কুনো ব্যাঙ এর কেরামতি : ৭ দিন আগেই টের পায় ভূমিকম্পের!

কুনো ব্যাঙ ৭ দিন আগেই টের পায় ভূমিকম্পের। ছবি : সংগৃহীত

প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক, জানুয়ারি ১৯, ২০২৬: ভূমিকম্পের মতো ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পূর্বাভাস দেওয়ার কোনো কৌশল আজও আবিষ্কার করতে পারেনি মানুষ। কিন্তু বাড়ির আঙিনায় বা আশপাশে বসবাসকারী কুনো ব্যাঙ নাকি সেই পূর্বাভাষ দিতে পারে! তাও আবার এক দুই ঘণ্টা বা এক দুই দিন আগে নয়, অন্তত এক সপ্তাহ আগে! এর আগে অবশ্য দেখা গেছে, শুধু ব্যাঙই নয়, সাপ, মাছ, হাতি, গাধা এবং বিভিন্ন পাখি ভূমিকম্পের আগের পরিবর্তনগুলো অনুভব করতে পারে।
২০০৯ সালে যুক্তরাজ্যের ওপেন ইউনিভার্সিটির প্রাণিবিদ ড. রাসেল গ্রান্ট ব্যাঙ এর আচরণ নিয়ে একটি গবেষণা পরিচালনা করেন ইতালিতে। তিনি চেয়েছিলেন ভূমিকম্পের আগে এটি কী ধরনের আচরণ করে তা দেখতে। ওই গবেষণায় দেখা যায়, ভূমিকম্পের ঠিক পাঁচ দিন আগে নিজেদের আবাসস্থল ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গিয়েছিল কুনো ব্যাঙের দল।
ড. রাসেল ভূমিকম্পপ্রবণ ইতালির একটি লেকের পাড়ে গবেষণা শুরু করেন। গবেষণা শুরুর ২৯ দিনের মাথায় ইতালিতে ৬ দশমিক ৩ মাত্রার একটি ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়েছিল। গবেষণায় দেখা গিয়েছিল, ছয় থেকে সাত দিন আগে থেকেই ব্যাঙগুলো অদ্ভুত আচরণ শুরু করে। পাঁচ দিনের মাথায় নিজেদের আবাস ছাড়তে শুরু করে তারা। এরপর তিন দিনের মাথায় গবেষণাস্থল এলাকার সমস্ত কুনো ব্যাঙ অন্যত্র চলে যায়। এই ঘটনার তিন দিন পরেই ঘটে সেই ভয়াবহ ভূমিকম্প। শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল সেই সময়।
বিজ্ঞানীদের মতে, প্রাণীরা ভূমিকম্পের আগে প্রকৃতিতে ঘটে যাওয়া ‘পি-ওয়েভ’ নামে পরিচিত অতি সূক্ষ্ম এক কম্পন অনুভব করতে পারে। কিন্তু মানুষ তা পারে না। এমনকি তাদের আবিষ্কৃত রিখটার স্কেলেও তা ধরা পড়ে না।
লক্ষ্য করা গেছে ভূমিকম্পের আগে অনেক প্রাণী অস্থির হয়ে পড়ে। কেউ স্থান বদল করে অন্যত্র চলে যায়, কেউ পানি বা গাছপালার আশ্রয় খোঁজে। এভাবেই তারা নিজেদের সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করে। -তথ্যসূত্র : অনলাইন