অন্টারিওতে গত অর্থ বছরে দশ লক্ষাধিক মানুষ ফুড ব্যাংক এর সহায়তা নিয়েছেন

ফুড ব্যাংক এর উপর এই নির্ভরশীলতা রেকর্ড ভঙ্গ করেছে

মিসিসাগায় একটি ফুড ব্যাংক এর বাইরে লম্বা লাইন। ছবি : ফুড ব্যাংকস মিসিসাগা

প্রবাসী কণ্ঠ ডেস্ক ॥ সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৪ : অন্টারিওতে গত অর্থ বছরে ফুড ব্যাংক এর সহায়তা নিয়েছেন দশ লক্ষাধিক মানুষ। ফুড ব্যাংক এর উপর এই নির্ভরশীলতা আগের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। খবর সিবিসি নিউজের।
ঋববফ ঙহঃধৎরড় নামের একটি নেটওয়ার্ক (যাদের অধিনে রয়েছে ১২০০টিরও বেশী ফুড ব্যাংক ও হাঙ্গার-রিলিফ সংস্থা) গত সপ্তাহে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, অন্টারিওতে গত অর্থ বছরে (এপ্রিল ২০২৩- মার্চ ২০২৪) ১,০০১,১৫০ জন মানুষ ফুড ব্যাংক এর সহায়তা নিয়েছে যা রেকর্ড ব্রেকিং। তার আগের অর্থ বছরের তুলনা এই বৃদ্ধির পরিমান ২৫%।
পরিসংখ্যান বলছে, গত কয়েক বছর ধরেই এই হার ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এবারের বৃদ্ধিটা ছিল গত আট বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
ফিড অন্টারিও’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যারোলিন স্টুয়ার্ট এই পরিস্থিতিকে ‘সম্পূর্ণভাবে বিস্ময়কর’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, ফুড ব্যাংক এর সহায়তা নিচ্ছেন যারা তাদের মধ্যে কর্মজীবী মানুষের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান।
ক্যারোলিন বলেন, ‘আমি ১৫ বছর ধরে এই সংগঠনের সাথে আছি এবং আমি কখনই ভাবিনি যে আমরা এই স্তরের চাহিদা দেখতে পাব। আমি বিশ্বাস করতে পারছি না যে আমরা এমন একটি বিন্দুতে পৌঁছেছি যেখানে ফুড ব্যাংক এর সহায়তা গ্রহণকারীর সংখ্যা এতটা বেশী।’
ক্যারোলিন আরো বলেন, ‘ফুড ব্যাংক এর ব্যবহার বাড়তে থাকে করোনা মহামারীকালে। কিন্তু পরবর্তীতে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বাড়ি ভাড়া অকল্পনীয়ভাবে বৃদ্ধি এবং চাকরীর বাজার পরিবর্তিত হওয়ায় সমস্যা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা যদি চলমান খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা এবং দারিদ্র মোকাবেলায় শীঘ্রই কিছু না করি তবে পরিস্থিতি আরো নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
মিসিসাগার পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ
ক্যারোলিনের মতে অন্টারিও প্রভিন্সে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশী খারাপ মিসিসাগায়। অন্টারিও’র অনেক শহরের মত মিসিসাগা-ও ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, সীমিত আবাসন সরবরাহ এবং উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে। এ সমস্ত কারণে পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে।
২০১৯ সালের দিকে মহামারী শুরু হওয়ার আগে মিসিসাগায় প্রতি ৩৭ জন অধিবাসীর মধ্যে একজন ফুড ব্যাংক এর সহায়তা নিতেন। বর্তমানে সেটি তিনগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি ১৩ জনের মধ্যে একজন ফুড ব্যাংক এর স্মরণাপন্ন হচ্ছেন জীবনধারনের জন্য।
এদিকে মিসিসাগার ঙঁৎ চষধপব চববষ এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্রিষ্টি আপশাল বলেন খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় সবচেয়ে বেশী ভোগান্তিতে রয়েছে শিক্ষার্থীরা। তিনি বলেন যুবক বয়সীরা প্রায়ই কম বেতনে বা খন্ডকালীন চাকরী করে কিন্তু বাসা ভাড়া দিতে হয় বড় শহরের স্ট্যান্ডার্ড অনুয়ায়ী। তারা যা আয় করেন তা তাদের টেবিলে প্রয়োজনীয় খাবার রাখার জন্য যথেষ্ট অর্থ নয়।
ক্যারোলিন বলেন, প্রাদেশিক স্তরে তিনি যে সমাধানগুলো বাস্তবায়নের আশা করছেন তা হলো আরও ভাল সামাজিক পরিষেবা। এই কর্মসূচিগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এগুলো মূলত দীর্ঘদিন ধরেই উপেক্ষা করা হয়েছে।
তিনি বলেন সামাজিক পরিষেবাগুলো যাতে মুদ্রস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলে সেই দিকটির উপর নজর রাখতে হবে। একই সাথে জীবনযাত্রার প্রকৃত ব্যয়ের সঙ্গেও সামঞ্জস্য রেখে পরিচালনা করতে হবে।
‘মিনিস্ট্রি অফ চিলড্রেন, কমিউনিটি এ্যান্ড স্যোসাল সার্ভিসেস’ এর মুখপাত্র আনাস্তিসিয়া রোমানস্কা সিবিসি নিউজে পাঠানো এক ই-মেইল বার্তায় বলেন, সরকার মানুষের জীবনকে আরও সাশ্রয়ী করতে এবং শিশুদেরকে যাতে ক্ষুধার্থ অবস্থায় স্কুলে যেতে না হয় সে জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে আছে শিক্ষার্থীদের পুষ্টি প্রোগ্রমের জন্য তহবিল বৃদ্ধি করা, অন্টারিও ডিসএবিলিটি সাপোর্ট প্রোগ্রামে আর্থিক সহায়তা বাড়ানো এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য আর্থিক সহায়তা বাড়ানো।
তিনি আরো বলেন, অন্টারিও সরকার শ্রমজীবী মানুষের জন্য ন্যূনতম মজুরির হার বাড়িয়েছে এবং বাবা-মা ও নিম্ন আয়ের লোকদের পকেটে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য ট্যাক্স ক্রেডিট চালু করেছে। আমরা ফেডারেল সরকারকে আহ্বান জানাই যাতে তারা তাদের দায়িত্বটুকু পালন করে এবং আরও তহবিল প্রদান করে যাতে কোন অভাবী পরিবারকে পিছিয়ে না থাকতে হয়।
ক্যারোলিন জানান, তাদের নেটওয়ার্কের প্রায় ৭০ শতাংশ ফুড ব্যাংক গুদামগুলোতে খাদ্য ঘাটতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আর ৫০ শতাংশেরও বেশি উদ্বিগ্ন এই কারণে যে তহবিল ঘাটতি তাদের কার্যক্রমকে প্রভাবিত করবে।