এজাক্সে হিজাব পরা এক নারীর উপর হামলা, আগুন ধরিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করা হয় হিজাবে
প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক, ২৫ মার্চ, ২০২৫ : টরন্টোর নিকটবর্তী শহর এজাক্সের একটি লাইব্রেরিতে হিজাব পরিহিতা এক মুসলিম নারীর উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে গত ২২ মার্চ শনিবার। হামলার এক পর্যায়ে হিজাবের উপর তরলজাতীয় পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়। হামলাকারী নিজেও একজন নারী।
পুলিশ বলছে, লাইব্রেরিতে একজন নারী পড়াশোনা করছিলেন, এই সময় একজন অজ্ঞাত নারী তার কাছে এসে তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে এবং তার মাথায় কিছু ছুঁড়ে মারে। তারা বলছে, ২৫ বছর বয়সী সন্দেহভাজন নারীটি তখন লাইব্রেরিতে থাকা নারীর হিজাব খুলে ফেলার চেষ্টা করে এবং তার উপর অজানা তরল ঢেলে দেয়।
পুলিশ আরো জানায়, সন্দেহভাজন নারীটি একটি লাইটার হাতে নিয়ে হিজাবে আগুন লাগানোর চেষ্টা করে। আক্রান্ত নারীটি তখন সাহায্যের জন্য চিৎকার করলে নিরাপত্তারক্ষীরা হস্তক্ষেপ করে।

সিটি অব এজাক্সের ওয়েবসাইটে মেয়র শন কোলিয়ার এবং লাইব্রেরি বোর্ডের চেয়ারম্যান পিয়ালি কোরেয়ার পোস্ট করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে ঘটনাটি “ইসলামফোবিয়া দ্বারা অনুপ্রাণিত বলে মনে হচ্ছে।”
পুলিশ জানায়, আক্রমণকারী নারী লাইব্রেরি থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে অস্ত্র দিয়ে আক্রমণের দুটি অভিযোগ এবং প্রবেশন আদেশ (probation order) মেনে চলতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য মোট তিনটি অভিযোগ আনা হয়।
এদিকে কানাডিয়ান মুসলিমদের জাতীয় পরিষদ কর্তৃপক্ষকে এই হামলার ঘটনাকে ঘৃণামূলক অপরাধ হিসেবে তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছে এবং এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে ইসলামোফোবিয়ার ঘটনাগুলি “দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে”।
ডারহাম রিজিওনাল পুলিশ সার্ভিস (DRPS) ঘটনাটিকে “বিনা উসকানিতে আক্রমণ” হিসেবে বর্ণনা করছে। ঘটনাটি ঘটেছে ৫৫ হারউড অ্যাভিনিউতে অবস্থিত এ্যাজাক্স পাবলিক লাইব্রেরির প্রধান শাখায়।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে, পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে তারা ভুক্তভোগীর সাথে কথা বলেছেন। ভুক্তভোগী পুলিশকে বলেছেন যে তিনি লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করছিলেন, ঠিক তখনই একজন অজ্ঞাত নারী তার কাছে আসে, তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে এবং তার মাথায় কিছু ছুঁড়ে মারে। পরে ভুক্তভোগীর গায়ে তরলজাতীয় কিছু একটা ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে আক্রমণকারী।
আক্রমণকারী নারীর নাম ক্যালি-অ্যান ফ্রেইয়ার। বয়স ২৫।
এদিকে সোমবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী নারীর বক্তব্য উচ্চস্বরে পাঠ করেন ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ কানাডিয়ান মুসলিমস-এর একজন সদস্য।
“আমি কখনও কল্পনাও করিনি যে লাইব্রেরির আমার প্রিয়, শান্ত কোণে যাওয়া আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর মুহূর্তগুলির মধ্যে একটিতে পরিণত হবে,” সিনিয়র অ্যাডভোকেসি অফিসার ফাতেমা আবদাল্লা কর্তৃক পঠিত বক্তব্যে ভুক্তভোগীর কথাগুলো এরকম ছিল।
ভুক্তভোগী আরো বলেন, “আমি ভাবতেই পারছি না, ‘যদি লাইটারটা কাজ করতো? যদি আমার হিজাবে আগুন লেগে যেতো?”
ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ কানাডিয়ান মুসলিমস-এর প্রধান নির্বাহী স্টিফেন ব্রাউন জানান, সংগঠনটি পুলিশের প্রতি জোরালোভাবে আহ্বান জানাচ্ছে যাতে তারা হামলার এই ঘটনাটিকে ঘৃণামূলক অপরাধ হিসেবে তদন্ত করে।
তিনি আরো বলেন, “এটা খুবই ক্ষোভের বিষয় যে এই ধরনের সহিংসতা আমাদের নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ইসলামোফোবিয়ার ঘটনাগুলি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই আমরা মনে করি আমাদের নির্বাচিত নেতাদের এগিয়ে আসার এবং সহযোগিতামূলকভাবে এই সমস্যাটি মোকাবেলা করার সময় এসেছে।”
এনসিসিএমের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা এই আক্রমণকে “ভয়াবহ” বলে বর্ণনা করেছেন।
“আমি হতবাক হইনি, বরং হতাশ হয়েছিলাম। আমি ক্ষুব্ধ ছিলাম যে আমাদের সম্প্রদায়কে এখনও এই ধরনের আচরণের সাথে মোকাবিলা করতে হচ্ছে – ক্ষুব্ধ আমরা এই কারণে যে আমাদের অনেকেই বলেছে ইসলামোফোবিয়া নেই,” বলেন ওমর খামিসা।
সামনেই ফেডারেল নির্বাচন। এই পরিস্থিতিতে গ্রুপটি আহ্বান জানিয়ে বলেছে সমস্ত রাজনৈতিক দল যেন ইসলামোফোবিয়া মোকাবেলা করার জন্য বিস্তারিত পরিকল্পনা নিয়ে আসে।
গ্রুপটি ২০২১ সালে লন্ডন, অন্টারিওতে সন্ত্রাসী হামলার দিকেও ইঙ্গিত করেছে যেখানে একটি মুসলিম পরিবারের চার সদস্য নিহত হয়েছিল এবং ২০১৭ সালে ক্যুবেক সিটি মসজিদে গুলি চালানো হয়েছিল যেখানে ছয়জন নিহত এবং ১৯ জন আহত হয়েছিলেন।
গ্রুপটি আরও বলেছে যে তারা তাদের ইনটেক লাইনে গত এক বছরে ইসলামোফোবিয়া-সম্পর্কিত ঘটনা সম্পর্কে শত শত ফোন পেয়েছে। তথ্য সূত্র : দি কানাডিয়ান প্রেস /সিটিভি নিউজ