বাংলাদেশিসহ ৫ লাখ অভিবাসীকে বৈধতা দিতে যাচ্ছে স্পেন
প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক, জানুয়ারি ৩১, ২০২৬ : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যখন অভিবাসন বিরোধী কার্যক্রমে নৃশংসতার আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে, বৈধ কাগজপত্রহীন লোকজনকে পশুর মত হাত-পা বেধে উড়ো জাহাজে তুলে যার যার দেশে ফেরত পাঠাচ্ছে তখন ইউরোপের দেশ স্পেন হাঁটছে ভিন্ন পথে। দেশটির সরকার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশিসহ প্রায় পাঁচ লাখ অনিয়মিত অভিবাসীকে বৈধ করা হবে। দেশটির সরকার বলছে, এই প্রক্রিয়র মাধ্যমে প্রায় ৮ লাখ ৪০ হাজার বৈধ কাগজপত্রহীন অভিবাসীর একটি বড় অংশকে মূলধারায় আনা সম্ভব হবে। সরকারের মতে, এই আভিবাসীরাই স্পেনের উন্নয়নের বড় চলনশক্তি।

স্পেনের বার্সেলোনা, মাদ্রিদ ও ভালেন্সিয়ার মতো শহরে বসবাস করছেন হাজার হাজার বাংলাদেশি। এদের পাশাপাশি অন্যান্য দেশ থেকে যারা স্পেনে গিয়েছেন এবং বৈধতার অভাবে চরম এক অনিশ্চয়তার জীবন অতিবাহিত করছেন তাদের কাছে এই সংবাদ বড় একটা স্বস্তি নিয়ে এসেছে। ধারণা করা হয় বর্তমানে স্পেনে প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি বসবাস করছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্পেন সরকারের এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে দেশটির বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা। স্পেনের বর্তমান অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখতে হলে প্রয়োজন বিপুল সংখ্যক শ্রমিক। সেই দৃষ্টিকোন থেকে দেশটিতে অবস্থানরত ৫ লাখ মানুষকে বৈধ করলে বছরে প্রায় ২ বিলিয়ন ইউরো কর ও সামাজিক নিরাপত্তা অনুদান সরকারি কোষাগারে যোগ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত সপ্তাহে এক রয়্যাল ডিক্রিবলে এই পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে। ফলে পার্লামেন্টে স্যোশালিস্ট-নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলেও এই পদক্ষেপ বাস্তবায়নে বিরোধীদের তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়ার আশঙ্কা এখন আর নেই ।
উল্লেখ্য যে, একবিংশ শতাব্দীতে ইউরোপের আর কোনও দেশ এতটা বড় পরিসরে অভিবাসীদের বৈধতার সুযোগ দেয়নি। নতুন এই পরিকল্পনার আওতায়, যেসব বিদেশি নাগরিকের কোনও ক্রাইম রেকর্ড নেই এবং যারা ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে অন্তত পাঁচ মাস স্পেনে বাস করার প্রমাণ দেখাতে পারবেন, তারা বৈধতার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী বারবারই বলে আসছেন, স্পেনের অর্থনৈতিক অর্জন গতি পাচ্ছে অভিবাসনের কারণেই। সম্প্রতি কয়েক বছরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য দেশগুলোর চেয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এগিয়ে গেছে স্পেন।
বর্তমানে স্পেনে বৈধ কাগজপত্রহীন অভিবাসী হিসাবে যারা বাস করছেন, তাদের অধিকাংশই এসেছেন কলম্বিয়া, পেরু ও হন্ডুরাস থেকে। এ ছাড়া ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকেও এসেছেন অনেকে।
তবে কাগজপত্রহীন এই অভিবাসীদেরকে বৈধতা দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করায় সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছে বিরোধী দলগুলো।
