কাহিনী বিচিত্রা

সাইদুল হোসেন

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

আফ্রিকার কেনিয়ার লোকের মুখে বাংলাভাষা!

আমার এক বন্ধু আজ আমাকে জুমুআর নামায পড়তে নিয়ে গেলেন দূরের এক মসজিদে। ইমাম সাহেব ছিলেন খুবই কালো এক ব্যক্তি। জামাতের পর দেখলাম আমার বন্ধু সেই ইমামের হাতে হাত দিয়ে গল্প করছেন। তিনি আমাকে তার কাছে ডেকে নিয়ে ইমাম সাহেবের সংগে পরিচয় করিয়ে দিলেন। আমি বললাম : আসসালামু আলাইকুম। তিনিও জবাবে বললেন ওয়ালাইকুম সালাম।

তারপর তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন : আপনি কেমন আছেন? পরিষ্কার বাংলা ভাষা! খুব অবাক হলাম। বললাম : আলহামদুলিল্লাহ! ভালো আছি। তারপর বিদায় নিয়ে চলে এলাম।

তাঁর গাড়িতে করে বাসায় ফেরার পথে আমার বন্ধু জানালেন যে-

এই ইমামের দেশ আফ্রিকা কেনিয়া (Kenya)। বহুদিন ধরে ক্যানাডায় বসবাস করছেন। ইসলাম ধর্মবিষয়ে গভীর জ্ঞান রাখেন। এই মসজিদের একজন ভলানটিয়ার ইমাম, কোন পারিশ্রমিক গ্রহণ করেন না। পেশাগতভাবে তিনি একজন TTC bus driver। তার ডিপার্টমেন্টে কিছু সংখ্যক বাংলাদেশীও কাজ করে। ওদের কাছে থেকে বাংলা ভাষাটা কিছুটা শিখেছেন, দু’চারটা কথা বলতে পারেন। বহুদিনের পরিচয় আমাদের। খুবই ভালো লোক এই ইমাম।

সব শুনে চমৎকৃত না হয়ে পারলাম না।

-এপ্রিল ২৯, ২০১৬

শিক্ষিত বাংলাদেশী কিন্তু তার ভাষাটি গ্রাম্য (আঞ্চলিক)

সম্পূর্ণ অপরিচিত এক বাংলাদেশী ভদ্রলোক সন্ধ্যার পর ফোন করে বললেন : আসসালামু আলাইকুম। তারপর একটানা ১৭টি মিনিট ধরে নানা বিষয় নিয়ে কথা বললেন। নূতন কিছু নয়, তবে যে বিষয়টি আমার কাছে অতি বিসদৃশ বলে মনে হলো তা হলো এই যে সমস্ত সময়টা তিনি তার গ্রাম্য (আঞ্চলিক) ভাষায় কথা বললেন, প্রচলিত বাংলা ভাষায় নয়, অথচ আমরা অপরিচিত এবং একই অঞ্চলের বাসিন্দাও নই বাংলাদেশে। বললেন বহু বছর ধরে বিদেশবাসী (আমেরিকা-ক্যানাডা), কিন্তু তার ভাষায় আঞ্চলিকতাটা ছাড়তে পারেননি। দুঃখজনক।

            *          *                   *

গতকাল ক্লিনিকে পেশেন্টের বড়ই অভাব ছিল- মাত্র ৭০ জন- যা অস্বাভাবিক। কারণ সাধারণত মর্নিং শিফটে অন্তত ১৩০ জন পেশেন্টের আগমণ ঘটে। একদিন তো ছিল ১৭২ জন! ক্লিনিকে কর্মরত ডাক্তার/ স্পেশালিস্টদের holiday schedule-এর উপর পেশেন্টদের সংখ্যার হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে। অন্যদিকে ইমারজেন্সি ডিপার্টমেন্ট থেকে অধিক পেশেন্ট এসেও সংখ্যাবৃদ্ধি ঘটায়।

তবে আজ গতকালের অভাবটা পুষিয়ে গেল- আজ ১৫৬ জন পেশেন্টকে গুড মোর্নিং, হাউ আর ইউ? হোয়াট ক্যান আই ডু ফর ইউ? বলে greet করতে পারলাম।

তাদের সংগে আসা আরো বহু সংখ্যক ভিজিটরকেও greet করতে পারলাম। মনে খুব তৃপ্তি অনুভব করছি। এ ধরনের দৈনন্দিন পাবলিক রিলেশনস আমার খুব পছন্দ, বলতে গেলে এধরনের ব্যস্ততার জন্যই আমি ভলানটিয়ারিং করে থাকি। -মে ০৪, ২০১৬

বাংলাদেশী ফুড্স হাতের আংগুল দিয়ে মেখে খেতে হয়। It’s fun!

আজ সকালের পেশেন্টদের মাঝে এক বৃদ্ধ ইটালিয়ান পেশেন্ট আমাকে জিজ্ঞাসা করলো : তোমার দেশ কোথায়? ইন্ডিয়া?

বললাম : না, বাংলাদেশ।

আমার উত্তর শোনা মাত্র বৃদ্ধ বেশ উৎসাহের সংগে বলে উঠলো : বাংলাদেশ? গুড কান্ট্রি। আমার এক ইয়ং বাংলাদেশী ফ্রেন্ড আছে, ওর বয়স মাত্র ৪০ বছর, আমার ৭৯, তথাপি আমরা ক্লোজ ফ্রেন্ডস বহুদিন ধরেই।

ওর বাসায় আমাকে সে ঘনঘন ইনভাইট করে, বাংলাদেশী ডিলিশাস ফুড্স খাওয়ায় (হিজ ওয়াইফ ইজ আ গ্রেইট কুক)- ফ্রাই, কারী, ভেজজি, ডাল এবং আরো কত কিছু! তোমাদের বাংলাদেশী ফুড্স আমার খুব পছন্দ কিন্তু একটা প্রোব্লেমও আছে- knife and fork দিয়ে খেয়ে মজা পাওয়া যায় না, চেষ্টা করে দেখেছি। তোমাদের দেশী কায়দায় হাতের আংগুল দিয়ে মেখে খেলে বেশী মজা পাওয়া যায়। বারবার চেষ্টা করে শিখে নিয়েছি- আংগুল দিয়ে খাওয়াটা একটা fun!

একটু থেমে আবার শুরু করলো :

আমার বন্ধুর নাম আবদু। অতি চমৎকার একটা মানুষ। আমার সেলফোনটা আজ সংগে আনিনি, আগামী ভিজিটে সেটা সংগে নিয়ে আসবো, আবদুর সংগে তোমার কথা বলিয়ে পরিচয় করিয়ে দেবো। দেখবে কত ভালো লোক আমার ফ্রেন্ড আবদু!

কথাগুলো শুনে বড় ভালো লাগলো।

বললাম : Long live your friendship!

বৃদ্ধ হাসিমুখে বললো : Amen!

কে বলে বাংলাদেশীরা বিদেশে সজ্জন নয়? মিথ্যা অভিযোগ। আবদুর মত বাংলাদেশীরা আমাদের গর্ব, ওরা এদেশে/বিদেশে এসে বন্ধুত্ব গড়ে তুলছে, বাংলাদেশের image-টাকে উজ্জ্বল করে তুলছে। আবদু ও তার মত অন্যান্য বাংলাদেশীদেরকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

The Best Guy In The World

ঘোর কালো এক আফ্রিকান (বয়স ৪০-৪৫) হুইলচেয়ারে বসা চমৎকার স্বাস্থ্যবতী ও সুন্দরী এক ফিলিপিনাকে নিয়ে আমার ডেস্কের সামনে এসে থেমে ওদের appointment card-টা আমার দিকে বাড়িয়ে ধরলো। দু’জনেরই খুব হাসিহাসি মুখ। যথারীতি ওদের greetings জানিয়ে বললাম : বেশী দূরে যেওনা, আমার পাশেই তোমার হুইলচেয়ারটা পার্ক কর।

দু’জনেই খুব আলাপী। আমি মহিলাকে ওদের ফিলিপিনো Tagalog ভাষায় বললাম : মাগানডাং উমাগা। কামুস্তা কা? (গুড মোর্নিং। তুমি কেমন আছ?)

আমার মুখে ওদের দেশী ভাষা শুনে খুশীতে মহিলার মুখটা উজ্জ্বল হয়ে উঠলো। সে জবাবে বললো : মাবুতে। সেলামত। (ভালো আছি। তোমাকে ধন্যবাদ।)

এবার সেই লোকটার মুখের দিকে তাকিয়ে বললাম : তোমাকে দেখে তো একজন হেলথকেয়ার প্রোভাইডার (healthcare provider) বলে মনে হচ্ছে না। এই মহিলাকে তুমি কোথায় পেলে?

সে হেসে বললো : শী ইজ মা’ ওয়াইফ।

ওয়াইফ! শুনে বেশ অবাকই হলাম।

এবার ঘুরে মহিলাটির দিকে ফিরে জিজ্ঞাসা করলাম : ইজ দিস জেন্টলম্যান আ গুড গাই, ম্যা’ম?

মুখভরা হাসি ফুটিয়ে সে বললো : ইয়েস, স্যার! দ্য বেস্ট, দ্য বেস্ট গাই ইন দ্য ওয়ার্লড, স্যার!

স্ত্রীর মুখে নিজের প্রশংসা শুনে বেস্ট গাইয়ের মুখে গর্বের হাসি। -মে ০৪, ২০১৬

*                      *                      *

ঠিক এমনি ধরনের একটা অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছিলাম অতীতেও একবার যখন বহু বছরের পরিচিতা এক ষাটোর্ধ বয়সের সুন্দরী ফিলিপিনা (৪-৫টি grandchildren-এর grandma) আমাকে এক স্টোরের ভেতরে তার স্বামীর সংগে আমার পরিচয় করিয়ে দিচ্ছিল। খুব কালো কাঁচাপাকা কোঁকড়া চুলে ঢাকা মাথা এক দীর্ঘকায় জ্যামাইকানকে দেখিয়ে সে যখন বললো : Meet my husband, Tom, আমি কথাটা বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। আমার ইতস্তত ভাব লক্ষ্য করে Christina হেসে বললো : I am not joking ‘kaibigen’ (‘friend’ in Tagalog language). Tom is my husband of 43 years, a very loving man. Meet him!

আমি তখন Tom-এর দিকে হাত বাড়িয়ে দিতে দিতে বললাম : Nice to meet you. Pardon my hesitation.

হেসে Tom বললো : This is not the first time, sir. Who would believe that this black guy Tom can be Christina’s husband?

ছিলাম তো মুসলিমই কিন্তু বর্তমানে খৃষ্টান

এবছরও রমাদান উপলক্ষে আগেকার বছরগুলোর মত পাঁচ সপ্তাহের break নিলাম Volunteering duty থেকে, ঈদের পর থেকে আবার কাজ শুরু করবো।

ঘরে ফেরার আগে Volunteers Information Desk -এ কর্মরত ভলানটিয়ারদের কাছে সাময়িক বিদায় নিতে গেলাম। রমাদান উপলক্ষে break নিচ্ছি শুনে ৬০-৬২ বছর বয়সের এক মহিলা আমাকে এই ইতিহাসটি শোনালেন।

আমি বর্তমানে খৃষ্টান, কিন্তু আমার জন্ম হয়েছিল এক মুসলিম পরিবারে। আমরা আলবেনিয়ান। ১৯৬০ সনে আমার পরিবার ইমিগ্রেশন নিয়ে ক্যানাডায় আসে এবং তখন থেকেই টরোন্টো সিটিতে বসবাস করছে।

সেই যুগে টরোন্টো সিটিতে কোন মুসলিম ছিল না, তাই মুসলিম কমিউনিটিও ছিল না, কোন মসজিদও ছিল না নামায পড়ার জন্য। অথচ মানুষ সমাজবদ্ধ প্রাণী, সে একাকী বাস করতে পারে না। তাই আমার পরিবার খৃষ্টান ধর্ম গ্রহণ করে চার্চে যাওয়া-আসা শুরু করলো, আমিও তাই করতে লাগলাম। তখন আমার বয়স ৫ অথবা ৬ বছর। তবে পরবর্তী বছরগুলোতে আমাদের পরিবারের বহু সদস্যই ইমিগ্রেশন নিয়ে ক্যানাডায় এসেছে, ওদের সংগে আমাদের সম্পর্ক ও হৃদ্যতা আছে যদিও ওরা মুসলিম এবং আমরা খৃষ্টান।

সময়ের ব্যবধানে কতই না পরিবর্তন ঘটেছে ক্যানাডায়। ইসলাম ধর্ম ও মুসলিমগণ আজ আর অপরিচিত কিছু নয় এদেশে। লক্ষ লক্ষ মুসলিমের বাস এই দেশে এখন। ২০১০ সনে ক্যানাডায় বসবাসরত মুসলিমের সংখ্যা ছিল ৯৪০,০০০ (দেশের মোট জনসংখ্যার ২.৮%)। টরোন্টো সিটির মোট জনসংখ্যার (২৬ লক্ষ) ৫% হচ্ছে মুসলিম। এক টরোন্টো শহরেই বর্তমানে  ৬০-৭০টি মসজিদ ও মুসাল্লা রয়েছে। মুসলিম কমিউনিটি অথবা মসজিদের অভাবে কোন মুসলিমকে আজ আর খৃষ্টান ধর্ম গ্রহণ করতে হয় না এদেশে, বরং উল্টোটাই ঘটছে। প্রতি সপ্তাহেই খৃষ্টান অথবা অন্য ধর্মাবলম্বী নরনারী কোন না কোন মসজিদে গিয়ে শাহাদাহ (Declaration of Faith in Islam) ঘোষণা করে মুসলিম হচ্ছে। -জুন ০১, ২০১৬

কামিলা ও জামীলা

যে সরকারী বাসস্থানে আমরা থাকি সেখানে নিয়মিতই মেয়েরা এসে প্রতিদিন cleaner-এর কাজ করে, দিনে একাধিক বারও ওদের সংগে আমার দেখা হয়। হাই-হেল্লো করি। বেশীর ভাগই ওরা সাউথ আমেরিকান, স্প্যানীশ ওদের মাতৃভাষা। তবে অবশ্যই ইংরেজী বলে আমার সাথে অথবা অন্য রেসিডেন্টদের সংগে কথা বলার সময়।

আমরা বর্তমান বিল্ডিংটাতে আছি আজ ২০ বছরেরও অধিক দিন ধরে। আমি একটু আলাপী মানুষ, বিভিন্ন দেশের ও ভাষা-সংস্কৃতির লোকদের সংগে আলাপ-পরিচয় করতে, কথা বলতে ভালোবাসি। এ ব্যাপারে সুবিধার জন্য আমি ইটালিয়ান, স্প্যানীশ, গ্রীক, Tagalog, তামিল, হিন্দি, উর্দু, চাইনিজ ইত্যাদি ভাষায় Hello, Good Morning, How are you? I am fine. Thank you ইত্যাদি শিখে নিয়েছি। দেশ ভেদে, ভাষা ভেদে আমি ওদের সংগে আলাপ জমাবার জন্য ঐসব ভাষা ঘরে-বাইরে ব্যবহার করি। ফলে ওরা আমার সংগে সহজভাবে মিশে। অন্তরংগতার সংগে কথা বলে। আমার প্রশংসা করে।

বছর খানিক আগে লক্ষ্য করলাম যে ২০-২২ বছরের একটি ফর্সা মেয়ে সকালে cleaning-এর কাজ করছে। দেখেই মনে হলো যে এ Spanish- speaking South American হবে। তাই বললাম : বুয়েনস দিয়াস! কোমাস্তা? (Good Morning. How are you?)

মেয়েটি হেসে দিয়ে বললো : বিয়েন। গ্রাসিয়াস (ভালো আছি। ধন্যবাদ।)

এমনি করেই চলছিলো। একদিন ওকে জিজ্ঞাসা করলাম : তোমার নাম কি?

সে বললো : কামিলা। K-a-m-i-l-a

আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম : তুমি কি মুসলিম? কারণ এই বা এই ধরনের নাম তো সচরাচর মুসলিমদেরই হয়ে থাকে।

কামিলা বললো : না আমি মুসলিম নই, ক্যাথলিক ক্রিশ্চিয়ান। আমার দেশ Brazil, আমাদের ভাষা Portuguese. তবে Spanish-এর সংগে যথেষ্ট মিল থাকার কারণে আমরা Spanish কথাবার্তা সহজেই বুঝতে পারি। Kamila নামটা আমাদের দেশে প্রচলিত। তাই মা-বাবা পছন্দ করে আমার এই নাম রেখেছে।

সব শুনে ওকে বললাম : Obrigado (Thank you).. এটা Portuguese ভাষা। সে তো অবাক! তুমি আমাদের ভাষা জানো?

না, তবে এই Obrigado-টা জানি, শিখে নিয়েছি।

সপ্তাহ ২-৩ পর কামিলার সংগে কাজ করতে দেখলাম অন্য একটি যুবতীকে; সে কামিলার চেয়ে লম্বা, ফর্সা, ও স্বাস্থ্যবতী। ওকে Good Morning জানিয়ে ওর নামটা জিজ্ঞাসা করলাম। বললো ওর নাম জামীলা (J-a-m-e-e-l-a). আবার আশ্চর্য হলাম, জিজ্ঞাসা করলাম : তুমি কি মুসলিম?

শুনে মেয়েটি হাসলো। তারপর বললো : না, আমি Catholic Christian. আমার দেশ Brazil, তবে Spanish আমি বুঝি।

পরে একদিন ওদের দু’জনকে একত্রে পেয়ে বললাম : তোমাদের দু’জনের নামই Arabic language-এ বহুল প্রচলিত মুসলিম কমিউনিটিতে পৃথিবীর সর্বত্র। এবং আরো মজার কথা হলো এই যে তোমাদের দু’জনেরই নামের অর্থ খুব সুন্দর : Kamila means a perfect lady and Jameela means a beautiful lady!

আমার কথা শুনে দু’জনেই এক সংগে বলে উঠলো : WOW! Obrigado! -আগষ্ট ২৮, ২০১৬

চূড়াস্ত স্বার্থপর সন্তানেরা, freeloaders.

হাজ্জ করতে গিয়ে মক্কা শরীফে পরিচয় হয়েছিল দুই মুসলিম ভাইয়ের সংগে- একজন পাকিস্তানী, অপরজন বাংলাদেশী। তারা আমাকে তাদের সন্তানদের নিয়ে অনেক দুঃখ-বেদনা-অভিযোগ শুনিয়েছিলেন। শুনে খুব কষ্ট পেয়েছিলাম।

অনেক বছর পর আর এক বাংলাদেশী ভাইও কথা প্রসংগে ঐ একই অভিযোগ করলেন তার স্বার্থপর সন্তানদের বিরুদ্ধে। সত্যি বেদনাদায়ক! অভিযোগগুলো হচ্ছে এই-

একজনের তিন ছেলেমেয়ে, অন্য দু’জনের প্রত্যেকেরই দুই ছেলে। সবাই ইউনিভার্সিটির পড়াশোনা শেষ করে চাকরিবাকরি করছে, আয়-রোজগার ভালো। সবারই বয়স ৩০ বছরের উর্ধে।

সবই ভালো খবর কিন্তু মাবাবার সমস্যা এবং অভিযোগ হচ্ছে যে তাদের সন্তানেরা চরম স্বার্থপর, selfish। এরা বিয়ে-শাদী করতে নারাজ, আলাদা বাসা ভাড়া করে থাকতে নারাজ, খাওয়া-থাকার সব সুবিধা ভোগ করছে কিন্তু বিনিময়ে একটি ডলারও মাবাবার হাতে দিতে নারাজ। নির্বিকারচিত্তে স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের মত মায়ের সেবা নিচ্ছে, বাবার পেনশনের/সঞ্চয়ের পয়সা ধ্বংস করছে। এরা সব সুবিধাবাদী, freeloaders! বিবেকহীন। বারবার বলা সত্বেও কোন কথাই ওরা কানে নিচ্ছে না। ঘরে নিত্য অশান্তি।

বড় বেদনাদায়ক পরিস্থিতি। এই স্বার্থপর, বিবেকহীন সন্তানদের বোধোদয় ঘটবে কবে? -আগষ্ট ২৯, ২০১৬

Enjoy Your Life

একটা fashion magazine-এ পড়লাম : Life is like an icecream, enjoy it before it melts.

এই প্রসংগে মনে পড়ে গেল কয়েক বছর আগে হসপিটালে এক বয়স্ক পেশেন্টের মন্তব্য আমাকে উদ্দেশ করে : Oh, you are so old-fashioned, sir. You don’t know how to enjoy life. Winning big lottery, expensive wine, beautiful women, music, travel- these are the ingredients of enjoying life.

আরো মনে পড়ে গেল বহু শতাব্দী অতীতের পারস্যের (Persia, modern Iran) বিখ্যাত কবি ওমর খৈয়্যামের (১০৫০-১১২৩) কোন একটা কবিতার অংশ :

দু’টুকরো রুটি,

এক বোতল শরাব,

পাশে একটি সুন্দরী

যুবতী সংগিনী,

ও একটি উত্তম বই,

জীবনটা উপভোগ করতে

এর বেশী আর কি চাই!

একই দৃষ্টিভংগী নিয়ে লেখা একটা আধুনিক উর্দু কবিতার অংশ –

শরাবকা সাথ

আগার শবাব না হো,

তো পীনভি কেয়া,

ঔর জীনাভি কেয়া!

(মদ খাওয়ার সময় পাশে যদি একটি সুন্দরী যুবতী নারী উপস্থিত না থাকে, তাহলে মদ খেয়েই বা লাভ কি, আর বেঁচে থেকেই বা লাভ কি?)

বর্তমান Internet-YouTube-Google-Facebook-এর যুগের দামী smartphone হাতে liberated young ladies দের অনেকের সাথেই আমার দেখা হয় চিকিৎসাসূত্রে হসপিটালে। আমার বয়স ৮০র উপর। আমি একজন ধৈর্যশীল শ্রোতা। মাঝেমাঝে তারা তাদের মনের আগলটা খুলে অন্তরংগ কিছু প্রসংগও বিনাসংকোচে আলোচনা করে। এদের একটা অংশের অভিমত হচ্ছে :

One life to live. Life is for enjoyment. Technology has brought enormous opportunities for women to live a burdenfree life. Marriage to a man is no more a necessity to lead your life happily. Remain single, get yourself educated, try for earning a reasonably good income, live alone, select friends wisely. Enjoy your life husbandfree and childrenfree, if you so choose. -সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৬

   *                      *                  *                       

একদিন TV screen-এ একটা advertisement নজরে পড়লো :

LIFE IS SPORTS. PLAY IT.

আরো দু’টি Quotations:

১)         Love is like a cigarette that starts with fire but ends in ashes..

২)        Love is a condition of mind when the mind is out of condition..

(চলবে)

সাইদুল হোসেন। মিসিসাগা