উদ্ভিদ ও প্রাণীর মাঝে এক অদৃশ্য যোগাযোগব্যবস্থা রয়েছে!
প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক, জানুয়ারি ১৩, ২০২৬: সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দাবি করা হচ্ছে উদ্ভিদ আর প্রাণীর মাঝে অদৃশ্য এক যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে যা এতদিন আমাদের অজানা ছিল। আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘ই লাইফ’ এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ খবর জানায় বিবিসি।

গবেষকরা বলছেন, উদ্ভিদের উৎপন্ন শব্দ শুনে নারী পোকামাকড়, বিশেষ করে স্ত্রী মথ বা পিপঁড়ে-মথ জাতীয় পোকা তাদের ডিম পাড়ার স্থান পরিবর্তন করে। ইসরাইলের তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক প্রথমবারের মতো নাকি এমন প্রমাণ পেয়েছেন। এই গবেষণা দলই দুই বছর আগে বলেছিলেন, উদ্ভিদ কষ্ট পেলে ‘চিৎকার’ করে, যদিও সেই শব্দ মানুষ শুনতে পায় না। তবে এইসব শব্দ মানুষ শুনতে না পেলেও অনেক পোকামাকড়, বাদুড় এবং কিছু স্তন্যপায়ী প্রাণী তা শুনতে পারে।
গবেষকরা আরও জানান তারা এমনভাবে এক পরীক্ষা করেছেন, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় মথরা গাছের চেহারার কারণে নয়, বরং শুধুমাত্র শব্দের প্রতিক্রিয়ায় তাদের আচরণ পরিবর্তন করছে। গবেষকরা এখন বিভিন্ন উদ্ভিদের উৎপন্ন করা শব্দ নিয়ে গবেষণা চালাবেন এবং দেখবেন, অন্যান্য প্রাণীরাও এসব শব্দ শুনে সিদ্ধান্ত নেয় কি না।
এখন প্রশ্ন হলো, গাছেরা কি একে অপরের সঙ্গেও শব্দের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারে? গবেষকরা বলেন, ভবিষ্যতে তারা এটি নিয়েও গবেষণা করবেন। তবে গবেষকরা এটাও বলেছেন যে, গাছের কোনো অনুভূতি বা চেতনা নেই। শব্দগুলো তৈরি হয় গাছের আশপাশের পরিবেশের পরিবর্তনের শারীরিক প্রতিক্রিয়ায়। কিন্তু এসব শব্দ অন্য প্রাণী বা উদ্ভিদের উপকারে আসতে পারে, যদি তারা তা শুনতে পারে। গবেষকদের মতে, “এটি এক বিশাল, অজানা জগৎ যা এখনো আবিষ্কারের অপেক্ষায়।”
