বাংলাদেশ সোসাইটি, এসসি এর নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

প্রবাসী কণ্ঠ, মে ২৮, ২০২৫ : ‘বাংলাদেশ সোসাইটি, এসসি’ এর উদ্যোগে এবারই প্রথম টরন্টোতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঈদ র‌্যালি। আয়োজকরা জানান, এই ধরনের আয়োজন টরন্টোতে এবং কানাডাতেও এই প্রথম। গত ২৬ মে বাংলা টাউনে অবস্থিত লবঙ রেস্টুরেন্টের পার্টি রূমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পার্টির কর্মকর্তারা এই তথ্য জানান। অনুষ্ঠানে আরো জানানো হয় আগামীতে এই সোসাইটির উদ্যোগে রক্তদান কর্মসূচি, ফুড ব্যাংক কার্যক্রমসহ আরো নানান অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা এবং বর্তমানে এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক জনাব দারা আবু জুবায়ের বলেন, আগামী বছর বাংলাদেশ সোসাইটি, এসসি’র পঁচিশ বছর পূর্তি হবে। এ উপলক্ষ্যে টরন্টোতে একটি জমজমাট উৎসবের আয়োজন করা হবে। জনাব দারা আরো বলেন, জুন মাসের ৬ তারিখে টরন্টোর বাংলা টাউনে একটি ঈদ র‌্যালির আয়োজন করা হবে। এটা এর আগে কেউ করেনি এখানে। আমরা ঈদ জামাত শেষ করে প্রথমে ডেন্টোনিয়া পার্কে অবস্থিত শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জড়ো হব। এরপর ঘরোয়া রেস্টুরেন্ট প্রাঙ্গণে এসে উৎসব পালন করবো। আমরা আশা করবো দলমত নির্বিশেষে সবাই এই উৎসবে যোগ দিবেন। আমরা ঈদ উপলক্ষ্যে বড় ধরনের একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পারলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি দিকনির্দেশনা পাবে এবং তারা আরো ক্রিয়েটিভ কিছু করতে পারবে।

জনাব দারা আরো বলেন, আগামী পহেলা জুলাই বাংলাদেশ সোসাইটি, এসসি’র পক্ষ থেকে কানাডা ডে-ও উদ্‌যাপন করা হবে বাংলা টাউনে। দুপুর ১টা থেকে ৪টা পর্যন্ত আমরা লবঙ রেস্টুরেন্ট প্রাঙ্গণে বারবিকিউ পার্টি করবো এ উপলক্ষ্যে। এখানে সবাই আমন্ত্রিত।

জনাব দারা বলেন, টরন্টোতে আমরা ফুড ব্যাংক এর আদলে একটি প্রোগ্রাম চালু করতে চাই। আগামী অক্টোবর বা নভেম্বর মাসের দিকে আমাদের সোসাইটির অফিস প্রাঙ্গণে এই প্রোগ্রাম চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। আমরা পরে পত্রিকার মাধ্যমে নির্দিষ্ট তারিখ ও সময় জানিয়ে দিব।

আমরা লক্ষ্য করেছি জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে সঙ্কটের কারণে নবাগত অভিবাসী/উদ্বাস্তুদের কেউ কেউ ফুড ব্যাংকের দিকে ঝুঁকছেন। অন্যান্য কানাডীয়র মত তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক লাইফলাইন বা উপকরণ নেই, যেজন্য তারা খাদ্য নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ছে। এটি ঘটছে রেকর্ড মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে যা খাদ্যমূল্য দ্রুত বাড়িয়ে দিয়েছে।

সোসাইটির পক্ষ থেকে আমরা বাংলাদেশের বিজয় দিবসও পালন করবো। আমাদের এই সোসাইটি নির্দিষ্ট কোন রাজনৈতিক দল বা ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নয়। এখানে সব ধর্মের, সব দলের লোকদের সমাগম হয়। এটি একটি নির্দলীয় সংগঠন।

আগামী বছর টরন্টোতে চল্লিশতম ফোবানার-ও আয়োজন করা হবে বলে জানান জনাব দারা । এটা ২০২৬ সালের আগস্টে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি জানান চল্লিশতম ফোবানা সকল বাংলাদেশী ভাই-বোনদের নিয়ে করবো। এখানে আওয়ামী লীগ, বিএনপি বা জামাত কারো কোনো প্রাধান্য থাকবে না। এটা হচ্ছে এমন একটি প্ল্যাটফরম যেখানে সবার অধিকার সমান ।

আমার দৃঢ় বিশ্বাস, চল্লিশতম ফোবানা একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। কারণ আমার এতদিনের অভিজ্ঞতা আমি এর মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করবো।

অনুষ্ঠানে সোসাইটির বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তারা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আমন্ত্রিত কয়েকজন বিশিষ্ট অতিথি। অতিথিদের মধ্যে যারা বক্তব্য রাখেন তারা হলেন ব্যারিস্টার কামরুল হাফিজ, ডা. এ এস এম নুরুল্লাহ তরুণ, ব্যারিস্টার ওমর হাসান আল জাহিদ ও মি. বালজি  সহি।

অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার কামরুল হাফিজ ফুড ব্যাংক এর আডিয়াকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি বছরে হঠাৎ একদিন না করে যদি মাসে একবার করা যায় তবে ভাল হয়। এ ব্যাপারে তিনি তার সহযোগিতার আশ্বাসও দেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ডা. এ এস এম নূরুল্লাহ তরুণ বলেন, ‘বাংলাদেশ সোসাইটি, এসসি’ ভিন্ন ভিন্ন প্রোগ্রাম নিয়ে কমিউনিটিকে একত্রিত করার চেষ্টা করছে যা প্রশংসনীয়। আমাদের কনিউটিতে এর প্রয়োজন রয়েছে। সোসাইটির উদ্যোগে যে ঈদ র‌্যালি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সেটিও একটি প্রশংসনীয় বিষয়। আমার কাছে আরো গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি মনে হচ্ছে হা হলো, আমাদের সংস্কৃতিটাকে এমনভাবে তুলে ধরতে হবে যাতে করে মেইনস্ট্রিমসহ অন্যান্য কমিউনিটির লোকেরাও বুঝতে পারে যে আমাদেরও রয়েছে উল্লেখ করার মত বড় মাপের ঈদ উৎসব যেটা ক্রিসমাস বা অন্যান্য ফেষ্টিভালের চেয়ে কোন অংশে কম নয়। এখন এটিকে যদি সুশৃঙ্খলভাবে আকর্ষণীয়ভাবে এবং বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে করা যায় সেটি হবে দারুণ একটি ব্যাপার।

তিনি আরো বলেন, কমিউনিটিতে আমাদের নিজেদের মধ্যে অবশ্যই যোগাযোগটি বাড়াতে হবে, আমাদের নিজেদের সংস্কৃতিটাকে এখানে প্রমোট করা দরকার, আমাদের হেরিটেজ এর সাথে যুক্ত যে সকল দিবসগুলো রয়েছে সেগুলোও যথাযথভাবে পালন করা দরকার। একইসাথে মনে রাখতে হবে যে আমরা কানাডিয়ানও। আমাদেরকে অবশ্যই এই দেশটির সাথে একীভূত হতে হবে, মিশে যেতে হবে। পালন করতে হবে কানাডার বিভিন্ন জাতীয় দিবসও।

জনাব তরুণ আরো বলেন ইয়ং জেনারেশনের মেন্টাল হেলথ অবশ্যই একটি  গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু যেটা নিয়ে আমাদেরকে ভাবতে হবে এবং কাজ করতে হবে। অর্থাৎ এই ইন্টিগ্রেশন, মেন্টাল হেলথ এবং আমাদের ইয়থ জেনারেশনের কানেকটিভিটি এ সব নিয়েই আমাদেরকে কাজ করতে হবে। আমি চাই বাংলাদেশ সোসাইটি এগুলো নিয়ে বিভিন্ন প্রোগ্রামের মাধ্যমে কাজ করুক। আমি আমার দিক থেকে সাধ্যমতো সহযোগিতা করবো।

তিনি আরও বলেন, কানাডায় আমাদের যে ইয়ং জেনারেশন আছে তাদেরকে আমাদের বাংলাদেশের হেরিটেজ এর সাথে একীভূত হওয়ার বিষয়ে উৎসাহ যোগাতে হবে এবং একই সাথে কানাডিয়ান হেরিটেজ এর সাথেও একীভূত হওয়ার বিষয়ে উৎসাহ যোগাতে হবে। এটি সময়ের দাবি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কানাডার পাঞ্জাব কমিউনিটির একজন প্রতিনিধি মি. বালজি সহি। তিনি সাচকাচুয়ানে বাস করেন এবং সেখানকার একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজকর্মী। অনুষ্ঠানে তাকে কিছু বলার জন্য অনুরোধ করা হলে তিনি সানন্দে রাজী হন এবং বলেন, আমি আজ এখানে উপস্থিত থাকতে পেরে বেশ আনন্দিত। আমি আপনাদের সবার কথা শুনেছি। আপনাদের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা শুনে খুশি হয়েছি। এগুলো আমাদের করা উচিত কানাডায়। ডা. তরুণ যেমনটা বলছিলেন যে আমাদের উচিত কানাডার সংস্কৃতির সঙ্গেও একীভূত হওয়া, আমিও তাই মনে করি। প্রবাসে আমাদের একতাবদ্ধ হওয়াও জরুরি।

উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ সোসাইটি, এসসি এর বিভিন্ন কর্মসূচির কথা শুনে উৎফুল্ল হন  মি. বালজি এবং অনুষ্ঠান শেষে এক হাজার ডলার অনুদানের ঘোষণাও দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সবশেষে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সোসাইটি, এসসি-র বর্তমান সভাপতি জনাব খোকন রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশী কমিউনিটিতে বিভিন্ন সংগঠন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করছে। এটি একটি ভালো দিক। আমাদেরকে আর এটি নিয়ে ভাবতে হবে না। আমরা এখন এর পাশাপাশি জোর দিচ্ছি নতুন কিছু করার। এর মধ্যে ব্লাড ডোনেশন একটি বিষয়। আমরা  অচিরেই এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিব। আমরা কমিউনিটিতে মানুষের মেন্টাল হেলথ নিয়েও কিছু কাজ করতে চাই। কারণ আমরা জানি যে এখানে ইয়ং জেনারেশনের মধ্যে মেন্টাল হেলথ নিয়ে অনেক ধরনের সমস্যা হচ্ছে।

জনাব খোকন আরো বলেন, টরন্টোতে আমাদের আরেকটি সমস্যা হচ্ছে আমাদের নিজস্ব বড় ধরনের কোন কমিউনিটি সেন্টার নেই। এ বিষয়েও আমাদের কিছু চিন্তা-ভাবনা আছে। আর কমিউনিটিতে অন্য যারা আছেন তাদের পরামর্শও দরকার আমাদের এ বিষয়ে। সবার সহযোগিতা নিয়েই আমরা চেষ্টা করবো একটি বড় মাপের কমিউনিটি সেন্টার গড়ে তোলার জন্য।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকসহ উপস্থিত অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিদেরকে নৈশ ভোজে আপ্যায়ন করা হয়।