বাঁচার স্বপ্ন
রোজানা নাসরীন
আমি যেতে চাই ঐ পাখিটির কাছে
যে মুক্তির গান গেয়ে মাতায় জীবন
মদালসা ফাল্গুনে সেজে ওঠে ফুলেরা আবারো
প্রজাপতিরা মধু নিতে ছুটে আসে কুঞ্জের কাছে
স্বর্গ সুখের কি বিস্ময়কর পদাবলী গেয়ে যায় সুখের পায়রা
সেইখানে আমার অনন্ত কাল কাটাবার ইচ্ছে কেবল।
আমার ছুটে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল ঐ ঘন সবুজের ভূখণ্ডে
যেখানে হল্লা করে ছুটে আসে ছেলেগুলি
কত আনন্দে ওরা খেলা করে ফুলের রেনু মেখে গায়ে
মনে হয় বর্ষ বর্ষ ধরে ওদের সাথে
আমিও এমনই খেলা করে যাই,
মনে হয় ওদের হাসির সাথে
মিশিয়ে দেই আমার হাসি
ওদের আকাঙ্ক্ষার সাথে
মিশিয়ে দেই আমার আকাঙ্ক্ষাগুলো
ঐ উচ্ছল জীবনের সাথে
মিশিয়ে দেই জীবনের পূর্ণতাটুকু ।
কিন্তু চেয়ে দেখি এই সুখের জীবন আমার নয়
আমি চিৎকার করে বলি কেন নেই? উত্তর আসে না,
ধেয়ে আসে শুধু ভিতীপ্রদ বন্দিত্ব
জেগে থাকে ভয় আর বিধিনিষেধের পাঞ্চালিকা
প্রথারা এসে আমার জন্মের কাছে পাওয়া স্বাধীনতাটুকু
মারিয়ে দেয় প্রবল বিক্রমে
আমাকে ধর্ষণকামী যুবকেরা প্রচণ্ড শক্তিতে তাড়া করে ফেরে
আমি বন্দী হই গৃহ অন্তরালে বেঁচে থাকার প্রবল বাসনায়;
আমার মস্তিস্কের কারাগারে বন্দী হয়ে থাকে
শুধুই প্রেম দেওয়ার ভাবনাগুলি,
পাওনা কিছু নেই —
হাসি নয়, আনন্দ নয়, জীবন নয়
আমার জন্য বরাদ্দ শুধু বাঁচার আকাঙ্ক্ষাটুকু।
আমাকে জীবন এসে বলে ‘সংসার সুখী হয় রমণীর গুনে’
শক্তি এসে বলে তুমি ভীতু ,তুমি পারোনা
ভূমি এসে বলে আমি তোমার নই
অর্থ বলে আমি প্রগতির, তোমার জন্য নই
আমি চারিদিকে চেয়ে দেখি আমি শুধুই অবরোধের।
রোজানা নাসরীন
টরন্টো