ফরিদা পারভীনের মতো একজন শিল্পীকে হারানো আমাদের জন্য বিরাট ক্ষতি : রুনা লায়লা

প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ : দেশের কিংবদন্তী লালনসংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীন আর নেই। গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া দশটায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

লালনসংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীন। ছবি : সংগৃহীত

বরেণ্য এই শিল্পীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, ‘নজরুলগীতি ও দেশাত্মবোধক গান গাইলেও শ্রোতাদের কাছে ফরিদা পারভীন লালনকন্যা হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। পাঁচ দশক ধরে তার কণ্ঠে লালন সাঁইয়ের গান মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছে। তার গান আমাদের সংস্কৃতির অন্তনির্হিত দর্শন ও জীবনবোধকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।’

৭১ বছর বয়সী ফরিদা পারভীন বেশ কিছু দিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। কিডনি সমস্যা ও ডায়াবেটিসসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি।

তার মৃত্যুতে আরেক কিংবদন্তী শিল্পী রুনা লায়লা আজকেরপত্রিকা.কম-কে বলেন, “মৃত্যুর খবর পেয়ে খুব মর্মাহত আমি। ফরিদা পারভীনের মতো একজন শিল্পীকে হারানো আমাদের ইন্ডাস্ট্রির জন্য বিরাট ক্ষতি। মানুষ হিসেবেও তিনি ছিলেন ভীষণ ভালো। আমাকে খুব ভালোবাসত এবং শ্রদ্ধা করত।”

ফরিদা পারভীনের স্বামী খ্যাতিমান বংশীবাদক গাজী আবদুল হাকিম বলেন, “তার মতো শিল্পী শতবর্ষে একবার আসেন। তাঁর চলে যাওয়ার ক্ষতি পূরণ কীভাবে হবে আমি জানি না। তাঁর স্মৃতি নিয়ে বাকি জীবনটুকু বেঁচে থাকতে হবে। কিন্তু এই বেঁচে থাকা অনেক কষ্টের।”

ফরিদা পারভীনের জন্ম ৩১ ডিসেম্বর ১৯৫৪। তিনি ছিলেন একজন কিংবদন্তী বাংলাদেশী লোকসঙ্গীতশিল্পী এবং লালনগীতি শিল্পী। তাকে ‘লালনকন্যা’ ও ‘লালনসম্রাজ্ঞী’ হিসেবে সম্মান জানানো হতো। বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে লালনসঙ্গীত জনপ্রিয় করতে তিনি বিশেষ অবদান রেখেছেন। সঙ্গীতে অবদান রাখার জন্য ফরিদা পারভীন ১৯৮৭ একুশে পদক ও ১৯৯৩ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।