উত্তর আমেরিকার চালচিত্র

সাইদুল হোসেন : ‘উত্তর আমেরিকার চালচিত্র’ বইটি লিখেছেন নজরুল ইসলাম মিন্টো। তিনি উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশ সমাজে এক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। সেই ১৯৯১ সনে টরন্টো থেকে প্রকাশিত সর্বপ্রথম সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা ‘দেশে বিদেশে’ প্রকাশের সাহসী উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি পত্রিকাটির প্রধান সম্পাদক।

তবে জনাব মিন্টো শুধুমাত্র একজন সম্পাদক ও পত্রিকা প্রকাশকই নন, তাঁর মেধা ও কুশলতা অন্যান্য ক্ষেত্রেও ছড়িয়ে আছে। তিনি একাধারে – সাংবাদিক, লেখক ও সংগঠক। একজন মিডিয়া পেশাজীবী। আযান টিভি ও ঝংকার টিভি’র প্রতিষ্ঠাতা। এছাড়াও তিনি প্রতিষ্ঠাতা ‘বাংলাদেশ ওয়েলকাম সেন্টার ক্যানাডা’র।  

জনাব মিন্টোর ‘উত্তর আমেরিকার চালচিত্র’ বইটি পড়ার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। বইটি অতি সুখপাঠ্য এবং বহু বিষয়ে তথ্যবহুল রচনা যা গর্বের সাঙ্গে অন্যান্য বিখ্যাত সব লেখকদের কাতারে মাথা উচুঁ করে দাঁড়াতে পারে। নিজস্ব হোম লাইব্রেরীতে শোভা পেতে পারে। প্রিয়জনকে উপহার দেয়া যেতে পারে।

কি আছে এই বইতে সেটার তালিকা তৈরী করতে গিয়ে বইয়ের মলাটে পেয়ে গেলাম সব বর্ণনা, যা এরকম :

“উত্তর আমেরিকার চালচিত্র কেবল আমেরিকা ও কানাডাকেন্দ্রিক নয় – এটি ‘তৃতীয় বাংলা’য় বসবাসকারী প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ের ছবি। লেখক তাঁর প্রায় পঞ্চাশ বছরের প্রবাস জীবনের প্রত্যক্ষ্য অভিজ্ঞতার আলোকে এই চালচিত্রে তুলে ধরেছেন প্রবাসী জীবনের বহুমাত্রিক রূপ, আবেগ, সংগ্রাম ও সাফল্যের নানা দিক।

নজরুল ইসলাম মিন্টো। ছবি : ফেসবুক

গ্রন্থটিতে একদিকে উঠে এসেছে আমেরিকা-কানাডার মূলধারার সামাজচিত্র, অন্যদিকে তুলে ধরা হয়েছে প্রবাসী বাঙালি কমিউনিটির সুখ-দুঃখ, উৎসব-অনুষ্ঠান ও আত্মিক টানাপোড়নের বিচিত্র কাহিনী।

এখানে স্থান পেয়েছে পশ্চিমা সংস্কৃতির রঙিন অধ্যায়; পাশাপাশি রয়েছে বাঙালি ঐতিহ্যের উজ্জ্বল উপস্থিতি।

নানান তথ্য, অভিজ্ঞতা ও বিশ্লেষণে সমৃদ্ধ এ গ্রন্থের প্রতিটি লিখায় ছড়িয়ে আছে লেখকের সূক্ষ্ম রসবোধ, জীবনবোধ ও প্রজ্ঞার ছাপ।

প্রবাসীদের দেশপ্রেম, তাদের মেধা, শ্রম, সততা ও বাঙালি কৃতি সন্তানদের সাফল্যের চিত্র ইতঃপূর্বে কেউ এমন করে তুলে ধরেনি।”

বইটি প্রকাশ করেছে ঢাকার অভ্র প্রকাশন। কানাডায় প্রাপ্তিস্থান : এটিএম মেগা স্টোর, ২৯৭২ ড্যানফোর্থ, টরন্টো। দাম ৪০ ডলার। সংস্করণ: ২০২৫। পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৫৬। বইটিতে বৈচিত্রপূর্ণ ৬৬ টি লেখা রয়েছে।

আমি এই মূল্যবান বইটার সমাদর ও বহুল প্রচার কামনা করি। বইটার লেখককে জানাই আন্তিরিক ধন্যবাদ।

সাইদুল হোসেন

মিসিসাগা