বর্ণবাদী আক্রমণে নয়, অশোয়ায় এক মুসলিম ব্যক্তি মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর খুন হন নিজের ছেলের হাতেই!

প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক, অক্টোবর ১৮, ২০২৫ : গত ১৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকেলে টরন্টোর নিকবর্তী শহর অশোয়া’র একটি মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বের হওয়ার পর কয়েক মিনিটের মাথায়ই খুন হন ৮০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ। খুন হওয়া ব্যক্তির নাম ইব্রাহিম বালা। ঘটনার পরপরই অনেকে সন্দেহ করতে থাকেন এটি সম্ভবত বর্ণবাদী বা ঘৃণাজনিত আক্রমণ ছিল। তবে স্থানীয় মুসলিম নেতৃবৃন্দ সবাইকে খুনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আগাম অনুমান না করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। খবর সিপি২৪.কম এর।

ছবি : ইসলামিক সেন্টার অফ অশোয়া

তবে দ্রুতই আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তদন্তে বেরিয়ে আসে খুনির আসল পরিচয়। ঘটনার তিনদিন পর জানা যায় ইব্রাহিম বালা’র খুনি তার নিজেরই ছেলে ৪২ বছর বয়স্ক সোহাইব বালা। তবে খুনের উদ্দেশ্য বা মোটিভ সম্পর্কে পুলিশ এখনো কিছু জানায়নি।

উল্লেখ্য যে, যেদিন খুনের ঘটনা ঘটেছিল সেদিন পুলিশ কনস্টেবল নিক গ্লাকস্টাইন বলেছিলেন, হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ স্থানীয় ধর্মীয় নেতাদের সাথে যোগাযোগ রাখছে এবং তারা তদন্তে সহযোগিতা করছেন।

মৃত্যুর কারণ প্রকাশ করা হয়নি, তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ইব্রাহিম বালার শরীরের আঘাতগুলো “মর্মান্তিক”। কনস্টেবল গ্লাকস্টাইন বলেন, আমরা তদন্ত করে দেখবো এই মর্মান্তিক ঘটনার পিছনে কি কারণ নিহিত রয়েছে। তিনি আরো বলেছিলেন, যদিও হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য সম্পর্কে অনুমান করা ঠিক এখনই সম্ভব হচ্ছে না, তবে তদন্তকারীরা “সকল কারণ” বিবেচনা করবেন। এটি ঘৃণা-প্রণোদিত হ্যাকাণ্ড কি না সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।

গ্লাকস্টাইন বলেছিলেন, “হেট ক্রাইম ইউনিট সহ আমাদের সকল ইউনিটের সাথে পরামর্শ করা হয়েছে এবং তারা তদন্তে জড়িত থাকবে। ইব্রাহিম বালা ছিলেন স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের একজন প্রিয় সদস্য। তিনি একজন বাবা, একজন স্বামী, তাকে অবশ্যই মিস করা হবে, এবং আমরাও তার পরিবারের সাথে শোকাহত। আমরা স্থানীয় যাদের সাথেই কথা বলেছি তারা প্রত্যেকেই এই ব্যক্তির সম্পর্কে বলেছেন, তিনি একজন চমৎকার ও সুপরিচিত ব্যক্তি ছিলেন, বিশেষ করে ইসলামিক সেন্টারে।”

১৬ অক্টোবর প্রকাশিত অশোয়ার ইসলামিক সেন্টার এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, “ইব্রাহিম বালা আমাদের মুসলিম সম্প্রদায়ের একজন প্রিয় সদস্য ছিলেন। মসজিদের কাছেই আমাদের অত্যন্ত প্রিয় এক ভাই প্রাণ হারিয়েছেন। পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়কে এই মুহূর্তে আক্রমণকারীদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে অনুমান না করার জন্য উৎসাহিত করছি। আমরা পুলিশ এবং সমস্ত উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছি এবং আমরা দেখছি যে তারা হত্যাকাণ্ডের সকল সম্ভাব্য কারণসমূহ অনুসন্ধান করে দেখছে।”