কানাডায় বসে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি
খুরশিদ আলম
বাংলাদেশের কোন রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তিক কোন সংগঠন না রাখার সুপারিশ করেছে নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশন। ঐ সুপারিশে আরো বলা হয়েছে প্রবাসেও দেশের কোন রাজনৈতিক দলের তা যে কোন নামেই হোক না কেন, কোন শাখা রাখা যাবে না। গত ১৫ জানুয়ারি বাংলাদেশের বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে সংস্কারে এই প্রতিবেদন জমা দেয় বদিউল আলম মজুমদারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন।
এদিকে তার দিন কয়েক আগে অন্তবর্তীকালীন সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন রাজধানী ঢাকার একটি হোটেলে ‘সেন্টার ফর এনআরবি’ আয়োজিত ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশ নিয়ে এক সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর বিদেশি শাখার কর্মকাণ্ড দেশের ভাবমূর্তি ও ব্র্যান্ডিংয়ের ক্ষতি করছে। তিনি আরো বলেন, পৃথিবীর আর কোনো দেশের রাজনৈতিক দলের এত শাখা বা কর্মী নেই। বিশেষ করে বিএনপি, আওয়ামী লীগ এবং জামায়াত-ক্ষেত্রবিশেষে জাতীয় পার্টিরও সারা বিশ্বে শাখা আছে।’
তৌহিদ হোসেন বলেন ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে দুই দল, তিন দল আছে তারা প্রচণ্ড শত্রুভাবাপন্ন; একই রকম শত্রুভাবাপন্ন আমাদের প্রবাসীরাও, যাঁরা এসব দলের শাখাগুলোতে আছেন। কেউ একজন দেশ থেকে বিদেশে যায়, আর তাঁকে ডিম ছোড়ার জন্য বা তাঁর বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ার জন্য বিরাটসংখ্যক মানুষ সেখানে দাঁড়িয়ে থাকে।’ তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘এ রকম কী পৃথিবীর কোনো দেশের ক্ষেত্রে আপনারা দেখেছেন?’
তৌহিদ হোসেনের মতে ইস্যুভিত্তিক না, স্রেফ ব্যক্তি এবং দলভিত্তিক এই যে প্রতিক্রিয়াগুলো হয় এটা বিরাট ক্ষতি করছে বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষেত্রে। এটা থেকে আমাদের বের হতে হবে।
আমরাও মনে করি এটা থেকে বের হতে হবে। একই সাথে আমরা সাধুবাদ জানাই নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশকে যেখানে বলা হয়েছে প্রবাসে দেশের কোন রাজনৈতিক দলের তা যে কোন নামেই হোক না কেন, কোন শাখা রাখা যাবে না।
কারণ সাধারণ প্রবাসীদের কেউই চান না বিদেশে বসে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে দলাদলী ও মারামারি করে কমিউনিটিতে বিভেদ সৃষ্টি করা হোক। তারা আরও চান না এ সব কর্মকান্ডের মাধ্যেমে বিদেশে বাংলাদেশীদের ভাবমূর্তি নষ্ট হোক। তাদের কথা হলো, যদি রাজনীতি করতেই হয় তবে আমরা যে দেশে বাস করছি সে দেশের রাজনীতি করাই উচিৎ।
আমার মনে আছে প্রায় বছর বিশেক আগে আমি ড্যানফোর্থের বাঙ্গালী পাড়ায় অবস্থিত বাংলা কাগজ অফিসে এক গোল টেবিল বৈঠকের আয়োজন করেছিলাম। আমি তখন ঐ পত্রিকাটির সম্পাদনার দায়িত্বে ছিলাম। বৈঠকের বিষয়বস্তু ছিল প্রবাসে বসে বাংলাদেশের রাজনীতি করা উচিৎ না অনুচিৎ। বৈঠকে যাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল তারা সবাই কমিউনিটির বিভিন্ন কর্মকান্ডের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক জনাব বদিউজ্জামান। ঢাকার নিউ এজ, নিউ নেশনসহ আরো কয়েকটি পত্রিকায় কাজ করেছেন তিনি।
সেদিন প্রায় ঘন্টা খানেক আলোচনায় যে মতটি প্রাধান্য পেয়েছিল তা হলো, প্রবাসে বসে বাংলাদেশের রাজনীতি করা মোটেও উচিৎ নয়। বৈঠকে প্রায় ডজনখানেক আলোচক উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে মাত্র একজন ছাড়া বাকী সকলেরই মত ছিল বিদেশে বসে রাজনীতি করতে হলে যে দেশে বাস করছি সে দেশের রাজনীতি করাই উচিৎ। অনেকে উদাহরণ দিয়ে এ কথাও বলেন যে, কানাডায় ভারতীয় এবং পাকিস্তানীরাও বাস করেন। কিন্তু তারাতো কানাডায় বসে তাদের ফেলে আসা দেশের রাজনীতি করছেন না। তাহলে বাংলাদেশীদের কেন করতে হবে? বড়জোর একটি সাপোর্ট গ্রুপ থাকতে পারে। যেমনটা আছে ভারতীয়দের মধ্যে। কিন্তু রীতিমত রাজনৈতিক দলের নাম নন-প্রফিট অর্গানাইজেশন হিসাবে রেজিস্ট্রি করে এবং দৃশ্যমান সাইনবোর্ড টানিয়ে এ দেশে বাংলাদেশের রাজনীতি করাটা কতটা যৌক্তিক এখানে? তার চেয়ে বড় প্রশ্ন – এর বৈধতা কতটুকু?
এক কথায় এর উত্তর হলো – এর কোন বৈধতা নেই। কানাডায় বসে কানাডার মাটিতে বাংলাদেশের বা অন্য যে কোন দেশের রাজনৈতিক শাখা খোলা একেবারেই অবৈধ একটি কাজ। সোজা কথায় বেআইনি। কানাডার আইন অনুযায়ী এটি করা যায় না। কানাডা সরকারের ‘গ্লোবাল এ্যাফেয়ার্স কানাডা’র ওয়েবসাইটে স্পষ্টভাবেই উল্লেখ রয়েছে যে, ‘Canada does not allow foreign governments to conduct election campaigns in Canada or to establish foreign political parties and movements in Canada.’
অন্যদিকে বাংলাদেশের আইনেও এটি নিষিদ্ধ। অর্থাৎ বাংলাদেশের কোন রাজনৈতিক দল বিদেশে তাদের কোন শাখা খুলতে পারবে না। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের আইনে আছে, যদি বাংলাদেশের কোন রাজনৈতিক দলের গঠনতন্ত্রে দেশের ভৌগোলিক সীমার বাইরে কোন দপ্তর, শাখা বা কমিটি গঠন এবং পরিচালনার বিধান থাকে তবে সেই দলের নিবন্ধীকরণ করা যাবে না।”

কিন্তু তারপরও কানাডায় বসে কি করে একদল লোক দুই দেশেই বেআইনি এই কাজটি করে যাচ্ছেন আজ বহু বছর ধরেই? এবং প্রকাশ্যেই? আর বাংলাদেশে বসে বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা কোন আইনে সেগুলোর অনুমোদনও দিচ্ছেন!
আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রে স্পষ্টভাবেই বলা আছে -“বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, আদর্শ এবং নীতিতে বিশ্বাস স্থাপন করিয়া বিভিন্ন দেশে স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে বসবাসরত প্রবাসী বাঙালি জনগোষ্ঠী সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী সংগঠন করিতে পারিবে।”
একই ভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপির গঠনতন্ত্রেও স্পষ্টভাবে বলা আছে – “প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিগণের মধ্যে যারা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নীতি, আদর্শ, উদ্দেশ্য ও কর্মসূচিতে বিশ্বাস করেন তাঁরা যেসব দেশে স্থায়ী কিংবা অস্থায়ীভাবে বসবাস করেন, সেসব দেশের প্রচলিত আইনে সংগঠন প্রতিষ্ঠা/পরিচালনা করতে পারবেন।”
অর্থাৎ বাংলাদেশের প্রধান দুই দলই বলছে, বিদেশে বা প্রবাসে বসে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের নীতি, আদর্শ, উদ্দেশ্য ও কর্মসূচিতে যারা বিশ^াস করেন তারা সংগঠন প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করতে পারবেন। তবে শর্ত হলো সেগুলো করতে হবে সংশ্লিষ্ট দেশের প্রচলিত আইন মেনে। আবার বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন বলছে বাংলাদেশের কোন রাজনৈতিক দলের গঠনতন্ত্রে যদি দেশের ভৌগোলিক সীমার বাইরে কোন দপ্তর, শাখা বা কমিটি গঠন এবং পরিচালনার বিধান থাকে তবে সেই দলের নিবন্ধীকরণ করা যাবে না। বিষয়টি কেমন বিভ্রান্তকর নয় কি? নির্বাচন কমিশন বলছে বিদেশে শাখা থাকতে পারবে না। আবার রাজনৈতিক দলগুলো বলছে বিদেশে শাখা বা সংগঠন করা যাবে সেই দেশের আইন মেনে।
বিবিসি’র এক রিপোর্টেও বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী দলগুলো বিদেশে কোনো শাখা রাখতে পারে না। কিন্তু এরপরও বিদেশে কমিটি গঠন থেকে শুরু করে তাদের প্রশ্রয় দেয়ার ব্যাপারে দলগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।’
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ। বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘বিদেশে আওয়ামী লীগের কোনো শাখা নেই। বিদেশে আওয়ামী লীগের সমর্থিত কর্মী বা নেতারা যারা আছেন, তারা অনেক সময় হয়তো সেখানে সংগঠন করেন তাদের সেই দেশের আইন মেনে। এর সাথে আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততা নেই।’
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভিও বিবিসিকে বলেছেন বিদেশে তাদের কোন শাখা নেই। তিনি বলেন, ‘যারা জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে বিশ্বাস করে, এমন অনেক লোক বিদেশে আছে, তারা একটা ক্লাবের মতো করে।’
দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ যখন এমন নির্লজ্জ মিথ্যাচারের আশ্রয় নেন তখন বুঝতে বাকি থাকে না যে এর পিছনে তাদেরও স্বার্থ জড়িত।
বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, প্রবাসে যারা দেশের রাজনীতি নিয়ে তৎপর থাকেন, তাদের অনেকেই নানা রকম স্বার্থ বা দেশে ভবিষ্যতে নির্বাচন করার আকাঙ্খা থেকে তা করে থাকেন।
একই কথা বলেন এহতেশামুল হক নামের একজন গবেষকও। লন্ডনে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার অংশ হিসাবে ব্রিটিশ বাংলাদেশীদের রাজনীতি নিয়ে গবেষণা করেছেন। বিবিসিকে তিনি বলেন, বাংলাদেশী অভিবাসীদের মধ্যে দেশের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ার পেছনে অনেকের মধ্যে একেবারেই ব্যক্তিগত স্বার্থ কাজ করে।
‘তারা সবাই যে দলকে সেবা দিচ্ছে তা নয়, অনেকের মধ্যেই দেশে রাজনৈতিক প্রভাব তৈরি করার, দেশে গিয়ে নির্বাচন করার তাড়না কাজ করে।’
এহতেশামুল হক মনে করেন, দেশে বিভিন্ন দলের নেতা নেত্রীরাও নিজেদের স্বার্থেই বিদেশে নিজ নিজ দলের তৎপরতা নিয়ে উৎসাহী।
‘এটা অনেকটা ক্লায়েন্ট-প্যাট্রন সম্পর্কের মত। এখানে ক্লায়েন্টরা থাকেন, তাদের অনেকের কাছে পয়সা আছে। বিদেশে দলের শাখা থাকলে নেতারা এখানে এসে কিছু সেবা, সুবিধা পান।’
আমরা শুরুতেই উল্লেখ করেছি যে, কানাডার আইনে এ কথা বলা হয়নি যে এখানে বসে বিদেশী কোন রাজনৈতি দলের সংগঠন বা শাখা খোলা যাবে বা ঐসব রাজনৈতিক দলের প্রচার কার্য চালনা করা যাবে। তাহলে কিভাবে এখানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের শাখা খোলা হচ্ছে? আবার এইসব শাখা বা সংঠনগুলোকে কেন্দ্র থেকে কোন আইন মেনে অনুমোদনও দেওয়া হচ্ছে! আবার প্রশ্ন করা হলে বলা হচ্ছে বিদেশে তাদের কোন শাখা নেই!
তবে কৌতুহলের বিষয় হলো, দুই দেশের আইনেই বেআইনী হলেও কানাডার মাটিতে বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈক দলের কয়েক ডজন সংগঠন বা শাখার বিরুদ্ধে আজ পর্যন্ত কোন আইনী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। না বাংলাদেশ থেকে না কানাডা থেকে।
ফলে গত প্রায় দুই দশকে বা তারও বেশী সময় ধরে কানাডায় এদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, বৃদ্ধি পেয়েছে রাজনৈতিক কার্যক্রমও। একই সাথে এদের কারণে কমিউনিটিতে বৃদ্ধি পেয়েছে বিদ্বেষ ও বিভাজনও। আর এটি শুধু কানাডায়ই নয়, আমেরিকা, বৃটেন, অস্ট্রেলিয়াসহ আরো বেশ কয়েকটি দেশেই এই বিদ্বেষ ও বিভাজন পরিস্থিতি কম বেশী একই রকম।
উদাহরণ হিসাবে নিউ ইয়র্কের অনেক ঘটনার মধ্য দুটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা যেতে পারে এখানে। দেখা গেছে ঐ ঘটনা দুটিতে বাংলাদেশী অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটস এ আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত লোকদের মধ্যে বিরাট কোন্দল ও মারামারির ঘটনা ঘটেছিল। তখন সেই পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় পুলিশকে গলদঘর্ম হতে হয়েছিল। প্রথম ঘটনাটি ঘটে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। ঐ মারামারির ঘটনায় স্থানীয় পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল। সে সময় জাতিসংঘের ৭৬তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যুক্তরাষ্ট্রের বাঙ্গালীপাড়ায় আওয়ামী সমর্থকদের মধ্যে তখন উৎসবমুখর পরিবেশ।
ইত্তেফাকের এক খবরে বলা হয়, ঠিক সেই মুহূর্তে একের পর এক অনাকাঙ্খিত ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠে বাংলাদেশী অধ্যুষিত নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস এলাকা। ঐ সময় নেতৃত্বের কোন্দলে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের একাংশ এবং রাজনৈতিক রেষারেষিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ হয়।
অন্যদিকে ঐ সময়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্য ঘটে এক সংঘর্ষের ঘটনা। এতে করে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন সেখানকার অন্যান্য কমিউনিটির লোকজন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে ইত্তেফাক জানায়, ১৮ সেপ্টেম্বর বিকাল ৪টার দিকে বাংলাদেশী অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন পার্টি সেন্টারে দিনের প্রথম অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ব্যানারে পূর্বনির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। কিন্তু সংবাদ সম্মেলন শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে অনুষ্ঠানের কর্তৃত্ব নিয়ে দরুদ মিয়া রনেল ও কায়কোবাদ খানের মধ্যে তুমুল বাদানুবাদ হয়। তাদের মধ্যে ধ্বস্তাধস্তিও হয়েছে। সাংবাদিকদের সামনেই এ ঘটনা চলে বেশ কিছুক্ষণ।
অন্যদিকে রাত ১০টার দিকে জ্যাকসন হাইটসের ৭৩ স্ট্রিট ও ৩৭ অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ ৭৩ স্ট্রিটে একটি অস্থায়ী কার্যালয়ে স্থাপন করলে অদূরে ৩৭ অ্যাভিনিউতে একটি অস্থায়ী কার্যালয়ে স্থাপন করে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি। কিন্তু বিএনপির অফিস স্থাপন নিয়ে দেখা দেয় বিপত্তি। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সমর্থকরা অফিস স্থাপনে বাধা দিলে শুরু হয় তুমুল মারামারি। দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘসময় চলতে থাকে হাতাহাতি ও ধ্বস্তাধস্তি। এসময় উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। স্থানীয় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুই পক্ষের মাঝে অবস্থান নেয়। পরে প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী হয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থকদের উত্তেজনা। পরে পুলিশ দুই পক্ষকে এলাকা ত্যাগে বাধ্য করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
২০২৩ সালের জুলাই মাসেও নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস এ প্রতিপক্ষ দুই রাজনৈতিক দলের সদস্যদের মধ্যে মারামারি বেধেছিল। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সেই সময়কার সংসদ সদস্য শামীম ওসমানকে হেনস্তা করার অভিযোগে শুরু হয়েছিল ঐ মারামারি।
নিউ ইয়র্ক থেকে প্রকাশিত ঠিকানার এক রিপোর্টে বলা হয়, শামীম ওসমানকে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে হেনস্তা করা হয়। এ ঘটনার জের ধরে পরে নিউ ইয়র্কের ছাত্রদল নেতা বাদল মির্জার গ্রামের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে করে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে দেশে এবং নিউ ইয়র্কেও। এই ঘটনা দুটির জেরে ১৭ জুলাই সোমবার সন্ধ্যার পর বাংলাদেশী অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসে পক্ষে-বিপক্ষের সমর্থকদের মধ্যে তুমুল হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। ঘটনার আকস্মিকতায় পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে স্থানীয় বিপুলসংখ্যক পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়।
নিউ ইয়র্কে বসে এরকম দায়িত্বজ্ঞানহীন কিছু সংখ্যক বাংলাদেশীর এহেন কর্মকান্ডে যারপর নাই ক্ষুব্দ সাধারণ প্রবাসীরা। কারণ বাংলাদেশের রাজনীতির নামে এ সকল অপকর্ম শুধু যে কমিউনিটিতে বিভেদ সৃষ্টি করে তা নয়, আমেরিকার মূলধারায় বাংলাদেশীদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণারও জন্ম দেয়।
কানাডায় অবশ্য এরকম মারামারির কোন ঘটনা ঘটেছে বলে আমার জানা নেই। তবে দলাদলি আছে যথেষ্ট। এমনকি নিজ দলের সদস্যদের মধ্যেও নেতৃত্ব নিয়ে কোন্দল আছে বেশ। কমিটি-পাল্টা কমিটি, কেন্দ্রের কাছে একজনের বিরুদ্ধে আরেকজনের নালিশ, হুকমী-ধামকি দেদারসেই চলে কানাডায় এই বাংলাদেশী রাজনৈতিক দলের শাখাগুলোর মধ্যে।
আর শুধু রাজনৈতিক শাখার সঙ্গে যারা সরাসরি যুক্ত তারাই নয়, সাধারণ দলকানা সমর্থকদের মধ্যেও মাঝে মধ্যে বিশেষ করে বিভিন্ন আড্ডায় তর্কবিতর্ক অনেক সময় তুঙ্গে উঠে যায়। মারমুখি হয়ে উঠে পরিস্থিতি। এরকমই এক পরিস্থিতি দেখার সুযোগ হয়েছিল একবার আমার। সেদিন টরন্টোতে এক রিয়েলটর ভদ্রলোকের বাড়িতে নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে গিয়েছিলাম। ভদ্রলোক বয়স্ক। স্বভাবতই তার অতিথিরাও ছিলেন বয়স্ক। টুকটাক কথাবার্তার মধ্যে আড্ডা এক সময় বেশ জমে উঠেছিল। তবে এক পর্যায়ে অবধারিত ভাবে রাজনীতির প্রসঙ্গ চলে আসে কথাবার্তায়। অবধারিত বলছি এই কারণে যে, প্রবাসে বাংলাদেশীদের মধ্যে যে কোন আড্ডায়ই রাজনীতির আলোচনা অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলাদেশীরা একসাথে হবে আর বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে আলোচনা বাক বিতন্ডতা হবে না তা হবার নয়। তবে এসবই আলোচনা আর তর্কবিতর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। কোনরকম অঘটন বা মনোমালিন্যও ঘটে না। কিন্তু সেদিন ঘটে যায় এক অভাবনীয় ঘটনা। আওয়ামী লীগ আর বিএনপি’র রাজনীতি নিয়ে আলোচনা এক পর্যায়ে বাক বিতন্ডতায় রূপ নেয়। এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তা হাতাহাতির পর্যায়ে চলে যায়। সোফা থেকে উঠে আক্রমনাত্মক ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে পরেন দুই পক্ষ। এই বুড়োদের কান্ডকীর্তি দেখে তখন হোস্ট ভদ্রলোক যারপর নাই বিব্রত হয়ে উঠেন। কোনভাবেই তাদের তর্কবিতর্ক থামানো যাচ্ছিল না। ঠিক এই সময় ড্রয়িং রূম থেকে চিৎকার আর চেঁচামেচির শব্দ শুনে পাশের রূম থেকে বেরিয়ে আসেন মহিলারা। তাদের উপস্থিতি তপ্ত উনুনে ঠান্ডা জল ঢেলে দেওয়ার মত কাজ করে। বিবদমান দুই পক্ষ তখন লজ্জায় হোক বা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে হোক, দ্রতই শান্ত হয়ে পড়েন। তবে এরপরও আরো কিছুক্ষণ রাগের লক্ষণ বিরাজ করছিল তাদের চেহারায়। শেষ পর্যন্ত অবশ্য তারা একজন আরেকজনের কাছে ক্ষমা চান তাদের এই অশোভন আচরণের জন্য। এটি কয়েক বছর আগের ঘটনা। গত আগষ্টের পট পরিবর্তনের পরে হলে কি ঘটতো জানি না। হয়তো সত্যি সত্যি দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি লেগে যেত।
আসলে কানাডায় বসে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের শাখা খুলে রাজনীতি করাটা হয়তো খারাপ কিছু হতো না যদি তাতে বাংলাদেশের কোন উপকার হতো। আর কানাডার আইন ও বাংলাদেশের আইনে যদি তা নিষিদ্ধ না হতো। আর নিষিদ্ধের এই বিষয়টা তো একেবারেই যৌক্তিক। ধরা যাক কানাডা থেকে কোন ব্যক্তি বাংলাদেশে গিয়ে লিবারেল পার্টি বা কনজার্ভেটিভ পার্টির কোন শাখা খুলে বসলেন। নাম দিলেন লিবারেল পার্টি অফ কানাডা, বাংলাদেশ অথবা কনজার্ভেটিভ পার্টি অফ কানাডা, বাংলাদেশ। তাহলে পরিস্থিতিটা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?
এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, সেই দিনই অথবা পরের দিনই হৈ-চৈ শুরু হয়ে যাবে সবজায়গায়। পুলিশ বা জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত বিশেষ বাহিনীর লোকেরা ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে গ্রেফতার করবে। এরপর জেলখানা হবে তাদের নিবাস। এইটিই কি হবার কথা নয়?
তাহলে কানাডায় কেন তা হচ্ছে না? এর অবশ্য কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রথমত কানাডায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের শাখা খোলার সময় সেটি নিবন্ধন করা হয় নন-প্রফিট স্যোসাল অর্গানাইজেশন হিসাবে। নামটি রাজনৈতিক দলের হলেও দাবী করা হয় অরাজনৈতিক সংগঠন। জার্মানী ভিত্তিক প্রচার মাধ্যম ‘ডয়েচ ভেল’ এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো তাদের বিদেশ শাখা পরিচালনায় বিশেষ কিছু কৌশলের আশ্রয় নেয়। কৌশল নেয়া হয় আইন এবং দলের গঠনতন্ত্রের বাধা উপেক্ষা করার জন্য। এই কৌশলে প্রবাসী নেতারা দেশেও রাজনীতি করেন। এমপিও হন কেউ কেউ।
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ডয়েচ ভেল-কে জানান, ‘‘ইউরোপীয় ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ আছে। আবার ইইউ’র ১৬টি দেশেও আলাদা কমিটি আছে।”
তিনি আরও জানান, ‘‘বিদেশেও কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হয়। তবে কমিটির অনুমোদন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ থেকেই নিতে হয়। বিদেশ কমিটির কাউন্সিলের সময় বাংলাদেশ থেকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা যান।’’
কিন্তু নির্বাচন কমিশন আইনে বলা আছে বাংলাদেশের কোন রাজনৈতিক দলের শাখা থাকতে পারবে না বিদেশে। এ প্রশ্ন তুললে ডয়েস ভেল এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি হারুন উর রশীদ স্বপনকে তিনি বলেন, ‘‘সে কারণেই এসব কমিটি অনুমোদন এবং গঠন করা হয় আনঅফিসিয়ালি। অফিসিয়াল কোনো অনুমোদন থাকে না। মৌখিকভাবে করা হয়। আর আমাদের দলের গঠনতন্ত্রেও আওয়ামী লীগের বিদেশ বা প্রবাস শাখার কোনো বিধান নেই।’’
তার মানে এখানে প্রতারণার আশ্রয় নেয়া হয়!
তিনি আরো জানান, ‘‘প্রবাসে বাংলদেশ আওয়ামী লীগ বলতে কিছু নাই। আছে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, জাপান আওয়ামী লীগ… এভাবে। তারা ওই দেশের আইনের আওতায় কাজ করে। অফিসিয়ালি তারা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শাখা নয়। তারা আমাদের আদর্শ অনুযায়ী প্রবাসে আমাদের সাথে কাজ করতে চান, তাই আমরা মৌখিক অনুমোদন দেই।’’
কিন্তু খালিদ মাহমুদের কথাটি পুরোপুরি সত্য নয়। কারণ দেখা গেছে কানাডায় ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অফ কানাডা’ নামের একটি সংগঠন আছে। একটি অফিসও আছে বাংলাদেশী অধ্যুষিত স্কারবরোতে। অফিসের সামনে আছে দূর থেকে দেখা যায় এমন দৃশ্যমান একটি সাইন বোর্ডও। সেখানে ‘অফ কানাডা’ শব্দ দুটি নিচের দিকে খুবই ছোট করে লেখা। সাইন বোর্ডের খুব কাছে না গেলে তা দেখা যাবে না। আর ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’ শব্দগুলো বেশ বড় বড় করে লেখা। সাইন বোর্ডে আরো আছে আওয়ামী লীগের দলীয় পতাকার ছবিও। যদি এটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর কানাডিয়ান শাখা না হয় তবে তাদের সাইন বোর্ডে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পতাকা কেন থাকবে? খালেদ মাহমুদ আরো দাবী করেন প্রবাসে এইসব শাখা স্থানীয় আইনের আওতায় কাজ করে। এ কথাটিও সত্য নয়। কারণ কানাডার আইন এখানে বিদেশী কোন রাজনৈতিক দলের শাখা খোলার বিষয়টি অনুমোদন করে না।
অন্যদিকে বিএনপি’র গঠনতন্ত্রেও বিদেশ বা প্রবাস শাখার কোনো বিধান নেই বলে ডয়েচ ভেল-কে জানান বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স। তবে তিনি জানান, বিএনপির গঠনতন্ত্রে বলা আছে, প্রবাসীরা যে দেশে থাকেন, সেই দেশের আইন-কানুন মেনে যদি বিএনপি’র আদর্শ ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কোনো সংগঠন করতে চান, করতে পারবেন। তার আরো দাবী, ‘‘আমরা আরপিও বা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ মেনেই কাজ করি। তাই আমাদের কোনো বিদেশ শাখা নেই। যারা আছেন, তারা ওইসব দেশে স্থানীয়ভাবে কাজ করেন। তারা আমাদের ভ্রাতৃপ্রতীম।’’
এমরান সালেহ প্রিন্স এর কথাও সম্পূর্ণ সত্য নয়। কারণ দেখা গেছে কানাডায় ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি কানাডা’ এই নামে এখানে একটি শাখা রয়েছে। তাদের এই নাম দেখে কি এ কথা বলার সুযোগ আছে যে, কানাডায় বিএনপির কোন শাখা নেই? আর যেহেতু এটি বিএনপির একটি প্রবাসী শাখা তাই এটি আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ সংগঠন নয় কি?
কানাডায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর নামের সাথে একটা কানাডা, কুইবেক বা অন্টারিও নাম যোগ করে দিলেই কি তা ভিন্ন কিছু হয়ে যায়? যারা আওয়ামী লীগ বা বিএনপি অথবা অন্যকোন বাংলাদেশী রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে এখানে শাখা খুলেন তাদের প্রধান উদ্দেশ্যই তো থাকে বাংলাদেশের রাজনীতির র্চ্চা। এরাতো কানাডার কোন জাতীয় বা প্রাদেশিক কিংবা সিটির নির্বাচনের সময় স্থানীয় কোন প্রতিনিধির হয়ে কাজ করেন না বা নির্বাচনী প্রচারণাও চালান না। প্রবাসের মেইনস্ট্রিম রাজনীতি নিয়ে তো তারা একটা টু শব্দও করেন না।
পরিশেষে প্রয়াত খ্যাতিমান ও সকলের শ্রদ্ধাভাজন কবি আসাদ চৈধুরীর একটি বক্তব্য দিয়ে শেষ করছি আজকের এই লেখা। ২০১৫ সালে তিনি প্রবাসী কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘প্রবাসে বসে বাংলাদেশের রাজনীতি করার কোন অর্থ দেখি না আমি। এখানে কাউকে যদি রাজনীতি করতে হয় তবে সে লিবারেল পার্টি করবে, কনজারভেটিভ পার্টি করবে নয়তো এনডিপি করবে। প্রয়োজনে গ্রীন পার্টিও করতে পারে। আমি মনে করি যারা কানাডায় বসে বাংলাদেশের রাজনীতি করেন তারা কখনোই বিকশিত হবেন না।’
তিনি আরও বলেছিলেন, ‘হ্যা, বাংলাদেশে যদি কোন অন্যায় হয়ে থাকে তবে এখানে একটা সুস্থ বাঙ্গালীকে তা স্পর্শ করবেই। স্বাভাবিকভাবেই এটা করবে। যেমন প্রকাশক দীপনকে কুপিয়ে হত্যা করার পর এখানে মানববন্ধন করা হলো আলো জ্বেলে। আমিতো এটাকে একটা সুস্থ লক্ষণ মনে করি। পৃথিবীর যেখানেই অন্যায় হোক সেটার প্রতিবাদ তো হবেই। কিন্তু আমার বক্তব্য হচ্ছে যে, এখানকার যে বাস্তবতা এখানকার যে রাজনীতি এখানকার যে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এই সমস্ত ব্যাপারে বাঙ্গালী কেন তার নিজস্ব চিন্তা যুক্ত করবে না। এখানে তো দেখেছি ভারতীয় বংশোদ্ভূত শিখদের মধ্য থেকে কয়েকজন মন্ত্রীও হয়েছেন এবার। আফগানিস্তান থেকে এসেও এমপি হয়েছেন একজন মহিলা যার নাম মরিয়ম মুনসেফ। তিনি মন্ত্রির দায়িত্বও পেয়েছেন। তাই আমার কাছে মনে হয়েছে মূলধারার রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করা উচিত বাঙ্গালীদের।
খুরশিদ আলম
সম্পাদক ও প্রকাশক
প্রবাসী কণ্ঠ