পুরুষদের গড় আয়ু নারীদের তুলনায় কেন কম? গবেষণায় নতুন চমকপ্রদ তথ্য

প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক, অক্টোবর ১৩, ২০২৫: পুরুষেরা নারীর তুলনায় কম দিন বাঁচেন, মানব ইতিহাসে এ তথ্য নতুন নয়। তবে এবার নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে জীববিজ্ঞানের গভীরেই লুকিয়ে আছে এর কারণ।

জার্মানির ‘ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর ইভোলিউশনারি অ্যানথ্রোপলজি’ এর গবেষকেরা এগারো শ-এর বেশি স্তন্যপায়ী প্রাণী ও পাখির প্রজাতি উপর গবেষণা চালিয়ে দেখেছেন—কোন লিঙ্গের প্রাণী বেশি দিন বাঁচে। ফলাফলে যা উঠে এসেছে তা হলো, এটি পরিষ্কার নিয়ম—পুরুষেরা যত বেশি জটিল ও ক্লান্তিকর প্রজনন আচরণে যুক্ত থাকে, তাঁদের জীবনকাল ততই ছোট হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, স্তন্যপায়ী প্রাণীর মধ্যে স্ত্রী প্রাণীরা পুরুষ প্রাণীদের তুলনায় বেশি দিন বাঁচে। গড় হিসাবে প্রায় ১২ শতাংশ বেশি দিন।

অন্যদিকে, পাখির ক্ষেত্রে পুরুষেরা স্ত্রীদের তুলনায় প্রায় ৫ শতাংশ বেশি দিন বাঁচে। গবেষকরা বলছেন, এই বৈপরীত্যের ব্যাখ্যা লুকিয়ে আছে প্রজনন প্রতিযোগিতায়। দেখা গেছে পুরুষ হরিণ বা পুরুষ গরিলা বা অন্যান্য প্রাণীরা তাদের গোত্রের নারীদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য প্রতিপক্ষের সঙ্গে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়ে বিপুল শক্তি খরচ করে। এ সময় আঘাত পাওয়ার ঝুঁকিও বেশি থাকে। এ কারণে তাঁদের আয়ু কম হয়।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক দ্য টাইমস এর বরাত দিয়ে ‘আজকের পত্রিকা’ জানায় ‘এই গবেষণায় জেনেটিক গঠনকেও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্তন্যপায়ীদের ক্ষেত্রে পুরুষের একটি এক্স এবং একটি ওয়াই ক্রোমোজোম থাকে, আর নারীর দুটি এক্স। নারীদের ক্ষেত্রে একটি এক্স ক্রোমোজোম ক্ষতিগ্রস্ত হলে অন্যটি সুরক্ষার কাজ করে। পুরুষদের সেই সুবিধা নেই। বিপরীতে, পাখিদের ক্ষেত্রে নিয়ম উল্টো—পুরুষদের দুটি ‘জেড’ ক্রোমোজোম থাকে, যা তাদের সুবিধা দেয়।’

পুরুষদের কম আয়ুর পিছনে আরো রয়েছে তাদের ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ। দেখা গেছে কিছু দেশে পুরুষদের মধ্যে ধূমপান ও মদ্যপানের মতো অভ্যাস বেশি দেখা যায়। ঝুঁকিপূর্ণ এইসব অভ্যাস তাদের আয়ুষ্কাল কমিয়ে দেয়।

রয়েছে সামাজিক কারণও। পুরুষরা অনেক সময় সামাজিকতা রক্ষায় নারীদের চেয়ে পিছিয়ে থাকে, যা তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।

এ ছাড়াও দেখা গেছে, কর্মক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ কাজগুলো পুরুষেরাই করে থাকে। এসব কাজে দুর্ঘটনার হারও বেশি যা তাদের আয়ু কমিয়ে দেয়।