা (ignore) করতে শিখুন।
২৫. ছোটবড় সব ধরনের সাহায্যের জন্যই আপনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে কেউ ছোট হয় না।
QUOTATION
* * *
Religion
“There is no bad religion, there are only bad people.”
(Morgan Freeman)
(চলবে)
সাইদুল হোসেন
মিসিসাগা, কানাডা
নভেম্বর ৩, ২০২৫
