গত বছর কুইবেকে ৪ লাখ ৩০ হাজার রোগী হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে গেছেন সময়মত জরুরি চিকিৎসা সেবা না পেয়ে
প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক, অক্টোবর ৫, ২০২৫ : মন্ট্রিয়ল ইকোনমিক ইনস্টিটিউট কর্তৃক গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত বছর কুইবেকের প্রায় ৪৩০,০০০ জন রোগী চিকিৎসা শুরু হওয়ার আগেই জরুরি বিভাগ ছেড়ে চলে গেছেন। কারণ, অপেক্ষার সময় ছিল দীর্ঘ। খবর সিবিসি নিউজের।
চিকিৎসা গ্রহণের আগেই হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ছেড়ে যাওয়া রোগীদের এই সংখ্যা কুইবেকের হাসপাতালগুলির অবস্থা সম্পর্কে চলমান উদ্বেগকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।
মন্ট্রিল ইকোনমিক ইনস্টিটিউটের যোগাযোগ বিভাগের ভাইস-প্রেসিডেন্ট রেনড ব্রসার্ড বলেন “কিছু প্রদেশের পরিস্থিতি দ্রুত খারাপের দিকে যাচ্ছে, কিন্তু কুইবেকের পরিস্থিতি এখনও সবচেয়ে খারাপগুলির মধ্যে একটি।”
তিনি আরো বলেন, “এমন কিছু রোগী আছেন যারা কোনো না কোনো কারণে, ডাক্তার পর্যন্ত পৌঁছাতে জরুরি বিভাগে পাঁচ, ছয়, সাত ঘন্টা অপেক্ষা করতে পারেন না।”

মন্ট্রিলের একজন জরুরি বিভাগের চিকিৎসক এবং কুইবেকের জরুরি চিকিৎসকদের সমিতির প্রাক্তন সভাপতি ডাঃ জুডি মরিস সিবিসিকে বলেন, এই সংখ্যাগুলি “ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এবং তা দেখে বোঝা যাচ্ছে যে স্বাস্থ্য কর্মীরা পর্যাপ্তভাবে রোগীদের প্রয়োজনের প্রতি সাড়া দিতে পারছেন না।
ডাঃ জুডি বলেন, “আমাদের কাছে যা ভয়ের বিষয়… তা হলো, আমরা জানি যে যারা জরুরি বিভাগ থেকে চিকিৎসা না নিয়ে চলে আসছেন তারা সবসময় এমন রোগী নয় যাদের শারীরিক অবস্থা ভালো।”
ডাঃ জুডি বলেন, “মাঝে মাঝে মানুষ আমাদের কাছে ক্ষমা চায়। তারা বলেন, ‘আমি খুবই দুঃখিত যে আমি জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে এসেছি। আমি জানি আপনারা খুবই ব্যস্ত। কিন্তু কখনও কখনও রোগীরা তাদের জন্য কোনটা ভালো তা জানার জন্য পর্যাপ্ত জ্ঞান রাখেন না। “
তিনি আরো বলেন, এই পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক, কিন্তু এখনই এই সমস্যা সমাধানের জন্য কোন ‘যাদু মন্ত্র’ও নেই।
মন্ট্রিল হার্ট ইনস্টিটিউটের একজন ইআর ডাক্তার এবং কুইবেকের জরুরি বিভাগের বিশেষজ্ঞদের সমিতির সভাপতি ডাঃ গিলবার্ট বাউচার বলেন, হাসপাতালের জরুরি বিভাগগুলোর রিসোর্স একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদানকারী ফ্যাক্টর এই পরিস্থিতির জন্য। তিনি বলেন, “চাপ ক্রমশ বাড়ছে” – ডাক্তাররা “সবসময়” বাজেটের সীমাবদ্ধতার প্রভাব অনুভব করছেন।
১৮% রোগী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে আবার জরুরি বিভাগে ফিরে আসেন
ডাঃ বাউচার বলেন “এটা কারো জন্যই মজার বিষয় নয়। হাসপাতালে আমরা সবার যত্ন নিতে পারছি না এ কারণে আমরা কিছুটা হতাশাজনক অবস্থায় থাকি।”
ডাঃ বাউচার বলেন যে, “অনেক রোগীর তখনও জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন থেকে যায় যখন তারা দীর্ঘ অপেক্ষার পালা সইতে না পেরে ঐ বিভাগ থেকে বেরিয়ে আসেন। তারা এক বা দুই দিন পরে হয়তো আবার হাসপাতালে ফিরে আসেন এবং তাদের অবস্থা ইতিমধ্যে আরও খারাপ হয়ে উঠে।”
একটি উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। ধরা যাক কোন রোগী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এলেন ইউরোনারী ইনফেকশন এর সমস্যা নিয়ে। তখন চিকিৎসার জন্য তাকে সাধারণ একটি ট্যাবলেট খাওয়ালে সমস্যার সমাধানে হয়ে যেতে পারে। কিন্তু সে যদি তাৎক্ষণিক এই চিকিৎসাটি না পেয়ে বাড়ি ফিরে যান এবং পরবর্তীতে আবার হাসপাতালে ফিরে আসেন তখন হয়তো তার অবস্থা আরো সংকটময় হয়ে উঠতে পারে এবং হাসপাতালের বেডে দিন তিনেক থাকতে হতে পারে শিরাপথে এন্টিবায়োটিক চিকিৎসা গ্রহণের জন্য।
ইমেইলে সিবিসি’র কাছে পাঠানো এক বিবৃতিতে, Santé Québec জানায় যে, জরুরি বিভাগ থেকে চিকিৎসা না নিয়ে চলে যাওয়া রোগীদের ১৮ শতাংশ ৪৮ ঘন্টার মধ্যে আবার ফিরে আসেন।
Santé Québec আরো বলছে যে তারা বর্তমানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অপেক্ষার সময় কমানোর উপায় নিয়ে কাজ করছে। তারা আরো জানায়, গত এপ্রিল থেকে রোগীরা অলরেডি আগের তুলনায় কম সময় অপেক্ষায় করছেন জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে এসে। বর্তমানে গড় অপেক্ষার সময় দুই ঘন্টা ৪৬ মিনিট – যা আগের বছরের তুলনায় ১২ মিনিট কম।
উল্লেখ্য যে, ২০২৩ সালের শেষের দিকে, কুইবেকের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ক্রিশ্চিয়ান ডুবে কুইবেকারদের সম্ভব হলে জরুরি বিভাগে যাওয়া থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে জরুরি বিভাগে অপ্রয়োজনীয় ভিজিট ভিড় তৈরীর জন্য উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে। তবে তিনি স্বীকার করেন যে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কখন চিকিৎসা সেবা নিতে যাওয়া উচিত তা নির্ধারণ করা রোগির পক্ষে কঠিন হতে পারে। তবে তিনি বলেন যে উদ্বেগজনক লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, বমি এবং দ্রুত হৃদস্পন্দন। তিনি এ কথাও বলেন যে, তাছাড়া “আমরা মানুষকে জরুরি বিভাগে না আসতে বলতে পারি না। কারণ এটি দুর্যোগের বার্তা দেয়।”
তবে সেই সময়, কানাডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অফ ইমার্জেন্সি ফিজিশিয়ানস বলেছিল যে তারা মন্ত্রীর এই মন্তব্যগুলি উদ্বেগজনক বলে মনে করেছেন এবং বলেন যে, যদি রোগীরা মনে করেন যে তাদের জরুরি স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন, তবে তাদের দ্বিধা করা উচিত নয় হাসপালে আসার ক্ষেত্রে।
