কানাডার ফেডারেল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৮ এপ্রিল, সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পাওয়ার সম্ভাবনা লিবারেল পার্টির
প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক, মার্চ ২৫, ২০২৫ : কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি আগাম নির্বাচনের ডাক দিয়েছেন। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৮ এপ্রিল।
কানাডার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের মাত্র নয় দিন পর গতকাল রবিবার গভর্নর জেনারেল ম্যারি সাইমন এর কাছে পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার অনুরোধ জানান মার্ক কার্নি। খবর গ্লোবাল নিউজ এর।
কার্নি বলেন, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর জন্য এবং “কানাডিয়ানদের জন্য সর্বোত্তম চুক্তি” নিয়ে আলোচনা করার জন্য জনগণের কাছ থেকে একটি শক্তিশালী ম্যান্ডেট চাচ্ছেন। তার মতে “কানাডাকে সুরক্ষিত করতে, কানাডায় বিনিয়োগ করতে, কানাডা গড়ে তুলতে, কানাডাকে ঐক্যবদ্ধ করতে আরও অনেক কিছু করার আছে। আর সে কারণেই আমি কানাডার জনগণের কাছ থেকে একটি শক্তিশালী ইতিবাচক ম্যান্ডেট চাইছি।” আজ রবিবার অটোয়াতে মার্ক কার্নি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
তিনি আরও যোগ করেন “মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অযৌক্তিক বাণিজ্য পদক্ষেপ এবং আমাদের কানাডার সার্বভৌমত্বের প্রতি তার হুমকির কারণে আমরা আমাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।”
নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধান বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টি অব কানাডার নেতা পিয়েরে পোইলিভ বলেছেন, ট্রুডোর প্রায় সকল নীতিই তিনি উল্টে দিবেন – কার্বন টেক্স থেকে শুরু করে অভিবাসন, কর আরোপ – এবং জনসেবা সংকুচিত করা এ সবই।

এদিকে নির্বাচনের তারিখ ঘোষিত হওয়ার পর সব দলই মাঠে নেমে গেছে। পুরো দমে শুরু হয়ে গেছে নির্বাচনী প্রচারণা।
উল্লেখ্য যে, ব্যাংক অব কানাডা এবং ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের প্রাক্তন গভর্নর মার্ক কার্নি গত শুক্রবার ১৪ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে জাস্টিন ট্রুডোর কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে সকালে অটোয়ার রিডো হলে এক শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন জাস্টিন ট্রুডো।
গত ৯ মার্চ ২০২৫ তারিখে লিবারেল পার্টি অফ কানাডার দলীয় সদস্যদের বিপুল সমর্থন পেয়ে দলটির নতুন নেতা নির্বাচিত হন মার্ক কার্নি। তিনি ভোট পান ৮৫% । রাজনীতিতে মার্ক কার্নি একেবারেই নবীন। মাত্র তিন মাসের অভিজ্ঞতা তার। মার্ক কার্নির বয়স ৫৯।
মার্ক কার্নি এমন এক সময়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে দেশটির বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ট্রাম্প ক্রমাগত বলে যাচ্ছেন কানাডাকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করতে চান। কিন্তু কানাডার প্রায় কেউই ট্রাম্পের এই চাওয়ার সাথে একমত নয়। কানাডার সকল রাজনৈতিক নেতা ট্রাম্পের এই চাওয়াকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এবং এটি যে কানাডার সার্বভৌমত্বের উপর নগ্ন হস্তক্ষেপ সে কথাও গত কয়েক সপ্তাহে বিভিন্ন বকতৃতা-বিবৃতির মাধ্যমে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তারা।
এদিকে আগাম নির্বাচন ডাক দেওয়ার পর জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়ে গেছে কোন দল ক্ষমতায় আসবে। স্মরণ করা যেতে পারে যে, জাস্টিন ট্রুডো ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় লিবারেল পার্টির অবস্থা শেষের দিকে বেশ শোচনীয় হয়ে উঠেছিল। জনপ্রিয়তায় কনজারভেটিভ পার্টির তুলনায় পিছিয়ে গিয়েছিল অনেক দূর। এই পর্যায়ে দলের ভিতরই এমপিদের অনেকের মধ্যে ক্রমশ তার বিরুদ্ধে অসন্তোষ বাড়ছিল। এমনকি শেষ পর্যন্ত দলের ভিতর জাস্টিনের অন্যতম বিশ্বস্ত ও অনুগতে উপপ্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ডও তার সমর্থন প্রত্যাহার করে নেন এবং মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ফ্রিল্যান্ড পদত্যাগ করে যে চিঠি লেখেন, তাতে অভিযোগ করা হয়, ট্রুডো দেশের জন্য ভালো কিছু করার দিকে মনোযোগ না দিয়ে ‘রাজনৈতিক ছলচাতুরী’র আশ্রয় নিচ্ছেন। এই ঘটনার পর জাস্টিন বাধ্য হন ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর। তারপরই দৃশ্যপটে আসেন মার্ক কার্নি। মার্ক কার্নি দলটির হাল ধরার পর দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে লিবারেল পার্টির জনপ্রিয়তা। সিবিসি নিউজের পুলট্রাকারের হিসাব মতে (২৫ মার্চ) দেখা যাচ্ছে এই মুহূর্তে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে লিবারেল পার্টি আসন পাবে ১৮৩টি। পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার জন্য ১৭২টি আসনই যথেষ্ট। অন্যদিকে কনজারভেটিভ পার্টি আসন পাবে ১৩০টি। ব্লক কুইবেকো পাবে ২৪টি আসন। নিউ ডেমোক্রেটিক পাবে ৪টি আসন। গ্রিন পার্টি ২টি আসন।
