কানাডায় ইসলামোফোবিয়া, ইহুদি-বিদ্বেষের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি তরুণদের

প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক, আগস্ট ২৫, ২০২৫ : নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে কানাডায় ইসলামোফোবিয়া, ইহুদি-বিদ্বেষের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি তরুণদের এবং এই বিষয়টি ক্রমবর্ধমানভাবে ‘গ্রহণযোগ্য’ হয়ে উঠছে যা আমাদের সমাজের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরী করছে বলে গবেষক দল সতর্ক করেছেন। খবর ‘নাউ টরন্টো’র।  

বাজার গবেষণা সংস্থা Leger এর একটি জরিপের উপর ভিত্তি করে অ্যাসোসিয়েশন ফর কানাডিয়ান স্টাডিজ (ACS) এর একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে বিদ্বেষ “ক্রমবর্ধমানভাবে গ্রহণযোগ্য” হয়ে উঠছে।

জরিপে অংশ নেন ১৫৩৭ জন কানাডিয়ান তরুণ। সেই জরিপ অনুসারে, ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী ৪৬ শতাংশ কানাডিয়ান ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাস-ইসরায়েল সংঘাত শুরুর পর থেকে অনলাইনে বা তাদের আশেপাশের লোকজনের কাছ থেকে ইসলামোফোবিক মন্তব্য শুনেছেন। অন্যদিকে ৩৯ শতাংশ তরুণ ইহুদি-বিরোধী মন্তব্য শুনেছেন।

কানাডায় ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে মিছিল। ছবি : কানাডিয়ান প্রেস/ জিওফ রবিনস

গবেষণায় আরও জানা গেছে যে আমেরিকানদের তুলনায় কানাডিয়ানদের বিদ্বেষের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। দেখা গেছে আমেরিকায় তরুণদের মধ্যে মাত্র ২০ শতাংশ প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ইহুদি-বিরোধী মন্তব্য শুনেছেন এবং ২৪ শতাংশ ইসলামোফোবিক মন্তব্য শুনেছেন।

Association for Canadian Studies -এর প্রেসিডেন্ট এবং সিইও জ্যাক জেদওয়াব ‘নাউ টরন্টো’-কে বলেন যে, পক্ষপাতদুষ্ট বা বিদ্বেষী মন্তব্য শোনার সংখ্যা বৃদ্ধি বিষয়টিকে স্বাভাবিকীকরণের দিকে পরিচালিত করতে পারে। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, যখন মানুষ এই মন্তব্যগুলিকে স্বাভাবিক বা গ্রহণযোগ্য মনে করতে শুরু করে, তখন অনেকেই এর বিরুদ্ধাচারণ নাও করতে পারে।

জেদওয়াব আরও উল্লেখ করেছেন যে, জরিপটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে অনেক মানুষ কেবল প্রকাশ্য অনলাইনেই নয়, বরং তাদের আশেপাশের সহকর্মী এবং বন্ধুদের কাছ থেকেও বিদ্বেষী ধরণের মন্তব্য শুনতে পাচ্ছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও গুরুতর করে তোলে। তার মতে এটি আমাদের সমাজের জন্য একটি গুরুতর ঝুঁকি। লোকজনদেরকে এই কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে পারষ্পরিক সম্পর্কের উপর এর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলা করার জন্যও প্রস্তুত থাকতে হবে।”

জরিপে দেখা গেছে যে যারা ইহুদি-বিরোধী মন্তব্য শুনেছেন তাদের ৩৫.৫ শতাংশের মনে হয়েছে যে মিডিয়া ফিলিস্তিনের পক্ষে বেশি অনুকূল, আর ২৫.১ শতাংশ মনে করেন যে মিডিয়া ইসরায়েলের পক্ষে বেশি অনুকূল।

অন্যদিকে, যারা ইসলামোফোবিক মন্তব্য শুনেছেন তাদের ৩৫.৮ শতাংশ মনে করেন যে মিডিয়া ইসরায়েলের পক্ষে বেশি অনুকূল, আর ২৭ শতাংশ মনে করেন মিডিয়া ফিলিস্তিনের পক্ষে বেশি অনুকূল।

জরিপের প্রতিক্রিয়ায়, একজন টরন্টোবাসী ‘নাউ টরন্টো’কে বলেছেন যে, যদি কিছু না বদলায়, তাহলে স্বাভাবিক বৈষম্যমূলক বা বিদ্বেষমূলক মন্তব্য আরও সহিংসতার দিকে মোড় নিতে পারে। তিনি আরো বলেন, যদি কুসংস্কার প্রচার করা হয়, তাহলে সহিংসতা বৃদ্ধি পায়।”

টরন্টোর আরেক বাসিন্দা ‘নাউ টরন্টো’কে বলেন যে, তিনি বিশ্বাস করেন বুলি বন্ধ করার জন্য আরও কিছু করা উচিত, এবং অনেকেই এই আচরণকে স্বাভাবিক করে তুলেছে বলে মনে হচ্ছে।