বাংলাদেশী কানাডিয়ান এক মহিলার হিজাব খুলতে বাধ্য করা হয় টরন্টোর পিয়ারসন বিমানবন্দরে
মহিলা জানান তিনি অপমানিত বোধ করছেন এর জন্য
প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক, জনু ২৫, ২০২৫ : উইনিপেগে বসবাসকারী এক বাংলাদেশী কানাডিয়ান মহিলা কাজী আমিন সম্প্রতি বাংলাদেশে গিয়েছিলেন বেড়াতে। বেড়ানো শেষে কানাডায় ফেরত আসার সময় আপত্তি সত্ত্বেও পিয়ারসন বিমানবন্দরে তাকে হিজাব খুলতে বাধ্য করা হয়। এই ঘটনা ঘটে তিনি যখন টরন্টো থেকে মেনিটোবার উইনিপেগে যাওয়ার জন্য বিমান পরিবর্তন করে ফ্লেয়ার এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে উঠতে যাচ্ছিলেন। খবর সিবিসি নিউজের।
কাজী আমিন কাস্টমস এর চেক এরিয়া পাড় হয়েছিলেন কোনরকম সমস্যা ছাড়াই। কিন্তু সমস্যা তৈরী হয় তিনি যখন ফ্লেয়ার এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে উঠতে যাচ্ছিলেন। ঐ সময় একজন কর্মচারী তাকে থামিয়েছিলেন।

কাজী আমিন সিবিসিকে বলেন, “বিমান সংস্থার কর্মচারী প্রথমে আমার পাসপোর্ট হাতে নিলেন, এরপর আমার পাসপোর্টের দিকে তাকালেন এবং পরে আমার দিকে তাকালেন। তারপর বললেন যে, আমার পাসপোর্টের ছবির সাথে আমার চেহাড়ার মেলে না, তাই আমাকে আমার হিজাব খুলতে হবে।”
কাজী আমিন এবং তার স্বামী তখন ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছিলেন যে ধর্মীয় কারণে হিজাব খোলা যাবে না, কিন্তু কর্মীরা তাতে কান দেননি। কাজী আমিন বলেন, তিনি তখন অপমানিত এবং অসহায় বোধ করছিলেন। তিনি আরও বলেন, আমি জনসমক্ষে আমার হিজাব খুলতে বাধ্য হয়েছি। তার ভাষায়, “জনসমক্ষে আমাদের হিজাব খুলতে দেওয়া হয় না। আমরা কেবল আমাদের পরিবারের সামনেই আমাদের হিজাব খুলতে পারি।”
কাজী আমিনের পাসপোর্টের ছবি তোলা হয়েছিল ২০১৬ সালে হিজাব পরার আগে। তিনি বলেন, ফ্লেয়ার এয়ারলাইন্স তাকে হিজাব খুলে ফেলতে বলেছে কারণ পাসপোর্টের ছবিতে তার চুল আলাদা দেখাচ্ছে। কাজী আমিনের মেয়ে আফসারা রাইদাহ বলেন, এটা কোনও যুক্তিসঙ্গত অজুহাত নয়।
কাজী আমিনকে যখন হিজাব খুলতে বলা হয়েছিল, তার আগেই তিনি কাস্টমস এবং নিরাপত্তার বলয় পার হয়েছিলের বিনা বাধায়। তাহলে ফ্লেয়ার এয়ারলাইন্সের একজন কর্মী কেন তাকে আটকালেন? এ বিষয়ে কানাডিয়ান এয়ার ট্রান্সপোর্ট সিকিউরিটি অথরিটির ওয়েবসাইট বলছে যে যাত্রীদের ধর্মীয় মাথার আবরণ খুলে ফেলতে হবে না যদি না এটি স্ক্রিনিংয়ের সময় অ্যালার্ম বেল বেজে উঠে। এয়ার ট্রান্সপোর্ট সিকিউরিটি অথরিটির ওয়েবসাইট নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে যে, যদি কোনও ব্যক্তিকে তল্লাশির প্রয়োজন হয়, তাহলে যাত্রীদের একটি ব্যক্তিগত কক্ষে তল্লাশি চালানোর সুযোগ দেওয়া হবে। কাজী আমিন বলেন, তাকে সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি।
ফ্লেয়ার জানিয়েছে যে ঐ কর্মচারী ছুটিতে আছেন এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তারা আরও জানায় যে, কর্মীটি ফ্লেয়ারের গ্রাউন্ড পার্টনার, এলায়েন্স গ্রাউন্ড ইন্টারন্যাশনাল-এর কর্তৃক নিযুক্ত।
ফ্লেয়ার এয়ারলাইন্সের সিইও ম্যাকিয়েজ উইল্ক সিবিসি নিউজকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, ” জড়িত ব্যক্তি এলায়েন্স গ্রাউন্ড ইন্টারন্যাশনাল কর্তৃক নিযুক্ত এবং আমাদের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং অংশীদার, সরাসরি ফ্লেয়ার এয়ারলাইন্সের দ্বারা নয়। কিন্তু তবুও আমরা আশা করি যে, সমস্ত পরিষেবা অংশীদাররা সম্মান, পেশাদারিত্ব এবং বৈষম্যহীনতার একই মান বজায় রাখবে যেটা আমরা আমাদের নিজস্ব কর্মীদের কাছে আশা করি।
এলায়েন্স গ্রাউন্ড ইন্টারন্যাশনাল অবশ্য ইতিমধ্যে কাজী আমিনের কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চেয়েছে।
তবে কাজী আমিনের মেয়ে রাইদাহ বলেন, এই ঘটনার জন্য ফ্লেয়ার এয়ারলাইন্সের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে তিনি তার আইনজীবীর সাথে কথা বলছেন।
