বিএমসি কানাডার নতুন বর্ষবরণ অনুষ্ঠান
ডাঃ পুলক : এবারের কানাডার শীতটা যেন একটু বেশিই কড়া। প্রতিবছর শীতে স্নো পড়ে কয়েকদিন আর মোটামুটি বাকি দিনগুলো ঠান্ডা থাকে। তবে এবারের শীত হাড়কাঁপানো, একেবারে, প্রতি সপ্তাহেই চলছে স্নো ঝড়। তবে এই শীতেও আমরা বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজের অ্যালামনাই সবাই একসাথে জড়ো হয়েছিলাম, একসাথে নতুন বছর বরণ করতে আর দেশ থেকে আসা আমাদের বড়োভাই ও আপুকে একসাথে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে।

সানি ভাই যখন জানালেন মাসুদ ভাই আর টুম্পা আপা আসছেন তখন একসাথে মিলে একটা অনুষ্ঠান আয়োজন করা যায় কিনা তা নিয়ে সানি ভাইয়ের সাথে কথা হয় আর উনি বলেন যদি মাসুদ ভাই আর টুম্পা আপা শুনেন যে উনাদের জন্য আমরা কোনো আয়োজন করি তাতে উনারা সম্মানিত হবেন। তখন কোর টিমের শুভ ভাই, সুইটি আপু, শাহিনা আপু, রাশেদ ভাই, আনিস ভাই আর পুলক ও রুমা মিলে G2G এর আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয় আর আস্তে আস্তে জড়িত করা হয় স্পন্সর কমল দুলাভাই ও তার বন্ধুদের। আর ডেন্টিস্ট তারেক ভাইকে আর বরাবরের মতো থাকা আনিস ভাই আর ভেন্যু দিয়ে সাহায্য করলেন সুইটি আপু।
রোববার এগারো জানুয়ারি নির্ধারিত হলো অনুষ্ঠান। স্কারবোরোর একটি পার্টি রুমে সবার অংশগ্রহণে একটা অসাধারণ অনুষ্ঠানই হলো। প্রশংসা হলো দুপুরের “বিয়ে বাড়ির ভোজ” খাবারের আর বিকেলে আসা নানা পদের পিঠার। দুপুরের খাবারের স্পন্সর ছিলেন কমল দুলাভাই ও তার টিম আর পিঠার স্পন্সর ছিলেন ডেন্টিস্ট তারেক ভাই। সবাই বেশ আয়েশ করেই উপভোগ করেছে সকল খাবার। মাসালা চা বানিয়ে সকলের চোখের মণি হয়ে গেলো রুমা।
স্মৃতিচারণ করলেন প্রফেসর আনিসুর রহমান স্যার। বাংলাদেশ মেডিক্যালের প্রথম দিককার বেশ কিছু কথা বলে আমাদের নিয়ে গেলেন সেই সময়টায়। মাসুদ ভাই আমাদের বিএমসি’র গর্ব, যিনি আমাদের মেডিকেলে প্রতিষ্ঠা করেছেন অনকোলজি বিভাগ আর কাজ করছেন চেয়ারম্যান হিসেবে। টুম্পা আপু শুধু গুণী প্যাথলজিস্টই নন, সাথে গুণী শিল্পীও বটে। দুটো গান গেয়ে সবার মন ছুঁয়ে গেছেন।

আনিস ভাই তার মিউজিক প্রতিষ্ঠানের জিনিসপত্র আমাদের জন্য স্পন্সর করে একটা মনোমুগ্ধকর পরিবেশ সৃষ্টি করলেন। আর আমাদের নিজেদের শিল্পীদের গুণের কথা কি আর বলবো। সবাই সেরাটা দিয়েছে। ভাতিজা, ভাতিজি আর ভাই-বোন আর দুলাভাইদের সুনামই সুনাম।
শুভ ভাইয়ের কন্যা ফাইজা Golden গান গেলো আর শাহিনা আপুর পুত্র তিনটা রক গান গেয়ে পুরো জমিয়ে দিলো। মোনামি আপু সুনীলের কবিতা শোনালো সবাইকে। মিসটিরি গিফট বক্স নিয়ে মজার একটা গেমও হলো। হাসাহাসিও হলো বেশ কিছুক্ষণ গেমসটার সময়।
কেক কাটা হলো সবাইকে নিয়ে। ডাবল উৎসব, কারণ মাসুদ ভাইয়েরও জন্মদিন। তাই বেশ হই হুল্লোড় হলো। অতিথি ও সংগঠকদের ক্রেস্ট দিয়ে সম্মানিত করা হলো।
পরে গান গাইলো শুভ ভাই, আনিস ভাই আর ডুয়েট করলো শুভ ভাই আর সুইটি আপা। মাঝে অতিথি হিসেবে এসে দুলাভাই আদনান মাতিয়ে দিলেন তার ভারিক্কি গলায় গাওয়া গান দিয়ে।
আমরা সবার সহযোগিতা পেয়েছি এমনকি দুলাভাই বা ভাবী ছিলেন তারাও এগিয়ে এসেছেন নিজেদের অনুষ্ঠান মনে করে। প্রবাসে নিজেদের মধ্যে ঐক্য ধরে রেখে একসাথে এগিয়ে যাওয়া আর মেলবন্ধন বজায় রাখা এক বিরাট সাফল্য।
আমরা সকলের কাছে কৃতজ্ঞ। এই অনুষ্ঠানে যদি তারা এক মুহূর্তের জন্য আনন্দ পেয়ে থাকেন তাতেই আমাদের সফলতা। হাজারো মাইল দূরে থাকা বাংলাদেশ আমাদের অন্তরে থাকে আর কানাডায় আমাদের দেশীয় ঐতিহ্য বজায় রাখতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। ভবিষ্যতে আবারও সকলের সহযোগিতায় আরো বড়ো আকারের কোনো অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাবে এই প্রত্যাশা করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানা হয়।
